Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব ।।।।

চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার স্নায়ুবিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতার প্রতিফলন। বিশ্বজুড়েই এটি একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দিবস যা প্রতিবছর ২রা এপ্রিল পালিত হয়।আজ ১৬তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দিনটি পালিত হয়।
একসময় অটিজম ছিল একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যু। এটি নিয়ে সমাজে নেতিবাচক ধারণা ছিল। তবে যত দিন গিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।
এই দিনটিতে জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে তার সদস্য দেশগুলিকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণে উৎসাহিত করে। দিবসটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক “৬২/১৯৯ ধারা অনুযায়ী মনোনয়ন লাভ করে। “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” প্রস্তাবটি ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস হয়েছিল এবং সেটি গৃহীত হয়েছিল একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর। এটি প্রস্তাব করেছিলেন জাতিসংঘে কাতারের প্রতিনিধিবৃন্দ যাদের মধ্যে ছিলেন প্রিন্সেস শিখা মোজাহ বিনতে নাসের আল-মিসনদ এবং তার স্বামী, কাতার রাজ্যের আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। সকল সদস্যরাষ্ট্র তাঁদের এ প্রস্তাবকে সমর্থন করে।
এই প্রস্তাবনাটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিনা ভোটে পাশ এবং গৃহীত হয়েছিল। মূলত মানবাধিকার উন্নয়নে জাতিসংঘের পূর্ববর্তী উদ্যোগসমূহের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই এমনটি করা হয়েছিল। তাই, অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ‘রূপান্তরের অভিযাত্রায় সবার জন্য নিউরোবান্ধব অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গঠন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার (২ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। ১৬তম বছরের মতো এবার পালিত হচ্ছে দিবসটি।

অটিজমের লক্ষণ—-

তার সমবয়সী শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না। এই রোগে আক্রান্ত শিশু কারো সাথেই, সে সমবয়সী হোক কিংবা অন্য যে কোনো বয়সী হোক তার সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। কিছু কিছু বাচ্চা আবার ১ থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত খেলাধুলা কথাবার্তা সব ঠিক থাকে কিন্তু হঠাৎ করে কথা ও সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়।
গবেষণা বলছে, পরিবেশের প্রভাবের পাশাপাশি জিন শিশুর বৃদ্ধিকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যাতে ASD দেখা দিতে পারে। সময়ের আগেই শিশুর জন্ম, পারিবারিক ইতিহাস, বাবা মায়ের বয়স বেশি হওয়ার কারণগুলিও রয়েছে এই রোগের নেপথ্যে।
এই রোগের লক্ষণ গুলি হলো , সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধা হয় শিশুদের এবং মুখের অভিব্যক্তির অভাব, চোখের যোগাযোগের অভাব, ডাকার পরে উত্তর দিতে দেরি হওয়া এবং অস্বাভাবিক সুরে কথা বলা। চলন্ত বস্তু বা বস্তুর কোনও অংশে মনোনিবেশ করাতে সমস্যা দেখা দেয়, রুটিন বা সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হলেই অনভ্যাসের জেরে বিরক্তি এবং নতুন পরিবেশে সামঞ্জস্য রক্ষার ক্ষেত্রে জটিলতার সম্মুখীন হয় শিশুরা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে মানবিক পরিবেশে গড়ে তোলা হলে তারাও পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।
চিকিৎসকদের একাংশ বলেন যদি সময়মতো রোগ ধরা পড়ে এবং সংবেদনশীলভাবে তার যত্ন নেওয়া হয় তাহলে এই রোগ নিয়েও সুন্দর, সৃজনশীল জীবনযাপন করা যেতেই পারে। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার শুরুর দিক থেকে বিষয়টির যত্ন নিলে আপনার শিশু সামাজিক, যোগাযোগ বাড়ানোর, কার্যকরী এবং আচরণগত নানান দক্ষতা শিখতে শুরু করে।প্রতিটি অভিভাবকের উচিত নিজেদের সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি করে সময় কাটানো। সেই সঙ্গে মনোযোগ দিতে হবে সন্তানের মধ্যে প্রকাশ পাওয়া অটিজমের লক্ষণগুলির উপরেও। যদি দেখা যায়, সন্তান স্বাভাবিক আচরণ করছে না, সে ক্ষেত্রে তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়। আর এমন লক্ষণ দেখা দিলে তা নিয়ে একেবারেই গাফিলতি কিংবা অবহেলা করা ঠিক নয়। সময় মতো অটিজম শনাক্ত করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই শিশুকে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া যেতে পারে। আর লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় বড় শব্দ অথবা বাক্যের পরিবর্তে ছোট-ছোট শব্দ অথবা বাক্য ব্যবহার করে কথা বলা উচিত। আক্রান্ত শিশুকে অন্য কোনও শিশু কিংবা অন্য কারওর সঙ্গে তুলনা করা চলবে না। তাকে নতুন-নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ করাতে হবে। অটিজমে আক্রান্ত শিশু রাগারাগি করলে তাকে বকুনি দেওয়া একেবারেই উচিত নয়, বরং তাকে ভালোবেসে কথা বলেই সব কিছু বোঝানো উচিত।
সর্বপরি, অটিজমের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, আচরণগত শিক্ষা এবং মনস্তাত্বিক পদ্ধতি যেমন সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক আচরণ এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি।
উল্লেখ্য, বিশ্ব অটিজম দিবস স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জাতিসংঘের সাতটি দিবসের মধ্যে অন্যতম। এইদিন সেইসকল পৃথক পৃথক অটিজম সংস্থাগুলি ঐক্যবদ্ধ হয় যারা বিশ্বজুড়ে এরকম মানসিক বিকাশসংক্রান্ত ব্যাধিতে আক্রান্তদের সম্পর্কে গবেষণা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদান এবং তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করে।বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস বিশ্বব্যাপী অটিস্টিক ব্যক্তিদের অধিকারের সমর্থনের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক তৈরি করা হয়েছিল দিনটি।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে লোকশিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে অন্যতম ব্যক্তিত্ব – অতুলচন্দ্র সেন।।।

অতুলচন্দ্র সেন ছিলেন একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব যিনি শিক্ষা, সাহিত্য এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। ১ এপ্রিল, ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা বিক্রমপুরের বাহের্ক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে, সেনের জীবন ছিল সামাজিক অগ্রগতি এবং জাতীয় গর্বের প্রতি তার উত্সর্গের প্রমাণ।

তার পিতা, কালিপন্না সেন, নারী শিক্ষার প্রসারে গভীর আগ্রহী ছিলেন, যা স্পষ্টতই অতুলচন্দ্রের জীবন পছন্দকে প্রভাবিত করেছিল।
সেনের একাডেমিক যাত্রা শুরু হয় ঢাকায়, যেখানে তিনি তার স্কুল ও কলেজ শিক্ষা শেষ করেন। ১৮৯৩ সালে, তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে একটি বৃত্তি নিয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৮৯৭ সালে সংস্কৃত ও দর্শনে অনার্স সহ বিএ সম্পন্ন করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে এমএ পাস করেন।
১৮৯৯ সালে বিক্রমপুরের স্বর্ণগ্রামের রাধানাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার পেশাগত জীবন শুরু হয়। যাইহোক, কলকাতার সিটি কলেজ থেকে ১৯০৩ সালে আইন পাস করার পর, ১৯০৮ সালে বীরভূমের হেতমপুর রাজ কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য পদত্যাগ করার আগে তিনি কুমিল্লার জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষাজীবনে তার কর্মজীবন তাকে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পদে নিয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং রিপন কলেজের কলা বিভাগের প্রধান।
স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি সেনের প্রতিশ্রুতি এবং শিক্ষার প্রসারে, বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে তার প্রচেষ্টা ছিল অসাধারণ। তার গ্রামের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান “সত্যশ্রম” এর সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ করে। এছাড়াও তিনি কলকাতায় ‘উমা প্রেস’ এবং ‘সেনগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে তিনি “চরিতমালা” এবং “শিক্ষা হে স্বাস্থ্য” এর মতো শিক্ষামূলক বই প্রকাশ করেন।
১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত বারাণসীতে থাকার সময়, সেন যথাক্রমে বাঙ্গালিটোলা এবং গরুদেশ্বরে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘নারী শিক্ষা মন্দির’কে একটি মধ্যবর্তী কলেজে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘গীতার’ মদনপুরার ‘শাস্ত্রপ্রচার কার্যালয়’-এ তাঁর কাজ তাঁকে প্রমথনাথ তর্কভূষণ এবং অন্নদাচরণ চুরামণির মতো উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে নিয়ে আসে।
১৯৩০-এর দশকে, সেন জ্ঞানাঞ্জন নিয়োগী এবং শরত্‍ ঘোষের নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘প্রবাসী’ পত্রিকার মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তাঁর পরবর্তী বছরগুলি মুন্সিগঞ্জে তাঁর সমাজসেবামূলক কাজের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে তিনি ১৯৩৬ সালে ‘ভগবদ গীতা’-এর উপর একটি ব্যাপক ভাষ্য প্রকাশ করেন এবং বিপ্লবী অমূল্য অধিকারীর সাথে ‘কল্যাণ সমিতি’ গঠন করেন। সেনের প্রচেষ্টা বিহারে অব্যাহত ছিল, যেখানে তিনি ১৯৪৩ সালে বাঙালিদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন এবং 1945 সালে মধুপুরে বাঙালি মেয়েদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উচ্চ বিদ্যালয় স্তরে উন্নীত করার চেষ্টা করেন।
পুত্রের মৃত্যুর পর সেন কলকাতায় ফিরে আসেন এবং উপনিষদের অবশিষ্ট অংশ টীকা সহ প্রকাশ করেন। অতুলচন্দ্র সেন ১০ জুন, ১৯৪৮-এ মারা যান, শিক্ষাগত এবং জাতীয়তাবাদী অবদানের উত্তরাধিকার রেখে যান যা অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

জানুন এপ্রিল ফুল দিবস কি, কেন পালিত হয়।।।।

এপ্রিল ফুল দিনটি আমাদের সকলের কছে এক অতি পরিচিত দিন। আমরা মজার ছলে এই দিনটিতে চেনা জানা আমাদের পরিচিত দের মজা করে বোকা বানিয়ে থাকি।

এপ্রিল ফুল দিবস প্রতিবছর এপ্রিল মাসের প্রথম দিন পালিত হওয়া একটি দিবস। মাঝে মাঝে একে সকলকে বোকা বানানোর দিন বলে উদ্‌যাপন করা হয়। মাসের প্রথম দিনটিতে সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুল’।

অনেক বছর ধরেই এটি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে এটি শুরু হয়েছিল, সেটি অনেকেরই জানা নেই। এই দিন প্রতিবেশীদের উপর কৌতুক করার জন্য একটি দিন হিসাবে সর্বত্র স্বীকৃত। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে’র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো। ফ্রান্সে পয়সন দ্য আভ্রিল পালিত হয় এবং এর সাথে সম্পর্ক আছে মাছের। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা যায়। সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে পয়সন দ্য এভ্রিল অর্থাৎ এপ্রিলের মাছ। সে দিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে তখন বলে ওঠে পয়সন দ্য আভ্রিল বলে চিৎকার করে। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস(১৩৯২) বইয়ের নানস প্রিস্টস টেইল এ এই দিনের কথা খুজে পাওয়া যায়।
যুক্তরাজ্যে এপ্রিল ফুলের দিন প্রাপককে অর্থাৎ যিনি এপ্রিলের বোকা হন তাকে “এপ্রিল ফুল!” বলে হাসি তামাশা ও চিৎকার করে প্রকাশ করা হয়।
তাই বছরের পর বছর ধরে ১ এপ্রিল বন্ধু-বান্ধব, ভাইবোন এবং সহকর্মীরা আমাদের বোকা বানায়। জীবনে কমপক্ষে একবার বোধ হয় আমরা সকলেই ‘এপ্রিল ফুল’ (April Fool) হয়েছি। এদিন যে কোনও বয়সের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে একে অপরকে বোকা বানানোর খেলায় অংশ নেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বোকা হওয়ার পরেও কেউ রাগ করেন না, বরং নিজেই সেই খেলায় জড়িয়ে পড়েন।
তবে এই ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ -র পিছনের রয়েছে ইতিহাস। জানেন কীভাবে এটি শুরু হয়েছিল?
এই দিনটি চালু হওয়ার পিছনে এক এক রকম সংস্কৃতির সঙ্গে যোগ রয়েছে এই কাহিনির। দেখে নেওয়া যাক, সেগুলি কী কী।
কথিত আছে যে ১৩৮১ সাল থেকে এই দিনটি উদযাপন শুরু হয়। আসলে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় রিচার্ড এবং বোহেমিয়ার রানী অ্যান বাগদানের ঘোষণা করেন। বাগদানের তারিখ রাখা হয়েছিল ৩২ মার্চ। মানুষ উদযাপন শুরু করেন। পরে, তারা বুঝতে পারেন যে, ক্যালেন্ডারে ৩২ মার্চ কোনও তারিখ নেই। তখন তারা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তারা বোকা হয়েছেন। এরপর থেকে এপ্রিল ফুলস ডে উদযাপন শুরু হয়।
রোমান তত্ত্ব: রোমান দেবতা প্লুটো যখন তার স্ত্রী পারসিফনকে অপহরণ করে আনেন, তখন পারসিফনের মা সেরিস মেয়েকে খোঁজার অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু পান না। মেয়ে তখন মাটির নীচে। কিন্তু তাঁর মা ‘বোকার মতো’ মাটির উপরে খুঁজতে থাকেন। সেই ‘বোকামি’র কথা ভেবেই নাকি রোমানরা এই দিনটিতে বোকামি দিবস পালন করত।
ক্যালেন্ডার বদল: এই দিনটি ঘিরে আরও একটি বিশ্বাসও রয়েছে যে, আগে ফ্রান্সে এপ্রিলেই নববর্ষ উদযাপিত হত। ১৫৮২ সালে চার্লস পোপ গ্রেগরি দ্বাদশ ফ্রান্সে পুরনো ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করে, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন। তা সত্ত্বেও অনেকে পুরনো ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে থাকেন। এরপর থেকে ১ জানুয়ারিতে নতুন বছরের সূচনার দিন হিসাবে পালন হওয়া শুরু হয়। তবে, অনেকে এটি মানতে অস্বীকার করেন এবং এপ্রিল মাসেই বর্ষারম্ভের দিন পালন করতে থাকেন। যারা নতুন ক্যালেন্ডারকে সমর্থন করেছেন তারা এপ্রিলে নতুন বছর সমর্থনকারীদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা শুরু করেছিলেন। এই ব্যক্তিদের ‘এপ্রিল ফুল’ বলা শুরু হয় এবং এজন্য এপ্রিলের প্রথম দিনেই ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসাবে প্রচলিত হয়। নতুন ক্যালেন্ডারের পক্ষ যাঁরা, তাঁদের ডাকা হত এপ্রিল ফিশ বলে। সেই থেকেই এপ্রিল ফুলের গল্প শুরু হয়। ‘এপ্রিল ফুল’-এর ইতিহাস নিয়েই এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রচলিত গল্প।
ব্রিটিশ কাহিনি: ব্রিটিশ লোককথা বলে, নটিংহ্যামশায়ারের ‘গথাম’ শহর নাকি ছিল বোকাদের শহর। ত্রয়োদশ শতকের নিয়ম ছিল, সে দেশের রাজা যেখানে যেখানে পা রাখবেন, তা হয়ে যাবে রাষ্ট্রের সম্পত্তি। যখন গথামবাসীরা শুনলেন, রাজা আসছেন, তাঁরা নাকি বললেন, ঢুকতে দেবেন না। রাজা সৈন্য পাঠালেন। সৈন্য এসে দেখল সারা শহরে ভয়াবহ কাণ্ড! সবাই বোকার মতো কাজ করছে। তারা ফিরে গিয়ে রিপোর্ট দিল। রাজা বললেন, এমন বোকাদের শাস্তি দেয়া যায় না। তাই তিনি মাফ করে দিলেন। গথাম স্বাধীন থাকল। সেই থেকে দিনটি ‘বোকা দিবস’।
নেদারল্যান্ডসের কাহিনি: ১৫৭২ সালের ১ এপ্রিল। এদিন নেদারল্যান্ডসের ডেন ব্রিয়েল শহরটি স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়। এই দিন বিদ্রোহীরা স্পেনের শাসকদের বোকা বানিয়ে ছাড়ে। তার পর থেকেই নাকি এপ্রিল ফুল পালন করা হয়।
জার্মান লোককথা: ১৫৩০ সালের ১ এপ্রিল, জার্মানির অগসবারগ শহরে একটি আলোচনাসভা বসার কথা ছিল। আলোচনার ফলের কথা ভেবে অনেকে বিপুল টাকা বাজি ধরেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সভা বসেই না। বহু মানুষের টাকা গচ্চা যায়। এই বোকামি থেকেই এপ্রিল ফুলের শুরু।
ব্রিটিশরা ভারতে ১৯ শতকে এই দিনটি উদযাপন শুরু করে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব যতই যতই বাড়ছে ততই, এই সম্পর্কিত মিম মারাত্মকভাবে ভাইরাল হচ্ছে। তবে মজা করার সময় মাথায় রাখা জরুরি, আপনার কোনও কথা যেন অপর মানুষটিকে কষ্ট না দেয়। আমাদের এই মজা যেন অন্যকে কষ্ট না দেয়ে সে বিষয়েও সচতং থাকতে হবে। আননদ টুকু যেন এই মজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবেই দিনটি প্রকৃত সার্থক ভাবে রূপায়িত হবে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ০১ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ০১ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) ১ এপ্রিল অনেক দেশে এপ্রিল ফুলস্ ডে বা অল ফুলস্ ডে হিসেবে পরিচিত।
(খ) জাতীয় বিমান বাহিনী দিবস (ভারত)।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫৭৮ – উইলিয়াম হার্ভে, রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতির অন্যতম উদ্ভাবক।

১৮০৯ – নিকোলাই গোগোল, রুশ ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার।

১৮১৫ – জার্মানি পুনর্গঠনের অন্যতম পুরোধা অটো ফন বিসমার্ক।

১৮৬৫ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রীয় রসায়নবিদ রিচার্ড আডলফ জিগমন্ডি।

১৮৭০ – অতুলচন্দ্র সেন, বাঙালি লেখক।
১৯০৭ – চেক সঙ্গীত রচয়িতা আকাশবাণীর সিগনচার টিউন স্রষ্টা ওয়াল্টার কফম্যান।
১৯০৮ – আব্রাহাম মাসলো, মার্কিন মনোবিজ্ঞানী।
১৯১৯ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন শল্যবিদ জোসেফ এডওয়ার্ড মুর।

১৯২৯ – আবেদ হোসেন খান, বাংলাদেশি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সেতার বাদক ও সুরকার।
১৯৩১ – চিকিৎসক, প্রাবন্ধিক ও কথাশিল্পী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা ।
১৯৩২ – রশিদ চৌধুরী, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী।
১৯৩৩ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি পদার্থবিদ ক্লোদ কহেন-টানউডজি।

১৯৩৬ – পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদের খান।
১৯৪৭ – মার্কিন লেখক ফ্রান্সিন প্রোস।
১৯৫৩ – সাবেক ইতালীয় ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার আলবের্তো জ্যাকহেরনি।
১৯৭৬ – জাপানি টেনিস খেলোয়াড় ইয়ুকা ইয়োশিদা।
১৯৮৩ – ফ্রাংক রিবেরি, ফরাসি ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৫ – মার্কিন অভিনেতা জশ জাকারম্যান।
১৯৯৩ – বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলম।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮৫৫ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় এর প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয়।
১৮৬৭ – সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৮৬৯ – এই সময়কালে ভারতে আয়কর চালু হয়।
১৮৬৯ – নদিয়া টাউন কমিটি নামে নবদ্বীপ পৌরসভা স্থাপিত হয়।
১৮৭৮ – কলকাতা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১২ – ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরিয়ে নেয়া হয়।
১৯৩৫ – ১৯৩৪ সালের ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক আইন বলে আজকের দিনে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক স্থাপিত হয়েছিল।
১৯৩৬ – ভারতে ওড়িশা রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৭ – ভারত আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৯ – স্পেনের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
১৯৪২ – ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র জনযুদ্ধ প্রকাশিত হয়।
১৯৪৫ – যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আগ্রাসন শুরু করে।
১৯৫৭ –
অল ইন্ডিয়া এয়ার (AIR) এর অন্যতম নাম রাখা হয় আকাশবাণী।
ভারতে পুরাতন মুদ্রা (৬৪ পয়সায় এক টাকা) বহাল রেখে দশমিক মুদ্রা (১০০ পয়সায় এক টাকা) চালু হয়।
১৯৬০ – যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রথম আবহাওয়া উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে।
১৯৭১ – বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এই দিনে পাকিস্তানি সেনারা কেরানীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় এক হাজার বাঙালিকে হত্যা করে।
১৯৭৯ – ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
১৯৯২ – বসনিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৯৭ – প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বিল পাস করা হয়।
১৯৯৮ – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ পবিত্র ঈদুলফিতর ও ঈদুল-আজহা উপলক্ষে জাতিসংঘের স্টাফদের জন্য ২ দিনের ছুটি বাধ্যতামূলক করে।
২০০১ – নেদারল্যান্ডসে সমকামীদের মধ্যে বিয়ে বৈধ করা হয়। এটি প্রথম দেশ, যেখানে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬২১ – ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী ক্রিস্টফানো আলোরি।

১৯৭৯ – মার্কিন অভিনেত্রী বারবারা লুডডয়।

১৯৮৩ – কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান।

১৯৮৪ – ইংরেজ লেখক এলিজাবেথ গউডগে।
১৯৯৪ – ফরাসি ফটোগ্রাফার রবার্ট ডইস্নেয়াউ।

২০০০ – একেএম আবদুর রউফ, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের হস্তলেখক।
২০১২ – তুর্কি অভিনেতা একরাম বোরা।
২০১৩ – ইরানি অভিনেত্রী আসাল বাদিঈ।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কাশি কমাতে হোক বা বাতের ব্যথা বাসক পাতার গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নিন।।।

কাশি কমাতে হোক বা বাতের ব্যথা বাসক পাতার গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নিন।
বসাক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কথা বললে প্রথমেই বলা যায় যে, পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ওষুধ তৈরিতে। তাজা এবং শুকনো পাতা উভয়ই ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাসক পাতায় ভ্যাসিসিন (বসক পাতার গুণ) নামক একটি প্রাকৃতিক পদার্থ এবং কিছু প্রয়োজনীয় তেল রয়েছে।

বসাক পাতা ব্যবহার সাধারণত ঠান্ডা ও কাশি কমাতে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বুকে জমে থাকা কফকে তরল করতে বাসক পাতার রস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাসক পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান বুকে জমে থাকা কফ গলিয়ে ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়।
বাসক পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন –
১। কাশি কমাতে বাসক পাতা
আগেই যেমন বলা হল সর্দি কাশি কমাতে বাসক পাতার ব্যবহার অনস্বীকার্য। যদি বহু পুরনো সর্দি বা কাশির সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে দু-চারটি বাসক পাতা খুব ভাল করে ধুয়ে বেটে নিয়ে সেই রস যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে উপশম হয়। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভাল যে বাসক পাতা প্রচন্ড তেতো হয়। কাজেই এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ বাসক পাতার রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে বেশ কয়েকদিন খেতে পারেন। এরপর অবশ্যই এক গ্লাস জল খাবেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কাশি কমে যাবে।
২। যক্ষ্মা রোধে বাসক পাতা
বাসক পাতার ঔষধি গুণ গুলির মধ্যে একটি হল বাসক পাতা যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস রোগ সারাতে সাহায্য করে। বাসক পাতায় অ্যান্টি-মাইক্রোবাল উপাদান রয়েছে যা যক্ষ্মা কমাতে (বাসক পাতার গুনাগুন) সাহায্য করে। এছাড়াও ব্রঙ্কাইটিস ও হুপিং কাশির সমস্যা সমাধানেও বাসক পাতা সাহায্য করে।
৩। বাতের ব্যথায় উপশম করে
বাসক পাতার ঔষধিগুণ (Bashok Pata) গুলির মধ্যে আরও একটি হল এই পাতা বাতের ব্যথাও উপশম করতে সাহায্য করে। এতে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে যা আরট্রাইটিস, বাতের ব্যথা, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি নিরাময় করতে সাহায্য করে। কয়েকটি বাসক পাতা (Basak Pata Benefits) বেটে তার সঙ্গে হলুদ ও চুন মিশিয়ে লাগালে বাতের ব্যথা কমে বলে অনেকে দাবী করেন।
৪। রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে
অনেকেরই মুখে ব্রণ হয় বা পেটে সমস্যা হয় অথবা নানারকম অ্যালারজির সমস্যা থাকে। এই সমস্যাগুলো বেশিরভাগ সময়েই তখন হয় যখন রক্ত পরিষ্কার থাকে না। বাসক পাতার (Bashok Pata) নিয়মিত সেবনে কিন্তু আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার হয়। শুধু তাই নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করে।
৫। জ্বর হলে বাসক পাতা খান
জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বাসক পাতা (Bashok Pata) যথেষ্ট সাহায্য করে। এছাড়াও অনেকসময়েই জ্বরের সঙ্গে সর্দি ও কাশির সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে এক চামচ মধু, এক চামচ তুলসি পাতার রস এবং এক চামচ বাসক পাতার রস (Basak Pata Benefits) খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
৬। শ্বাসকষ্টে বাসক পাতা
বাসক পাতা কাশি, সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাপানি ইত্যাদি নিরাময় করতে সাহায্য করে। বাসক পাতার ঔষধি গুণ আমাদের শ্বাসনালী প্রশস্ত করতে (বাসক পাতার গুনাগুন) সাহায্য করে যার ফলে শ্বাসকষ্ট কমে এবং ব্রঙ্কাইটিস ও হাপানি রোগীদের উপশম পেতে সাহায্য করে। হাপানির ওষুধ তৈরি করতেও অনেকসময়ে বাসক পাতার ব্যবহার (Basak Pata Uses) দেখা যায়।
৭। শরীরের নানা ‘দোষ’ কাটাতে
আয়ুর্বেদ মতে আমাদের শরীরে নানা দোষ থাকে যার ফলে আমাদের নানারকমের শারীরিক সমস্যা ও অসুখ হয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে, শরীরের সুস্থ থাকা নির্ভর করে বায়ু, পিত্ত এবং কফ, এই তিনটি বিষয়ের ভারসাম্যের উপর। এর কোনওটার মাত্রা যদি বেড়ে যায়, তা হলেই দেখা দেয় নানা সমস্যা। তবে বাসক পাতার (Bashok Pata) নিয়মিত সেবনে আমাদের শরীরে এই তিনটি বস্তুর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীর সুস্থ থাকে।
নিয়মিত বাসক পাতার রস খেলে খিঁচুনি বা মৃগীরোগ সারে বলে অনেকেই দাবী করেন।
অনেকের গায়ে খুব দুর্গন্ধ হয়, তাঁরা প্রতিদিন বাসক পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়।
।। সংগৃহীত।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে ভারতের’ফার্স্ট লেডি অফ ইণ্ডিয়ান স্কিন’খ্যাত অভিনেত্রী – দেবিকা রাণী।।।

দেবিকা রানী চৌধুরী, সাধারণত দেবিকা রানী নামে পরিচিত, ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ এর দশক পর্যন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্রের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। ভারতীয় পর্দার ফার্স্ট লেডি হিসাবে সমাদৃত, চলচ্চিত্র শিল্পে তার অবদানগুলি একটি পরিবর্তনশীল যুগে উল্লেখযোগ্য ছিল।
১৯০৮ সালের ৩০শে মার্চ ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ওয়াল্টেয়ারে একটি ধনী ও শিক্ষিত বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণকারী দেবিকা রানীর শিকড় সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিতে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।

তার পিতা কর্নেল এমএন চৌধুরী ছিলেন মাদ্রাজের প্রথম ভারতীয় সার্জন-জেনারেল, যখন তার পূর্বপুরুষ তার পিতামহ, রাজশাহী জেলার পাবনার একজন জমিদার এবং কলকাতার আইনি ও সাহিত্যিক বৃত্তে প্রভাবশালী তিন মামাদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের গর্বিত করেছিলেন। .
রানীর প্রথম বছরগুলি যুক্তরাজ্যে অতিবাহিত হয়েছিল, যেখানে তিনি লন্ডনের সাউথ হ্যামলেটের বোর্ডিং স্কুলে শিক্ষিত হন। আভিজাত্যের সাথে তার সংযোগ তার মাতৃ বংশের মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছিল, বিশেষত নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়। দেবিকা রানীর মা, লীলা চৌধুরীর নানী, ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
১৯৩৩ সালে, দেবিকা এবং তার স্বামী হিমাংশু রাই জার্মানি থেকে ভারতে ফিরে আসেন এবং একটি সিনেমাটিক যাত্রা শুরু করেন যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে। তাদের ফিল্ম, “কর্মা,” শিল্পের প্রথম দিকের সূচনা করে। এটি ছিল একজন ভারতীয় দ্বারা নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র এবং সেই সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘতম চুম্বনের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল, একটি রেকর্ড যা 2014 সালের হিসাবে 80 বছরেরও বেশি সময় ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। কর্ম,” বলিউডের প্রথম ইংরেজি গান বলে মনে করা হয়।
দেবিকা রানীর আন্তর্জাতিক প্রশংসা বৃদ্ধি পায় লন্ডনের প্রেস থেকে তার প্রশংসার মাধ্যমে। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের একজন সমালোচক তার “সৌন্দর্য” এবং “কবজ” এর প্রশংসা করেছেন, এবং একজন নেতৃস্থানীয় তারকা হিসাবে তার উত্থানের পূর্বাভাস দিয়েছেন। ১৯৩৩ সালে, বিবিসি ব্রিটেন তাকে তাদের প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচারে অভিনয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় এবং তিনি ভারতে বিবিসির শর্টওয়েভ রেডিও সম্প্রচারের উদ্বোধন করেন। ইংল্যান্ডে তার সাফল্য সত্ত্বেও, তার হিন্দি চলচ্চিত্র “নাগিন কি রাগিনী”, ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, ভারতীয় দর্শকদের মোহিত করতে ব্যর্থ হয়। যাইহোক, এটি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হওয়ার পথকে বাধা দেয়নি, যা শেষ পর্যন্ত সমালোচকরা স্বীকার করেছেন।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দেবিকা রানীর উত্তরাধিকার ভারতীয় সিনেমায় নারীর চিত্রায়নে তার অগ্রগামী চেতনা এবং স্থায়ী প্রভাবের প্রমাণ। রাজকীয় বংশ থেকে রূপালী পর্দায় তার যাত্রা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সিনেমাগত উদ্ভাবনের এক অনন্য মিশ্রণকে আবদ্ধ করে।
চলচ্চিত্র—-
অছুত কন্যা, সাবিত্রী, জীবন প্রভাত, ইজ্জত, প্রেম কাহানি, নির্মলা, মমতা অউর মিঞা বিবি, জীবন নাইয়া, জন্মভূমি, বচন, দুর্গা, অনজান, হমারি বাত, কর্ম ম, জওয়ানি কি হাওয়া।
১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকার দেবিকা রাণীকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথম দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত রাশিয়া তাকে সোভিয়েত ল্যান্ড নেহরু পুরস্কার প্রদান করে।২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক থেকে তার সম্মানে একটি ডাকটিকিট চালু করে।
১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই মার্চ শ্বাসনালীর সংক্রমণের ফলে এই শহরেই দেবিকার মৃত্যু ঘটে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মৃতদেহের সৎকার করা হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

নির্জনতা প্রিয় জঙ্গল-প্রেমীদের আদর্শ আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতা।।।

তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত, চিলাপাতা বন ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ বনভূমি এলাকাগুলির মধ্যে একটি। কালাচিনি, বুড়ি বসরা এবং বেনিয়া সহ বেশ কয়েকটি নদী দ্বারা কাটা বনটি এতটাই বিস্তৃত যে এমনকি গাইডদের জন্য এটি একদিনে ঢেকে রাখা কঠিন বলে মনে হয়। জলদাপাড়া এবং গোরুমারার মতো ডুয়ার্সে তার আরও ঘন ঘন প্রতিপক্ষের বিপরীতে, চিলাপাতা কম দর্শক দেখে, যাঁদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ অফার করে যারা মার-ধর-পথের দুঃসাহসিক কাজ করতে চান।

এটি হাতি সাফারির জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত।
বন শুধু বন্যপ্রাণী উত্সাহীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল নয় বরং এটি ইতিহাসে রক্ষিত একটি সাইট। কিংবদন্তি আছে যে চিলাপাতা কোচ রাজাদের শিকারের জায়গা হিসাবে কাজ করেছিল, বনের নাম চিল্লার নামে, একজন সেনাপতি তার দ্রুত আক্রমণের জন্য পরিচিত। বনে প্রবেশের জন্য, একজনকে অবশ্যই রেঞ্জ অফিস থেকে একটি পারমিট নিতে হবে, সাফারিগুলি সকাল 5টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কাজ করে।
চিলাপাতার ঘন ছাউনি এমন জায়গা তৈরি করে যেখানে সূর্যের আলো খুব কমই পৌঁছায়, কোচ রাজাদের যুগের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচন করে। এই বনে গন্ডার, হাতি এবং ভাগ্য অনুমতি দিলে বাঘ এবং চিতাবাঘ সহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল। বন্যের মধ্যে, কেউ নল রাজাদের অন্তর্গত দুর্গগুলির ধ্বংসাবশেষও খুঁজে পেতে পারে, যা জঙ্গল সাফারির অভিজ্ঞতায় রহস্যের একটি স্তর যুক্ত করে।
চিলাপাতার আরেকটি অনন্য দিক হল বিপন্ন রামগুয়া গাছ, যা এখন চোরাচালানের হুমকির সম্মুখীন। এর বাসিন্দাদের মধ্যে শক্তিশালী কিং কোবরা অন্তর্ভুক্ত থাকায়, গাইড সবসময় দর্শকদের সাবধানে চলার পরামর্শ দেয়। ডুয়ার্সের অন্যান্য বনের তুলনায়, চিলাপাতা আরও আদিম এবং অস্পৃশ্য মরুভূমির অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
চিলাপাতা দেখার জন্য, যাত্রীরা বাগডোগরা বিমানবন্দরে উড়ে যেতে পারে এবং তারপরে সড়কপথে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা ভ্রমণ করতে পারে। যারা রেল পছন্দ করেন তাদের জন্য, হাসিমারা থেকে বনটি ৫ কিমি, আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে ২৩ কিমি এবং নিউ আলিপুরদুয়ার থেকে 20 কিমি দূরে। রাস্তার যাত্রীদের প্রথমে আলিপুরদুয়ার পৌঁছতে হবে, যেখান থেকে চিলাপাতা ২০ কিমি দূরে। এই অঞ্চলে অসংখ্য মনোরম রিসর্ট এবং থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, যা একটি স্মরণীয় থাকার জন্য চমৎকার জঙ্গলের দৃশ্য প্রদান করে।
ইতিহাস উৎসাহী, বন্যপ্রাণী প্রেমিক বা অ্যাডভেঞ্চার সন্ধানকারীর জন্যই হোক না কেন, চিলাপাতা বন প্রকৃতির অস্পৃশ্য সৌন্দর্যের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলার খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও লোককথার সংগ্রাহক – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।।।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক এবং বাংলার লোককাহিনী সংগ্রাহক। তাঁর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব ছিল সুন্দরভাবে বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোককাহিনীর নথিবদ্ধ করা, তাদের মূল সারাংশ সংরক্ষণ করা। মৌখিক গল্প বলার ফর্ম্যাটে ধরে রাখা এই গল্পগুলি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছে।

১৫ এপ্রিল, ১৮৭৭ সালে, বর্তমানে বাংলাদেশের সাভারের কাছে উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, দক্ষিণারঞ্জন বিশিষ্ট মিত্র মজুমদার পরিবারে ছিলেন। তার পিতা-মাতা ছিলেন কুসুমময়ী এবং রামদারগঞ্জ মিত্র মজুমদার। দশ বছর বয়সে, তিনি ১৮৮৭ সালে ঢাকার কিশোরীমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে ১৮৯৩ সালে সপ্তম শ্রেণীতে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে স্থানান্তরিত হন। একাডেমিকভাবে সংগ্রাম করে, তার বাবা তাকে তার খালা, রাজলক্ষ্মী চৌধুরানীর কাছে টাঙ্গাইলে থাকতে পাঠান। তিনি সন্তোষ জানহাবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখানে, তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, অবশেষে ২১ বছর বয়সে তার বাবার সাথে মুর্শিদাবাদে চলে যান, যেখানে তিনি পাঁচ বছর বসবাস করেন।
লোককথার জগতে তার যাত্রা শুরু হয় প্রথমে তার মা কুসুমময়ী দেবীর সাথে এবং তার মৃত্যুর পর তার খালা রাজলক্ষ্মী দেবীর সাথে। সাহিত্যে দক্ষিণারঞ্জনের প্রবেশ তাঁর স্কুলের বছরগুলিতেই চিহ্নিত হয়েছিল, ২৫ বছর বয়সে তাঁর প্রথম বই ‘উত্তরণ কাব্য’ প্রকাশের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর আগে, তিনি ‘সুধা’ মাসিক পত্রিকার জন্যও সম্পাদনা করেছিলেন। বাবার সঙ্গে মুর্শিদাবাদ।
এই আখ্যানটি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বাংলা লোকসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান, আঞ্চলিক গল্পের সারমর্মকে ধারণ করে এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৃহত্তর বর্ণালীতে তাদের একটি স্থান নিশ্চিত করে।
উল্লেখযোগ্য সাহিত্য–সম্পাদনা
ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামশায়ের থলে, খোকাবাবুর খেলা, আমাল বই, চারু ও হারু, ফার্স্ট বয়, লাস্ট বয়, বাংলার ব্রতকথা, সবুজ লেখা, আমার দেশ, সরল চন্ডী, পুবার কথা,উৎপল ও রবি, কিশোরদের মন, কর্মের মূর্তি, বাংলার সোনার ছেলে, সবুজ লেখা, পৃথিবীর রূপকথা (অনুবাদ গ্রন্থ), চিরদিনের রূপকথা, আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী ।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে মার্চ কলকাতায় প্রয়াত হন ।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রথিতযশা বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীনাথ ভাদুড়ী’র প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

সতীনাথ ভাদুড়ী (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ – ৩০ মার্চ ১৯৬৫) ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় ঔপন্যাসিক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনামে চিত্রা গুপ্ত নামে পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন –

সতীনাথ ভাদুড়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির পূর্ণিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার পিতা ইন্দুভূষণ ভাদুড়ি আইন অনুশীলন করতেন।

বিজয়া দশমী, মায়ের বিদায়ের দিন সন্ধেয়। চার দিকে উত্‍সব শেষের বিষণ্ণতা। তার মধ্যেই কোশী নদীর পাড়ে পূর্ণিয়ার ‘সবুজকুন্তলা’ ভাট্টাবাজারে ইন্দুভূষণ ভাদুড়ী ও রাজবালাদেবীর ঘরে এলেন ষষ্ঠ সন্তান সতীনাথ। তার পৈতৃক নিবাস ছিল নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।১৯২৮ খ্রীস্টাব্দে মা রাজবালা এবং দিদি করুণাময়ীর সাতদিনের আগে-পরে মৃত্যু ঘটে। পিতা ইন্দুভূষণের অভিজাত গম্ভীর ব্যবহারে সতীনাথ প্রথম থেকেই ছিলেন নিঃসঙ্গ এবং অন্তর্মুখিন।
শিক্ষা-
তার বাল্যশিক্ষা, আইনকর্ম, রাজনীতিতে যোগদান ও ত্যাগ, সাহিত্য-সাধনা, এমনকি মৃত্যুও পূর্ণিয়া জেলাতেই নিবদ্ধ থাকে। ১৯২৪ খ্রীস্টাব্দে ডিভিশনার স্কলারশিপ নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ, ১৯২৬-এ পাটনা সায়েন্স কলেজ থেকে আই. এস. সি., ১৯২৮-এ অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে বি. এ. ১৯৩০-এ অর্থনীতিতে এম. এ. এবং ১৯৩১-এ পাটনা ল কলেজ থেকে বি. এ. পাশ করে ওকালতিতে যোগদান করেন।
তিনি তার বিএল ডিগ্রি সম্পন্ন করে ১৯৩২ এবং ১৯৩৯ সালের মধ্যে পাটনায় আইন অনুশীলন শুরু করেন।
কর্মজীবন ও স্বাধীনতার অন্দলন –
এরপর তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পূর্ণিয়ার জেলা সম্পাদক হন। এর পর ব্রিটিশ সরকারের ‘নেক নজরে’ পড়লেন তিনি। গ্রেফতার করা হল। পাঠানো হল পূর্ণিয়া জেলে। তিনি ভাগলপুর কারাগারে দুইবার বন্দী ছিলেন: ১৯৪০-৪১ এবং ১৯৪২-৪৫। ১৯৪২ সাল। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে উত্তাল হল দেশ। তিনিও তখন গভীর রাতে ‘জল কাদা ভেঙে বিনা টর্চের আলোয় ১৫-২০ মাইল’ হেঁটে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সভা সংগঠিত করছেন। ১৯৪৮ সালে, তিনি কংগ্রেস থেকে ছিটকে পড়েন এবং সমাজতান্ত্রিক দলে যোগ দেন।

তার কাজ-

সতীনাথের প্রথম উপন্যাস জাগরী , যার জন্য তিনি প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই বইটি তাকে যথেষ্ট খ্যাতি এনে দেয় এবং ১৯৬৫ সালে UNESCO কালেকশন অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়ার্কসের অংশ হিসেবে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। একটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে, জাগরী বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। তিনি প্যারিসে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন, সত্যি ভ্রমন কাহিনী । তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে গণনায়ক, চিত্রগুপ্তর ফাইল , ধোরাই চরিত মানস, অচিন রাগিনী, অপরিচিত, সঙ্গত, পারুয়ার নোটবুক ইত্যাদি।
সমালোচনামূলক প্রশংসা-
তাঁর ছোট গল্পগুলি হল বিচার ব্যবস্থার ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা, পক্ষপাতদুষ্ট রাজনীতি, অশোধিত নারীবাদ ইত্যাদি। প্যারোডি-টেক্সট বা এই কালো কমেডিগুলি বিশ্লেষণ করা খুবই কঠিন বা প্রায় অসম্ভব কারণ সমালোচনাগুলি স্ব-স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠিত অর্থায়নে পরিচালিত বিজ্ঞান বা অ্যানাটোমো-বায়ো সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারে না। ল্যাব-স্টেট বিজ্ঞানের রাজনীতি, জরিপ কৌশল, পরিসংখ্যান ইত্যাদি। ভাদুড়ির বক্তৃতার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্যারোডির প্যারোডির দিকে পরিচালিত করেছিল। একটি সমালোচক প্রমিত এবং সেইসাথে প্রাক-অনুমিত আনুষ্ঠানিক সরঞ্জাম দিয়ে গল্প-লাইন পরিমাপ করার জন্য একটি দুঃখিত চিত্র কাটাতে পারে। ভাদুড়ীর গল্পগুলি দ্বৈত অধিবেশনের দৃষ্টান্ত, যেখানে বিদ্যমান নাগরিক ও রাজনৈতিক সমাজ এবং স্টিরিওটাইপিকাল সাহিত্য সমালোচকগুলি এক সময়ে সূক্ষ্ম বুদ্ধি দ্বারা আক্রমণ করা হয়। ভাদুড়ী মডেল-তাত্ত্বিক ফর্মুলারাইজড সমালোচনার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
তার বেশিরভাগ লেখাই বাংলা ও পূর্ব বিহারের মানুষের জীবনধারাকে চিত্রিত করে।
সতীনাথ ভাদুড়ীর রচনাসমূহ:
(ক) সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস : ‘জাগরী’ (১৯৪৫), ‘ঢেঁাড়াই চরিতমানস’ (প্রথম চরণ ১৯৪৯, দ্বিতীয় চরণ ১৯৫১), ‘চিত্রগুপ্তের ফাইল’ (১৯৪৯), ‘সত্যি ভ্রমণকাহিনী’ (১৯৫১), ‘অচিনরাগিণী’ (১৯৫৪), ‘সংকট’ (১৯৫৭), ‘দিকভ্রান্ত’ (১৯৬৬)।
(খ) সতীনাথ ভাদুড়ীর গল্প সংকলন : ‘গণনায়ক’ (১৯৪৮), ‘অপরিচিতা’ (১৯৫৪), ‘চকাচকি’ (১৯৫৬), ‘পত্রলেখার বাবা’ (১৯৬০), ‘জলভ্রমি’ (১৯৬২), ‘আলোকদৃষ্টি’ (১৯৬২), ‘সতীনাথ-বিচিত্রা’ (মৃত্যুর পর প্রকাশিত)।
ঔপন্যাসিক সতীনাথ বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্পেরও স্রষ্টা। তাঁর গল্প সংখ্যা ৬২। দেশ, আনন্দবাজার, অমৃতবাজার, যুগান্তর, পরিচয়, বিচিত্রা, চতুরঙ্গ, পূর্বাশা, দৈনিক কৃষক, স্বাধীনতা, বিশ্বভারতী ইত্যাদি খ্যাতনামা পত্রিকায় তার গল্পগুলি প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্পের উত্‍স বাস্তব অভিজ্ঞতা। বৈশিষ্ট্য : মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী, ব্যঙ্গপ্রবণতা, মননশীলতা ও নিরাসক্তি। তাঁর গল্পের পটভূমি পূর্ণিয়ার মাটি ও মানুষজন।

প্রয়াণ –

তাঁর প্রয়াণ ছিল বড়ই বেদনার। ১৯৬৫ সালের ৩০ মার্চ তিনি ইহলোক ত্যগ করেন।

।।তথ্য ঋণ : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব ও তাত্‍পর্য।।।

১৯৩৩ সালের ৩০ মার্চ জর্জিয়ার উইন্ডার ব্যার কাউন্টি অ্যালায়েন্স দিবসটি প্রথম উদযাপন করে। চিকিত্‍সকদের সম্মান জানাতে এই দিনটি উত্‍সর্গ করার ধারণা দেন ডা. চার্লস বি অ্যালমন্ডের স্ত্রী ইউডোরা ব্রাউন অ্যালমন্ড। চিকিত্‍সা সেবা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চিকিত্‍সক ও রোগীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

চিকিত্‍সা সেবা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চিকিত্‍সক ও রোগীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস এর অন্যতম উদ্দেশ্য।১৯৯০ সালে ৩০ অক্টোবর মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ (সিনিয়র) সেদেশে ৩০ মার্চকে জাতীয় ডাক্তার দিবস পালনের জন্য আইন পাস করেন। উদ্দেশ্য ছিল ডাক্তারি পেশাকে সম্মান জানানো। সেবা দিয়ে রোগীদের সারিয়ে তোলা এসব মহত্‍ মানুষদের কার্ড, ছোটো উপহার কিংবা সংবর্ধনা ইত্যাদি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
মানুষের সেবা করার মতো মহত্‍ এই পেশাকে সম্মান জানাতে ১৯৩৩ সাল থেকে এই দিবস পালিত হচ্ছে। চিকিত্‍সক, সার্জনরা রোগীদের জন্য ২৪/৭ কাজ করেন। তাদের এই ত্যাগ এবং পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে দিনটি উদযাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৪২ সালের ৩০ মার্চ শল্য চিকিত্‍সায় প্রথম ইথার অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করেছিলেন ডা. ক্রফোর্ড ডব্লিউ লং। ঘটনাটি স্মরণীয় করে রাখতে সেই দিনটিকেই তারা বেছে নিয়েছিলেন।
তবে ৩০ মার্চ বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস হলেও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশ বছরের বিভিন্ন দিনে জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস পালন করেন। তাদের দেশের একজন চিকিত্‍সককে উত্‍সর্গ করেন সেই দিনটিকে। স্পেন, কিউবা এবং আর্জেন্টিনায় ৩ ডিসেম্বর পালিত হয় চিকিত্‍সক দিবস। ডা. কার্লোস জুয়ান ফিনলের জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হত দিনটি। তিনি মশাবাহিত ভাইরাস যে হলুদ জ্বরের কারণ সেটি আবিষ্কার করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় , বিভিন্ন তারিখ রয়েছে যেখানে জাতীয় ডাক্তার দিবস স্বীকৃত হতে পারে, সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী ৩০ শে মার্চ ।
কুয়েতে , জাতীয় ডাক্তার দিবস ৩ শে মার্চ পালিত হয়। কুয়েতি ব্যবসায়ী মহিলার জন্য এই উদযাপনের ধারণাটি এসেছিল; জাহরা সুলাইমান আল-মুসাভি। এবং তারিখটি তার কন্যা ডাঃ সুন্দুস আল-মাজিদির জন্মদিন হওয়ার কারণে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রাজিলে , জাতীয় ডাক্তার দিবস ১৮ অক্টোবর ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়, যেদিন ক্যাথলিক চার্চ সেন্ট লুকের জন্মদিন উদযাপন করে । চার্চের ঐতিহ্য অনুসারে প্রেরিত এবং ধর্মপ্রচারক সেন্ট লুক একজন ডাক্তার ছিলেন, যেমনটি নিউ টেস্টামেন্টে লেখা আছে।
জাতীয় চিকিত্সক দিবস ১ মে কানাডায় পালিত হয়। কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা কানাডায় অনুশীলন করা প্রথম মহিলা চিকিত্সক ডঃ এমিলি স্টো- এর স্বীকৃতির জন্য তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল । সিনেট পাবলিক বিল S-248 প্রণীত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেবে।
চাইনিজ ডাক্তার দিবস [ zh ] বার্ষিক ১৯ আগস্ট চীনে একটি জাতীয় ছুটি হিসাবে পালিত হয় । তারিখটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কমিশন (পিআরসি) দ্বারা ২০১৬ সালের চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্মেলনে নির্বাচিত হয়েছিল এবং ২০ নভেম্বর, ২০১৭-এ পিআরসি-এর স্টেট কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল ।
হরি ডক্টর ন্যাশনাল বা জাতীয় ডাক্তার দিবস প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় পালিত হয়। দিনটি ইন্দোনেশিয়ান ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিআই) এর জন্মদিন উদযাপনের সাথেও চিহ্নিত।
ইরানে , আভিসেনার জন্মদিন (ইরানি মাস: শাহরিভার 1লা = আগস্ট ২৩) ডাক্তারদের জন্য জাতীয় দিবস হিসাবে স্মরণ করা হয় ।
মালয়েশিয়ায় , ডক্টর কানাগাসাবাই অনুসারে প্রতি বছর অক্টোবরের ১০ তারিখে ডাক্তার দিবস পালিত হয় । N. এটি প্রথম ২০১৪ সালে ফেডারেশন অফ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার অ্যাসোসিয়েশন , মালয়েশিয়া দ্বারা চালু করা হয়েছিল ।
তুরস্কে , ১৯১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৪ মার্চ মেডিসিন দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ভিয়েতনাম ২৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫৫ সালে ডাক্তার দিবস প্রতিষ্ঠা করে। দিবসটি ২৭ ফেব্রুয়ারি বা কখনও কখনও এই তারিখের কাছাকাছি তারিখে পালিত হয়।
১০ মার্চ ভেনেজুয়েলার ডাক্তার দিবস। এই দিনটি হোসে মারিয়া ভার্গাসকে সম্মান জানাতে বেছে নেওয়া হয়েছিল , যিনি শুধুমাত্র একজন অসামান্য চিকিত্সক ছিলেন না বরং ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতিও ছিলেন।
নেপাল ২০ ফাল্গুন (৪ মার্চ) নেপালী তারিখে নেপালী জাতীয় ডাক্তার দিবসও উদযাপন করে। নেপাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নেপাল প্রতি বছর এই দিবসের আয়োজন করে আসছে। ডাক্তার-রোগীর যোগাযোগ, ক্লিনিকাল চিকিত্সা এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রচার এবং যত্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস পালিত হয় ২৪ অক্টোবর। ইরানে ২৩ অগাস্ট পালন করা হয় জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস।
ভারতে এই দিনটি ১ জুলাই তারিখে কিংবদন্তি চিকিত্‍সক ও পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের (১ জুলাই, ১৮৮২ – ১ জুলাই, ১৯৬২) সম্মানার্থে পালন করা হয়। কিউবা তে ৩রা ডিসেম্বরে ও ইরানে ২৩এ অগাস্ট এই দিনটি পালন করা হয়।
চিকিত্‍সাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তিদের ভূমিকাকে সম্মান জানাতে জন্য ‘ চিকিত্‍সক দিবস’ পালন করা হয়। এদিন তাঁদের কাজ এবং দায়িত্বগুলি স্বীকৃতি দেওয়ার বিশেষ দিন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This