Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবনে বাসন্তীপূজা ও চৈত্র নবরাত্রি : স্বামী আত্মভোলানন্দ (পরিব্রাজক)।

ॐ সর্বমঙ্গল- মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ -সাধিকে।
শরণ‍্যে ত্র‍্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে।।
শ্রীশ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ পাওয়া যায় সমাধি নামক এক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে মেধা ঋষির আশ্রমে প্রথমবার বাসন্তী পুজো করেছিলেন রাজা সুরথ। দূর্গা সপ্তশতী, দেবী মাহাত্ম্য ও মার্কণ্ডেয় পুরাণে রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তের বংশধর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পৌরাণিক তথ্য অনুযায়ী রাজা সুরথ ছিলেন সুশাসক ও অপরাজেয় যোদ্ধা। কিন্তু একদা প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন সুরথ। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। নিজের ঘনিষ্ঠদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তিনি স্তম্ভিত হন। হতাশ হয়ে বনে বনে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। সুরথ রাজার রাজধানী ছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের সুপুর। রাজা সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসাবে বেশ সুখ্যাতিসম্পন্ন ছিলেন। তিনি ছিলেন ক্ষত্রিয় বংশের। জীবনে কোনো যুদ্ধে তিনি পরাজিত হননি। কিন্তু সুরথ রাজার প্রতিবেশীরাজ্য (যবন রাজ্য) তার প্রতি হিংসাত্মক মনোভাবসম্পন্ন ছিল। যবন রাজ্য একদিন সুরথ রাজার রাজ্যকে আক্রমণ করে এবং তাদের কাছে সুরথ রাজের পরাজয় ঘটে। সেই সুযোগে তার (সুরথ) রাজসভার মন্ত্রী, ও অন্য সদস্যরা সব ধনসম্পত্তি লুঠ করে। কাছের লোকেদের এমন আচরণ দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। অবশেষে সর্বহারা হয়ে বনে আশ্রয় নেন।

এমনই একদিন ঘুরতে ঘুরতে মেধা ঋষির আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। মেধা ঋষি তাঁকে সেখানে থাকার আবেদন জানান। রাজা সেখানে বাস করলেও তাঁর মনে শান্তি ছিল না। নিজের রাজ্য ও প্রজার ভালো-মন্দের কথা তাঁকে ঘুমাতে দিত না। এরই মধ্যে একদা সমাধি নামক এক বণিকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সমাধি বণিকের স্ত্রী-পুত্রও তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিবারের ভালোর জন্য চিন্তিত থাকতেন তিনি। রাজার মনে প্রশ্ন জাগল যে, তাঁরা দুজনেই আপনজনদের প্রতারণার শিকার হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের ভালোর কথা চিন্তাভাবনা করছেন? কেন তাঁদের প্রতি মনের মধ্যে কোনও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে না? তাঁরা ঋষিকে একথা জিগ্যেস করেন যে, তাঁদের আপনজনেরা তাঁদের সঙ্গে এত খারাপ করা সত্ত্বেও কেন তাঁরা এখনও তাঁদের কল্যানের কথা ভাবছেন? এর উত্তরে মেধা ঋষি বলেন যে, সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এর পর ঋষি মহামায়ার কাহিনি শোনান। তার পর তাঁদের কঠিন তপস্যা করার পরামর্শ দেন। মহামায়া দেবী দুর্গার আশীর্বাদ পেতে রাজা সুরথ ও বণিক সমাধি বসন্ত কালের শুক্ল পক্ষে দুর্গার আরাধনা করেন। বসন্ত কালে এই পুজো করা হয়েছিল বলে এটি বাসন্তী দুর্গা পুজো নামে পরিচিত। পরবর্তী কালে এই পুজোয় খুশি হয়ে দেবী তাঁদের রাজ্য, ধন-সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী তার পর থেকেই বসন্ত কালে দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। শ্রীরামচন্দ্রের দ্বারা শরৎ কালে দুর্গা পুজোর আগে পর্যন্ত বসন্ত কালেই দেবীর আরাধনা করা হত। বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু স্থানে ও বাড়িতে বাসন্তী দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়।

শ্রীশ্রী চণ্ডী এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে মেধস মুনির আশ্রমেই পৃথিবীর প্রথম দুর্গাপুজো আয়োজিত হয়েছিল। সেটাকেই বাসন্তি পূজা বলা হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমার কাঁকসার গড় জঙ্গলে অবস্থিত। দুর্গাপুর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে গড়জঙ্গল। জঙ্গলের মধ্যে ২-৩ কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে মেধসাশ্রম। পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের নিকটবর্তী গড় জঙ্গলে মেধসাশ্রমে ভূভারতের প্রথম দুর্গাপূজা হয়। এখানেই রাজা সুরথ বাংলা তথা মর্তে প্রথম দুর্গাপূজা করেছিলেন। কাঁকসার গড় জঙ্গলের গভীর অরণ্যের মেধাশ্রম বা গড়চণ্ডী ধামে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ‍্য পুজো শুরু করেন। বসন্তকালে পুজোর সূচনা হয়, তাই, বসন্তের নবরাত্রির পূজা বাসন্তিক বা বসন্ত কালীন দুর্গাপূজা নামে পরিচিত হয়। তারপর থেকেই বাংলা তথা ভূভারতে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। আগামী ৩০ মার্চ থেকে শুরু হবে চৈত্র নবরাত্রি। এই নবরাত্রির ষষ্ঠী থেকে দশমীর মধ্যে পালিত হবে বাসন্তী পুজো। চৈত্র নবরাত্রিতে হয় বাসন্তী পুজো। বাসন্তী পুজোকেই বাঙালির আসল দুর্গা পুজো বলে মনে করা হয়।

মহর্ষি মেধস মুনি বলিলেন, মহামায়া পরমা জননী অর্থাৎ আদিমাতা৷ যখন এই জগৎ ছিল না, তখন তিনি ছিলেন। যখন সূর্য্য ছিল না, চন্দ্র ছিল না, তারা নক্ষত্র এই পৃথিবী কিছুই ছিল না, তখন তিনি ছিলেন। তাঁহা হইতেই এই জগৎ সৃষ্ট হইয়াছে৷ তিনি এই জগৎকে মোহিত করিয়া রাখিয়াছেন বলিয়া তাঁহার নাম মহামায়া। জগৎকে তিনি সৃষ্টি করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই। সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জগৎকে ধরিয়া আছেন, এই জন্য তাঁহার আর এক নাম জগদ্ধাত্রী। তিনি ধারণ করিয়া না থাকিলে উৎপত্তির সঙ্গে সঙ্গেই এ জগতের লয় হইয়া যাইত। শক্তিরূপা সনাতনী আপনার বিশ্ব বিমোহিনী মায়া দ্বারা আপনাকে আচ্ছাদিত করিয়া নানারূপে আমাদের মধ্যে লীলা করিতে আসেন। কখনও তিনি পিতা মাতার কাছে নন্দিনী, ভ্রাতার কাছে ভগিনী, পতির কাছে জায়া, পুত্র কন্যার কাছে জননী। কখনও তিনি দীনের কাছে দয়া, তৃষিতের কাছে জল, রোগীর কাছে সেবা, ক্ষুধিতের কাছে ফল। কখন কত মূর্তিতে যে মা আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হন তাহা আর কি বলিব ? তাঁহার গুণ বর্ণনা করিয়া শেষ করিতে পারে, এমন শক্তি এ জগতে কার আছে ? তিনি আসিলেই জীবের সকল দুর্গতির অবসান হয়। এইজন্য তাঁহার আর এক নাম দুর্গা। দুর্গতিনাশিনী শ্রীদুর্গাই ভুবনমোহিনী ত্রিজগৎ প্রসবিনী আদ্যাশক্তি মহামায়া।

চৈত্র অমাবস্যার পরের দিন, অর্থাৎ চৈত্র শুক্লা প্রতিপদ থেকে শুরু হয় চৈত্র নবরাত্রি। এই বছর নবরাত্রি শুরু হবে আগামী ৩০ মার্চ থেকে। সেই দিনই করা হবে ঘট স্থাপন। দেবী মাতার নয়টি রূপ নবরাত্রি পূজা করা হয়। এই বছর ৩০ মার্চ প্রতিপদ শৈলপুত্রী, দ্বিতীয়া ৩১শে মার্চ ব্রহ্মচারিণী, তৃতীয়া ০১ এপ্রিল-চন্দ্রঘণ্টা, চতুর্থী ০২ এপ্রিল-কুষ্মাণ্ডা, পঞ্চমী ০৩ এপ্রিল-স্কন্দমাতা, ষষ্ঠী ০৪ এপ্রিল-কাত্যায়নী, সপ্তমী ০৫ এপ্রিল-কালরাত্রি, অষ্টমী ও নবমী ০৬ এপ্রিল-মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী। চৈত্র নবরাত্রির নবমীতেই পালিত হয় রাম নবমী। মনে করা হয়, এই দিনেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। চৈত্র নবরাত্রি পুজোর প্রচলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে, শাস্ত্রে যে চারটি নবরাত্রিগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আমরা চৈত্র, আষাঢ়, আশ্বিন এবং মাঘ মাসের শুক্লা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত চারটি নবরাত্রি দেখতে পাই। আষাঢ় ও মাঘ মাসের নবরাত্রিকে বলা হয় গুপ্ত নবরাত্রি। আশ্বিন মাসের নবরাত্রিকে শারদীয়া নবরাত্রি এবং চৈত্র মাসের নবরাত্রিকে বাসন্তী নবরাত্রি বলা হয়।

প্রাচীন কাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ, বিহারে চৈত্র মাসে দুর্গা পুজোর প্রচলন ছিল। এখনও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বাসন্তী দুর্গাপুজো করা হয়ে থাকে। বাঙালির সার্বজনীন পূজা ছাড়াও বর্তমানে রাজবাড়ী, জমিদার বাড়ি, কিছু প্রাচীন বনেদী বাড়ি এবং কিছু মঠ মন্দিরে এছাড়াও বিভিন্ন আশ্রম, মঠ ও মিশনে সন্ন্যাসীরা বাসন্তী দুর্গা পূজার আয়োজন করেন। এই বছর শ্রী শ্রী বাসন্তী দেবী দুর্গাপুজোর আমন্ত্রণ অধিবাস, ষষ্ঠী তিথি- ৩ এপ্রিল ২০২৫, সপ্তমীর পুজো, নবপত্রিকা স্নান- ৪ এপ্রিল ২০২৫, দুর্গাঅষ্টমী ও সন্ধি পুজো- ৫ এপ্রিল ২০২৫, নবমী পুজো- ৬ এপ্রিল ২০২৫, শ্রী বাসন্তী দেবী দুর্গা পুজো দশমী পুজো ও বিসর্জন- ৭ এপ্রিল ২০২৫।
জয় মা দুর্গা-জয় মা দূর্গা-জয় মা দূর্গা দূর্গতিনাশিনী… জগৎ জননী মাদূর্গা তোমার আশির্বাদ সকলের মস্তকে বর্ষিত হোক। জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ আপনাদের সকলের শিরে বর্ষিত হোক, পিতা-মাতার আশির্বাদ সকলের শিরে বর্ষিত হোক, এই প্রার্থনা করি.!
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক*

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মার্কসবাদী আদর্শে বিশ্বাসী উত্‍পল দত্ত চিরকাল শোষিত বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করেছেন তার নাটক ও নাট্য প্রযোজনার মধ্য দিয়ে!!!

ভূমিকা– উত্‍পল দত্ত একজন ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালক এবং লেখক-নাট্যকার ছিলেন। তিনি মূলত বাংলা থিয়েটারের একজন অভিনেতা ছিলেন, যেখানে তিনি আধুনিক ভারতীয় থিয়েটারে একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন, যখন তিনি ১৯৪৯ সালে “লিটল থিয়েটার গ্রুপ” প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলটি অনেক ইংরেজি, শেক্সপিয়র এবং ব্রেখ্টের নাটক রচনা করেছিল, যা বর্তমানে থিয়েটার নামে পরিচিত।

“এপিক থিয়েটার” সময়কাল, এটি অত্যন্ত রাজনৈতিক এবং উগ্র থিয়েটারে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করার আগে। তাঁর নাটকগুলি তাঁর মার্কসবাদী মতাদর্শের প্রকাশের জন্য একটি উপযুক্ত বাহন হয়ে ওঠে, যা কল্লোল (১৯৬৫), মানুষের অধিকার, লৌহা মনোব (১৯৬৪), টিনার টোলোয়ার এবং মহা-বিদ্রোহার মতো সামাজিক-রাজনৈতিক নাটকগুলিতে দৃশ্যমান। এছাড়াও তিনি ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে ১০০ টিরও বেশি বাংলা ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং মৃণাল সেনের ভুবন শোম (১৯৬৯), সত্যজিত্‍ রায়ের আগন্তুক (১৯৯১), চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। এবং হৃষিকেশ মুখার্জির হিন্দি কমেডি যেমন গোল মাল (১৯৭৯) এবং রং বিরাঙ্গি (১৯৮৩)। তিনি তাঁর মৃত্যুর কিছু আগে ১৯৯৩ সালে দূরদর্শনে ব্যোমকেশ বক্সীর (টিভি সিরিজ) সীমান্ত হীরার পর্বে একজন ভাস্কর স্যার দিগিন্দ্র নারায়ণের ভূমিকাও করেছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং তিনটি ফিল্মফেয়ার সেরা কমেডিয়ান পুরস্কার পান। ১৯৯০ সালে, ভারতের ন্যাশনাল একাডেমি অফ মিউজিক, ড্যান্স অ্যান্ড থিয়েটার সঙ্গীত নাটক আকাদেমি তাকে তার সর্বোচ্চ পুরস্কার, থিয়েটারে আজীবন অবদানের জন্য সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ প্রদান করে।
প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা–
উত্‍পল দত্ত বাংলা গণনাট্য আন্দোলনের সময়ে বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার। উত্‍পল দত্ত ১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা গিরিজারঞ্জন দত্ত। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন।
ব্যক্তিগত জীবন-
১৯৬০ সালে, দত্ত থিয়েটার এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শোভা সেনকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে, বিষ্ণুপ্রিয়া দত্ত, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিক্স, নয়া দিল্লিতে থিয়েটার এবং পারফরম্যান্স স্টাডিজের একজন অধ্যাপক।
কর্মজীবন-
গণনাট্য আন্দোলন ছিল মূলত রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন, মার্ক্সবাদ থেকে প্রণীত এক ধারা যেখানে মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রতিবাদের মাধ্যম তিনি মঞ্চের কারিগর ,বাংলা মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। তিনি শেক্সপিয়ার আন্তর্জাতিক থিয়েটার কোম্পানির সাথে ভ্রমণ করেছেন বেশ কয়েকবার। তাকে গ্রূপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে গন্য করা হয়। কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও তার খ্যাতি রয়েছে।
তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল, শওকিন ও রং বিরঙ্গিতে (১৯৮৩) -তে অভিনয় করেছেন। তিনি সত্যজিত্‍ রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মননশীল ছবি ছাড়াও অজস্র বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উত্‍পল দত্ত। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী। উত্‍পল দত্তের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে টিনের তলোয়ার, মানুষের অধিকার ইত্যাদি। তার নাটক গুলি কে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। পূর্ণাঙ্গ নাটক, পথ নাটিকা, যাত্রাপালা।
উত্‍পল দত্ত রচিত নাটকের তালিকা-
বাংলা রাজনৈতিক নাটকের ইতিহাস সুপ্রাচীন। নীলদর্পণ থেকেই এই রাজনৈতিক নাটকের সূচনা। কিন্তু উত্‍পল দত্তকে বলতে হয় অবিমিশ্র রাজনৈতিক নাট্যকার। তাঁর সমস্ত নাটকের মধ্যেই থাকে সচেতন উদ্দেশ্য। পূর্ণাঙ্গ, একাঙ্ক, পথনাটক ইত্যাদি মিলে উত্‍পল দত্তের নাটকের সংখ্যা প্রায় সন্তরটি। বিষয়বস্তুর দিক থেকেও নাটকগুলি বিচিত্র, কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বত্রই সেখানে অতন্দ্র থেকেছে। মৌলিক এই নাটকগুলি ছাড়াও আছে অসংখ্য অনুবাদ নাটক। আরো উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে উত্‍পল দত্ত কখনও শিল্পসৃষ্টির অজুহাতে বা শাসক শক্তির কোপদৃষ্টি থেকে আত্মরক্ষার জন্য কোনো অস্পষ্টতা বা অবরণের আশ্রয় নেন নি। তার বক্তব্য স্পষ্ট, সুবোধ্য এবং অকুতোভয়।
লাল দূর্গ, বণিকের মাণদন্ড, এংকোর (অনুবাদ গল্প), দিল্লী চলো, ছায়ানট(১৯৫৮), অঙ্গার(১৯৫৯), ফেরারী ফৌজ(১৯৬১), ঘুম নেই (১৯৬১), মে দিবস (১৯৬১), দ্বীপ (১৯৬১), স্পেশাল ট্রেন (১৯৬১), নীলকন্ঠ(১৯৬১), ভি.আই.পি (১৯৬২), মেঘ (১৯৬৩), রাতের অতিথি (১৯৬৩), সমাজতান্ত্রিক চাল (১৯৬৫), কল্লোল(১৯৬৫), হিম্মত্‍বাই (১৯৬৬), রাইফেল (১৯৬৮), মানুষের অধিকার (১৯৬৮), জালিয়ানওয়ালাবাগ (১৯৬৯), মাও-সে-তুং (১৯৭১), পালা-সন্ন্যাসীর তরবারি (১৯৭২), বৈশাখী মেঘ (১৯৭৩), দুঃস্বপ্নের নগরী(১৯৭৪), এবার রাজার পালা, স্তালিন-১৯৩৪, তিতুমির, বাংলা ছাড়ো, দাঁড়াও পথিকবর, কৃপান, শৃঙ্খলছাড়া, মীরকাসিম, মহাচীনের পথে, আজকের শাজাহান, অগ্নিশয্যা, দৈনিক বাজার পত্রিকা, নীল সাদা লাল, একলা চলো রে, ক্রুশবিদ্ধ কুবা, নীলরক্ত, লৌহমানব, যুদ্ধং দেহি, লেনিনের ডাক, চাঁদির কৌটো, রক্তাক্ত ইন্দোনেশিয়া, মৃত্যুর অতীত, ঠিকানা, টিনের তলোয়ার, ব্যারিকেড, মহাবিদ্রোহ, মুক্তিদীক্ষা, সূর্যশিকার, কাকদ্বীপের এক মা, ইতিহাসের কাঠগড়ায়, কঙ্গোর কারাগারে, সভ্যনামিক, নয়াজমানা, লেনিন কোথায়, সীমান্ত, পুরুষোত্তম, শৃঙ্খল ঝঙ্কার, জনতার আফিম, পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস, মধুচক্র, প্রফেসর মামালক, শোনরে মালিক, সমাধান, অজেয় ভিয়েতনাম, তীর।
পুরষ্কার এবং স্বীকৃতি–
থিয়েটারে আজীবন অবদানের জন্য ১৯৯০ সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ
শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – জিতেছেন
১৯৭০ ভুবন শোম – ভুবন শোম
ফিল্মফেয়ার সেরা কমেডিয়ান পুরস্কার – জিতেছে
১৯৮০ গোল মাল – ভবানী শঙ্কর
১৯৮২ নরম গরম – ভবানী শঙ্কর
১৯৮৪ রং বিরঙ্গি – পুলিশ ইন্সপেক্টর ধুরন্ধর ভাতাওদেকর
বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড: সেরা অভিনেতার পুরস্কার- জিতেছেন
১৯৯৩ আগন্তুক – মনোমোহন মিত্র
ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার – মনোনীত।
১৯৭৫ অমানুষ – মহিম ঘোষাল
১৯৮০ গোল মাল – ভবানী শঙ্কর
১৯৮৬ সাহেব – বদ্রী প্রসাদ শর্মা

মৃত্যু–

১৯৯৩ খ্রীস্টাব্দের ১৯শে আগস্ট তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মানুষের অধিকার আর মাতৃভূমির প্রতি নিবেদিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

বাংলাভাষার প্রথম প্রাণপুরুষ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত – একজন বাঙালি আইনজীবী, সমাজকর্মী, ভাষা সৈনিক। তিনি মূলত রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত। তিনি দেশভাগের আগে ভারতীয় উপমহাদেশের ভারতীয় অংশে এবং পরে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনীতিবিদ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন-

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর তত্‍কালীন বাংলার ত্রিপুরা (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া) জেলার রামরাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত কসবা ও নবীনগর মুন্সেফ আদালতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধীরেন্দ্রনাথ নবীনগর হাই স্কুল, কুমিল্লা কলেজ এবং কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯০৬ সালে কুমিল্লা কলেজ থেকে এফ.এ. কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯০৮ সালে বিএ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ থেকে বিএল পাস করেন।

কর্মজীবন-

ধীরেন্দ্রনাথের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। এরপর আইন পেশায় নিয়োজিত হন। তবে রাজনীতি ও আইন পেশার পাশাপাশি তিনি আমৃত্যু দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গুড়া উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯১১ সালে কুমিল্লা জেলা বারে আইন চর্চার জন্য যোগ দেন। ১৯০৭ সালে, তিনি ত্রিপুরা হিতসাধনী সভার সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯১৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অংশ নেন। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে তিনি ‘মুক্তি সংঘ’ নামে একটি সমাজকল্যাণ সংস্থা গঠন করেন। তিনি কুমিল্লার একটি সুপরিচিত জাতীয়তাবাদী সংগঠন অভয় আশ্রমের কার্যক্রমের সাথেও জড়িত ছিলেন এবং ১৯৩৬ সালে ত্রিপুরা (বর্তমানে কুমিল্লা) জেলা বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম-

সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী এবং ব্যারিস্টার আবদুর রসূলের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯১৯ সালে ময়মনসিংহ শহরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে তিনি তিন মাসের জন্য আইন প্র্যাকটিস স্থগিত করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ধীরেন দত্ত বেঙ্গল প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন, বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল বর্রোয়ার্স এবং বেঙ্গল মানিলেন্ডার অ্যাক্ট পাসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেন। ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন এবং বিভিন্ন কারাগারে কঠোর ও দ্রুত সাজা ভোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ-

১৯৬০ সালে, পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করার পর ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ‘এবডো’-এর শিকার হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। তা সত্ত্বেও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ রাতে কুমিল্লার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী অ্যাডভোকেট আব্দুল করিমের তত্ত্বাবধানে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ তাঁর ছোট ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে গ্রেফতার করে ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

পুরস্কার ও সম্মননা-

১৯৯৭ সালে দেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে তাকে “ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসাধারণ অবদানের জন্য।

মৃত্যু-

২৯ মার্চ, ১৯৭১ সালে তিনি প্রয়াত হন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে বিখ্যাত বাঙালি সরোদশিল্পী ও ভারতীয় বৃন্দবাদনের অন্যতম পথিকৃত্‍ তিমির বরণ ভট্টাচার্য।।।

তিমির বরণ ভট্টাচার্য, একজন খ্যাতিমান বাঙালি সরোদবাদক, ভারতীয় বৃন্দ বাদনের জগতে এক অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছেন। ১৯০১ সালের ১০ জানুয়ারী কলকাতায় (বর্তমানে কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ) একটি সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর জীবন শুরু থেকেই সঙ্গীতে নিমজ্জিত ছিল। অল্প বয়সে তার বাবা-মাকে হারানো সত্ত্বেও, তিমির বারানের সঙ্গীত যাত্রা সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় ছিল, তার দাদা মিহিরকিরণের দ্বারা প্রদত্ত লালন-পালনের পরিবেশ এবং রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামীর কাছ থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য ধন্যবাদ।

১৪ বছর নাগাদ, তিনি রাজেন্দ্রলাল চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্লারিনেট শিখছিলেন এবং হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীরে প্রবেশ করছিলেন। সরোদের প্রতি তার মুগ্ধতা তাকে উল্লেখযোগ্য শিক্ষক আমির খান এবং আলাউদ্দিন খানের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে পরিচালিত করে। ১৯২৫ সালে মাইহারে আলাউদ্দীন খানের অধীনে প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে তার সঙ্গীতের নৈতিকতাকে রূপ দেয়। ১৯৩০ সালের মধ্যে, তিনি ‘মাইহার ব্যান্ড’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কলকাতায় একটি ‘ফ্যামিলি অর্কেস্ট্রা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিমির বারানের সঙ্গীতজীবন একটি উল্লেখযোগ্য মোড় নেয় যখন তিনি উদয় শঙ্করের দলে একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন, যার ফলে তিনি জার্মানি, জাপান, কানাডা এবং ইউরোপ জুড়ে ভ্রমণ করেন। যাইহোক, ১৯৩৪ সালের মধ্যে, তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন, নিউ থিয়েটারে যোগদান করেন এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ অন্তর্ভুক্ত করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে তার সহযোগিতা, বিশেষ করে ১৯৪২ সালে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর অভিনয়, তার সঙ্গীত দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে দাঁড়িয়েছে।
সিনেমায় তিমির বারানের অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৩৫ সালে হিন্দি ছবি ‘দেবদাস’-এর জন্য অর্কেস্ট্রাল সঙ্গত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরে কলকাতা আর্ট প্লেয়ারদের সাথে কাজ করেছিলেন, ‘ওমরের স্বপ্নকথা’ এবং ‘বিদ্যুতপর্ণা’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলিতে সঙ্গীত যোগ করেছিলেন। তার পরবর্তী বছরগুলি তাকে বোম্বে এবং পাকিস্তানে চলে যেতে দেখেছিল, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র শিল্পে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে অবদান রেখেছিল এবং অবশেষে ষাটের দশকে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে যোগদান করেছিল।
তিনি প্রাপ্ত প্রশংসার মধ্যে ১৯৫০ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশিকোত্তম উপাধি। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আলাউদ্দিন পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আলাউদ্দিন পুরস্কারসহ দেশ বিদেশের বহু পুরস্কারে সম্মানিত হন।
তিমির বরণ ভট্টাচার্যের উত্তরাধিকার তার ব্যতিক্রমী প্রতিভা এবং ভারতীয় সঙ্গীতে অবদানের একটি প্রমাণ। তাঁর জীবনের যাত্রা শেষ হয়েছিল ২৭ মার্চ, ১৯৮৭, কলকাতার নেতাজিনগরে, একটি সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্য রেখে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ভারতের যে ৫ জায়গা ঘুরে আসতে পারেন।।।

ভারতে বিভিন্ন গন্তব্যের আবাসস্থল, প্রতিটি ভ্রমণকারীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এর মধ্যে, পাঁচটি স্থান তাদের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং দুঃসাহসিকতার জন্য আলাদা, যা তাদের অবশ্যই দেখার জায়গা করে তোলে। কেরালার নির্মল ব্যাকওয়াটার থেকে শুরু করে কর্ণাটকের ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ পর্যন্ত, এই গন্তব্যগুলির প্রতিটি কী অফার করে তার এক ঝলক এখানে দেওয়া হল।

মেঘালয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য, প্রাচীন জলপ্রপাত, হ্রদ এবং নদী দ্বারা বেষ্টিত, এটি প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল। মেঘালয়ের সবুজ দৃশ্য, বিশেষ করে শিলং, চেরাপুঞ্জির লিভিং রুট ব্রিজ এবং ডাউকির স্বচ্ছ জলের মতো জায়গায় পর্যটকদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। এই অঞ্চলটি একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয় এর হাইকিং ট্রেইল এবং বোটিং সুযোগের সাথে।
কর্ণাটক, তার উপকূলীয় পারিপার্শ্বিকতার জন্য পরিচিত, বর্ষা মৌসুমে মনোমুগ্ধকর। হাম্পির ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট সহ এই রাজ্যটি ঘুরে দেখার জন্য শীতের মাসগুলি আদর্শ। গোকর্ণ, মালপে এবং মুরুদেশ্বরের মতো সমুদ্র সৈকতগুলি সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি একটি আনন্দদায়ক পালানোর সুযোগ দেয়।
একবার ফরাসি উপনিবেশ, পন্ডিচেরিতে শীতকালীন ছুটির জন্য আদর্শ সুন্দর সৈকত রয়েছে। দর্শনার্থীরা সৈকতে সূর্যোদয়ের হাঁটা উপভোগ করতে পারেন বা শীতের অলস দিনে ককটেল দিয়ে আরাম করতে পারেন। শহরের মনোমুগ্ধকর ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁগুলি, অরোভিলের শান্ত পরিবেশের সাথে, যারা শান্তি এবং বিশ্রাম চায় তাদের জন্য এটি একটি নিখুঁত গন্তব্য করে তোলে।
রাজস্থানের সৌন্দর্য কথায় বলা কঠিন, প্রতিটি শহরই অনন্য কিছু অফার করে। রাজ্যটি তার অত্যাশ্চর্য স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। উদয়পুরের মনোরম হ্রদ থেকে জয়সালমিরের সোনালি মরুভূমি পর্যন্ত, রাজস্থান শীতল মাসগুলিতে সবচেয়ে ভাল পরিদর্শন করা হয়। আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে জয়পুর, যোধপুর এবং উদয়পুরের রাজকীয় দুর্গ এবং প্রাসাদ, সেইসাথে জয়সালমিরের মরুভূমিতে ক্যাম্পিং এবং পুষ্করে হট এয়ার বেলুন রাইড।
কেরালা, তার ব্যাকওয়াটার, সৈকত, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং মনোরম পাহাড়ের জন্য পরিচিত, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের মাসগুলিতে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি শীর্ষ বাছাই। রাজ্য হাউসবোটে রাইড, চা বাগানে হাঁটার এবং ঐতিহ্যবাহী কথাকলি নৃত্য পরিবেশনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ দেয়। ব্যাকওয়াটারের অ্যাডভেঞ্চার হোক বা পাহাড়ের প্রশান্তি, কেরালায় প্রত্যেকের জন্যই কিছু না কিছু আছে।
ভারতের এই গন্তব্যগুলি সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং বিশ্রামের একটি সমৃদ্ধ মিশ্রণের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা দেশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অন্বেষণ করতে চাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ করে তোলে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুল গীতি শিল্পী সন্তোষ সেনগুপ্ত।।।

সন্তোষ সেনগুপ্ত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুল গীতির জগতে একজন প্রখ্যাত শিল্পী। ২৮শে মার্চ, ১৯০৯ সালে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে সঙ্গীতে তার যাত্রা শুরু হয়। মঞ্জু সাহেবের নির্দেশনায়, তিনি ঠুমরি শিখেছিলেন, অবশেষে কাজী নজরুল ইসলাম এবং হিমাংশু দত্তের মতো আলোকিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিখেছিলেন।

সেনগুপ্ত কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং সংক্ষিপ্তভাবে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে রবীন্দ্রসংগীত শেখান।
এইচএমভি এবং কলাম্বিয়া রেকর্ডসের একজন প্রযোজক হিসেবে তার কাজ জনপ্রিয় ট্র্যাকগুলি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ১৯৪০ সালে একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড রয়েছে যার মধ্যে “কেন বাজাও কাঙ্কন” হিট গান রয়েছে। সেনগুপ্তের নির্দেশনায় চিত্রাঙ্গদা এবং শাপমোচনের মতো ঠাকুরের নৃত্য-নাট্যের গ্রামোফোন ডিস্কগুলিও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা বাংলা সঙ্গীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে চিহ্নিত করে। তার আধুনিক গানের রেকর্ডগুলির মধ্যে, “জীবন যারে তুমি দাওনি মালা” অতুলপ্রসাদী গানের উল্লেখযোগ্য পরিবেশনার পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে।
তার সমগ্র কর্মজীবন জুড়ে, সেনগুপ্ত শুধুমাত্র আধুনিক বাংলা গানই রেকর্ড করেননি বরং অতুলপ্রসাদ সেনের সঙ্গীতেও উদ্যোগী হন। তার সারগ্রাহী পদ্ধতির মাধ্যমে ঐতিহ্যগত এবং সমসাময়িক শৈলীর সেতুবন্ধন ঘটে, যা বাংলা সঙ্গীতের বিস্তৃত বর্ণালীতে বিস্তৃত একটি উত্তরাধিকার রেখে যায়।
সন্তোষ সেনগুপ্তের রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ডগুলি হল-
বাকি আমি রাখব না ও মোর পথিকেরে বুঝি এনেছ, কেন বাজাও কাঁকন ও আজ কি তাহার বারতা পেল রে, আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া ও দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি, আমার লতার প্রথম মুকুল, বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা ও একদা কী জানি কোন পুণ্যের ফলে, এসো এসো আমার ঘরে ও তোমার পতাকা যারে দাও, ভালবেসে যদি সুখ নাহি, অল্প লইয়া থাকি তাই, আমি চিনি গো চিনি তোমারে ও ওগো শেফালিবনের মনের কামনা, জীবনে যত পূজা হল না সারা ও খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি, মন মোর মেঘের সঙ্গী, জানি জানি হল যাবার আয়োজন।
১৯৮৪ সালের ২০ জুন কলকাতায় সন্তোষ সেনগুপ্তের মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটে। তবুও, সঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন করে তার অবদানগুলি অনুরণিত হতে থাকে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে প্রখ্যাত কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়।।।

মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২৮ মার্চ, ১৯৩০ সালে উত্তর প্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণ করেন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। শৈলেন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা, মীরার নামকরণ করা হয়েছিল তার জন্মস্থানের নামে। কলকাতার ৮ দেবেন সেন রোডে তার বাড়িটি ছিল বেগম আখতার, আলী আকবর খান এবং আরও অনেকের মতো সঙ্গীতের মহান ব্যক্তিদের জন্য একটি সমাবেশের স্থান, যা তাকে একটি সমৃদ্ধ সঙ্গীত পরিবেশ প্রদান করে।

অল্প বয়সে, তিনি তার বাবার অধীনে এবং পরে চিন্ময় লাহিড়ীর কাছ থেকে ধ্রুপদ ও ধামার প্রশিক্ষণ নেন।
মীরার সঙ্গীত প্রতিভা প্রথম দিকে স্বীকৃত হয়েছিল। অল্প বয়সেই তিনি অল বেঙ্গল মিউজিক কম্পিটিশনে প্রতিটি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৪৩ সালে নৃপেন মজুমদারের আমন্ত্রণে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অভিনয় শুরু করলে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এক বছর পরে, তিনি সঙ্গীতাচার্য গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী কর্তৃক “গীতাশ্রী” উপাধিতে সম্মানিত হন।
তার বাবা তাকে পাটিয়ালা ঘরানার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরে কিংবদন্তি ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার যাত্রা অব্যাহত ছিল। এমনকি এই সংযোগের ফলে প্রখ্যাত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ তাঁর বাড়িতে ওস্তাদের থাকার জন্য কক্ষ অফার করেছিলেন। সঙ্গীতের সাথে মীরার বন্ধন আরও গভীর হয় যখন তিনি ১৯৫৭ সালে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন, একজন সহ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী, যার সাথে তিনি বেশ কয়েকটি রেকর্ড প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অনুরোধে রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং চেকোস্লোভাকিয়া সফর করার সময় মীরার আন্তর্জাতিক প্রকাশ ঘটে, বিশ্ব মঞ্চে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রদর্শন করে। তিনি তপন সিনহার নির্দেশে ‘অতিথি’, ‘বৃন্দাবনলীলা’ এবং ‘মেঘমল্লার’-এর মতো ছবিতেও তার কণ্ঠ দিয়েছেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে তার প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন জুড়ে, মীরা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে একটি বিশেষ পুরস্কার সহ অসংখ্য প্রশংসা পেয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফ মিউজিকের জন্য তার অভিনয় সারা দেশে হৃদয় জয় করে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন সম্মানিত দূত হিসাবে তার উত্তরাধিকারকে সিমেন্ট করে।
মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন এবং কাজ শিল্পের প্রতি তার উত্‍সর্গকে প্রতিফলিত করে, যা তাকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে একটি সম্মানিত নাম করে তোলে। ভারতের সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
তাঁর অন্যান্য পুরস্কার গুলি হল– গিরিজাশঙ্কর পুরস্কার, আলাউদ্দিন পুরস্কার, সৌরভ পুরস্কার, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে – আইটিসি এসআরএ পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি পুরস্কার, ভুয়ালকা পুরস্কার।
২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বোসপুকুরের বাড়িতে প্রয়াত হন বিদুষী মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে, বাঙ্গালী কবি ও সমাজকর্মী মল্লিকা সেনগুপ্ত।।।

মল্লিকা সেনগুপ্ত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একজন বিশিষ্ট কবি এবং লেখক, তাঁর নারীবাদী এবং সংবেদনশীল সাহিত্যকর্ম দিয়ে নিজের জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন। ২৭ মার্চ, ১৯৬০ সালে, নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণকারী সেনগুপ্তের কবিতার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে। বছরের পর বছর ধরে, তিনি ১১টি কবিতা সংকলন, দুটি উপন্যাস এবং অসংখ্য প্রবন্ধ সহ ২০টি উল্লেখযোগ্য রচনা লিখেছেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অধিভুক্ত মহারানী কাশিশ্বরী কলেজে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তার একাডেমিক কেরিয়ারও সমানভাবে উজ্জ্বল ছিল।
৯০ এর দশকে বাংলা সাহিত্যে সেনগুপ্তের অবদান উল্লেখযোগ্য ছিল, বিশেষ করে তিনি অপর্ণা সেনের নির্দেশনায় ‘সানন্দা’ পত্রিকার কবিতা বিভাগ সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়াও তিনি স্বামী সুবোধ সরকারের সাথে ‘ভাষানগর’ একটি সাংস্কৃতিক পত্রিকার সহ-সম্পাদনা করেছিলেন। তার সাহিত্যকর্ম, তার রাজনৈতিক এবং নারীবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত, শুধুমাত্র ভারতেই স্বীকৃত হয়নি বরং বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সহ আন্তর্জাতিক প্রশংসাও অর্জন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার তাকে সুকান্ত পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ফেলোশিপ ফর লিটারেচার প্রদানের মাধ্যমে সাহিত্য ও সামাজিক সমস্যাগুলির উপর তার গভীর প্রভাবকে স্বীকার করেছে।
সেনগুপ্তের লেখাগুলি প্রায়শই ঐতিহাসিক নারী ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে, আধুনিক নারীবাদী লেন্সের মাধ্যমে তাদের গল্পের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সমসাময়িক কবি সংযুক্তি দাশগুপ্তের মতে, সেনগুপ্তের নারীবাদ নিছক সচেতনতাকে অতিক্রম করে এবং নারীর প্রান্তিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ হিসেবে প্রকাশ পায়।
তার লেখার মাধ্যমে, মল্লিকা সেনগুপ্ত ক্রমাগত প্রান্তিক নারীদের অধিকার এবং স্বীকৃতির পক্ষে ওকালতি করেছেন, তার কণ্ঠকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার করে তুলেছেন। বাংলা সাহিত্য এবং নারীবাদী বক্তৃতায় তার উত্তরাধিকার প্রভাবশালী রয়ে গেছে, পাঠক ও লেখকদের একইভাবে আরও ন্যায়সঙ্গত লেন্সের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখতে অনুপ্রাণিত করে।
বিশেষ বই—
কথামানবী কবিতা, পুরুষকে লেখা চিঠি, আমাকে সারিয়ে দাও ভালবাসা, সীতায়ন উপন্যাস

পুরস্কার ও সম্মাননা—

ভারত সরকারের জুনিয়র রাইটার ফেলোশিপ (১৯৯৮); পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুকান্ত পুরস্কার(১৯৯৮); পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি অনীতা-সুনীল বসু পুরস্কার(২০০৪)।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে প্রখ্যাত কবি এবং সাহিত্যিক – কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।।।।

কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এর জন্ম ২৭ মার্চ ১৯১৭ সালে। তিনি একজন বিখ্যাত কবি এবং সাহিত্যিক। তাঁর আদি নিবাস বাঁকুড়ার ঘটকপাড়ায়। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় অডিটর জেনারেল।

শিক্ষা জীবন-

কামাক্ষীপ্রসাদ বিএ পরীক্ষায় বাংলায় প্রথম হন এবং বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি কবি হিসেবে বিখ্যাত হয়েছিলেন এবং ছোটগল্পও লিখেছেন। শিশুদের জন্য লেখালেখিতে তিনি সমান দক্ষ বিশেষ করে তিনি শিশুদের জন্য গোয়েন্দা গল্প লিখেছেন। তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্রের নাম গোয়েন্দা দাঁ । তিনি শিশু পত্রিকা রংমশালের সম্পাদকও ছিলেন।

কর্ম জীবন–

একজন উচ্চমানের ফটোগ্রাফারও ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের প্রচার বিভাগে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তিনি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় মুম্বাই, দিল্লি এবং মস্কোতে কাটিয়েছেন। তিন বছর মস্কোতে অবস্থানকালে তিনি রুশ বই বাংলায় অনুবাদ করে বিখ্যাত হয়েছিলেন ।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ–

কৃত্তিবাস ওঝা ছদ্মনামে তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। তার রচিত উল্লেখযোগ্য বই হল ছায়ামূর্তি, শ্বেতচক্র, সোনার কপাট, শ্মশানে বসন্ত, ঘনশ্যামের ঘোড়া, পারুলদি, মৈনাক, একা, প্রভৃতি।

মৃত্যু-

৩০ মে ১৯৭৬ সালে তিনি প্রয়াত হন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব থিয়েটার দিবস 2025: থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য, উক্তি এবং উদযাপন।

প্রতি বছর ২৭ মার্চ বিশ্ব থিয়েটার পালিত হয়। থিয়েটার শুধুমাত্র বিনোদনই প্রদান করে না। এটি একটি শিল্প। পৃথিবীর আদিম কাল থেকেই মানুষের নিজের গল্প বলার তাগিদটা অদম্য। তাই থিয়েটারের মত সৃজনশীল মাধ্যমের অন্ত নেই। শিক্ষা প্রদান করতে ও অনুপ্রেরণা জোগাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থিয়েটার।

থিয়েটারের ভূমিকা জনসমক্ষে তুলে ধরতেই হয় বিশ্ব থিয়েটার দিবস।আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটের দ্বারা ১৯৬১ সালে সর্বপ্ৰথম এই দিবসটির প্রচলন শুরু হয়েছিল।

ইতিহাস—

আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউট (আইটিই) কর্তৃক ১৯৬১ সালে বিশ্ব থিয়েটার দিবসের প্রবর্তন হয়। প্রতিবছর ২৭ মার্চ আইটিই কেন্দ্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক থিয়েটার কমিটি দিবসটি পালন করে। দিবসটি উদ্‌যাপন করতে বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চনাটক অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হচ্ছে- এই দিবস উদ্‌যাপন লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটে একজন তারকা মঞ্চনাটকের মাধ্যমে, আইটিইর শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক এক বিশেষ বাৰ্তা প্রেরণ করে। প্ৰথম বিশ্ব থিয়েটার দিবসের আন্তর্জাতিক বাৰ্তা ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের জিন কোকটিয়াও লিখেছিলেন। প্ৰথমে হেলসিঙ্কি এবং তারপর ভিয়েনায় ১৯৬১ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আইটিইর নবম আলোচনাসভায় আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটের ফিনিশ কেন্দ্রের পক্ষে অধ্যক্ষ আর্ভি কিভিমায় বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদ্‌যাপনের প্রস্তাব দেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কেন্দ্রসমূহে এটাকে সমৰ্থন দেয়ার পরই দিবসটির বিশ্বব্যাপি প্রচলন শুরু হয়।

থিম-

বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদযাপন এবং থিয়েটার শিল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি দিন। এটি করার জন্য, প্রতি বছর ২৭ মার্চ, বিগত ৫৯ বছর ধরে একটি থিম অনুসরণ করা হয়। বিশ্ব থিয়েটার দিবস ২০২৫-এর থিম হল “থিয়েটার এবং শান্তির সংস্কৃতি।” ITI প্রতি বছর বিশ্ব থিয়েটার দিবসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট থিম নির্ধারণ করে না। প্রতি বছর, বিশ্ব থিয়েটার দিবসের প্রতিপাদ্য হল “থিয়েটার এবং শান্তির সংস্কৃতি”। অনেক উদযাপন আইটিআই কেন্দ্রে এবং বিশ্বজুড়ে মনোনীত স্থানে ঘটে এবং আইটিআই এই দিনটি উদযাপনকারী প্রত্যেককে তাদের প্রচারের জন্য তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে উত্সাহিত করে।

বিশ্ব থিয়েটার দিবস ২০২৫ : তাত্‍পর্য—

এই বিশ্ব থিয়েটার দিবসের মূল লক্ষ্য হল থিয়েটারকে তার সমস্ত আকারে প্রচার করা, মানুষকে থিয়েটারের মূল্য সম্পর্কে সচেতন করা, থিয়েটার সম্প্রদায়গুলিকে তাদের কাজকে বৃহত্‍ পরিসরে প্রচার করতে সক্ষম করা, থিয়েটারকে এর সমস্ত রূপ উপভোগ করা এবং অন্যদের সাথে থিয়েটারের জন্য আনন্দ ভাগ করুন। বিশ্ব থিয়েটার দিবস আমাদের থিয়েটারের বিভিন্ন রূপ উদযাপন করার এবং আমাদের সমাজে তাদের তাত্পর্য উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। থিয়েটারের এই ফর্মগুলির মধ্যে অনেকগুলি শতাব্দী ধরে টিকে আছে, যখন কিছু সময়ের সাথে সাথে নতুন আকারে বিকশিত হয়েছে। যদিও কিছু অন্যদের চেয়ে বেশি বিখ্যাত, এই সমস্ত শিল্প ফর্ম শিক্ষা, বিনোদন, উদ্দীপনা এবং শিথিলকরণের জন্য অপরিহার্য। দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য হল থিয়েটারের মূল্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। এই কারণেই আন্তর্জাতিক থিয়েটার সম্প্রদায় নাটক ও সঙ্গীতের প্রাচীন নৈপুণ্যকে উন্নীত করার জন্য প্রতি বছর পারফরম্যান্স, বক্তৃতা এবং পুরস্কার উপস্থাপনের পরিকল্পনা করে।
নাটক বা থিয়েটার সব সময় মানুষের মনে ও চেতনায় এক উচ্চ স্থান পেয়ে এসেছে। নাটক বলতেই আমাদের মনে আসে শেকসপিয়রের নাম। তাঁকে বলা হয় বিশ্বের অগ্রণী নাট্যকার। তবে নাটক মানে শুধু শেকসপিয়র নন, কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাদল সরকার, বিজন ভট্টাচার্য, দীনবন্ধু মিত্রের মতো অনেকের নামই আসে। ভারত এমন একটি দেশ, সেখানে সব কিছুরই নিজস্ব রূপ আছে। গ্রীক ঘরানার নাটক নিজ গুণে কবেই ভারতের একান্ত হয়ে উঠেছে। সংস্কৃত সাহিত্যের শুদ্রক রচিত ‘মৃচ্ছকটিক’, কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’, ভবভূতির ‘উত্তর রামচরিত’ সেই নির্দশনই বহন করে চলেছে।

গুরুত্ব-

থিয়েটার হল এটি শিল্প রূপ। যা শুধু মাত্র বিনোদনই নয়। ব্যক্তিদের শিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত করে।। নাটকের মাধ্যমে, থিয়েটার সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা আনে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করে এবং সহানুভূতি ও বোঝাপড়াকে উত্‍সাহিত করে। এটি ব্যক্তিদের তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চ্যালেঞ্জ করে এবং কথোপকথন এবং আলোচনার জন্য একটি স্থান প্রদান করে সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে।

উপসংহার-

থিয়েটার, একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা মঞ্চে, লাইভ দর্শক, লাইভ অভিনয়, অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মাধ্যমে প্রকৃত অভিজ্ঞতা লাভ করার, সমন্বিত শিল্প। তাই সিনেমা বা সিরিয়াল কখনই থিয়েটারের জায়গা নিতে পারেনি। বলা হয় একজন থিয়েটার অভিনেতা এতটা দক্ষ হন, যে সব মাধ্যমেই তিনি মানানসই। আজ বিশ্ব থিয়েটার দিবস সব নাট্য শিল্পীদের কাছে বিশেষ আনন্দের। বিভিন্ন নাটকের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This