Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কিংবদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন স্মরণে।

জন্ম পরিচয়–

 

সুচিত্রা সেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী ছিলেন। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির (অধুনা বাংলাদেশের  অন্তর্গত) পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মায়ের নাম ইন্দিরা দেবী গৃহবধূ। সুচিত্রা ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। ডাক নাম রমা। তবে বাবা ডাকতেন কৃষ্ণা নামে। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী।

 

তিনি মূলত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

 

শিক্ষা জীবন—

 

পাবনা শহরের মহাখালী পাঠশালার পাঠ শেষ করে, তিনি পাবনা গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পাক-ভারত বিভাজনের সময় এঁদের পুরো পরিবার কলকাতায় চলে যান।

 

বৈবাহিক জীবন—

 

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী।তার  নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

 

অভিনয় জীবন—

১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে শেষ কোথায় ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। সুচিত্রা সেনই বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনেত্রী, যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। ১৯৫৫ সালের দেবদাস ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন, যা ছিল তার প্রথম হিন্দি ছবি। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী। ১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকে তার অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন, যেমন হিন্দি ছবি আন্ধি। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বলা হয় যে চরিত্রটির প্রেরণা এসেছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করা সঞ্জীব কুমার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। হিন্দি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দাদাসাহেব সম্মাননা প্রদান করে ভারত সরকার। চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সম্মাননা নিতে কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে চাননি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

 

উত্তম-সুচিত্রা জুটি—-

 

বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে এখনো শ্রেষ্ঠ জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একসময় কলকাতার চলচ্চিত্র পাড়ায় উত্তম-সুচিত্রা জুটি ছাড়া সে সময় কোনো ছবি ‘হিট’ হবে, এটা ভাবা নির্মাতারা ভাবতে পারতেন না। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করে, চলচ্চিত্রের মতো বাস্তবেও হয়তো তারা একই সম্পর্ক ধারণ করেন।দীর্ঘ ২৬ বৎসর অভিনয় জীবনে তিনি মোট ৬১টি ছবিতে অভিনয় করেন। এর ভিতরে ৩১টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমারের বিপরীতে।

 

চলচ্চিত্রের তালিকা (বাংলা)—

 

দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯), হসপিটাল (১৯৬০), স্মৃতিটুকু থাক (১৯৬০)], সপ্তপদী (১৯৬১), সাথীহারা (১৯৬১), বিপাশা (১৯৬২), সাত-পাকে বাঁধা (১৯৬৩), উত্তর ফাল্গুনী(১৯৬৩) ( ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দিতে পুনঃনির্মিত হয়েছে মমতা নামে), সন্ধ্যাদীপের শিখা(১৯৬৪), গৃহদাহ (১৯৬৭), কমললতা (১৯৬৯), মেঘকালো (১৯৭০), ফরিয়াদ (১৯৭১), নবরাগ (১৯৭১), আলো আমার আলো (১৯৭২), হারমানা হার (১৯৭২), দেবী চৌধুরানী (১৯৭৪), শ্রাবণ সন্ধ্যায় (১৯৭৪), প্রিয় বান্ধবী (১৯৭৫), আঁধি (১৯৭৫), দত্তা (১৯৭৬), প্রণয় পাশা (১৯৭৮)।

 

হিন্দি—

 

বোম্বাই কা বাবু (১৯৬০),  সারহাত (১৯৬০)।

 

 

পুরস্কার ও সম্মাননা—

তৃতীয় মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী। চলচ্চিত্র সপ্তপদী ( ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার মনোনীত, মমতা (১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
পদ্মশ্রী চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য (১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ)।
ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার মনোনীত, আঁধি। (১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
বঙ্গবিভূষণ চলচ্চিত্রে সারা জীবনের অবদানের জন্য। (২০১২ খ্রিষ্টাব্দ)।

 

১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।সুচিত্রা শেষ জনসম্মুখে আসেন ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে, তাঁর গুরু ভরত মহারাজের মৃত্যুর পর। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

গীতিকার গোবিন্দ হালদার এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

গোবিন্দ হালদার পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় ১৯৩০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি একজন বাঙালি গীতিকার।  তাঁর লেখা প্রথম কবিতার নাম ‘আর কতদিন’।  তিনি লিখেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কবিতা ও গান।  তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ দূর দিগন্ত।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত তাঁর লেখা গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।  আয়কর বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন।  কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রধান কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকে ১৫টি গানের ক্যাটালগ দেন।  এই গানগুলোর মধ্যে সমর দাসের সুর্য দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি প্রথম স্বাধীন বেতারে প্রচারিত হয়।  মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কিছু গান স্বাধীন রেডিওতে প্রচারিত হয়।  “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” গানটি ১৬ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রচারিত হয়, পাক বাহিনীর খবরের পরপরই, যেটির সুর করেছেন বিখ্যাত বাংলাদেশী সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছেন স্বপ্না রায়।  অতিরিক্ত কণ্ঠ দিয়েছেন আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীরা।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুঁশিয়ার হুঁশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।তিনি ভারতের আকাশবাণী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

 

গোবিন্দ হালদার কলকাতায় ২০১৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি  প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

চিন্ময় রায় : সিনেমা প্রেমী মানুষের কছে তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

চিন্ময় রায় একজন বাঙালী অভিনেতা। বাংলা সিনেমায় চিন্ময় রায় এক অতি পরিচিত নাম। সিনেমা প্রেমী মানুষদের কছে তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। স্বর্ণ যুগের এই কিংবদন্তি অভিনেতা তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে রেখেছেন আলাদা ভাবে। তাঁর সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করেছে সকলকে।

 

১৯৪০ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী এই কৌতুক অভিনেতা প্রথমাশা কলকাতার থিয়েটার মঞ্চ থেকে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন।  একবার সিনেমায় অভিনয় করেছেন।  তিনি মূলত কমেডি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

তপন সিংহের ‘গল্প হলেও সত্যি’ দিয়ে শুরু করে সবার নজর কাড়েন চিন্ময় রায়। এরপর ‘মৌচাক’, ‘হাটেবাজারে’, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন-এর মতো অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন।টেনিদা চরিত্রে চারমূর্তি চলচ্চিত্রে তার অভিনয় তাকে বাংলা চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।  ভারতের বাংলা সিনেমা নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

তথাকথিত সাদামাটা চেহারা সত্ত্বেও নিজের অভিনয় প্রতিভায় রুপোলি পর্দায় নায়কদের পাশে রীতিমতো নজর কেড়েছেন। নবদ্বীপ হালদার, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বা তুলসী চক্রবর্তীর মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের পর বাংলা ছবিতে কমেডিয়ানের ভূমিকায় রবি ঘোষ বা অনুপকুমারের সঙ্গে পাল্লাও দিয়েছেন সমানে সমানে।

 

চিন্ময় রায় ৭৯ বছর বয়সে ১৭ মার্চ ২০১৯ তারিখে রাত ১০:১০ টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ভারতীয় সেনা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

ভারতীয় সেনাবাহিনী হল ফ্রন্ট লাইন ফাইটিং ফোর্স যা বিদেশী আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করার সময় নিজের জীবনকে বিপদে ফেলে।  প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারী, ভারতীয় সেনা দিবস পালন করা হয় ১৯৪৯ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম ভারতীয় দলে কমিশনিং করার জন্য।
দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা, নিঃস্বার্থতা এবং অটল উত্সর্গ উদযাপন করার দিনটি।  ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৫ জানুয়ারীতে তার বার্ষিক আর্মি ডে প্যারেড পরিচালনা করে। এটি দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে তার প্রথাগত অবস্থানের পরিবর্তে এই বছর লখনউতে অনুষ্ঠিত হবে।
নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা এই পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত।  সেনাবাহিনীর ছয়টি অপারেটিং কমান্ডেরই সামগ্রিক নাগাল বাড়ানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টায় প্যারেড আয়োজন করার সুযোগ থাকবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে একটি আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে যা পদাতিক, আর্টিলারি এবং সাঁজোয়া ব্যাটালিয়নে ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম প্রবর্তনের জন্য একটি নতুন অপারেশনাল দর্শন পাবে।
অন্যান্য প্রচলিত অসামঞ্জস্যতা দূর করার পাশাপাশি, সেনাবাহিনী ২০২৪ কে “প্রযুক্তি শোষণের বছর” হিসাবে পালন করবে এবং কমান্ড সাইবার অপারেশন সাপোর্ট উইংস (CCOSWs) প্রতিষ্ঠা করবে।

 

২০২৪ সালের ভারতীয় সেনা দিবসের থিম—–

 

২০২৪ সালে ভারতীয় সেনা দিবসের থিম হবে “জাতির সেবায়”। অটল আবেগ, উত্সর্গ এবং পেশাদারিত্বের সাথে দেশের সেবা করার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিশন এই থিমের মধ্যে নিহিত।  এটি তাদের দেশের নিরাপত্তা এবং আদর্শ রক্ষার জন্য ভারতীয় সেনা সৈন্যদের নিঃস্বার্থ ত্যাগের উপর জোর দেয়।
বিষয়টি ভারতীয় সেনাবাহিনীর নীতির সাথে সারিবদ্ধ, “নিজের আগে সেবা” যা ব্যক্তিগত সাধনার চেয়ে জাতীয় সেবাকে অগ্রাধিকার দেয়।  এটি দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যার মঙ্গল রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অটল প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেয়।

 

ভারতীয় সেনা দিবস ২০২৪ উদযাপনের তাৎপর্য—-

 

ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাকে সম্মান জানিয়ে, ভারতীয় সেনা দিবসের স্মরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এই দিনটি ১৯৪৯ সালে জেনারেল স্যার ফ্রান্সিস বুচার থেকে জেনারেল কে. ক্যারিয়াপ্পা, প্রথম ভারতীয় কমান্ডার-ইন-চিফ হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের পরিবর্তনকে স্মরণ করে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভারতীয়করণের প্রক্রিয়ায়, এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।  বিশ্ব একাই দেখতে পাবে যে ভারত এখন অন্য দেশের আক্রমণের বিরুদ্ধে তার সীমানা রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট আত্মনিশ্চিত।  চীন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে, ভারতীয় সেনাবাহিনী বিশ্বের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
যেহেতু অনেক বংশোদ্ভূত সেনা সদস্যরা ইভেন্টে যোগ দিয়েছিল এবং একটি ইউনিট হিসাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একটি একক বাহিনী প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রিত হয়েছিল, দিবসটি জাতীয় সংহতিকেও সম্মানিত করেছিল।  এই দিনে, ভারতীয় সামরিক বাহিনী তার ঔপনিবেশিক যুগের শাসনের অবসান ঘটায় এবং দেশটিকে একটি নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আমার দৃষ্টিতে স্বামী বিবেকানন্দ — একটি পর্যালোচনা : দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

স্বামী বিবেকানন্দ শুধু বাঙালির জীবনের এক আদর্শ মহামানবই নন, তিনি যুগাবতার । তিনি ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রিয়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের একমাত্র শিষ্য । তাঁর দেখানো আদর্শের রাস্তা যুক্তিবোধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় মানুষকে। আধ্যত্মকে এক অন্য পর্যায়ে উন্নত করে বিবেকানন্দ সকলের জীবনকে আরও বেশি করে আলোর দিকে ঠেলে দিয়েছেন । স্বামী বিবেকানন্দ জীবপ্রেমের দীক্ষা পান শ্রীরামকৃষ্ণের কাছ থেকে, যেখানে তিনি বলেছেন ‘যত্র জীব, তত্র শিব’। জীবের সেবা করলে স্রষ্টারও সেবা করা হয় । স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ । সবার আগে মানব সেবা । সুতরাং মানুষের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা করা সম্ভব। জীবপ্রেমের দর্শন প্রকাশ পেয়েছে তাঁর দুটি চমৎকার লাইনেঃ
“বহুরুপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর ?
জীবপ্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর ।“
তাই আমরা কেউ বিবেকানন্দকে পরিপূর্ণভাবে বুঝিনি । কারণ তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব । সংগীত, চিত্রকলা, দর্শন, রাষ্ট্রনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজতত্ব, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ছিলো গভীর ব্যুৎপত্তি । তাই তিনি নিজেই বলেছেন, “বিবেকানন্দকে বুঝতে হলে আরেক বিবেকানন্দকে দরকার ।“ কর্মী বিবেকানন্দ, সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ, গুরু বিবেকানন্দ, শিষ্য বিবেকানন্দ, জ্ঞানী বিবেকানন্দ, যোগী বিবেকানন্দ, কবি বিবেকানন্দ সবই এহ বাহ্য । কারণ এই সমস্ত গুণেই তিনি শীর্ষস্থানের অধিকারী হলেও তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হল ভালোবাসায় ভরা হৃদয় বিবেকানন্দ ।
( ২ )
বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের “শিব জ্ঞানে জীব সেবা”র মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলেই তিনি মানুষের কল্যাণ সাধনকেই প্রকৃত ঈশ্বর সাধনা বলে মনে করেছিলেন । বিবেকানন্দ ছিলেন মানব প্রেমিক সন্ন্যাসী । মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়কেই সমানভাবে প্রয়োজন বলে অভিহিত করেছিলেন । তাঁর মতে “ধর্ম”” মানুষের অন্তর্নিহিত দেবত্বকে ফোটাবে । বিজ্ঞান মানুষকে সুখ ও সমৃদ্ধি উপহার দেবে । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ প্রথমে আত্মবিশ্বাসী হবে । আর আত্মবিশ্বাস থেকে আসবে আত্মনির্ভরশীলতা । বিবেকানন্দের মতে, শিক্ষাই সমাজের সকল সমস্যা দূরীকরণের মূল চাবি কাঠি । শিক্ষার আলো মানুষের মনের অন্ধকারকে দূর করে, মানুষকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করবে । বিবেকানন্দের শিক্ষা পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যেই ছিল সমাজে যথার্থ “মানুষ” তৈরি করা –যাতে চরিত্র গঠিত হয়, মনের শক্তি বাড়ে । বুদ্ধি বিকশিত হয়, মানুষ নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারে । তা ছাড়া বিবেকানন্দের শিক্ষা ছিল সার্বজনীন । তিনি চেয়েছিলেন বিশেষভাবে যুব সমাজের নবচেতনার অভ্যুদয় । নিষ্ঠা, সততা ও আত্মনির্ভরতা ছিল তাঁর আরাধ্য । এসব গুণ জগতের সব সমাজের সবমানুষেরই সম্পদ ।
এখানে বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য – বিবেকানন্দ যেভাবে ভারতবর্ষকে চিনেছিলেন বা অনুভব করেছিলেন, অন্য কোনো ব্যক্তি ঠিক সেভাবে ভারতবর্ষকে অনুভব করতে পারেননি । পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করে বিবেকানন্দ ধন্য মনে করেছিলেন । ভগিনী নিবেদিতার ভাষায়, “তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন ভারতবর্ষ – রক্তমাংসে গড়া ভারত প্রতিমা ।“ আর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ রোমাঁ রোলাঁকে (ফরাসী সাহিত্যিক) বলেছিলেন, “যদি ভারতবর্ষকে জানতে চাও বিবেকানন্দকে জানো । বিবেকানন্দের লেখা আগে পড়ো । “

(৩)
১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে নরেন্দ্রনাথের পিতা হঠাৎ মারা যান । এরপর তাঁর পরিবার তীব্র অর্থ কষ্টের মধ্যে পড়েন । একদা সচ্ছল পরিবারের সন্তান নরেন্দ্রনাথ কলেজের দরিদ্রতম ছাত্রদের অন্যতম ছাত্রে পরিণত হন । তিনি চাকরির অনুসন্ধান শুরু করেন । নরেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কাছে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর মা কালীর কাছে তাঁর পরিবারের আর্থিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা জানান । রামকৃষ্ণ উল্টে তাঁকে বলেন, “তিনি যেন নিজে মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন ।“ রামকৃষ্ণ দেবের পরামর্শ অনুসারে নরেন্দ্রনাথ তিনবার মন্দিরে যান । কিন্তু জাগতিক প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনার পরিবর্তে তিনি জ্ঞান ও বিবেকবৈরাগ্য প্রার্থনা করেন । এরপরে নরেন্দ্রনাথ ঈশ্বর উপলব্ধির জন্য সংসার ত্যাগ করেন এবং রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে গুরু বলে মেনে নেন । এমনই ছিলেন নরেন্দ্রনাথ, গুরুকেও যাচাই করে নিতে পিছপা হননি ।
এরপরে পরিব্রাজকরুপে তাঁকে আমরা কী দেখলাম । ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে পরিব্রাজকরুপে মঠ ত্যাগ করেন বিবেকানন্দ । পরিব্রাজক হিন্দু সন্ন্যাসীর এক ধর্মীয় জীবন — এই জীবনে তিনি স্বাধীনভাবে পর্যটন করে বেড়ান কোনো স্থায়ী বাসস্থান ও বন্ধন ছাড়াই । পাঁচ বছর ধরে ভারতের প্রত্যেক শিক্ষা কেন্দ্র দর্শন করেন । বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায় ও সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে সুপরিচিত হন । এই সময় ভিক্ষোপজীবী হয়ে সারা ভারত পদব্রজেই পর্যটন করেন বিবেকানন্দ । সেইজন্য বিবেকানন্দকে সারা বিশ্বের মানুষ “পরিব্রাজক” হিসেবে জানে । ভারতবর্ষ পর্যটনের সময় তিনি বিভিন্ন পণ্ডিত, দেওয়ান, রাজা এবং হিন্দু-মুসলমান, খ্রিষ্টান এমনকি নিম্নবর্গীয় ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেও মেলামেশা ও একসঙ্গে বাস করেন ।
১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বারাণসী থেকে যাত্রা শুরু করেন । তখন সাক্ষাৎ হয় বিশিষ্ট বাঙালী লেখক ভূদেব মুখোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট সন্ত ত্রৈলঙ্গস্বামীর সাথে । বৃন্দাবন, হথরাস ও হৃষীকেশে ভ্রমণের সময় হথরাসে তাঁর সঙ্গে স্টেশন মাস্টার শরৎচন্দ্র গুপ্তের সাক্ষাত হয় । তিনি পরে বিবেকানন্দের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সদানন্দ নামে পরিচিত হন । তিনি ছিলেন বিবেকানন্দের প্রথম যুগের শিষ্য । ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে আবার নৈনিতাল, আলমোড়া, দেরাদুন, ঋষীকেশ, হরিদ্বার এবং হিমালয় ভ্রমণে যান । তারপর রওনা দেন দিল্লি । এইভাবে পশ্চিম ভারত, দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ সারেন ।
(৪)
১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ৩০শে জুন থেকে ১৪ই জুলাই শিকাগো যাওয়ার পথে বিবেকানন্দ জাপান ভ্রমণ করেন । তিনি ঘুরে দেখেছিলেন কোবে, ওসাকা, কিওটো, টোকিও আর য়োকোহামা শহর । তারপর চীন, কানাডা হয়ে তিনি শিকাগো শহরে পৌঁছান ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে । কিন্তু শিকাগো শহরে পৌঁছে তিনি মূলত দুটি সমস্যায় পড়েন । মহাসভা শুরু হতে দেড় মাস বাকী । অন্যটা কোনো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র বা পরিচয়পত্র ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি হিসাবে বিশ্বধর্ম মহাসভায় গ্রহণ করা হবে না । তারপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের সংস্পর্শে এলেন । তাঁকে হার্ভার্ডে আমন্ত্রণ জানানোর পর এবং ধর্মসভায় বক্তব্যদানে বিবেকানন্দের প্রশংসাপত্র না থাকা প্রসঙ্গে রাইটের বক্তব্য, “আপনার কাছে প্রশংসাপত্র চাওয়াটা হচ্ছে স্বর্গে সূর্যের আলো দেওয়ার অধিকার চাওয়ার মতো অবস্থা ।“ রাইট তখন প্রতিনিধিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট এক চিঠিতে লিখলেন, “আমাদের সকল অধ্যাপক একত্রে যতটা শিক্ষিত ইনি তাঁদের থেকেও বেশী শিক্ষিত ।“
বিশ্বধর্ম মহাসভা ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে উদ্বোধন হয় । তিনি ভারত এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন । পাশ্চাত্যে অভিযানের নিরিখে যেসব অভিজ্ঞতা, তাতে শিকাগো বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ভারতীয় সনাতন ও বেদান্তের উপর ভাষণ দেওয়া ভীষন তাৎপর্যপূর্ণ । তাঁর বক্তব্য শুরু করলেন, “আমেরিকার ভ্রাতা ও ভগিনীগণ …।“ সম্ভাষন করে । তাঁর বক্তব্যে সহিষ্ণুতা ও মহাজাগতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গ ওঠে । গীতা থেকে উদাহরণমূলক পংক্তি তুলে ধরেন । তাঁর বক্তব্যে বিশ্বজনীন চেতনা ধ্বনিত হয় ।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই বিবেকানন্দের সদর্থক ভূমিকা । রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের একনিষ্ঠ ভক্ত সুভাষ চন্দ্র বসু । সেই বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন, বিবেকানন্দ ছিলেন “আধুনিক ভারতের স্রষ্টা ।“ জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিবেকানন্দের চিন্তাভাবনার প্রতি তিনি ছিলেন সতত সংবেদনশীল । সুতরাং বিবেকানন্দের স্বদেশমন্ত্র দেশ স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ।
স্বদেশমন্ত্রে বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “ভুলিও না, নীচজাতি, মুর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই । হে বীর, সাহস অবলম্বন করো, সদর্পে বলো —- আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই । বলো, মুর্খ ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, ব্রাহ্মণ ভারতবাসী, চণ্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই । সদর্পে ডাকিয়া বলো, ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর, ভারতের সমাজ আমার শিশুশয্যা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী । বলো ভাই, ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ । ভারতের কল্যাণ, আমার কল্যাণ ।“
১৯০২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ই জুলায় রাত ৯.১০ মিনিটে ধ্যানরত অবস্থায় দেহত্যাগ করেন । তাঁকে বেলুড়ে গঙ্গা নদীর তীরে একটি চন্দন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চিতার উপর দাহ করা হয় । যার বিপরীত পাশে ষোলো বছর আগে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের মরদেহ দাহ করা হয়েছিল ।
আজ তাঁর জন্ম দিবসে (জন্মঃ ১২ই জানুয়ারী, ১৮৬৩) সেই স্বামী বিবেকানন্দকে আমার শতকোটি প্রণাম ।
———–০————–

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কথাসাহিত্য লেখিকা নিরুপমা দেবী’র প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা।

কথাসাহিত্য লেখিকা নিরুপমা দেবী ৭ মে, ১৮৮৩ সালে পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে জন্মগ্রহণ করেন  । তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল শ্রীমতী দেবী। নিরুপমা দেবীর পিতা নফর চন্দ্র ভট্ট, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী ছিলেন। তিনি বাড়িতে শিক্ষিত হয়েছিলেন।

 

সাহিত্যকর্ম——–

 

নিরুপমার অকাল বৈধব্যের পর, তিনি বড় ভাই বিভূতিভূষণ ভট্ট এবং কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।  বিভূতিভূষণ ও শরৎচন্দ্র সম্পাদিত হাতেলেখা পত্রিকায় তাঁর সাহিত্যকর্মের পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হয়।  শরৎচন্দ্র তাঁকে গদ্য রচনায় অনুপ্রাণিত করেন এবং অনুরূপা দেবী গল্প রচনায় অনুপ্রাণিত করেন।  তাঁর প্রথম উপন্যাস ”উচ্ছৃঙ্খল”।  স্বদেশী যুগে তাঁর রচিত অনেক গান ও কবিতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দাম্পত্য জীবনের অন্তর্দ্বন্দ্ব  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।  ১৯১৯-২০ খ্রিস্টাব্দে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘দিদি’ তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।নিরুপমা দেবীর একাধিক উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত ও মঞ্চে অভিনীত হয়েছে। অন্যান্য রচনার মধ্য রয়েছে:—যুগান্তরের কথা, অনুকর্ষ, দেবত্র, পরের ছেলে, অন্নপূর্ণার মন্দির , দিদি , আলেয়া, বিধিলিপি, শ্যামলী, বন্ধু, আমার ডায়েরি, ।

 

 

 

পুরস্কার———-

 

সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে ‘ ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক’ এবং ১৯৪৩ সালে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ লাভ করেন নিরুপমা দেবী।

 

মৃত্যু—

 

৭ জানুয়ারী, ১৯৫১ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আমার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ : অরূপ কুমার ভট্টাচার্য্য।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির শৈল্পিক অহঙ্কারের সৌধে অনিবার্যভাবে বিরাজমান। বাংলার সামাজিক উত্থান-পতনের এক যুগ সন্ধিক্ষণে তাঁর জন্ম। ঐতিহ্যবাহী কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সন্তান হিসেবে রবীন্দ্রনাথের শৈশব-কৈশোর অতিক্রান্ত হয়েছে জ্ঞানচর্চার এক নির্মল পরিবেশের মধ্যে। মহর্ষি পিতার উপনিষদ চর্চা বালক বয়সেই রবীন্দ্রমানস-গঠনে প্রতিফলন ঘটে এবং সেই শিক্ষাকে তাঁর সমস্ত সত্তায় আত্মস্থ করে নেন। বাল্যকালের সেই উপনিষদিক শিক্ষার আলো সারাজীবন তাঁকে পথ দেখিয়েছে। উপনিষদে যে সত্যের সন্ধান তিনি পেয়েছিলেন সেই সত্যেরই উজ্জ্বল প্রভা তাঁর মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল। তিনি নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্য সাধনা, মেধা ও শ্রমে নিজেই ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করেছেন যা তাঁকে বহুমাত্রিক শিল্পস্রষ্টার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। নিজের বিরাট সৃষ্টিশীল ক্ষমতা তাঁকে এক যুগোত্তীর্ণ মহাপুরুষের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। বাংলা সাহিত্যে হাতে গোনা যে ক’জন বড় মাপের খ্যাতিসম্পন্ন লেখক আছেন তার মধ্যে একজন অন্যতম পুরোধা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অবিভক্ত বাংলায় নবজাগরণের মধ্যাহ্নে রবি কিরণের উন্মেষ ঘটেছিল। সেই থেকে রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনে সত্য ও সুন্দরের ফলগুধারার মতো বহমান এবং সমগ্র বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যজগতে হিমাদ্রির মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন এক অলৌকিক ঐশ্বর্য নিয়ে। বাঙালির সমৃদ্ধ ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতির বহুলাংশ জুড়েই আছেন ধীমান পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বাঙালি তাই তার প্রতিটি সংকটে, প্রতিটি সংশয়ে আশ্রয় নেয় সেই রবীন্দ্রনাথের কাছে। রবীন্দ্রনাথ নিজের সমৃদ্ধ সাহিত্য চর্চার পরিধি দিয়ে বিস্তৃত করেছেন গোটা বাংলা সাহিত্যের পরিসর। আমরা তাঁকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় অভিষিক্ত করেছি। রবীন্দ্রনাথের সাফল্যের এই ক্রম-উত্তরণ কিন্তু একদিনে ঘটেনি। এক লহমায় তিনি ‘বিশ্বকবি’ বা ‘কবিগুরু’ অভিধায় ভূষিত হননি। সমগ্র রবীন্দ্র জীবন ও সৃষ্টির পিছনে রয়েছে তাঁর সৃষ্টির দীর্ঘ অবিশ্রান্ত পথ চলা। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। তাঁর রচনা চির নতুন ও চিরকালের, কারণ তিনি জগৎ ও জীবনকে দেখেছেন বর্তমানের দৃষ্টির সীমানায়। যে দৃষ্টি তৈরি হয়েছিল অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দর্শনের সমন্বিত অন্তর্দৃষ্টি থেকে। তাই তিনি সব সময়ই আজকের রবীন্দ্রনাথ। বাঙালির যাপিত জীবনাচরণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। জীবনের প্রভাত থেকে অন্তিমলগ্ন তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা; সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুর স্রষ্টা, গায়ক, সমালোচক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে অনন্য। তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে, বিপুল সৃষ্টিসম্ভারে বদলে দিয়েছেন বাঙালির মানসজগত এবং বাংলাকে দিয়েছেন বিশ্ব পরিচিতি। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান। একে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের শিল্প-সাহিত্য, ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি, জীবন- চেতনায় রবীন্দ্রনাথ অবশ্যই অপরিহার্য। আমাদের জীবনের সঙ্গে, চেতনার সঙ্গে, মননের সঙ্গে, আন্দোলনে, ভাষার মাধুর্যে, দেশপ্রেমে সৃষ্টিশীল কর্মের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। আমাদের প্রাণের টানে, জীবনের টানে, চেতনার টানে, শিল্প ও সাহিত্যের টানে রবীন্দ্রনাথের কাছে আমাদের বারবার ফিরে যেতে হবে শিল্পের আরাধনায়। তাঁর কবিতার ছন্দ, বাণী ও সুর আমাদের হৃদয়ে বুলিয়ে দেয় শান্তির শুভ্র পরশ। অনন্ত অসীমের সেই অসামান্য রবীন্দ্রনাথের কাছে আমরা প্রার্থনায় নতজানু হই, সমর্পিত হই, পরম বিশ্বাসে।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রাণের কবি, প্রেমের কবি, জীবনের কবি, প্রকৃতির কবি, গানের কবি সর্বোপরি মানুষের ভালোবাসার কবি হয়ে চেতনার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে অপার্থিব আনন্দলোকে আনন্দের বিস্তৃৃতি ঘটিয়েছেন। তিনি বাঙালি হয়েও চিন্তা-চেতনায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া, কবিতা কিংবা বড়দের জন্য লেখা কবিতা, গান, গল্প-উপন্যাসে আমরা বাঙালির সহজ সরল জীবনকে তুলে ধরতে দেখি। তাঁর নানা কাব্যগীতিতে আমরা প্রেম সৌন্দর্য, রোমান্টিক ভাবনা, আধ্যাত্মিক কল্পনার চিন্তাধারা পরিলক্ষিত হতে দেখি। রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ গল্প উপন্যাস এখনো আমাদের সৃজনশীল মনকে আন্দোলিত করে। আমরা রাবীন্দ্রিক চরিত্রগুলোকে চলচ্চিত্র ও মঞ্চে রাজা ও রানী, বিসর্জন, রক্তকরবী, চিত্রাঙ্গদা, চিরকুমার সভা, বাল্মিকী প্রতিভা, তাসের দেশ, ডাকঘর, রাজা, মুক্তধারা, অচলায়তন, শাপমোচন, শেষের কবিতা, সফল সঞ্চায়ন দেখি; তখন আমরা নিজেরা কিছুটা রাবীন্দ্রিক হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। রবীন্দ্রনাথ আছেন বাঙালির হৃদয় জুড়ে তাঁর সৃষ্টির উৎসারণে কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, মঞ্চনাটক, টিভি নাটক, নৃত্যনাট্য, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত এবং বাংলার সমগ্র সংস্কৃতিতে। তিনি তাঁর মানবীয় উচ্চ ভাবনা-চেতনা আর মানুষের চিরায়ত অনুভূতি ভাষার সৌকর্য সাধন আর নিপুণ শৈল্পিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কাব্য-সঙ্গীত-প্রবন্ধ-গল্পে আর চিত্রকলায় রূপায়িত করে মানুষের চেতনাকে শানিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির ব্যাপকতা বিশ্বজুড়ে শিখরস্পর্শী প্রতিভায় উদ্ভাসিত যা বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বকীয়তায় ছড়িয়েছে রবির আলো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনকে শিল্পবোধ থেকেই অনুভব করেছেন। আর সেজন্য তাঁর শিল্প-সৃষ্টি প্রায়শই জীবনসংলগ্ন। তিনি কাব্য, গল্প, উপন্যাস, সঙ্গীত, নাটককে জীবনের প্রতিভাষে সিঞ্চিত করেছেন। যা রূপালঙ্কার, প্রতীক ও বিমূর্ততার দ্যোতনায় হয়েছে উজ্জ্বল। সব মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। দেড়শ বছর পেরিয়েও কবি আমাদের মাঝে তাই চিরজাগরুক হয়ে আছেন।

সমগ্র বাঙালির মানস জগতে রবীন্দ্রনাথ চিরকালীন আবেগ, প্রেরণায় জাগ্রত থাকবেন এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির আলোর দিশারি হয়ে আলো ছড়াবেন যুগ থেকে যুগান্তরে। তাঁর সৃষ্টি, তাঁর স্বপ্ন আর জীবন দর্শন আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে সত্য ও সুন্দরের।

——————————————————————————-

Share This
Categories
প্রবন্ধ

খ‍্যাতনামা কবি ও সাহিত‍্যিক মণীশ ঘটক এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

‘কল্লোল’ যুগের প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিক ড.  আয়কর পরামর্শদাতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও, মনীশ  ঘটক একজন ছোট গল্প লেখক হিসাবেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি গল্পকার, কবি ও ঔপন্যাসিক।   পাবলো নেরুদার অনেক কবিতাও তিনি অনুবাদ করেছেন। তাঁর ছদ্মনাম যুবনাশ্ব।

 

জন্ম পারিবারিক জীবন ও শিক্ষা—-

 

মনীশ ঘটক ১৯০২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বাসিন্দা ছিলেন।  তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নিউ ভারেঙ্গা, বর্তমান বাংলাদেশের পাবনায়।  তাঁর পিতার নাম সুরেশচন্দ্র।  সুরেশ চন্দ্র ডেপুটি এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেট হন, তাই মনীশ ঘটককে তার পিতার কাজে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে সময় কাটাতে হয়েছিল।  মণীশ ঘটক ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। তাঁর ভাই প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক এবং লেখক মহাশ্বেতা দেবী তাঁর কন্যা।

 

কর্মজীবন—-

 

মনীশ ঘটক ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে গল্পকার হিসাবে তাঁর সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।  সে সময় কবি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।  তিনি কল্লোল যুগের লেখক ছিলেন।  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ শিলালিপি।  তিনি যুবনাশ্ব ছদ্মনামে গল্প ও গদ্য লিখেছেন।  তার একটি গল্পের বই পটলডাঙ্গার পাঁচালী। কনখল  তাঁর লেখা একটি উপন্যাস।  মান্ধাতা বাবার আমল তাঁর লেখা একটি আত্মজীবনীমূলক বই।  তিনি পাবলো নেরুদার কবিতা অনুবাদ করেন।  তিনি আজীবন বহরমপুর থেকে বর্তিকা নামে একটি ছোট পত্রিকা সম্পাদনা করেন।  তিনি ১৯২৭ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত বুদ্ধদেব বসু এবং অজিতকুমার দত্ত সম্পাদিত প্রগতি পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন নিয়মিত । মনীশ ঘটক আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেন।

 

তাঁর রচিত গ্রন্থ—-

 

তার কয়েকটি গ্রন্থ শিলালিপি, যদিও সন্ধ্যা, বিদুষী বাক্, কনখল, পটলডাঙ্গার পাঁচালী, মান্ধাতার বাবার আমল (আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ), একচক্রা (শেষ কাব্য সঙ্কলন) উল্লেখযোগ্য।

 

প্রয়াণ—-

 

২৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য: সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ইংরেজ গণিতবিদ এবং কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজ – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

চার্লস ব্যাবেজ ছিলেন একজন ইংরেজ যান্ত্রিক প্রকৌশলী, গণিতবিদ, উদ্ভাবক এবং দার্শনিক।  তাঁকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।  তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন এবং অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন নামে দুটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করেন।  তিনি যে বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিন তৈরি করেছিলেন তা যান্ত্রিকভাবে গাণিতিক কাজ সম্পাদন করতে পারে এবং এই ইঞ্জিনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আজও কম্পিউটার ডিজাইনে গুরুত্বপূর্ণ।  অর্থের অভাবে ব্যাবেজ তার প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারেনি।

 

১৮১২ সালে ব্যাবেজ অ্যানালিটিকাল সোসাইটি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয় মহাদেশ থেকে ইংরেজি গণিতের বিকাশের সাথে পরিচিত করা।  ১৮১৬ সালে তিনি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির একজন ফেলো নির্বাচিত হন।  তিনি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল (১৮২০) এবং পরিসংখ্যান (১৮৩৪) সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

 

১৮১২ বা ১৮১৩ সালে যান্ত্রিকভাবে গাণিতিক সারণী গণনা করার ধারণা ব্যাবেজের কাছে প্রথম আসে। পরে তিনি একটি ছোট ক্যালকুলেটর তৈরি করেন যা আট দশমিকের নির্দিষ্ট গাণিতিক গণনা করতে পারে।  তারপর ১৮২৩ সালে তিনি ২০-ডেসিমেল ক্ষমতা সহ একটি প্রজেক্টেড মেশিন, ডিফারেন্স ইঞ্জিনের ডিজাইনের জন্য সরকারী সহায়তা পান।  ডিফারেন্স ইঞ্জিন ছিল একটি ডিজিটাল ডিভাইস: এটি মসৃণ পরিমাণের পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন ডিজিটে কাজ করত এবং সংখ্যাগুলি ছিল দশমিক (০-৯), বাইনারি সংখ্যার (“বিট”) পরিবর্তে দাঁতযুক্ত চাকার অবস্থান দ্বারা উপস্থাপিত।  যখন একটি দাঁতযুক্ত চাকা নয়টি থেকে শূন্যে পরিণত হয়, তখন এটি পরবর্তী চাকাটিকে একটি অবস্থানে অগ্রসর করে, অঙ্কটি বহন করে।  আধুনিক কম্পিউটারের মতো, ডিফারেন্স ইঞ্জিনের স্টোরেজ ছিল—অর্থাৎ, এমন একটি জায়গা যেখানে ডেটা অস্থায়ীভাবে পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য রাখা যেতে পারে।  এর নির্মাণের জন্য যান্ত্রিক প্রকৌশল প্রযুক্তির বিকাশের প্রয়োজন ছিল, যার জন্য ব্যাবেজ অব নেসেসিটি নিজেকে নিবেদিত করেছিল।  এর মধ্যে (১৮২৮-৩৯), তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  যাইহোক, সম্পূর্ণ ইঞ্জিন, রুম-আকারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, অন্তত ব্যাবেজ দ্বারা নির্মিত হয়নি।  ১৮৩৩ সালে সমস্ত নকশা এবং নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়, যখন যন্ত্রটি তৈরির জন্য দায়ী জোসেফ ক্লিমেন্ট প্রিপেইড না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে অস্বীকার করেছিলেন।

 

১৮৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাবেজ বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিনের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন, যা আধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটারের অগ্রদূত।  সেই ডিভাইসে তিনি পাঞ্চড কার্ডের নির্দেশাবলীর ভিত্তিতে যেকোন গাণিতিক ক্রিয়াকলাপ সম্পাদন করার ক্ষমতা কল্পনা করেছিলেন, একটি মেমরি ইউনিট যেখানে সংখ্যা সংরক্ষণ করা হয়, অনুক্রমিক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমান সময়ের কম্পিউটারের বেশিরভাগ অন্যান্য মৌলিক উপাদান।  ডিফারেন্স ইঞ্জিনের মতো, প্রকল্পটি এর আগে নির্মিত যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি জটিল ছিল।  মেমরি ইউনিট ১০০০ ৫০-সংখ্যার সংখ্যা ধারণ করার জন্য যথেষ্ট বড় ছিল;  এটি ১৯৬০ সালের আগে নির্মিত যেকোন কম্পিউটারের স্টোরেজ ক্ষমতার চেয়ে বড় ছিল। মেশিনটি বাষ্প চালিত এবং একজন পরিচারক দ্বারা চালিত হবে।
১৮৪৩ সালে ব্যাবেজের বন্ধু গণিতবিদ অ্যাডা লাভলেস অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন সম্পর্কে একটি ফরাসি কাগজ অনুবাদ করেছিলেন এবং তার নিজের টীকাতে প্রকাশ করেছিলেন যে এটি কীভাবে গণনার একটি ক্রম সম্পাদন করতে পারে, প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম।  বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিন, যদিও, সম্পূর্ণ হয়নি.  ১৯৩৭ সালে তার অপ্রকাশিত নোটবুকগুলি আবিষ্কৃত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাবেজের নকশাটি ভুলে গিয়েছিল। ১৯৯১ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ব্যাবেজের স্পেসিফিকেশনের জন্য ডিফারেন্স ইঞ্জিন নং ২—৩১ ডিজিটের নির্ভুল — তৈরি করেছিলেন এবং ২০০০ সালে ডিফারেন্স ইঞ্জিনের জন্য প্রিন্টারও তৈরি করেছিলেন।

 

ব্যাবেজ অন্যান্য ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।  তিনি ইংল্যান্ডে আধুনিক ডাক ব্যবস্থা স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন এবং প্রথম নির্ভরযোগ্য অ্যাকচুয়ারিয়াল টেবিল সংকলন করেছিলেন।  তিনি এক ধরণের স্পিডোমিটার এবং লোকোমোটিভ কাউক্যাচারও আবিষ্কার করেছিলেন।

 

১৮ অক্টোবর ১৮৭১ সালে,৭৯ বছর বয়সে চার্লস মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জাতীয় কিষাণ দিবস এবং তার গুরুত্ব।

কৃষকদের সম্মান জানাতে এবং তাঁদের কাজ সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য মূলত আজকের এই দিনটি পালন করা হয়। আজ দেশের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিং এর জন্মদিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশের কৃষকদের জন্য একাধিক কাজ করেছেন।

 

চৌধুরী চরণ সিংহের মতে কৃষিকাজ চিরস্থায়ী করতে হলে কৃষিজমির মালিকানা কৃষকদের হওয়া প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি এমন একটি স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরী করতে চেয়েছিলেন যেখানে কৃষিজমির মালিকানা কৃষকদেরই থাকে। স্বাধীনতার পরেই অধিকাংশ ভারতীয় নাগরিকের জীবিকা ছিল কৃষিকাজ কেন্দ্রিক।  কৃষক সুবিধার জন্য একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর আমলে কৃষকদের দিকটাও একই ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষকদের জন্য বানিয়েছিলেন একাধিক প্রকল্প। তার আগে ১৯৫২ সালে কৃষি মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কৃষিক্ষেত্রে জমিদারি প্রথা বিলোপ করেন। সেই সময় ১৯৫২ সালে ‘জমিদারি প্রথার বিলুপ্তীকরণ বিল’ (Abolition of Zamindari Bill 1952) প্রণয়নে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৫৩ সালে এই সংক্রান্ত একটি আইনও পাশ হয়। এরফলে কৃষক দিবস হিসেবে তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। তাঁর আমলেই ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক অফ এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (National Bank of Agriculture and Rural Development– NABARD) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের নানা সামাজিক সমস্যা বিষয়ক বই লিখেছিলেন চৌধুরী চরণ সিংহ। কৃষিজমি, জমিদারি প্রথা, দারিদ্র্য, কৃষিজমির স্বত্বাধিকার প্রভৃতি বিষয়গুলি বারবার তাঁর লেখায় উঠে এসেছে।

 

 

২০০১ সাল থেকে আজকের দিনটিকে অর্থাৎ চৌধুরি চরণ সিংয়ের জন্মদিনটিকে কৃষক দিবস বা কিষাণ দিবস হিসেবে পালনের কথা ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময় থেকে আজকের দিনটিকে কৃষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে দেশে। প্রত্যেকটা দিনই কৃষকরা কাজ করেন। মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার তাগিদে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করে থাকেন কৃষকরা। রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান। এক্ষেত্রে সবজি বা ফসল তাঁদের কাছে নিজের সন্তানের মতো। এবিষয়ে আরও বলা হয়েছে,ইন্ডিয়ান ডিশ থেকে ওয়েস্টার্ন বা কনটিনেন্টাল, আমরা যা-ই খেয়ে থাকি না কেন, তার মূল ভিত হল আমাদের কৃষকরা। এ জন্যই আমরা ভালো–মন্দ খেতে পারি।

 

 

আমাদের অন্নের জোগাড় করার লক্ষ্যেই অনেক সময় তাঁদের দু’‌মুঠো ভাতও খাওয়া হয় না। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটে কারো কারো। তবুও তাঁরা নিরন্তর পরিশ্রম করেন। সামান্য অর্থের বিনিময়ে যাঁরা আমাদের এত বড়, সব চেয়ে মূল্যবান পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাঁদের অনেক সময়েই অবহেলায় থাকতে হয়। কৃষক বা চাষির ঘরের ছেলে-মেয়েরা আর পাঁচটা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পরিবারের মতো বড় হয় না। কোনো রকমে দিন গুজরান করে চলে যায়। কিন্তু তাদের জন্যই আমর পেট ভোরে খেতে পাই। আমাদের ক্ষুধা নিবৃত্তি হয়।

 

 

কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড,একথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। তাঁরা না ফসল ফলালে দেশ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছাতো না। স্বল্প অর্থের বিনিময়ে তাঁরা পরিষেবা দিয়ে থাকেন। অনেক সময়েই তাঁদের অবহেলার মধ্যে থাকতে হয়।কৃষিকে ভারতের প্রাথমিক পেশা, আমাদের দেশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তবে এখনও এটি সবচেয়ে অবমূল্যায়ন পেশা হিসাবে বিবেচিত হয়। যে কোনও দেশের জন্য, কৃষি কেবলমাত্র বাক্যে নয়, বাস্তবেও তার মেরুদণ্ড।যে কৃষকরা আমাদের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে জীবনধারণে সহায়তা করে থাকেন, এই দিনটিতে সমগ্র জাতি তাদের প্রতি প্রাণ দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।  সেই কৃষকদের আজ ধন্যবাদজ্ঞাপন করার দিন। এইধরনের অনুষ্ঠানগুলি আয়োজনের মাধ্যমে সময় ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে কৃষিজমি ও কৃষিজাত পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা উপায়গুলি কৃষকদের জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ও সুবিধাগুলি সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করে তোলার প্রয়াস করা হয়। অপরদিকে কৃষকদের অবদান এবং অবস্থান বিষয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা এই অনুষ্ঠানগুলি উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সমগ্র দেশের কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এই দিনটি উদযাপন সার্থক হয়ে উঠতে পারে।  এই কারণেই প্রতিবছর ২৩ শে ডিসেম্বর সারাদেশে কৃষক দিবস অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে পালন করা হয়।  দিনটি গোটা দেশে পালিত হয়ে থাকে জাতীয় কৃষক দিবস হিসাবে।

Share This