Categories
বিবিধ

গরুহাটি মাঠের নিকাশি সংস্কারের উদ্যোগ, ফের দশমীর মেলা আয়োজনের আশায় জটেশ্বরবাসী।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বৃষ্টি হলেই হাঁটুজল, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থায় গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ দশমীর মেলা। সেই সমস্যা কাটিয়ে এবার ফের জটেশ্বরের শতাব্দী প্রাচীন গরুহাটি ময়দানে দশমীর মেলা আয়োজনের উদ্যোগ। মঙ্গলবার মেলার মাঠ পরিদর্শন করলেন জটেশ্বর দশমী ঘাট কমিটির সদস্যরা। মাঠের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে নিকাশি ব্যবস্থা-সহ সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই গরুহাটি ময়দানে জল জমে যায়। ফলে মেলা আয়োজন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দু-তিন বছর ধরে এই সমস্যার কারণে সেখানে বিজয়া দশমীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এই সমস্যা এবার কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন জটেশ্বর দশমী ঘাট কমিটি। এদিন মাঠ পরিদর্শনের পর কমিটির সদস্যরা জানান, সমস্ত দিক থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এবছর দশমীর মেলা আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গরুহাটি ময়দানের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন জটেশ্বর ২ নম্বর অঞ্চল কংগ্রেস সভাপতি নারায়ণ সাহা। তিনি জানান, গত এক/ দুই বছর ধরে ওই মাঠের নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল থাকায় দশমী মেলা বন্ধ হয়ে রয়েছে। দ্রুত গরুহাটি ময়দান সংস্কার করে ফের দশমীর মেলা আয়োজনের দাবি জানান তিনি। এবিষয়ে জটেশ্বর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অর্ণব ঘোষ বলেন, গরুহাটি ময়দানে নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য দ্রুত মাঠের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দশমীর মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।”

Share This
Categories
বিবিধ

তিন বছর ধরে হাতি সাফারির দাবি, প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও এখনও শুরু হয়নি—অভিযোগ।।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:-চিলাপাতা হাতি সাফারির জোরালো দাবি উঠছে। জঙ্গল সাফারির চলার পাশাপাশি হাতি সাফারির দাবি উঠছে চিলাপাতা জঙ্গলে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে এই জঙ্গল সাফারির দাবি উঠে আসছে। তবে প্রাশাসন কোনো এই বিষয়ে কোনো হেলদোল দিচ্ছে না। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের চিলাপাতা জঙ্গলে এই জঙ্গলে হাতি সাফারির দাবি উঠে আসছে বহুদিন ধরে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ পর্যটন মহল। জিপ সাফারি চললেও পর্যটকরাও চান হাতি সাফারির করার, চিলাপাতা ঘন জঙ্গল এই জঙ্গল আলাদা একটু অনুভূতি যা ঘুরে দেখে মুগ্ধ সকলেই। জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করতে মিলে গন্ডার, হাতি, হরিণ, ময়ূর সহ সব পশুপাখি দেখা মিলে। দেশ বিদেশের সব পর্যটকরা এসে যা দেখে খুশি মনোরম পরিবেশ পায়। চিলাপাতা জঙ্গলে হাতি সাফারি দাবি তুলছেন পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পর্যটকরা। তাঁরা জানান যে চিলাপাতা কার জিসপি সাফারি হয়ে থাকে কিন্তু হাতি পিঠে বসে সাফারি করার অনুভূতি আলাদা একটা অভিজ্ঞতা। আর হাতির পিঠে বসে অনেক ভিতরে জঙ্গল যাওয়া যায়। অনেক কিছু অভিজ্ঞতা আর সবকিছু দেখা যায়। জানা যায় জলদাপাড়া শালকুমার গেট ও কোদালবস্তি ও মাদারিহাট থেকে হাতি সাফারি হয় চিলাপাতা জঙ্গলে জিপসি সাফারি করার জন্য প্রতিনিয়িত ভিড় থাকে। পাশাপাশি পর্যটকরা হাতি সাফারি দাবি তোলেন। বর্তমানে চিলাপাতা জঙ্গলে পর্যটকদের জন্য জিপ সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় গাইডদের মতে, জিপ সাফারির চেয়ে হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা।
​
​ চিলাপাতা তার গা ছমছমে পরিবেশ ও ঘন অরণ্যের জন্য পরিচিত। হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে জঙ্গলের বহু গভীরে পৌঁছানো সম্ভব, যেখানে গাড়ির যাতায়াত অসম্ভব। এই জঙ্গলে একশৃঙ্গ গণ্ডার, হাতি, হরিণ, ময়ূরসহ নানা প্রজাতির পশুপাখির অবাধ বিচরণ।
পর্যটকদের বক্তব্য, “জিপে জঙ্গল দেখা আর হাতির পিঠে চড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এক নয়। প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ করলে চিলাপাতা ভ্রমণের আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।”
​এখন দেখার, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের এই যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নিয়ে বন দফতর ও জেলা প্রশাসন কবে চিলাপাতা জঙ্গলে হাতি সাফারির সবুজ সংকেত দেয়।

ব্যবসায়ী বিমল রাভা জানান :- আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাতি সাফারির দাবি তুলে আসছি বনোদফর কাছে, তবে আশ্বাস দিলেও হাতি সাফারি শুরু হচ্ছে না। আমরা চাই যে চিলাপাতা হাজার হাজার পর্যটক আসে তাঁরাও জানান যে হাতি সাফারি হলে ভালো হয়, ঘন জঙ্গলে হাতি সাফারি করা যায়। আমরা আবারও দাবি জানাবো বনমন্ত্রী কাছে যে যেন দ্রুত হাতি সাফারি করা হোক।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব: অভিজ্ঞতার আলোয় সমাজের পথচলা।

একটি গাছের শিকড় যেমন তাকে মাটির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে, তেমনই একটি পরিবারের প্রবীণ মানুষরা সেই পরিবারের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও মূল্যবোধের শিকড়ের মতো। তাঁরা জীবনের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁদের জীবনে রয়েছে সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, দুঃখ এবং সময়ের পরিবর্তনের অসংখ্য গল্প।

আধুনিক সমাজে প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ব্যস্ততাও বেড়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক সময় পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। কখনও তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কখনও তাঁদের একাকিত্বকে বোঝা হয় না। অথচ একটি পরিবারের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাঁদের জীবন গভীরভাবে যুক্ত।

প্রবীণ মানুষদের যত্ন নেওয়া শুধু একটি পারিবারিক কর্তব্য নয়; এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তাঁদের সম্মান করা মানে আমাদের অতীতকে সম্মান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া।

প্রবীণ কারা?

প্রবীণ বলতে সাধারণত জীবনের দীর্ঘ সময় অতিক্রম করেছেন এমন বয়স্ক মানুষদের বোঝানো হয়। কিন্তু বয়সই তাঁদের পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ড নয়। একজন প্রবীণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং জ্ঞান।

তাঁরা এমন এক সময় দেখেছেন যখন জীবন ছিল অনেক বেশি সরল। যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত ছিল, প্রযুক্তি ছিল কম, কিন্তু মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই ছিল গভীর ও ব্যক্তিনির্ভর।

সময়ের পরিবর্তন তাঁরা নিজের চোখে দেখেছেন। তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

পরিবারের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী

একটি পরিবারের পুরনো গল্প, পূর্বপুরুষদের কথা, পারিবারিক ঐতিহ্য, পুরনো দিনের জীবনযাত্রা—এসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারক হন পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা।

একজন দাদু বা ঠাকুমার মুখে শোনা কোনো গল্প শুধু বিনোদন নয়; তার মধ্যে থাকতে পারে পরিবারের ইতিহাস, সামাজিক পরিবর্তনের স্মৃতি কিংবা পুরনো সংস্কৃতির পরিচয়।

আধুনিক প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো প্রজন্মের এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিবার তার নিজস্ব ইতিহাসের একটি অংশ হারিয়ে ফেলতে পারে।

অভিজ্ঞতার মূল্য

বই পড়ে অনেক কিছু শেখা যায়, কিন্তু বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার বিকল্প সবসময় পাওয়া যায় না। প্রবীণ মানুষরা জীবনের নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁরা জানেন কীভাবে কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরতে হয়, কীভাবে সংকট সামলাতে হয় এবং কীভাবে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়।

তাঁদের প্রত্যেকটি পরামর্শ সব পরিস্থিতিতে নিখুঁত হবে এমন নয়, কারণ সময় বদলেছে। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতার মধ্যে যে জীবনবোধ রয়েছে, তা তরুণ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান হতে পারে।

তাই প্রবীণদের কথা অন্ধভাবে অনুসরণ না করে মন দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

নাতি-নাতনিদের জীবনে প্রবীণদের ভূমিকা

অনেক পরিবারে দাদা-দিদা, ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে নাতি-নাতনিদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হয়। তাঁদের গল্প, আদর এবং স্নেহ শিশুর মনে নিরাপত্তা তৈরি করে।

একজন প্রবীণ মানুষ শিশুকে নিজের শৈশবের গল্প বলতে পারেন, পুরনো দিনের ঘটনা বলতে পারেন, লোককথা শোনাতে পারেন। এর মাধ্যমে শিশুর ভাষা, কল্পনাশক্তি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় বাড়ে।

বর্তমান সময়ে যেখানে শিশুরা অনেকটা সময় মোবাইল ও ডিজিটাল পর্দার সামনে কাটায়, সেখানে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের সামাজিক ও আবেগগত বিকাশেও সহায়ক হতে পারে।

একাকিত্ব: প্রবীণ জীবনের বড় সমস্যা

প্রবীণ মানুষের জীবনে একাকিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হতে পারে। কর্মজীবন শেষ হওয়ার পর অনেকের দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়। সন্তানরা কাজের কারণে দূরে থাকলে বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেলে তাঁরা নিজেদের একা মনে করতে পারেন।

একাকিত্ব শুধু মানুষের মন খারাপ করে না; দীর্ঘদিনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা জীবনের প্রতি আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে।

তাই প্রবীণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাঁদের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

অনেক প্রবীণ মানুষ কর্মজীবন শেষ করার পর আর্থিকভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কারও পেনশন থাকে, কারও থাকে না। কারও সঞ্চয় থাকে, আবার কেউ দীর্ঘ জীবনের নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ পাননি।

তাই প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়। পরিবারে তাঁদের প্রয়োজনকে সম্মান করা এবং তাঁদের অর্থনৈতিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখা দরকার।

যাঁরা এখনও নিজের আয় পরিচালনা করতে পারেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও সম্মান করা উচিত।

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও যত্ন

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। চলাফেরায় অসুবিধা, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তির পরিবর্তন কিংবা নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রবীণদের স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকা দরকার। তাঁদের চিকিৎসা, ওষুধ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

তবে যত্ন নেওয়ার অর্থ তাঁদের সম্পূর্ণ অসহায় মনে করা নয়। তাঁরা যতটা নিজের কাজ নিজে করতে পারেন, সেই স্বাধীনতাও বজায় রাখা উচিত।

সম্মানের সঙ্গে যত্ন

কোনো প্রবীণ মানুষকে শুধু বয়সের কারণে শিশুর মতো আচরণ করা উচিত নয়। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তাঁর মতামত ও ব্যক্তিসত্তার প্রতি সম্মান থাকা দরকার।

“আপনি কিছু বোঝেন না”—এই ধরনের কথা তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। প্রযুক্তি বা নতুন বিষয় সম্পর্কে তাঁরা হয়তো তরুণদের মতো দ্রুত শিখতে পারবেন না, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাঁদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার মূল্য নেই।

স্নেহের সঙ্গে নতুন বিষয় শেখানো এবং প্রয়োজন হলে প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করা উচিত।

ডিজিটাল যুগে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তি

বর্তমান সমাজে ব্যাংকিং, যোগাযোগ, চিকিৎসা, কেনাকাটা থেকে শুরু করে নানা পরিষেবা ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক প্রবীণ মানুষ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সমস্যায় পড়তে পারেন।

পরিবারের তরুণ সদস্যরা তাঁদের ধৈর্য ধরে মোবাইল ফোন, ভিডিও কল, ডিজিটাল পেমেন্ট কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার শেখাতে পারেন।

এতে শুধু প্রবীণদের সুবিধা হবে না; প্রজন্মের মধ্যে যোগাযোগও বাড়বে।

প্রজন্মের ব্যবধান

তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে চিন্তাভাবনার পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ তাঁরা ভিন্ন সময়ে বড় হয়েছেন।

একজন প্রবীণ মানুষ হয়তো ঐতিহ্যগত কিছু মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা ও নতুন চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।

এই পার্থক্যকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। প্রবীণরা তরুণদের কাছ থেকে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক চিন্তা শিখতে পারেন, আবার তরুণরা প্রবীণদের কাছ থেকে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধ শিখতে পারেন।

প্রবীণদের সক্রিয় জীবন

বয়স বাড়লেই মানুষের জীবনের সব কাজ শেষ হয়ে যায় না। অনেক প্রবীণ মানুষ অবসর জীবনে নতুন কিছু শেখেন, লেখালেখি করেন, বাগান করেন, সমাজসেবায় যুক্ত হন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন কিংবা শিশুদের পড়ান।

তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সমাজের কাজে লাগানো যেতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে পারেন, কৃষির অভিজ্ঞ মানুষ নতুন প্রজন্মকে কৃষি সম্পর্কে শেখাতে পারেন, শিল্পী বা কারিগর তাঁদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

অর্থাৎ প্রবীণ জীবন মানেই নিষ্ক্রিয় জীবন নয়।

প্রবীণদের কাছ থেকে মূল্যবোধ শিক্ষা

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে অনেক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা সেই মূল্যবোধের ধারক হতে পারেন।

তাঁদের কাছ থেকে শিশুরা শিখতে পারে অতিথিকে সম্মান করা, প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো, কঠিন সময়ে ধৈর্য রাখা, অল্পতে সন্তুষ্ট থাকা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।

অবশ্য পুরনো সব ধারণাই যে গ্রহণ করতে হবে তা নয়। ভালো মূল্যবোধগুলোকে নতুন সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজে প্রবীণদের নিরাপত্তা

পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও প্রশাসনেরও প্রবীণদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তাঁদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শব্যবস্থা থাকা জরুরি।

বয়স্ক মানুষ যেন প্রতারণা, অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

প্রতিটি মানুষকে মনে রাখতে হবে—আজ যে তরুণ, একদিন সেও প্রবীণ হবে। তাই প্রবীণদের জন্য আমরা যে সমাজ তৈরি করছি, ভবিষ্যতে সেই সমাজই আমাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

পরিবারের পরিবর্তিত কাঠামো

একসময় অনেক পরিবারে একসঙ্গে বহু প্রজন্ম বসবাস করত। বর্তমানে কর্মসংস্থান, শহরমুখী জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের কারণে অনেক পরিবার ছোট হয়ে গেছে।

এতে অনেক প্রবীণ মানুষ সন্তানদের থেকে দূরে থাকেন। দূরত্ব থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব। ফোন, ভিডিও কল কিংবা নিয়মিত দেখা করার মাধ্যমে সম্পর্ককে জীবন্ত রাখা যায়।

শারীরিক দূরত্ব যেন মানসিক দূরত্বে পরিণত না হয়—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের ছোট ছোট দায়িত্ব

প্রবীণদের জন্য সবসময় বড় কিছু করার দরকার হয় না। প্রতিদিন কয়েক মিনিট তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞেস করা, কোথাও যেতে হলে সাহায্য করা, তাঁদের পছন্দের খাবার তৈরি করা কিংবা পুরনো গল্প শুনতে বসা—এসব ছোট কাজ তাঁদের জীবনে বড় আনন্দ আনতে পারে।

অনেক সময় একজন প্রবীণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অর্থ নয়; প্রয়োজন একজন শ্রোতা।

তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, তাঁর স্মৃতির মূল্য দেওয়া এবং তাঁর উপস্থিতিকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকার করা অত্যন্ত মূল্যবান।

প্রবীণ ও আত্মসম্মান

প্রবীণ মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে তাঁদের আত্মসম্মান যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

“আপনি কিছুই করতে পারবেন না”—এই মনোভাব তাঁদের দুর্বল করে দিতে পারে। বরং বলা উচিত, “আপনি যতটা পারেন করুন, প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি।”

স্বাধীনতার অনুভূতি মানুষের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

উপসংহার

প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; তাঁরা সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ, ভুল, সাফল্য এবং অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ।

তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো মানে শুধু পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা নয়। তাঁদের কথা শোনা, মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজনে পাশে থাকা, একাকিত্ব দূর করা এবং তাঁদের আত্মসম্মান রক্ষা করাই প্রকৃত শ্রদ্ধা।

একটি পরিবার তখনই সত্যিকারের সমৃদ্ধ হয়, যখন সেখানে শিশুর হাসি, তরুণের স্বপ্ন এবং প্রবীণের অভিজ্ঞতা—তিনটি প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আজকের প্রবীণরাই একদিন আমাদের হাত ধরে পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের জীবনের অবদান ভুলে গেলে আমরা নিজেদের শিকড়কেই ভুলে যাব।

তাই আসুন, প্রবীণদের শুধু যত্ন নয়, সম্মানও দিই। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাই, তাঁদের গল্প শুনি, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিই এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে জীবনের শেষ অধ্যায়টিও মর্যাদা, ভালোবাসা ও নিরাপত্তায় পূর্ণ হয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

কৃষকের জীবন ও অবদান: মাটির সঙ্গে লড়াই করে যাঁরা অন্ন জোগান।

মানুষের জীবনে খাদ্যের গুরুত্ব সবচেয়ে মৌলিক। আমরা প্রতিদিন যে ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, ফল কিংবা অন্যান্য খাদ্য গ্রহণ করি, তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের শ্রম। সেই দীর্ঘ শ্রমযাত্রার অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন কৃষক। মাটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে, প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে এবং নিজের ঘাম ঝরিয়ে কৃষক মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করেন।

কৃষকের জীবন বাইরে থেকে যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই কঠিন। ভোরের আলো ফোটার আগেই অনেক কৃষকের দিন শুরু হয়। জমি প্রস্তুত করা, বীজ বোনা, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, ফসলের পরিচর্যা, ফসল কাটা এবং বাজারে নিয়ে যাওয়া—প্রতিটি ধাপেই পরিশ্রম রয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত থাকে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং নানা ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি।

তবুও কৃষক থেমে থাকেন না। কারণ তাঁর শ্রমের সঙ্গে শুধু নিজের পরিবারের জীবন নয়, অগণিত মানুষের জীবনও জড়িয়ে আছে।

কৃষক: সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ যখন খাদ্যের জন্য কেবল শিকার ও সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তখন জীবন ছিল অনেক বেশি অনিশ্চিত। কৃষির বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে। মানুষ স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে, গ্রাম তৈরি হয়, পরে নগর ও সভ্যতার বিকাশ ঘটে।

অর্থাৎ কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের একটি পদ্ধতি নয়; কৃষি মানবসভ্যতার বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। আর কৃষির কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক।

আজ প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, কৃষিতে যন্ত্র এসেছে, আধুনিক পদ্ধতি এসেছে, কিন্তু কৃষকের প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষক আরও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারেন।

কৃষকের দিনের শুরু

একজন কৃষকের দিনের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শহরের মানুষ ঘড়ি দেখে কাজ শুরু করলেও কৃষকের কাজ অনেকাংশে নির্ভর করে আলো, আবহাওয়া, ঋতু এবং জমির অবস্থার ওপর।

ভোরে মাঠে গিয়ে জমির অবস্থা দেখা, সেচের ব্যবস্থা করা, গাছের বৃদ্ধি পরীক্ষা করা কিংবা গবাদি পশুর যত্ন নেওয়া—এসব কাজ তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

ধানের জমিতে পানি ঠিক আছে কি না, সবজির জমিতে পোকা ধরেছে কি না, গাছের পাতা কেমন রয়েছে—এসব বিষয়ে কৃষককে নিয়মিত নজর রাখতে হয়।

কৃষিকাজে অবহেলার সুযোগ খুব কম। একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা কয়েক দিনের অনুপযুক্ত আবহাওয়া কখনও কখনও পুরো মৌসুমের পরিশ্রমকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

বীজ থেকে ফসল

একটি ফসল আমাদের খাবারের টেবিলে পৌঁছানোর আগে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। প্রথমে জমি প্রস্তুত করতে হয়। তারপর উপযুক্ত বীজ নির্বাচন, বপন, সেচ ও পরিচর্যার কাজ চলে।

বীজ মাটিতে দেওয়ার পর কৃষকের অপেক্ষা শুরু হয়। ছোট্ট চারাগাছ যখন মাটি ভেদ করে বেরিয়ে আসে, তখন তার সঙ্গে কৃষকের আশাও বড় হতে থাকে।

কিন্তু এরপরও কাজ শেষ হয় না। গাছকে নানা রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হয়। পর্যাপ্ত জল ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হয়। আগাছা পরিষ্কার করতে হয়।

শেষ পর্যন্ত যখন জমি সবুজ থেকে সোনালি হয়ে ওঠে, তখন কৃষকের চোখে দেখা যায় দীর্ঘ পরিশ্রমের সাফল্য।

প্রকৃতির সঙ্গে কৃষকের লড়াই

কৃষকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো প্রকৃতির অনিশ্চয়তা। বৃষ্টি কৃষকের বন্ধু, আবার অতিবৃষ্টি শত্রুও হতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খরা দেখা দেয়; অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে ফসল নষ্ট হতে পারে।

ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বন্যা, তাপপ্রবাহ কিংবা অস্বাভাবিক আবহাওয়া কৃষকের পরিকল্পনাকে মুহূর্তে বদলে দিতে পারে।

এই কারণেই কৃষিকাজে পরিশ্রমের পাশাপাশি ধৈর্য ও মানসিক শক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কৃষক এক মৌসুমের ক্ষতি সামলে পরের মৌসুমে আবার নতুন করে শুরু করেন।

কৃষকের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

কৃষিকাজের সঙ্গে নানা ধরনের খরচ যুক্ত। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক, কৃষিযন্ত্র, পরিবহণ—সবকিছুর জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। উৎপাদন খরচ বাড়লে কৃষকের ওপর চাপও বাড়ে।

অন্যদিকে ফসল উৎপাদনের পর বাজারে দাম কত হবে, তা সবসময় কৃষকের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কোনো বছর কোনো ফসলের দাম ভালো হতে পারে, আবার অন্য বছর একই ফসলের দাম কমে যেতে পারে।

ফলে কৃষকের আয় অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

কৃষির স্থায়িত্বের জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য বাজারব্যবস্থা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পরিবহণ এবং তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি ও দেশের অর্থনীতি

কৃষি একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি শুধু খাদ্য সরবরাহ করে না; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পরিবহণ, সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বাজার, কৃষিযন্ত্র, সার, বীজসহ বহু ক্ষেত্র।

একজন কৃষকের উৎপাদিত ধান থেকে চাল তৈরি হয়, চাল বাজারে পৌঁছায়, দোকানে বিক্রি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্য হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তাই কৃষির উন্নয়ন মানে শুধু কৃষকের উন্নয়ন নয়; এটি বৃহত্তর অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত।

কৃষকের সঙ্গে গ্রামীণ সমাজ

গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কোনো না কোনোভাবে কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।

কৃষকের ভালো ফলন হলে গ্রামের বাজারে কেনাকাটা বাড়ে, পরিবহণের কাজ বাড়ে, ছোট ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ে। অর্থাৎ কৃষির সাফল্য গ্রামীণ অর্থনীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তাই কৃষির উন্নয়ন গ্রামোন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

কৃষিতে নারীর ভূমিকা

কৃষিকাজে নারীদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বীজ সংরক্ষণ, চারা তৈরি, রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ফসল সংগ্রহ, শস্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পশুপালনের মতো বহু কাজে নারীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন।

কিন্তু অনেক সময় এই শ্রম যথাযথভাবে দৃশ্যমান হয় না। পরিবারের কৃষিকাজে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণকে সম্মান করা হলে কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি

প্রযুক্তি কৃষির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উন্নত বীজ, আধুনিক সেচব্যবস্থা, কৃষিযন্ত্র, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাটির পরীক্ষা এবং ডিজিটাল তথ্য কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

আগে কৃষক অনেক সময় অনুমানের ওপর নির্ভর করতেন। এখন আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর এবং কৃষি-সংক্রান্ত তথ্য সহজলভ্য হলে তিনি আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারেন।

তবে প্রযুক্তির সুবিধা যেন সব কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন কৃষক সেটি সহজে বুঝতে ও ব্যবহার করতে পারবেন।

তরুণ প্রজন্ম ও কৃষি

বর্তমানে অনেক তরুণ কৃষিকে পুরনো বা কম আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দেখেন। এই ধারণা পরিবর্তন করা দরকার। আধুনিক কৃষি এখন শুধু ঐতিহ্যগত চাষাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

জৈব কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন, ফলচাষ, ফুলচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং কৃষিপণ্য বিপণনের মতো বহু ক্ষেত্রে তরুণদের নতুন উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষিত তরুণরা প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ধারণাকে কৃষির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।

কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন

কৃষক যদি শুধু কাঁচা পণ্য বিক্রি করেন, তাহলে অনেক সময় তাঁর আয় সীমিত থাকে। কিন্তু সেই পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা গেলে মূল্য বাড়তে পারে।

যেমন ফল থেকে জ্যাম বা জুস, দুধ থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, শস্য থেকে প্যাকেটজাত খাদ্য তৈরি করা যায়। এর ফলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ তৈরি হয় এবং কর্মসংস্থানও বাড়ে।

তাই কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা দরকার।

জল ও মাটির সংরক্ষণ

কৃষির ভবিষ্যৎ মাটি ও জলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মাটির উর্বরতা নষ্ট হলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত জল ব্যবহার কিংবা জমির ভুল ব্যবস্থাপনা পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

তাই কৃষিতে এমন পদ্ধতি দরকার যা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, জল ও জীববৈচিত্র্যকেও রক্ষা করে।

জল সংরক্ষণ, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফসলের বৈচিত্র্য এবং উপযুক্ত কৃষিপদ্ধতি ভবিষ্যৎ কৃষিকে আরও স্থায়ী করতে পারে।

কৃষকের প্রতি আমাদের দায়িত্ব

আমরা যখন বাজার থেকে খাদ্য কিনি, তখন সেই খাদ্যের পেছনে থাকা কৃষকের কথা মনে রাখা দরকার। কৃষকের শ্রমকে সম্মান করা শুধু কথায় নয়, আচরণেও প্রকাশ করতে হবে।

খাদ্যের অপচয় কমানো তার অন্যতম উদাহরণ। একটি প্লেট খাবার নষ্ট করার অর্থ শুধু খাদ্য নষ্ট করা নয়; তার সঙ্গে কৃষকের শ্রম, জল, মাটি, সময় ও অর্থও নষ্ট করা।

কৃষকের উৎপাদিত খাদ্যের প্রতি সম্মান দেখানো তাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য

কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। সুস্থ পরিবেশ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কৃষিও টেকসই হতে পারে না। মাটির উর্বরতা, জলসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং আবহাওয়া—সবকিছুর ওপর কৃষি নির্ভরশীল।

তাই কৃষির উন্নয়ন বলতে শুধু বেশি উৎপাদন বোঝালে চলবে না। এমন কৃষিব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্পদ রেখে যায়।

কৃষকের স্বপ্ন

একজন কৃষকের স্বপ্ন খুব সাধারণ—ভালো ফসল হবে, ন্যায্য দাম পাবেন, পরিবার ভালো থাকবে এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে।

এই স্বপ্নকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। একজন কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জড়িয়ে আছে।

তিনি যখন মাটিতে বীজ বোনেন, তখন শুধু ফসলের বীজ নয়, নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের আশাও বোনেন।

উপসংহার

কৃষক শুধু একজন পেশাজীবী নন; তিনি সমাজের খাদ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর ঘাম ও পরিশ্রমের ফলেই আমাদের খাবারের টেবিল পূর্ণ হয়।

কৃষকের জীবন কঠিন, কিন্তু তাঁর অবদান অপরিসীম। তাই কৃষির উন্নয়ন, কৃষকের মর্যাদা, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ, জল ও মাটির সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক নতুন কর্মসংস্থান—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শহরের উঁচু ভবন যতই বাড়ুক, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের জীবনে খাদ্যের প্রয়োজন কখনও শেষ হবে না। আর সেই খাদ্যের মূল উৎসের সঙ্গে যাঁরা প্রতিদিন যুক্ত, তাঁদের একজন হলেন কৃষক।

কৃষকের হাতে শুধু মাটির দলা নয়, আমাদের ভবিষ্যতের খাদ্যও গড়ে ওঠে। তাঁর শ্রমকে সম্মান করা মানে নিজের জীবন ও সমাজের ভিত্তিকে সম্মান করা।

তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে শুধু একজন মানুষের জীবন ভালো হয় না; শক্তিশালী হয় একটি পরিবার, একটি গ্রাম, একটি অর্থনীতি এবং শেষ পর্যন্ত গোটা দেশ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

ছাদবাগান: কংক্রিটের শহরে সবুজের ছোট্ট ঠিকানা।

শহর যত বড় হচ্ছে, ততই কমছে খোলা জমি। একসময়ের মাঠ, পুকুর, বাগান ও গাছপালার জায়গায় তৈরি হচ্ছে বহুতল বাড়ি, রাস্তা, বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা। মানুষের জীবনযাত্রা আধুনিক হয়েছে, সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দূরত্বও অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে গেছে।

এই কংক্রিটের শহরে সবুজকে ফিরিয়ে আনার একটি সুন্দর উপায় হতে পারে ছাদবাগান।

একটি বাড়ির ছাদে কয়েকটি টব, কিছু শাকসবজি, ফুলের গাছ, ফলের গাছ কিংবা লতানো উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি হতে পারে ছোট্ট একটি বাগান। জায়গা খুব বড় না হলেও পরিকল্পনা করে ব্যবহার করলে ছাদকে একটি সুন্দর সবুজ পরিসরে পরিণত করা সম্ভব।

ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবেশ, মানসিক প্রশান্তি, খাদ্য উৎপাদন এবং মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ।

কংক্রিটের শহরে সবুজের প্রয়োজন

শহরে কংক্রিটের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অনুভূতিও অনেক সময় তীব্র হয়ে ওঠে। পাকা ছাদ ও ভবনের দেওয়াল দিনের তাপ শোষণ করে এবং পরিবেশকে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে।

ছাদে গাছপালা থাকলে সেই পাকা জায়গার একটি অংশ সবুজে ঢেকে যায়। গাছের পাতা ও মাটির উপস্থিতি পরিবেশে কিছুটা স্বস্তিদায়ক আবহ তৈরি করতে পারে।

একটি ছাদবাগান অবশ্যই পুরো শহরের তাপমাত্রা বদলে দিতে পারে না। কিন্তু হাজার হাজার বাড়ির ছাদে যদি ছোট ছোট সবুজ বাগান তৈরি হয়, তাহলে শহরের সামগ্রিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ছাদবাগান মানসিক শান্তির জায়গা

ব্যস্ত শহুরে জীবনে মানুষের অবসর কমছে। সারাদিন কাজ, যানজট, মোবাইল, কম্পিউটার এবং নানা দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটে অনেকের জীবন।

দিনের শেষে কয়েক মিনিট নিজের ছাদবাগানে বসে থাকা একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

গাছে নতুন পাতা এসেছে কি না দেখা, ফুল ফুটেছে কি না লক্ষ্য করা, টবে জল দেওয়া কিংবা ছোট কোনো চারার বেড়ে ওঠা দেখা—এসব সাধারণ কাজের মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তি রয়েছে।

গাছের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস মানুষকে ধৈর্যও শেখায়। আজ একটি বীজ লাগালে কালই বড় গাছ হবে না। অপেক্ষা করতে হবে, যত্ন নিতে হবে এবং প্রকৃতির নিজস্ব গতিকে সম্মান করতে হবে।

নিজের হাতে সবজি উৎপাদন

ছাদবাগানের একটি বড় সুবিধা হলো নিজের বাড়িতেই কিছু শাকসবজি উৎপাদন করা যায়।

টমেটো, লঙ্কা, ধনেপাতা, পুদিনা, পালং, ঢেঁড়স, বেগুন, পটলজাতীয় কিছু লতানো গাছ কিংবা বিভিন্ন ধরনের শাক—উপযুক্ত পরিবেশে অনেক কিছুই টব বা বড় পাত্রে চাষ করা সম্ভব।

অবশ্য কোন গাছ কোথায় এবং কীভাবে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করে ছাদের আকার, আলো, বাতাস, জল দেওয়ার ব্যবস্থা ও স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর।

নিজের হাতে ফলানো কয়েকটি লঙ্কা বা টমেটোও অনেক সময় বাজার থেকে কেনা সবজির তুলনায় আলাদা আনন্দ দেয়।

শিশুদের জন্য জীবন্ত শিক্ষা

ছাদবাগান শিশুদের শিক্ষার একটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে।

বইয়ে শিশুরা পড়ে যে বীজ থেকে গাছ হয়, সূর্যের আলো দরকার, জল দরকার—কিন্তু নিজের হাতে বীজ লাগিয়ে সেই পরিবর্তন দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

একটি ছোট গাছ কীভাবে ধীরে ধীরে বড় হয়, ফুল থেকে ফল হয়, পাতা শুকিয়ে যায়—এসব পর্যবেক্ষণ করতে করতে শিশুর প্রকৃতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান তৈরি হয়।

এতে তাদের মধ্যে গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশ সম্পর্কে দায়িত্ববোধও তৈরি হতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে আনার সুযোগ

ছাদবাগান পরিবারের সদস্যদের একটি যৌথ কাজের ক্ষেত্র হতে পারে।

কেউ মাটি তৈরি করছেন, কেউ চারা লাগাচ্ছেন, কেউ জল দিচ্ছেন, কেউ শুকনো পাতা পরিষ্কার করছেন। পরিবারের ছোট-বড় সবাই যদি এই কাজে অংশ নেয়, তাহলে একটি সুন্দর পারিবারিক সময় তৈরি হয়।

আজকের ব্যস্ত জীবনে এমন যৌথ কাজের সুযোগ অনেক পরিবারেই কমে গেছে।

একটি ছোট ছাদবাগান সেই দূরত্ব কিছুটা কমাতে পারে।

ফুলের বাগানের সৌন্দর্য

সব ছাদবাগানেই যে শুধু শাকসবজি লাগাতে হবে, তা নয়।

বিভিন্ন ফুলের গাছ দিয়ে ছাদকে রঙিন করে তোলা যায়। ঋতুভেদে নানা ধরনের ফুল ফুটলে ছাদের পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়।

সকালে ফুলের গন্ধ, প্রজাপতির আসা, পাখির ডাক—এসব শহরের জীবনে প্রকৃতির উপস্থিতি অনুভব করার সুযোগ তৈরি করে।

তবে গাছ বাছাই করার সময় ছাদের পরিবেশ এবং গাছের আকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার।

পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব

ছাদবাগান মানুষকে শুধু গাছ লাগাতে শেখায় না; পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতেও শেখায়।

বাগানের জৈব বর্জ্য যেমন শুকনো পাতা বা কিছু রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য উপযুক্ত পদ্ধতিতে কম্পোস্টে পরিণত করা যেতে পারে। এতে বর্জ্যের একটি অংশ পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা দরকার। অতিরিক্ত জল না দিয়ে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী জল দেওয়া উচিত।

অর্থাৎ ছাদবাগান পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের একটি ছোট অনুশীলন হতে পারে।

পাখি ও ছোট প্রাণীর জন্য আশ্রয়

শহরে প্রাকৃতিক সবুজ কমে গেলে পাখি ও বিভিন্ন ছোট প্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থলও কমে যায়।

একটি ছাদবাগান বিশাল কোনো বন তৈরি করতে পারে না। তবে ফুল ও গাছপালা পাখি, প্রজাপতি কিংবা কিছু উপকারী পতঙ্গকে আকৃষ্ট করতে পারে।

ছাদে নিরাপদভাবে একটি ছোট জলপাত্র রাখা হলে গরমের সময় পাখিরাও উপকৃত হতে পারে। তবে জলপাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।

এই ছোট উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে শহরের সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের সম্পর্ক কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে।

ছাদবাগানের আগে নিরাপত্তা

ছাদবাগান করার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার—ভবনের নিরাপত্তা।

ছাদে অতিরিক্ত ভারী টব, মাটি বা পানির ব্যবস্থা করার আগে ভবনের কাঠামোগত সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জল জমে থাকা, ছাদে স্যাঁতসেঁতে হওয়া বা জল নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

অর্থাৎ সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সবাই মিলে সবুজ শহর

একটি বাড়ির ছাদে বাগান সুন্দর। কিন্তু একটি পাড়া, একটি শহর কিংবা একটি অঞ্চলের বহু বাড়িতে ছাদবাগান তৈরি হলে তার প্রভাব আরও বড় হতে পারে।

বাড়ির ছাদ, স্কুলের ছাদ, অফিসের ছাদ কিংবা অন্যান্য উপযুক্ত ভবনের খালি জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে সবুজ করা গেলে শহরে সবুজের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।

তবে সব জায়গায় একই ধরনের বাগান করা যাবে না। ভবনের নিরাপত্তা, জল, আলো এবং স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনা করে পরিকল্পনা করতে হবে।

ছাদবাগান একটি দায়িত্বও

গাছ লাগানো সহজ; গাছকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।

অনেক সময় উৎসাহের বশে মানুষ অনেকগুলো গাছ কিনে ফেলেন। কয়েক সপ্তাহ পর নিয়মিত যত্নের অভাবে গাছগুলো শুকিয়ে যায়।

তাই বেশি গাছ লাগানোর চেয়ে যতটা যত্ন নেওয়া সম্ভব, ততটাই লাগানো ভালো।

একটি সুস্থ গাছ দশটি শুকিয়ে যাওয়া গাছের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

উপসংহার

ছাদবাগান কোনো বিশাল পরিবেশগত সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। কিন্তু এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনার একটি সুন্দর ও বাস্তব উদ্যোগ।

একটি ছোট টব থেকে শুরু হতে পারে একটি সবুজ অভ্যাস। সেই অভ্যাস পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তারপর প্রতিবেশীদের মধ্যে, আর একসময় একটি গোটা শহরের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে পারে।

কংক্রিটের শহরে আমরা হয়তো বড় বন তৈরি করতে পারব না। কিন্তু নিজের বাড়ির একটি ছাদে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতির জন্য একটি ছোট্ট জায়গা তৈরি করতে পারি।

সেই ছোট্ট সবুজ জায়গায় ফুটে ওঠা একটি ফুল হয়তো আমাদের মনে করিয়ে দেবে—উন্নত শহর মানেই শুধু উঁচু ভবন নয়; সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহরই প্রকৃত উন্নতির পরিচয়।

Share This
Categories
বিবিধ

কড়া নিরাপত্তায় মেদিনীপুর আদালতে সুমিত রায়, বালি কেলেঙ্কারি মামলায় শুনানি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বালি কেলেঙ্কারি মামলায় ফের মেদিনীপুর আদালতে হাজির করা হল সুমিত রায়কে। শনিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়।
অভিযোগ, ওভারলোড গাড়ি চলাচলের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা লেনদেনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। এই মামলায় আদালত সুমিত রায়কে ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমিত রায়ের আইনজীবী প্রতিম দাসগুপ্তের দাবি, ২০২৩ সালের ওই মামলার সঙ্গে সুমিত রায় সরাসরি যুক্ত নন। তাঁর আরও দাবি, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় সিআইডি মোবাইল ফোন ও একটি ডাটা কেবল ছাড়া আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, বালি সংক্রান্ত মামলায় ৯ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে শনিবার ফের আদালতে শুনানি হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

গান্ধীজয়ন্তীতে মালদায় বিজ্ঞান অভীক্ষা, সুষ্ঠু পরীক্ষায় যুক্ত ২৫০ বিজ্ঞানকর্মী ও শিক্ষক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-২ অক্টোবর ২০২৬, জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী তিথিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের মালদা জেলা শাখার উদ্যোগে এবং কালিয়াচক-৩ বিজ্ঞান কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছরের মতো এই বছরও অত্যন্ত সফল ও সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিজ্ঞান অভীক্ষা ২০২৬’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী দিনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য তাদের প্রস্তুত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
​চলতি বছরে কালিয়াচক-৩ ব্লকের অন্তর্গত বৈষ্ণবনগর উচ্চ বিদ্যালয়, বৈষ্ণবনগর বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যালয়, বীরনগর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ২,৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ধরনকে মাথায় রেখে ও.এম.আর. (OMR) শিটের মাধ্যমে এই অভীক্ষা পরিচালিত হয়। পরীক্ষা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ৪০ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন সক্রিয় বিজ্ঞান কর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা এই মহতী কর্মসূচিতে নিরলস অবদান রাখেন।
​পরীক্ষা পরিচালনা ও সাফল্য প্রসঙ্গে কালিয়াচক-৩ বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞান অভীক্ষা কনভেনর তথা বীরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষক শ্রী উজ্জ্বল কুমার ঘোষ জানান, “এবছর অত্যন্ত সুচারুভাবে ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান অভীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা জাগ্রত করা এবং ও.এম.আর. শিটে অভ্যস্ত করে তুলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভয় কাটানোই আমাদের লক্ষ্য। আগামী বছর এই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
​অন্যদিকে, কালিয়াচক-৩ বিজ্ঞান কেন্দ্রের সভাপতি শ্রী অরুণাভ লালা সকল কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের বিজ্ঞান কর্মীদের সক্রিয় মনোবল ও যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই বিরাট আয়োজন সুসম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কর্মসূচির সাথে যুক্ত সকল কর্মী, পর্যবেক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আশা করি আগামী দিনে বিজ্ঞান মঞ্চের এই প্রসারের ধারা আরও বিস্তৃত হবে।”

Share This
Categories
বিবিধ

গেরুয়া গামছা পরে ‘বড় নেতা’ সাজা নয়, নব্য কর্মীদের চিহ্নিত করার বার্তা কাটোয়া জেলা সভাপতির।

পূর্বস্থলী, নিজস্ব সংবাদদাতা:- “২৫ টাকার গেরুয়া গামছা গলায় ঝুলিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বললেই বড় বিজেপি কর্মী হওয়া যায় না।” নব্য বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে এমনই মন্তব্য করলেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মানিক রায়।

শুক্রবার বিকেলে পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নসরতপুরে ‘পথের সাথী’-তে আয়োজিত এক সম্বর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের নতুন কর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন তিনি। মানিক রায় বলেন, দোকান থেকে গেরুয়া গামছা কিনে গলায় ঝুলিয়ে নিজেদের বড় বিজেপি কর্মী হিসেবে তুলে ধরছেন—এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

তাঁর বক্তব্য, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনও অপকর্ম করলে তার প্রভাব দলের উপর পড়ে এবং তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজ্য সভাপতির নির্দেশ মেনে দলের নাম করে অপকর্মে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী দক্ষিণ ৪ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে নসরতপুরের ‘পথের সাথী’-তে দলীয় কর্মীদের নিয়ে এই সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মণ্ডল সভাপতি তাপস হালদার-সহ দলের অন্যান্য কর্মীরা।

সভামঞ্চ থেকেই নব্য বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে দলীয় শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে কড়া বার্তা দেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে দলের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মেধার লড়াই, গড়বেতা-৩ ব্লকে বিজ্ঞান মানসিকতা অভীক্ষায় ২০০০ পরীক্ষার্থী।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পড়াশোনার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও মেধার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীকে সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকজুড়ে আয়োজন করা হয় বিজ্ঞান মানসিকতা ও মেধা অভীক্ষা পরীক্ষা।
জানা গিয়েছে,ব্লকের মোট ৯টি কেন্দ্রে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০০ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পড়ুয়াদের যুক্তিবোধ, মেধা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে উপস্থিত ছিলেন চিরঞ্জিত রানা, চিন্ময় ঘোষ, অমর ঘোষ, শংকর প্রসাদ অধিকারী, প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, কানাইলাল সিং, সন্দীপ মুখার্জি-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
উদ্যোক্তাদের দাবি, পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে আগামী দিনেও এই ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

গান্ধী-শাস্ত্রীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, স্বচ্ছতার শপথের পর ৫ কিলোমিটার দৌড়।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ডিএভি পাবলিক স্কুলে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘রান ফর ডিএভি’ ও ‘ফিট ডিএভি ফ্রিডম রান’ নামে পাঁচ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা। সুস্থ শরীর ও সচেতন মানসিকতা গড়ে তোলার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা, সম্প্রীতি এবং স্বচ্ছতার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
এইদিন সকাল ৭টায় মহাত্মা গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং স্বচ্ছতার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিদ্যালয়ের পতাকাকে সম্মান জানিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ের সূচনা করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শ্রী এন. কে. গৌতম। এই দৌড় প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ জন পড়ুয়া অংশগ্রহণ করে। দৌড় চলাকালীন পথের দু’পাশে থাকা মানুষজন করতালি দিয়ে খুদে ও তরুণ দৌড়বিদদের উৎসাহিত করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে ছেলে ও মেয়ে বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও সেরাদের মেমেন্টো প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে দৌড় সম্পূর্ণ করা সকল অংশগ্রহণকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র।
শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং গান্ধীজির আদর্শকে সামনে রেখে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় গোটা অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা কর্মী এবং অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতায় এবারের গান্ধী জয়ন্তীর এই বিশেষ আয়োজন সফলভাবে শেষ হয়।

Share This