Categories
গল্প

গল্পের নাম – তুমি ফিরে এসো না।

১.
দীপ্ত আর অনন্যার গল্প শুরু হয়েছিল এক বসন্ত সন্ধ্যায়। কলেজ ফেস্টিভ্যালে, এক ক্লান্ত বিকেলে দীপ্ত গিটার হাতে মঞ্চে গাইছিল —
“তুমি আসবে বলে, আজো আমি পথ চেয়ে থাকি…”
সেই সুর যেন অনন্যার হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল। গানের শেষে করতালির মাঝে, এক পলকের চাহনিতে তারা বুঝেছিল — এই গল্পের শুরুটা সুন্দর হবে।
দুই বছর ধরে তারা একই পথের যাত্রী ছিল। তারা হাঁটত শিয়ালদহ থেকে কলেজস্ট্রিট, ভাগ করত এক কাপ কড়া লেবু চা, আর ভিজত হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে।
২.
কিন্তু প্রতিটা প্রেমে যেমন এক রকম রঙিন অধ্যায় থাকে, তেমনই আসে ধূসর এক পর্ব। দীপ্ত পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। সে চাইছিল উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে। অনন্যা চাইছিল কিছুদিন পরে বিয়েটা হোক।
দুই জনের চাওয়া ভিন্ন হচ্ছিল, অথচ ভালোবাসাটা ছিল একদম খাঁটি। অনন্যা বলেছিল,
— “তুমি যাও, আমি অপেক্ষা করব।”
দীপ্ত বলেছিল,
— “আমি চাই না তুমি একা থাকো। আমি চিঠি লিখব, ফোন করব, কিন্তু জানি না সময় কেমন বদলাবে।”
৩.
বিদেশ থেকে দীপ্তের প্রথম কয়েকটা মেইল এসেছিল, কিছু চিঠিও। অনন্যা প্রতিদিন পোস্টবক্সের দিকে তাকিয়ে থাকত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ কমে এলো। ব্যস্ততা, পড়ালেখা, চাকরির চাপ — দীপ্ত আর নিয়মিত লিখত না। অনন্যা তবু প্রতিদিন ডায়েরিতে লিখে রাখত তার কথা, তার পুরোনো মেসেজ, মেইলের শেষ লাইনগুলো।
একদিন শেষ চিঠিটা এলো —
“আমার এক সহপাঠীর সঙ্গে বিয়ের কথা চলছে। আমি জানি তুমি কষ্ট পাবে, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে আজও ভালোবাসি। কিন্তু বাস্তব আর ভালোবাসা সবসময় মেলে না।”
৪.
অনন্যার সেই দিনের ডায়েরির পৃষ্ঠা ভিজে ছিল অশ্রুজলে। সে চিৎকার করে কাঁদতে চায়নি, শুধু চুপচাপ জানালার ধারে বসেছিল, মাথায় ঘুরছিল একটাই কথা —
“ভালোবাসলেও কেউ কাউকে এভাবে ছেড়ে যেতে পারে?”
এরপর কেটে গেছে তিন বছর। এখন অনন্যা শহরের এক স্কুলে বাংলা পড়ায়। সাদা শাড়ি, লাল পাড়, মাটি রঙের বালা, চোখে ঘুমহীনতা — সে আজও দীপ্তের চিঠিগুলো নিজের বুকের ড্রয়ারে রেখে দেয়।
সে বিয়ে করেনি। কেউ পছন্দ হলে বলে,
— “ভালোবাসা একবারই হয়। দ্বিতীয়বার হলে সেটা বোঝাপড়া হয়, প্রেম নয়।”
৫.
একদিন স্কুল শেষে রাস্তায় হঠাৎ এক গানের সুর ভেসে এলো —
“তুমি আসবে বলে, আজো আমি পথ চেয়ে থাকি…”
পেছন ফিরে অনন্যা দেখল — রাস্তার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দীপ্ত, চোখে পুরোনো দৃষ্টিটা, মুখে অপরাধবোধ।
সে বলল না “চলো”, বলল না “ফিরে এসো”, শুধু বলল —
“তুমি ভালো থেকো।
আমার হৃদয়ের এক কোণে তুমি থাকো, কিন্তু আমার জীবনে নয়।”
দীপ্ত চলে গেল।
আর অনন্যা জানে, এই বিরহও ভালোবাসারই আরেক রূপ। প্রতীক্ষা করা মানেই ফিরে পাওয়ার আশা নয়, বরং এক রকম সম্মান জানানো অতীতকে — যা ছিল, যা আর নেই।

📌 গল্পের বার্তা:

ভালোবাসা কখনো-কখনো পাওয়া নয়, হারিয়েও থাকে। কিন্তু সেটাই হয়তো মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সত্য — যে ভালোবাসা একসময় ছিল, আর তার স্মৃতি হয়ে থাকে চিরকাল।

Share This
Categories
গল্প

গল্পের নাম: বৃষ্টি ভেজা প্রতীক্ষা।

শহরের অলস সন্ধ্যায় ধীরে ধীরে নেমে এসেছিলো মেঘ। টিনের চালে টুপটাপ শব্দে বৃষ্টির সুর বাজছিলো। রিকশার চাকায় ছিটকে পড়া জলের ছোঁয়ায় শহর যেনো ভিজে উঠেছিলো স্মৃতির মতো।

রানু আজও অপেক্ষায় — ঠিক সেই টং দোকানের সামনে, যেখানে প্রথম দেখা হয়েছিলো তাদের। সাত বছর আগের এক বর্ষার রাতেও এমনই বৃষ্টি ছিলো। ছাতা ছিলো না কারোরই। ভিজতে ভিজতে, চায়ের কাপ হাতেই কথা শুরু হয়েছিলো তাদের।

তখন সোহম বলেছিলো,
“বৃষ্টি যদি থামে না, তবে মনে হয় আমাদের গল্পও থামবে না।”

সেই গল্প আর শেষ হয়নি ঠিকই, কিন্তু মাঝপথে একদিন সোহম হারিয়ে যায় — পড়াশোনার জন্য বিদেশ, তারপর চাকরি, তারপর যোগাযোগহীনতা।

কিন্তু রানু থেমে যায়নি অপেক্ষা করা থেকে। বৃষ্টি হলেই সে চলে আসে এখানে — যেদিন প্রথম ভালোবাসা স্পর্শ করেছিলো।

আজও ঠিক তেমনই বৃষ্টি। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, মাটির গন্ধে হৃদয় নরম হয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ পেছন থেকে এক চেনা কণ্ঠ —
“এক কাপ কম চিনি, তাই তো?”

রানু ধীরে ফিরে তাকায়। দাঁড়িয়ে সোহম, পুরো ভিজে, চোখে অনুশোচনা আর ভালোবাসার মিশেল।

রানুর চোখে জল, মুখে হাসি —
“তুমি আবার এসেছো?”

সোহম কাঁপা গলায় বলে,
“তুমি যে অপেক্ষা করছো এখনো… বৃষ্টির মতো ধুয়ে দিলো সব ভুল।”

আর শহরজুড়ে তখনো বৃষ্টি পড়ছে — কিন্তু ভেতরে, রানু আর সোহমের মনে তখন এক রকম শান্ত রোদ উঠে গেছে।

 

Share This
Categories
গল্প

স্মরণে ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনাট্যকার, চলচিত্র পরিচালক – সৈয়দ আখতার মির্জা।।।

সাইদ আখতার মির্জা (জন্ম 30 জুন 1943) একজন ভারতীয় চিত্রনাট্যকার এবং হিন্দি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের পরিচালক । তিনি মোহন জোশী হাজির হো- এর মতো উল্লেখযোগ্য সমান্তরাল চলচ্চিত্রের নির্মাতা ! (1984), আলবার্ট পিন্টো কো গুসা কিয়ুন আতা হ্যায় (1980), সেলিম ল্যাংদে পে মাত রো (1989) এবং নাসিম (1995), যেটি 1996 সালে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল।

সাইদ মির্জা আজীবন সম্মাননা পেয়েছিলেন। ICA-তে কৃতিত্ব পুরস্কার – 2020 সালে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আর্টিফ্যাক্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল।তিনি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল নুক্কাদ (রাস্তার কোণ) (1986) এবং ইন্তেজার (অপেক্ষা করুন) (1988) এর পরিচালক এবং সামাজিক কল্যাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপর বিভিন্ন তথ্যচিত্রের পরিচালক।
প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা——-
সাইদ 1943 সালে মুম্বাই , মহারাষ্ট্রে আখতার মির্জার কাছে জন্মগ্রহণ করেন , যিনি 1960 এর দশকে স্বয়ং বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার।
কিছুকাল বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর, মির্জা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই), পুনে, ভারতে যোগ দেন, যেখান থেকে তিনি 1976 সালে স্নাতক হন। পরবর্তীকালে, পরবর্তীতে তার কর্মজীবনে, তিনি ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতাও করেন, যা পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে। প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান।

ব্যক্তিগত জীবন—–

তার বাবা আখতার মির্জা ছিলেন একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র স্ক্রিপ্ট লেখক, যার কৃতিত্ব ছিল নয়া দৌর এবং ওয়াক্তের মতো । তার ভাই হলেন আজিজ মির্জা , 1989 সালের টেলিভিশন সিরিয়াল সার্কাস পরিচালনার পর শাহরুখ খানকে চালু করার জন্য দায়ী বলিউড পরিচালক ।
তিনি তার স্ত্রী জেনিফারের সাথে মুম্বাই এবং গোয়াতে থাকেন। তার ছেলে সফদার ও জহির যথাক্রমে নিউইয়র্ক ও দুবাইতে থাকেন।

কর্মজীবন—–

সাঈদ আখতার মির্জা 1976 সালে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকার হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন, প্রশংসিত অরবিন্দ দেশাই কি আজীব দাস্তান (1978) এর সাথে চলচ্চিত্রে স্নাতক হন, সামন্ততান্ত্রিক অর্থ সংস্কৃতির ফাঁদে আটকে পড়া আদর্শবাদী যুবকের হতাশা সম্পর্কে। এটি বছরের সেরা চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার জিতেছে । বহু কাজ তিনি করেছেন। সাঈদ আখতার মির্জা এশিয়ান একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ক্লাবের আজীবন সদস্য ।

ফিল্মগ্রাফি——-

বস্তি উচ্ছেদ (1976), হত্যা (1976), ঘাশিরাম কোতোয়াল (1976), একজন অভিনেতা প্রস্তুত (1976), শহুরে হাউজিং (1977), অরবিন্দ দেশাই কি আজিব দাস্তান (1978), আলবার্ট পিন্টো কো গুসা কিয়ুন আতা হ্যায় (1980), পিপারসোদ (1982), মোহন জোশী হাজির হো! (1984), জবলপুরের রিকশা চালক (1984), নুক্কাদ (1986) টিভি সিরিজ, কেউ কি শুনছেন? (1987), আমরা কাবু করব (1988), ইন্তেজার (1988) টিভি সিরিজ, সেলিম ল্যাংদে পে মাত রো (1989), অজন্তা এবং ইলোরা (1992), নাসিম (1995), এক থো চান্স (2009)।

লেখক——

অরবিন্দ দেশাই কি আজিব দাস্তান (1978) (গল্প), আলবার্ট পিন্টো কো গুসা কিয়ুন আতা হ্যায় (1980), মোহন জোশী হাজির হো! (1984) (চিত্রনাট্য এবং গল্প), সেলিম ল্যাংদে পে মাত রো (1989) (চিত্রনাট্য ও গল্প), নাসিম (1995), চু লেঙ্গে আকাশ (2001), কর্ম ক্যাফে (সংক্ষিপ্ত) (2018)।

পুরস্কার——-

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য 1979 ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার : অরবিন্দ দেশাই কি আজীব দাস্তান (1978), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য 1981 ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার : আলবার্ট পিন্টো কো গুসা কিয়ুন আতা হ্যায় (1980) , 1984 পরিবার কল্যাণের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : মোহন জোশী হাজির হো! (1984), 1990 হিন্দিতে শ্রেষ্ঠ ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : সেলিম ল্যাংদে পে মাত রো (1989), 1996 শ্রেষ্ঠ পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : নাসিম, 1996 শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র, পুরস্কার : নাসিম (1995)।

উপন্যাস——–

আম্মি: একটি গণতান্ত্রিক মায়ের চিঠি (2008), দ্য মঙ্ক, দ্য মুর এবং মোসেস বেন জালোন (2012)।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শতাব্দী প্রাচীন বিনশিরার রথ স্থাপনের ইতিহাস।।।।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের তিওর বিনশিরা রথের মেলা উত্তরবংগের অন্যতম প্রাচীন মেলা।প্রায় ২০০ বছর আগে এই রথ যাত্রার সুচনা করেন বিনশিরার জমিদার সর্বেশ্বর লাহা। যদিও আজ কালের নিয়মে জমিদার প্রথা ঘুচে যাওয়ায় বর্তমানে বাৎসরিক রথ যাত্রা পালিত হয় পরিবারের একেক বছর একেক শরিকি মালিকানায়।

যদিও পুর্বে এই জগঅন্নাথ দেবের নামে নিজস্ব জমি ছিল প্রায় ২৫০ বিঘা। পরে সরকার বেশির ভাগ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলেও বর্তমানে ৬৭ বিঘা জমি এই দেবত্তর জগন্নাথের নামে রয়েছে। সেই জমি থেকে উপার্জিত টাকা দিয়েই সারা বছর দু বেলা নিত্য পুজো ভোগ আরতি চলে বিনশিরার এই প্রাচীন জগন্নাথ সুভদ্রা আর বলরাম দেবের মন্দিরে।
প্রত্যেক বছর রথযাত্রার দিনে প্রাচীন রীতি মেনে বিনশিরা জমিদার বাড়িতে পুজো হয় জগন্নাথ সুভদ্রা বলরামের। মন্দির প্রাঙ্গণে হরিনাম সংকীর্তনের বসে আসর। রথযাত্রা ঘিরে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। নামে ভক্তের ঢল। শুধু জেলা থেকেই নয় জেলার পার্শ্ববর্তী জেলা মালদা, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি থেকেও ভক্তরা ছুটে আসেন এই মেলায় এসে জগন্নাথ সুভদ্রা আর বলরামদেবের দর্শন পেতে।পা ছুয়ে প্রনাম করতে।বিকেলে রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ সুভদ্রা বলরামকে মাসীর বাড়িতে নিয়ে যান ভক্তরা। এই রীতি যুগ যুগ ধরে আজও চলে আসছে।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শতাব্দী প্রাচীন বিনশিরার রথ স্থাপনের ইতিহাস। জমিদার সর্বেশ্বর লাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র অসুস্থ হওয়ায় তিনি জগন্নাথ দেবের কাছে পুত্রের আরোগ্য কামনা করে মানত করেছিলেন। মনস্কামনা পূরণ হওয়ার পরে ওড়িশার পুরী থেকে একটি নিম গাছ কেটে পাণ্ডাদের দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরামের মূর্তি তৈরি করে বিনশিরায় নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরামের মূর্তি স্থাপন করে রীতি মেনে পুজা শুরু করেন।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

নদীয়ার কৃষ্ণচন্দ্র রাজা নির্মিত যুগল কিশোর মন্দিরের অজানা কাহিনী।।।

যুগল কিশোর মন্দিরটি নদীয়ার কৃষ্ণচন্দ্র রাজা, নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরের পিছনে রয়েছে অজানা কাহিনী বর্তমান এই মন্দিরের দায়িত্বের যিনি রয়েছেন তিনি জানান মহর্ষি গঙ্গারাম দাস বৃন্দাবন থেকে গোবিন্দ কে এখানে নিয়ে এসেছিলেন, তখন সেখানে ছিল বকুল গাছ এই বকুল গাছের নিচেই তিনি বসবাস করতে থাকেন।

এরপর বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা হন একা থাকতে তার আর ভালো লাগছে না, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে রাধারানী রয়েছে সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেওয়ালের ফাঁকে লুকানো ছিল রাধারানী।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র নদীপথে মন্দিরে এসে কোন এক বৈশাখী সংক্রান্তির দিনে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার থেকেই এই মন্দিরের নাম হয় যুগল কিশোর মন্দির। তারপরের দিনই ছিল পয়লা জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ জামাইষষ্ঠী সেই দিনটিকে স্মরণ রাখার জন্য আজও এই মেলা হয়ে আসছে, কেউ কেউ আবার বলে থাকেন জামাইষষ্ঠীর মেলা। প্রাচীন এই লোকো কথাকে মান্যতা দিয়ে জামাইষষ্ঠীর দিনে ভিড় জমান শাশুড়ি থেকে শুরু করে জামাই মেয়ে সকলেই। নাই নাই করে এই মেলার বয়স ৩০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। প্রাচীন এই লোক কথার উপরে ভিড় করে বহুদূরান্ত থেকে যুগল মন্দিরে পুজো দিতে আসেন সকলেই।

আড়ংঘাটা স্টেশন থেকে হাঁটা পথে চূর্ণী নদীর ধারে এই যুগল মন্দির অবস্থিত। প্রাচীন সেই বকুল গাছ আজও বর্তমান। জামাই মেয়ের মঙ্গল কামনায় শাশুড়িরা প্রথমে যুগল কিশোরকে বরণ করবার পর মেয়ে জামাই বরণ করা হয় এমনটাই রেওয়াজ এখানকার মানুষদের। নতুন হোক বা পুরনো ধর্মের টানে ভিড় করেন সকলেই। জ্যৈষ্ঠ মাস এক মাস ব্যাপী চলে এই মেলা। প্রাচীন এই মেলা জৌলুস হারালেও সাড়ম্বরে পালিত হয় এই মেলা।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় একদল নারী শক্তি।।।।

হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় একদল নারী শক্তি। প্রকৃতপক্ষে লোক সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা, এর মর্ম মূলেই আবহমান বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য- সভ্যতার প্রকৃত পরিচয়। কানু ছাড়া যেমন গীত নেই তেমনি লোকসংস্কৃতির অস্তিত্ব ভিন্ন বাঙালির জীবন- সমাজ ঐতিহ্য- ইতিহাসের মর্মদ্ধার অসাধ্য ও অর্থহীন। বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ হল যাত্রাপালা। আমরা সকলেই অবগত আছি একটা সময় ছিল যখন গ্রামের দুর্গাপুজো, কালীপুজো, গাজন উপলক্ষে গ্রামের শিল্পীদের নিয়ে যাত্রা পালা অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে সেই চিত্র আর দেখা যায়না বলাই চলে, লুপ্ত হতে বসেছে যাত্রা শিল্প।

তবে এখনো অনেকেই আছেন তারা যাত্রা প্রেমী মানুষজন, আর তাঁদের কথা মাথায় রেখেই লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ যাত্রাশিল্পকে আঁকড়ে ধরে লুপ্ত হতে না দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের পুনশুর গ্রামের বিনোদিনী নাট্য সংস্থা।

গ্রামের ১৮ জন মহিলা দারা যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিনোদিনী নাট্য সংস্থা। রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে নিত্যদিন চলছে যাত্রার মহড়া। পুজো উপলক্ষে বিনোদিনী নাট্য সংস্থার দুটি নিবেদন, একটি হল নটী বিনোদিনী অপরটি সোনাই দীঘি। দুটি যাত্রাপালা তেই অভিনয় করছে গ্রামের ১৮ জন মহিলা। শিশু থেকে গৃহবধূ সকলেই অভিনয় করছে যাত্রা পালাতে। শুধু তাই নয়, অভিনয়ে আছে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। পুরুষদের চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে পুনশুর গ্রামের ১৮ জন মহিলা। নিজেদের গ্রাম ছেড়ে দূর-দুরান্তে গিয়ে যাত্রাপালা করে তাদের প্রতিভা সকলের সামনে মেলেও ধরেছে তারা। “আমি ভাবি একা, দাও হে দেখা, প্রানো সখা রাখো পায়ে” নটী বিনোদিনীর সেই অসাধারণ গান নিজের কন্ঠ স্বরের মাধ্যমে মহড়া মাতাচ্ছে কলেজ পড়ুয়া মহিলা।

নটী বিনোদিনী নাট্য সংস্থার এক মহিলা শিল্পী মৈত্রী ঘোষাল বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে। আমার বাবা ঠাকুরদাও খুব ভালো অভিনয় করত, আমি তাদের থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। মানুষের মনের অভিব্যক্তি সমস্ত আর্টেই প্রকাশ করা যায়, কিন্তু অভিনয় এমন একটা মাধ্যম যেখানে অতি সহজেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করা সম্ভব। অভিনয়ের মাধ্যমে অচিরেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। অভিনয় করতে গিয়ে আমাকে পাড়া প্রতিবেশিদের কাছে কিছু কেমন কথা ও শুনতে হয়েছে, কিন্তু সেই সব কথা কর্ণপাত না করেই যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

নিজেদের গ্রামের মহিলা, নিজেদের সুর পার্টি, নিজেদের লাইট দ্বারা পরিচালিত নটী বিনোদিনী নাট্য সংস্থা। ইতিমধ্যেই শক্তিগড়, দুর্গাপুর,কোতুলপুর ইন্দাস, গুইর,সরঙ্গার যাত্রাপালা পরিবেশন করেছে আঠারো জন নারী শক্তি। পড়াশোনার ফাঁকে হারিয়ে যেতে বসে যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে মহুয়া ঘোষাল, মৈত্রী ঘোষাল, তিতলি চট্টোপাধ্যায়, স্নেহা ব্যানার্জি, প্রিয়া দাস,মধুমিতা দাস সহ বাকি সকলে।

সর্বযুগে তথা সর্বকালে এবং  পৌরাণিক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার হিসাবে মানুষের মনে  নারীশক্তি একটি স্থায়ী  স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে ।রূপ ,গুণ , কর্মদক্ষতা ও সহনশীলতায় সবেতেই অদ্বিতীয়া নারী  হল সকল শক্তির আধার ; মানবজাতির স্রষ্টা। কথায় আছে, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। ঘরে -বাইরে সব জায়গায় একাহাতেই নারী  সুষ্ঠুভাবে সামলাতে পারে কারও সাহায্য না নিয়েই। আধুনিক সমাজে নারী আজ আর পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, কর্তৃত্বে ,গুণে, মানে সব ক্ষেত্রেই পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে মহুয়া, মৈত্রী, স্নেহারা যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পুরুষদের চরিত্রে ধারালো অভিনয় করে আজ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারাও কোনো অংশে কম নয়।

।।কলমে : রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী,  পূর্ব বর্ধমান।।

Share This
Categories
গল্প নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজোর ইতিহাস।।।।

দেবী নন্দিনী পূজোর কথা শুনেছেন! স্নান সেরে বসুন্ধরার মাটির ঢেলা মাথায় করে বয়ে নিয়ে এসে পুজো দেন ভক্তরা, বর্তমানে মাটির পাহাড় তৈরি হয়েছে সেখানে, অন্যদিকে মাটি নিতে নিতে একসময়ের ছাড়া গঙ্গা পুনরায় জলপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সগুনা এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বৈশাখী পূর্ণিমায় এলাকার মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি সন্তানহীনতা এবং ব্যথা সংক্রান্ত নানান রোগ ভালো হয়েছে এখানে পুজো দিয়ে।

সন্তানাদির জন্ম এবং তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়েরা এখানকার মাটি মেখে থাকেন।

এলাকার প্রবীনরা জানালেন, চাষ করতে আসা ট্রলার ট্রাক্টর জমিতে পুঁতে গেলে তা উদ্ধার হয় পুজোদিলে। আর এই সকল কারণে শুধুমাত্র এই গ্রাম নয় আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পর্যন্ত আজকের দিনে নন্দিনী দেবীর পুজোতে মাটি দিতে উপস্থিত হন ভক্তরা। শুধু হিন্দু ধর্মেই নয় পার্শ্ববর্তী মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকেই মানত করতে মাটি দিয়ে থাকেন।
তবে এলাকার প্রবীণরা আজও উদ্ধার করতে পারেননি প্রতিবছর এই দিনে প্রথম কে মাটি দেয়, যত ভোরেই পৌঁছাক না কেনো, যে প্রথম পৌঁছায় তিনিও গিয়ে দেখেন তার আগে কেউ একজন মাটি দিয়ে রেখেছে।
একসময় পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা এখন পলি পড়েছে তবে সে সময় জল থাকতো, সেখান থেকে স্নান করে এবং চাষের জমি থেকে মাটি মাথায় নিয়ে, পাহাড়সম চুড়ায় নিম গাছের গোড়ায় পুজো দিয়ে থাকেন পূর্ণর্থীরা। তবে কোন মূর্তি নয়, জাগ্রত সুউচ্চ ঢিলা ভূমি এবং গাছের গোড়াই এখানে দেবতা।

মনস্কামনা পূর্ণ হওয়া ভক্তবৃন্দরা খিচুড়ি এবং বিভিন্ন তরকারি ভোগের প্রসাদ হিসেবে আগত হাজার হাজার ভক্ত বৃন্দকে বিতরণ করেন বিভিন্নজন। এই উপলক্ষে প্রত্যেক বাড়িতে আজ রান্না বন্ধ। মহিলারা সকলে এসে হাতে হাত লাগিয়ে রান্নার কাজ করে থাকেন। বর্তমানে এই পুজো ঐতিহ্য এবং পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রত্যেকের মুখেই বিষাদের সুর। হাজার হাজার পুর্নার্থীদের স্নান করার জলের অভাব, মহিলাদের শৌচাগার এবং স্নানের পর ভিজে কাপড় জামা পরিবর্তনের ঘর, বিপদজনক উচ্চতায় উঠতে সিঁড়ি, উচ্চ বাতিস্তম্ভ , পানীয় জলের কল এ সবই প্রয়োজন। পঞ্চায়েত সদস্য হোক বা সমিতি কিংবা জেলা পরিষদ কেউ কখনোই খোঁজ নিয়ে , তৎপর হননি। তবে সামনে গতবার বিধায়ক ড : ব্রজকিশোর গোস্বামী এসে কথা দিয়েছিলেন সিঁড়ি করার, এ বছরের নির্বাচন পড়ার কারণে তা এখনো শুরু হয়নি তবে আগামীতে তা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাকি কাজগুলির জন্য অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতীক্ষায় এলাকাবাসী।

উদ্যোক্তারা জানালেন পুজো আজ হলেও পাঁচ দিন যাবত চলে মেলা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নানান অলৌকিক কথা শোনা গেল এই পুজো সম্পর্কে, ভক্তরা জানালেন উঁচু ওই মাটির ঢিবিতে কখনো বাজি পটকা ফাটেনা নিম গাছগুলিতে মাইক লাগালে তা কিছুক্ষণ পরে বন্ধ হয়ে যায়, চাষের জমিতে ট্রাক্টর কিংবা অন্যান্য গাড়ি ফেসে গেলে পুজো না দেওয়া পর্যন্ত কারোর সাধ্য নেই সেই গাড়ি তোলে. তবে এসব ই ভক্তবৃন্দদের বিশ্বাস।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও বৈশাখী পূর্ণিমার মাহাত্ম্য : স্বামী আত্মভোলানন্দ (পরিব্রাজক)।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়….!

আমাদের এই মূল্যবান সুন্দর মনুষ্য জীবনে সত্য সনাতন হিন্দুধর্মে প্রকৃতির নিয়মে ১২ মাসে ১২টি পূর্ণিমা পালিত হয়। প্রতিটি পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, যেমন বৈশাখী পূর্ণিমা তথা বুদ্ধ পূর্ণিমা দিনটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। কারণ এ তিথি ঘিরে রয়েছে তথাগত বুদ্ধের তিনটি স্মরণীয় ঘটনা। ত্রি-স্মৃতিবিজড়িত এ তিথির তাৎপর্য অত্যন্ত বিশাল। বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ – এই তিনটি ঘটনা বৈশাখী পূর্ণিমার সাথে বিশেষভাবে জড়িত। পুরাণ অনুযায়ী বৈশাখী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। আবার এই তিথিতেই বুদ্ধত্ব জ্ঞান লাভ করেন তিনি। গৃহত্যাগের পর রাজকুমার সিদ্ধার্থ সত্যের সন্ধানে সাত বছর পর্যন্ত বনে ঘুরতে থাকেন। কঠোর তপস্যা করেন, অবশেষে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে বোধগয়ায় বোধি বৃক্ষের নীচে বুদ্ধত্ব জ্ঞান লাভ করেন। জ্ঞান লাভের পর বুদ্ধ পায়েস খেয়ে নিজের ব্রতভঙ্গ করেন। তাই বুদ্ধ পূর্ণিমায় পায়েস রান্না করা হয়। বুদ্ধদেবকে পায়েসের প্রসাদ নিবেদন করা হয়। শুধু তাই নয়, বৈশাখ পূর্ণিমায় কুশীনগরে বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ হয়।

বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। গৌতম বুদ্ধের অমৃত বাণীগুলি মূলত অহিংসা, দয়া, জ্ঞান এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও সত্যের উপর জোর দেয়, বুদ্ধের বাণীগুলি মানুষকে দুঃখের কারণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। তাঁর মূলনীতি হলো অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে সবাইকে আবদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই পবিত্র তিথিতে বুদ্ধদেব জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এদিন যে কোনও নতুন শুরু অত্যন্ত শুভ। এই পবিত্র দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। ভক্তগণ প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া বুদ্ধগণ এই দিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করে থাকেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দুদের কাছেও এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিন্দু ধর্ম অনুসারে শ্রী বিষ্ণুর নবম অবতার হিসেবে গণ্য করা হয় গৌতম বুদ্ধকে। স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ ও বললেন বুদ্ধের পর হইতে সঙ্ঘ কি বস্তু তাহা মানুষ ভুলিয়া গিয়াছে। আমার সঙ্ঘ হইবে দ্বিতীয় বুদ্ধের সঙ্ঘ, আমি সমগ্র দেশ ও জাতিকে বুদ্ধ, শঙ্কর, চৈতন্যের মত নতুন আদর্শ ও তপঃশক্তিতে সঞ্জীবিত করিতে চাই। একদিন লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তৃষিত ও যাপিত নরনারী যেমন বৌদ্ধ সঙ্ঘের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া শান্তি ও নির্বাণের অধিকারী হইয়াছিল; তেমনি এমন একদিন আসিবে যখন ভারতের তথা জগতের কোটি কোটি নরনারী এই মহাসঙ্ঘের
শরণাগত ও শরণাপন্ন হইয়া শান্তি ও মুক্তি লাভে ধন্য হইবে।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করে বাড়িতে সত্যনারায়ণ পুজো করা উচিত। সন্ধ্যাবেলা চন্দ্রোদয়ের পর চাঁদকে দুধের অর্ঘ্য দিন। মনে করা হয় পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্রকে অর্ঘ্য দিলে মানসিক শান্তি লাভ করা যায়। তাঁর মূলনীতি হলো অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে সবাইকে আবদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তাই, আমাদের পৃথিবী সুন্দর হোক, মানুষের রাষ্ট্র মানবিক হোক, আমাদের রাষ্ট্র শুভ ও মঙ্গলময় হোক। সবার কল্যাণে নিয়োজিত হোক, ভগবান বুদ্ধের কাছে, জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের কাছে এই প্রার্থনা করি…! আগামী ইং – 12/05/2025 ( বাং – ২৪ শে বৈশাখ) সোমবার বুদ্ধপূর্ণিমা/বৈশাখী পূর্ণিমা। ২০২৫ সালে, বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা ১১ মে, রবিবার সন্ধ্যা ৭:১৭ মিনিট থেকে ১২ মে, সোমবার সন্ধ্যা ৯.১৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। সবাইকে বৈশাখী পূর্ণিমা/বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।
ওঁ বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি।
ওঁ সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি।
ওঁ ধর্মং শরণং গচ্ছামি।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক* l

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী উৎসব : গাজনের মুখোশ ও মেলার আড্ডা।।।

বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপের কেন্দ্রস্থলে, গাজন উত্সব ঐতিহ্য এবং ভক্তির গভীরে নিহিত একটি প্রাণবন্ত উদযাপন হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই বছর, উত্সবটি 13 এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির সাথে শীর্ষে পৌঁছেছে, এটি একটি ইভেন্টকে চিহ্নিত করে যা বাংলার গ্রামীণ প্রাণবন্ততাকে প্রাণবন্ত করে।

ভগবান শিব এবং দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে থিমযুক্ত, গাজন উৎসব বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাস জুড়ে বিস্তৃত, বিশ্বাস, উত্সব এবং সম্প্রদায়ের চেতনার সংমিশ্রণ প্রদর্শন করে।
উৎসবের অনন্য আকর্ষণ বিভিন্ন নামে বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে মানিয়ে নেওয়ার এবং অনুরণিত করার ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মালদায়, এটি গম্ভীরা নামে পরিচিত, যখন জলপাইগুড়িতে, এটি গোমিরা নামে পরিচিত। যাইহোক, গাজনের সারমর্ম তার নামগুলিকে অতিক্রম করে, বিস্তৃত আচার-অনুষ্ঠান, পরিবেশনা এবং পুনর্নবীকরণের সম্মিলিত অনুভূতির সাথে বাংলা বছরের শেষ উদযাপন করে।
মজার বিষয় হল, চৈত্র মাসের গাজন উত্সব বিশেষভাবে ভগবান শিবকে সম্মান করে, যা চরক পূজায় পরিণত হয়। এটি চৈত্রের শেষ সপ্তাহে বিস্তৃত, প্রতিফলন, তপস্যা এবং দেবতার প্রতি শ্রদ্ধার একটি সময়কে মূর্ত করে। উৎসবগুলি, ‘হুজুগে গাজন’-এর মতো বিভিন্ন নামে পরিচিত, বিশেষ করে যখন চৈত্র মাসের বাইরে শিবকে উৎসর্গ করা হয়, বাংলার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক চিত্রকে তুলে ধরে।
মোটামুটি তিন দিনব্যাপী, উৎসবটি তিনটি স্বতন্ত্র আচার-অনুষ্ঠানে বিভক্ত: ঘট সন্ন্যাস, নীল পূজা এবং চরক। ভক্তরা উপবাসে লিপ্ত হয়, শিবের উপাসনার জন্য ফুল সংগ্রহ করে এবং সঙ্গীত ও নৃত্যের সাথে মিছিলে প্রতীকী শিব লিঙ্গ বহন করে, ভক্তি প্রকাশ করতে এবং আশীর্বাদ চাইতে প্রায়ই শারীরিক কষ্ট সহ্য করে।
গাজন উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় উপলক্ষ নয় বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে মুখোশ নৃত্য, পৌরাণিক কাহিনীর নাটকীয় পুনর্বিন্যাস এবং শিব ও গৌরীর মতো দেবদেবীদের প্রাণবন্ত চিত্রায়ন রয়েছে। এটি এমন একটি সময় যখন লোককাহিনী, ঐতিহ্যবাহী গান এবং নৃত্য সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করে, এমন একটি ঐতিহ্য উদযাপন করে যা বাংলার ভূ-প্রকৃতিতে উন্নতি লাভ করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

জানুন এপ্রিল ফুল দিবস কি, কেন পালিত হয়।।।।

এপ্রিল ফুল দিনটি আমাদের সকলের কছে এক অতি পরিচিত দিন। আমরা মজার ছলে এই দিনটিতে চেনা জানা আমাদের পরিচিত দের মজা করে বোকা বানিয়ে থাকি।

এপ্রিল ফুল দিবস প্রতিবছর এপ্রিল মাসের প্রথম দিন পালিত হওয়া একটি দিবস। মাঝে মাঝে একে সকলকে বোকা বানানোর দিন বলে উদ্‌যাপন করা হয়। মাসের প্রথম দিনটিতে সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুল’।

অনেক বছর ধরেই এটি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে এটি শুরু হয়েছিল, সেটি অনেকেরই জানা নেই। এই দিন প্রতিবেশীদের উপর কৌতুক করার জন্য একটি দিন হিসাবে সর্বত্র স্বীকৃত। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে’র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো। ফ্রান্সে পয়সন দ্য আভ্রিল পালিত হয় এবং এর সাথে সম্পর্ক আছে মাছের। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা যায়। সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে পয়সন দ্য এভ্রিল অর্থাৎ এপ্রিলের মাছ। সে দিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে তখন বলে ওঠে পয়সন দ্য আভ্রিল বলে চিৎকার করে। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস(১৩৯২) বইয়ের নানস প্রিস্টস টেইল এ এই দিনের কথা খুজে পাওয়া যায়।
যুক্তরাজ্যে এপ্রিল ফুলের দিন প্রাপককে অর্থাৎ যিনি এপ্রিলের বোকা হন তাকে “এপ্রিল ফুল!” বলে হাসি তামাশা ও চিৎকার করে প্রকাশ করা হয়।
তাই বছরের পর বছর ধরে ১ এপ্রিল বন্ধু-বান্ধব, ভাইবোন এবং সহকর্মীরা আমাদের বোকা বানায়। জীবনে কমপক্ষে একবার বোধ হয় আমরা সকলেই ‘এপ্রিল ফুল’ (April Fool) হয়েছি। এদিন যে কোনও বয়সের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে একে অপরকে বোকা বানানোর খেলায় অংশ নেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বোকা হওয়ার পরেও কেউ রাগ করেন না, বরং নিজেই সেই খেলায় জড়িয়ে পড়েন।
তবে এই ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ -র পিছনের রয়েছে ইতিহাস। জানেন কীভাবে এটি শুরু হয়েছিল?
এই দিনটি চালু হওয়ার পিছনে এক এক রকম সংস্কৃতির সঙ্গে যোগ রয়েছে এই কাহিনির। দেখে নেওয়া যাক, সেগুলি কী কী।
কথিত আছে যে ১৩৮১ সাল থেকে এই দিনটি উদযাপন শুরু হয়। আসলে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় রিচার্ড এবং বোহেমিয়ার রানী অ্যান বাগদানের ঘোষণা করেন। বাগদানের তারিখ রাখা হয়েছিল ৩২ মার্চ। মানুষ উদযাপন শুরু করেন। পরে, তারা বুঝতে পারেন যে, ক্যালেন্ডারে ৩২ মার্চ কোনও তারিখ নেই। তখন তারা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তারা বোকা হয়েছেন। এরপর থেকে এপ্রিল ফুলস ডে উদযাপন শুরু হয়।
রোমান তত্ত্ব: রোমান দেবতা প্লুটো যখন তার স্ত্রী পারসিফনকে অপহরণ করে আনেন, তখন পারসিফনের মা সেরিস মেয়েকে খোঁজার অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু পান না। মেয়ে তখন মাটির নীচে। কিন্তু তাঁর মা ‘বোকার মতো’ মাটির উপরে খুঁজতে থাকেন। সেই ‘বোকামি’র কথা ভেবেই নাকি রোমানরা এই দিনটিতে বোকামি দিবস পালন করত।
ক্যালেন্ডার বদল: এই দিনটি ঘিরে আরও একটি বিশ্বাসও রয়েছে যে, আগে ফ্রান্সে এপ্রিলেই নববর্ষ উদযাপিত হত। ১৫৮২ সালে চার্লস পোপ গ্রেগরি দ্বাদশ ফ্রান্সে পুরনো ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করে, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন। তা সত্ত্বেও অনেকে পুরনো ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে থাকেন। এরপর থেকে ১ জানুয়ারিতে নতুন বছরের সূচনার দিন হিসাবে পালন হওয়া শুরু হয়। তবে, অনেকে এটি মানতে অস্বীকার করেন এবং এপ্রিল মাসেই বর্ষারম্ভের দিন পালন করতে থাকেন। যারা নতুন ক্যালেন্ডারকে সমর্থন করেছেন তারা এপ্রিলে নতুন বছর সমর্থনকারীদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা শুরু করেছিলেন। এই ব্যক্তিদের ‘এপ্রিল ফুল’ বলা শুরু হয় এবং এজন্য এপ্রিলের প্রথম দিনেই ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসাবে প্রচলিত হয়। নতুন ক্যালেন্ডারের পক্ষ যাঁরা, তাঁদের ডাকা হত এপ্রিল ফিশ বলে। সেই থেকেই এপ্রিল ফুলের গল্প শুরু হয়। ‘এপ্রিল ফুল’-এর ইতিহাস নিয়েই এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রচলিত গল্প।
ব্রিটিশ কাহিনি: ব্রিটিশ লোককথা বলে, নটিংহ্যামশায়ারের ‘গথাম’ শহর নাকি ছিল বোকাদের শহর। ত্রয়োদশ শতকের নিয়ম ছিল, সে দেশের রাজা যেখানে যেখানে পা রাখবেন, তা হয়ে যাবে রাষ্ট্রের সম্পত্তি। যখন গথামবাসীরা শুনলেন, রাজা আসছেন, তাঁরা নাকি বললেন, ঢুকতে দেবেন না। রাজা সৈন্য পাঠালেন। সৈন্য এসে দেখল সারা শহরে ভয়াবহ কাণ্ড! সবাই বোকার মতো কাজ করছে। তারা ফিরে গিয়ে রিপোর্ট দিল। রাজা বললেন, এমন বোকাদের শাস্তি দেয়া যায় না। তাই তিনি মাফ করে দিলেন। গথাম স্বাধীন থাকল। সেই থেকে দিনটি ‘বোকা দিবস’।
নেদারল্যান্ডসের কাহিনি: ১৫৭২ সালের ১ এপ্রিল। এদিন নেদারল্যান্ডসের ডেন ব্রিয়েল শহরটি স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়। এই দিন বিদ্রোহীরা স্পেনের শাসকদের বোকা বানিয়ে ছাড়ে। তার পর থেকেই নাকি এপ্রিল ফুল পালন করা হয়।
জার্মান লোককথা: ১৫৩০ সালের ১ এপ্রিল, জার্মানির অগসবারগ শহরে একটি আলোচনাসভা বসার কথা ছিল। আলোচনার ফলের কথা ভেবে অনেকে বিপুল টাকা বাজি ধরেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সভা বসেই না। বহু মানুষের টাকা গচ্চা যায়। এই বোকামি থেকেই এপ্রিল ফুলের শুরু।
ব্রিটিশরা ভারতে ১৯ শতকে এই দিনটি উদযাপন শুরু করে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব যতই যতই বাড়ছে ততই, এই সম্পর্কিত মিম মারাত্মকভাবে ভাইরাল হচ্ছে। তবে মজা করার সময় মাথায় রাখা জরুরি, আপনার কোনও কথা যেন অপর মানুষটিকে কষ্ট না দেয়। আমাদের এই মজা যেন অন্যকে কষ্ট না দেয়ে সে বিষয়েও সচতং থাকতে হবে। আননদ টুকু যেন এই মজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবেই দিনটি প্রকৃত সার্থক ভাবে রূপায়িত হবে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This