Categories
বিবিধ

স্যালাইন বোতল দেখে চমক পরিবারের, মার্চেই মেয়াদ শেষ—অভিযোগ ঘিরে তদন্ত শুরু হাসপাতালে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আবারও স্যালাইন কান্ড পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এবারে এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ এক রোগিণীর পরিবারের। মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লীর বাসিন্দা মানসী দে গত ৫ জুলাই স্ট্রোক সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার ছেলে বিশ্বজিৎ বলেন, মা এর স্ট্রোক ছাড়াও একাধিক সমস্যা রয়েছে। বুধবার সকাল থেকেও চলছিল স্যালাইন। হঠাৎ বিকেলে বলে বুক জ্বালা করছে। তখন স্যালাইন বোতলের দিকে তাকাতেই দেখি চলতি বছরের মার্চ মাসে এক্সপায়ার হয়ে গিয়েছে। সেই স্যালাইন কীভাবে দেওয়া হলো তা জানতে চেয়েছি। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই ওই বৃদ্ধাকে পাঠানো হলো আইসিইউ তে। সন্ধ্যায় সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। টিম পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এমএসভিপি ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ভুল ঠিক প্রশ্ন নয়, রোগিনী স্টেবিল আছে। স্ট্রিক অবজার্ভেশন রয়েছে। হাসপাতালে মেডিসিন গুলো স্টক থাকে, কোন ভাবে হয়তো একটা দেওয়ার সাথে সাথেই চিহ্নিত হয়েছে। দেওয়া ঠিক নয়, চালানোর সঙ্গে সঙ্গে। ওনাকে গতকালই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে পাঠানোর কথা ছিল কিন্তু রোগীর বাড়ির লোকেরা করেনি।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

মাদাম ভিকাজি কামা: ভারতের স্বাধীনতার জন্য বিদেশের মাটিতে সংগ্রাম করা এক সাহসী নারী।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা দেশের বাইরে থেকেও ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিরলস সংগ্রাম করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাদাম ভিকাজি রুস্তম কামা। তিনি ছিলেন একজন মহান দেশপ্রেমিক, সমাজসেবী, নারী অধিকার কর্মী এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক মুখ।

মাদাম কামা প্রথম দিকের সেইসব ভারতীয়দের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা বিশ্বের দরবারে ভারতের স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেছিলেন। তিনি ভারতীয় পতাকার একটি প্রাথমিক রূপ বিদেশের মাটিতে উড়িয়ে ভারতের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।

## জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

ভিকাজি কামার জন্ম ১৮৬১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বোম্বে শহরে (বর্তমান মুম্বাই)।

তাঁর পিতা ছিলেন সোরাবজি ফ্রামজি প্যাটেল, যিনি একজন ধনী ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী ছিলেন।

তাঁর মাতা ছিলেন জয়বাই প্যাটেল।

একটি শিক্ষিত ও সমাজসেবামূলক পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই ভিকাজির মধ্যে মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়।

## শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিত্ব গঠন

ভিকাজি কামা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বাধীনচেতা ছিলেন।

তিনি বোম্বের একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন।

তাঁর মধ্যে ছোট থেকেই দেশপ্রেম এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।

তৎকালীন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় ও বৈষম্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

## বিবাহ ও সমাজসেবা

১৮৮৫ সালে তাঁর বিবাহ হয় রুস্তম কামার সঙ্গে।

তাঁর স্বামী ছিলেন একজন আইনজীবী এবং ব্রিটিশ সরকারের সমর্থক।

রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

ভিকাজি কামা নিজের জীবনকে সমাজসেবা ও দেশের কাজে উৎসর্গ করেন।

## প্লেগ মহামারিতে সেবা

১৮৯৬ সালে বোম্বেতে প্লেগ মহামারি দেখা দিলে ভিকাজি কামা অসুস্থ মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন।

তিনি আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

এই সময় তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউরোপে যেতে হয়।

## ইউরোপে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

ইউরোপে গিয়েও তিনি ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে দূরে থাকেননি।

লন্ডন, প্যারিস এবং অন্যান্য শহরে তিনি ভারতীয় স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালান।

তিনি বিদেশি রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনগুলোর কাছে ভারতের স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেন।

## শ্যামজি কৃষ্ণবর্মা ও বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ

ইউরোপে তিনি শ্যামজি কৃষ্ণবর্মা, বিনায়ক দামোদর সাভারকর-সহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

তিনি ভারতীয় বিপ্লবীদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করতেন।

## আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে ভারতের পতাকা

১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে মাদাম কামা অংশগ্রহণ করেন।

সেখানে তিনি ভারতের স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেন এবং একটি ভারতীয় পতাকার রূপ প্রদর্শন করেন।

এটি ছিল বিদেশের মাটিতে ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক তুলে ধরার এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

## নারী অধিকার সম্পর্কে তাঁর ভাবনা

মাদাম কামা শুধু স্বাধীনতার জন্য নয়, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও কাজ করেছিলেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন—

– নারীদের শিক্ষিত হতে হবে।
– সমাজে নারীদের সমান মর্যাদা দিতে হবে।
– নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

## সাহিত্য ও প্রচারমূলক কাজ

মাদাম কামা বিভিন্ন লেখা, পুস্তিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

তিনি বিদেশে বসে ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করেন এবং ভারতীয় জনগণের দুর্দশার কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।

## ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা

তাঁর কর্মকাণ্ডে ব্রিটিশ সরকার অসন্তুষ্ট ছিল।

ভারতে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তাঁকে দেশে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

কিন্তু তিনি নিজের আদর্শ থেকে কখনও সরে যাননি।

## ভারতে প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন।

তখন তাঁর স্বাস্থ্য অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

তবুও তাঁর দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা অটুট ছিল।

## মৃত্যু

১৯৩৬ সালের ১৩ আগস্ট মাদাম ভিকাজি কামা মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে ভারত একজন সাহসী দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামীকে হারায়।

## ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ

মাদাম কামার জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—

### দেশপ্রেম
তিনি নিজের জীবন ভারতের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

### সাহস
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

### আত্মত্যাগ
ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে তিনি দেশের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

### মানবিকতা
তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

## বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

মাদাম ভিকাজি কামার জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—

১. দেশের প্রতি ভালোবাসা কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয়।

২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হয়।

৩. নারীরাও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারেন।

৪. নিজের আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

৫. বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের কথা তুলে ধরার সাহস থাকতে হয়।

## উত্তরাধিকার

আজও মাদাম ভিকাজি কামাকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অগ্রদূত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

তাঁর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাস্তা এবং স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

## উপসংহার

মাদাম ভিকাজি কামা ছিলেন ভারতের স্বাধীনতার এক সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি এমন এক সময়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, যখন ভারতীয়দের স্বাধীনতার দাবি বিশ্বে খুব বেশি পরিচিত ছিল না।

বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতের সম্মান, স্বাধীনতা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—সত্য, সাহস এবং দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে গেলে একজন মানুষ ইতিহাসে অমর হয়ে থাকতে পারেন।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

মীরা বাঈ: ভক্তি, প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার এক অমর সাধিকা।

ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে যে কয়েকজন নারী তাঁদের ভক্তি, প্রেম এবং আত্মনিবেদনের মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মীরা বাঈ। তিনি ছিলেন একজন মহান ভক্ত কবি, যাঁর জীবন ছিল ঈশ্বরপ্রেম, সাহস এবং সামাজিক বাধার বিরুদ্ধে এক অনন্য সংগ্রামের কাহিনি।

মীরা বাঈ শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন এক নারী, যিনি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য প্রচলিত সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর রচিত ভজন আজও ভারতীয় সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ।

## জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

মীরা বাঈ আনুমানিক ১৪৯৮ সালে রাজস্থানের মেড়তা অঞ্চলের কুড়কি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা ছিলেন রতন সিং রাঠোর, যিনি রাজপুত বংশের একজন অভিজাত ব্যক্তি ছিলেন।

শৈশব থেকেই মীরার মধ্যে ধর্মীয় ভাবনা ও কৃষ্ণভক্তির গভীর আকর্ষণ দেখা যায়।

কথিত আছে, ছোটবেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে তিনি তাঁর মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—”আমার স্বামী কে?”

তখন তাঁর মা মজা করে বলেছিলেন, “শ্রীকৃষ্ণই তোমার স্বামী।”

এই কথাটি মীরার মনে গভীরভাবে গেঁথে যায় এবং পরবর্তী জীবনে তিনি কৃষ্ণভক্তিতে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন।

## শৈশবের ভক্তি

ছোটবেলা থেকেই মীরা ভগবান কৃষ্ণের মূর্তিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী হিসেবে ভাবতেন।

তিনি কৃষ্ণের জন্য গান গাইতেন, কবিতা লিখতেন এবং ভক্তিতে নিমগ্ন থাকতেন।

তাঁর কাছে কৃষ্ণ ছিলেন শুধু দেবতা নন, তিনি ছিলেন জীবনের পরম ভালোবাসা।

## বিবাহ ও রাজপরিবারে প্রবেশ

মীরা বাঈর বিবাহ হয় মেওয়ারের যুবরাজ ভোজরাজের সঙ্গে।

বিবাহের পর তিনি রাজপ্রাসাদে এলেও তাঁর কৃষ্ণভক্তি একটুও কমেনি।

রাজপরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর জীবনযাপন করার কথা থাকলেও তিনি ভক্তি ও সাধনার পথেই এগিয়ে যান।

## সামাজিক বাধার সম্মুখীন

মীরার স্বাধীন চিন্তা এবং ভক্তির পথ অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

রাজপরিবারের অনেকেই তাঁর কৃষ্ণভক্তি ও সাধুসঙ্গ পছন্দ করতেন না।

তাঁকে নানা বাধা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়।

কিন্তু তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে কখনও সরে যাননি।

## ভক্তি আন্দোলনে ভূমিকা

মীরা বাঈ ছিলেন ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নারী সাধিকা।

এই আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল—

– ঈশ্বরের প্রতি সরল প্রেম
– ভক্তির মাধ্যমে মুক্তি
– জাতপাতের ঊর্ধ্বে মানবতা
– বাহ্যিক আচার নয়, অন্তরের বিশ্বাস

মীরা তাঁর ভজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন।

## মীরার ভজন

মীরা বাঈ অসংখ্য ভজন রচনা করেন।

তাঁর ভজনের মূল বিষয় ছিল—

– কৃষ্ণপ্রেম
– আত্মসমর্পণ
– বিরহ
– ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক

তাঁর জনপ্রিয় ভজনগুলোর মধ্যে রয়েছে—

– “পায়ো জি ম্যায়নে রাম রতন ধন পায়ো”
– “মেরে তো গিরিধর গোপাল”

যদিও এসব ভজনের সংকলন ও রচয়িতা নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনাও রয়েছে, তবুও মীরার নামের সঙ্গে এগুলো গভীরভাবে যুক্ত।

## নারী স্বাধীনতার প্রতীক

মীরা বাঈ এমন এক সময়ে নিজের ইচ্ছা ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন নারীদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা খুব সীমিত ছিল।

তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে একজন নারী নিজের আধ্যাত্মিক পথ নিজেই বেছে নিতে পারেন।

এই কারণে তিনি নারী আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হন।

## সাধুসঙ্গ ও তীর্থযাত্রা

পরবর্তীকালে মীরা রাজপ্রাসাদের জীবন ছেড়ে ভক্তি ও সাধনার পথে বেরিয়ে পড়েন।

তিনি বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণ করেন।

বিশেষ করে বৃন্দাবন ও দ্বারকার সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে যুক্ত।

সেখানে তিনি ভক্তি, গান এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেন।

## ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ

মীরা বাঈর জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—

### অটুট বিশ্বাস
তিনি নিজের আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হননি।

### সাহস
সমাজের বাধা ও বিরোধিতাকে তিনি ভয় পাননি।

### প্রেম ও ভক্তি
তাঁর কাছে ঈশ্বরপ্রেমই ছিল জীবনের সর্বোচ্চ সত্য।

### মানবিকতা
তিনি সকল মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতেন।

## মৃত্যু ও কিংবদন্তি

মীরা বাঈর মৃত্যুর সাল সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে।

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, আনুমানিক ১৫৪৭ সালের দিকে তাঁর জীবনাবসান হয়।

তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত আছে।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি দ্বারকায় কৃষ্ণের মূর্তির মধ্যে লীন হয়ে যান।

## বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

মীরা বাঈর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—

১. নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি অটল থাকতে হবে।

২. সামাজিক বাধাকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

৩. ভালোবাসা ও মানবিকতাই জীবনের প্রকৃত শক্তি।

৪. প্রতিভা ও সৃষ্টিশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

৫. আত্মিক শান্তির জন্য সত্য ও নিষ্ঠার পথে চলতে হয়।

## উত্তরাধিকার

আজও মীরা বাঈ ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভক্ত কবি হিসেবে স্মরণীয়।

তাঁর ভজন শুধু ধর্মীয় সংগীত নয়, এগুলো ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা, নাটক, চলচ্চিত্র এবং সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে।

## উপসংহার

মীরা বাঈ ছিলেন ভক্তি, সাহস এবং আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি দেখিয়েছিলেন যে সত্যিকারের ভালোবাসা ও বিশ্বাস মানুষের জীবনে অসাধারণ শক্তি এনে দিতে পারে।

সমাজের বাধা, রাজপরিবারের চাপ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর ভক্তি ও সৃষ্টিশীলতা আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালিয়ে রেখেছে।

মীরা বাঈ শুধু একজন সাধিকা নন, তিনি ছিলেন প্রেম, বিশ্বাস এবং আত্মার স্বাধীনতার এক চিরন্তন প্রতীক।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

বেগম রোকেয়া: নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণের এক মহান পথিকৃৎ।

নারীমুক্তি, নারীশিক্ষা এবং সামাজিক সমতার ইতিহাসে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম হলেন বেগম রোকেয়া। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখিকা, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক এবং নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত। এমন এক সময়ে তিনি নারীদের শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, যখন সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করতেন নারীদের ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

নিজের কলম, চিন্তা এবং কর্মের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া প্রমাণ করেছিলেন যে শিক্ষা হলো নারীর মুক্তির প্রধান পথ। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও নারী সমাজকে এগিয়ে চলার সাহস ও অনুপ্রেরণা দেয়।

## জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলার রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বর্তমানে এই স্থানটি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের অন্তর্গত।

তাঁর পিতা ছিলেন জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা ছিলেন রহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরী।

তাঁদের পরিবার ছিল শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত, কিন্তু সেই সময়ের সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত।

## শৈশব ও শিক্ষালাভ

ছোটবেলায় রোকেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ছিল না।

তৎকালীন সমাজে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করা সহজ ছিল না।

তবে তাঁর বড় ভাই ও বোনের উৎসাহে তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শেখেন।

নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন।

এই শিক্ষাই পরবর্তীকালে তাঁকে একজন শক্তিশালী লেখিকা ও সমাজসংস্কারকে পরিণত করে।

## বিবাহ ও জীবনের পরিবর্তন

১৮৯৮ সালে তাঁর বিবাহ হয় ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।

তাঁর স্বামী ছিলেন আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ।

তিনি রোকেয়াকে পড়াশোনা করতে উৎসাহ দেন এবং নারীশিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করেন।

স্বামীর সহযোগিতা তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে ওঠে।

## নারীশিক্ষার জন্য সংগ্রাম

রোকেয়া বিশ্বাস করতেন যে নারীদের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হলো অশিক্ষা।

তিনি মনে করতেন—

“নারীকে শিক্ষিত করতে পারলে পুরো সমাজকে শিক্ষিত করা সম্ভব।”

নারীদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তিনি দেখতেন।

## সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা

১৯১১ সালে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন **সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল**।

এই বিদ্যালয় ছিল মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

প্রথমদিকে ছাত্রীর সংখ্যা খুব কম ছিল।

অনেক পরিবার মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাইত না।

কিন্তু রোকেয়া ধৈর্য ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করেন।

## সাহিত্যচর্চা

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন শক্তিশালী লেখিকা।

তাঁর লেখায় উঠে এসেছে—

– নারীর অধিকার
– শিক্ষার গুরুত্ব
– সামাজিক বৈষম্য
– কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

### সুলতানার স্বপ্ন

এটি একটি কাল্পনিক রচনা, যেখানে তিনি এমন এক সমাজের কল্পনা করেছেন যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে।

### অবরোধবাসিনী

এই গ্রন্থে তিনি তৎকালীন সমাজে নারীদের বন্দিজীবন ও সামাজিক বাধার চিত্র তুলে ধরেছেন।

### পদ্মরাগ

এই উপন্যাসে তিনি নারীর আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক সংগ্রামের কথা বলেছেন।

## নারী অধিকার সম্পর্কে তাঁর ভাবনা

বেগম রোকেয়া মনে করতেন, নারীরা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

তিনি নারীদের—

– শিক্ষিত হওয়ার অধিকার
– নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার
– কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের অধিকার
– সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার

নিশ্চিত করার পক্ষে ছিলেন।

## সমাজের বিরোধিতা

তাঁর চিন্তাভাবনা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

অনেক রক্ষণশীল মানুষ তাঁর সমালোচনা করেছিলেন।

কিন্তু তিনি পিছিয়ে যাননি।

তিনি যুক্তি, শিক্ষা এবং লেখার মাধ্যমে সমাজের ভুল ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান।

## সংগঠন প্রতিষ্ঠা

১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন **আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম**।

এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল—

– নারীদের শিক্ষা প্রসার
– অসহায় নারীদের সাহায্য
– সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

## ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ

বেগম রোকেয়ার ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—

### সাহস
তিনি প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।

### যুক্তিবাদ
তিনি অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে জ্ঞান ও যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

### মানবিকতা
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন।

### দূরদর্শিতা
তিনি ভবিষ্যতের এমন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদা পাবে।

## মৃত্যু

১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর, নিজের জন্মদিনেই বেগম রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশ একজন মহান নারী জাগরণের নেত্রীকে হারায়।

## বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

বেগম রোকেয়ার জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—

১. শিক্ষা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

২. নারীদের আত্মনির্ভর হওয়া জরুরি।

৩. সমাজের ভুল ধারণার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

৪. জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

৫. একজন মানুষের কর্ম পুরো সমাজকে বদলে দিতে পারে।

## উত্তরাধিকার

আজও বাংলাদেশ ও ভারতের নারীশিক্ষা আন্দোলনে বেগম রোকেয়ার নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

তাঁর নামে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরস্কার এবং গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতি বছর তাঁর জন্মদিন নারী জাগরণের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

## উপসংহার

বেগম রোকেয়া ছিলেন নারীশিক্ষা ও নারী মুক্তির এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তিনি এমন এক সময়ে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন, যখন এই বিষয়গুলো সমাজে প্রায় নিষিদ্ধ ছিল।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে একজন মানুষের চিন্তা, সাহস এবং কর্ম সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারে। নারীশিক্ষার প্রসার এবং সমতার সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Share This
Categories
বিবিধ

১২ বছরের নাবালিকা নির্যাতন মামলা, প্রমাণ সংগ্রহে ফরেন্সিক টিমের অভিযান।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ইংরেজবাজারে নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে নমুনা সংগ্রহে ফরেন্সিক। একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিকের সদস্যরা। এদিকে, অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ইংরেজবাজারে ১২ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীকে মুখ চেপে বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় প্রতিবেশী যুবক রবিউল শেখ (৩০)। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিহারের পূর্ণিয়া থেকে রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশি হেপাজতে রয়েছে। বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জলপাইগুড়ি ফরেন্সিকের প্রতিনিধিদল। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিউলের ভালো নয়। রবিউলের অত্যাচারে দুটি বউ তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। এধরণের মানুষকে কোনোমতেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অবিলম্বে রবিউলকে ফাঁসি দেওয়া হোক।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদায় শিল্পের পরিবেশ তৈরির দাবি সুকান্তের, বারুইপুর ইস্যুতে দিলেন কড়া প্রতিক্রিয়া।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – গুলি চালানো নিয়ে পুলিশের পক্ষ নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বুধবার দুপুরে ইংরেজবাজার শহরে মালদা সমবায়িকা পরিদর্শন করেন। এখানেই একটি আমার মালদা স্টল খোলা হয়েছে। জেলা শাসকের উদ্যোগে এই স্টলে মালদা জেলার তৈরি সব ধরনের সামগ্ৰী বিক্রি হবে। আম, রেশম সহ একাধিক সামগ্ৰির প্রদশর্নী সাথে বিক্রির ব্যবস্থা থাকছে এখানে। মন্ত্রী এদিন বলেন পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে। সেই পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বারুইপুরে পুলিশের গুলি চালানো প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন পুলিশের লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশ তো গুলিই চালাবে। এখন কি ঘটনা ঘটেছে পুলিশ দেখছে।

Share This
Categories
বিবিধ

কাজ করেও টাকা নেই, চন্দ্রকোনা পৌরসভার VCT কর্মীদের আন্দোলন শুরু।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতির ডাক দিল VCT (ভেক্টর কন্ট্রোল টিম) কর্মীরা (সাফাই কর্মী) সকাল থেকে পৌরসভার গেটের সামনে বসে চলছে বিক্ষোভ। VCT কর্মীদের দাবি তারা তাদের কাজ করে প্রাপ্য টাকা পায়নি,তাদের বেতন মোট ২২৫ টাকা,মাসে ২০ দিন কাজ,সেই কাজ করে সংসার চলে। কিন্তু কাজ করে মেলেনি টাকা,তাই বুধবার সকাল থেকে কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছে তারা। ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পৌরসভার গেটের সামনে তাদের কাজের সরঞ্জাম রেখে বসে বিক্ষোভ শুরু করেছে কর্মীরা। তাদের দাবি মার্চ মাস থেকে তারা তাদের কাজের কোন টাকা পায়নি, তৃণমূল সরকারের এরপর ফের বিজেপি সরকার এই সরকারের আমলেও তারা টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ । বিক্ষোভকারীদের দাবি গোটা ঘটনাটি ইতিমধ্যে তারা এলাকার বিধায়ক কে জানিয়েছেন তারা আশা করছেন হয়তো নতুন সরকারের আমলে তাদের সমস্যার সমাধান হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

বছরের পর বছর দুর্ভোগ, চন্দ্রকোনার বেড়াবেড়িয়ায় আজও স্বপ্ন কংক্রিটের সেতুর।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-
নৌকোই ভরসা,ব্রিজ নেই কাঁধে স্কুল ব্যাগ। পায়ে জুতো হাতে। টলোমলো পায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকোতে চড়ে স্কুলের পথে রওনা দিচ্ছে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা। শুধু ওরা না। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নং ব্লকের বেড়াবেড়িয়া গ্রাম সহ আশেপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের শতাধিক মানুষকে রোজ এইভাবেই যাতায়াত করতে হয়।
কেন এই দুর্ভোগ?
একদিকে কেঠিয়স নদী, অন্যদিকে শিলাবতী নদী। আর মাঝখানে আটকে রয়েছে বেড়াবেড়িয়া গ্রাম। গভীর নদী খাদ পেরিয়ে নৌকোতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওপারে যেতে হয় গ্রামবাসীদের। বছর গেছে ছবি বদলায়নি
বাম আমল গেছে, তৃণমূল জামানাও গেছে। কিন্তু গ্রামের এই করুণ ছবির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এখন মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে বিজেপি সরকারের আমলে হয়তো কাজ হবে। এলাকার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
গ্রামবাসীদের একটাই দাবি
এলাকায় দ্রুত একটি কংক্রিটের ব্রিজ হোক। তাহলেই বদলাবে বেড়াবেড়িয়ার ছবি।

Share This
Categories
বিবিধ

জঙ্গলে গিয়েছিলেন কাঠ কুড়াতে, ফিরলেন না আর—পরদিন মিলল ঝুমা রায়ের দেহ।

পশ্চিম মেদিনীপুর,নিজস্ব সংবাদদাতা:- জঙ্গলে শুকনো কাঠ এবং ছাতু কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে ধীরে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত শিরোমনিপুর জঙ্গলে পড়ে থাকা অবস্থায় ওই মহিলার দেহটি উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত মহিলার নাম ঝুমা রায়, বয়স আনুমানিক ৪৩ বছর। বাড়ি গোয়ালতোড় থানার জোগাড়ডাঙ্গার শিরোমনিপুর গ্রামে। সূত্রে আরো জানা যায় গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার তিনি বাড়ি থেকে স্থানীয় জঙ্গলে শুকনো কাঠ ও ছাতু কুড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা নেমে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি।পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা চিন্তিত হয়ে গতকাল রাত থেকেই জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক খোঁজখুঁজি শুরু করেন। এরপর আজ অর্থাৎ বুধবার সকালে আবারও তল্লাশি চালানোর সময় জঙ্গলের ভেতরে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, ঝুমা দেবী কানে কিছুটা কম শুনতেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গোয়ালতোড় থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে।

Share This
Categories
বিবিধ

রুপাঘাগড়া পার্কে উন্নয়নের বার্তা, নতুন রূপে সাজানোর প্রতিশ্রুতি বিধায়কদের।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বুধবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত পাথর পাড়া অঞ্চলের রুপাঘাগড়া এলাকার পার্ক পরিদর্শন করলেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো এবং গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রদীপ লোধা। এই দিন গোটা পার্ক ঘুরে দেখার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন ভাবে তৈরি হবে এই পার্ক এমনটাই আশ্বাস দিলেন দুই বিধায়ক। এই দিন দুই বিধায়ক ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মানুষজন।

Share This