তৃতীয় পর্ব — যে সত্যের কোনো দর্শক ছিল না
১. অন্ধকারের মানুষ
অন্ধকারের মধ্যে নীলাঞ্জনা নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল।
কয়েক মুহূর্ত আগেও শর্মিষ্ঠা বসু তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এখন তিনি নেই। মঞ্চের ওপর থেকে ভেসে আসা পুরুষকণ্ঠটিও থেমে গেছে।
অরিন্দম মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নীলাঞ্জনার পাশে এসে দাঁড়াল।
— তুমি ঠিক আছ?
নীলাঞ্জনা উত্তর দিল না। সে মেঝে থেকে পাণ্ডুলিপিটি তুলে নিল। তার হাত কাঁপছিল।
— তুমি শুনেছ? লোকটা বলল, আমার বাবার দুর্ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না।
— শুনেছি। কিন্তু এখন আমাদের এখান থেকে বেরোতে হবে।
ঠিক তখনই অডিটোরিয়ামের পেছনের দরজায় একটা শব্দ হলো।
কেউ দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।
অরিন্দম দরজার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিল। দরজা নড়ল না।
— কে আছেন? দরজা খুলুন!
কোনো উত্তর নেই।
মহাদেবকে ডাকতে গিয়ে নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল, নিরাপত্তারক্ষীও আর আশপাশে নেই।
অরিন্দম ফোনে আলো ফেলল। মঞ্চের বাঁ দিকে সরু করিডরটি দেখা যাচ্ছে। সেখান দিয়ে সাজঘরের দিকে যাওয়া যায়। তারা দ্রুত সেই পথে এগোল।
করিডরের শেষে একটি দরজা আধখোলা। দরজার ওপাশে পুরোনো পোশাক রাখার ঘর।
নীলাঞ্জনা ভেতরে ঢুকতেই তার চোখ পড়ল সেই চিড় ধরা আয়নার ওপর।
আয়নার সামনে একটি চেয়ার রাখা। চেয়ারের ওপর সাদা শাড়ির একটি অংশ, আর তার পাশে রুপোর আংটি।
সে আংটিটি হাতে তুলতে যাচ্ছিল, অরিন্দম বাধা দিল।
— ছুঁয়ো না। আগে ছবি তুলি।
ছবি তোলার পর নীলাঞ্জনা আংটিটি তুলে নিল। সেটি ঠান্ডা, ভারী এবং অস্বাভাবিকভাবে পুরোনো।
আংটির ভেতরের দিকে ছোট করে দুটি অক্ষর খোদাই করা—
শ. ব.
শর্মিষ্ঠা বসু।
তাহলে তিনি সত্যিই এখানে ছিলেন। কিন্তু কোথায় গেলেন?
অরিন্দম আয়নার ফ্রেম পরীক্ষা করতে লাগল। ফ্রেমের নীচে একটি ছোট ধাতব বোতাম রয়েছে। সেটি চাপতেই আয়নার এক পাশ সামান্য সরে গেল।
পেছনে সরু একটি ফাঁকা জায়গা।
সেখানে একটি ছোট স্পিকার, কিছু পুরোনো তার এবং একটি আধুনিক ডিজিটাল অডিও যন্ত্র রাখা।
অরিন্দম অবাক হয়ে বলল, — তাহলে এতক্ষণ যে কণ্ঠ শুনেছি, সেটা এখান থেকে চালানো হয়েছে!
নীলাঞ্জনা যন্ত্রটির দিকে তাকাল।
— কিন্তু যে লোকটা আমার কানের কাছে কথা বলল?
অরিন্দম চারদিকে তাকাল।
— এখানে নিশ্চয়ই অন্য কোনো গোপন পথ আছে।
তারা ঘরটি খুঁজতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর পোশাক রাখার আলমারির পেছনে একটি সরু দরজা পাওয়া গেল। দরজাটি সরাসরি ভবনের পুরোনো পরিষেবা-করিডরে খুলে যায়।
সেই পথ দিয়ে বেরিয়ে তারা অডিটোরিয়ামের পেছনের উঠোনে পৌঁছল।
বাইরে এসে নীলাঞ্জনা দেখল, মহাদেব গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি কিছুই জানেন না।
— আপনারা এখানে? — মহাদেব বিস্মিত হয়ে বললেন। — আমি তো সামনের দরজায় ছিলাম!
নীলাঞ্জনা সরাসরি প্রশ্ন করল, — আজ রাতে এখানে আর কেউ ঢুকেছিল?
মহাদেব একটু ইতস্তত করলেন।
— একজন লোক এসেছিল। বলল, পুরসভার লোক। কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করতে এসেছে। আমি তাকে বাধা দিইনি, কারণ তার কাছে কাগজ ছিল।
— তার নাম জানেন?
— বলেছিল, নাম প্রবীর সেন।
নীলাঞ্জনা নামটি মনে রাখল।
সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে সে প্রথমবার অনুভব করল, কেউ তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। শুধু ভয় দেখানো নয়, তাকে নির্দিষ্ট পথে চালিত করাও যেন সেই অদৃশ্য মানুষের উদ্দেশ্য।
কিন্তু কেন?
সে কি সত্যিই অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর রহস্য জানতে চায়, নাকি কেউ তার বাবার অতীত ব্যবহার করে তাকে ফাঁদে ফেলছে?
উত্তর পেতে হলে তাকে শর্মিষ্ঠা বসুকে আবার খুঁজে বের করতেই হবে।
২. মাধুরী সেনের দরজা
পরদিন সকালে নীলাঞ্জনা অরিন্দমের সঙ্গে দেখা করল। আগের রাতের সমস্ত ঘটনা তারা সাজিয়ে লিখল। তারপর মাধুরী সেনের সন্ধানে বেরোল।
পুরোনো নাট্যসংগঠনের এক কর্মীর সাহায্যে তারা জানতে পারল, মাধুরী এখন দক্ষিণ কলকাতার একটি শান্ত আবাসনে থাকেন। বহু বছর আগে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি অনুবাদ এবং বই সম্পাদনার কাজ করতেন।
বাড়ির দরজায় ঘণ্টা বাজাতেই একজন মহিলা দরজা খুললেন।
বয়স ষাটের কাছাকাছি। মুখে ক্লান্তি, চোখে সতর্কতা।
— আপনি মাধুরী সেন?
— হ্যাঁ। কী দরকার?
নীলাঞ্জনা নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, — আমি রঙ্গমহল এবং অদ্বৈত রায়ের শেষ নাটক নিয়ে অনুসন্ধান করছি।
মাধুরীর মুখ মুহূর্তে বদলে গেল।
— ওই নামটা আমি আর শুনতে চাই না।
তিনি দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন। নীলাঞ্জনা দ্রুত বলল—
— আমার বাবা অনিরুদ্ধ দত্ত ‘অন্তিম দৃশ্য’-এর পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজ করতেন। তাঁর নাম ওই নাটকের নথিতে পেয়েছি।
মাধুরী থেমে গেলেন।
— অনিরুদ্ধবাবুর মেয়ে?
— হ্যাঁ।
মাধুরী ধীরে দরজা খুললেন।
— ভেতরে আসুন।
বসার ঘরটি বইয়ে ভরা। দেওয়ালে কয়েকটি পুরোনো নাটকের পোস্টার। এক কোণে কাঠের বাক্সের ওপর রাখা একটি ফ্রেমে অদ্বৈত রায়ের ছবি।
মাধুরী ছবিটির দিকে তাকিয়ে বললেন, — আপনার বাবা সৎ মানুষ ছিলেন। তাঁর মতো মানুষ খুব কম দেখেছি।
নীলাঞ্জনা জিজ্ঞাসা করল, — সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?
মাধুরী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
— অদ্বৈতবাবু শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির ছিলেন। তিনি দাবি করতেন, ‘অন্তিম দৃশ্য’-এর গল্পের সঙ্গে একটি বাস্তব অপরাধের মিল রয়েছে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, নাটককে প্রচারের আলোয় আনার জন্য তিনি এমন কথা বলছেন। কিন্তু পরে বুঝেছিলাম, তিনি সত্যিই ভয় পাচ্ছেন।
— কী অপরাধ?
— রঙ্গমহলের তহবিল থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা। বহু বছর ধরে হিসাবের গরমিল চলছিল। কিছু নথি জাল করা হয়েছিল। অদ্বৈতবাবু জানতে পেরেছিলেন, সেই টাকা দিয়ে শহরের বাইরে একটি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জমি কেনার নাম করে অন্যত্র অর্থ সরানো হয়েছে।
অরিন্দম বলল, — এই কাজের সঙ্গে দেবব্রত লাহিড়ী যুক্ত ছিলেন?
মাধুরী মাথা নাড়লেন।
— শুধু তিনি নন। আরও কয়েকজন ছিলেন। কিন্তু অদ্বৈতবাবু সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগেই সমস্যায় পড়ে যান।
নীলাঞ্জনা প্রশ্ন করল, — তাঁর মৃত্যু কি পরিকল্পিত ছিল?
মাধুরী জানালার দিকে তাকালেন।
— আমি নিজে কাউকে তাঁকে আঘাত করতে দেখিনি। তবে সেদিন মঞ্চের আলো ও শব্দের নিয়ন্ত্রণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছিল। নাটকের শেষ দৃশ্যে আলো নিভে যাওয়ার কথা ছিল মাত্র তিন সেকেন্ডের জন্য। কিন্তু সেদিন অন্ধকার ছিল অনেক বেশি সময়। সেই সময়ে মঞ্চে কী ঘটেছিল, দর্শকেরা কেউ দেখতে পায়নি।
— আর আপনি?
— আমি মঞ্চে ছিলাম। অন্ধকারের মধ্যে একটা ধস্তাধস্তির শব্দ শুনেছিলাম। তারপর একটা ভারী বস্তু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ। আলো জ্বলার পর অদ্বৈতবাবু মেঝেতে পড়ে ছিলেন।
— আপনি কি কাউকে সন্দেহ করেছিলেন?
মাধুরী উত্তর দেওয়ার আগে ঘরের দরজার দিকে তাকালেন।
— সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু প্রমাণ ছিল না।
— কার ওপর?
মাধুরী ধীরে বললেন, — সমরেশ বসুর ওপর। কারণ শেষ মুহূর্তে আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন।
নীলাঞ্জনা বলল, — সমরেশ বসু এখন কোথায়?
— বেঁচে আছেন। তবে বহু বছর ধরে জনসমক্ষে আসেন না। শুনেছি, তিনি এখন নাটকের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।
অরিন্দম জিজ্ঞাসা করল, — তাঁর ঠিকানা জানেন?
মাধুরী একটি কাগজে ঠিকানা লিখে দিলেন।
তারপর নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বললেন—
— একটা কথা মনে রাখবেন। সেদিন মঞ্চে যা ঘটেছিল, তার জন্য শুধু একজন মানুষকে দায়ী করলে ভুল হবে। অদ্বৈতবাবুর মৃত্যু ছিল একটি ঘটনার শেষ নয়। সেটি ছিল অনেক বড় কিছুর শুরু।
৩. পরিচালকের স্বীকারোক্তি
সমরেশ বসু থাকতেন কলকাতার উপকণ্ঠে একটি ছোট বাড়িতে। বাড়ির সামনে কোনো নামফলক নেই। দরজার পাশে শুধু একটি শুকিয়ে যাওয়া মানিপ্ল্যান্টের টব।
নীলাঞ্জনা ও অরিন্দম পৌঁছলে দরজা খুললেন এক বৃদ্ধ। তাঁর শরীর রোগা, মুখে গভীর বলিরেখা।
— কী চান?
নীলাঞ্জনা নিজের পরিচয় দিল।
— আমি অদ্বৈত রায়ের শেষ নাটক নিয়ে কাজ করছি। আপনার সঙ্গে কয়েকটি কথা বলতে চাই।
সমরেশের চোখে আতঙ্কের ছায়া দেখা গেল।
— আমি ওই বিষয়ে কথা বলব না।
তিনি দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন। নীলাঞ্জনা বলল—
— আমার বাবা অনিরুদ্ধ দত্তের নাম কি আপনার মনে আছে?
সমরেশ থেমে গেলেন।
দীর্ঘক্ষণ নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে থেকে তিনি দরজা খুলে দিলেন।
— ভেতরে আসুন।
ঘরের মধ্যে একটি পুরোনো ডেস্ক, কিছু বই এবং দেওয়ালে ঝোলানো নাটকের পোস্টার। সমরেশ একটি চেয়ারে বসে বললেন—
— আপনার বাবার কাছে আমি ঋণী।
নীলাঞ্জনা বিস্মিত হলো।
— কীসের ঋণ?
— তিনি যদি সেদিন আমাকে সাহায্য না করতেন, তাহলে হয়তো আমিও বাঁচতাম না।
অরিন্দম দ্রুত প্রশ্ন করল, — অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর রাতে কী ঘটেছিল?
সমরেশ চোখ বন্ধ করলেন।
— অদ্বৈত সত্য জানতে পেরেছিল। সে জানতে পেরেছিল, রঙ্গমহলের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দেবব্রত লাহিড়ী ছাড়াও আরও কয়েকজন যুক্ত। সে মূল নথি সংগ্রহ করেছিল। পরিকল্পনা ছিল, নাটকের শেষ অভিনয়ের পর সংবাদমাধ্যমের হাতে সেই নথি তুলে দেবে।
— তাহলে তাকে থামানোর জন্য কেউ ব্যবস্থা করেছিল?
— হ্যাঁ। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, তাকে শুধু ভয় দেখানো হবে। আমি বুঝতে পারিনি, ঘটনাটা এত দূর গড়াবে।
নীলাঞ্জনা কঠিন গলায় বলল, — আপনি আলো নিভিয়ে দিয়েছিলেন কেন?
সমরেশ মুখ তুলে তাকালেন।
— কারণ আমাকে বলা হয়েছিল, শেষ দৃশ্যের সময় একটি বিশেষ সংকেত দিতে হবে। আমি ভেবেছিলাম, কয়েকজন লোক মঞ্চে উঠে অদ্বৈতের কাছ থেকে নথি নিয়ে যাবে। কিন্তু অন্ধকারে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তারপর শব্দ। আলো জ্বলার পর অদ্বৈত পড়ে ছিল।
— আপনি কি দেখেছিলেন কে তাকে আঘাত করেছিল?
সমরেশ মাথা নাড়লেন।
— না। কিন্তু আমি একটা জিনিস দেখেছিলাম। অন্ধকারের মধ্যে একজন মঞ্চের পেছনের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল। তার হাতে ছোট ধাতব যন্ত্র ছিল।
— কী যন্ত্র?
— দেখতে পুরোনো মঞ্চ-নিয়ন্ত্রণের রিমোটের মতো। ওই যন্ত্র দিয়ে আলো ও শব্দের সংকেত বদলানো যেত। কিন্তু রঙ্গমহলের মূল যন্ত্রে তার ব্যবহার হওয়ার কথা নয়।
নীলাঞ্জনা আগের রাতের গোপন অডিও যন্ত্রটির কথা মনে করল।
সমরেশ বললেন, — ঘটনার পর আমাকে বলা হয়, আমি যদি মুখ খুলি, তাহলে আমার পরিবার বিপদে পড়বে। আমি ভয়ে চুপ করে যাই। পরে যখন বুঝলাম, অদ্বৈতের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
— আপনি কি জানেন, আমার বাবা কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
সমরেশের মুখ আরও ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
— আপনার বাবাকে দুর্ঘটনার আগের রাতে আমি শেষবার দেখেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, মূল পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অনুলিপি নিরাপদে রাখা হয়েছে। তিনি জানতেন, কেউ তাঁকে অনুসরণ করছে।
— তিনি কি কারও নাম বলেছিলেন?
সমরেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
— হ্যাঁ। তিনি বলেছিলেন, যে মানুষটি মঞ্চের আলো নিয়ন্ত্রণ করে, সে-ই বাস্তবের অন্ধকারও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল না।
— এর মানে কী?
সমরেশ উত্তর দিলেন, — সেই সময় রঙ্গমহলের আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিল একজন প্রযুক্তিবিদ। তার নাম প্রবীর সেন।
নীলাঞ্জনার মনে পড়ল নিরাপত্তারক্ষী মহাদেবের কথা।
প্রবীর সেন।
যে লোকটি নিজেকে পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে রঙ্গমহলে ঢুকেছিল।
অরিন্দম বলল, — সে এখন কোথায়?
সমরেশ মাথা নাড়লেন।
— জানি না। কিন্তু একটা কথা বলতে পারি। প্রবীর কখনও শুধু প্রযুক্তিবিদ ছিল না। সে জানত, কোন আলো কখন নিভবে, কোন দরজা কখন খুলবে, আর মঞ্চের কোন কোণ থেকে কে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।
৪. যে মানুষটি আলো নিভিয়েছিল
পরদিন নীলাঞ্জনা পুরসভার দপ্তরে যোগাযোগ করল। প্রবীর সেন নামে কোনো কর্মীর সাম্প্রতিক নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেল না। পুরোনো নথিতে অবশ্য ওই নাম ছিল। তিনি রঙ্গমহলের আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে কাজ করতেন, কিন্তু ২০০৯ সালের ডিসেম্বরেই চাকরি ছেড়ে দেন।
তাঁর শেষ জানা ঠিকানা ছিল উত্তর কলকাতার একটি ভাড়া বাড়ি।
নীলাঞ্জনা ও অরিন্দম সেখানে পৌঁছে জানতে পারল, বাড়িটি বহু বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশের দোকানের এক বৃদ্ধ বললেন, প্রবীর সেন নাকি পরে অন্য শহরে চলে গিয়েছিলেন।
কিন্তু যাওয়ার আগে তিনি একটি ছোট ইলেকট্রনিক মেরামতির দোকান চালাতেন।
দোকানের পুরোনো নাম ছিল ‘সেন ইলেকট্রনিক্স’।
বর্তমানে সেখানে একটি মোবাইল সারাইয়ের দোকান। মালিক জানালেন, তাঁর বাবা এই দোকানটি কিনেছিলেন। আগের মালিকের কিছু জিনিস এখনও গুদামে আছে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি পুরোনো ধাতব বাক্স পাওয়া গেল। বাক্সের গায়ে মুছে যাওয়া অক্ষরে লেখা—‘পি. সেন’।
ভেতরে ছিল কিছু সার্কিট, তার, ছোট সুইচ এবং একটি কালো যন্ত্র।
অরিন্দম যন্ত্রটি হাতে নিয়ে বলল, — এটা পুরোনো রিমোট কন্ট্রোল ইউনিট হতে পারে।
নীলাঞ্জনা যন্ত্রটির পাশে একটি খাম পেল। খামের মধ্যে একটি বিল এবং কয়েকটি নাম লেখা কাগজ।
বিলটি তৈরি করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর। তাতে উল্লেখ ছিল, রঙ্গমহলের আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন করা হয়েছে।
যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম—‘লাহিড়ী টেকনিক্যাল সার্ভিসেস’।
দেবব্রত লাহিড়ীর প্রতিষ্ঠান!
কাগজের নীচে হাতে লেখা একটি বাক্য—
“বিশেষ সংকেতের পর আলো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে ৪৫ সেকেন্ড। পুনরায় চালু হবে কেবল দ্বিতীয় সুইচে।”
নীলাঞ্জনা কাগজটি অরিন্দমকে দেখাল।
— নাটকের সময় তো অন্ধকার থাকার কথা ছিল মাত্র তিন সেকেন্ড। কিন্তু এখানে পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ডের কথা লেখা।
অরিন্দম বলল, — তার মানে, আলো নিভিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তবে কে সেই সুযোগ ব্যবহার করেছে, তা এখনও প্রমাণিত নয়।
ঠিক তখন দোকানের মালিক এসে বললেন, — আপনারা কি প্রবীরবাবুকে খুঁজছেন?
নীলাঞ্জনা চমকে তাকাল।
— আপনি তাঁকে চেনেন?
— আমার বাবা বলতেন, লোকটা মাঝেমধ্যে দোকানে আসত। বহু বছর আগে একবার বলেছিল, সে যদি কোনোদিন ফিরে আসে, তাহলে একটা বাক্স তার জন্য তুলে রাখতে।
— সে কি ফিরে এসেছিল?
— হ্যাঁ। প্রায় পাঁচ বছর আগে। কিন্তু বাক্সটি নিয়ে যায়নি। শুধু জিজ্ঞেস করেছিল, কেউ তার খোঁজ করেছে কি না।
— সে কোথায় থাকে, জানেন?
দোকানের মালিক একটু ভেবে বললেন—
— আমার বাবা বলেছিলেন, সে সম্ভবত হাওড়ার দিকে একটি পুরোনো নাট্যদলের সঙ্গে কাজ করত।
নীলাঞ্জনা আর অরিন্দম একে অন্যের দিকে তাকাল।
তারা বুঝতে পারছিল, রহস্যের কেন্দ্র ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু প্রবীরকে খুঁজে পাওয়ার আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার—অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর পর মূল পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অনুলিপি কীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং কেন তার মধ্যে নীলাঞ্জনার নাম ছিল।
সেই উত্তর সম্ভবত শর্মিষ্ঠা বসুর কাছে আছে।
৫. শর্মিষ্ঠার শেষ সাক্ষ্য
শর্মিষ্ঠা বসুর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না। মাধুরীও তাঁর বর্তমান ঠিকানা জানতেন না। তবে নীলাঞ্জনার মনে পড়ল, রঙ্গমহলে শর্মিষ্ঠা বলেছিলেন, অদ্বৈতের মৃত্যুর রাতের সত্য তিনি জানেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ, তিনি বলেছিলেন—নীলাঞ্জনার বাবা শেষ মুহূর্তে একজনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই মানুষটি কে?
নীলাঞ্জনা মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে আবার প্রশ্ন করল।
— মা, আমার ছোটবেলার কোনো ছবি কি তোমার কাছে আছে, যেখানে আমি চার বছর বয়সে কারও কোলে ছিলাম?
সুপর্ণা অবাক হলেন।
— অনেক ছবি ছিল। বেশির ভাগই পুরোনো অ্যালবামে আছে।
তারা আলমারি থেকে অ্যালবাম বের করল। পাতার পর পাতা উল্টে হঠাৎ একটি ছবি পাওয়া গেল।
ছবিতে চার বছরের নীলাঞ্জনা একটি নাট্যমঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে। পাশে একজন তরুণী, তাঁর কাঁধে হাত রেখে আছেন অনিরুদ্ধ দত্ত।
তরুণীটি শর্মিষ্ঠা বসু।
ছবির পেছনে লেখা—“রঙ্গমহল, ২০০২। নীলুর প্রথম নাটক দেখা।”
নীলাঞ্জনা ছবিটি মায়ের সামনে ধরল।
— তুমি আমাকে রঙ্গমহলে নিয়ে গিয়েছিলে?
সুপর্ণা ধীরে মাথা নাড়লেন।
— হ্যাঁ। তোমার বাবা চেয়েছিলেন, তুমি ছোটবেলা থেকেই নাটক দেখো। শর্মিষ্ঠা তখন তাঁর বন্ধু ছিলেন। কিন্তু অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর পর তিনি আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
— তুমি কি জানো, তিনি কোথায় থাকেন?
— না। তবে একবার তিনি আমাকে বলেছিলেন, যদি কখনও বিপদ আসে, তাহলে ‘শেষ আলোর ঘর’-এ যেতে।
নীলাঞ্জনা ভ্রু কুঁচকে বলল, — শেষ আলোর ঘর কোথায়?
সুপর্ণা মাথা নাড়লেন।
— জানি না। আমি ভেবেছিলাম, ওটা নাটকের কোনো নাম বা রূপক।
নীলাঞ্জনা আবার পুরোনো নোটবুকটি খুলল। পাতাগুলোর মধ্যে এক জায়গায় বাবার হাতের লেখায় একটি বাক্য পাওয়া গেল—
“শর্মিষ্ঠা বলেছে, সত্যের শেষ আলো জ্বলে থাকে সেই ঘরে, যেখানে দর্শকের প্রবেশ নিষেধ।”
অরিন্দম বলল, — এটা রঙ্গমহলের নিয়ন্ত্রণকক্ষ হতে পারে। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে তো কিছু পাইনি।
নীলাঞ্জনা ধীরে বলল, — হয়তো আমরা ভুল ঘর খুঁজেছি।
তার মনে পড়ল, রঙ্গমহলের ওপরের তলায় একটি পুরোনো কক্ষ আছে, যেখানে আগে আলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো। নিরাপত্তারক্ষী মহাদেব বলেছিলেন, সিঁড়িটি ভাঙা বলে সেখানে যাওয়া নিষেধ।
কিন্তু যদি সেই ঘরেই লুকিয়ে থাকে শেষ প্রমাণ?
পরদিন সকালে তারা আবার রঙ্গমহলে গেল। এবার মহাদেবকে সঙ্গে নিয়ে ওপরের তলায় ওঠার ব্যবস্থা করল। ভাঙা সিঁড়ির পাশ দিয়ে একটি সরু লোহার সিঁড়ি ছিল, যা পুরোনো কর্মীদের জন্য ব্যবহার করা হতো।
উপরে পৌঁছে তারা একটি ছোট ঘর পেল। ঘরের জানালাগুলো কাঠের পাটাতনে বন্ধ। দেওয়ালে পুরোনো সুইচবোর্ড, মেঝেতে ধুলো আর তারের স্তূপ।
ঘরের মাঝখানে একটি কাঠের টেবিল।
টেবিলের ওপর একটি খাতা।
নীলাঞ্জনা খাতাটি খুলল।
প্রথম পাতায় লেখা—
“শেষ আলোর ঘর — শর্মিষ্ঠা বসু।”
খাতার ভেতরে নাটকের আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিস্তারিত নকশা। কোথায় দাঁড়ালে মঞ্চের কোন অংশ দেখা যায়, কোন সুইচ চাপলে আলো নিভে যায়, কোন দরজা দিয়ে অভিনেতারা প্রবেশ করেন—সব লেখা।
শেষের পাতায় একটি দীর্ঘ বিবৃতি।
শর্মিষ্ঠা লিখেছিলেন—
“১৪ নভেম্বরের রাতে অদ্বৈত রায়কে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, তাঁর মৃত্যুর আগে মঞ্চের আলো ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। সেই অন্ধকারে যা ঘটেছিল, তা প্রত্যক্ষ করেছিল একজন শিশু। শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান অনিরুদ্ধ দত্ত। পরদিন সেই শিশুর স্মৃতি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কয়েকজন মানুষ নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নেন।”
নীলাঞ্জনা পড়তে পড়তে থেমে গেল।
একজন শিশু।
সে কি নিজেই সেই শিশু?
কিন্তু তার বয়স তখন মাত্র দশ। আর নথিতে যে ছবিটি পাওয়া গেছে, সেটি ২০০২ সালের, যখন তার বয়স চার।
সে কি অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর রাতে রঙ্গমহলে ছিল?
তার মনে কোনো স্মৃতি নেই।
খাতার শেষ পাতায় লেখা ছিল—
“শিশুটি যদি কখনও ফিরে আসে, তাকে জানাতে হবে, সে কোনো অপরাধের অংশ ছিল না। কিন্তু সে এমন একটি সত্য দেখেছিল, যা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও সহ্য করতে পারেনি।”
নীলাঞ্জনা খাতাটি বন্ধ করল।
ঠিক তখনই ঘরের বাইরে পায়ের শব্দ হলো।
মহাদেব দরজার কাছে গিয়ে বললেন, — কে?
কোনো উত্তর নেই।
অরিন্দম দরজা খুলে বাইরে তাকাল।
করিডরের মেঝেতে একটি ছোট কাগজ পড়ে আছে।
নীলাঞ্জনা কাগজটি তুলে নিল।
তাতে লেখা—
“শর্মিষ্ঠাকে খুঁজবেন না। তিনি আর কাউকে বাঁচাতে পারবেন না।”
কাগজের নীচে একটি ঠিকানা।
হাওড়ার একটি পুরোনো নাট্যগুদাম।
আর পাশে একটি সময়—
আজ রাত ১০টা।
নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল, কেউ তাদের প্রবীর সেনের কাছে নিয়ে যেতে চাইছে।
অথবা তাদের এমন কোথাও ডেকে পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে ফেরার পথ নাও থাকতে পারে।
সে অরিন্দমের দিকে তাকাল।
— আমরা যাব।
অরিন্দম মাথা নাড়ল।
— যাব। তবে এবার কাউকে না জানিয়ে নয়।
নীলাঞ্জনা নিজের ফোন বের করে মায়ের কাছে একটি বার্তা পাঠাল। তারপর সব নথির ছবি তুলে নিরাপদে সংরক্ষণ করল।
রাত দশটার আগে তারা হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হলো।
পুরোনো নাট্যগুদামটি ছিল একটি নির্জন শিল্পাঞ্চলের শেষ প্রান্তে। বাইরে কোনো আলো নেই। ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছে।
দরজার কাছে পৌঁছতেই ভেতর থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল—
— নীলাঞ্জনা দত্ত, তুমি অবশেষে এসেছ।
সে থমকে দাঁড়াল।
এই কণ্ঠ সে আগে শুনেছে।
রঙ্গমহলের অন্ধকারে।
অদ্বৈত রায়ের পুরোনো রেকর্ডিংয়ে।
কিন্তু এবার কণ্ঠটি কোনো যন্ত্র থেকে নয়। একজন জীবিত মানুষের মুখ থেকে আসছে।
দরজার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল এক বৃদ্ধ।
তাঁর হাতে একটি ছোট ধাতব বাক্স।
তিনি নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বললেন—
“তোমার বাবাকে আমি থামাতে পারিনি। অদ্বৈতকেও বাঁচাতে পারিনি। এবার অন্তত তোমাকে সত্যিটা জানাতে চাই।”
নীলাঞ্জনা ফিসফিস করে বলল—
— আপনি কি প্রবীর সেন?
বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।
— হ্যাঁ। আর আমি তোমাকে এমন একটি সত্য বলব, যা জানার পর তুমি হয়তো আর কখনও কোনো নাটককে শুধু নাটক বলে ভাবতে পারবে না।
তিনি বাক্সটি খুললেন।
ভেতরে ছিল একটি ছোট রেকর্ডার এবং একটি ছবি।
ছবিতে অদ্বৈত রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি।
নীলাঞ্জনা ছবিটি দেখে জমে গেল।
লোকটি তার বাবা অনিরুদ্ধ দত্ত।
কিন্তু ছবির পেছনে লেখা তারিখটি ছিল—
১৫ নভেম্বর, ২০০৯।
অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর পরের দিন।
নীলাঞ্জনা ধীরে মাথা তুলল।
— বাবা যদি ওই দিনও জীবিত থাকতেন, তাহলে তাঁর মৃত্যু কবে হয়েছিল?
প্রবীর সেনের মুখে গভীর বিষণ্ণতা ফুটে উঠল।
তিনি বললেন—
“অনিরুদ্ধ দত্তের মৃত্যু যে দিন ঘোষণা করা হয়েছিল, সেদিন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না—এ কথা সত্যি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর গল্পে যে নামটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই নামটি আজও কেউ জানে না।”
নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল, সে সত্যের আরও কাছে এসেছে।
কিন্তু প্রবীরের পরের কথাটি তার সমস্ত ধারণা ভেঙে দিল।
“তোমার বাবা দুর্ঘটনায় মারা যাননি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। আর সেই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এমন একজন, যাকে তুমি ইতিমধ্যেই বিশ্বাস করেছ।”
ঘরের বাতি নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে ধাতব বাক্সটি মেঝেতে পড়ে গেল।
তারপর একটি গুলির শব্দ।
নীলাঞ্জনা চিৎকার করে উঠল।
আলো ফিরে আসার আগেই কেউ তার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল গুদামের পেছনের দরজার দিকে।
আর মেঝেতে পড়ে রইলেন প্রবীর সেন।
তাঁর বুকের কাছে রক্তের দাগ ছড়িয়ে পড়ছে।
কিন্তু গুলিটা কে চালিয়েছিল?
আর প্রবীরের শেষ কথায় যে বিশ্বাসঘাতকের কথা বলা হয়েছিল, সেই মানুষটি কি নীলাঞ্জনার সবচেয়ে কাছের কেউ?
— সমাপ্ত —