প্রথম পর্ব — শেষ অভিনয়ের রাত
১. বন্ধ থিয়েটারের আলো
কলকাতার উত্তর শহরের পুরোনো অলিগলির একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল ‘রঙ্গমহল’ নাট্যশালা। একসময় এই থিয়েটারের সামনে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় জমত। টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ ঝগড়া করত, চায়ের দোকানে নাটকের সংলাপ নিয়ে তর্ক চলত, আর রাতের শেষে শিল্পীদের বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় থাকত উৎসাহী দর্শকেরা।
কিন্তু সেসব এখন অতীত।
প্রায় সতেরো বছর ধরে রঙ্গমহলের দরজায় তালা ঝুলছে। বাইরের দেওয়ালে শ্যাওলা, জানালার কাচ ভাঙা, প্রবেশপথের ওপরের বিশাল সাইনবোর্ডের অর্ধেক অক্ষর খসে পড়েছে। স্থানীয় লোকেরা বলে, এই থিয়েটারের ভেতরে রাতে আলো জ্বলে। কেউ কেউ দাবি করে, গভীর রাতে বন্ধ দরজার ওপার থেকে ভেসে আসে সংলাপ, কখনও বা করতালির শব্দ।
বেশির ভাগ মানুষ এসব গুজব বলে উড়িয়ে দেয়।
কিন্তু নীলাঞ্জনা দত্ত জানত, রঙ্গমহলের ভেতরে এমন কিছু আছে, যা কোনো গুজবের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর।
সেদিন বিকেলে একটি পুরোনো সংবাদপত্রের অফিসে বসে কাজ করছিল নীলাঞ্জনা। সে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিবেদক। থিয়েটার, চলচ্চিত্র, পুরোনো শিল্পী এবং হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে লেখালেখি করাই তার কাজ। বয়স আটাশ। ছোটবেলা থেকেই মঞ্চের প্রতি তার অদ্ভুত টান।
টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিল রঙ্গমহল নিয়ে পুরোনো খবরের কাগজের কাটিং। সতেরো বছর আগে, ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর, এই থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল ‘অন্তিম দৃশ্য’ নামে একটি নাটক। নাটকের শেষ অভিনয়ের রাতেই ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা।
প্রধান অভিনেতা অদ্বৈত রায় মঞ্চে অভিনয় করতে করতে মারা যান।
সরকারি তদন্তে বলা হয়েছিল, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নাটকের পরিচালক, সহ-অভিনেতা এবং কর্মীদের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি ছিল। ঘটনার মাত্র তিন দিন পর থিয়েটারটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর থেকে কেউ আর সেখানে নাটক করেনি।
নীলাঞ্জনা খবরের কাগজের একটি পুরোনো প্রতিবেদন পড়ছিল, এমন সময় তার ফোন বেজে উঠল।
অচেনা নম্বর।
— হ্যালো?
ওপাশ থেকে এক বৃদ্ধ পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেল।
— আপনি কি নীলাঞ্জনা দত্ত বলছেন?
— হ্যাঁ। কে বলছেন?
— আমি রঙ্গমহলের প্রাক্তন মঞ্চকর্মী। আমার নাম নিবারণ পাল। আপনার লেখা পড়েছি। আপনি পুরোনো থিয়েটার নিয়ে কাজ করছেন, তাই না?
নীলাঞ্জনা সোজা হয়ে বসল।
— হ্যাঁ। রঙ্গমহল নিয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করছি। আপনি কি অদ্বৈত রায়ের শেষ নাটকের সময় সেখানে কাজ করতেন?
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর বৃদ্ধ বললেন, — কাজ করতাম। আর সেই রাতের অনেক কিছুই জানি।
নীলাঞ্জনার হাতের কলম থেমে গেল।
— তাহলে কি আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন?
— পারব। তবে একটা কথা মনে রাখবেন। রঙ্গমহল নিয়ে লিখতে গেলে শুধু মঞ্চের সামনে কী ঘটেছিল, তা জানলেই হবে না। মঞ্চের পেছনের অন্ধকারটাও দেখতে হবে।
— আপনি কী বলতে চাইছেন?
— ফোনে সব বলা যাবে না। কাল বিকেল পাঁচটায় শোভাবাজারের পুরোনো কফির দোকানটায় আসবেন। একা আসবেন।
কথাটা বলে বৃদ্ধ ফোন কেটে দিলেন।
নীলাঞ্জনা বেশ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে হলো, এত বছর পরেও কেউ একজন সেই রাতের কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।
কিন্তু কেন?
২. নিবারণ পালের সাক্ষাৎকার
পরদিন বিকেল পাঁচটার দশ মিনিট আগে নীলাঞ্জনা নির্দিষ্ট দোকানে পৌঁছে গেল। দোকানটি রাস্তার ধারে ছোট্ট, পুরোনো কাঠের টেবিল আর ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ দিয়ে সাজানো। এক কোণে বসে ছিলেন সাদা চুলের এক বৃদ্ধ। পরনে ধূসর পাঞ্জাবি, চোখে মোটা কাচের চশমা।
নীলাঞ্জনাকে দেখেই তিনি হাত তুললেন।
— আপনি নীলাঞ্জনা?
— হ্যাঁ।
— বসুন।
বৃদ্ধের সামনে একটি কাপ চা পড়ে ছিল, কিন্তু চায়ে চুমুক দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তাঁর ডান হাতের আঙুলগুলো অস্থিরভাবে টেবিলে ঠুকছিল।
নীলাঞ্জনা রেকর্ডার বের করল।
— আমি কি কথাগুলো রেকর্ড করতে পারি?
— করতে পারেন। তবে প্রকাশ করার আগে আমার সঙ্গে একবার কথা বলবেন।
— নিশ্চয়ই।
নিবারণবাবু চশমা খুলে রুমাল দিয়ে কাচ মুছতে লাগলেন।
— অদ্বৈত রায় শুধু অভিনেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন রঙ্গমহলের প্রাণ। তাঁর অভিনয় দেখতে মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসত। ‘অন্তিম দৃশ্য’ ছিল তাঁর জীবনের সেরা নাটক। অন্তত আমরা সবাই তাই ভাবতাম।
— কিন্তু নাটকের শেষ অভিনয়ের রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
— হ্যাঁ।
— তদন্তে হৃদ্রোগের কথা বলা হয়েছিল। আপনি কি মনে করেন, সেটা সত্যি ছিল না?
বৃদ্ধ সরাসরি উত্তর দিলেন না।
— আপনি কি জানেন, নাটকটার শেষ দৃশ্যে অদ্বৈতবাবু কী করতেন?
— সংবাদপত্রে পড়েছি, তিনি নিজের চরিত্রের মৃত্যুর অভিনয় করতেন।
— ঠিক। চরিত্রটি ছিল একজন বিচারকের, যিনি একটি পুরোনো অপরাধের সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে খুন হন। শেষ দৃশ্যে তিনি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে সত্যকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়, একদিন সেই সত্যই মাটি ফুঁড়ে উঠে আসে।’
নিবারণবাবু একটু থামলেন।
— সেদিনও তিনি ওই সংলাপ বলেছিলেন। তারপর আলো নিভে যায়। আলো আবার জ্বললে তাঁকে মঞ্চে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দর্শকেরা প্রথমে ভেবেছিল, এও অভিনয়ের অংশ। তারপর বোঝা যায়, তিনি আর উঠছেন না।
— মঞ্চে চিকিৎসক ছিলেন?
— দর্শকদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি উঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
— নাটকের অন্য অভিনেতাদের কী হয়েছিল?
— প্রত্যেকে আলাদা কথা বলেছিল। কেউ বলেছিল, অদ্বৈতবাবু অসুস্থ ছিলেন। কেউ বলেছিল, তিনি অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। আবার কেউ বলেছিল, শেষ দৃশ্যের আগে তিনি কারও সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন।
— কার সঙ্গে?
নিবারণবাবু মাথা নিচু করলেন।
— নাটকের পরিচালক সমরেশ বসুর সঙ্গে।
নীলাঞ্জনা নামটি নোট করে নিল।
— ঝগড়ার কারণ কী?
— সেটা কেউ জানায়নি। কিন্তু ঘটনার আগের কয়েক দিন অদ্বৈতবাবু খুব অস্থির ছিলেন। তিনি বারবার বলতেন, নাটকটা বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁর দাবি ছিল, নাটকের চিত্রনাট্যে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা প্রকাশ পেলে কয়েকজন সম্মানিত মানুষের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
নীলাঞ্জনা বিস্মিত হয়ে তাকাল।
— নাটকটা কি বাস্তব কোনো ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছিল?
— প্রথমে আমরা জানতাম না। পরে বুঝেছিলাম, অদ্বৈতবাবু শুধু অভিনয় করছিলেন না। তিনি কাউকে একটা বার্তা দিতে চাইছিলেন।
— কাকে?
— জানি না। অথবা জানলেও এখন আর বলতে চাই না।
নীলাঞ্জনা একটু বিরক্ত হয়ে বলল, — আপনি আমাকে ডেকে এনে যদি কিছুই না বলেন, তাহলে আমার পক্ষে সত্যিটা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
বৃদ্ধ তার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে ভয়ের ছায়া।
— সত্যিটা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সত্যিটা জানার পর আপনি আগের মতো থাকতে পারবেন কি না, সেটা আমি জানি না।
তিনি পকেট থেকে একটি ছোট খাম বের করে নীলাঞ্জনার দিকে এগিয়ে দিলেন।
খামটি বহু পুরোনো। কাগজ হলদেটে, কোণগুলো ভাঁজ হয়ে গেছে।
— এটা কী?
— অদ্বৈতবাবুর শেষ অভিনয়ের পরদিন আমি মঞ্চের পেছনে পেয়েছিলাম। এত বছর নিজের কাছে রেখেছি। কেন রেখেছি, জানি না। হয়তো ভয় পেয়েছিলাম। হয়তো অপেক্ষা করছিলাম এমন কারও জন্য, যে সত্যিই জানতে চাইবে।
নীলাঞ্জনা খাম খুলল।
ভেতরে ছিল একটি সাদা-কালো ছবি।
ছবিতে রঙ্গমহলের মঞ্চ। মাঝখানে অদ্বৈত রায়, বিচারকের পোশাকে দাঁড়িয়ে। তাঁর ডান দিকে পরিচালক সমরেশ বসু, বাঁ দিকে এক তরুণী অভিনেত্রী। পেছনে আরও তিনজন।
ছবির পেছনে লাল কালিতে লেখা ছিল—
“শেষ দৃশ্যটি আবার দেখুন। খুনির মুখ দর্শকের দিকে নয়।”
নীলাঞ্জনা ছবিটি উল্টেপাল্টে দেখল।
— এই কথার মানে কী?
নিবারণবাবু উঠে দাঁড়ালেন।
— সেটাই আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।
— আর আপনি?
বৃদ্ধ কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু দরজার কাছে গিয়ে একবার ফিরে তাকালেন।
— একটা কথা বলি। অদ্বৈতবাবুর মৃত্যু নিয়ে লেখা সরকারি প্রতিবেদনটি পড়বেন। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি, নাটকের আসল চিত্রনাট্য খুঁজে বের করা। সেটি কখনও প্রকাশিত হয়নি।
— চিত্রনাট্য কোথায় পাব?
— রঙ্গমহলের ভেতরে।
এই বলে নিবারণ পাল চলে গেলেন।
নীলাঞ্জনা ছবিটি হাতে নিয়ে বসে রইল।
বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে। রাস্তার আলো জ্বলে উঠেছে। অথচ তার মনে হচ্ছিল, সে যেন বহু বছর আগের কোনো অন্ধকার মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
৩. মঞ্চের পেছনে
রঙ্গমহলে ঢোকার অনুমতি পাওয়া সহজ ছিল না। থিয়েটারটি তখন কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি। বহু বছর আগে ভবনটি সংস্কারের পরিকল্পনা করা হলেও অর্থের অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশে অস্থায়ী বেড়া, প্রবেশপথে মরচে ধরা তালা।
নীলাঞ্জনা পরদিন পুরসভার সংস্কৃতি দপ্তরে যোগাযোগ করল। পুরোনো থিয়েটার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়ে অনুমতি চাইল। কয়েক ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপের পর অবশেষে এক আধিকারিকের কাছ থেকে অনুমতিপত্র পেল। শর্ত ছিল, ভবনের নিরাপত্তারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট অংশের বাইরে যাওয়া যাবে না।
সন্ধ্যার কিছু আগে সে রঙ্গমহলে পৌঁছল।
নিরাপত্তারক্ষীর নাম মহাদেব। পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়স, হাতে টর্চ, কোমরে চাবির গোছা।
— ম্যাডাম, ভেতরে খুব সাবধানে হাঁটবেন। ছাদ থেকে চুনবালি পড়ে। অনেক জায়গায় কাঠ পচে গেছে।
তালা খুলতেই দরজার কবজা থেকে কর্কশ শব্দ উঠল।
ভেতরে প্রবেশ করে নীলাঞ্জনার মনে হলো, কেউ যেন সময়কে একটি ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছে। ধুলোয় ঢাকা আসন, ছেঁড়া পর্দা, দেওয়ালে বিবর্ণ পোস্টার। বাতাসে স্যাঁতসেঁতে কাঠের গন্ধ।
মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে সে একবার চোখ বন্ধ করল।
কল্পনায় শুনতে পেল দর্শকদের করতালি, শিল্পীদের পায়ের শব্দ, আলোর নির্দেশ, সংলাপের ওঠানামা।
তারপর চোখ খুলে দেখল, সামনে শুধু শূন্যতা।
— ওইদিকে মঞ্চের পেছনের দরজা, — মহাদেব বললেন। — তবে বেশি ভেতরে যাবেন না।
নীলাঞ্জনা মঞ্চের পাশে সরু করিডর ধরে এগোল। বাঁ দিকে সাজঘর, ডান দিকে পোশাক রাখার ঘর। একটি দরজার ওপর এখনও লেখা—‘শিল্পীদের প্রবেশ নিষেধ, অনুমতি ছাড়া নয়’।
সে দরজাটি ঠেলে খুলল।
ভেতরে পুরোনো পোশাক ঝুলছে। কোথাও ছেঁড়া মুকুট, কোথাও নকল তলোয়ার, কোথাও কাঠের বাক্সে সাজসজ্জার সামগ্রী। ঘরের শেষ প্রান্তে একটি লম্বা আয়না। আয়নাটির ওপর ধুলোর আস্তরণ, মাঝখানে চিড়।
নীলাঞ্জনা ছবিটি বের করে দেখল। ছবিতে যে তরুণী অভিনেত্রী ছিলেন, তাঁর পোশাকের সঙ্গে ঘরে ঝুলে থাকা একটি পোশাকের আশ্চর্য মিল।
পোশাকটির পাশে ছোট্ট ধাতব ফলকে লেখা—‘মাধুরী সেন’।
নীলাঞ্জনা নামটি আগে শুনেছে। মাধুরী সেন ছিলেন সেই নাটকের প্রধান অভিনেত্রী। অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর পর তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন। সংবাদপত্রে একবার তাঁর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার বেরিয়েছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “কিছু ঘটনা মঞ্চেই শেষ হওয়া উচিত।”
কিন্তু মাধুরী কোথায় থাকেন, তা নীলাঞ্জনা জানত না।
সে পোশাকটির ছবি তুলল। তারপর আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল।
আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তার চোখে পড়ল, আয়নার কাঠের ফ্রেমের এক পাশে অস্বাভাবিক ফাঁক। যেন ফ্রেমের পেছনে কিছু একটা গুঁজে রাখা হয়েছে।
সে মহাদেবকে ডাকল।
— একটু দেখবেন? এই ফ্রেমটা কি খোলা যায়?
মহাদেব এগিয়ে এসে হাত বুলিয়ে দেখলেন।
— আগে কখনও খেয়াল করিনি।
ফ্রেমের নীচে একটি ছোট পেরেক আলগা হয়ে ছিল। নীলাঞ্জনা সেটি সাবধানে সরাতেই কাঠের পাতলা অংশটি খুলে গেল।
ভেতরে ভাঁজ করা একটি কাগজ।
কাগজটি বের করে নীলাঞ্জনা খুলল।
মাত্র তিনটি লাইন লেখা।
“মঞ্চে যে মারা যায়, সে সব সময় মৃত নয়। যে বেঁচে থাকে, সে সব সময় নির্দোষ নয়। দ্বিতীয় ঘণ্টা বাজার আগে পর্দা তুলবেন না।”
কোনো তারিখ নেই, কোনো নাম নেই।
নীলাঞ্জনার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।
— মহাদেবদা, এখানে কি কোনো ঘণ্টা আছে?
— ঘণ্টা? ছিল বোধহয়। নাটক শুরু হওয়ার আগে দুবার ঘণ্টা বাজানো হতো। প্রথম ঘণ্টা দর্শকদের সতর্ক করত, দ্বিতীয় ঘণ্টার পর পর্দা উঠত।
— এখন সেই ঘণ্টা কোথায়?
মহাদেব কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, — মঞ্চের ওপরের দিকটায় একটা পুরোনো নিয়ন্ত্রণঘর আছে। আগে সেখান থেকে আলো আর শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তবে সিঁড়িটা ভাঙা। আপনাকে ওদিকে যেতে দেব না।
নীলাঞ্জনা আর জোর করল না। কিন্তু তার মনে তখন একটি প্রশ্নই ঘুরছিল—দ্বিতীয় ঘণ্টা বাজানোর কথা কেন লেখা হয়েছে?
সে কাগজটি ব্যাগে রাখল।
ঠিক তখনই মঞ্চের দিক থেকে একটা শব্দ এল।
টং!
একটি ধাতব ঘণ্টার আওয়াজ।
নীলাঞ্জনা আর মহাদেব দুজনেই চমকে ঘুরে দাঁড়াল।
মহাদেবের মুখ ফ্যাকাশে।
— কে বাজাল?
আরেকটি শব্দ এল।
টং!
দ্বিতীয় ঘণ্টা।
তারপর মঞ্চের ওপরের পুরোনো স্পিকার থেকে ভেসে এল এক পুরুষকণ্ঠের সংলাপ।
“বিচার শুরু হওয়ার আগে বিচারককে জানতে হবে, আসামি আসলে কে।”
কণ্ঠটি কর্কশ, কিন্তু স্পষ্ট।
নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল, এটি অদ্বৈত রায়ের কণ্ঠ।
সে রেকর্ডারে শব্দটি ধরার চেষ্টা করল। মহাদেব প্রায় দৌড়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।
— চলুন, ম্যাডাম! এখনই বাইরে যেতে হবে!
— কিন্তু শব্দটা এল কোথা থেকে?
— জানি না! আমি কিছু জানি না!
মহাদেব দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। নীলাঞ্জনাও তাঁর পিছু নিল।
থিয়েটারের বাইরে এসে তারা দাঁড়াতেই ভেতরের সব আলো নিভে গেল।
অথচ নীলাঞ্জনা নিশ্চিত, ঢোকার সময় ভবনের ভেতরে কোনো বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না।
৪. অদ্বৈত রায়ের শেষ সংলাপ
সেই রাতেই বাড়ি ফিরে নীলাঞ্জনা ছবিটি, পুরোনো কাগজটি এবং রঙ্গমহলের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করল।
অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর খবরের সঙ্গে সংরক্ষিত কয়েকটি প্রতিবেদন পাওয়া গেল। সব প্রতিবেদনেই প্রায় একই কথা লেখা—অভিনয়ের সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, কোনো অপরাধের প্রমাণ নেই, পরিবার ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি জানায়নি।
কিন্তু একটি ছোট খবর তার চোখ আটকে দিল।
“মৃত্যুর আগের সপ্তাহে নাট্যকার অদ্বৈত রায়ের সঙ্গে নাটকের প্রযোজক দেবব্রত লাহিড়ীর আর্থিক বিরোধের কথা জানা গেছে। তবে দুই পক্ষই বিষয়টি অস্বীকার করেছে।”
নীলাঞ্জনা নামটি নোট করল—দেবব্রত লাহিড়ী।
আরও খোঁজ করতে গিয়ে সে জানতে পারল, দেবব্রত ছিলেন রঙ্গমহলের অন্যতম অর্থদাতা। থিয়েটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনায় চলে যান। কয়েক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অর্থাৎ, তাঁর কাছ থেকে উত্তর পাওয়ার উপায় নেই।
নীলাঞ্জনা এবার মাধুরী সেনের সন্ধান করতে লাগল। পুরোনো নাট্যপত্রিকা, শিল্পীদের সংগঠনের তালিকা, সংবাদপত্রের আর্কাইভ—সব জায়গায় খুঁজেও তাঁর বর্তমান ঠিকানা পেল না। শুধু জানা গেল, মাধুরী দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন এবং শহরের বাইরে কোথাও থাকতেন।
রাত বারোটা পেরিয়ে গেল।
নীলাঞ্জনা ল্যাপটপ বন্ধ করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার ফোনে একটি বার্তা এল।
অজানা নম্বর।
“রঙ্গমহলে আজ যা শুনেছেন, সেটা ভুলে যান। অদ্বৈত রায়ের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে খোঁজ করলে আপনার ক্ষতি হবে।”
নীলাঞ্জনা কিছুক্ষণ বার্তাটির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর লিখল—
“আপনি কে? কী জানেন?”
কোনো উত্তর এল না।
সে নম্বরটিতে ফোন করল। নম্বরটি বন্ধ।
নীলাঞ্জনা জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে রাতের কলকাতা ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হচ্ছে। দূরে কোথাও গাড়ির হর্ন, রাস্তার কুকুরের ডাক।
তার ভয় লাগছিল। কিন্তু তার চেয়েও বেশি কাজ করছিল কৌতূহল।
কেউ একজন তাকে থামাতে চাইছে।
তার মানে, সে এমন কোনো সূত্রের কাছে পৌঁছে গেছে, যা এত বছর ধরে কেউ সামনে আনতে চায়নি।
সে ব্যাগ থেকে ছবিটি বের করল। ছবির পেছনের লাল অক্ষরগুলো আবার পড়ল—
“শেষ দৃশ্যটি আবার দেখুন। খুনির মুখ দর্শকের দিকে নয়।”
হঠাৎ তার মনে পড়ল, ছবিতে মঞ্চের পেছনে একটি বড় আয়না ছিল। সেই আয়নায় প্রতিফলিত হয়েছিল মঞ্চের কিছু অংশ। যদি ছবিটা ভালো করে দেখা যায়, তবে হয়তো এমন কিছু দেখা সম্ভব, যা সামনে থেকে দেখা যায়নি।
সে ছবিটি স্ক্যান করে কম্পিউটারে বড় করল। প্রথমে কিছু বোঝা গেল না। তারপর ছবির ডান কোণে, পর্দার আড়ালে একটি অস্পষ্ট অবয়ব চোখে পড়ল।
একজন মানুষ।
মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু তাঁর হাতে একটি ছোট ধাতব বস্তু।
নীলাঞ্জনা ছবিটি আরও বড় করল।
বস্তুটি দেখতে পুরোনো পকেটঘড়ির মতো।
সে ছবির সঙ্গে মঞ্চের সাজঘরে তোলা ছবিগুলো মিলিয়ে দেখল। সেখানে ঝুলে থাকা একটি পোশাকের পকেট থেকে একই ধরনের ঘড়ির চেন বেরিয়ে ছিল।
পোশাকটি ছিল মাধুরী সেনের।
কিন্তু ঘড়িটি কি তাঁর ছিল? নাকি অন্য কারও?
নীলাঞ্জনা আবার ছবিটির পেছনটা দেখল। সেখানে আলো-ছায়ার ফাঁকে একটি ছোট চিহ্ন ছিল—একটি বৃত্তের মধ্যে তির্যক রেখা।
সে চিহ্নটি কোথায় দেখেছে মনে করতে পারছিল না।
তারপর পুরোনো নাটকের বিজ্ঞাপনপত্র ঘাঁটতে গিয়ে একটি পোস্টারে একই চিহ্ন দেখতে পেল। পোস্টারের নীচে লেখা ছিল—
“অন্তিম দৃশ্য — একটি নাটক, যেখানে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু লুকিয়ে রেখেছে।”
পোস্টারের পেছনে ছোট অক্ষরে নাট্যকারের নাম লেখা ছিল—অদ্বৈত রায়।
কিন্তু বিজ্ঞাপনটির নীচে আরেকটি নাম ছিল, যা সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সহ-লেখক: শর্মিষ্ঠা বসু।
নীলাঞ্জনা নামটি দেখে থমকে গেল।
শর্মিষ্ঠা বসু কে?
নাটকের পরিচালক সমরেশ বসুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী?
এবং কেন অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর নাম সমস্ত নথি থেকে মুছে দেওয়া হয়েছিল?
সে দ্রুত নামটি লিখে ইন্টারনেটে খুঁজল। খুব বেশি তথ্য পাওয়া গেল না। তবে একটি পুরোনো নাট্যপত্রিকার ডিজিটাল কপিতে ছোট্ট একটি প্রতিবেদন চোখে পড়ল।
“নাট্যকার শর্মিষ্ঠা বসু হঠাৎ করেই জনজীবন থেকে সরে দাঁড়ালেন। ‘অন্তিম দৃশ্য’ নাটকের সাফল্যের পর তাঁর নতুন নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়।”
প্রতিবেদনটির তারিখ—অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর মাত্র চার দিন পর।
নীলাঞ্জনা চেয়ারে হেলান দিল।
একটি মৃত অভিনেতা। একটি বন্ধ থিয়েটার। একটি হারিয়ে যাওয়া সহ-লেখক। একটি অচেনা কণ্ঠ, যা সতেরো বছর পরও মঞ্চে শোনা যায়।
সবকিছু যেন একই সুতোয় বাঁধা।
কিন্তু সেই সুতোটি কোথায় গিয়ে মিলেছে, তা এখনও অজানা।
৫. যে দর্শক কখনও বেরিয়ে যায়নি
পরদিন সকালে নীলাঞ্জনা আবার রঙ্গমহলের পুরোনো কর্মীদের তালিকা খুঁজতে শুরু করল। এবার তার লক্ষ্য ছিল শর্মিষ্ঠা বসু।
দুপুরের দিকে একটি নাট্যসংগঠনের প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ হলো। তাঁর নাম অমলেন্দু মিত্র। একসময় তিনি রঙ্গমহলের নিয়মিত দর্শক ছিলেন।
নীলাঞ্জনা ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে শর্মিষ্ঠার কথা জিজ্ঞাসা করতেই ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল।
— ওই নামটা আপনি কোথায় পেলেন? — অমলেন্দু জিজ্ঞেস করলেন।
— ‘অন্তিম দৃশ্য’-এর পুরোনো বিজ্ঞাপনে। তিনি নাটকের সহ-লেখক ছিলেন বলে মনে হচ্ছে।
— মনে হচ্ছে নয়, তিনি ছিলেন। কিন্তু তাঁর নামটা আর উচ্চারণ করবেন না।
— কেন?
— কারণ শর্মিষ্ঠা বসু বেঁচে নেই।
— কবে মারা গেছেন?
— মারা গেছেন কি না, সেটা কেউ জানে না। তবে তিনি আর কখনও সামনে আসেননি।
— আপনি কি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন?
— শেষবার? হ্যাঁ। নাটকের শেষ অভিনয়ের আগের দিন।
— তিনি কী বলেছিলেন?
অমলেন্দুবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— তিনি বলেছিলেন, “নাটকটা যদি ঠিকমতো শেষ হয়, তাহলে মঞ্চের বাইরে একটা বিচার শুরু হবে।” আমি কথাটার মানে বুঝিনি। পরদিন অদ্বৈত মারা গেলেন। তারপর শর্মিষ্ঠা উধাও।
নীলাঞ্জনা দ্রুত প্রশ্ন করল, — আপনি কি জানেন, তিনি কোথায় থাকতেন?
— উত্তর কলকাতায়। তবে ঠিকানা আমার কাছে নেই। একটা কথা মনে আছে। তিনি সব সময় বলতেন, থিয়েটারে দর্শক যতটা দেখে, তার চেয়ে বেশি কিছু লুকিয়ে থাকে মঞ্চের পেছনের আয়নায়।
নীলাঞ্জনার শরীর শিউরে উঠল।
আয়না!
সাজঘরের সেই চিড় ধরা আয়না!
সে জিজ্ঞাসা করল, — শর্মিষ্ঠার কি কোনো বিশেষ চিহ্ন ছিল? কোনো জিনিস, যা তাঁকে চেনার জন্য কাজে লাগতে পারে?
অমলেন্দুবাবু বললেন, — তিনি সব সময় একটি রুপোর আংটি পরতেন। আংটির ওপর অদ্ভুত একটা চিহ্ন ছিল। বৃত্তের মধ্যে তির্যক রেখা।
নীলাঞ্জনা আর কথা বলতে পারল না।
ছবির পেছনের চিহ্ন। নাটকের পোস্টারের চিহ্ন। শর্মিষ্ঠার আংটির চিহ্ন।
সব একই।
ফোন রেখে সে অনেকক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল।
তারপর ব্যাগ থেকে ছবিটি বের করে আবার দেখল। এবার ছবির একেবারে বাঁ দিকে, পর্দার ছায়ার কাছে একটি হাত দেখা গেল। হাতে রুপোর আংটি।
কিন্তু ছবিটি তো শেষ অভিনয়ের রাতের।
তাহলে শর্মিষ্ঠা সেখানে ছিলেন?
যদি তিনি ছিলেন, তবে তাঁর নাম কেন তদন্তে নেই?
আর যদি তিনি অদ্বৈত রায়ের মৃত্যুর সত্য জানতেন, তবে সতেরো বছর ধরে নীরব কেন?
নীলাঞ্জনা ঠিক করল, তাকে আবার রঙ্গমহলে যেতে হবে।
তবে এবার শুধু দর্শক হিসেবে নয়, একজন অনুসন্ধানী হিসেবে।
সেদিন সন্ধ্যায় সে থিয়েটারের সামনে পৌঁছে দেখল, প্রধান দরজার তালা আগের মতোই ঝুলছে। কিন্তু দরজার নীচে একটি ছোট সাদা খাম পড়ে আছে।
খামের ওপর তার নাম লেখা।
নীলাঞ্জনা দত্ত।
তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
চারদিকে তাকাল। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। দূরে একজন চা-ওয়ালা দোকান গুটোচ্ছেন। কেউ তার দিকে তাকিয়ে নেই।
সে খাম খুলল।
ভেতরে একটি ছোট্ট কাগজ।
মাত্র এক লাইন লেখা—
“আপনি যদি সত্যিই শেষ দৃশ্য দেখতে চান, তাহলে আগামী শুক্রবার রাত আটটায় দর্শকাসনে বসবেন। নাটক আবার শুরু হবে।”
নীলাঞ্জনা ঘড়ি দেখল।
আজ বুধবার।
অর্থাৎ, আর মাত্র দুদিন বাকি।
কিন্তু বন্ধ থিয়েটারে নাটক করবে কে?
আর সতেরো বছর আগে যে অভিনেতা মঞ্চে মারা গিয়েছিলেন, তাঁর নাটকের শেষ দৃশ্য আবার কে অভিনয় করবে?
নীলাঞ্জনা খামটি ব্যাগে রাখল। তারপর শেষবারের মতো থিয়েটারের দিকে তাকাল।
উপরের একটি ভাঙা জানালার পেছনে যেন ক্ষীণ আলো জ্বলল।
এক মুহূর্ত।
তারপর অন্ধকার।
আর সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে ভেসে এল খুব মৃদু একটি কণ্ঠ—
“আপনি দেরি করে ফেলেছেন, নীলাঞ্জনা।”
সে জমে গেল।
কণ্ঠটি যেন ঠিক তার পেছনেই কেউ দাঁড়িয়ে বলে উঠেছে।
কিন্তু পিছনে ফিরে সে কাউকে দেখতে পেল না।
শুধু ফাঁকা রাস্তা, বন্ধ থিয়েটার, আর বাতাসে দুলতে থাকা মরচে ধরা সাইনবোর্ড।
নীলাঞ্জনা দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
তার মাথার মধ্যে তখন একটাই প্রশ্ন—
শুক্রবার রাতে রঙ্গমহলের মঞ্চে কার শেষ অভিনয় হতে চলেছে?
চলবে…