Categories
বিবিধ

‘একজন মা পড়লে, এক প্রজন্ম পড়ে’, সাক্ষরতার অনন্য উদ্যোগে পুরস্কৃত সুশান্ত নন্দী।

উত্তর দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ইসলামপুর দক্ষিণ চক্রের তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত নন্দী পেলেন দি টেলিগ্রাফ স্কুল এওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স এর স্বীকৃতি।
সোমবার ও মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন উত্তরায়নের বিড়লা দিব্যা জ্যোতি স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয় তাকে। সম্মানিত করা হয় তার স্কুল তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও।
দি টেলিগ্রাফ স্কুল এওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান অমিতাভ দত্তও উপস্থিত ছিলেন পুরস্কার বিতরণী পর্বে।
স্কুলের গ্রামজুড়ে নিরক্ষর মায়েদের সাক্ষর করে তুলতে সুশান্ত নন্দী এক বছর আগে শুরু করেছেন” মায়েদের পাঠশালা”। এই এওয়ার্ড তারই স্বীকৃতি। প্রথম দিন সার্টিফিকেট প্রদান পর্বে ওই অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছিলেন নব সাক্ষর মায়েরা। দ্বিতীয় দিন সেখানে এই আনন্দ পর্বের সাক্ষী হলেন প্রধান শিক্ষক সুশান্ত নন্দী সহ তার স্কুলের সহ শিক্ষকদের পাশাপাশি তারাবাড়ি জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষকরাও।

স্কুল ছুটির পরও বই-খাতার স্পর্শ থেকেই যায়। প্রতি শনিবার স্কুল ছুটির পর ইসলামপুর দক্ষিণ চক্রের তাড়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত নন্দী ব্যাগে খাতা, কলম, পেন্সিল, স্লেট নিয়ে পৌঁছে যান স্কুল সংলগ্ন গ্রামের কোনো এক অভিভাবিকার বাড়ির দাওয়ায়।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গ্রামের মানুষরাই।এটাই “মায়েদের পাঠশালা”।

গত প্রায় এক বছর ধরে চলা এই পাঠশালায় শুধু মায়েরাই নন, রয়েছেন গ্রামের বয়স্করাও। তাঁদের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ। স্বরবর্ণ থেকে শুরু করে শব্দ গঠন, হাতের লেখা — সবই শেখানো হয় হাতে-কলমে। শিক্ষক সুশান্ত নন্দীর লক্ষ্য শুধু লেখা নয়, আগামীতে তাঁরা যাতে বই পড়তেও পারেন, সেটাও এই পাঠশালা থেকেই রপ্ত করবেন তাঁরা।

খাতা-কলম-পেন্সিল থেকে শুরু করে টিফিনের দায়িত্বও নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন ওই শিক্ষক। হাসিমুখে সব বরাদ্দ করেন তিনিই।
“পরিবার শিক্ষিত হলে, মা শিক্ষিত হলে তবেই ঘর জ্ঞানের আলোয় সম্পূর্ণভাবে আলোকিত হবে” , ক্ষুদে পড়ুয়ারা আসবে সেই আলোর স্রোতে — এই ভাবনা থেকেই তাঁর এই প্রয়াস।

উৎসাহ বাড়াতে মাসে একদিন নেওয়া হয় পরীক্ষা। যাঁরা ভালো ফল করেন, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ছোট্ট পুরস্কার। যাঁরা একটু পিছিয়ে, তাঁদের জন্য রয়েছে আলাদা যত্ন।

ইতিমধ্যেই গোটা গ্রাম জুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সাক্ষরতার আলো। এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন অনেকেই। গ্রামে এখন চর্চা শুরু হয়েছে — “চাচী আজ কী শিখলে? নানী আজ পড়া হয়েছে?”

একটা দাওয়া, একজন শিক্ষকের জেদ। আর তাতেই বদলে যাচ্ছে গোটা গ্রামের ছবি।

কারণ একটা মা পড়লে, একটা প্রজন্ম পড়ে।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *