Categories
উপন্যাস বিবিধ

শেষ ট্রেনের যাত্রী (দ্বিতীয় পর্ব: যে ছেলেটি নিজের জন্মের সাক্ষী)।

রাত ১১টা ৪৭ মিনিট।

শালবনি রোড স্টেশনের শেষ ট্রেনের ভিতরে দাঁড়িয়ে অর্ক সেন বুঝতে পারছিল না, কাকে বিশ্বাস করবে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি তার বাবার মতো দেখতে। আর তার পাশে বসে থাকা মহিলা দাবি করছেন, তিনি তার মা।

কিন্তু দুজনের একজন মিথ্যে বলছেন।

হয়তো দুজনেই।

ট্রেনের মাইকে আবার ঘোষণা হল—

“যাত্রী অর্ক সেনকে জানানো যাচ্ছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনার হাতে আর এগারো মিনিট সময় রয়েছে।”

অর্ক পকেট থেকে ফোন বের করল। কোনও নেটওয়ার্ক নেই। সময় ১১টা ৪৭ মিনিটেই আটকে রয়েছে।

সে বাবার মতো দেখতে মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি যদি আমার বাবা হন, তাহলে আমার ছোটবেলার এমন একটা কথা বলুন, যা বাইরের কেউ জানে না।”

লোকটি এক মুহূর্তও দেরি করল না।

“তুমি যখন পাঁচ বছরের ছিলে, তখন একদিন ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলে। তোমার বাঁ হাঁটুতে একটা দাগ হয়েছিল। তুমি কেঁদে বলেছিলে, বড় হয়ে তুমি ডাক্তার হবে, যাতে কাউকে আর ব্যথা পেতে না হয়।”

অর্ক নিজের বাঁ হাঁটুর দিকে তাকাল। সত্যিই সেখানে ছোট্ট একটা দাগ রয়েছে।

তার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল।

লোকটি মৃদু হাসল।

“দেখলে তো? আমিই তোমার বাবা।”

অর্ক এবার মায়ের দিকে ফিরল।

মধুরিমা চোখ বন্ধ করে বসেছিলেন। তাঁর গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

“মা, তুমি কিছু বলছ না কেন?”

মধুরিমা ধীরে ধীরে চোখ খুললেন।

“কারণ ওই কথাটা সত্যি। কিন্তু তোমার বাবার স্মৃতি যার কাছে রয়েছে, সে তোমার বাবা হয়ে যায় না।”

“তাহলে ও আমার সম্পর্কে এত কিছু জানে কীভাবে?”

মধুরিমা উত্তর দিলেন না।

বাবার মতো দেখতে লোকটি হঠাৎ হেসে উঠল।

“তোমার মা বরাবরই এমন। নিজের অপরাধ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে ওর জুড়ি নেই।”

অর্ক বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনারা দুজনেই শুধু অভিযোগ করছেন। কেউ সত্যিটা বলছেন না।”

সে কামরার দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু দরজার বাইরে তাকাতেই দেখল, প্ল্যাটফর্ম নেই। জানালার বাইরে ছুটে চলেছে অসংখ্য অন্ধকার গাছ। মাঝেমধ্যে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে পুরোনো বাড়ি, ভাঙা সেতু আর কয়েকজন মানুষের ছায়া।

হঠাৎ একটি দৃশ্য দেখে অর্কের নিঃশ্বাস আটকে গেল।

রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট ছেলে। তার বয়স পাঁচ বছর। পরনে নীল জামা। ছেলেটি দুহাত তুলে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করছে।

অর্ক বুঝতে পারল, ছেলেটি দেখতে অবিকল তার ছোটবেলার মতো।

তারপরই একটি বিকট শব্দ হল।

ট্রেনের জানালা কেঁপে উঠল।

অর্ক চোখ বন্ধ করল।

কয়েক সেকেন্ড পরে চোখ খুলে দেখল, সে আর ট্রেনের কামরায় নেই।

সে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পুরোনো বাড়ির সামনে।

বাড়ির দরজায় লেখা—‘সেন নিবাস’।

দূর থেকে ভেসে আসছে মানুষের চিৎকার।

একজন মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও!”

একজন পুরুষ বলছেন, “ওকে বাঁচাতে হলে আমাদের সবাইকে চুপ থাকতে হবে।”

তারপর একটি ছোট্ট ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ।

অর্ক ছুটে গেল তাঁর দিকে।

“আপনি কে? ওই বাচ্চাটা কে?”

বৃদ্ধ তার দিকে তাকালেন।

“তুমি এত বড় হয়ে গেছ, অর্ক?”

অর্ক স্তব্ধ।

বৃদ্ধের মুখ সে চেনে। তাঁর ছবি তাদের বাড়ির পুরোনো অ্যালবামে রয়েছে। তিনি অর্কের দাদু, দেবব্রত সেন। অর্কের জন্মের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে পরিবারে সবাই জানত।

দাদু তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, “তোমাকে একটা সত্যি জানতে হবে। বারো বছর আগে তোমার বাবা-মায়ের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। দুর্ঘটনার গল্পটা বানানো হয়েছিল।”

“কেন?”

“কারণ তোমার বাবা একটি গোপন নথি খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই নথিতে প্রমাণ ছিল, আমাদের পরিবারের সম্পত্তি দখল করার জন্য বহু বছর ধরে একটি চক্র কাজ করছিল। সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল আমাদেরই একজন আত্মীয়।”

“কে সে?”

দাদু উত্তর দেওয়ার আগেই চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল।

আবার সেই ট্রেনের কামরা।

অর্ক হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ খুলল।

মধুরিমা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আর বাবার মতো দেখতে লোকটি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে।

“কিছু মনে পড়ল, অর্ক?”

অর্ক চিৎকার করে উঠল, “ওটা কী ছিল? আমি আমার দাদুকে দেখলাম!”

লোকটি বলল, “তোমার মস্তিষ্ক তোমাকে বিভ্রান্ত করছে। তোমার মা তোমাকে এইসব দৃশ্য দেখাচ্ছেন।”

মধুরিমা এবার উঠে দাঁড়ালেন।

“আর কত মিথ্যে বলবে? অর্ক, তুমি যা দেখেছ, তার কিছু অংশ তোমার স্মৃতি। ছোটবেলায় তুমি সেই রাতের ঘটনা নিজের চোখে দেখেছিলে। তারপর তোমাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।”

“কিন্তু আমি তো জানতাম, আমার বাবা-মা মারা গিয়েছেন!”

“তোমাকে তাই বিশ্বাস করানো হয়েছিল।”

মধুরিমা নিজের শাড়ির আঁচল থেকে একটি ছোট্ট চাবি বের করলেন।

“এই চাবিটা তোমার বাবা আমাকে দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে একটি নথি লুকিয়ে রাখা আছে। সেই নথি উদ্ধার করতে পারলে সব সত্যি প্রকাশ পাবে।”

অর্ক চাবিটি হাতে নিল।

“নথিটা কোথায়?”

“শালবনি রোড স্টেশনের পুরোনো সিগন্যাল ঘরে।”

অর্ক অবাক হয়ে বলল, “কিন্তু আমরা তো ট্রেনের ভিতরে!”

মধুরিমা জানালার বাইরে আঙুল দেখালেন।

“পরের স্টেশনেই নামতে হবে।”

ঠিক তখনই ট্রেনের গতি কমে এল।

মাইকে ঘোষণা হল—

“শালবনি রোড। যাঁদের নামার কথা, তাঁরা প্রস্তুত হোন।”

দরজা খুলতেই অর্ক দেখতে পেল, প্ল্যাটফর্মে সেই বৃদ্ধ স্টেশনমাস্টার হরিপদ দাঁড়িয়ে আছেন।

তিনি অর্ককে দেখে বললেন, “চাবিটা পেয়েছ?”

অর্ক মাথা নাড়ল।

“তাহলে তাড়াতাড়ি চলো। ভোর হওয়ার আগেই তোমাকে সব জানতে হবে।”

অর্ক মায়ের দিকে তাকাল।

“তুমি আমার সঙ্গে আসবে?”

মধুরিমা মৃদু হাসলেন।

“আমি এত বছর এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করেছি।”

তিনজন দ্রুত স্টেশনের পুরোনো সিগন্যাল ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। ঘরটির দরজায় মরচে পড়েছে। জানালায় মাকড়সার জাল। বাইরে থেকে মনে হচ্ছিল, বহু বছর কেউ এখানে আসেনি।

হরিপদ একটি পুরোনো তালা দেখিয়ে বললেন, “এই তালাটা কখনও ভাঙা হয়নি। কারণ এর চাবি শুধু তোমার বাবার কাছে ছিল।”

অর্ক নিজের হাতে থাকা চাবিটি তালায় ঢোকাল।

খট করে শব্দ হল।

দরজা খুলে গেল।

ঘরের ভিতরে একটি লোহার আলমারি। আলমারির ভিতরে পুরোনো কাগজপত্র, কয়েকটি ছবি এবং একটি ছোট্ট টেপ রেকর্ডার।

অর্ক কাগজগুলো বের করে দেখতে লাগল।

প্রথম নথিতে লেখা ছিল—একটি বড় জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত চুক্তির বিবরণ।

দ্বিতীয় নথিতে কয়েকজন মানুষের নাম।

তৃতীয় কাগজটি দেখে অর্কের চোখ স্থির হয়ে গেল।

সেখানে লেখা—

‘অরিন্দম সেনের মৃত্যুর পর তাঁর পরিচয় গ্রহণ করবে বিকল্প ব্যক্তি। সাক্ষী: দেবব্রত সেন।’

অর্ক কাঁপা গলায় বলল, “বিকল্প ব্যক্তি মানে কী?”

হরিপদ মাথা নিচু করলেন।

“তোমার বাবার একটি যমজ ভাই ছিল।”

“কী!”

মধুরিমা চোখ মুছলেন।

“তোমার বাবা অরিন্দম সেনের যমজ ভাইয়ের নাম ছিল অনিরুদ্ধ। ছোটবেলায় পারিবারিক বিবাদের কারণে দুই ভাই আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। অনিরুদ্ধ বহু বছর পর ফিরে আসে। তখন থেকেই আমাদের জীবনে বিপদ শুরু হয়।”

অর্ক কাগজের পরের অংশ পড়তে লাগল।

সেখানে লেখা ছিল, অনিরুদ্ধ নিজের ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অরিন্দম সেই পরিকল্পনা জেনে যাওয়ায় দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

“তাহলে ট্রেনে যে লোকটি নিজেকে আমার বাবা বলছে, সে কি অনিরুদ্ধ?”

মধুরিমা মাথা নাড়লেন।

“হ্যাঁ।”

“কিন্তু সে আমার বাবার সব স্মৃতি জানে কীভাবে?”

“কারণ তোমার দাদুর বাড়িতে ছোটবেলায় তোমাদের দুই ভাইয়ের ছবি, চিঠি আর ব্যক্তিগত নথি ছিল। অনিরুদ্ধ সেগুলো সংগ্রহ করেছিল। আর তোমাকে যখন ছোটবেলায় কিছুদিন তার কাছে রাখা হয়েছিল, তখন সে তোমার সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে যায়।”

অর্কের মনে পড়ল, তার শৈশবের কয়েকটি বছর সম্পর্কে কোনও পরিষ্কার স্মৃতি নেই। পরিবারের লোকেরা সবসময় বলত, দুর্ঘটনার পর সে মানসিক আঘাত পেয়েছিল।

কিন্তু সেই আঘাতের আড়ালে কি অন্য কোনও ইতিহাস লুকিয়ে ছিল?

হরিপদ টেপ রেকর্ডারটি চালু করলেন।

কিছুক্ষণ শোঁ শোঁ শব্দ হওয়ার পর একটি পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল।

“আমি অরিন্দম সেন। যদি এই রেকর্ডিং কেউ শুনে থাকেন, তাহলে বুঝবেন আমি হয়তো আর বেঁচে নেই। আমার ভাই অনিরুদ্ধ আমার পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার স্ত্রী মধুরিমা এবং ছেলে অর্ক বিপদের মধ্যে রয়েছে। আমি চাই, সত্যিটা একদিন প্রকাশ পাক।”

তারপর কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

আবার সেই কণ্ঠ—

“সবচেয়ে বড় কথা, আমার মৃত্যুর জন্য যে মানুষটিকে দায়ী করা হবে, সে আসল অপরাধী নয়। প্রকৃত অপরাধী আমাদের পরিবারের এমন একজন, যাকে আমি নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করতাম।”

রেকর্ডিং শেষ হয়ে গেল।

অর্ক হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

“তাহলে অনিরুদ্ধ একা নয়। আর কেউ আছে!”

হরিপদ ধীরে ধীরে মাথা তুললেন।

“হ্যাঁ। আর সেই মানুষটি এখনও বেঁচে আছে।”

ঠিক তখনই সিগন্যাল ঘরের বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।

কেউ দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

তারপর পরিচিত একটি কণ্ঠ বলল—

“অর্ক, নথিগুলো আমার হাতে তুলে দাও।”

অর্ক দরজার দিকে তাকাল।

সেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার নিজের বাবা অরিন্দম সেন।

কিন্তু কীভাবে?

মধুরিমা পিছিয়ে গেলেন। হরিপদ মুখ ঢেকে ফেললেন।

আর অর্কের হাতে থাকা নথির শেষ পাতাটি হঠাৎ মেঝেতে পড়ে গেল।

পাতার একেবারে নিচে একটি নাম লেখা ছিল—

‘প্রধান ষড়যন্ত্রকারী: হরিপদ মুখোপাধ্যায়।’

অর্ক ধীরে ধীরে বৃদ্ধ স্টেশনমাস্টারের দিকে ফিরল।

হরিপদ মাথা নিচু করে বললেন, “হ্যাঁ, অর্ক। তোমার বাবাকে বাঁচাতে আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। আর সেই অপরাধের শাস্তি আমি বারো বছর ধরে ভোগ করছি।”

অর্ক চিৎকার করে উঠল, “তাহলে আপনি আমাকে এতক্ষণ সাহায্য করলেন কেন?”

হরিপদ চোখ তুলে তাকালেন।

“কারণ তোমার বাবা আমাকে মৃত্যুর আগে একটা কথা বলেছিলেন—যেদিন অর্ক সত্যের খোঁজে ফিরে আসবে, সেদিন যেন আমি আর পালিয়ে না বেড়াই।”

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি ঘরে ঢুকল।

সে অর্কের দিকে তাকিয়ে বলল, “এবার সব প্রশ্নের উত্তর পাবে। কিন্তু তার আগে তোমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

“কী সিদ্ধান্ত?”

লোকটি বলল, “তুমি কি তোমার বাবার হত্যাকারীকে শাস্তি দিতে চাও, নাকি নিজের মাকে বাঁচাতে চাও?”

অর্ক মায়ের দিকে তাকাল।

মধুরিমার চোখে আতঙ্ক।

ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠল।

হরিপদ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করলেন—

“সময় শেষ! ট্রেন আবার চলে যাচ্ছে!”

মাইকে ঘোষণা হল—

“শেষ ট্রেনের যাত্রী অর্ক সেনকে জানানো যাচ্ছে, আপনার কাছে আর মাত্র এক মিনিট সময় রয়েছে।”

অর্ক বুঝতে পারল, এই রাতের শেষ সিদ্ধান্তই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে।

কিন্তু সে জানত না, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি সত্যিই তার বাবা কি না।

কারণ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা একটি পুরোনো ছবিতে সে এমন কিছু দেখতে পেল, যা সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে।

ছবিতে অরিন্দম সেনের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হরিপদ।

আর তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন ছোট্ট ছেলে।

ছেলেটি অর্ক নয়।

তার মুখ অবিকল অনিরুদ্ধের মতো।

ছবির পিছনে লেখা—

‘১৭ অক্টোবর, ২০১৪। সেই রাতে আমরা তিনজনই মারা গিয়েছিলাম।’

অর্ক ছবিটি শক্ত করে ধরে রইল।

যদি তিনজনই মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে আজ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কারা?

আর শেষ ট্রেনটি কাদের ফিরিয়ে আনছে?

দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *