কলকাতার পুরোনো এক গলির মোড়ে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান ছিল। দোকানটার নাম কেউ জানত না, সবাই শুধু বলত— “কাকুর দোকান।”
প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় সেখানে এসে বসত অর্ণব। এক কাপ লাল চা আর খবরের কাগজ— এটাই ছিল তার অভ্যাস।
আর ঠিক সেই সময়েই আসত একটি মেয়ে। সাদা কুর্তি, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, মুখে অদ্ভুত শান্ত একটা হাসি।
মেয়েটা প্রতিদিন একই কথা বলত—
— “কাকু, এক কাপ চা… একটু কম চিনি।”
প্রথম প্রথম অর্ণব শুধু চুপচাপ দেখত। তারপর ধীরে ধীরে সেই কণ্ঠস্বর, সেই হাসি তার বিকেলের অংশ হয়ে গেল।
কিন্তু দু’জনের মধ্যে কোনোদিন কথা হয়নি।
একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। অর্ণব ভেবেছিল, আজ হয়তো মেয়েটা আসবে না।
ঠিক তখনই ভিজে চুলে দৌড়ে দোকানে ঢুকল সে।
কাকু হেসে বললেন,
— “আজও এলে?”
মেয়েটা হেসে উত্তর দিল,
— “কিছু অভ্যাস ছাড়া যায় না।”
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। দোকানটা অন্ধকার হয়ে গেল মুহূর্তে।
অর্ণব নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,
— “আপনার জন্য একটা চা আমি দিতে পারি?”
মেয়েটা একটু অবাক হয়ে তাকাল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
— “তাহলে এক শর্তে… আপনাকেও আমার সঙ্গে বসে খেতে হবে।”
বাইরে তখন টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। আর ছোট্ট সেই চায়ের দোকানে দুটো অচেনা মানুষ ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছিল এক কাপ চায়ের উষ্ণতায়।
Categories
এক কাপ চায়ের গল্প।