পুরোনো বইয়ের দোকানটা শহরের এক কোণে আজও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। ধুলো জমা তাক, হলদেটে পাতা আর পুরোনো কাগজের গন্ধে ভরা ছোট্ট দোকানটায় খুব কম লোকই আসে।
সেদিন বিকেলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দোকানে ঢুকেছিল ঋতম।
বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ একটা পুরোনো নীল ডায়েরি তার হাতে এলো। মলাটের ওপর ছোট করে লেখা—
“যদি কখনো হারিয়ে যাই, কেউ যেন আমাকে পড়ে।”
কৌতূহল সামলাতে না পেরে ডায়েরিটা খুলল সে।
পাতার পর পাতা জুড়ে এক অচেনা মেয়ের লেখা। তার ছোট ছোট সুখ, অভিমান, ভালোবাসা আর এক মানুষের অপেক্ষার গল্প।
শেষের দিকের এক পাতায় লেখা ছিল—
“আজ আমি শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিন্তু যদি কোনোদিন কেউ এই ডায়েরিটা পড়ে, তাকে একটা কথা বলতে চাই— অপেক্ষা কখনো বৃথা যায় না।”
ঋতম অদ্ভুত এক টান অনুভব করল। যেন অচেনা মানুষটার কষ্টগুলোও তার নিজের হয়ে গেছে।
ডায়েরির শেষ পাতায় একটা ঠিকানা লেখা ছিল।
পরের দিন অনেক খুঁজে সেই ঠিকানায় পৌঁছাল সে। কিন্তু সেখানে এখন ভাঙা এক পুরোনো বাড়ি ছাড়া কিছু নেই।
ফিরে আসার সময় পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধা হঠাৎ বললেন,
— “তুমি কি নীলার খোঁজে এসেছো?”
ঋতম থমকে দাঁড়াল।
বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন,
— “ও প্রায়ই বলত, একদিন কেউ ঠিক ওর ডায়েরি পড়ে ওকে খুঁজতে আসবে।”
ঋতম কিছু বলল না। শুধু বুকের কাছে ডায়েরিটা আরও শক্ত করে ধরে রাখল।
মনে হলো, কিছু গল্প হারিয়ে গেলেও… তাদের অপেক্ষা কখনো হারায় না।
Categories
হারিয়ে যাওয়া ডায়েরি।