কলেজের লাইব্রেরির শেষ কোণের টেবিলটায় প্রতিদিন এসে বসত মেয়েটা। সাদা সালোয়ার, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, আর সামনে সবসময় একটা খোলা খাতা।
অর্ণব প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য করেছিল তাকে।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মেয়েটা কারও সঙ্গে কথা বলত না। শুধু মৃদু হেসে মাথা নাড়ত।
একদিন লাইব্রেরিয়ান কাকু বললেন,
— “ওর নাম তৃষা। ছোটবেলায় অসুস্থতার পর থেকে কথা বলতে পারে না।”
সেদিন থেকে অর্ণবের কেমন যেন আলাদা টান জন্মাল।
প্রতিদিন সে দূর থেকে তৃষাকে দেখত। কখনো বই খুঁজে দিত, কখনো চুপচাপ টেবিলের ওপর একটা চকোলেট রেখে চলে যেত।
তৃষাও ধীরে ধীরে ছোট ছোট কাগজে উত্তর দিতে শুরু করল।
“ধন্যবাদ।”
“আজ বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে।”
“তোমার পছন্দের বই কোনটা?”
একদিন প্রবল বৃষ্টি। পুরো কলেজ প্রায় ফাঁকা।
অর্ণব জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখন তৃষা এসে তার হাতে একটা ভাঁজ করা কাগজ দিল।
কাগজ খুলতেই সে থমকে গেল।
তাতে লেখা—
“সব অনুভূতি শব্দে বলতে হয় না। কিছু মানুষ নীরবতাতেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।”
অর্ণব ধীরে ধীরে তৃষার দিকে তাকাল।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল, আর ভিতরে দুটো নীরব মন প্রথমবার একে অপরের ভাষা বুঝে ফেলেছিল।
Categories
নীরবতার ভাষা।