Categories
গল্প

বৃষ্টিভেজা বিকেল।।

প্রথম অধ্যায় : সেই বিকেলের বৃষ্টি
শ্রাবণের শেষ দিক। সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কালো মেঘে ঢেকে আছে চারদিক। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যাচ্ছে, যেন আকাশ নিজের ভেতরের অস্থিরতা লুকোতে পারছে না।
পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট শহর তমলুকে থাকত সৌম্য। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একেবারে একা।
বাবা-মা দুজনেই কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট্ট একটি বাড়ি, কিছু বই আর স্কুল—এই ছিল তার পৃথিবী।
সেদিন স্কুল ছুটি হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো।
মুষলধারে।
রাস্তাঘাট মুহূর্তে জলে ভরে গেল।
ছাত্রছাত্রীরা একে একে বাড়ি চলে গেল। সৌম্যও বেরোতে যাচ্ছিল, এমন সময় স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলাকে দেখতে পেল।
নীল রঙের শাড়ি।
হাতে একটি ভেজা ছাতা।
মুখে অদ্ভুত এক বিষণ্নতা।
সৌম্য এগিয়ে গিয়ে বলল—
“আপনি কি কারও জন্য অপেক্ষা করছেন?”
মহিলা একটু চমকে তাকালেন।
“না… আসলে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছি।”
“তাহলে স্টাফরুমে বসতে পারেন।”
মহিলা মৃদু হেসে বললেন—
“ধন্যবাদ।”
সেদিন সৌম্য জানত না, এই বৃষ্টিভেজা বিকেল তার জীবন বদলে দিতে চলেছে।
দ্বিতীয় অধ্যায় : পরিচয়
স্টাফরুমে বসে কথাবার্তা শুরু হলো।
মহিলার নাম অন্বেষা।
তিনি কলকাতা থেকে এসেছেন।
একটি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন।
কিছু পুরোনো লোককাহিনি সংগ্রহের কাজে এই অঞ্চলে এসেছিলেন।
সৌম্য অবাক হয়ে বলল—
“আজকালও কেউ লোককাহিনি নিয়ে কাজ করে?”
অন্বেষা হেসে বলল—
“গল্প না থাকলে মানুষ বাঁচে কীভাবে?”
কথাটা শুনে সৌম্যের ভালো লাগল।
কারণ সেও গল্প ভালোবাসত।
বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ ছিল না।
তাই তারা অনেকক্ষণ গল্প করল।
সাহিত্য।
রবীন্দ্রনাথ।
বিভূতিভূষণ।
জীবনানন্দ।
আর জীবন।
তৃতীয় অধ্যায় : একটি পুরোনো ডায়েরি
পরদিনও অন্বেষা স্কুলে এল।
আসলে তার গবেষণার জন্য কিছু তথ্য দরকার ছিল।
সৌম্য তাকে সাহায্য করতে লাগল।
একদিন স্কুলের পুরোনো লাইব্রেরি ঘাঁটতে গিয়ে তারা একটি ডায়েরি খুঁজে পেল।
ডায়েরিটি প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরোনো।
লেখকের নাম—
অমিয় মুখোপাধ্যায়।
একজন শিক্ষক।
ডায়েরিতে লেখা ছিল একটি অসমাপ্ত প্রেমকাহিনি।
একজন শিক্ষক।
একজন সংগীতশিল্পী।
আর একটি বৃষ্টিভেজা বিকেল।
অন্বেষা বলল—
“দেখো, গল্প যেন কখনও শেষ হয় না। শুধু মানুষ বদলে যায়।”
সৌম্য ডায়েরির পাতাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।
মনে হলো, অতীত যেন বর্তমানের সঙ্গে কথা বলছে।
চতুর্থ অধ্যায় : বন্ধুত্ব
দিন গড়াতে লাগল।
অন্বেষার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এক সপ্তাহে।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই এক সপ্তাহ দুই সপ্তাহে গড়াল।
তারপর তিন সপ্তাহে।
সৌম্য ও অন্বেষার মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হলো।
তারা নদীর ধারে হাঁটত।
চায়ের দোকানে বসে গল্প করত।
পুরোনো মন্দির ঘুরে দেখত।
একদিন সন্ধ্যায় অন্বেষা বলল—
“তুমি কখনও শহরে যাওয়ার কথা ভাবোনি?”
সৌম্য মাথা নাড়ল।
“না। এখানে আমার ছাত্ররা আছে।”
“তুমি অদ্ভুত মানুষ।”
“ভালো না খারাপ?”
“ভালো।”
অন্বেষা হেসে ফেলল।
সৌম্যও।
পঞ্চম অধ্যায় : লুকিয়ে থাকা কষ্ট
কিন্তু অন্বেষার হাসির আড়ালে কিছু একটা লুকিয়ে ছিল।
সৌম্য তা বুঝতে পারত।
একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করল—
“তুমি কি কোনো কষ্ট লুকিয়ে রাখছ?”
অন্বেষা অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল—
“আমার বিয়ে হয়েছিল।”
সৌম্য অবাক।
“হয়েছিল?”
“হ্যাঁ। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে স্বামী একটি দুর্ঘটনায় মারা যান।”
চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এল।
“তারপর?”
“তারপর কাজ। শুধু কাজ।”
সেদিন প্রথমবার অন্বেষার চোখে জল দেখল সৌম্য।
ষষ্ঠ অধ্যায় : বিদায়ের খবর
একদিন অন্বেষা জানাল—
“আমাকে কলকাতায় ফিরতে হবে।”
সৌম্যের বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।
যেন হঠাৎ কিছু হারিয়ে যাচ্ছে।
“কবে?”
“আগামী সপ্তাহে।”
সৌম্য কিছু বলল না।
কিন্তু সেদিন রাতে ঘুম এল না।
সে বুঝতে পারল—
অন্বেষা শুধু বন্ধু হয়ে থাকেনি।
তার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে।
সপ্তম অধ্যায় : আবার বৃষ্টি
বিদায়ের আগের দিন।
আবার বৃষ্টি নামল।
ঠিক প্রথম দিনের মতো।
আকাশ ভেঙে পড়া বৃষ্টি।
সৌম্য ও অন্বেষা স্কুলের সেই পুরোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
অনেকক্ষণ কেউ কথা বলল না।
তারপর অন্বেষা বলল—
“জানো, এই কয়েকটা দিন আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল।”
সৌম্য মৃদু হেসে বলল—
“আমারও।”
“তাহলে এত চুপ কেন?”
সৌম্য উত্তর দিল না।
কারণ কিছু কথা ভাষায় বলা যায় না।
অষ্টম অধ্যায় : অপ্রকাশিত কথা
পরদিন স্টেশনে অন্বেষাকে বিদায় জানাতে গেল সৌম্য।
ট্রেন আসতে এখনও কয়েক মিনিট বাকি।
অন্বেষা বলল—
“একটা কথা বলবে?”
“কী?”
“তুমি কি আমাকে মিস করবে?”
সৌম্য হেসে বলল—
“প্রতিদিন।”
অন্বেষা চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
“আমিও।”
ট্রেন ঢুকে পড়ল।
কিন্তু ঠিক ওঠার আগে অন্বেষা ফিরে দাঁড়াল।
“সৌম্য?”
“হ্যাঁ?”
“আমি আবার আসব।”
নবম অধ্যায় : এক বছরের অপেক্ষা
এক বছর কেটে গেল।
তারা ফোনে কথা বলত।
চিঠি লিখত।
মাঝে মাঝে দেখা হতো।
কিন্তু দূরত্ব রয়ে গেল।
এরপর একদিন অন্বেষা হঠাৎ জানাল—
“আমি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি।”
সৌম্য অবাক।
“কেন?”
“কারণ আমি আর পালাতে চাই না।”
“মানে?”
“আমি তমলুকে আসছি।”
দশম অধ্যায় : নতুন শুরু
শরতের এক সকালে অন্বেষা স্থায়ীভাবে তমলুকে চলে এল।
একটি ছোট প্রকাশনা কেন্দ্র শুরু করল।
সৌম্য পাশে দাঁড়াল।
ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো।
একদিন সেই একই স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্বেষা বলল—
“মনে আছে? প্রথম দিন এখানেই আমাদের দেখা হয়েছিল।”
সৌম্য হেসে বলল—
“আর বৃষ্টিও হচ্ছিল।”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে বৃষ্টি আমাদের জন্য শুভ।”
“হয়তো।”
দুজনেই হেসে উঠল।
উপসংহার
জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কখনও কখনও খুব সাধারণভাবে শুরু হয়।
একটি বৃষ্টি।
একটি অপেক্ষা।
একটি কথোপকথন।
আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন গল্প।
সৌম্য ও অন্বেষার গল্প প্রমাণ করে—
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে ঠিক সময়ে।
যখন আমরা ভাবি সব শেষ,
ঠিক তখনই তারা নতুন শুরুর দরজা খুলে দেয়।
আর তাই আজও যখন শ্রাবণের বৃষ্টি নামে, তমলুকের সেই পুরোনো স্কুলের বারান্দা যেন ফিসফিস করে বলে—
“সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো শুরু হয় এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে।”
সমাপ্ত। ☔❤️

Share This
Categories
গল্প

হারিয়ে যাওয়া মানচিত্র।

প্রথম অধ্যায় : পুরোনো সিন্দুকের আবিষ্কার
পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল অঞ্চলের এক প্রাচীন বাড়িতে বাস করত অয়ন। বয়স মাত্র বাইশ। ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছিল কলেজে। ছোটবেলা থেকেই তার পুরোনো জিনিস, প্রাচীন স্থাপনা আর রহস্যের প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল।
অয়নের দাদু, হরিপদ চৌধুরী, ছিলেন গ্রামের সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষদের একজন। তাঁর কাছে ছিল অসংখ্য পুরোনো বই, দলিল এবং ইতিহাসের নথি।
এক বর্ষার বিকেলে দাদুর পুরোনো ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অয়ন একটি কাঠের সিন্দুক খুঁজে পেল।
সিন্দুকটি ধুলোয় ঢাকা।
তালা মরিচা পড়ে প্রায় নষ্ট।
কৌতূহলবশত সে সিন্দুক খুলল।
ভেতরে কিছু পুরোনো বই, কয়েকটি মুদ্রা এবং একটি চামড়ার রোল করা কাগজ।
কাগজটি খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
এটি একটি মানচিত্র।
কিন্তু সাধারণ মানচিত্র নয়।
নিচে লেখা—
“রত্নগুহার পথ — ১৮২৪”
দ্বিতীয় অধ্যায় : জমিদারের গুপ্তধন
অয়ন দৌড়ে দাদুর কাছে গেল।
দাদু মানচিত্রটি দেখে দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন—
“এটা আমি বহু বছর ধরে খুঁজছিলাম।”
“এটা কী?”
“দুইশো বছর পুরোনো এক কিংবদন্তির অংশ।”
দাদু বলতে শুরু করলেন—
১৮২৪ সালে মহিষাদলের এক জমিদার নাকি বিদ্রোহ আর লুটপাটের ভয়ে তার বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখেন।
সোনা, রূপা, মূল্যবান রত্ন—সব একটি গোপন গুহায় রেখে দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই গুহার অবস্থান জানতেন মাত্র তিনজন।
পরবর্তীতে তারা রহস্যজনকভাবে মারা যান।
গুপ্তধনের কথা কিংবদন্তি হয়ে যায়।
কেউ আর সেটির খোঁজ পায়নি।
“তাহলে এই মানচিত্র…”
“সম্ভবত সেই গুপ্তধনের পথ।”
তৃতীয় অধ্যায় : অভিযানের শুরু
অয়ন একা যেতে চাইল না।
সে তার দুই বন্ধু—রুদ্র ও মেঘলাকে সঙ্গে নিল।
রুদ্র সাহসী এবং বুদ্ধিমান।
মেঘলা ইতিহাসের ছাত্রী।
তিনজন সিদ্ধান্ত নিল, বিষয়টি গোপন রাখা হবে।
পরদিন ভোরে তারা রওনা দিল।
মানচিত্র অনুযায়ী প্রথম গন্তব্য ছিল একটি পরিত্যক্ত রাজবাড়ি।
বাড়িটি প্রায় ভেঙে পড়েছে।
জঙ্গল ঘিরে রেখেছে চারদিক।
ভেতরে ঢুকতেই তাদের শরীর শিউরে উঠল।
নিস্তব্ধতা।
ধুলো।
আর অতীতের গন্ধ।
চতুর্থ অধ্যায় : গোপন পথ
রাজবাড়ির ভেতরে একটি ভাঙা লাইব্রেরি ছিল।
সেখানে মানচিত্রে আঁকা একটি চিহ্নের সঙ্গে মিলে গেল একটি পাথরের খোদাই।
অয়ন পাথরটি চাপতেই দেয়ালের একটি অংশ সরে গেল।
সামনে দেখা দিল অন্ধকার সুড়ঙ্গ।
রুদ্র ফিসফিস করে বলল—
“আমরা কি সত্যিই ভেতরে যাচ্ছি?”
অয়ন হাসল।
“এতদূর এসে ফিরে যাব?”
তারা টর্চ জ্বালিয়ে এগিয়ে গেল।
সুড়ঙ্গটি বহু পুরোনো।
কোথাও কোথাও ছাদ ভেঙে পড়েছে।
হঠাৎ তারা একটি পাথরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
দরজায় লেখা—
“লোভীদের জন্য মৃত্যু, সত্যসন্ধানীদের জন্য পথ।”
পঞ্চম অধ্যায় : ধাঁধার কক্ষ
দরজার ওপারে ছিল একটি গোলাকার কক্ষ।
মাঝখানে পাথরের স্তম্ভ।
তার উপর তিনটি প্রতীক—
সূর্য।
চাঁদ।
নদী।
দেয়ালে লেখা ছিল—
“যা কখনও থামে না, যা কখনও ফিরে আসে না, অথচ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলে।”
রুদ্র বলল—
“এটা কী?”
মেঘলা কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিল—
“সময়।”
সঙ্গে সঙ্গে স্তম্ভের নিচে লুকানো অংশ খুলে গেল।
আরেকটি পথ দেখা দিল।
তারা বুঝল, গুপ্তধনের রক্ষার জন্য ধাঁধা তৈরি করা হয়েছিল।
ষষ্ঠ অধ্যায় : বিশ্বাসঘাতক
যত গভীরে তারা এগোতে লাগল, ততই রহস্য বাড়তে লাগল।
ঠিক তখনই তারা লক্ষ্য করল—
কেউ যেন তাদের অনুসরণ করছে।
কিছুক্ষণ পরে সামনে এসে দাঁড়াল স্থানীয় এক ব্যবসায়ী, শম্ভু দত্ত।
তিনি বহুদিন ধরে গুপ্তধনের খোঁজ করছিলেন।
অয়নের কথোপকথন গোপনে শুনে তিনি তাদের অনুসরণ করেছিলেন।
শম্ভু হেসে বলল—
“এত কষ্ট তোমরা করেছ, ধন্যবাদ। এবার বাকিটা আমি নেব।”
তার হাতে ছিল বন্দুক।
তিন বন্ধু বিপদে পড়ল।
সপ্তম অধ্যায় : অন্ধকার গুহা
শম্ভু তাদের জোর করে সামনে এগোতে বাধ্য করল।
শেষে তারা একটি বিশাল গুহায় পৌঁছাল।
গুহার মাঝখানে পাথরের তৈরি বিশাল সিন্দুক।
সিন্দুকের চারপাশে অদ্ভুত খোদাই।
শম্ভুর চোখ চকচক করে উঠল।
“অবশেষে!”
সে সিন্দুক খুলতে গেল।
কিন্তু সিন্দুক স্পর্শ করতেই মাটিতে কম্পন শুরু হলো।
দেয়াল কাঁপতে লাগল।
গুহার ছাদ ভেঙে পড়ার উপক্রম।
লোভের ফাঁদ!
অষ্টম অধ্যায় : প্রকৃত ধন
সিন্দুক খুলে দেখা গেল—
সোনা-রত্ন রয়েছে বটে, কিন্তু তার চেয়েও মূল্যবান কিছু আছে।
ভেতরে রয়েছে জমিদারির নথি, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ঐতিহাসিক দলিল এবং বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত বহু অমূল্য তথ্য।
অয়ন বিস্ময়ে বলল—
“এগুলো তো জাতীয় সম্পদ!”
শম্ভু শুধুই সোনা দেখতে পেল।
সে রত্ন ভরতে শুরু করল।
ঠিক তখনই ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়ল।
শম্ভু আটকে গেল।
বন্ধুরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করল।
শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে বেরিয়ে এল।
লোভী মানুষটির চোখে জল এসে গেল।
নবম অধ্যায় : সত্যের জয়
গুহা থেকে বেরিয়ে তারা প্রশাসনকে খবর দিল।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এসে সব পরীক্ষা করলেন।
প্রমাণিত হলো—
এটি সত্যিই দুইশো বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ভাণ্ডার।
সেখানে পাওয়া দলিলপত্র বাংলার আঞ্চলিক ইতিহাসের বহু অজানা তথ্য প্রকাশ করল।
অয়ন ও তার বন্ধুদের প্রশংসা করা হলো।
সংবাদপত্রে তাদের ছবি ছাপা হলো।
কিন্তু তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধনসম্পদ নিল না।
দশম অধ্যায় : নতুন মানচিত্র
কয়েক মাস পরে অয়ন আবার দাদুর ঘরে বসেছিল।
দাদু হাসতে হাসতে বললেন—
“তুমি গুপ্তধন পেয়েছ।”
অয়ন মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ, তবে সোনা নয়।”
“তাহলে কী?”
অয়ন জানালার বাইরে তাকাল।
“ইতিহাস।”
“জ্ঞান।”
“আর জীবনের শিক্ষা।”
দাদু সন্তুষ্ট হয়ে হাসলেন।
সেই সময় অয়নের চোখ পড়ল সিন্দুকের কোণে রাখা আরেকটি পুরোনো কাগজের দিকে।
সেখানে অদ্ভুত একটি চিহ্ন আঁকা।
নিচে লেখা—
‘দ্বিতীয় মানচিত্র’
অয়ন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
নতুন রহস্য যেন তাকে আবার ডাকছে।
উপসংহার
গুপ্তধনের মূল্য সবসময় সোনা বা রত্নে মাপা যায় না।
কখনও কখনও জ্ঞান, ইতিহাস এবং সত্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
অয়ন, রুদ্র ও মেঘলার অভিযান প্রমাণ করেছিল—
লোভ মানুষকে অন্ধ করে,
কিন্তু কৌতূহল ও জ্ঞান মানুষকে পথ দেখায়।
আর প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া মানচিত্রের শেষে হয়তো লুকিয়ে থাকে নতুন এক গল্পের শুরু।
সমাপ্ত। 🗺️✨

Share This
Categories
বিবিধ

গোয়ালতোড় ও গড়বেতায় জোড়া মৃত্যুর ঘটনা, ময়নাতদন্তে পাঠানো দেহ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এক মাঝবয়সী মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড় থানার বড় চাংশোল গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মৃত মহিলার নাম আদরমনি কিস্কু,বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৫২ বছর। সূত্রে আরো জানা যায় বেশ কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন ওই মহিলা। অবশেষে মঙ্গলবার তাকে অচৈতন্য অবস্থায় কেওয়াকোল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ইতিমধ্যেই গোয়ালতোড় থানার পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে। অন্যদিকে বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় গড়বেতার বাগডোবা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মৃত ব্যক্তির নাম তাপস পান্ডা,বয়স আনুমানিক ৩৭ বছর। সূত্রে জানা গিয়েছে মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে কাজ করার সময় হঠাৎই বজ্রবিদ্যুত সহ বৃষ্টি নেমে আসে। সেই সময় বজ্রপাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই ব্যক্তি। তাকে উদ্ধার করে গড়বেতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। এরপর গড়বেতা থানার পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে।

Share This
Categories
বিবিধ

রসকুন্ডুর বনকাটা গ্রামে রহস্যজনক মৃত্যু, চন্দ্রকোনারোড পুলিশের তদন্ত

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের রসকুন্ডুর বনকাটা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মৃত ব্যক্তির নাম মনু সরেন। বয়স আনুমানিক ৪৮ বছর,পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বারান্দায় অচৈতন্য ভাবে পড়ে থাকতে দেখে পরিবার পরিজন। তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ইতিমধ্যেই চন্দ্রকোনারোড বিট হাউসের পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে।

Share This
Categories
বিবিধ

যোগ দিবস সফল করতে মাঠে পুলিশ, শুরু জোরকদমে প্রস্তুতি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আগামী ২১ শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে সারা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড পুলিশ বিট হাউসের পুলিশ কর্মীদের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রত্যেকদিন যোগ দিবসকে সামনে রেখে যোগ ব্যায়েম করছেন পুলিশ কর্তারা। মঙ্গলবার বিট হাউসের IC অনুপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ ও গড়বেতা থানার নির্দেশে এই প্রস্তুতি চলছে।

Share This
Categories
বিবিধ

পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, জনকল্যাণ শিবিরে বৃক্ষচারা বিলি প্রশাসনের।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুসারে সারা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের সাহসপুর হাই স্কুলে চলছে জনকল্যাণ শিবির। এই শিবিরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার পৃথিবীর ভারসাম্যতা রক্ষার্থে এবং সবুজায়নকে ধরে রাখতে শিবিরে আসা সাধারণ মানুষকে চারা গাছ বিলি করলো প্রশাসনের তরফ থেকে। প্রসঙ্গত এই শিবির থেকে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন যুবশক্তি প্রকল্প,অন্নপূর্ণা ভান্ডার,বার্ধক্য ভাতা,বিধবা ভাতার মত একাধিক জনমকে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। এই দিন উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা সহ পুলিশ প্রশাসন।

Share This
Categories
বিবিধ

টোটো চালকদের তৎপরতায় উদ্ধার সাত কচ্ছপ, বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কালনা থানার অন্তর্গত কালিনগর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যাগ ভর্তি কচ্ছপ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো এদিন মঙ্গলবার। জানা গিয়েছে এদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এলাকার টোটো চালকদের প্রথম একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে ওই এলাকায়, ব্যাগ খুলতেই দেখা যায় ব্যাগ ভর্তি রয়েছে কচ্ছপ। কিভাবে ব্যাগ ভর্তি কচ্ছপ ওই এলাকায় পৌঁছালো? কেউবা কারা সেটিকে পাচার করার চেষ্টা করছিল কিনা বা বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিনা? সমস্ত কিছুরই তদন্ত করছে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পুলিশকে খবর দেয়া হলে ধাত্রীগ্রাম ফাঁড়ির পুলিশ এসে কচ্ছপগুলিকে নিয়ে যায়। জানা গিয়েছে ব্যাগে সাতটি কচ্ছপ ছিল। অন্যদিকে আরো জানা গিয়েছে বনদপ্তর এর হাতে কচ্ছপ গুলিকে তুলে দেয়া হবে। ঘটনায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদার আমবাগানে বিস্ফোরণ, গুরুতর জখম সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— ফের রক্তাক্ত শৈশব। আম কুড়াতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ। আহত তিন শিশু। তাদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে মালদার ইংলিশ বাজার থানার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্ন বিঘা এলাকায়। জানা যায় গ্রাম থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে আজ সকালে ৩ শিশু আম কুড়াতে একটি বাগানে যায়। অভিযোগ ঠিক সেই সময় আম ভেবে একটি বোমা ব্যাগে ভরতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় আহত হয় তিন শিশু। যাদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণীর এক শিশু দ্বীপ রায় আশঙ্কাজনক সে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা মঙ্গল রায় একজন টোটো চালক। এলাকাবাসীদের অভিযোগ অদূরেই তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস রয়েছে। তার কিছু দূরে এই আম বাগানে প্রতিদিন জুয়া সহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ হয়। কে বা কারা এই বোমা মজুদ রেখেছিল তদন্তের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা। এদিকে এই খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছায় ইংলিশ বাজার থানার পুলিশ। পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাসের বান্ডিল এবং দেশলাই উদ্ধার করা হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

বর্ষাকালীন নিয়মে তিন মাসের জন্য বন্ধ জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ থেকে তিন মাসের জন্য জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেল। সারা দেশের পাশাপাশি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে আজ থেকে তিন মাসের জন্য পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ।

প্রতিবছর বর্ষায় সময় ১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর এই তিন মাস সারা দেশের সমস্ত জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত অরণ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সারা দেশের পাশাপাশি আজ থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।

Share This
Categories
গল্প

গল্প : নদীর ওপারে তুমি।

প্রথম অধ্যায় : নদী, নৌকা আর একটি স্বপ্ন
পূর্ব মেদিনীপুরের একটি ছোট্ট গ্রাম—সোনাখালি। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। বর্ষাকালে নদীটি যেন এক উন্মত্ত যুবতী, আর শীতকালে শান্ত, ধীর, গভীর।
নদীর এপারে থাকত অরিন্দম। গরিব ঘরের ছেলে। বাবা ছিলেন জেলে, মা গৃহবধূ। সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিল না।
অরিন্দমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া। সে বিশ্বাস করত, শিক্ষা মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
নদীর ওপারে ছিল কাশীপুর গ্রাম। সেখানে থাকত মেঘলা।
মেঘলার বাবা ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। পরিবারের অবস্থা ভালো। মেয়েটিও পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী।
প্রতিদিন সকালে একটি নৌকা নদী পারাপার করত। সেই নৌকাতেই প্রথম দেখা অরিন্দম ও মেঘলার।
তখন তারা দুজনেই কলেজে পড়ে।
প্রথম দিন কোনো কথা হয়নি।
দ্বিতীয় দিনও নয়।
কিন্তু তৃতীয় দিন মেঘলার হাত থেকে একটি বই নদীতে পড়ে গেলে অরিন্দম ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি উদ্ধার করেছিল।
সেই থেকেই শুরু।
দ্বিতীয় অধ্যায় : বন্ধুত্বের বীজ
দিন যেতে লাগল।
নৌকার যাত্রা যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় হয়ে উঠল।
মেঘলা গল্প করত সাহিত্য নিয়ে।
অরিন্দম বলত তার স্বপ্নের কথা।
দুজনেই বুঝতে পারছিল, এই বন্ধুত্ব সাধারণ নয়।
একদিন নদীর মাঝখানে নৌকা চলছিল।
সূর্য অস্ত যাচ্ছে।
আকাশে লাল আভা।
মেঘলা হঠাৎ বলল—
“অরিন্দম, তুমি যদি কোনোদিন অনেক বড় হও, আমাকে ভুলে যাবে না তো?”
অরিন্দম হেসে বলল—
“নদী কি কখনও তার দুই তীরকে ভুলে যায়?”
মেঘলা চুপ করে রইল।
কিন্তু তার চোখের ভাষা অনেক কিছু বলে দিল।
তৃতীয় অধ্যায় : প্রেমের শুরু
শীতের এক সকালে কুয়াশার মধ্যে নৌকা চলছিল।
যাত্রীরা কম।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
মেঘলা ব্যাগ থেকে একটি ছোট্ট খাম বের করল।
“এটা তোমার জন্য।”
অরিন্দম অবাক।
খাম খুলে দেখল একটি বুকমার্ক।
সেখানে লেখা—
“যে স্বপ্ন দেখে, সে-ই একদিন পৃথিবী বদলায়।”
নিচে ছোট্ট করে লেখা—
– মেঘলা
সেই দিন অরিন্দম বুঝেছিল, সে আর শুধুই বন্ধুত্বের জায়গায় নেই।
তার হৃদয় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
চতুর্থ অধ্যায় : ঝড়ের আগমন
সব গল্পের মতো তাদের গল্পেও বাধা এল।
মেঘলার বাবা বিষয়টি জানতে পারলেন।
তিনি মেয়েকে ডেকে বললেন—
“ও ছেলেটা ভালো হতে পারে, কিন্তু আমাদের সমান নয়।”
“বাবা, মানুষ কি টাকায় বড় হয়?”
“সমাজ তাই মানে।”
মেঘলা প্রতিবাদ করল।
কিন্তু লাভ হলো না।
ওদিকে অরিন্দমও বিষয়টি জানতে পারল।
সে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল।
কারণ সে জানত, ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়।
কখনও কখনও ত্যাগও।
পঞ্চম অধ্যায় : বিচ্ছেদ
কিছুদিন পরে মেঘলাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
উচ্চশিক্ষার জন্য।
আসলে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।
যেদিন মেঘলা গেল, সেদিন নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিল অরিন্দম।
দুজনের চোখে জল।
মেঘলা বলল—
“আমি ফিরে আসব।”
অরিন্দম বলল—
“আমি অপেক্ষা করব।”
নৌকা ধীরে ধীরে দূরে চলে গেল।
নদীর জলে সূর্যের আলো ঝিকমিক করছিল।
কিন্তু অরিন্দমের চোখে সবকিছু ঝাপসা।
ষষ্ঠ অধ্যায় : সংগ্রামের বছর
পরবর্তী দশ বছর ছিল কঠিন।
অরিন্দম পড়াশোনা চালিয়ে গেল।
অসংখ্য কষ্টের মধ্যেও হাল ছাড়ল না।
দিনে টিউশন, রাতে পড়াশোনা।
অবশেষে সে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো।
গ্রামের মানুষ তাকে সম্মান করতে শুরু করল।
কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে মেঘলা রয়ে গেল।
এদিকে কলকাতায় মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে গবেষক হলো।
কিন্তু সেও বিয়ে করেনি।
কারণ তার মনেও একজনের জন্য জায়গা খালি ছিল।
সপ্তম অধ্যায় : বন্যা
এক বর্ষায় সুবর্ণরেখা নদী ভয়ঙ্কর রূপ নিল।
টানা বৃষ্টিতে নদীর বাঁধ ভেঙে গেল।
চারদিকে জল।
গ্রাম ডুবে গেল।
অরিন্দম তখন স্কুলকে ত্রাণশিবিরে পরিণত করে মানুষের সাহায্য করছিল।
ঠিক সেই সময় খবর এল—
নদীর ওপারের একটি নৌকা ডুবে গেছে।
কয়েকজন যাত্রী আটকে আছে।
অরিন্দম সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে বেরিয়ে পড়ল।
ঝড়ো বাতাস।
প্রবল স্রোত।
মৃত্যুর ভয়।
কিন্তু সে থামল না।
অষ্টম অধ্যায় : পুনর্মিলন
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন মহিলাকে দেখে অরিন্দম থমকে গেল।
মহিলাটিও তাকিয়ে রইল।
দুজনেই একসঙ্গে বলে উঠল—
“তুমি!”
সে মেঘলা।
দশ বছর পরে।
নদীর বুকে।
ঝড়ের মধ্যে।
মেঘলা গবেষণার কাজে গ্রামে ফিরছিল।
বন্যার মধ্যে আটকে পড়েছিল।
অরিন্দম তাকে নিরাপদে নিয়ে এল।
অনেকক্ষণ কেউ কথা বলতে পারল না।
শুধু চোখে চোখে কথা হলো।
নবম অধ্যায় : পুরোনো প্রতিশ্রুতি
সন্ধ্যায় ত্রাণশিবিরে বসে তারা কথা বলছিল।
মেঘলা বলল—
“জানো, আমি তোমাকে খুঁজেছিলাম।”
অরিন্দম মৃদু হেসে বলল—
“আমিও অপেক্ষা করেছি।”
“তুমি বিয়ে করোনি কেন?”
“হয়তো নদীর ওপারে কাউকে রেখে এসেছিলাম।”
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।
সে বলল—
“আমিও।”
দুজনেই নীরবে হাসল।
এত বছর পরও ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি।
দশম অধ্যায় : নতুন সকাল
বন্যা কেটে গেল।
গ্রাম আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করল।
মেঘলার বাবা তখন অনেক বয়স্ক।
তিনি অরিন্দমের কাজ, মানুষের জন্য তার ত্যাগ দেখে মুগ্ধ হলেন।
একদিন তিনি নিজেই অরিন্দমকে ডেকে বললেন—
“আমি ভুল করেছিলাম।”
“মানুষকে অর্থ দিয়ে বিচার করা যায় না।”
“তুমি কি এখনও মেঘলাকে ভালোবাসো?”
অরিন্দম মাথা নিচু করল।
উত্তর দিতে পারল না।
কিন্তু তার নীরবতাই ছিল উত্তর।
একাদশ অধ্যায় : নদীর সাক্ষী
শরতের এক বিকেলে নদীর ঘাটে ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হলো।
গ্রামের মানুষ জড়ো হয়েছে।
আকাশে সাদা মেঘ।
নদীর জলে রোদ ঝলমল করছে।
সেই নদীর ধারে, যেখানে একদিন তাদের পরিচয় হয়েছিল, সেখানেই অরিন্দম ও মেঘলার বিয়ে হলো।
গ্রামের বৃদ্ধ মাঝি হাসতে হাসতে বলল—
“নদী অনেককে আলাদা করে, কিন্তু কখনও কখনও আবার মিলিয়েও দেয়।”
সবাই হাততালি দিল।
উপসংহার
জীবনে সব অপেক্ষার শেষ হয় না।
সব ভালোবাসাও পূর্ণতা পায় না।
কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসা নদীর মতো।
মাঝে যত দূরত্বই থাকুক, শেষ পর্যন্ত নিজের পথ খুঁজে নেয়।
অরিন্দম ও মেঘলার গল্প সেই ভালোবাসার গল্প—
যে ভালোবাসা সময়ের কাছে হার মানেনি,
দূরত্বের কাছে মাথা নত করেনি,
আর একদিন নদীর দুই তীরকে এক করে দিয়েছিল।
সমাপ্ত। ❤️🌊

Share This