Categories
বিবিধ

ফাঁকা রাস্তায় বাইক আটকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ, হরিশ্চন্দ্রপুর ও রতুয়ার দুই যুবক ধৃত।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– ছিনতাই কান্ডে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার হল পৃথক দুই থানা এলাকার দুই ছিনতাইকারী যুবক। বুধবার ধৃতদের সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন চেয়ে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করল চাঁচল থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পারভেজ আলম হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দেগুন ও রফিকুল ইসলাম রতুয়া থানার পারাকরম এলাকার বাসিন্দা। ছিনতাইয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, চাঁচল ২ ব্লকের গৌরহন্ডের বাসিন্দা হায়দার আলির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের একটি সিএসপি শাখা রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বেজপুরা গ্রামে। তার ভাই মামুন রেজা ওই শাখার সাব কো-অপারেটর হিসেব কাজ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় শাখা বন্ধ করে বাইকে চেপে গৌরহন্ডে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় মামুন। গৌরহন্ড সংলগ্ন কৃষ্ণনগর বটগাছ এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় তার বাইক আটকায় তিন দুষ্কৃতী। নম্বর প্লেটহীন একই বাইকে তিন দুষ্কৃতী আসে। মামুনকে আটকে মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে চম্পট দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। তার চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে আসলে দুষ্কৃতীরা বাইক ছেড়ে ধান ক্ষেত দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি একজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, নগদ এক লক্ষ আটানব্বই হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস ও একটি জিআরএস ডিভাইস ছিনতাই করে করে দুষ্কৃতীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

পা ভাঙার পরও ছাড়েনি ফুটবল, জাতীয় ফাইনালে গোল করে বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নায়িকা সুদীপ্তা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- এক বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ভেঙেছিল পা। দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। অনেকের কাছে হয়তো সেখানেই থেমে যেত স্বপ্ন। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ির মেয়ে সুদীপ্তা মণ্ডল থামেনি। চোট সারিয়ে ফের মাঠে ফিরে অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পেনাল্টিতে গোল করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছে সে।
শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে ডক্টর তালিমেরেন আউ জুনিয়র গার্লস’ ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মণিপুরকে পেনাল্টিতে ৩–২ গোলে হারায় পশ্চিমবঙ্গ। পেনাল্টিতে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সুদীপ্তা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাতীয় শিরোপা জেতে বাংলা।
বুধবার বাড়ি ফিরতেই সুদীপ্তাকে ফুলের তোড়া ও মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেন হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক-সহ এলাকার মানুষ। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ফুটবল। সুদীপ্তার সাফল্যে এলাকার কিশোরীদের মধ্যেও নতুন করে ফুটবল খেলার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রায়গঞ্জ হাতিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া সুদীপ্তার ফুটবলে হাতেখড়ি সাত বছর বয়সে। বাবা সুবীর মণ্ডলই তাঁর প্রথম কোচ। মা দেবশ্রী দাস গৃহবধূ। পা ভেঙে যাওয়ার পরও অনুশীলন ছাড়েনি সুদীপ্তা। ধীরে ধীরে মাঠে ফিরে আবার নিজের জায়গা তৈরি করেছে।সুদীপ্তার প্রিয় ফুটবলার ব্রাজিলের তারকা নেইমার। তাঁর খেলা দেখতে ভালোবাসে সে। তবে নিজের স্বপ্নও স্পষ্ট—একদিন ভারতের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে ফুটবল খেলা।
বাবা সুবীর মণ্ডল বলেন, ‘‘পা ভেঙে যাওয়ার পরও মেয়ে ফুটবল ছাড়েনি। অনেক কষ্ট করে আবার মাঠে ফিরেছে। ওর সাফল্যে আমরা খুব গর্বিত।’’ আমিনুল হক বলেন, ‘‘সুদীপ্তার লড়াই অন্য মেয়েদেরও সাহস দেবে। ওকে দেখে আরও মেয়েরা ফুটবলে আসবে—এটাই আমাদের আশা।’’ চোট তাকে থামাতে পারেনি। বরং সেই চোট পেরিয়েই নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেল সুদীপ্তা।

Share This
Categories
গল্প

বৃদ্ধাশ্রমের ঘরটা পরিষ্কার করতে গিয়ে ছবিটা পেল মিতা।

ছবিটা খুব পুরনো। চারজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে একজন বৃদ্ধা, দু’পাশে দুই তরুণী আর সামনে একটি ছোট্ট ছেলে।

ছবির পেছনে কাঁপা হাতে লেখা—

“যদি কখনও হারিয়ে যাই, আমাকে খুঁজবে এই ছবির মানুষগুলোর মধ্যে।”

মিতা বৃদ্ধাশ্রমে কাজ করত। প্রতিদিনই কত মানুষের কত গল্প শুনত। কিন্তু এই ছবিটা তার মনে অদ্ভুত একটা কৌতূহল তৈরি করল।

ছবিটা কার?

সে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের জিজ্ঞেস করল।

কেউ জানল না।

শেষে ছবিটা নিয়ে গেলেন আশ্রমের সবচেয়ে বয়স্ক বাসিন্দা সরলা দেবীর কাছে।

ছবিটা দেখেই বৃদ্ধার চোখ কেঁপে উঠল।

—“এটা কোথায় পেলে?”

—“আপনার ঘরের পুরনো আলমারির নিচে।”

সরলা দেবী ছবিটা দু’হাতে ধরে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন,

—“ছেলেটাকে চিনতে পারছ?”

মিতা মাথা নাড়ল।

—“ও আমার ছেলে।”

ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এল।

—“তাহলে উনি এখন কোথায়?”

সরলা দেবী মৃদু হেসে বললেন,

—“জানি না।”

—“কত বছর হলো?”

—“চল্লিশ।”

মিতা অবাক হয়ে গেল।

সরলা দেবী ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন।

ছেলেটির নাম ছিল অমল। ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর সংসারে অভাব নেমে এসেছিল। সরলা দেবী ছেলেকে পড়াশোনা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একদিন অভিমান করে অমল বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

তারপর আর কোনও খবর নেই।

—“আপনি খুঁজেছিলেন?”

সরলা দেবী মাথা নাড়লেন।

—“অনেক।”

—“কোনও চিঠি?”

—“একবার এসেছিল। তারপর আর কিছু নয়।”

মিতা ছবিটার পেছনের লেখাটা আবার পড়ল।

হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল।

ছবির নিচে খুব ছোট করে আরও একটা লেখা—

“অমল, কলকাতা—চাকরি পেলে মাকে নিয়ে যাব।”

মিতা পরদিন থেকেই খোঁজ শুরু করল।

পুরনো ভোটার তালিকা, এলাকার পরিচিত মানুষ, আশ্রমের নথি—যেখানে পারল খুঁজল।

তিন সপ্তাহ পর একটা নাম পেল।

অমল কুমার সেন।

বয়স মিলে যাচ্ছে।

ঠিকানাও একসময় কলকাতার।

কিন্তু বর্তমান ঠিকানা অন্য শহরে।

মিতা ফোন করল।

ওপাশ থেকে বৃদ্ধ কণ্ঠ—

—“হ্যালো?”

মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—“আপনি কি অমলবাবু?”

—“জি।”

—“আপনার মায়ের নাম সরলা দেবী?”

ওপাশে হঠাৎ নীরবতা।

তারপর কাঁপা গলা—

—“মা… বেঁচে আছেন?”

মিতার চোখ ভিজে উঠল।

—“হ্যাঁ।”

দু’দিন পর একজন বৃদ্ধ মানুষ বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় এসে দাঁড়ালেন।

চুল সাদা।

হাতে পুরনো একটা ব্যাগ।

সরলা দেবী বারান্দায় বসেছিলেন।

মিতার ইশারায় তিনি সামনে তাকালেন।

দু’জনের চোখে চোখ পড়ল।

কেউ কিছু বলল না।

অমল ধীরে ধীরে মায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন।

—“মা…”

সরলা দেবী কাঁপা হাতে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।

—“এত দেরি করলি কেন রে?”

অমল কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

—“ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না।”

সরলা দেবী মৃদু হেসে বললেন,

—“মায়েরা রাগ করে থাকতে পারে। কিন্তু অপেক্ষা করা বন্ধ করতে পারে না।”

মিতা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।

অমল উঠে তার হাতে একটি ছোট খাম দিলেন।

—“এটা আমার কাছে চল্লিশ বছর ধরে ছিল।”

মিতা খুলে দেখল—একটি পুরনো ছবি।

ঠিক সেই ছবি।

তবে ছবির পেছনে নতুন করে লেখা—

“মাকে ফিরিয়ে আনার রাস্তা যদি কোনওদিন ভুলে যাই, এই ছবিটা যেন আমাকে পথ দেখায়।”

মিতা ছবিটা সরলা দেবীর হাতে তুলে দিল।

বৃদ্ধা ছবিটা বুকে চেপে ধরলেন।

সেদিন বৃদ্ধাশ্রমের ঘরে অনেক বছর পর একটি মা আবার তাঁর ছেলেকে কাছে পেলেন।

আর মিতা বুঝল—

কিছু সম্পর্ক হারিয়ে যায় না। শুধু তাদের কাছে পৌঁছানোর রাস্তা কখনও কখনও অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
গল্প

শেষ বেঞ্চের ছেলেটা।

স্কুলের শেষ বেঞ্চটায় সবসময় একাই বসত অর্ণব।

ক্লাসের অন্য ছেলেরা তাকে খুব একটা পছন্দ করত না। কেউ বলত, সে পড়াশোনায় দুর্বল। কেউ বলত, সবসময় চুপ করে থাকে বলে নিশ্চয়ই অহংকারী।

শিক্ষকরাও তাকে নিয়ে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না।

শুধু বাংলা শিক্ষক অনিরুদ্ধবাবু মাঝে মাঝে তার পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন,

—“অর্ণব, তুই এত চুপ করে থাকিস কেন?”

অর্ণব মৃদু হেসে বলত,

—“কথা বলার মতো কেউ নেই স্যার।”

অনিরুদ্ধবাবু আর কিছু বলতেন না।

একদিন ক্লাসে রচনা লিখতে দেওয়া হল—
‘আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।’

সবাই লিখতে শুরু করল।

কেউ লিখল বাবা।
কেউ মা।
কেউ দাদু-ঠাকুমার কথা।

অর্ণব অনেকক্ষণ খাতা ফাঁকা রেখে বসে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে লিখতে শুরু করল।

পরদিন খাতা দেখতে গিয়ে অনিরুদ্ধবাবু অর্ণবের লেখাটা পড়ে থমকে গেলেন।

মাত্র কয়েকটি লাইন—

“আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির নাম আমি জানি না।

প্রতিদিন সকালে স্কুলে আসার সময় গেটের বাইরে একজন বৃদ্ধকে দেখি। তিনি আমাকে দেখে হাসেন। কোনওদিন কথা বলেননি। কিন্তু যেদিন আমার টিফিন থাকে না, সেদিন তিনি নিজের রুটির অর্ধেকটা আমার হাতে দেন।

আমি জানি না তিনি আমার কে।

কিন্তু পৃথিবীতে যিনি না জেনেও আমার ক্ষুধা বোঝেন, তিনিই আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।”

অনিরুদ্ধবাবুর চোখ ভিজে উঠল।

তিনি পরদিন স্কুল ছুটির পর অর্ণবকে ডেকে বললেন,

—“ওই বৃদ্ধ মানুষটার নাম জানিস?”

অর্ণব মাথা নাড়ল।

দু’জনে স্কুলের গেটের বাইরে গেলেন।

কিন্তু সেদিন বৃদ্ধটি সেখানে ছিলেন না।

পরের দিনও না।

তৃতীয় দিনও না।

অর্ণব চুপ হয়ে গেল।

এক সপ্তাহ পর এক সকালে স্কুলে এসে অর্ণব দেখল, গেটের পাশে একটা ছোট বেঞ্চ রাখা হয়েছে।

বেঞ্চটির পাশে একটি ফলক।

লেখা—

“যে মানুষটি নিজের রুটি ভাগ করে অন্যের ক্ষুধা মেটাতেন, তাঁর স্মৃতিতে।”

অর্ণব অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

অনিরুদ্ধবাবু পাশে এসে বললেন,

—“উনি আর নেই, অর্ণব।”

অর্ণব কিছু বলল না।

—“উনার নাম ছিল হরিপদ কাকা। উনি কোনওদিন স্কুলে পড়েননি। কিন্তু তোর লেখা পড়ে বুঝলাম, উনি তোকে যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটা অনেক বড়।”

অর্ণব বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর পকেট থেকে নিজের টিফিনের বাক্সটা বের করল।

বাক্স খুলে অর্ধেক খাবার বেঞ্চের ওপর রেখে দিল।

অনিরুদ্ধবাবু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

—“এটা কী করছিস?”

অর্ণব বলল,

—“কেউ যদি ক্ষুধার্ত হয়ে আসে…”

কথাটা শেষ করতে পারল না।

অনিরুদ্ধবাবু তার মাথায় হাত রাখলেন।

সেদিন থেকে স্কুলের সেই বেঞ্চটি আর শুধু বসার জায়গা রইল না।

প্রতিদিন সেখানে কেউ না কেউ নিজের টিফিনের কিছুটা রেখে যেত।

কেউ বিস্কুট।

কেউ ফল।

কেউ রুটি।

আর অর্ণব?

সে আর শেষ বেঞ্চে একা বসত না।

কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—

কখনও কখনও একজন মানুষের ছোট্ট ভালোবাসা, অন্য একজন মানুষের পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
গল্প

চায়ের দোকানের শেষ কাপ।

শীতের সকাল।

গ্রামের বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালাত গোপাল।

দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টিনের চাল আর সামনে তিনটে কাঠের বেঞ্চ।

সকাল হলেই সেখানে ভিড় জমত।

কেউ চা খেতে আসত, কেউ খবরের কাগজ পড়তে, কেউ আবার শুধু গল্প করতে।

গোপালের দোকানের একটা নিয়ম ছিল।

যে-ই আসুক, প্রথম কাপ চা বাকিতে দেওয়া যায়।

গ্রামের লোকেরা হাসত।

“এই নিয়ম করে ব্যবসা চলে?”

গোপাল বলত,

“চা এক কাপের দাম বেশি নয়। কিন্তু কারও যদি পকেটে টাকা না থাকে, তাকে খালি মুখে ফেরানো যায়?”

একদিন সকালে দোকানে এলেন এক বৃদ্ধ।

পরনে পুরনো ধুতি-পাঞ্জাবি।

কাঁধে একটি কাপড়ের ব্যাগ।

চুপচাপ এসে শেষ বেঞ্চটায় বসে বললেন,

“এক কাপ চা হবে?”

“অবশ্যই।”

গোপাল চা বানিয়ে দিল।

বৃদ্ধ চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন,

“কত?”

“পাঁচ টাকা।”

বৃদ্ধ পকেট হাতড়ালেন।

তারপর মুখটা একটু নিচু করে বললেন,

“আজ টাকা নেই।”

গোপাল হেসে বলল,

“কাল দেবেন।”

বৃদ্ধ তাকালেন।

“আপনি আমাকে চেনেন?”

“না।”

“তাহলে বিশ্বাস করছেন?”

গোপাল চায়ের কেটলি নামাতে নামাতে বলল,

“চা খাওয়ার জন্য মানুষকে আগে চিনতে হয় নাকি?”

বৃদ্ধ কিছু বললেন না।

পরদিন আবার এলেন।

আবার এক কাপ চা।

আবার টাকা নেই।

এভাবে টানা সাত দিন।

গ্রামের লোকজন এবার মজা করতে শুরু করল।

“গোপাল, লোকটা তোকে বোকা বানাচ্ছে।”

“সাত দিনের টাকা একসঙ্গে নিয়ে পালাবে!”

গোপাল শুধু হাসত।

অষ্টম দিন বৃদ্ধ এলেন না।

নবম দিনও না।

দশম দিনও না।

গোপালের কেমন যেন খারাপ লাগতে শুরু করল।

সে বুঝতে পারছিল না কেন।

লোকটাকে সে চিনত না।

তবুও যেন প্রতিদিন দোকানে একটা পরিচিত মুখের অপেক্ষা করছিল।

এক সপ্তাহ পর দুপুরে একটি বড় গাড়ি এসে দোকানের সামনে দাঁড়াল।

গাড়ি থেকে নেমে এলেন একজন ভদ্রলোক।

সঙ্গে দু’জন কর্মচারী।

তিনি গোপালকে জিজ্ঞেস করলেন,

“আপনিই গোপাল?”

“হ্যাঁ।”

“আপনার সঙ্গে একজন বৃদ্ধ প্রতিদিন চা খেতে আসতেন?”

গোপালের বুক ধক করে উঠল।

“হ্যাঁ। কী হয়েছে?”

ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,

“উনি আমার বাবা।”

গোপাল অবাক।

“আপনার বাবা কোথায়?”

ভদ্রলোক ধীরে বললেন,

“দশ দিন আগে উনি মারা গেছেন।”

গোপাল স্তব্ধ হয়ে গেল।

“কিন্তু… উনি তো তার পরের দিনও এখানে এসেছিলেন!”

ভদ্রলোক মাথা নাড়লেন।

“জানি।”

তিনি পকেট থেকে একটি খাম বের করলেন।

“বাবা মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আমাকে একটা কথা বলেছিলেন।”

“কী?”

“বলেছিলেন—‘আমার মৃত্যুর পর বাসস্ট্যান্ডের গোপালের কাছে যেও।’”

গোপাল খামটা নিল।

ভেতরে একটি ছোট্ট চিঠি।

“গোপাল,

তুই আমাকে চেনিস না।

কিন্তু আমি তোকে অনেকদিন ধরে দেখেছি।

প্রতিদিন দোকানে বসে দেখতাম—কেউ টাকা না দিলে তুই তাকে চা খেতে দিস।

একদিন একজন বৃদ্ধকে বিনা পয়সায় চা খেতে দেখে বুঝলাম, মানুষের কাছে এখনও মানুষের দাম আছে।

তাই গত কয়েকদিন ইচ্ছে করেই টাকা না দিয়ে চা খেয়েছি।

তোর বিশ্বাসটা পরীক্ষা করার জন্য নয়।

নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য—এই পৃথিবী এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি।

আমার ছেলে বড় ব্যবসায়ী।

অনেক টাকা আছে।

কিন্তু আমি চাই, আমার মৃত্যুর পর কিছু টাকা এমন কাজে লাগুক, যার মূল্য টাকায় মাপা যায় না।

তাই এই দোকানটার সামনে একটা পাকা ছাউনি করে দিস।

আর পাশে একটা বেঞ্চ।

যাতে বৃষ্টির দিনে পথের মানুষ দাঁড়াতে পারে।

টাকাটা আমার ছেলে দেবে।

শুধু একটা শর্ত—

চায়ের দাম যেন কোনওদিন মানুষের সামর্থ্য দেখে ঠিক না করিস।

যার আছে, সে দেবে।

যার নেই, সে শুধু চা খেয়ে যাবে।

—একজন অচেনা চা-খোর।”

চিঠি পড়ে গোপালের চোখ ভিজে গেল।

বৃদ্ধের ছেলে বললেন,

“বাবা আপনার দোকানটা খুব পছন্দ করতেন।”

গোপাল নিচু গলায় বলল,

“উনি প্রতিদিন শেষ বেঞ্চটায় বসতেন।”

“জানি।”

“ওই বেঞ্চটা আমি কাউকে বসতে দেব না।”

ভদ্রলোক অবাক হয়ে তাকালেন।

“কেন?”

গোপাল বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে বলল,

“কারণ উনি হয়তো আবার চা খেতে আসবেন।”

ভদ্রলোকের চোখও ভিজে গেল।

কয়েক মাস পর দোকানটার সামনে পাকা ছাউনি হলো।

একটি নতুন বেঞ্চও বসানো হলো।

বেঞ্চটির পাশে ছোট্ট একটি কাঠের ফলক।

তাতে লেখা—

“যার পকেটে টাকা নেই, তার জন্য এই বেঞ্চ আর এক কাপ চা সবসময় আছে।”

সেদিন থেকে গোপালের দোকানে আরও অনেক মানুষ আসতে লাগল।

কেউ পাঁচ টাকা দিত।

কেউ দশ টাকা।

কেউ কিছুই দিত না।

গোপাল কাউকে জিজ্ঞেস করত না।

শুধু চা এগিয়ে দিত।

আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার আগে সে শেষ বেঞ্চটার দিকে একবার তাকিয়ে বলত,

“কাকা, আজও চা বাকি রইল।”

তারপর কেটলিটা নামিয়ে রাখত।

কারণ কিছু ঋণ টাকা দিয়ে শোধ হয় না।

কিছু মানুষ চলে গেলেও,

তাদের রেখে যাওয়া এক কাপ চায়ের উষ্ণতা অনেকদিন থেকে যায়।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
বিবিধ

গত বছরের রেকর্ড ছাপানোর সম্ভাবনা, পরিযায়ী পাখির আনাগোনায় জমজমাট আদিনা।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- বর্ষা বিদায় নিতেই সবুজে সেজে উঠেছে চারপাশ। আর সেই সবুজের মাঝেই পাখিদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে মালদা জেলার গাজোলের আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট। পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট ।

শীতের মরশুম শুরুর আগেই দক্ষিণ ভারত সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে আদিনায়। গাছে গাছে এখন শুধুই পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ।

ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখি গণনার কাজ। বনদপ্তরের অভিজ্ঞ কর্মী ও আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাখিদের সংখ্যা নথিভুক্ত করার কাজ চালাচ্ছেন। দূরবীন ও ক্যামেরা হাতে জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে এই গণনা।

বনদপ্তর সূত্রে আশা করা হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবছর আদিনা ডিয়ার ফরেস্টে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, রায়গঞ্জের কুলিক ফরেস্টের পর মালদার আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট পরিযায়ী পাখির বিচরণে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার বেশি সংখ্যক পাখি এসেছে।

তবে ঠিক কত সংখ্যক পরিযায়ী পাখি এবছর আদিনায় এসেছে, তা জানতে এখনও গণনার কাজ চলছে। পাখির সংখ্যা নির্ধারণে বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই পরিযায়ী পাখিরা ফের তাদের নিজস্ব আবাসস্থলের উদ্দেশে পাড়ি দেবে। তার আগেই আদিনায় কত পাখি এসে ভিড় জমিয়েছে, সেই চূড়ান্ত হিসাব তুলে ধরতেই চলছে এই বিশেষ গণনা।

শীতের ছুটিতে আদিনার এই পাখির মেলা দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক ও পাখিপ্রেমীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

স্বচ্ছতা বজায় রাখার শপথ, মালদা টাউন স্টেশন চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হল স্বচ্ছতা শপথ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুরি এবং মালদা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা। তাঁদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ গ্রহণ করা হয়।পাশাপাশি স্টেশন চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও অংশ নেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। কর্মসূচি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।
বক্তারা জানান, পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচির বিষয় নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।স্বচ্ছ ভারত, সুন্দর ভারত,এই বার্তাকে সামনে রেখেই পালিত হয় এদিনের কর্মসূচি।

Share This
Categories
বিবিধ

গ্রামবাসীর দানেই দুই লক্ষ টাকার পুজো, প্রথমবার দুর্গামণ্ডপ তৈরি হচ্ছে ডাহুয়ায়।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— দুর্গাপুজো এলেই এতদিন তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অন্য গ্রামে যেতে হত ডাহুয়ার বাসিন্দাদের। কারও হাতে থাকত ছোট্ট সন্তান, কারও সঙ্গে বয়স্ক বাবা-মা। পুজোর আনন্দ ছিল, কিন্তু নিজের গ্রামে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে ঢাকের বাদ্য শোনার সুযোগ ছিল না। এবার সেই আক্ষেপ মিটতে চলেছে। প্রথমবারের জন্য ডাহুয়া গ্রামেই বসতে চলেছে দুর্গাপুজোর আসর। মঙ্গলবার দুপুরে হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকের দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাহুয়া গ্রামে ডাহুয়া সার্বজনীন দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল পুজোর প্রস্তুতি। খুঁটি পুজো ঘিরে এদিন সকাল থেকেই গ্রামে ছিল উৎসবের আমেজ। পুজোকে ঘিরে গ্রামের ছোট থেকে বড়—সবার মধ্যেই দেখা যায় উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের কথায়, এতদিন দুর্গাপুজো মানেই ছিল গ্রামের বাইরে যাওয়া। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখা ছিল তাঁদের ভরসা। এবার সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে নিজেদের গ্রামেই তৈরি হবে পুজোর মণ্ডপ। গ্রামবাসীদের দান করা অর্থেই হচ্ছে এই পুজো। উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বছরের আয়োজনে খরচ হবে প্রায় দুই লক্ষ টাকা। তবে এখানেই থামতে চান না তাঁরা। আগামী দিনে আরও বড় করে, থিমের মাধ্যমে পুজো করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রথমবার গ্রামে মায়ের আগমন ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। এখন ডাহুয়ার বাসিন্দাদের অপেক্ষা—কবে মণ্ডপে উঠবে প্রতিমা, বাজবে ঢাক আর নিজেদের গ্রামেই শুরু হবে পুজোর উৎসব।

Share This
Categories
বিবিধ

মন্দির থেকে রাস্তাঘাট, গাজোলে স্বচ্ছতা অভিযানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তারা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসেবা ও সমর্পণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে মালদার গাজোলে বিজেপির মন্ডল-২ কমিটির সহযোগিতায় আয়োজিত হল বিশেষ ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’।
এদিন গাজোলের বাবুপুর অঞ্চলের রাজনগর ও মাধইল বুথের বিভিন্ন এলাকায় এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাঁদের উদ্যোগে এলাকার বিভিন্ন মন্দির, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট এবং জনবসতি এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
শুধু পরিচ্ছন্নতার বার্তা নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। হাতে ঝাঁটা নিয়ে মহিলাদের এই কাজে অংশ নিতে দেখে উৎসাহিত করেন বিজেপি গাজোল মন্ডল-২-এর সভাপতি অজয় বালা। অভিযানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তা মহিলাদের পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাও অংশ নেন।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সেবা ও সমর্পণ’-এর আদর্শকে সামনে রেখেই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

Share This
Categories
বিবিধ

দশ হাতের বদলে চার হাত, প্রাচীন ঐতিহ্যের দুর্গাপুজো ঘিরে মুচিয়া মহাদেবপুরে প্রস্তুতি।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– দশভুজা নন, স্বপ্নাদেশে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে পুজিত চতুর্ভূজা মা দুর্গা,,, সাধারণত মা দুর্গার দশ হাতের প্রতিমাই দেখতে অভ্যস্ত মানুষ। তবে পুরাতন মালদার মুচিয়া মহাদেবপুর গ্রামে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী দুর্গাপুজো। তারই প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে । জানাযায় চক্রবর্তী পরিবারের এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ মেনে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে সেখানে পুজিত হয়ে আসছেন চতুর্ভূজা মা দুর্গা। প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে আজও চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যেও রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। জানা যায়, চক্রবর্তী পরিবারের এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর এই পুজোর সূচনা করেন। সেই সময় থেকেই বংশপরম্পরায় চলে আসছে চার হাতের মা দুর্গার আরাধনা। বছরের পর বছর ধরে প্রাচীন রীতিনীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু। বদলেছে পুজোর আয়োজনও। কিন্তু বদলায়নি দেবীর রূপ কিংবা পুজোর ঐতিহ্য। চার হাতের এই দুর্গাপ্রতিমাকে ঘিরে পুজোর কয়েকদিন চক্রবর্তী বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রচলিত দুর্গাপুজোর চেনা রূপের বাইরে এই চার হাতের মা দুর্গার পুজো তাই মুচিয়া মহাদেবপুরের অন্যতম আকর্ষণ। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই পুজো আজও বহন করে চলেছে পরিবারের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার ।

Share This