গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট নদীর ধারে একটা পুরোনো ঘাট ছিল। পূর্ণিমার রাতে সেখানে বসতে খুব ভালোবাসত নীল আর ঐশী।
দু’জনেই স্বপ্ন দেখত— একদিন শহরে গিয়ে নিজেদের মতো একটা জীবন গড়বে।
সেদিনও আকাশভরা চাঁদ। নদীর জলে রুপালি আলো ঝিলমিল করছে।
ঐশী হঠাৎ বলল,
— “যদি কোনোদিন আমরা আলাদা হয়ে যাই?”
নীল মৃদু হেসে তার হাতটা ধরল।
— “তাহলে পূর্ণিমার রাতে এখানেই ফিরে আসবো। তুমি থাকো বা না থাকো… আমি আসব।”
তারপর সময় বদলালো।
চাকরির জন্য নীল শহরে চলে গেল। প্রথমে ফোন, চিঠি— সবই ছিল। তারপর ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে লাগল।
একদিন খবর এলো, ঐশীর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
নীল আর ফিরে আসেনি।
কেটে গেল আট বছর।
সেদিন আবার পূর্ণিমা। বহুদিন পর নীল গ্রামের সেই ঘাটে এসে দাঁড়াল। চারপাশ নিঃশব্দ। শুধু নদীর জলে চাঁদের আলো ভাসছে।
নীল মৃদু হেসে বলল,
— “দেখো, আমি কথা রেখেছি।”
ঠিক তখনই পিছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “আমি জানতাম তুমি আসবে।”
নীল ঘুরে দাঁড়াল।
সাদা শাড়ি পরে ঐশী দাঁড়িয়ে আছে। চোখে জল, ঠোঁটে সেই পুরোনো হাসি।
দু’জনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
কারণ কিছু প্রতিশ্রুতি সময় ভাঙতে পারে না…
সেগুলো শুধু চাঁদের আলোয় নীরবে অপেক্ষা করে।
Categories
চাঁদের আলোয় প্রতিশ্রুতি।