Categories
উপন্যাস বিবিধ

অন্ধকারের ওপারে (তৃতীয় পর্ব: শেষ দরজার ওপারে)।

শেষ পর্ব

রাত দুটো বেজে তেরো মিনিট।

নায়নপুরের আকাশে চাঁদ নেই, তারা নেই। চারপাশে এমন এক অন্ধকার নেমে এসেছে, যেন পৃথিবীর সমস্ত আলো কেউ এক মুহূর্তে নিভিয়ে দিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির ঘড়ি থেমে গেছে। কুকুরের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, এমনকি বাতাসের প্রবাহও যেন স্তব্ধ।

শুধু শান্তিনিকেতন বাড়ির পশ্চিম দিকের জানালায় জ্বলছে ক্ষীণ নীল আলো।

অরিত্র তার যমজ ভাই অরুণের পাশে দাঁড়িয়ে সেই আলো দেখছিল। পঁচিশ বছর ধরে যে ভাইয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে সে কিছুই জানত না, আজ সেই ভাই তার হাত ধরে বলছে—তাদের দুজনের মধ্যে একজনকে আবার অন্ধকারের ঘরে ফিরতে হবে।

“কেন?” অরিত্র প্রশ্ন করল। “আমরা দুজনেই যদি বেঁচে থাকি, তাতে ক্ষতি কোথায়?”

অরুণ উত্তর দিল না। সে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল।

“তুমি এখনও বুঝতে পারছ না, দাদা। আমরা দুজন শুধু যমজ নই। আমাদের জন্মের রাতে যা ঘটেছিল, তার সঙ্গে আমাদের অস্তিত্ব জড়িয়ে গেছে। এই বাড়ি আমাদের দুজনকে একসঙ্গে মেনে নিতে পারে না।”

“এ সব কে বলেছে তোমাকে?”

“যে মানুষটা আমাদের জন্মের রাতের পরীক্ষাটা চালিয়েছিল।”

“হেমন্ত রায়?”

অরুণ মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ। কিন্তু তিনি যা শুরু করেছিলেন, তা শেষ করতে পারেননি। সেই অসমাপ্ত কাজই এই বাড়িকে অভিশপ্ত করে রেখেছে।”

অরিত্রর মনে পড়ল, ক্যাসেটে শোনা হেমন্ত রায়ের কণ্ঠ। তিনি বলেছিলেন, একটি শিশু থাকবে এই পাশে, অন্যটি যাবে ওপারে।

“ওপার বলতে কী বোঝায়?”

অরুণ ধীরে ধীরে অরিত্রর দিকে তাকাল।

“যেখানে সময়ের হিসাব নেই। যেখানে স্মৃতি আর বাস্তবের মধ্যে কোনো সীমারেখা নেই। যেখানে মৃত মানুষদের মুখ দেখা যায়, কিন্তু তাদের স্পর্শ করা যায় না। আর যেখানে একবার কেউ আটকে গেলে, তাকে ফিরিয়ে আনতে অন্য কাউকে তার জায়গা নিতে হয়।”

“তুমি কি সেই জায়গায় আটকে আছ?”

অরুণ মৃদু হাসল।

“আমি জানি না আমি বেঁচে আছি, না মারা গেছি। শুধু জানি, এই বাড়ির সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক আছে, যা আমি ছিন্ন করতে পারিনি।”

অরিত্র তার ভাইয়ের হাত শক্ত করে ধরল।

“তাহলে আমরা একসঙ্গে এই বাড়ির রহস্যের সমাধান করব। কাউকে আর এখানে আটকে থাকতে হবে না।”

অরুণের চোখে প্রথমবারের মতো আশার আলো ফুটে উঠল।

“তাহলে তোমাকে একটা জিনিস খুঁজে বের করতে হবে। পশ্চিমের ঘরে একটা কালো খাতা আছে। বাবা—মানে অমলেন্দু সেন—সেটা লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেখানে লেখা আছে, কীভাবে এই দরজা বন্ধ করা যায়।”

“কালো খাতাটা কোথায়?”

অরুণ বাড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “যেখানে সবকিছুর শুরু হয়েছিল।”


১. অন্ধকারের ঘরে প্রত্যাবর্তন

শান্তিনিকেতনের প্রধান দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই অরিত্রর মনে হল, সে যেন কোনো পরিত্যক্ত বাড়িতে নয়, বরং বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি স্মৃতির ভেতরে প্রবেশ করেছে।

দেওয়ালে ঝুলছে পুরোনো ছবি। কাঠের সিঁড়িতে ধুলো জমে আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঘরের মাঝখানে রাখা টেবিলের ওপর একটি প্রদীপ জ্বলছে। তার পাশে রাখা একটি কাঁচের গ্লাসে জল, যেন কেউ এইমাত্র পান করে গেছে।

“এখানে কেউ থাকে?” অরিত্র জিজ্ঞাসা করল।

“থাকে,” অরুণ বলল। “কিন্তু সে আমাদের মতো নয়।”

“কে?”

অরুণ উত্তর দেওয়ার আগেই ওপরতলা থেকে একটা শব্দ এল।

ধুপ!

তারপর ধীরে ধীরে কারও পায়ের শব্দ সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে লাগল।

অরিত্র তাকিয়ে দেখল, একজন বৃদ্ধ সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা চুল, কুঁচকে যাওয়া মুখ, চোখে মোটা চশমা। তাঁর পরনে পুরোনো দিনের ধুতি-পাঞ্জাবি।

অরিত্রর হাতে ধরা টর্চ কেঁপে উঠল।

“হেমন্ত রায়!”

বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।

“অনেক দিন পর কেউ আমার নাম ধরে ডাকল।”

“আপনি তো পঁচিশ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন!”

“নিখোঁজ হওয়া আর হারিয়ে যাওয়া এক কথা নয়, অরিত্র। কেউ কেউ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়, কিন্তু তাদের স্মৃতি থেকে যায়। আর কেউ কেউ স্মৃতির মধ্যেই বেঁচে থাকে।”

“আপনি কি মৃত?”

বৃদ্ধ প্রশ্নটার উত্তর না দিয়ে বললেন, “তোমরা দুজন অবশেষে একসঙ্গে ফিরে এসেছ। আমি জানতাম, একদিন তোমরা আসবেই।”

অরিত্র এগিয়ে গেল।

“আমাদের জন্মের রাতে কী ঘটেছিল? কেন আমাদের আলাদা করা হয়েছিল?”

হেমন্ত রায় দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“আমি ভুল করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম মৃত্যুকে পরাজিত করতে। ভেবেছিলাম, মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতি আর চেতনার সংকেত ধরে রাখতে পারলে মৃত্যুর পরেও মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি, মানুষের চেতনা কোনো যন্ত্রের মধ্যে আটকে রাখা যায় না।”

“তাহলে আমাদের সঙ্গে কী করেছিলেন?”

“তোমাদের জন্মের সময় তোমাদের হৃদস্পন্দন আর মস্তিষ্কের সংকেত রেকর্ড করার জন্য যন্ত্রটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুতের তীব্র ওঠানামায় যন্ত্রের মধ্যে বিপর্যয় ঘটে। তোমাদের একজনের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। অন্যজন তখনও জীবিত ছিল। সেই মুহূর্তে যন্ত্রের সংকেত অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আমি বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। শুধু দেখেছিলাম, ঘরের আলো নিভে যাওয়ার আগে দুই শিশুর ছায়া একই দেহের ওপর পড়েছে।”

অরিত্রর গলা শুকিয়ে গেল।

“আপনি কি বলতে চাইছেন, আমাদের একজন মারা গিয়েছিল, আর অন্যজনের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ তৈরি হয়েছিল?”

“আমি বলতে চাইছি, সেই রাতে এমন কিছু ঘটেছিল, যার ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। আমি যে পরীক্ষা করেছিলাম, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।”

“আর মাকে এখানে বন্দি করে রেখেছিলেন কেন?”

হেমন্ত রায়ের মুখ মলিন হয়ে গেল।

“মৃণালিনী সব জেনে গিয়েছিল। সে পুলিশকে সব জানাতে চেয়েছিল। আমি তাকে থামাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন পশ্চিমের ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল, তখন আর আমি নিজেও সেটি খুলতে পারিনি। আমি মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি। নিজের পরিবারকেও বাঁচাতে পারিনি।”

“তাহলে আপনি নিজেও এখানে আটকে আছেন?”

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন।

“আমি আমার ভুলের মধ্যে আটকে আছি। যত দিন এই ঘরের রহস্যের সমাধান না হবে, তত দিন আমি এখান থেকে মুক্তি পাব না।”

অরিত্র বলল, “কালো খাতাটা কোথায়?”

হেমন্ত রায় তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

“খাতাটা পাবে ঘড়ির ঘরে। কিন্তু মনে রেখো, সেখানে যা লেখা আছে, তা পড়ে তুমি হয়তো তোমার নিজের পরিচয় নিয়েই সন্দেহ করবে।”


২. ঘড়ির ঘরের গোপন নথি

বাড়ির উত্তর দিকের সরু করিডর পেরিয়ে তারা একটি ছোট ঘরে পৌঁছল। ঘরটির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল একটি দাদুর ঘড়ি। কাঠের গায়ে খোদাই করা ফুল-লতা, কাচের পেছনে পিতলের দোলক।

ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে রাত দুটো বেজে তেরো মিনিটে।

অরিত্র ঘড়ির কাচ খুলতে গেল। কিন্তু কাচের গায়ে হাত রাখতেই তার মাথার মধ্যে যেন অসংখ্য দৃশ্য ঝলসে উঠল।

একটি হাসপাতাল।

মৃণালিনী কাঁদছেন।

অমলেন্দু সেন একটি শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

সুধাংশু পাল দরজার সামনে আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে আছেন।

আর ঘরের এক কোণে ছোট্ট একটি ছেলে চিৎকার করে বলছে, “দাদাকে নিয়ে যাও! ওকে বাঁচাও!”

অরিত্র হঠাৎ হাত সরিয়ে নিল।

“আমি এই দৃশ্যগুলো দেখতে পাচ্ছি কেন?”

অরুণ বলল, “এই বাড়ির জিনিসগুলোর সঙ্গে সেই রাতের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু সব স্মৃতি সত্যি নয়। কিছু স্মৃতি মানুষের অপরাধবোধ থেকে তৈরি হয়।”

অরিত্র ঘড়ির নিচের কাঠের পাটাতন পরীক্ষা করতে লাগল। সেখানে একটা ছোট্ট তালা। রুপোর চাবিটা ঢোকাতেই তালা খুলে গেল।

ভেতরে কালো চামড়ায় বাঁধানো একটি খাতা।

খাতার প্রথম পাতায় লেখা—

“যদি আমি ব্যর্থ হই, তবে এই খাতা পড়বে আমার নাতি অরুণ অথবা অরিত্র। তাদের দুজনের মধ্যে যে-ই পড়ুক, তাকে জানতে হবে—এই বাড়ির দরজা বন্ধ করার জন্য কাউকে বলি দিতে হবে না। দরজাটি বন্ধ হবে তখনই, যখন সত্যিটা স্বীকার করা হবে।”

অরিত্র দ্রুত পরের পাতাগুলো উল্টাতে লাগল।

সেখানে লেখা ছিল, হেমন্ত রায়ের পরীক্ষার সময় ব্যবহৃত যন্ত্রটি আসলে স্মৃতি রেকর্ড করার জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি একটি বড় ভুল করেছিলেন। তিনি যন্ত্রের সঙ্গে বাড়ির পুরোনো ঘড়ির দোলককে যুক্ত করেছিলেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সংকেত তৈরি হয়।

দোলকের গতির সঙ্গে যন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২টা ১৩ মিনিটে সেই সংকেত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছত।

সেই রাতেই যন্ত্রে শর্ট সার্কিট হয়। আগুন লাগে পশ্চিমের ঘরে। হেমন্ত রায় অচেতন হয়ে পড়েন। মৃণালিনী আহত অবস্থায় ঘরের বাইরে ছিটকে আসেন। অমলেন্দু সেন এবং সুধাংশু পাল দুটি শিশুকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু এরপরের ঘটনাগুলো কেউ পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে পারেনি।

খাতার শেষের দিকে অমলেন্দু সেনের নিজের হাতে লেখা একটি বিবৃতি ছিল।

“আমি অরিত্রকে নিয়ে যাচ্ছি। আমি জানি না, সে কীভাবে বেঁচে আছে। আমি জানি না, অরুণ কোথায়। কিন্তু আমি জানি, এই বাড়ির সত্যি প্রকাশ পেলে শিশুটিকে কেউ স্বাভাবিক জীবন দিতে পারবে না। তাই আমি তার জন্মের তারিখ বদলে দেব। তার অতীত মুছে ফেলব না, কিন্তু তাকে সেই অতীতের ভার থেকে দূরে রাখব। একদিন সে নিজেই ফিরে আসবে, যদি তার ফিরে আসার প্রয়োজন হয়।”

অরিত্র খাতা বন্ধ করল।

“বাবা আমাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।”

অরুণ তার দিকে তাকাল।

“হ্যাঁ। কিন্তু তিনি তোমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাকে একা রেখে গিয়েছিলেন।”

অরিত্রর বুকের ভেতর অপরাধবোধ জমে উঠল।

“আমি তো জানতামই না তুমি আছ!”

“আমি জানি, দাদা। আমি তোমাকে দোষ দিই না।”

“তাহলে এত বছর তুমি কীভাবে এখানে ছিলে?”

অরুণ উত্তর দিল, “কিছু স্মৃতি আমাকে ধরে রেখেছিল। মায়ের কণ্ঠ, তোমার মুখ, বাবার প্রতিশ্রুতি। আমি বুঝতে পারিনি, এগুলো সত্যি, না এই বাড়ির তৈরি কোনো বিভ্রম। কিন্তু আজ তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, আমি হয়তো এত দিন শুধু একটা অসমাপ্ত অপেক্ষার মধ্যে ছিলাম।”

অরিত্র খাতার শেষ পাতায় চোখ রাখল। সেখানে একটি মাত্র বাক্য লেখা—

“শেষ দরজাটি খুলতে হলে দুই ভাইকে একই সময়ে ঘড়ির দোলক থামাতে হবে।”


৩. মায়ের শেষ স্মৃতি

ঘড়ির ঘর থেকে বেরিয়ে তারা পশ্চিমের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মৃণালিনীকে দেখা গেল। তাঁর মুখে ক্লান্তি, চোখে গভীর বিষাদ।

“মা!” অরিত্র ছুটে গেল।

মৃণালিনী তার মুখ ছুঁয়ে বললেন, “তুই ফিরে এসেছিস। আমি জানতাম, তুই ফিরবি।”

অরুণ মায়ের সামনে এসে দাঁড়াল।

মৃণালিনী প্রথমে তাকে চিনতে পারলেন না। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর মুখের ভাব বদলে গেল।

“অরুণ?”

অরুণ মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ, মা। আমি ফিরে এসেছি।”

মৃণালিনী দুই ছেলেকে একসঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। এত বছর ধরে যে কান্না তাঁর বুকের মধ্যে জমে ছিল, তা যেন আর ধরে রাখা গেল না।

“আমি তোদের কাউকেই হারাতে চাইনি,” তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন। “আমি শুধু চেয়েছিলাম, তোরা দুজনেই বেঁচে থাকিস।”

অরিত্র মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “এবার আর কেউ কাউকে হারাবে না।”

মৃণালিনী চোখ মুছে বললেন, “তাহলে তোদের একটা কথা জানতে হবে। এই বাড়ির পশ্চিমের ঘরে শুধু যন্ত্রের স্মৃতি আটকে নেই। সেখানে আমার শেষ স্মৃতিটাও আটকে আছে।”

“তোমার শেষ স্মৃতি?”

“সেই রাতে আমি যখন ঘরে ঢুকেছিলাম, তখন দেখেছিলাম অরুণকে। সে কাঁদছিল। তার পাশে আরেকটি শিশু ছিল। শিশুটির মুখ অরিত্রর মতো। আমি বুঝতে পারিনি, কোনটি আমার সন্তান। আমি দুজনকেই বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আগুনের ধোঁয়ায় সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়।”

অরিত্র বিস্মিত হয়ে বলল, “তাহলে তৃতীয় শিশুও ছিল?”

মৃণালিনী মাথা নাড়লেন।

“না। হয়তো সেটা আমার ভয় থেকে তৈরি স্মৃতি। হয়তো আগুনের আলোয় একই শিশুর দুটি প্রতিবিম্ব দেখেছিলাম। আমি নিশ্চিত নই।”

অরুণ বলল, “তাহলে আমাদের সত্যিটা খুঁজে বের করতে হবে।”

মৃণালিনী দুই ছেলের হাত একসঙ্গে ধরলেন।

“যা-ই দেখিস, একে অন্যের হাত ছাড়িস না।”


৪. শেষ দরজা

পশ্চিমের ঘরে ঢুকতেই অরিত্র দেখল, দেয়ালের মাঝখানে একটি বিশাল ধাতব দরজা। দরজার গায়ে অসংখ্য আঁকিবুঁকি, তারের চিহ্ন এবং একটি বৃত্তাকার যন্ত্র। তার নিচে লেখা—“সময় ২:১৩।”

ঘরের এক কোণে সেই পুরোনো যন্ত্রটি এখনও রয়েছে। ধুলো জমে আছে, তার ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু তার ভেতর থেকে ক্ষীণ নীল আলো বেরোচ্ছে।

হেমন্ত রায় সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

“এই দরজাটাই সবকিছুর কেন্দ্র,” তিনি বললেন। “আমি ভেবেছিলাম, এই যন্ত্রের সাহায্যে স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারব। কিন্তু আগুনের রাতে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। তার পর থেকে এই বাড়িতে কিছু মানুষকে দেখা যায়, যাদের বাস্তব অস্তিত্ব নেই। কিছু ঘটনা বারবার ফিরে আসে। সময় যেন একই মুহূর্তে আটকে পড়ে।”

অরিত্র বলল, “দরজাটা বন্ধ করতে হলে কী করতে হবে?”

“ঘড়ির দোলক থামাতে হবে। কিন্তু শুধু দোলক থামালেই হবে না। তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে যন্ত্রের বিপরীত দিকের দুটি সুইচ বন্ধ করতে হবে। তবেই বিদ্যুতের প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হবে।”

অরুণ প্রশ্ন করল, “তারপর?”

“তারপর এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সব স্মৃতি মুক্ত হয়ে যাবে।”

“আর যারা এখানে আটকে আছে?”

হেমন্ত রায়ের চোখে জল এসে গেল।

“তারা মুক্তি পাবে। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ আর ফিরে আসবে না।”

অরিত্র মায়ের দিকে তাকাল।

“মা, তুমি আমাদের সঙ্গে বাইরে যাবে।”

মৃণালিনী কিছু বললেন না। শুধু তাঁর মুখে এক অদ্ভুত শান্তি ফুটে উঠল।

অরুণ ফিসফিস করে বলল, “দাদা, আমরা যদি এটা করি, তাহলে হয়তো আমাদের একজনকে হারাতে হবে।”

অরিত্র দৃঢ় গলায় বলল, “না। খাতায় লেখা আছে, কাউকে বলি দিতে হবে না। আমাদের শুধু সত্যিটা স্বীকার করতে হবে।”

সে হেমন্ত রায়ের দিকে তাকাল।

“আপনি এত বছর ধরে কী লুকিয়েছেন?”

বৃদ্ধের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।

অরিত্র আবার বলল, “আপনি কি সত্যিই মৃত্যুকে পরাজিত করতে চেয়েছিলেন, নাকি নিজের ভুল ঢাকতে এই গল্প তৈরি করেছিলেন?”

হেমন্ত রায় দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর তিনি মাথা নিচু করে বললেন, “আমি ভুল করেছিলাম। আমি আমার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে ভয় পেয়েছিলাম। দুর্ঘটনার পর আমি সবাইকে বলেছিলাম, এই বাড়িতে অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটেছে। আমি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম, যন্ত্রের ত্রুটির কারণেই আগুন লেগেছিল। কিন্তু আমি তা স্বীকার করিনি।”

“তাহলে এই অন্ধকার?”

“এই বাড়ির ভেতরে আটকে থাকা স্মৃতি, অপরাধবোধ আর মানুষের ভয় মিলেই এই অন্ধকারকে শক্তিশালী করেছে। আমি জানি না, এর বাইরে কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি আছে কি না। কিন্তু আমি জানি, সত্যিটা চাপা দিয়ে আমি সবাইকে আরও কষ্ট দিয়েছি।”

অরিত্র বলল, “তাহলে আজ সত্যিটা প্রকাশ করুন।”

হেমন্ত রায় মাথা তুললেন।

“আমি, হেমন্ত রায়, স্বীকার করছি—সেই রাতের দুর্ঘটনার জন্য আমি দায়ী। আমার ভুলের কারণে আমার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমি মৃণালিনীকে রক্ষা করতে পারিনি। অরুণকে হারিয়েছি। অরিত্রকে তার পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করেছি। আমি আর কোনো অজুহাত দেব না।”

কথাগুলো উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতর প্রচণ্ড শব্দ হল।

দেয়ালের গায়ে ফাটল ধরল। নীল আলো ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ধাতব দরজার মাঝখানে একটি সরু রেখা দেখা দিল।

অরুণ অরিত্রর হাত ধরে বলল, “এখন!”

দুজন ঘরের দুই পাশে ছুটে গেল।

অরিত্র ডানদিকের সুইচে হাত রাখল। অরুণ বাঁদিকের সুইচে।

“তিন গুনে,” অরিত্র বলল। “এক… দুই… তিন!”

দুজন একসঙ্গে সুইচ নামিয়ে দিল।

সঙ্গে সঙ্গে ঘড়ির দোলক থেমে গেল।

এক মুহূর্তের জন্য সবকিছু নিস্তব্ধ।

তারপর ধাতব দরজাটি ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করল।

দরজার ওপারে কোনো দানব ছিল না। ছিল না আগুনের সমুদ্র কিংবা অজানা কোনো পৃথিবী। ছিল একটি ছোট্ট ঘর। মেঝেতে পড়ে থাকা পুরোনো খেলনা, শিশুর জামা, ভাঙা দোলনা আর একটি কাঠের বাক্স।

বাক্সের ওপর রাখা ছিল একটি সাদা কাপড়ে মোড়া ছোট্ট খেলনা—দুটি শিশুর হাত ধরে থাকা একটি কাঠের পুতুল।

অরিত্রর চোখে জল এসে গেল।

“এটাই কি আমাদের স্মৃতি?”

অরুণ মাথা নাড়ল।

“হয়তো। হয়তো এটাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব।”

হঠাৎ ঘরের ভেতর শিশুর কান্না শোনা গেল।

অরিত্র আর অরুণ দুজনেই ঘুরে তাকাল।

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট শিশু। তার মুখ অবিকল অরিত্রর মতো। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে অরিত্রর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।

“দাদা…”

অরিত্র হাঁটু গেড়ে বসে শিশুটির দিকে হাত বাড়াল।

কিন্তু শিশুটিকে স্পর্শ করার আগেই তার শরীর থেকে নীল আলো বেরিয়ে এল। আলোটি ধীরে ধীরে ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তারপর শিশুটি মৃদু হাসল।

“এবার আমি যেতে পারি।”

অরিত্রর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

“তুমি কে?”

শিশুটি উত্তর দিল না।

শুধু অরুণের দিকে তাকিয়ে বলল, “মাকে দেখো।”

তারপর আলোয় মিলিয়ে গেল।

ধাতব দরজাটি বন্ধ হয়ে গেল।

বাড়ির সমস্ত ঘড়ি একসঙ্গে চলতে শুরু করল।

রাত দুটো বেজে চৌদ্দ মিনিট।

পঁচিশ বছর ধরে আটকে থাকা সময় যেন অবশেষে এক মিনিট এগিয়ে গেল।


৫. ভোরের আলো

দরজাটি বন্ধ হওয়ার পর বাড়ির অন্ধকার ধীরে ধীরে কেটে যেতে লাগল। জানালার বাইরে পাখির ডাক শোনা গেল। বহু বছর পর শান্তিনিকেতন বাড়ির ভেতরে সকালের আলো প্রবেশ করল।

হেমন্ত রায় আর সেখানে ছিলেন না।

যে জায়গায় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে পড়ে ছিল তাঁর পুরোনো চশমা।

মৃণালিনী দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়ির বাইরে এলেন। তাঁর মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি।

নায়নপুরের মানুষজন বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন। কেউ জানতেন না, রাতের অন্ধকারে কী ঘটেছে। শুধু তাঁরা দেখলেন, বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা বাড়ির জানালাগুলো খুলে গেছে। পশ্চিমের দেওয়ালে আর কোনো ছায়া নেই।

সুধাংশু পাল এগিয়ে এসে মৃণালিনীর সামনে দাঁড়ালেন।

“আমাকে ক্ষমা করবেন,” তিনি বললেন। “আমি সত্যিটা জানতাম, তবু এত বছর চুপ করে ছিলাম।”

মৃণালিনী কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

“ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে সাহস লাগে। কিন্তু শুধু ক্ষমা চাইলেই সব শেষ হয় না। সত্যিটা সবাইকে জানাতে হবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন অন্ধকারের মধ্যে বাঁচতে না হয়।”

সুধাংশু মাথা নত করলেন।

অরিত্র সিদ্ধান্ত নিল, শান্তিনিকেতন বাড়ির সমস্ত নথি, ক্যাসেট এবং যন্ত্রের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ করবে। কোনো রহস্যকে অলৌকিক বলে চালিয়ে দেওয়ার বদলে সে জানতে চাইবে, বাস্তবে কী ঘটেছিল। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে যন্ত্রটির পরীক্ষা করাবে। একই সঙ্গে সে মায়ের হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পও লিখে রাখবে।

অরুণ তার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “তুমি কি আবার কলকাতায় ফিরে যাবে?”

অরিত্র মৃদু হাসল।

“যাব। কিন্তু এবার একা নয়।”

মৃণালিনী দুই ছেলের হাত ধরলেন।

“আমরা আবার একসঙ্গে থাকব। এত বছর পরে আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।”

সেই সকালে নায়নপুরের আকাশে সূর্য উঠেছিল অন্য দিনের মতোই। অথচ অরিত্রর কাছে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীটা যেন নতুন করে শুরু হয়েছে।

পঁচিশ বছর ধরে যে বাড়ি ভয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই বাড়ির পশ্চিমের দেওয়াল ভেঙে ফেলা হল। তার ভেতরে পাওয়া গেল পুড়ে যাওয়া তার, ভাঙা যন্ত্র, পুরোনো কাগজপত্র এবং পরীক্ষার নথি। কোনো গোপন দরজা আর ছিল না। ছিল শুধু মানুষের ভুলের প্রমাণ।

তবে একটি প্রশ্নের উত্তর অরিত্র কোনো দিনই পুরোপুরি খুঁজে পায়নি।

সেই ছোট্ট শিশুটি কে ছিল, যে শেষ মুহূর্তে এসে বলেছিল, “এবার আমি যেতে পারি”?

সে কি অরুণের স্মৃতিতে আটকে থাকা তার মৃত যমজের প্রতিচ্ছবি? নাকি সেই রাতের অপরাধবোধ থেকে জন্ম নেওয়া একটি দৃশ্য? অথবা এমন কোনো সত্য, যার ব্যাখ্যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে?

অরিত্র কখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।

কিন্তু সে একটি কথা বুঝেছিল—অতীতকে অস্বীকার করে মানুষ মুক্তি পায় না। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায়, কিন্তু তার ছায়া একদিন ফিরে আসে। আর সেই ছায়ার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারলেই অন্ধকারের ওপারে আলো দেখা যায়।


৬. শেষ চিঠি

ঘটনার তিন মাস পর, এক শীতের সকালে অরিত্র শান্তিনিকেতন বাড়ির পুরোনো ঘর পরিষ্কার করছিল। কাঠের আলমারির নিচে সে একটি খাম খুঁজে পেল। খামের ওপর তার নাম লেখা—

“অরিত্রর জন্য—যেদিন সে নিজের অতীতকে ভয় পাবে না।”

চিঠিটি অমলেন্দু সেনের হাতের লেখা।

অরিত্র জানালার পাশে বসে চিঠিটি খুলল।

“প্রিয় অরিত্র,

তুই যখন এই চিঠি পড়বি, তখন হয়তো আমি আর বেঁচে থাকব না। আমি জানি, একদিন তুই নায়নপুরে ফিরে যাবি। আমি তোকে আটকাতে পারব না, কারণ মানুষের অতীতের ওপর তার অধিকার আছে।

আমি তোকে সত্যিটা বলিনি। ভেবেছিলাম, সত্যিটা জানলে তুই সারাজীবন ভয়ে বাঁচবি। তোর জন্মের রাতে কী ঘটেছিল, তা আমি পুরোপুরি বুঝিনি। আমি শুধু জানতাম, তোকে এই বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া দরকার।

আমি তোর জন্মের তারিখ বদলে দিয়েছিলাম। সেটা আমার ভুল ছিল। কিন্তু আমি তোকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসেছি। কখনও তোকে অন্য কারও জায়গায় বসিয়ে দেখিনি। তুই আমার ছেলে ছিলি, আছিস, থাকবি।

তোর ভাইয়ের কথা আমি ভুলিনি। প্রতি বছর সতেরোই আগস্ট আমি নায়নপুরে যাওয়ার কথা ভাবতাম। কিন্তু সাহস হয়নি। আমি ভয় পেয়েছিলাম, তোর জীবনে আবার সেই অন্ধকার ফিরে আসবে।

যদি কখনও তোর ভাইকে খুঁজে পাস, তাকে বলিস—আমি তাকে ফেলে আসিনি। আমি শুধু জানতাম না, তাকে কীভাবে ফিরিয়ে আনব।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সত্যিটা লুকিয়ে রাখা। তুই যেন সেই ভুল না করিস।

ভালোবাসা রইল।

তোর বাবা, অমলেন্দু।”

চিঠিটা পড়ে অরিত্র দীর্ঘক্ষণ নীরবে বসে রইল।

তার চোখে জল ছিল, কিন্তু সেই জলে আর ভয় ছিল না। ছিল হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ককে নতুন করে বোঝার চেষ্টা।

সে জানত, সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো দিন পাওয়া যাবে না। তবু সে আর অন্ধকারকে ভয় পেত না।

কারণ সে বুঝেছিল, মানুষের জীবনে সবচেয়ে ভয়ংকর অন্ধকার বাইরের কোনো বাড়িতে থাকে না। থাকে মনের ভেতরে—অস্বীকার, অপরাধবোধ আর না-বলা সত্যের মধ্যে।

আর সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম দরজাটি খুলতে হয় নিজের হাতেই।

সেদিন সন্ধ্যায় অরিত্র, অরুণ এবং মৃণালিনী বাড়ির উঠোনে বসে ছিল। আকাশে ধীরে ধীরে তারা ফুটছিল। অনেক দিন পর তিনজনের মুখে হাসি দেখা গেল।

অরুণ হঠাৎ বলল, “দাদা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?”

“কর।”

“তুই কি কখনও আমাকে স্বপ্নে দেখেছিস?”

অরিত্র একটু ভেবে বলল, “ছোটবেলায় প্রায়ই একটা শিশুর কান্না শুনতাম। মনে হত, কেউ আমাকে ডাকছে। কিন্তু মুখটা দেখতে পেতাম না।”

অরুণ মৃদু হাসল।

“হয়তো আমি তোকে ডাকতাম।”

“হয়তো।”

দুজনেই আকাশের দিকে তাকাল।

দূরে গ্রামের মন্দিরে ঘণ্টা বাজল। ঘরের ভেতর দেয়ালঘড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকল।

রাত দুটো বেজে তেরো মিনিটে আর কোনো দরজা খুলল না।

কোনো ছায়া দেখা গেল না।

কোনো শিশুর কান্নাও শোনা গেল না।

শান্তিনিকেতন বাড়ি অবশেষে একটি সাধারণ বাড়িতে পরিণত হয়েছিল।

আর অরিত্র বুঝেছিল—অন্ধকারের ওপারে সব সময় অলৌকিক কোনো জগৎ থাকে না। কখনও কখনও সেখানে অপেক্ষা করে থাকে সত্য, ক্ষমা এবং নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস।

— সমাপ্ত —

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *