Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মালতী চৌধুরী: শিক্ষা, স্বাধীনতা ও মানুষের সেবায় এক মহীয়সী জীবন।।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বহু পরিচিত নামের পাশাপাশি এমন কিছু নারীর জীবন রয়েছে, যাঁরা শুধু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেননি, স্বাধীনতার পরও মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছিলেন। মালতী চৌধুরী ছিলেন তেমনই এক অসাধারণ নারী। স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজকর্মী, শিক্ষাব্রতী এবং গ্রামীণ মানুষের অধিকার রক্ষার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি নিজের দীর্ঘ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে।

১৯০৪ সালের ২৬ এপ্রিল পাটনায় তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা কুমুদনাথ সেন ছিলেন ব্যারিস্টার এবং মা স্নেহলতা সেন ছিলেন লেখক ও শিক্ষিকা। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানোর পর মায়ের কাছেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে তাঁর শিক্ষা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবধারা তাঁর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

মালতী চৌধুরীর জীবনকে শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অধ্যায় হিসেবে দেখলে তাঁর অবদানের একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়। তাঁর কাছে স্বাধীনতা মানে শুধু বিদেশি শাসনের অবসান ছিল না; স্বাধীনতার অর্থ ছিল মানুষের শিক্ষা, আত্মমর্যাদা, সামাজিক ন্যায় এবং নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

শান্তিনিকেতনের দিনগুলি

মাত্র ষোলো বছর বয়সে মালতী চৌধুরী শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তা ও শিক্ষাদর্শের সংস্পর্শে আসেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে স্নেহ করে ‘মিনু’ নামে ডাকতেন।

শান্তিনিকেতন তখন শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। প্রকৃতি, শিল্প, সংগীত, সাহিত্য এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখার একটি নতুন চিন্তাধারা সেখানে গড়ে উঠেছিল।

মালতী চৌধুরী সেই পরিবেশ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত ও নৃত্যের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় ঘটে। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন তিনি নবকৃষ্ণ চৌধুরীর সঙ্গে পরিচিত হন। দুজনের চিন্তাভাবনার মধ্যে মিল ছিল। ১৯২৭ সালে তাঁদের বিবাহ হয়। এরপর তাঁরা ওড়িশায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করার পথ বেছে নেন।

মানুষের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

বিবাহের পর মালতী চৌধুরী আরামদায়ক শহুরে জীবন বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এবং নবকৃষ্ণ চৌধুরী গ্রামে বসবাস করে সাধারণ মানুষের সমস্যাকে কাছ থেকে বোঝার সিদ্ধান্ত নেন।

এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, অশিক্ষা, জমি ও জীবিকার সমস্যা এবং সামাজিক বৈষম্যকে দূর থেকে দেখে বোঝা সম্ভব নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে মানুষের কাছেই যেতে হয়।

মালতী চৌধুরী তাই শহরের সীমাবদ্ধ জীবন ছেড়ে গ্রামবাংলা ও ওড়িশার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন।

এই সময় থেকেই তাঁর সামাজিক কাজের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে থাকে।

স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রবেশ

মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবধারা মালতী চৌধুরীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর তিনি বিশেষভাবে নারীদের সংগঠিত করার কাজে মন দেন।

১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহ তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ওড়িশার ইঞ্চুদি ও কুজাং অঞ্চলে লবণ সত্যাগ্রহে বহু নারীকে যুক্ত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ঘরে থাকা নারীদের আন্দোলনে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন। বিদেশি পণ্যের দোকানের সামনে পিকেটিংয়েও নারীদের অংশগ্রহণে তিনি উৎসাহ দেন।

তৎকালীন সমাজে নারীদের ঘরের বাইরে এসে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা সহজ ছিল না। সামাজিক বাধা, পারিবারিক আপত্তি এবং ব্রিটিশ পুলিশের দমননীতি—সবকিছুর মধ্যেই তাঁদের এগিয়ে আসতে হতো।

মালতী চৌধুরী সেই ভয় কাটিয়ে বহু নারীকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে

মালতী চৌধুরীর রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কৃষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

১৯৩০-এর দশকে তিনি ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হন। জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষার দাবিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

ওড়িশা সরকারের প্রকাশিত ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁর নেতৃত্ব ও সংগঠক ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে। তিনি কৃষক আন্দোলন এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নকে স্বাধীনতা সংগ্রামের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

তাঁর কাছে স্বাধীনতা ছিল সাধারণ মানুষের জীবন থেকে শোষণ ও ভয়ের অবসান ঘটানোর একটি বৃহত্তর স্বপ্ন।

প্রজামণ্ডল আন্দোলনে ভূমিকা

ওড়িশার দেশীয় রাজ্যগুলিতে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনগুলির মধ্যে প্রজামণ্ডল আন্দোলনের বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

ধেনকানাল, তালচের, নীলগিরি প্রভৃতি অঞ্চলে মানুষের আন্দোলনকে সংগঠিত করতে মালতী চৌধুরী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৩৮ সালে ধেনকানালের কৃষক আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজশক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের দাবি নিয়ে এগিয়ে আসেন। মালতী চৌধুরী ও নবকৃষ্ণ চৌধুরী এই আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

আন্দোলন দমনে রাজশক্তির কঠোর ব্যবস্থা সত্ত্বেও মালতী গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

এখানেই তাঁর নেতৃত্বের বিশেষত্ব প্রকাশ পায়।

তিনি শুধু সভা-মিছিলের নেত্রী ছিলেন না; বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্য।

১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন

১৯৪২ সালে যখন ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, তখন মালতী চৌধুরী ওড়িশার মানুষের কাছে মহাত্মা গান্ধীর ‘করো অথবা মরো’ বার্তা পৌঁছে দেন।

তিনি আন্দোলনের সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

কারাবাস তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি।

বরং স্বাধীনতার জন্য তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।

ওড়িশার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাতেও ১৯৪২-এর আন্দোলনে তাঁর সক্রিয়তা এবং গোপন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়।

স্বাধীনতার পরেও থামেনি তাঁর সংগ্রাম

ভারত স্বাধীন হওয়ার পর অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁদের রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু মালতী চৌধুরীর কাছে স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়নি।

কারণ তাঁর কাছে দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ছিল মানুষের জীবনকে উন্নত করা।

স্বাধীনতার পর তিনি বিশেষভাবে দরিদ্র শিশু, অনাথ এবং আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের দিকে মন দেন।

অঙ্গুলে তিনি বাজি রাউত হোস্টেল গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হন। সেখানে দরিদ্র, আদিবাসী এবং অনাথ শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

এই কাজ তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—শিক্ষা তাঁর কাছে দান নয়, মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যম।

উৎকল নবজীবন মণ্ডল

১৯৪৮ সালে মালতী চৌধুরী উৎকল নবজীবন মণ্ডল প্রতিষ্ঠা করেন। দরিদ্র ও আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার প্রসার ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া তখন অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও অনেক দরিদ্র পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারত না। আবার অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয়ের সুযোগই ছিল সীমিত।

মালতী চৌধুরী তাই শিক্ষাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

তাঁর শিক্ষা ভাবনার মূল কথাগুলির মধ্যে ছিল—শিক্ষা যেন মানুষের জীবন ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়।

গান্ধীয় আদর্শ ও সর্বোদয়

মালতী চৌধুরীর চিন্তার সঙ্গে গান্ধীয় দর্শনের গভীর সম্পর্ক ছিল।

মানুষের আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক সমতা এবং দরিদ্র মানুষের মর্যাদা—এই বিষয়গুলি তাঁর কর্মজীবনের কেন্দ্রে ছিল।

স্বাধীনতার পর তিনি সর্বোদয় আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন। মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে কেবল একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নয়, একজন সমাজনির্মাতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।

নোয়াখালির শান্তি মিশন

১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সময় মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যান। মালতী চৌধুরী তাঁর শান্তি মিশনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেখানে কিছু সময় কাজ করেন।

এই অধ্যায় তাঁর চরিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর কাছে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার লড়াই ছিল না; মানুষের মধ্যে বিভেদ, হিংসা ও অবিশ্বাস দূর করাও ছিল তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নারীদের জাগিয়ে তোলা

মালতী চৌধুরীর সবচেয়ে বড় অবদানগুলির একটি ছিল নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

এক সময় গ্রামের বহু নারী নিজেদের ঘরের বাইরে কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন না। মালতী তাঁদের বুঝিয়েছিলেন যে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নারীদেরও সমান অধিকার রয়েছে।

লবণ সত্যাগ্রহে নারীদের সংগঠিত করা থেকে শুরু করে পরবর্তী সামাজিক কর্মকাণ্ড—সব ক্ষেত্রেই তিনি নারীকে কেবল সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখেননি।

তিনি তাঁদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের নারী ক্ষমতায়নের ধারণার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

শিক্ষার মাধ্যমে পরিবর্তন

মালতী চৌধুরীর জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—তিনি শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনকে আলাদা করে দেখেননি।

একজন শিশু যদি শুধু বই পড়ে কিন্তু নিজের সমাজের সমস্যা সম্পর্কে কিছু না শেখে, তাহলে তার শিক্ষা অসম্পূর্ণ—এমন ভাবনাই তাঁর কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়।

তাই দরিদ্র ও আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক সচেতনতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এই কারণে তাঁর শিক্ষাকর্ম শুধু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এটি ছিল মানুষের জীবন গড়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে শেষ জীবন পর্যন্ত

মালতী চৌধুরী জীবনের শেষ পর্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি।

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় তিনি ও তাঁর স্বামী নবকৃষ্ণ চৌধুরী গ্রেপ্তার হন।

এ ঘটনা দেখায়, তাঁর কাছে ন্যায় ও মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক বিষয় ছিল না।

যে মূল্যবোধের জন্য তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, স্বাধীন ভারতের ক্ষেত্রেও সেই মূল্যবোধকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।

পুরস্কার নয়, মানুষের ভালোবাসাই ছিল বড়

জীবদ্দশায় মালতী চৌধুরী বহু সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনযাপনে ব্যক্তিগত খ্যাতির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখা যায় না।

তাঁর কাজের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের পাশে থাকা।

তিনি যে শিশুদের শিক্ষা দিয়েছেন, যে কৃষকদের সংগঠিত করেছেন, যে নারীদের আন্দোলনে নিয়ে এসেছেন এবং যে গ্রামগুলিতে মানুষের সঙ্গে থেকেছেন—তাঁদের জীবনেই তাঁর কাজের প্রকৃত মূল্য নিহিত।

আজকের সমাজে মালতী চৌধুরীর প্রাসঙ্গিকতা

আজ আমরা প্রযুক্তি, নগরায়ণ ও আধুনিক শিক্ষার যুগে বাস করছি। কিন্তু এখনও ভারতের বহু অঞ্চলে শিক্ষা, দারিদ্র্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে মালতী চৌধুরীর জীবন আমাদের একটি মৌলিক শিক্ষা দেয়—পরিবর্তন শুধু নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে আসে না; মানুষের কাছে গিয়ে, তাদের কথা শুনে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করেও পরিবর্তন আনা যায়।

তিনি দেখিয়েছেন, একজন শিক্ষিত মানুষ যদি নিজের জ্ঞানকে সমাজের কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে সেই জ্ঞান মানুষের জীবন বদলাতে পারে।

একজন মহীয়সী নারীর উত্তরাধিকার

১৯৯৮ সালের ১৫ মার্চ মালতী চৌধুরীর জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর কাজের উত্তরাধিকার আজও বেঁচে রয়েছে।

তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়।

স্বাধীনতা মানে—

নিজের কথা বলার অধিকার,

শিক্ষার সুযোগ,

সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস,

এবং সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষের হাত ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মালতী চৌধুরী তাঁর জীবন দিয়ে এই মূল্যবোধগুলিকেই বাস্তব করে তুলেছিলেন।

উপসংহার

মালতী চৌধুরীর জীবন ছিল সংগ্রাম, শিক্ষা, সাহস এবং মানবসেবার এক অনন্য সমন্বয়।

তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের সংগঠিত করেছেন, কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রজামণ্ডল আন্দোলনে ভূমিকা নিয়েছেন, ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করেছেন। স্বাধীনতার পর তিনি দরিদ্র ও আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এই—দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা নয়; দেশের মানুষের জীবনকে ভালো করার জন্য সারাজীবন কাজ করাও দেশসেবা।

মালতী চৌধুরী সেই দেশসেবারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

তিনি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় হয়তো সবসময় সবচেয়ে আলোচিত নাম নন। কিন্তু যাঁরা মানুষের মধ্যে শিক্ষা, সাহস এবং আত্মমর্যাদার আলো জ্বালিয়েছেন, তাঁদের অবদান কখনও মুছে যায় না।

মালতী চৌধুরী তাই শুধু ওড়িশার একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন—তিনি ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের ইতিহাসে এক অনন্য মহীয়সী নারী।

Share This
Categories
বিবিধ

ফ্যাশন শোকেস থেকে নৃত্য-সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিক্ষার্থীদের প্রতিভায় বর্ণময় ‘AGOMONI 2026’।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হল ‘AGOMONI 2026’। উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে ৭ অক্টোবর NIF Global Saltlake-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ফ্যাশন ডিজাইনের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা ও ডিজাইন ভাবনা তুলে ধরেন।

ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিচিত প্রতিষ্ঠান NIF Global Saltlake-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা ডিজাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে আসছে।

পাঁচটি ফ্যাশন সিকোয়েন্সে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা

AGOMONI 2026-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশেষ ফ্যাশন শোকেস। অনুষ্ঠানে পাঁচটি স্বতন্ত্র ফ্যাশন সিকোয়েন্সের মাধ্যমে নিজেদের ডিজাইন, ভাবনা ও সৃজনশীল উপস্থাপনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। ফ্যাশনের বিভিন্ন ধারাকে উৎসবের আবহের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো হয় এই আয়োজন।

শুধু ফ্যাশন শোকেস নয়, অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য এবং অন্যান্য পরিবেশনাও ছিল। ফ্যাশন ও সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানের দাবি

NIF Global Saltlake-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ফ্যাশন ডিজাইনের ৯৮ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডে প্লেসমেন্ট পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করা ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে রয়েছে Sabyasachi Calcutta, Adidas, Zara, Vero Moda, Nike, Jack & Jones এবং Calvin Klein।

AGOMONI 2026-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি ফ্যাশন শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংযোগও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে, ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও আত্মপ্রকাশের এক বিশেষ মঞ্চ হয়ে উঠল NIF Global Saltlake-এর এই আয়োজন।

Share This
Categories
বিবিধ

উন্নয়নের পাশাপাশি জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব, ‘দিশা’ বৈঠকে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুজোর আগে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ‘দিশা’ বৈঠক। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না—তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এই বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, বিধায়ক শংকর গুছাইত-সহ জেলার অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রথম সারির আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক দপ্তরের অধীনে চলা উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুজোর মুখে জেলার রাস্তাঘাট, পরিষেবা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলির পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে তার সুফল পান, সেদিকেও প্রশাসনের তরফে নজর দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম বড় সমস্যা জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব নিয়েও আলোচনা হয়। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হাতির গতিবিধি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পুজোর সময় মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
পুজোর সময় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ভিড় বাড়ে। ফলে সেই সময় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, জনজীবন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রশাসনিক পরিষেবা ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়গুলিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে সাংসদ জুন মালিয়া জানান, পুজোর আগে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, জেলার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ যাতে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, পুজোর আগে উন্নয়নের কাজের গতি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা এবং জঙ্গলমহলের হাতি সমস্যা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনের ‘দিশা’ বৈঠক।

Share This
Categories
বিবিধ

শূন্যপদ পূরণ ও স্কুল পরিকাঠামো সংস্কারের দাবি, উত্তর দিনাজপুরে প্রশাসনের দ্বারস্থ সামাজিক সংগঠনগুলি।

রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: – উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষার একাধিক বিষয় সামনে রেখে ১৬ দফা দাবিতে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল ১০টি সামাজিক সংগঠন। ‘উত্তরবঙ্গের অধিকার ও উন্নয়ন মঞ্চ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই কর্মসূচিতে বিজয় বর্মন, পাশারুল আলম, শাহিনুর রহমান, শম্ভু লাল রায়-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন আরও বহু সামাজিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
স্মারকলিপিতে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। বিশেষভাবে SIR বাতিল ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, নাগরিক অধিকার খর্ব না করা এবং বৈধ নাগরিকদের বেআইনিভাবে গ্রেফতার না করার দাবি সামনে এসেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদ পূরণ, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো সংস্কার এবং স্বাভাবিক পঠন-পাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

মিড-ডে মিল কর্মীদের বঞ্চনা দূর করা, তাঁদের ১২ মাসের পারিশ্রমিক প্রদান এবং মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিও রয়েছে স্মারকলিপিতে।

Share This
Categories
বিবিধ

বাগডিহায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, সপরিবারে আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয়—প্রাথমিক ত্রাণ দিল ব্লক প্রশাসন।

জামুড়িয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :-পুজোর আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। চারদিকে উৎসবের আবহের মধ্যেই কয়েক মুহূর্তের প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল চারটি বাড়ি। কোনো বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেল, কোনোটির ভেঙে পড়ল টালির চাল ও আবার কোন বাড়ির উপর বিশাল আকৃতির গাছ মাটি শুদ্ধ উপরে পোড়ায় ভেঙে পড়ল বাড়ির মাটির দেওয়াল। দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যায় বাড়ির নথিপত্র ও আসবাবপত্র। এই পরিস্থিতিতে দুটি পরিবারকে গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি তথা আইসিডিএস কেন্দ্রে অস্থায়ী আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাগডিহা গ্রামের বাউরিপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি বাড়ি। এর মধ্যে দুটি বাড়ির টিনের ছাউনি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ওই দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়ে যান। বাকি দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আধিকারিকরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি পরিবারগুলির হাতে শুকনো খাবার, জামাকাপড় ও রান্নার সামগ্রী-সহ প্রাথমিক ত্রাণ তুলে দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কর্তা দিলীপ বাউরি ও রেখা বাউরি জানান, আচমকাই ঘরের ভিতরে জল পড়তে শুরু করে। পরে তাঁরা দেখেন, মাথার উপর ছাউনি নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটির বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। কোনওক্রমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।

ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আপাতত আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই এলাকায় পৌঁছান জেলা বিজেপির কৃষাণ মোর্চার সভাপতি রমেশ ঘোষ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দুর্যোগের পর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশায় রয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

পানিহাটিতে বেতন-বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তেজনা।।

পানিহাটী, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুজোর মুখে বোনাস ও বকেয়া বেতনের দাবীতে অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠলো পানিহাটী পৌরসভা। অভিযোগ পৌরসভার কনজেরভেন্সি বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা মাসাধিক কাল বেতন পাচ্ছেন না, বাকি রয়েছে ৯ মাসের ওভারটাইম এর টাকাও, পাননি পুজোর আগে প্রাপ্য বোনাসও , অন্য দিকে অস্থায়ী মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন বাকি ৫মাসের বেশী সময় ধরে। এই বকেয়া টাকার দাবিতে বারংবার পৌর কতৃপক্ষের কাছে দরবার করেও কোনও ফল না পেয়ে আজ তারা সকাল থেকে পৌরসভার দুটি গেট আটকে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করলে সৃষ্টি হয় উত্তেজনার। এরপর বিক্ষোভরত কর্মীরা বিটি রোডের ব্যাস্ত ট্রাফিক মোর অবরোধ করলে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে। তাদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন অবরোধকারীরা ।

খড়দহ থানার আই সি পলাশ মন্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, পুলিশের সাথে রীতিমত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয় বিক্ষোভকারী পৌর অস্থায়ী কর্মীদের, উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে এলাকা জুড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপির উত্তর কলকাতা শহরতলী জেলা সভাপতি চন্ডীচরণ রায় ও যুব নেতা জয় সাহা, পরিস্থিতি বশে আন্তে বেগ পেতে হয় তাদেরও।

Share This
Categories
বিবিধ

দেশ-দশের সেবা ও শান্তির বার্তা, তুলসী বেড়িয়া দরগা শরীফে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্ত-মুরিদদের সমাগম।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- হাওড়া গ্রামীণ জেলার রাজাপুর থানার তুলসী বেড়িয়া দরগা শরীফ কমিটির আয়োজনে, পীরে কামেল শাহ্ সূফী সাধক আব্দুল হামিদ আলী খান রঃ আঃ সাহেবের মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে।আজকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পীরের সিলসিলা মোতাবেক পরিচালিত হয় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিশেষ শিক্ষা, সচেতনতা, মানবতা, ঐক্য, সংহতি, সেবা কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পীর রফিকুল ইসলাম খান, পীরজাদা সহিদুল ইসলাম খান, পীরজাদা আমীরুল ইসলাম খান, পীরজাদা আবেদুল ইসলাম খান প্রমুখ।নাত, গজল পাঠ করেন দরবারের ভক্ত দল।এদিনের বরণীয় ও স্মরণীয় ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা শিবিরে, দেশের বিভিন্ন স্থানের ভক্ত মুরিদান মেহমান ও দর্শনার্থীরা সমবেত হন বলে জানান সভাপতি এম ডি মোক্তার আমাদের প্রতিনিধিকে। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল উপস্থিত জনদের শ্রদ্ধা ,ভক্তি, ভালবাসায় ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলে মিলে মিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ও দশের সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে বদ্ধপরিকর। সকলের শিক্ষা,সুখ, শান্তি,মঙ্গল, সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান হোসেন এ্যাসোসিয়েটের কর্ণধার জনাব সেখ নিসার হোসেন আব্দুল আহাদ, লাইট বাবু। উপস্থিত সকলকে তাবারুক ও শিন্নি দেওয়া হয় বলে জানান শুভাকাঙ্ক্ষী পারের সম্পাদক রঘুনাথ কোঁড়া আমাদের প্রতিনিধিকে। বিশ্ব জাহানে শান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় হজ্জে যাচ্ছেন, দরগা শরীফের পীর রফিকুল ইসলাম খান ও সহধর্মিণী সহ একদল ভক্ত, মুরিদান বলে জানান প্রতিভাবান শিক্ষার্থী সিরাজাম মনিরা।

Share This
Categories
বিবিধ

ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দাবিতে চন্দ্রকোনারোডে কংগ্রেসের কর্মসূচি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ,গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনারোড শহরে বিক্ষোভ মিছিল করল জাতীয় কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
এই দিন গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড কংগ্রেস কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে একাধিক দাবিতে সরব হন কংগ্রেস নেতৃত্ব। মিছিলকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ সাদ্দাম আলী-সহ কংগ্রেসের একাধিক ব্লক ও স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই এই আন্দোলন।

Share This
Categories
বিবিধ

ওল্ড সেটেলমেন্ট গুলি-কাণ্ডে তদন্তে জোর, সিসিটিভি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরের ওল্ড সেটেলমেন্টে ১৬ বছরের কিশোরকে গুলি করার ঘটনায় মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার খড়্গপুর শহরের বোগদা এলাকায় চা-চক্রে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, খড়্গপুরে একসময় মাফিয়া ও গুন্ডারাজ অত্যাধিক ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। তবে এখনও বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং সেগুলি উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। ওল্ড সেটেলমেন্টের গুলি-কাণ্ড প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ঘটনাটি নিজেদের মধ্যেও হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে তিনি শুনেছেন দুর্ঘটনাবশত গুলি চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার খড়্গপুরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় ১৬ বছরের এক কিশোর। বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই দিন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী একজন আইকন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে তাঁরও অবদান থাকুক—সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই উদ্যোগ।

Share This
Categories
বিবিধ

দ্রুতগতিতে আসার সময় বিপত্তি, কামারখালীতে উল্টে গেল পিকআপ ভ্যান—মৃত ১।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-
বালি বোঝাই পিকআপ ভ্যান উল্টে মৃত্যু হল গাড়ির এক খালাসির। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার কামারখালী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতার দিক থেকে বালি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুতগতিতে চন্দ্রকোনার দিকে আসছিল। কামারখালী এলাকায় আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধানের জমিতে উল্টে যায় পিকআপ ভ্যানটি। গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক খালাসির। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This