Categories
অনুগল্প

গল্পের নাম: “চিঠি ফেরত”।

সাত বছর পর ডাকবাক্সে একটা হলুদ খাম দেখে থমকে দাঁড়াল অনিকেত। প্রেরকের নাম – মেঘলা!

হাত কাঁপছিল… খুলতেই পড়ল চিঠির প্রথম লাইন:
“আমি জানি তুমি আর পড়বে না। কিন্তু আমি লিখেছি, কারণ মনে হয়েছিল—একটা শেষ হাওয়া ছুঁয়ে যাক তোমাকে…”

মেঘলা লিখেছিল—সে এখন পাহাড়ে থাকে, মোবাইল ছাড়াই। জীবনের সব শব্দ থেকে দূরে। ওরা যেদিন আলাদা হয়েছিল, সেদিনের পর থেকেই নাকি সে আর কারও দিকে তাকায়নি ভালোবাসা নিয়ে।

চিঠির শেষে একটা লাইন:
“এই চিঠি ফেরত দিলে বুঝে নেব, তুমি বেঁচে আছো। রেখে দিলে বুঝব, তুমিও হারিয়ে গেছো আমার মতো।”

অনিকেত চিঠিটা আবার ভাঁজ করল।
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল বাড়ির পাশের পুরনো গাছে ঝোলানো সেই ছোট্ট ডাকবাক্সটার দিকে।
চিঠিটা ফেরত দিল না।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

একটি নির্বিঘ্ন এনকাউন্টার।

সামান্থা, একজন মুক্ত-প্রাণ শিল্পী, অনুপ্রেরণার জন্য প্যারিসে ভ্রমণ করেছিলেন। মন্টমার্টারের মনোমুগ্ধকর রাস্তাগুলি অন্বেষণ করে, তিনি একটি অদ্ভুত বইয়ের দোকানে হোঁচট খেয়েছিলেন।

ভিতরে, একই বইয়ের জন্য পৌঁছানোর সময় তিনি একজন সুদর্শন অপরিচিত আলেকজান্ডারের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ক্ষমাপ্রার্থী, তারা একটি কথোপকথন শুরু করে, শিল্প, সাহিত্য এবং জীবনের জন্য ভাগ করা আবেগ আবিষ্কার করে।

যখন তারা একসাথে প্যারিসের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সামান্থা নিজেকে আলেকজান্ডারের উদারতা এবং অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ প্রকৃতির দ্বারা মুগ্ধ করেছিল।

আলেকজান্দ্রে, একজন লেখক, সামান্থার সৃজনশীলতা এবং জীবনের জন্য উদ্দীপনা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

সিটি অফ লাইট এর জাদুকরী পটভূমিতে তাদের ঘূর্ণিঝড় রোম্যান্স প্রকাশ পেয়েছে।

সামান্থার প্রস্থান হওয়ার সাথে সাথে আলেকজান্ডার তার ভালবাসার কথা স্বীকার করেন।

সামান্থা বুঝতে পেরেছিল যে সে তার আত্মাকে খুঁজে পেয়েছে।

একসাথে, তারা আটলান্টিকের সেতুবন্ধন করেছে, শিল্প, প্রেম এবং নির্মলতায় ভরা একটি জীবন তৈরি করেছে।

_ উপসংহার_

বহু বছর পরে, আলেকজান্ডার সামান্থাকে একই বইয়ের দোকানে নিয়ে আসেন, এক হাঁটুতে নেমে পড়েন এবং তার স্বীকারোক্তির পুনরাবৃত্তি করেন।

সামান্থা হাসল, তাদের প্রেমের গল্প মাত্র শুরু।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

অসম্ভাব্য পুনর্মিলন।

এমিলি, নিউ ইয়র্ক সিটির একজন সফল ইভেন্ট পরিকল্পনাকারী, প্রেম ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার কর্মজীবনে ফোকাস তার জীবনকে গ্রাস করেছিল যতক্ষণ না সে তার নিজের শহরে তার হাই স্কুল পুনর্মিলনের আমন্ত্রণ পায়।

পুনর্মিলনীতে পৌঁছে, এমিলি তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিয়তমা জ্যাককে দেখে অবাক হয়েছিল। স্নাতক শেষ করার পর তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিল, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা পথ অনুসরণ করেছিল।

তাদের অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ পুরানো অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। তারা তাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে এমিলি বুঝতে পেরেছিল যে জ্যাকের সাথে তার সংযোগ দৃঢ় রয়েছে।

জ্যাক, এখন একক পিতা, বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের নিজ শহরে ফিরে এসেছিলেন। তার মেয়ে লিলি ছিল তার জীবনের আলো।

এমিলি জ্যাক এবং লিলির সাথে সপ্তাহান্তে কাটিয়েছে, তাদের সাথে তার বন্ধনকে আবার জাগিয়েছে। তিনি বাবা হিসাবে জ্যাকের দয়া, মমতা এবং ভক্তি আবিষ্কার করেছিলেন।

পুনর্মিলন শেষ হওয়ার সাথে সাথে, এমিলি একটি পছন্দের মুখোমুখি হয়েছিল: NYC-তে তার ব্যস্ত জীবনে ফিরে যান বা জ্যাকের সাথে আবার প্রেমের সুযোগ নিন।

এমিলি প্রেম বেছে নিলেন।

একসাথে, তারা তাদের জীবনকে মিশ্রিত করার চ্যালেঞ্জগুলি নেভিগেট করেছে। এমিলি লিলির কাছে একজন প্রেমময় অংশীদার এবং মা হয়ে ওঠেন।

তাদের প্রেমের গল্প উন্মোচিত হয়েছে, হাসি, দুঃসাহসিকতা এবং গভীর সংযোগে ভরা।

*এপিলগ*

কয়েক বছর পরে, এমিলি এবং জ্যাক তাদের বারান্দায় বসেছিল, হাত ধরে। লিলি, এখন বড়, তাদের দিকে কৃতজ্ঞতার সাথে হাসল।

এমিলি বুঝতে পেরেছিল যে জ্যাকের সাথে পুনরায় মিলিত হওয়া প্রেমের দ্বিতীয় সুযোগের চেয়ে বেশি – এটি তার নিয়তি।

Share This
Categories
অনুগল্প কবিতা

অকবি : রাণু সরকার।

আমি কবি নই,
বুঝিনা কিছুই,
আমার মনের ভাবনাকে ধরে রাখার চেষ্টা করি মাত্র-
সেটা কবিতা হয় কিনা তাই নিয়ে মাথার ঘাম ঝরাই না।
কিছু ভাবনাকে রূপ, রস দিয়ে সাজাই বটে আরকি,
একরকম নেশা বলতে পারি বা ভাবনাবিলাস!
টুকরো টুকরো ভাবনারা উড়ে বেড়ায় মনের মণিকোঠায় ছবির মতো,
কখনও তারা নৃত্যও করে আবার চপল কিশোর কিশোরীর মত ভ্রু কুঁচকে হাতপা নেড়ে মনকে দেয় নাড়িয়ে তখন চুপ থাকতে পারিনা।
আমি চুপ থাকার চেষ্টা করি বটে- কিন্তু সে দেয় না চুপ থাকতে, নিজেই বসে পড়ে মহানন্দে ডায়েরির পাতায়। তখন হৃদয় আমার তোলপাড় করে ঝড় তোলে,বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে বসি নানারূপে চিত্রিত করি ভাষা দিয়ে,সে তখন ভীষণ খুশি,হবেই বা না কেন-সেতো সাজতেই বেশি ভালোবাসে।

Share This
Categories
অনুগল্প প্রবন্ধ

আদি শঙ্করাচার্য সম্পর্কে কিছু কথা : রাণু সরকার।

যেকোনো ভ্রান্ত মতবাদকে তথা দোষযুক্ত মতবাদকে খণ্ডন করতে অদ্বৈতবাদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আদি শঙ্করাচার্য হলেন সেই অদ্বৈতবাদের প্রতিষ্ঠাতা, কিন্তু তিনি যে শুধুমাত্র অদ্বৈতবাদী তেমনটাও না, বরং তিনি অদ্বৈতবাদ, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ এবং দ্বৈতবাদের মিলন। ভারতে বৌদ্ধদর্শনের শূন্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় সনাতন সংস্কৃতি যখন লোপ পেতে থাকল, তখন তাঁর আবির্ভাবে এবং তাঁর কঠোর পরিশ্রমে পুনরায় দৃঢ়মূলে সনাতন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেল। ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রের বেদান্তের সর্বোচ্চ তত্ত্ব অদ্বৈতবাদ প্রচারের জন্য তিনি ভারতের সমস্ত সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে দশনামধারী দশটি সন্ন্যাসী সম্প্রদায়কে যথা : তীর্থ, আশ্রম, বন, অরণ্য, গিরি, পর্বত, সাগর, সরস্বতী, ভারতী এবং পুরীকে বাছাই করে তারপর ভারতের চারপ্রান্তে চারটি মঠ যথা : পূর্বে ওড়িশার পুরীতে গোবর্ধনমঠ, পশ্চিমে গুজরাটের দ্বারকায় সারদামঠ, উত্তরে উত্তরখন্ডের বদ্রিকাশ্রমে জ্যোতির্মঠ এবং দক্ষিণে কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে শৃঙ্গেরীমঠ স্থাপন করে উক্ত দশনামধারী সম্প্রদায়কে একত্রিত করে কার্যভার প্রদান করেন এবং উক্ত মঠে মহন্তরূপে চারজন শঙ্করাচার্যের পরম্পরা শুরু করেন। ভারতের ৪২ সাধকদের মধ্যে অন্যতম হলেন আদি শঙ্করাচার্য, তিনি জাগ্রত চৈতন্য। হিন্দু সম্প্রদায় এবং সনাতন ধর্ম অর্থাৎ আত্মধর্ম অর্থাৎ স্বধর্ম এখনও পর্যন্ত ভারতে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার নেপথ্যে আদি শঙ্করাচার্যের যে বহু অবদান আছে তা অনস্বীকার্য। অদ্বৈত উপলব্ধি সাধনার সর্বোচ্চ উপলব্ধি, কিন্তু তা উপলব্ধি করতে বহু প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়, আদি শঙ্করাচার্যও তা অতিক্রম করেন। তাঁর শুদ্ধ ভক্তি ও সাধনা সমস্ত সনাতনীদের জন্য প্রবল উৎসাহ বহন করে। আদি শঙ্করাচার্য হলেন ব্রহ্মবিদ্বরিষ্ঠ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ব্রহ্ম সত্য, জগত মিথ্যা (ভ্রম), জগত-ব্রহ্ম এক। তাঁর মতবাদ গুরুসহায়ে শুদ্ধচিত্তে মনন করলে ব্রহ্ম উপলব্ধির পথ অর্থাৎ পরম সত্য উপলব্ধির পথ অর্থাৎ জীবদ্দশায় জীবন্মুক্তির পথ সরল হয়।

Share This
Categories
অনুগল্প

এক শ্রাবণের কথা : রাণু সরকার।

শ্রাবণের আকাশে কালো মেঘের পুঁজিতরাশি,
এই বুঝি এলো বর্ষা রাণী, স্বামী-পুত্র গেছে মাঠে,
ধেয়ে এলো ঘনকাল ও মাগো মা নিমেষে হলো এক হাঁটু জল মাঠ ঘাট হলো এক বোঝা দায়।
হায়-রে শ্রাবণের ধারা দেখো দেখো ধানের মাথা গুলো করছে যেন বিনয়ী বাতাসের তাড়নায়।

গরু-ছাগলের পাল দিচ্ছে কি হাঁক ডাক,গোগৃহ তো জলে ডুবুডুবু গা যাচ্ছে ওদের ভিঁজে। এতোগুলো গাই বাছুরের পাল রাখি কোথায়, কে যানতো এভাবে শ্রাবণেরধারা বৈবে অবিরাম।

সূর্য এই বুঝি দিলো ডুব তবে যায় না দেখা মনে হয় একটু আছে বাকি,
বোঝার কি উপায় আছে আঁধার রেখেছে যে ঘিরে।
এখনো কি পারছে না বুঝতে তারা হুঁশ নেই কি একদম,একা কি করে দেই সব সামাল বৃদ্ধা শ্বাশুড়িটাও পরে আছে বিছানায়।
দুয়ারে এক হাঁটুজল দাঁড়িয়ে দেখছি-কারুর দেখা নেই,ঘনঘন বিদ্যুতের চমকানি,
একা গৃহে ভয়ে ভয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত,
তাকে বলেছিলাম-বেলা না গড়ায় বাব,ছেলে এসো ফিরে তাড়াতাড়ি ঘরে, কে কার কথা শোনে,
সকাল থেকেই ছিলো মেঘেদের মুখ ভার করছিলো তারা কানাকানি।

তখনি বুঝেছি আসবে ধেয়ে নেবে সব ভাসিয়ে ক’দিন আগেই বলেছিলাম গোয়াল ঘরের চালটাতে ঘর চাপাতে হবে কানে নেয় নি কথা।

হঠাৎই কানে এলো কে যেন ডাকছে,বউঠান বাব-বেটা ফিরেছে কি ঘরে?
আমি বলি না গো দাদাঠাকুর ফেরেনি এখনো তারা।
আচ্ছা দাঠাকুর এই বর্ষার কচুপাতা মাথায় দিয়ে বেরিয়েছেন কেনো? কেনো জানো না বউঠান? আমাদের কালো গাইটা গাভিন ভীষণ ডাকছে-ওর খাবার যে নাই – কিছু ঘাস যদি পাই, এই বর্ষায় সব গেছে ডুবে কোথায় ঘাস পাবেন? দেখি হাতড়িয়ে কিছু তো পাবো- আমার কথা ছাড়ো।

দেখ দেখি কি মুশকিলের কথা,তারা কি বোঝে
না দু’কূল গেছে ভেসে, ঘরে ফিরলে খবর দিও বউঠান।
বলেছিলেম তো তারে বেলা থাকতেই যেন আসে ফিরে ঘরে।
গৃহিণীর কথা বাসি হলে লাগে কাজে।

Share This
Categories
অনুগল্প

ছোট শিশুর কষ্ট : রাণু সরকার।

বাপটা আমার থেকেও নেই মনে করি মারা গেছেন, চোখ মেলে দেখিনা কখনো বাপের মুখটা কেমন, মায়ের আমার ভীষণ কষ্ট কোন- ভোরে মা চলে যায় বাবুর বাড়ির বাসন ধুতে
আমরা এখন তিনজন থাকি রেললাইনের ধারে।

আমার কাছে ভাইকে রেখে মা রোজ যায়- ভাইকে ফেলে কি করে যাই ইস্কুলে? খিদের জ্বালায় শুয়ে পড়ে ভাই যে আমার সারা হয় কেঁদেকেটে।

কাল রাতে আমার পেটে ব্যথা ছিলো ভাত
খাইনি, আমার ভাতটা রেখে ছিলো মা-ভোরে যখন ভাই কাঁদছিলো খিদের জ্বালায় তখন
পান্তা করে নুন দিয়ে ভাইকে দিলাম সবটা ভাত খাইয়ে কিছুক্ষণ বাদে কান্নাটাও থেমে গেলো।
দাড়িয়ে আছি ভাইকে কোলে নিয়ে মায়ের জন্য
এই বুঝি মা এলো ভাবছি।
ইস্কুলে যাবার সময় পার হয়ে যাচ্ছে, এই ঘন্টা বেজে থেমে গেলো মনে হয়-কি করে যে যাবো,মা এলো না এখনো।
হয়তো গিন্নীমা অনেক কাজ ধরিয়ে দিলো মাকে কাজের চাপে মার আসতে দেরি হচ্ছে।
এমন তো কখনো হয়নি,তবে আমারা গরিব বলেই এমন করলো,বাপটা যদি ভালো হতো তাহলে মায়ের কাজে যেতে হতোনা আর আমার ইস্কুল ও বন্ধ হতোনা।

Share This