Categories
কবিতা

জমি : রাণু সরকার।

ভাবছি যত বিঘা দুঃখের জমি আছে কেনো ফাঁকা থাকবে?
আবাদ করবো কিছু শান্তির বীজরোপণ করে
অনেক কষ্ট করে রেখেছি শান্তির বীজ
হয়তো একটু দেরি হবে ফুল ফুঁটতে তবে মনে হয় ফুঁটবে।
আর কতদিন এভাবে ফাঁকা থাকবে যত আবর্জনায়
ভরে আছে পরিচ্ছন্ন করতে একটু সময় লাগবে।

কিছুদিনের জন্য শত্রু হয়ে মনে মনে অপ্রকাশ্যে ঘৃণা করে ক্ষতিসাধন করে জমিটাকে অগ্নিদগ্ধ করেছে।
অকেন গুলো বছর কালো হয়েছিলো ভেবেছিলাম এই জমিটিতে আর কিছুই করা সম্ভব না।
ধৈর্য্য শক্তি বারিয়ে উদ্যোগ নিলাম কেনোনা
মানুষের নানান কথা আর সহ্য করতে পারছিলাম না।

Share This
Categories
কবিতা

অতীত :: রাণু সরকার।।

হারিয়ে গেছে যে অতীত বারংবার আসে
আঘাত করবার জন্য।
আজ এতোটাই নিঃস্ব পরিমাপ করে দেখি,
শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে করতে হয়তো একদিন নিঃশেষ হবো-
মিলিত কন্ঠের আওয়াজ প্রাণনাশ করছে।
সূক্ষ্ম কিছু নাড়ি এখনো জেগে আছে ওদের ঘুম নেই-
ওরা শোকপ্রকাশ করে অশ্রুবিন্দুতে।
দিগন্ত, দূর অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত তমসা নতশিরে।
মন্দিরে কারা যেন প্রত্যহ বাজায় মন্দিরা।
হৃদয়বাসনা অনেক পূর্ণতা পেলো না শুধুই ব্যাঘাত।
উচ্চৈঃস্বরে পরমাত্মার কাছে প্রকাশ করা।
উৎকণ্ঠিত মন্থর গতিতে চলে জনশূন্য দেবালয়ে।

Share This
Categories
কবিতা

উর্বরা : শীলা পাল।

কুয়াশার আড়ালে তন্বী মেয়েটি আনমনা,
ভরন্ত ধানের ক্ষেতের মত গর্ভিনী পরবিনী
সোনারঙ উছলে পরে আড়াল সরে গেলে
ফসল ভরা যৌবন তার অহংকার।
চোখে তার কামনার উগ্র চাহনি
সুবাস ছড়িয়ে পড়ে দিক থেকে দিকে।
পৌষের অবেলায় গৃহস্থের উঠোনে
তার আরাধনা শুরু হয়
প্রদীপের আলোয় আলোকিত যুবতী দেবীরূপে
প্রতিষ্ঠিতা ।তন্বী মেয়েটি মাতৃ রূপে
কল্যাণী জননী র প্রশান্ত হাসি
সংসারে তার আলো কুয়াশা সরিয়ে দেয়।

Share This
Categories
কবিতা

উপলব্ধি : শীলা পাল।

কবে কখন চুড়ির রিনরিন বেজে ওঠা থেমে গেছে
বুঝি নি,
ধুলো মাখা পায়ে সবকিছু
ফেলে কখন এসেছি অন্য মনে, বুঝতে পারি নি।
তোমার প্রসন্ন হাসি আমার জীবনের প্রশান্তি এনে দিয়ে বলল
নিরাভরণ হলে তবেই প্রাপ্তি, ত্যাগের একটা একটা ধাপ এভাবেই এসে তোমাকে মুক্ত মনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
তোমার কাছে আকাশ নেমে আসবে একদিন
আমি অপেক্ষা করি।

Share This
Categories
কবিতা

অতীত :: রাণু সরকার।।

অতীতকে কত খুঁজি, পাইনা, কোথায় গেলো অতীতের সেই দিনগুলো?
ফাঁকা আকাশ কোথাও দেখছিনা তো,
নিশ্চল দাঁড়িয়ে অজস্র বড়ো বড়ো বাড়ি,
বিহগ-বিহগীর দল সারিবদ্ধ হয়ে উড়ে যেতে বাধা পায়।
আগে যেতে যেতে দিতো সেকি ডাক, হোতাম আত্মহারা।
কোথায় গেলো সেই পাখির ডাক, সেই দিনগুলো?
মদের বোতলে ঝর্ণাধারার পতনের শব্দ অপ্রকৃষ্ঠ লাগে,
ঝিঁঝিপোকার ডাক আর শোনা যায় না,
জলফড়িং আর প্রজাপতির শূন্যে বিচরণ
এখন আর চোখে পড়েনা।
শিশিরে ভেজা সবুজ উদ্ভিদের হাসি দেখে আনন্দে বিহ্বল হতো আমার চোখ-
আজ আর তেমনটা হয়না।
গ্রীষ্মের প্রখর তাপে গাছের ছায়া বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তো- সাথে দূষণমুক্ত বাতাস-
কোনটাই পাই না।
আর্তনাদ করি ঠান্ডা ঘরে শুয়ে,
প্রদীপের আলোতে অনুভব করি অতীতের দিনগুলো।
সামনে আলোর রশ্মি, পিছে আঁধারের লুকোচুরি খেলা,
আনন্দের সাগরে যেতাম ভেসে।
এগিয়ে গিয়ে অতীতকে গিয়েছি ভুলে!

Share This
Categories
কবিতা

একজোড়া উপগিরি ::: রাণু সরকার।।।

তোমার ঠোঁট জোড়া যেন সদ্য
ফোটা গোলাপ,
কাঁচা বয়স,
সাজো হলে বুঝি ঋতুমতী?

একজোড়া উপগিরি উপচে পড়ছে
অমৃত সুধা!
আমার জীবন রক্ষার-
পান করে হই উজ্জীবিত,

সুন্দর ডোঙা, বেয়ে বেয়ে যাবো
অনেক দূর-
ক্লান্ত হয়ে ডুবিয়ে দেবো গহিন গাঙে!
ফুলের বৃন্ত থেকে শোষণ করবো মধু!

অর্ধবিকশিত ফুল মধুমদগন্ধময়!
সেখানে থেকে আমার অন্তর ভিজে যায়
বিন্দু বিন্দু শিশিরে!

Share This
Categories
কবিতা

কদম ::: রাণু সরকার।।

গত বছর আমার অজান্তেই জন্ম নেয় কদম গাছ,
ফুল ধারণ করতে পারবে কিনা ভাবছিলাম-
তবে ফুল ফুটে ছিলো গোলাপী রঙের!
এই তো এই বর্ষায়!

ভাবনায় ছিলো একান্ত আপনজনকে
উপহার দেবার!
অকপটে একদিন খুলেছিলো তার
হৃদয়-
সে যন্ত্রণাদায়ক উৎপাঠিত করেছে
আমার অন্তর-
যদিও তারই দয়ায় বেঁচে থাকা,

মান্দার গাছও তো জন্ম নিতে পারতো!
সেটা তো হয়নি,জন্ম হলো কদম গাছের
তাও গোলাপী কদম-
ফুলটি অনেক দিন ছিলো গাছে, কারর স্পর্শ পায়নি
আকাঙ্ক্ষা যে ছিলো না সেটা না বলতে পারবো না
একদিন সে নিজের ইচ্ছেতে ঝড় পরে!
এখনো রাখা আছে শুকিয়ে যাওয়া কদম ফুলটি!

Share This
Categories
কবিতা

অস্ত :: রাণু সরকার।।

এই পৃথিবীতে এসেছি অনেক গুলো বছর,
পৃথিবীর বুকে কম বেশি করে অনেক পথ
চলেছি মন্থর গতিতে কখন দ্রুত গতিতে।

এখন প্রশান্ত- নতুনদের সাথে তাল মিলাতে
পারি না পারা সম্ভবও না।
তবে বিরামের সময় মনের ব্লাকবোর্ডে কিছু পষ্ট
কিছু অস্পষ্ট ভেসে ওঠে চিত্রপট,

কিছু হারিয়ে গেছে তাদের ধরে রাখার ক্ষমতা
এখন আর নেই,
তবে দিন রাত এদের সাথেই চলা-
আনন্দের কিছু দুঃখের নানান জলছবি,
একদিন হারিয়ে যেতে হবে অসীমে অগ্নিরথে চেপে।

Share This
Categories
কবিতা

আমরা প্রতিবাদী ::: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।।

আজ দেখি অমানবিকতার হিংস্র আস্ফালন
জল্লাদের মুক্ত তরবারি জ্বালাচ্ছে দাবানল।
বসন্তের নীল আকাশে রক্তের আলপনা-
নরপিশাচ ,হিংস্র পশুর আনাগোনা।
রাজপথে অবুঝ শিশুর করুন বাঁচার আবেদন –
মার বুক খালি কত , শিশুর অকাল নিধন।

অশুভ সুম্ভ,নিশুম্ভ ,একি করেছে আরম্ভ ?
দিকেদিকে মৃত্যুবার্তা, শুধু ধ্বংসের দম্ভ।
গোলা, বারুদ আর অস্ত্রের অহংকার
রাজপথে মৃত্যুর মিছিল,দিকে দিকে শিশুর চিৎকার ।
মায়ের বুক বিদীর্ণ পদঘাতে-
অবুঝ শিশু আঘাতে আঘাতে
আজ নিষ্প্রাণ । অসহায় বিধাতা –
আজ মৃত্যু মাগে রোদনভরা বসন্তে।
বেদনার অশ্রুজলে ভেসে যায় দীর্ঘশ্বাস ,কত অভিশাপ জমে অজান্তে।

এখনো কি থাকবে নীরব স্বার্থপর পৃথিবী ?
আগামী যে হয় প্রেমহীন তামাদি
এখনও হয়নি সময় প্রতিবাদের মশাল নেওয়ার?
শুভবুদ্ধি জ্বলে ওঠ, সময় হয়েছে জবাব দেওয়ার ।
নিষ্ঠুর জল্লাদ,দেখো হাসে কি আহ্লাদে-
নীরব থেকো না অসহায় শিশুর আর্তনাদে ,
এস দ্বারখুলে সহানুভূতির হাত বাড়াই
শেষ শয্যায় শাহিত শিশুর বুকে স্নেহের হাত বোলাই ।
শেষ বারের মতো চিৎকারে বলি-
হুঁশিয়ার ,বন্ধ কর এ রক্তের হলি ,
বন্ধ কর এই বীভৎস নারকীয় হত্যাকান্ড
যত বুর্জুয়া, স্বার্থানেশি,ভাঙবো এবার তোদের মিথ্যাভ্যান্ড ।

প্রাণ রক্ষায় অপারক নপুংসক, অক্ষম –
নিপাত যাক তোদের ক্ষমতা পৃথিবীর কাটুক বিভ্রম।
আগামীর প্রতিবাদ হানবে আঘাত-
অভিশাপে বিদীর্ণ হবে তোদের বক্ষ।
সময়ের হিসাব চাইবে জবাব-
প্রতিবাদী হচ্ছে জড়ো লক্ষ লক্ষ্ ।

এস প্রতিবাদের দরজা খুলি-
সমস্বরে সবাই বলি ,
দিকে দিকে ঘুম ভেঙে আসুক আহ্বান ,
এ পৃথিবীর নিষ্পাপ সকল শিশু আমাদের সন্তান।
মানবতা জাগুক,হিংসা মরুক হোক বিবেকের উত্থান।

সংরক্ষিত/প্রবীর কুমার চৌধুরী।

Share This
Categories
কবিতা

এক্ষণে ::: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।।

ছলে, বলে, কৌশলে –
এখন নবসজ্জিত বিলাসী জীবন ।
হাহাকারের রাতে কামনার অসহায়তা খরিদ-
লজ্জার বিপনী এখন শোভা পায় অর্থের প্রলোভনে।
আহবকালের বিভীষিকা ভুলিয়ে দেয় কুটিল ক্ষুধা,
নগ্ন শরীরের প্রহসন দেখে আত্মজা দেয় অবিশ্রান্ত অভিশাপ ।

নিষিদ্ধ রাতের বঞ্চনায় পবিত্র প্রেম ক্ষত বিক্ষত-
ভালোবাসার অভিনয়ে দেহের ক্রয়-বিক্রয়, শেষ রাতে-
শ্মশানে নিষ্কৃতি মেলে, দুবাহু মেলে অগ্নিশয্যায় নিশ্চিন্ত নিদ্রা।
অভিমানী বুক ,ছিন্ন করে সুখ,বিবেক বেদনার সুরে-
প্রাতের আহির ভৈরবে আকাশ ভরায়।

প্রেমসিক্ত জীবন মেগে হয়ো না বিবসন এইটুকুই আবেদন,
এ ধরণী কাঁপে, অভিশাপে, বৃথাই নগ্নতার নগ্ন কামনা?
হে পঞ্চপাণ্ডব,হে কৃতজ্ঞ কর্ণ ,স্থবির ভীষ্ম শুধু একবার –
পৌরুষদীপ্ত নবমহাভারতে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ বন্ধ কর।

সংরক্ষিত।

Share This