Categories
কবিতা

অপেক্ষার জানালা।

জানালার পাশে বসে আছি,
বিকেল নামে ধীরে,
মেঘের ভাঁজে রোদ লুকিয়ে
স্বপ্ন আসে ফিরে।

একটা পাখি ডেকে ওঠে
অচেনা কোনো সুরে,
মনে হয়, সে খবর এনেছে
হারিয়ে যাওয়া দূরে।

পথের দিকে তাকিয়ে থাকি,
চেনা পায়ের আশায়,
সময় যেন থমকে থাকে
নীরব ভালোবাসায়।

যে মানুষটি আসবে বলে
দিন গুনেছি কত,
তার জন্যই বুকের মাঝে
জ্বলে ছোট্ট প্রদীপ যত।

হয়তো সে আর আসবে না,
হয়তো ভুলেছে পথ,
তবু কেন মনটা আজও
শোনে তারই রথ?

অপেক্ষা বড় অদ্ভুত জিনিস—
আশা রাখে বাঁচিয়ে,
হারিয়ে গেলেও মানুষকে
রাখে মনে সাজিয়ে।

তাই তো জানালাটা খোলা,
আকাশটাও নীল—
হয়তো কোনো এক সন্ধ্যায়
ফিরবে হারানো শীল।

Share This
Categories
কবিতা

কালো রঙের সানগ্লাস : মহীতোষ গায়েন। 

বেশ কিছুদিন ধরে ভোরের স্বপ্নে
আসছে কালো রঙের সানগ্লাস…
এর কারণ বুঝি নি,বুজলাম গতকাল;
যা হয়তো হওয়ার ছিল না,ঘটার ছিল না।

কোথা থেকে কি হলো বোঝা যায় নি,সে রাতে চোখে ঘুম ছিল না পাখিরা রোজকার মত রাত ৩টেয় দক্ষিণ জানালার ধারে বকুল গাছে মিঠে সুরে ডেকে ডেকে ঘুম পাড়াতো,আজ পারে নি।

নির্ঘুম রাতে বাথরুমের জানালা দিয়ে দেখি
চাঁদ ডুবে যাচ্ছে চরাচরে,এভাবে কত কিছু
ডুবে যায়,কেউ তার খোঁজ রাখে না,যতদিন তোমার রঙ আছে,ক্ষমতা আছে,মূল্য আছে।

কালো সানগ্লাস পরলে অন্যেরা দেখতে
পাবে না তোমার চোখে সমুদ্র,তোমার বুক
মোচড়ানো ব্যথার অভিব্যক্তি,তবে এতে
দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের রঙ,অভিনয়।

কালো রঙের সানগ্লাস ব্যবহার করছি…
অনেক কিছু দেখছি,জানছি, বুঝছি;
কোথায় কি হচ্ছ?কেন কিছু হয়নি তাও
বোঝা যায়,তবে সময় তো সব বলবে।

কালো রঙের সানগ্লাস পরে এখনো
শিখছি,দেখছি, দিবারাত্রির কাব্য-মানুষ;
এই চশমায় অনেক সময় বুঝে নেওয়া যায়
অনেক কিছুই হচ্ছে এবং হবে কালো।

একদিন আসবে ঠিকই,তোমাকেও
পরতে হবে কালো রঙের সানগ্লাস,
তোমরা না চিনলেও তোমাদের চিনে নেবে
ভূবনডাঙায় পড়ে থাকা কালো রঙের সানগ্লাস।

Share This
Categories
কবিতা

খেদ : রাণু সরকার।।

আমায় এতো যত্ন করে ছিলো আমি ভাষাহীন,
দন্তবিকাশে অনুগত ছিলাম;

অনেক গুলো বছর পর অকস্মাৎ স্মরণে আসাতে গতানুশোচনা হলো,
সময় ঢের খরচ করেও সেই রকম দন্তবিকাশ সম্ভব হয়নি-

আদতে এখানে দ্বিতীয় কেউ ছিলো না তো অভিনিবেশ করার তাই হয়তো হবে!

Share This
Categories
কবিতা

কনক রাত :: রাণু সরকার।।

এলোপাথাড়ি পথে প্রচুর হেঁটেছে দু’পা
ধূলোমাটির সাথে হলো অন্তরঙ্গ!
তবুও বাদলের সাথে হলোনা সাক্ষাৎকার!

নিখোঁজ হতেই তো চেয়েছিলাম-
খরার প্রখর তাপে রাতের লাবণ্য গেছে হারিয়ে!
শেষ থেকে সূচনায় আসতে কনক রাতে খোয়া যায় তারুণ্যের উদ্যম!

তার সন্ধান করতে গিয়ে চলে এলো বার্ধক্য-
ধুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ প্রীতি!

Share This
Categories
কবিতা

গোয়ার মরজিম বিচ – প্রকৃতি, পাখি ও সমুদ্রের শান্তির রাজ্য।।

গোয়া মানেই সাধারণত পার্টি, সঙ্গীত আর ভিড়ভাট্টার সমুদ্রসৈকত। কিন্তু যারা ভিড়ের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির শান্ত সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য মরজিম বিচ এক স্বর্গীয় স্থান। উত্তর গোয়ার এই সমুদ্রতট পরিচিত তার শান্ত পরিবেশ, সাদা বালি, নারকেলগাছের সারি এবং অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য।


📍 অবস্থান ও পরিচিতি

মরজিম বিচ গোয়ার আশেপাশের আরামবোল ও আশভেম বিচের কাছাকাছি, উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এটি বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়, বিশেষত রাশিয়ান পর্যটকদের জন্য এটি “লিটল রাশিয়া” নামে খ্যাত।


🐢 অলিভ রিডলি কচ্ছপের আবাসস্থল

মরজিম বিচের অন্যতম আকর্ষণ হলো অলিভ রিডলি কচ্ছপ (Olive Ridley Turtles)। প্রতি বছর শীতকালে এই সমুদ্রসৈকতে কচ্ছপেরা এসে ডিম পাড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনগুলির প্রচেষ্টায় এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা হয়।
পর্যটকরা সুযোগ পেলে এই বিস্ময়কর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারেন, তবে কচ্ছপের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরি।


🦜 পাখিদের স্বর্গ

মরজিম শুধু কচ্ছপ নয়, এটি বিরল প্রজাতির পাখিদেরও আবাসস্থল। বিশেষত শীতকালে এখানে বিভিন্ন অভিবাসী পাখি যেমন – কিংফিশার, প্লোভার, স্যান্ডপাইপার প্রভৃতি দেখা যায়। তাই প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য মরজিম এক অনন্য গন্তব্য।


🌅 সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য

  • সাদা বালির বিস্তীর্ণ তটরেখা – হাঁটার জন্য আদর্শ।
  • নারকেল ও পাম গাছের সারি – প্রাকৃতিক ছায়ার পরশ দেয়।
  • শান্ত ঢেউ – অন্য বিচের তুলনায় এখানে ঢেউ তুলনামূলকভাবে শান্ত, ফলে স্নান বা হাঁটার জন্য নিরাপদ।
  • অপূর্ব সূর্যাস্ত – সন্ধ্যাবেলায় সোনালি আভায় ভরে ওঠে পুরো সৈকত।

🚤 করণীয় কার্যকলাপ

মরজিম বিচে পর্যটকরা নানা ধরনের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন –

  • বিচে যোগ ও মেডিটেশন – শান্ত পরিবেশ মানসিক প্রশান্তির জন্য উপযুক্ত।
  • ওয়াটার স্পোর্টস – যদিও খুব বেশি ভিড় নেই, তবুও জেট স্কি, বোট রাইড ইত্যাদি কিছু ব্যবস্থা আছে।
  • বিচ ওয়াক – সমুদ্রের ধারে দীর্ঘ হাঁটা, বিশেষত সূর্যাস্তের সময় অনবদ্য।
  • স্থানীয় বাজার – আশেপাশে ছোট বাজারে হস্তশিল্প ও রাশিয়ান প্রভাবিত সামগ্রী পাওয়া যায়।

🍴 খাবার ও রেস্তোরাঁ

মরজিম বিচে প্রচুর বিচ শ্যাক ও ক্যাফে রয়েছে। এখানে –

  • তাজা সী-ফুড (চিংড়ি, কাঁকড়া, মাছ)
  • গোয়ান খাবার যেমন ফিশ কারি রাইস
  • আন্তর্জাতিক রন্ধনপ্রণালী, বিশেষ করে রাশিয়ান খাবার সহজলভ্য।

সৈকতের ধারে বসে সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্যরকম।


🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ, যখন আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক।
  • থাকার ব্যবস্থা: বিচের ধারে রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ পাওয়া যায়।
  • বিশেষ সতর্কতা: কচ্ছপের ডিম ফোটার সময় সৈকতে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই নিয়ম মানা জরুরি।

🏁 উপসংহার

গোয়ার মরজিম বিচ হলো শান্তিপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গ। এখানে নেই অযথা কোলাহল, নেই অতিরিক্ত ভিড়—আছে শুধু প্রকৃতি, সমুদ্র, পাখি আর কচ্ছপের আবাস। যারা কিছুটা নিভৃত, প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য মরজিম বিচ এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

Share This
Categories
কবিতা প্রবন্ধ

অতীন্দ্রনাথ বসু : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী বাঙালি বিপ্লবী – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

ভূমিকা:—

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন ই এক বাঙালি বিপ্লবী ছিলেন অতীন্দ্রনাথ বসু।

পরিবার—

অতীন্দ্রনাথ বসু ১৮৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জোড়াবাগানের বসু পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

তার পিতার নাম অপূর্বকৃষ্ণ বসু।অতীন্দ্রনাথের পুত্র উত্তর কলকাতার নেতৃস্থানীয় অমর বসু পিতার সকল কাজে যুক্ত ছিলেন।

কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন—

অতীন্দ্রনাথ নিজে একজন কুস্তিগীর ছিলেন। ময়মনসিংহের রাজা জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরী ছিলেন তার শিক্ষাগুরু। সিমলা ব্যায়াম সমিতির প্রাঙ্গনে ভারতীয় প্রথায় কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন তিনিই প্রথম করেছিলেন।

স্বদেশী মেলার আয়োজন—

অতীন্দ্রনাথ বসু যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে সিমলা ব্যায়াম সমিতি।

বিপ্লবী কর্মকান্ড—।
যুগান্তর বিপ্লবী দলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ছিলেন অতীন্দ্রনাথ বসু । তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে কয়েকবার কারাবরণ করেছিলেন, পাশাপাশি তাঁকে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরবর্তী পাঁচবছর ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কেন্দ্র পরিচালনার অপরাধে নির্বাসনদণ্ড ভোগ করতে হয়।১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সরকার সিমলা ব্যায়াম সমিতিকে শরীরচর্চার আড়ালে বিপ্লবী তৈরির আখড়া সন্দেহ করে এটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, ডাঃ জে. এম. দাশগুপ্ত প্রভৃতি নেতৃবর্গ সিমলা ব্যায়াম সমিতির কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিদ্যালয় স্থাপন—

তিনি রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে ‘মহেশালয়’ নামের একটি বিদ্যালয় স্থাপনা করেছিলেন। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘ভারত ভান্ডার’ নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন।
অতীন্দ্রনাথ যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২রা এপ্রিল সিমলা ব্যায়াম সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

দুর্গা পূজা ও স্বদেশী মেলার আয়োজন—

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সার্বজনীন দুর্গা পূজার প্রচলন করেন যাতে দেশের মানুষ বিভেদ ভুলে একত্রে উৎসবে মেতে উঠতে পারে। এই পূজা প্রাঙ্গনে স্বদেশী মেলারও আয়োজন হত। অতীন্দ্রনাথ যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২রা এপ্রিল সিমলা ব্যায়াম সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

মৃত্যু—

মহান এই বিপ্লবী ১৯৬৫ সালের ১০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু আজও তিনি স্মরনীয় হয়ে রয়েছেন তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
কবিতা

আমার মেঘলা দিন : শীলা পাল।

এতো মেঘ জমেছিল মনে ,জমেছিল বনে,
জমেছিল নতুন পাতায় ।
তুমি এলে বৈশাখী হাওয়ায় ভেসে ,এলে আনমনে
শিতলপাটি বিছিয়ে ডাকলে
একটু এসে বোস আমার পাশে।
কবরী খুলে এলোচুলে দুয়ারে খানিক দাঁড়ালে
দীঘল আঁখি মেলে প্রাণের সব সুখ টুকু ঢেলে
ভেসে গেলে পূবের হাওয়ায় ।
আজও বসে আছি অপেক্ষায়
সেই হাসিটি হৃদয়ে মাখবো বলে।

Share This
Categories
কবিতা

কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি : রাণু সরকার।

কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি, নিবিড় আঁধারে কে গো তুমি এলে অগোচরে,
খেজুরগাছের সারি তার আড়াল দিয়া দুইগুণ আঁধারে,
মিহি কেশ গলায় পলাশের মালা পরি,
মৃদু বেনার মদিরাক্ষি গন্ধে, গভীর রাতে নিখিল বিশ্ব গেলো ভরি,

কাজলে আঁকা উজ্জ্বল বাঁকা চাহনি, নিক্ষেপ করে তড়িৎ- মুখচন্দ্রিকা মধুর হাসি,
নীলাভ বস্ত্র পরিয়া শিয়রে দাঁড়ালো আসি!
বীণার ধ্বনির চেয়েও মধুর কন্ঠস্বর-হে অনুরাগী,
অবিদ্যমান শয্যা শয়নে জাগ্রত আজ্ঞা করে কিসের লাগি?

দয়া হলো বুঝি তার- অন্তরে ছুড়েদিলো সুখের কিছু ব্যথা,
জুড়ি’ জোটালো বীণাপাণী আবেগ বাণী কন্ঠে বললো কথা,
চঞ্চল বসন্তবাস অন্তরে পুষ্প ফুটে,
তার পায়ের নুপুরের ধ্বনি হৃদয়ে বেজে ওঠে,

তার ছন্দে গন্ধে রচনা হলো গজল-গীতি
তার উপবনের দ্বারে প্রচার হলো প্রতিনিয়ত নিতি;
চাই না নাম যশ এতে কোন কাজ নেই, চাই না ধনমান,
তুমি কি পারো না গো তোমার মত করে শেখাতে স্তোত্র উচ্চারণ।

কোন কথা না বলে প্রমোদ কাননে দিলে বিরাগ ভরে
বীণাটি টেনে নিয়ে ধরলো কোমল বুকের পরে;
আঙুল স্পর্শ করে তারে মধুরকন্ঠসংগীতে দিলো ভরিয়া
থাকলে না আমার হৃদয়ে- কেনো যে গেলে ফিরিয়া!
পলাশ কুঁড়ি ভেবে ছিলো কি একবার ফুটতে হবে কিনা,
বৃষ্টিপ্রেমী পাখি পাখায় ঠোঁট গুঁজে, উন্মেষ চেতনা;

কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথিতে- নিবিড় আঁধারে গেলো মিলাইয়া–
দুইগুণ আঁধার খেজুর গাছের সারি নীহার মাথায় লয়ে চললো তার আড়াল দিয়া!
তার চলার পথে সংগীতের রাগ উঠলো বাজি
মহৎ প্রাণ কোমল পরশ রূপের দীপ্তি হারিয়ে গেলো বুঝি;
অল্প সময়ের ব্যবধানে কাঁপে অন্তর- শুধুই আকুলতা,
ঘুরে ঘুরে ফিরি সর্বদা এথা হোথা খুঁজি, তাহারে পাই কোথা!

Share This
Categories
কবিতা

জন্মদাত্রী : রাণু সরকার।

বাবুর বাড়ি বাসন ধোয়ার কাজ করে যে সে আমার জন্মদাত্রী মা–
অতীত বর্তমান ভুলতে পারি না।
দারিদ্রের কোনো পছন্দ আছে নাকি, খাই তো কাঁকর মেশানো খুদ,
দীর্ঘ উপবাসে ছিলো এক গাই, শীর্ণদেহ শুকিয়ে গেছে দুধ–
তারপরও
কিছুদিন বেঁচে ছিলো প্রাণে, চলে না আর জীর্ণদেহ,
ভাঙাচোরা মাটির দেয়াল, বাঁচবো কদিন তবুও হিসাব করি গেল,
কথাবলা, হাঁটা সবই তার কোলে, তার বুকে ছড়িয়েছি দু’পা,
বাবুর বাড়ির পান্তা এনে খাওয়ায়, কিকরে ভুলি তা?

সে আমার মা, স্বয়ং ভগবান,
কিকরে ঘুচাই, দুঃখ-কষ্টে ভরা ছিলো মায়ের মন।
গুমরে উঠতো হৃদয় কষ্ট-যন্ত্রণার বিষে,
এতো গুণবতী মায়ের কথা ভুলি কিসে।
প্রাণপণ প্রবল কর্মে নিষ্ঠা, কিন্তু অন্তরে ছিলো একটু ভয়,
কোথায় গেলো কষ্টেরা, শক্তিসাধন করেছিলো মৃত্যুঞ্জয়।

প্রচণ্ড মানসিক শক্তি ছিলো- এইরকম মা সবসময় চাই,
মায়ের কথা কিকরে ভুলি- এখনো মনে পড়ে ভুলি নাই।
মায়ের জঠরে জন্মে করি মায়ের নাম গান,
এই মাকে কেউ কি করে অপমান?
বাবুদের বাড়ি কাজ করেছে বলে কিকরে ভুলি মায়ের বাণী?
অব্যক্ত অন্তরের কষ্ট গুলো নিয়েই চলে গেলেন রাণী।

Share This
Categories
কবিতা

চঞ্চল প্রাণ :::: রাণু সরকার।।।।

দোষ কীর্তন গাইবে সবাই জানি–
তবু প্রিয়া তোমার কাছেই বাজাবো আমার প্রিয় তানপুরা খানি।
হাত আমার শাসনে নেই, তাল হারিয়েছে তারে,
ধৈর্য্যহীন চিত্তচাঞ্চল্য প্রহার করে পাঁজরের দ্বারে,
প্রিয়া তুমি মান কোর না,বাঁধ তার বুঝে নিয়ে
চেষ্টা যেন সফল হয়, তোমার ভাবের উদ্রেক বিহ্বলতা দিয়ে।
বেজে উঠুক সে তার অন্তরে আছে কথা যত
গুঞ্জরণ রবে হৃদয়ের গোপন ব্যথা আছে যত,
করে করুক কানাঘুষা লোকে, লুটোপুটি হবে হেসে–
তোমার চোখের উজ্জ্বল জ্যোতি যেন মন্ত্র দিলো শেষে।

ভয় পেওনা প্রিয়া–
একান্তে যে কুটির আছে- ক্ষুদ্র জনপদের গায়,
উদাহৃদয় নদীর ধারের পথ আকাঁ বাঁকা,
চারিধারে বনজাত ঝাউ তমালের শাখা।
খুব একটা মানুষের সমাগম নেই বলা যায়-
কি জানি কে এই সময়ে সঙ্গীতের সুর বাজায়!
পথের পথিক পারবে বলতে লাগালো সুর;
কে দিলো তারে এ ব্যথার সুর তালে ছন্দে যে ভরপুর;
এ সুরের প্রধান নাই, নাই কোন অট্টালিকা বাদ্যযন্ত্র কি আছে,
আছে একটি ভক্তিমান থাকে দেবীর কাছে!

ওই নদীটির তীর–
বনজাত তমালের শাখে ঘনিয়ে আসে রাত গভীর;
মুক্ত থাকুক দ্বার, তুমি কি পাবে ভয়!
ভয় করোনা প্রিয়া আমার- পাহাড়া দেয় যে বেতনের বিনিময়!
দখিনের বাতাস ঢুকছে কুটিরে থরথর কাঁপছে প্রদীপ খানি,
ধৈর্য্যধরো এবেলায় সুর টানি!
হাতটি আমার অবস কেনো, বুকও কাঁপছে সাথে,
অশ্রুবর্ষণ কেনো, তবে উৎকণ্ঠিত বেদনাতে।
সজ্ঞা হারিয়ে নীরবে কখন রাত বেড়ে যায়
জোনাকির আলোতে ঝিঁঝি নৃত্য করে ,তানপুরা সজ্ঞা হারায়।
পাগল পবন যদি না থামে–
সহসা বিহানে যদি বর্ষা নামে;
এবার কুটিরের ফাঁকে পবন এলে প্রদীপ যাবে নিবে!
কেউ কি আছে দুয়ার খানি টেনে দেবে!

Share This