Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: বৃষ্টিভেজা চিঠি।।।

আজও বৃষ্টি নামলে মনে তোমার কথা আসে, পুরোনো সেই দিনগুলো সব ভিড় করে চারপাশে।

জানালাতে বৃষ্টির ফোঁটা লেখে কত কথা, মনের মাঝে জেগে ওঠে হারিয়ে যাওয়া ব্যথা।

সেই যে প্রথম দেখা হলো কৃষ্ণচূড়ার তলে, লাজুক চোখে তাকিয়েছিলে বিকেলবেলার ছলে।

তোমার হাতে ছোট্ট চিঠি, কাঁপছিল দুটি হাত, কত স্বপ্ন বুনেছিলাম সেই বসন্তের রাত।

বলেছিলে, ছেড়ে যাবে না তো কোনো দিন, তোমার চোখে খুঁজে পেতাম আমার স্বপ্ন রঙিন।

সময় যে কী নিষ্ঠুর বুঝিনি সেদিন আমি, একদিন তুমি দূরে গেলে, একা রইলাম আমি।

শেষ চিঠিটা আজও আছে পুরোনো বইয়ের ভাঁজে, শুকনো ফুলের গন্ধ মেখে স্মৃতির প্রদীপ সাজে।

কতবার যে লিখতে বসে থেমে গিয়েছে কলম, কত কথা জমে রয়েছে বুকের গভীরতম।

জানি, তুমি ফিরবে না আর আমার পথের বাঁকে, তবু কেন বৃষ্টির দিনে মন তোমাকেই ডাকে?

হয়তো তুমি সুখেই আছ নতুন কোনো ঘরে, আমার কথা মনে পড়ে কি বৃষ্টিভেজা দুপুরে?

অভিযোগের ভাষা নেই আর, নেই কোনো অভিমান, ভালো থেকো—এই কথাটুকু রেখেছি বুকের মাঝখানে।

ভালোবাসা মানেই তো নয় চিরকাল কাছে থাকা, কখনো দূরে থেকেও কারও সুখের প্রার্থনা করা।

বৃষ্টি থেমে আকাশজুড়ে রোদ উঠেছে শেষে, তোমার স্মৃতি রয়ে গেল হৃদয়েরই দেশে।

যদি কখনো বৃষ্টি নামে তোমার জানালার পাশে, মনে কোরো, কেউ একদিন তোমায় ভালোবেসেছিল নিঃশব্দ ভালোবাসায়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: বৃদ্ধাশ্রমের জানালায়।।

জানালার পাশে বসে বাবা দূর আকাশের দিকে চায়, চেনা পথের ধুলো মেখে স্মৃতিরা ফিরে ফিরে যায়।

একদিন এই হাত ধরেই সন্তান হাঁটতে শিখেছিল, বাবার কাঁধে চড়ে সে যে নীল আকাশকে চিনেছিল।

মায়ের আঁচল ছিল তখন সবচেয়ে নিরাপদ ঘর, একটু ব্যথায় মা-ই বুঝতেন কোথায় জমেছে জ্বর।

রাত জেগে কত গল্প বলা, কত আদরের গান, সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে উজাড় করতেন প্রাণ।

আজকে সেই মা-বাবা দুজন অন্য ঠিকানায়, সন্তানেরই ব্যস্ত জীবনে তাঁদের সময় কোথায়?

উৎসব এলে জানালাতে প্রদীপ জ্বলে ধীরে, চোখের জলে পুরোনো ছবি বুকে রাখেন ঘিরে।

ফোনের শব্দ কানে এলেই চমকে ওঠে মন, হয়তো আজকে সন্তান বলবে, “কেমন আছো এখন?”

কিন্তু ফোন আসে না যে, দিন গড়িয়ে যায়, অপেক্ষাতে সন্ধ্যা নামে, রাত নেমে আসে গায়।

বাবার চোখে অভিমান নেই, মায়ের মুখে অভিযোগ নয়, সন্তান ভালো থাকুক শুধু— এই তো তাঁদের জয়।

তবু প্রশ্ন জাগে মনে, কোথায় গেল সেই টান? যে মানুষরা জীবন দিল, তাঁদের কেন এমন অবসান?

বৃদ্ধ হওয়া অপরাধ নয়, অপরাধ নয় দুর্বলতা, বয়স বাড়লে আরও বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা।

যাঁদের হাত ধরে আমরা পৃথিবী চিনতে শিখি, তাঁদের হাত ছেড়ে দিয়ে কীভাবে সুখী থাকি?

একটু সময়, একটু কথা, একটু স্নেহের ছোঁয়া, বৃদ্ধ হৃদয় ভরিয়ে দিতে এর বেশি কী বা চাওয়া?

আজ যে বাবা জানালাতে অপেক্ষা করেন বসে, কাল যে আমরাও দাঁড়াব গিয়ে সময়েরই দরজাতে।

জীবনচক্র ঘুরে ঘুরে একই প্রশ্ন আনে, আজকের অবহেলা কালকে ফিরবে অন্যখানে।

বৃদ্ধাশ্রমের জানালাতে শুধু অশ্রু জমতে দিও না, যাঁদের কাছে পৃথিবী পেয়েছ, তাঁদের কখনো ভুলে যেয়ো না।

মা-বাবা তো বোঝা নন, তাঁরাই জীবনের আলো, শেষ বয়সে পাশে থেকো— তাতেই তাঁদের ভালো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: একদিন আমিও জিতব।

আজকে হয়তো হেরে গেছি, থেমে গেছে পথ, স্বপ্নগুলো ভেঙে গিয়ে বাড়িয়েছে ক্ষত।

চারপাশেতে অন্ধকার, নেই তো আলোর দিশা, তবু বুকের গভীর কোণে জেগে আছে আশা।

অনেক মানুষ বলেছে আমায়, “তোমায় দিয়ে হবে না,” তাদের কথায় স্বপ্ন দেখা কখনো থামবে না।

হাজার বাধা সামনে এলেও পিছু হটব না, ব্যর্থতার ভয়ে আমি নিজেকে হারাব না।

যে হাত আজ শূন্য আমার, সেই হাতে একদিন গড়ব আমি নতুন সকাল, লিখব জয়ের ঋণ।

যে চোখ আজ অশ্রু ঝরায়, হাসবে সেই চোখ, দুঃখগুলো হার মানবে, মুছে যাবে শোক।

পথের মাঝে কাঁটা থাকুক, থাকুক ঝড়ের রাত, সাহস নিয়ে এগিয়ে যাব, ধরব নিজের হাত।

পৃথিবী যদি মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ায় বিপরীতে, বিশ্বাস রেখে চলব আমি নিজের শক্তিতে।

সাফল্য কোনো ভাগ্য নয়, পরিশ্রমের ফল, ধৈর্য ধরে লড়তে পারলে খুলবে বন্ধ দরজার কপাট।

আজকে যারা হাসছে আমায় আমার হারের দিনে, কালকে তারাই চিনবে আমায় সাফল্যের আলোয়।

তবে জয়ী হওয়ার মানে কাউকে ছোট করা নয়, নিজের স্বপ্ন পূরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জয়।

আমি জানি, সময় লাগবে, লাগবে অনেক সাধনা, কঠিন পথে হাঁটতে গেলে হারালে চলবে না মানা।

প্রতিটি ভুল শেখাবে আমায় নতুন করে চলা, প্রতিটি ক্ষত মনে করাবে কতটা পথ পেরোনো হলো।

আজ তাই আমি শপথ নিলাম, থামব না আর কোনো দিন, স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করব যতক্ষণ আছে প্রাণের ঋণ।

আজকে আমি হারলেও বন্ধু, কালকে জিতব ঠিক, বিশ্বাস আর পরিশ্রমে বদলে দেব জীবনের লিখনলিপি।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: মানুষ চেনার গল্প।

মুখের হাসি দেখেই কাউকে আপন ভেবো না, মিষ্টি কথার আড়ালটাতে কী আছে, তা বোঝো না।

কেউ যে আসে ফুল হাতে নিয়ে, মনে লুকায় কাঁটা, কেউবা আবার নীরব থেকে মুছে দেয় চোখের পাতা।

কেউ তোমারই সুখের দিনে বন্ধু হয়ে আসে, দুঃখ যখন দরজায় দাঁড়ায়, তখন দূরে ভাসে।

আবার কেউ অচেনা হয়েও বাড়িয়ে দেয় হাত, তোমার ব্যথায় নিজের চোখে নামায় অশ্রুর রাত।

মানুষ চেনা সহজ নয়, সময় লাগে বেশ, মুখোশ খুলে সত্যিটা যে দেখায় জীবনের রেশ।

যে মানুষটি পাশে থেকে করে তোমার ভালো, তারই মাঝে খুঁজে পাবে সম্পর্কের আসল আলো।

যে তোমার ভুল শুধরে দেয়, সে-ই সত্যিকারের আপন, মিথ্যে প্রশংসা করে যারা, তাদের থেকে সাবধান।

স্বার্থ যতদিন বেঁচে থাকে, সম্পর্ক থাকে কাছে, স্বার্থ ফুরোলেই অনেক মানুষ অচেনা হয়ে বাঁচে।

তবু সবার প্রতি ঘৃণা পুষে রেখো না মনে, কিছু মানুষ ভালোবাসে নিঃস্বার্থ জীবনে।

কাউকে বিচার কোরো না তুমি শুধু পোশাক দেখে, মানুষের আসল পরিচয় কর্মের মাঝে লেখে।

ধনসম্পদ কিংবা ক্ষমতা মানুষ বড় করে না, অন্যের চোখের জল মোছাতে যে জানে, সে হারে না।

নিজে ভালো মানুষ হও, সত্যের পথে চলো, প্রতিদানে কিছু না চেয়ে ভালোবাসার কথা বলো।

দিনের শেষে বুঝবে তুমি, সব হিসাবের শেষে, মানুষ চেনার শ্রেষ্ঠ উপায় তার ব্যবহার ও ভালোবাসায় মেশে।

মুখ নয়, মনকে চেনো; কথা নয়, কর্মকে মানো। মানুষের আসল পরিচয় তার মানবতায় জানো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: নতুন ভোরের অপেক্ষায়।

রাত যতই গভীর হোক, ভোর তো আসবেই, মেঘের আড়াল সূর্যটাকে ঢাকতে পারবে কই?

জীবন যদি থমকে দাঁড়ায় হাজার দুঃখ নিয়ে, আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখো হৃদয়টাকে দিয়ে।

কত স্বপ্ন ভেঙে যায় যে সময়েরই টানে, কত আপন দূরে সরে অচেনা অভিমানে।

তবু কেন থামবে তুমি, কেন হারাবে আশা? জীবনজুড়ে বেঁচে থাকুক ভালোবাসার ভাষা।

যে পথ আজ বন্ধ মনে হয়, খুঁজে দেখো আবার, একটি নতুন রাস্তা হয়তো ডাকছে তোমায় এবার।

যে চোখ আজ অশ্রুতে ভেজে, হাসবে কোনো দিন, দুঃখের মেঘ সরিয়ে দেবে সুখের সোনার রঙিন।

যে মানুষটি হারিয়ে গেছে, থাকুক স্মৃতির ঘরে, নতুন মানুষ আসতে পারে ভালোবাসার তরে।

সব হারিয়েও মানুষ আবার স্বপ্ন দেখতে শেখে, ভাঙা ডানায় উড়তে শেখে আকাশটাকে দেখে।

পৃথিবীটা নিষ্ঠুর হলেও মনটা রেখো নরম, মানবতার আলো জ্বালিয়ে করে চলো ভালো কর্ম।

অন্যের পথে কাঁটা নয়, ফুল বিছিয়ে দিও, অসহায়ের ক্লান্ত মুখে একটু হাসি দিও।

আজকে যদি ব্যর্থ হও তুমি, কালকে আবার চলো, নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে নতুন স্বপ্ন গড়ো।

জীবন মানে যুদ্ধ শুধু নয় তো হার-জিত, জীবন মানে ঝড়ের মাঝেও ভালোবাসার গীত।

তাই অপেক্ষা করো বন্ধু, আসবে নতুন ভোর, অন্ধকারের বুক চিরে আলো ছড়াবে চারদিক ভর।

যে হৃদয়ে আশা বেঁচে থাকে, সে হৃদয় কখনো হারে না, নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখা কোনো দিন বৃথা যায় না।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: জীবনের শেষ বিকেল।

জীবন যখন শেষ বিকেলে ধীরে ধীরে নামে, পুরোনো সব স্মৃতিগুলো ফিরে আসে মনে।

যে পথ ধরে ছুটেছিলাম স্বপ্ন নিয়ে বুকে, আজ সে পথে হাঁটতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় দুঃখে।

কত মানুষ এসেছিল যে জীবন নদীর ঘাটে, কেউবা রইল হাতটি ধরে, কেউ হারাল পথে।

কত কথা বলা হলো না, কত অভিমান জমে, কত আপন দূরে গেল সময়েরই নিয়মে।

যে বাড়িটাতে হাসির মেলা বসত সকাল-সাঁঝে, সেই বাড়িটা নীরব এখন, স্মৃতি শুধু বাজে।

বাবার গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজও কানে ভাসে, মায়ের স্নেহভরা মুখখানি স্বপ্ন হয়ে আসে।

বন্ধুদের সেই আড্ডাগুলো হারিয়ে গেছে কোথায়, ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে কে আর সময় পায়?

তবু মনে হয়, জীবন আমার একেবারে বৃথা নয়, কারও মুখে হাসি ফুটলে সেখানেই তো জয়।

কাউকে যদি ভালোবেসে একটু সুখ দিয়ে যাই, কারও দুঃখের অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালাই,

তবে আমার চলে যাওয়াও হবে না একা একা, কোনো হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে থাকবে আমার লেখা।

জীবন মানে শুধু পাওয়া নয় যে সারাক্ষণ, কিছু হারানো শিখিয়ে দেয় ভালোবাসার মানে।

তাই তো বলি, যতদিন এই বুকের মাঝে প্রাণ, আপনজনকে ভালোবেসে করে যেয়ো দান।

সম্পদ কিংবা খ্যাতি নয়, নয় যে বাহার, মানুষের মনে ভালোবাসাই জীবনের উপহার।

শেষ বিকেলের অস্তরাগে যখন থামবে পথচলা, ভালো কাজের স্মৃতিগুলোই হবে সঙ্গী, হবে সম্বল।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: ফিরে এসো শৈশব

ফিরে এসো শৈশব আমার, ফিরে এসো সেই দিনে, যখন সুখের মানে ছিল হাসি বন্ধুদের সনে।

কাগজ দিয়ে নৌকা বানিয়ে ভাসাতাম বৃষ্টির জলে, মেঘের গর্জন শুনে তখন দৌড় দিতাম মায়ের কোলে।

স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজলে মনটা হতো খুশি, বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে হাসতাম রাশি রাশি।

কাঁচা আমের টক স্বাদটুকু আজও মনে পড়ে, লুকিয়ে খাওয়া সেই দুপুরটা স্মৃতির পাতায় জড়ে।

মাটির ঘরে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙত যে ভোরে, বাবার হাতটা ধরে হাঁটতাম গ্রামের মেঠো পথে।

ছিল না কোনো বড় চাহিদা, ছিল না হিসাব-নিকাশ, একটু খেলনা পেলেই যেন পেতাম সুখের আকাশ।

আজকে হাতে অনেক কিছু, তবু কোথায় সুখ? হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝে একলা থাকে বুক।

দায়িত্ব এসে কাঁধে চেপেছে, সময় ছোটে দ্রুত, হাসির আড়াল ঢেকে রাখে ক্লান্ত জীবনের ক্ষত।

পুরোনো সেই বন্ধুদের মুখ দেখা হয় না আর, কেউ হারিয়েছে দূর শহরে, কেউ সংসারে ব্যস্ত ভার।

তবু রাতে চোখ বুজলেই ফিরে পাই সেই গ্রাম, মাঠের ধারে তালগাছগুলো ডাকে অবিরাম।

ইচ্ছে করে একদিন আবার শৈশবে ফিরে যাই, মায়ের আঁচল জড়িয়ে ধরে সব দুঃখ ভুলে যাই।

কিন্তু সময় নদীর মতো, ফিরে আসে না স্রোত, শৈশব শুধু স্মৃতি হয়ে বুকের ভেতর জাগায় হাহাকার।

তাই তো আজও শিশুর হাসি দেখলে মনটা ভরে, নিজের হারানো দিনগুলো ফিরে আসে অন্তরে।

শৈশব তুমি হারিয়ে গিয়েও রয়েছ হৃদয়জুড়ে, জীবন যত দূরেই যাক, তোমায় রাখব স্মৃতির ঘরে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: মাটির মানুষের স্বপ্ন।।

মাটির ঘরে জন্ম আমার, মাটির গন্ধ গায়, ছোট্ট সুখের স্বপ্নগুলো আকাশ ছুঁতে চায়।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই দিনমজুরের হাঁটা, ঘামে ভেজা জামার ভেতর হাজার স্বপ্ন গাঁথা।

কৃষক যখন মাঠে নামে, লাঙল ধরে হাতে, সবুজ ফসল হাসি ফোটায় বাংলার ধানের খেতে।

মায়ের হাতে শুকনো রুটি, তবু মমতা ভরা, নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তুলে দেন আহার।

বাবার চোখে ক্লান্তি জমে, মুখে তবু হাসি, সন্তানেরই ভবিষ্যতের স্বপ্নে মন উদাসী।

কেউ বা থাকে ছোট্ট ঘরে, বৃষ্টিতে চালে জল, তবু তাদের ভালোবাসায় ভরে ওঠে আঁচল।

বড়লোকের প্রাসাদ জুড়ে আলোর কত মেলা, গরিব ঘরের প্রদীপটিও জ্বলে সন্ধ্যাবেলা।

সুখ কি শুধু সোনার গয়না, দামি গাড়ির চাকা? সুখ তো হলো প্রিয়জনের হাতটি শক্ত রাখা।

যে মানুষটি মাটির বুকে পরিশ্রমের বীজ বোনে, তারই ঘামে সভ্যতা আজ নতুন দিনের স্বপ্ন বুনে।

তবু কেন তার চোখের জলে কেউ দেয় না দাম? কেন তারই পরিশ্রমে অন্যের হয় নাম?

যে হাতে গড়ে শহরজুড়ে উঁচু অট্টালিকা, সেই হাতেই অভাব কেন করে বাস চিরকাল?

এসো সবাই শপথ করি, ভেদাভেদ ভুলে যাই, শ্রমের মর্যাদা দিতে শিখে মানবতার গান গাই।

মাটির মানুষ ছোট নয়, ছোট নয় তার আশা, তারই ঘামে পৃথিবী হাসে, তারই বুকে ভালোবাসা।

মাটির মানুষ, মাথা তুলে স্বপ্ন দেখো আজ, তোমার শ্রমেই গড়ে উঠুক আগামীর নতুন সমাজ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: হার না মানা মানুষ।

পথের শেষে আঁধার দেখেও যে মানুষটি চলে, হাজার বাধার পাহাড় পেরিয়ে স্বপ্ন আঁকে চোখের জলে।

ঝড়ের মুখে ভেঙে পড়ে কত আশা-ঘর, তবু সে যে নতুন করে বাঁধে স্বপ্নের ঘর।

হাজার মানুষ হাসে যখন তারই ব্যর্থতা দেখে, সে মানুষটি জেদকে সাথি রাখে বুকের কাছে।

পায়ের নিচে কাঁটা বিছায়, আকাশ ভেঙে পড়ে, তবু তারই সাহসী মন পিছু হটতে নারাজ রে।

জীবন কখনো ফুল বিছিয়ে স্বাগত জানায় না, সাফল্যের সোনার চাবি সহজে হাতে পায় না।

কখনো ক্ষুধা, কখনো দুঃখ, কখনো আপনহারা, কখনো আবার স্বপ্নগুলো হয় যে দিশেহারা।

তবু যে মানুষ ভাঙা বুকেও আশার প্রদীপ জ্বালে, একদিন তার জয়ের কাহিনি ছড়িয়ে পড়ে কালে কালে।

মনে রেখো, ব্যর্থতা মানে জীবন শেষ নয়, হেরে গিয়েও শেখার মাঝে নতুন জয়ের পরিচয়।

যে হাত আজ শূন্য আছে, কাল সে হাতেই আলো, যে চোখ আজ অশ্রুতে ভেজে, সেই চোখ হাসবে ভালো।

নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো, রেখো সাহস মনে, পৃথিবী একদিন চিনবে তোমায় কর্মের পরিচয়ে।

অন্যের কথায় থেমো না আর, ভয়কে দিও বিদায়, নিজের পথে এগিয়ে চলো, সাফল্য আসবেই একদিন প্রায়।

হার মানা নয় জীবনের ধর্ম, লড়াই করাই পরিচয়, যে মানুষটি শেষ অবধি লড়ে, জয় একদিন তারই হয়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: নীরবতারও ভাষা আছে।

কিছু কথা বলা হয় না, থেকে যায় মনের ঘরে, কিছু ব্যথা চোখের জলে নীরবে ওঠে ঝরে।

কিছু মানুষ হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে ক্ষত, বুকের মাঝে ঝড় উঠলেও বলে না কোনো কথা।

কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায় অভিমানেরই টানে, কিছু স্মৃতি বেঁচে থাকে অচেনা কোনো গানে।

যে মানুষটি সবার কাছে হাসিমুখে যায় ফিরে, রাতের বেলা সেই মানুষই কাঁদে বালিশ ভিজিয়ে।

সবাই শুধু মুখটা দেখে, দেখে না মনের ব্যথা, সবাই শোনে কথার সুর, বোঝে না নীরবতা।

কখনো যদি দেখো কাউকে চুপচাপ বসে থাকতে, হাতটা বাড়িয়ে দিও তুমি, ডেকো আপন করে কাছে।

হয়তো তারও অনেক কথা জমে আছে বুকে, হয়তো একটু স্নেহ পেলেই ফিরবে সে যে সুখে।

জীবন মানে শুধু হাসি নয়, কান্নাও তার সাথি, অন্ধকারের বুক চিরেই আসে আলোর বাতি।

যে হৃদয়ে মায়া থাকে, সে বোঝে ব্যথার ভাষা, ভাঙা মনেও জাগিয়ে তোলে বেঁচে থাকার আশা।

তাই কাউকে ছোট কোরো না তার নীরবতা দেখে, কত না ঝড় বয়ে যায় মানুষের বুকের ভেতরে।

একটু সময়, একটু মমতা, একটু ভালোবাসা, এইটুকুতেই ফিরে পেতে পারে ক্লান্ত হৃদয় আশা।

নীরবতা মানেই শূন্যতা নয়, তারও গভীর ভাষা আছে, মন দিয়ে যে শুনতে জানে, মানুষের সত্যিকারের আপন সে-ই পাশে।

Share This