Categories
কবিতা বিবিধ

 কবিতা : একটি খালি চেয়ার।

ঘরের কোণে খালি চেয়ার চুপটি করে রয়, তার পাশে আজ কেউ বসে না, কথা বলার কেউ নয়।

একদিন এই চেয়ারটিতে বাবা বসতেন রোজ, দিনের শেষে গল্প হতো, মিটত মনের খোঁজ।

চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠত, হাসি ছড়াত ঘরে, ছোট্ট ছোট্ট আবদার নিয়ে ছুটতাম তাঁর তরে।

সময়ের স্রোত থামে না কখনও, বদলে যায় দিন, চেয়ার আছে, মানুষ নেই, স্মৃতিরা বড় ঋণ।

কখনও সন্ধ্যা নামলে পরে চেয়ারটার দিকে চাই, মনে হয়, এই বুঝি বাবা ডাকছেন আমায় ভাই।

জীবন বড় অদ্ভুত খেলা, সবাই থাকে না পাশে, কেউ চলে যায় দূর আকাশে, কেউ স্মৃতিতে ভাসে।

যতদিন আপনজনেরা বসে আছে ঘরে, সময় দিও তাদের একটু, ভালোবাসা ভরে।

একটি খালি চেয়ার যেন শিখিয়ে গেল আজ— মানুষ চলে গেলে পরে থেকে যায় তারই কাজ।

তাই অভিমান জমিয়ে রেখে দূরে সরে যেয়ো না, যে মানুষটি আপন তোমার, তাকে অবহেলা কোরো না।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : রেললাইনের পাশের ফুল।

রেললাইনের পাশের ধারে ফুটেছে ছোট্ট ফুল, ধোঁয়া-ধুলো, কোলাহলেও রঙ হারায় না ভুল।

সকাল হলে ট্রেনের চাকা কাঁপিয়ে দেয় মাটি, তবু ফুলটি মাথা তুলে দেখায় বুকের পাটি।

কেউ তো তারে জল দেয় না, কেউ করে না যত্ন, তবু তারই পাপড়িতে লেগে থাকে স্বপ্ন।

দূর শহরের যাত্রীরা জানালা দিয়ে চায়, কেউ দেখে না, কেউ বা দেখে মুহূর্তে হারায়।

ফুলটি তবু অভিমানী নয়, ফোটে নিজের মতো, অল্প রোদে, অল্প জলে সাজায় পথের ক্ষত।

মানুষেরও জীবনজুড়ে এমন কত প্রাণ, নীরবে তারা কাজ করে যায়, পায় না সম্মান।

যে মানুষটি পাশে থেকে তোমার বোঝা টানে, একটু স্নেহ দিও তাকে, রেখো নিজের প্রাণে।

রেললাইনের ছোট্ট ফুল শিখিয়ে দিল আজ— মূল্য পেতে হয় না সবার, নিজের মতো বাঁচাই কাজ।

যেখানে আছ, সেখানেই তুমি সৌন্দর্য ছড়িয়ে দাও, অবহেলার ধুলো মুছে নিজের আলোয় ফুটে ওঠো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : অবহেলিত বই।।

আলমারির এক কোণেতে ধুলো মেখে বই, কেউ তো তাকে খোলে না আর, সঙ্গী যেন কেউ নেই।

পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে কত অজানা দেশ, রাজা-রানি, পাহাড়-নদী, কত জীবনের রেশ।

কত লেখক রাত জেগে লিখেছেন তার কথা, কত ভাবনা, কত অনুভব, কত সুখের ব্যথা।

তবু আজ সে একলা পড়ে নীরব ঘরের কোণে, মোবাইলের রঙিন পর্দা টানে সবার মনে।

একদিন এক শিশু এসে বইটি হাতে নিল, প্রথম পাতার অক্ষরগুলো নতুন করে চিনল।

পাতার পরে পাতা উল্টে খুলল বিস্ময়-দ্বার, ছোট্ট মনে স্বপ্ন জাগল, বাড়ল জানার ভার।

বইটি যেন হাসল সেদিন, পেল নতুন প্রাণ, জ্ঞান যে কখনও বুড়ো হয় না, এ তারই প্রমাণ।

এসো আবার বইয়ের কাছে, খুলি মনের দ্বার, বইয়ের পাতায় খুঁজে পাব পৃথিবী অপার।

যে বই আজ অবহেলিত, সেও সম্পদ এক, তার নীরবতার গভীর মাঝে জ্ঞান রয়েছে অনেক।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : শেষ বিকেলের মাঠ।

শেষ বিকেলের মাঠের বুকে রোদ পড়েছে ঢলে, ঘাসের ওপর সোনার আভা নরম হাওয়ায় দোলে।

দূর আকাশে পাখিরা সব ফিরছে আপন নীড়ে, রাখাল ছেলের বাঁশির সুর ভাসছে নদীর তীরে।

খেলার মাঠে ছেলেমেয়েরা ফিরতে চায় না ঘরে, আরও একটু খেলবে বলে আবদার করে স্বরে।

ধুলো মাখা পায়ের ছাপ রয়ে যায় ঘাসে, হাসির শব্দ মিশে থাকে বাতাসেরই শ্বাসে।

বটের নিচে বৃদ্ধ মানুষ চুপটি করে বসে, হারিয়ে যাওয়া শৈশব যেন ফিরে আসে চোখে।

সূর্য যখন ডুবে যায় পশ্চিম দিগন্তে, দিনের শেষে মনটা ভরে অদ্ভুত এক শান্তিতে।

জীবনও তো মাঠের মতো, দিন ফুরোয় অজান্তে, কত খেলা, কত হাসি স্মৃতি হয়ে থাকে অন্তরে।

তাই যতক্ষণ আলো আছে, বেঁচে নাও মন ভরে, সুখের মুহূর্ত কুড়িয়ে রেখো জীবনেরই ঝুলিতে।

কাল আবার সূর্য উঠবে, নতুন হবে দিন, আজকের এই বিকেলটুকু থাকুক স্মৃতির রঙিন ঋণ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : বীজের স্বপ্ন।

মাটির নিচে ছোট্ট বীজ ঘুমিয়ে ছিল একা, চারদিকে তার অন্ধকার, তবু স্বপ্ন দেখা।

মাথার ওপর মাটির বোঝা, আলো বহুদূরে, তবু সে যে থামেনি কখনও হাল না ছেড়ে সুরে।

একদিন মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামল ধরণীর বুকে, বীজের মনে সাহস জাগল নতুন জীবনের সুখে।

মাটি ঠেলে মাথা তুলে দেখল নীল আকাশ, সূর্য তখন হাসিমুখে দিল আলোর পরশ।

ধীরে ধীরে বড় হয়ে সে হলো সবুজ গাছ, পাখিরা তার ডালে বসে গাইল খুশির গান।

একদিন সে ফলের ভারে নত করল মাথা, পথিক পেল ছায়ার আশ্রয়, মিটল ক্লান্তি-ব্যথা।

আমাদেরও বীজের মতো স্বপ্ন থাকে মনে, শুরুতে হয়তো পথটা কঠিন, আলো থাকে না জীবনে।

তবু ধৈর্য, পরিশ্রম আর বিশ্বাস রাখো সাথি, একদিন তোমার স্বপ্নও ফুলে-ফলে হবে মাতি।

মনে রেখো, বড় হওয়ার শুরু ছোট্ট থেকে, যে বীজ আজ মাটিতে ঘুমায়, কাল সে আকাশ দেখে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : হারানো ছাতাটি।

এক বর্ষার দুপুরবেলা ছাতাটি গেল হারিয়ে, ফিরতি পথে খুঁজতে গিয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে।

কালো রঙের ছোট্ট ছাতা, হাতলটিতে দাগ, কত বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সঙ্গ দিয়েছে আজ।

স্কুলের পথে ঝড় উঠলে আগলে রাখত বই, বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নিতাম, জায়গা ছিল সবারই।

সেদিন ভিজে বাড়ি ফিরে মনটা হলো খারাপ, ছাতার চেয়ে স্মৃতিগুলোই দিল বেশি যে চাপ।

পরের দিন সেই দোকানে এক শিশুকে দেখি, আমার ছাতার মতো ছাতা হাতে নিয়ে একাকী।

কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, কোথায় পেল সে ওটা, হেসে বলল, “কুড়িয়ে পেয়েছি, বৃষ্টিতে ভিজছিল পথটা।”

বললাম তাকে, “রেখে দাও, তোমারই থাক আজ, আমার স্মৃতির চেয়ে তোমার সুরক্ষাটাই কাজ।”

হারানো জিনিস ফিরল না ঠিক, তবু পেলাম সুখ, অন্যের মুখে হাসি দেখেই হালকা হলো বুক।

সব পাওয়া হাতে ধরা নয়, সব হারানো ক্ষতি নয়, কখনও কিছু ছেড়ে দিলেই মনের আকাশ মুক্ত হয়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : নদীর ওপারের গ্রাম।

নদীর ওপার ছোট্ট গ্রামে সন্ধ্যা নামে ধীরে, ধানের ক্ষেতে বাতাস খেলে সোনার রোদকে ঘিরে।

মাটির পথে গরুর গাড়ি ফিরে চলে ঘরে, রাখাল ছেলের বাঁশির সুর ভেসে আসে দূরে।

পুকুরপাড়ে শাপলা হাসে, ডাকে বুনো পাখি, তালগাছের ওই মাথায় বসে চাঁদ দেয় উঁকি।

দিদিমার সেই উঠোনজুড়ে গল্পের আসর বসে, রূপকথারা ডানা মেলে ঘুমের দেশে ভাসে।

শহর থেকে দূরে হলেও সুখের কমতি নেই, অল্প ভাত আর ডালেই যেন তৃপ্তি খুঁজে পায় সবাই।

কেউ সেখানে দুঃখ পেলে প্রতিবেশী পাশে দাঁড়ায়, একজনের চোখের জল সবার চোখে ছায়া ফেলে যায়।

নদীর জলে চাঁদটা দোলে, রাত হয় নিরিবিলি, এই গ্রামেরই মায়ার বাঁধন বড় যে শক্তিশালী।

যত দূরেই চলে যাই না জীবনেরই টানে, শৈশবের সেই গ্রামের ছবি রয়ে যায় প্রাণে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : একটি চড়ুইয়ের সংসার।

বারান্দার ওই কার্নিশেতে চড়ুই দুটির বাসা, খড়কুটো আর শুকনো পাতায় গড়ে ভালোবাসা।

সকাল হলে মা চড়ুইটি খাবার খুঁজতে যায়, বাবা চড়ুই পাহারা দেয়, ছানারা গান গায়।

ছোট্ট ঠোঁটে ক্ষুধার ডাক, ডানায় ওড়ার স্বপ্ন, আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা অনন্ত।

ঝড় এলে সেই বাসাটিতে ভয়ের ছায়া নামে, তবু তারা আগলে রাখে ছানাদেরই প্রাণে।

মানুষ কত বড় বাড়ি গড়ে জীবনের তরে, তবু কখনও আপন মানুষ হারায় দূরত্বের ঘোরে।

চড়ুই আমায় শিখিয়ে দিল সংসার মানে কী— অল্পতেই সুখ খুঁজে নেওয়া, পাশে থাকা সব সময়ই।

ধনসম্পদের হিসাব ছেড়ে ভালোবাসা জমাও, ছোট্ট ঘরেও স্বর্গ গড়ে প্রিয়জনকে আগলাও।

একদিন ওই ছানাগুলো উড়বে নীল আকাশে, তবু তাদের প্রথম বাসা রয়ে যাবে ভালোবাসায়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

 কবিতা : বৃষ্টির দিনের জানালা।।

জানালাটায় বৃষ্টি এসে আলপনা আঁকে ধীরে, জলছবিরা গল্প বলে মেঘের দেশের নীড়ে।

কাঁচের গায়ে ফোঁটাগুলো নাম লেখে বারবার, কেউ বা ছোট নদী হয়ে খোঁজে পথের পার।

দূরে মাঠে কৃষক দাঁড়ায়, মুখে তৃপ্তির হাসি, মাটির বুকে বৃষ্টি নামলে জাগে নতুন আশি।

রাস্তার ধারে ছাতার নিচে দুজন পাশাপাশি, ভেজা পথে প্রেমের কথা শোনায় ভালোবাসি।

চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে, বইয়ের পাতায় মন, বৃষ্টির সুরে হারিয়ে যায় ব্যস্ত দিনের ক্ষণ।

কখনও বৃষ্টি দুঃখ আনে, ভাসিয়ে দেয় ঘর, তবু তারই জলে জেগে সবুজ হয় চরাচর।

জানালাতে বসে বসে বুঝি দিনের শেষে, সুখ লুকিয়ে থাকে কত সাধারণের বেশে।

একটু বৃষ্টি, এক কাপ চা, আর প্রিয়জনের সাথ— এই তো সুখের ছোট্ট ছবি, এই তো জীবনের প্রভাত।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : মাটির প্রদীপ।

কুমোরপাড়ার ছোট্ট ঘরে মাটি দিয়ে গড়া, একটি প্রদীপ অপেক্ষাতে কখন হবে জ্বলা।

নরম হাতে কুমোর তাকে দিয়েছে নতুন রূপ, শুকনো মাটির বুকের মাঝে স্বপ্ন অগণিত।

দিনের শেষে প্রদীপটি দোকানে হলো সাজানো, কেউ কিনল না প্রথম দিনে, মন তার ভারাক্রান্ত।

অবশেষে এক বৃদ্ধ এসে কিনলেন তাকে হাতে, বললেন, “আলো জ্বালব আমি অন্ধকারের রাতে।”

সন্ধ্যা নামল, প্রদীপ জ্বলল, ঘরটি হলো আলোয় ভরা, ছোট্ট শিখার উষ্ণতাতে ভয় গেল সব সরে।

প্রদীপ জানে, তার জীবন ক্ষণিক আলোর দান, তবু সে তো বিলিয়ে দেয় নিজের সবটুকু প্রাণ।

মানুষও যদি শিখতে পারে এমন করে দিতে, অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে।

বড় হওয়া মানেই শুধু উঁচু আসন পাওয়া নয়, কারও জীবনে আলো হওয়াই সত্যিকারের পরিচয়।

তাই মাটির প্রদীপ শেখায়— ছোট হলেও ক্ষতি নেই, আলো হয়ে বাঁচতে পারলে জীবন বৃথা নয়।

Share This