Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  : পুরনো ঘড়ির কাঁটা।

দেয়ালজুড়ে ঝুলে আছে এক পুরনো ঘড়ি, সময়ের সব গল্প যেন রেখেছে সে ধরি।

টিকটিক করে রাতের বুকে বলে যায় সে কথা, কত হাসি, কত কান্না জানে তার নীরবতা।

এই ঘড়িটির নিচে বসে দাদু গল্প বলতেন, রাজপুত্র আর রাক্ষসের দেশে আমায় নিয়ে যেতেন।

আজও ঘড়ি চলছে ঠিকই, দাদু নেই আর ঘরে, স্মৃতিরা সব ভিড় জমায় নিঝুম সন্ধ্যা হলে।

কাঁটাগুলো থামে না কখনও, সময় চলে যায়, হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুহূর্ত ফিরে কি আর পাওয়া যায়?

তবু ঘড়ির প্রতিটি শব্দ শিখিয়ে দেয় আমায়— আজকের দিন যত্ন করে বাঁচতে হয় হায়!

যাকে ভালোবাসি আমরা, বলতে হয় তা আজই, আগামীরই আশায় থেকে হারিয়ো না যে বাজি।

পুরনো ঘড়ি সাক্ষী থাকে জীবন চলার পথে, সময় চলে যায় ঠিকই, ভালোবাসা বেঁচে থাকে স্মৃতির সাথে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : কাগজের নৌকা।

 

বর্ষার জলে ভাসিয়ে দিলাম কাগজের এক নৌকা, ছোট্ট বুকে স্বপ্ন নিয়ে চলল সে একা একা।

জলের বুকে ঢেউ উঠল, দুলল নৌকার গা, তবু তার যে থামার ইচ্ছে একটুও ছিল না।

পাশের ডোবা নদী হয়ে ডাকল তাকে দূরে, নৌকা বলে, “যেতেই হবে স্বপ্নটাকে ঘিরে।”

হঠাৎ এসে বৃষ্টি নামল, আকাশ হলো কালো, কাগজ ভিজে নরম হলো, নিভল তারও আলো।

তবু নৌকা শেখায় আমায় জীবন মানে চলা, হাজার বাধা পেরিয়ে গিয়েও নতুন স্বপ্ন গড়া।

সব স্বপ্নই পূর্ণ হবে, এমন কথা নেই, তবু স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে যেতে নেই।

কাগজের সেই ছোট্ট নৌকা আজও মনে ভাসে, হারিয়ে গিয়েও শিখিয়ে গেল আশা বেঁচে থাকে।

জীবন যদি বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দেয় মন, নতুন করে নৌকা গড়ো, শুরু হোক পথচলা তখন।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

 কবিতা : বাতিঘরের আলো।

অন্ধকারে ঢেকে গেলে সমুদ্রের নীল পথ, ঢেউয়ের বুকে জেগে থাকে আলোর ছোট্ট রথ।

বাতিঘরটি দাঁড়িয়ে থাকে একলা রাতের শেষে, দূর সমুদ্রের নাবিকেরা আশা খোঁজে তার দেশে।

ঝড়ের মুখে নৌকা যখন দিশা হারায় ক্ষণে, আলোর রেখা সাহস জোগায় ভাঙা স্বপ্নের মনে।

বাতিঘর জানে না তো কখন ফিরবে নাবিক ঘরে, তবুও সে আলো বিলিয়ে যায় অসীম সাগরজুড়ে।

আমরাও যদি বাতিঘর হই অন্য মানুষের তরে, একটু ভালোবাসা রাখি ক্লান্ত হৃদয়জুড়ে।

কেউ যদি পথ হারিয়ে ফেলে, হাত বাড়িয়ে দিই, তার আঁধারের বুকের মধ্যে আশার প্রদীপ জ্বালি।

পৃথিবীটা সুন্দর হবে একটুখানি আলোয়, মানুষ যদি মানুষকে ডাকে ভালোবাসার ছায়ায়।

তাই অন্ধকার যতই আসুক, ভয় পেয়ো না আর— তোমার বুকেও আলো আছে, তুমিও হতে পারো পথের দিশারী।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা — এক মুঠো সাহস।

ভয় যদি এসে দরজায় দাঁড়ায়, চোখ নামিয়ো না আর, বুকের ভেতর সাহস নিয়ে খুলে দিও দুয়ার।

পথ যদি হয় বন্ধুর মতো, পাথর বিছানো পথে, নিজের শক্তি চিনতে শেখো প্রতিটি বাধার সাথে।

সবাই যদি পাশে না থাকে, একলা চলতে শেখো, হাজার কণ্ঠ নিরুৎসাহ দিলেও স্বপ্নটাকে দেখো।

হেরে যাওয়া লজ্জা নয়, চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া ক্ষতি, ব্যর্থতারই বুকে লুকায় সাফল্যের প্রথম স্মৃতি।

ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে যারা আকাশ ছুঁতে চায়, তারাই একদিন নতুন সূর্য নিজের হাতে পায়।

সাহস মানে ভয় না থাকা এমন কথা নয়, ভয়কে সঙ্গী করেই এগোনো সাহসেরই পরিচয়।

তাই এক মুঠো সাহস নিয়ে পা বাড়াও আজ, তোমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে আগামীর নতুন সমাজ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — শিউলি ঝরা উঠোন।

ভোরের আলো উঠোন ছুঁয়ে শিউলি ঝরায় হাসি, সাদা পাপড়ি কমলা বোঁটায় ভরে মাটির রাশি।

মায়ের হাতে ফুলের ঝুড়ি, পায়ে শিশির ভেজা, পুজোর দিনের স্মৃতিগুলো মনকে দেয় যে সেজে।

দূরে কোথাও ঢাকের শব্দ বাতাস বেয়ে আসে, শরৎ যেন নরম হাতে স্বপ্ন এঁকে যায় ঘাসে।

কাশফুলেরা নদীর ধারে দোল খায় আপন মনে, নীল আকাশের সাদা মেঘ গল্প লেখে গগনে।

শিউলি বলে, “ক্ষণিক জীবন, তবু সুবাস দাও,” নিজে ঝরে মাটির বুকে অন্যের মন ভরাও।

মানুষ যদি শিখতে পারে ফুলের এই ভাষা, অল্প সময়ের জীবনেও ছড়াবে ভালোবাসা।

তাই তো প্রতিটি শরৎভোরে উঠোনে ফুল কুড়াই, শিউলির গন্ধে হারিয়ে গিয়ে শৈশব ফিরে পাই।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — অচেনা স্টেশনে।

অচেনা এক স্টেশনে আজ নেমে পড়েছি একা, চারদিকে কত মানুষের ভিড়, তবু আপন কেউ দেখা।

কেউ ছুটছে ট্রেন ধরতে, কেউ খুঁজছে তার সাথি, কেউবা চোখের জল লুকিয়ে বিদায় জানায় রাতি।

চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে, ঘোষণা ভাসে কানে, অজানা কত গল্প জমে এই স্টেশনের টানে।

একটি শিশু বাবার হাত ধরে হাসতে হাসতে যায়, এক বৃদ্ধ তাঁর পুরনো ব্যাগে স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।

আমিও বসে ভাবছি শুধু, কোথায় আমার ঠিকানা? যে পথ ছেড়ে এসেছি পেছনে, সেখানে কি ফেরা যায় না?

হঠাৎ দূরে ট্রেনের আলো অন্ধকারে জ্বলে, মনে হলো নতুন সকাল ডাকছে আমায় চলে।

জীবন এক চলমান যাত্রা, স্টেশন আসে যায়, কেউ থাকে না চিরকাল পাশে, তবু পথ থেমে না যায়।

অচেনা পথ ভয় নয় আর, মনকে দিলাম বুঝিয়ে— কখনও কখনও নতুন ঠিকানা মেলে পুরনো পথ হারিয়ে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — মেঘের চিঠি।

আকাশজুড়ে মেঘের ভেলা ভেসে চলে দূরে, কে যেন তার চিঠি লিখেছে নীল খামেরই ঘরে।

মেঘের বুকে জমা আছে কত না বলা কথা, কোথাও হাসির রং লেগেছে, কোথাও জমেছে ব্যথা।

পাহাড় ছুঁয়ে, নদী পেরিয়ে মেঘ যায় দেশান্তরে, বৃষ্টির ভাষা পৌঁছে দেয় শুকনো মাটির ঘরে।

কৃষক তখন আকাশ দেখে বোনে ফসলের আশা, শিশুর চোখে বৃষ্টি মানে কাগজ নৌকার ভাষা।

মেঘের চিঠি পড়তে গেলে মনটা খোলা চাই, প্রকৃতিরও হৃদয় আছে— তা বুঝতে শেখা চাই।

কখনও মেঘে রোদ লুকোয়, কখনও ঝরে জল, তবু আকাশ হারায় না তার অসীম নীলের বল।

জীবনেও মেঘ জমলে ভেবো না সব শেষ, বৃষ্টির পরে রংধনু আসে, ফিরে আসে আলোর রেশ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — শেষ পাতার গল্প।

বইয়ের শেষ পাতায় এসে থেমে গেলাম আজ, কত চরিত্র, কত ঘটনা, কত স্বপ্নের সাজ।

যে মানুষটি কাঁদিয়েছিল, সে-ও আপন হলো, যে পথটি ছিল অচেনা, চেনা আলোয় ভরল।

গল্পের শেষে সবাই মিলে পায় না সুখের ঘর, কিছু প্রশ্ন রয়ে যায় উত্তরহীন প্রহর।

বইটি বন্ধ করেও দেখি গল্প শেষ হয় না, কিছু কথা মনের ভেতর সহজে মুছে যায় না।

জীবনও তো এমন একটি অসমাপ্ত উপন্যাস, কখনও হাসি, কখনও কান্না, কখনও দীর্ঘশ্বাস।

প্রতিটি দিন নতুন পাতা, প্রতিটি রাতের শেষে অজানা এক গল্প অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে এসে।

তাই শেষ বলে থেমো না আর, নতুন করে লেখো, ভুলের কালি মুছে দিয়ে স্বপ্নের অক্ষর রেখো।

যতদিন শ্বাস, ততদিন গল্প, ততদিন পথচলা— জীবনের বইয়ে প্রতিটি পাতায় নতুন সূর্য ওঠা।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — চাঁদের বুড়ির চরকা।।

নীল আকাশে চাঁদ উঠেছে, তারার মেলা বসে, চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে রূপকথারই দেশে।

সাদা মেঘের তুলোর সুতো আঙুল ঘুরে বোনে, জোছনা হয়ে ঝরে পড়ে পৃথিবীর প্রতিটি কোণে।

ঘুমপাড়ানি রাতের বুকে শিশুর চোখে ঘুম, জানালাতে চাঁদের আলো ছড়ায় মায়ার চুম্বন।

দূরের গাছে পেঁচা ডাকে, ঝিঁঝিঁ পোকার গান, নীরব রাতের আঁচল জুড়ে স্বপ্নের সন্ধান।

চাঁদের বুড়ি জানে বুঝি কত মনের কথা, কারও মনে সুখের ঢেউ, কারও চোখে ব্যথা।

তাই তো সে জোছনা দিয়ে মুছে দেয় অভিমান, অন্ধকারের বুকের মাঝে জ্বালায় আশার গান।

চাঁদটা যখন মেঘে ঢাকে, ভেবো না সে নেই, আড়াল হলেও আলো থাকে— এই সত্য ভুলো নে কেউ।

জীবনও ঠিক চাঁদের মতো, কখনও ঢাকা পড়ে, সময় এলে আলো নিয়ে ফিরবে আবার ঘরে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — যে মেয়েটি হার মানেনি।।

ছোট্ট ঘরে স্বপ্ন ছিল, জানালাতে আকাশ, অভাব এসে বারবার করেছে সর্বনাশ।

বইয়ের পাতায় চোখ রেখে সে দেখত নতুন ভোর, পথের বাধা পেরিয়ে যাবে— এই ছিল তার জোর।

লোকে বলত, “থেমে যাও, এত দূর কীভাবে?” সে বলত, “চেষ্টা থাকলে পথ ঠিক খুঁজে পাবে।”

দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর, চোখে ঘুমের ভার, তবু সে যে পড়তে বসে খুলত আশার দ্বার।

কত অপমান, কত ব্যর্থতা সহ্য করেছে মনে, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেছে ক্ষণে ক্ষণে।

একদিন সেই মেয়েটিই সাফল্যের আলোয় দাঁড়ায়, যারা তাকে থামিয়েছিল তারাই হাততালি দেয়।

জয় মানে শুধু শিখর ছোঁয়া বা নামের পাশে খ্যাতি নয়, ভেঙে পড়েও উঠে দাঁড়ানো— সেটাই সত্যিকারের জয়।

তাই স্বপ্ন দেখা মেয়েটিকে কখনও ছোট কোরো না, তার ডানায় আকাশ আছে— উড়তে তাকে বাধা দিও না।

Share This