Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — এক কাপ চা।

সকালের সেই এক কাপ চায়ে ঘুম ভাঙে ধীরে ধীরে, জানালার পাশে বসে দেখি রোদ নেমেছে ঘরে।

কাপের ভেতর ধোঁয়া ওঠে, মনে জাগে গান, ছোট্ট সুখের মুহূর্তগুলো ছুঁয়ে যায় প্রাণ।

কখনও চায়ের দোকানটাতে বন্ধুদের আড্ডা, হাসির মাঝে হারিয়ে যায় দিনের সব ঝামেলা।

কখনও আবার একলা বসে চায়ের কাপে চুমুক, পুরনো স্মৃতি দরজায় এসে বিলিয়ে দেয় সুখ-দুঃখ।

শ্রমিকের ক্লান্ত দুপুরে চা যেন আশ্রয়, পথের ধারে অচেনা মুখেও বন্ধুত্বের পরিচয়।

কত গল্প জন্ম নেয় একটি ছোট্ট কাপে, কত সম্পর্ক বাঁধা পড়ে চায়ের নরম বাষ্পে।

জীবন যদি ব্যস্ততায় হারিয়ে ফেলে ছন্দ, একটু থেমে চা খেয়ো— মনও হবে আনন্দ।

বড় সুখের দরকার কী, যদি পাশে থাকে কেউ? এক কাপ চায়ে ভাগ করে নাও হৃদয়ের যত ঢেউ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — পলাশের আগুন।

বসন্ত এলেই বনের পথে পলাশ জ্বালে আগুন, লাল ফুলের উচ্ছ্বাসে জেগে ওঠে ফাগুন।

শুকনো ডালে রঙের ছোঁয়া, মাটিতে লাল হাসি, প্রকৃতি যেন সাজিয়ে রেখেছে রূপকথার এক রাশি।

কোকিল ডাকে আম্রকুঞ্জে, দখিন হাওয়া বয়, পুরনো দিনের বিষণ্ণতা নতুন রঙে ক্ষয়।

পলাশ বলে, “শুকনো সময় চিরদিনের নয়, পাতা ঝরার পরেও দেখো, ফুল ফোটানোর সময় হয়।”

জীবনেও তো আসে এমন রংহীন কিছু দিন, স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে থাকে, আকাশ লাগে মলিন।

তবু মনের গভীর মাটিতে আশার বীজ রেখো, সময় হলে পলাশের মতো নিজের রঙে দেখো।

সব হারিয়েও ফুটতে শেখো, হাসতে শেখো ফের, বসন্তের সেই লাল বার্তা থাকুক হৃদয়জুড়ে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

 কবিতা  — ফেরিওয়ালার ডাক।।

দুপুরবেলা গলির পথে ভেসে আসে এক ডাক, ক্লান্ত শহর থমকে শোনে চেনা সুরের ফাঁক।

“পুরনো বাসন, পুরনো কাপড়”— ডাকে ফেরিওয়ালা, কাঁধের ঝোলায় জমে আছে জীবন বাঁচার পালা।

রোদে পোড়া মুখের মাঝে ঘামের নোনতা দাগ, তবু চোখে স্বপ্ন জ্বলে, বুকে সাহসের আগুন।

কেউ দরজা খোলে না আজ, কেউ ফিরিয়ে দেয় মুখ, তবু সে চলে পথের শেষে খুঁজতে দুমুঠো সুখ।

বাড়িতে তার অপেক্ষাতে শিশুর দুটি চোখ, বাবা ফিরবে, খাবার আনবে— এই আশাতেই শোক।

দিনের শেষে অল্প রোজগার হাতে নিয়ে ফেরে, সন্তানের মুখের হাসি সব ক্লান্তি দেয় হেরে।

আমরা কত সহজে ভুলে যাই শ্রমের সত্যি মান, প্রতিটি ঘামের ফোঁটায় লেখা একটি পরিবারের গান।

ফেরিওয়ালার ডাক থেমে গেলে মনে রেখো তার কথা— সাধারণ মানুষের পরিশ্রমেই চলে পৃথিবীর চাকা।

Share This
Categories
কবিতা

কবিতা — জীবনের ক্যানভাস।।

জীবন যেন সাদা ক্যানভাস, রং ভরারই খেলা, কখনও হাসি, কখনও কান্না, কখনও স্বপ্নের মেলা।

কেউ আঁকে নীল আকাশ, কেউ আঁকে মেঘের ছায়া, কেউবা রঙিন ফুলের মাঝে খুঁজে ফেরে মায়া।

ভুলের আঁচড় পড়ে গেলে ভেবো না সব শেষ, নতুন রঙে ঢেকে দিও পুরনো দিনের রেশ।

কিছু ছবি অসম্পূর্ণ থেকে যায় চিরকাল, তবু তাদের মাঝেই লুকায় সৌন্দর্যের জাল।

অন্য কারও ছবির সঙ্গে নিজের ছবি মেলো না, প্রত্যেক মানুষের গল্প আলাদা, নিজেকে ছোট কোরো না।

সময়ের তুলি চলতে থাকে, দিন বদলায় রোজ, কখনও হারায় প্রিয় রং, কখনও আসে খোঁজ।

শেষ বিকেলে ফিরে দেখে হাসবে তোমার মন— নিজের হাতে আঁকা জীবনই সবচেয়ে আপন ধন।

তাই যতদিন রং রয়েছে, আঁকো নতুন স্বপ্ন, জীবন হোক তোমার নিজের ভালোবাসার ক্যানভাস।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — বাবুই পাখির বাসা।।।

তালগাছের ওই ডালে দেখি
বাবুই পাখির বাসা,
খড়কুটোয় গড়া ছোট্ট ঘর
ভালোবাসার ভাষা।

ঝড় এলে দোলে বাসাটি,
বৃষ্টি নামে ঝরে,
তবু পাখি ছেড়ে যায় না
নিজের আপন ঘরে।

দিনভর সে উড়ে বেড়ায়,
খুঁজে আনে খাবার,
সন্ধ্যা হলে ফিরে আসে
সন্তানেরই দ্বারে।

কত যত্নে বুনেছে বাসা,
একটি একটি তন্তু,
ছোট্ট ঘরে লুকিয়ে থাকে
তার পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু।

মানুষও তো ঘর বানায়
ইট-পাথরের ভরে,
তবু সুখের আসল ঠিকানা
ভালোবাসার ঘরে।

বড় বাড়ি, দামি আসবাব
সবই অর্থহীন,
যদি সেখানে আপনজনের
হাসি না থাকে দিন।

বাবুই পাখি শেখায় আমায়—
ঘর বড় নয়, মন বড়,
ভালোবাসায় বাঁধা থাকলে
ছোট্ট ঘরও স্বর্গতুল্য।

Share This
Categories
কবিতা

কবিতা  — একজন অচেনা মানুষের হাসি।।

ভিড়ের মাঝে হঠাৎ দেখি
একটি মানুষের হাসি,
চোখে তার ক্লান্তি থাকলেও
মুখে মায়া ভাসি।

কোনোদিন তাকে দেখিনি আমি,
নেই পরিচয় কোনো,
তবু তার সেই ছোট্ট হাসি
মন ছুঁয়ে গেল যেন।

হয়তো তারও দুঃখ আছে,
আছে না-পাওয়ার ক্ষত,
তবু সে হাসি বিলিয়ে দেয়
অচেনা মানুষের শত।

বাসের ভিড়ে জায়গা ছেড়ে
দেয় বৃদ্ধ মানুষটিকে,
নিজের কষ্ট ভুলে গিয়ে
হাসি দেয় শিশুটিকে।

এক মুহূর্তের ছোট্ট কাজে
বদলে যায় দৃশ্য,
মনে হয়—মানুষ এখনো
মানুষের জন্য নিঃশেষ।

আমরা কত ব্যস্ত থাকি
নিজের হিসাব নিয়ে,
কখনও কি একটু থামি
অন্যের পাশে গিয়ে?

একটি হাসি, একটি কথা,
একটু সহানুভূতি—
এই সামান্য জিনিসেই তো
বেঁচে থাকে মানবিকতা।

সেদিনের সেই অচেনা মানুষ
চলে গেল ভিড়ের মাঝে,
কিন্তু তার হাসিটুকু রয়ে গেল
আমার হৃদয়ের পাতায়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — বটগাছ।।

গ্রামের পথে বটগাছটি
দাঁড়িয়ে আছে চুপ,
তারই নিচে কত দুপুর
পেয়েছে শান্তির রূপ।

ঝুরি নেমে মাটির বুকে
গড়েছে নতুন ঘর,
শত পাখির কোলাহলে
ভরে ওঠে প্রহর।

তার ছায়াতে পথিক বসে
মুছে পথের ক্লান্তি,
কেউবা এসে গল্প করে,
কেউ খোঁজে একটু শান্তি।

দাদুর মুখে শুনেছি কত
পুরনো দিনের কথা,
এই গাছ নাকি দেখেছে
যুদ্ধ, প্রেম আর ব্যথা।

কত মানুষ এসেছে এখানে,
কত মানুষ গেছে,
বটগাছটি দাঁড়িয়ে থেকেছে
সময়ের স্রোতের পাশে।

তার শরীরে বয়সের দাগ,
তবু প্রাণে জোর,
ঝড়ের রাতে বুক পেতে দেয়,
রোদে দেয় শীতল ঘোর।

আমরাও যদি বটের মতো
দিতে পারি ছায়া,
তবে হয়তো মানুষের মনে
রয়ে যাবে মায়া।

একদিন যখন থাকব না আর
এই পৃথিবীর পথে,
আমাদেরও কোনো স্মৃতি থাকুক
কারও হৃদয়ের সাথে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা — নীরবতার ভাষা।।।

সব কথা কি মুখে বলতে হয়?
কিছু কথা চোখে থাকে,
নিঃশব্দ কোনো দৃষ্টির ভেতর
হাজার গল্প জাগে।

কখনও কাছে থেকেও মানুষ
দূরে সরে যায়,
কখনও দূরের মানুষটিই
হৃদয়ের কাছে ঠাঁই পায়।

নীরবতা কখনও অভিমান,
কখনও গভীর প্রেম,
কখনও আবার হারিয়ে যাওয়া
স্বপ্নের শেষ নেমে।

একটি দীর্ঘশ্বাস বলে দেয়
কতটা কষ্ট জমে,
একটি হাসি লুকিয়ে রাখে
কত কান্না মনে।

তাই কাউকে বিচার করার আগে
একবার থেমে দেখো,
তার নীরব চোখের পাতায়
কী গল্প আছে রেখো।

সব মানুষ কথা বলতে পারে না,
সব ব্যথা ভাষা পায় না,
কিছু অনুভূতি হৃদয় ছাড়া
কেউ কখনও বুঝতে পারে না।

যে মানুষ নীরব হয়ে গেছে,
তার পাশে একটু থেকো,
হয়তো তোমার নীরবতাই
তার সবচেয়ে প্রিয় ভাষা হবে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা  — হারিয়ে যাওয়া বিকেল।।

বিকেল নামে নদীর ঘাটে,
রোদ হয় ধীরে ফিকে,
হাওয়া এসে গল্প বলে
পুরনো দিনের দিকে।

দূরের মাঠে গরু ফেরে,
পাখি ফেরে নীড়ে,
একটা বাঁশির সুর ভেসে যায়
নিস্তব্ধতার ভিড়ে।

সেই বিকেলে কেউ ছিল পাশে,
হাত ছিল হাতের মাঝে,
কথা ফুরোত না কখনও
নদীর নরম সাজে।

আজও সেই ঘাট আছে,
আছে নদীর জল,
শুধু নেই সেই মানুষটি—
নেই সেই কোলাহল।

পাথরের ওপর বসে আমি
জলের দিকে চাই,
ঢেউগুলো কি জানে তবে
সে কোথায় হারায়?

সূর্য ডোবে, আকাশ জ্বলে
কমলা রঙের মায়ায়,
স্মৃতিগুলো ফিরে আসে
নীরব কোনো ছায়ায়।

হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলো
ফিরবে না আর কভু,
তবু তাদের ভালোবাসা
থাকুক হৃদয়ে তবু।

সময় যত দূরেই নিয়ে যাক
জীবনের সেই দিন,
কিছু বিকেল থেকে যায়
চিরকাল রঙিন।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা — কৃষ্ণচূড়ার নিচে।।।।

কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলগুলো
ঝরে পড়ে পথে,
গ্রীষ্ম যেন রঙিন হয়ে
হাসে আপন মতে।

গাছের নিচে বসে থাকে
একটি নীরব দুপুর,
হাওয়া এসে পাতার ফাঁকে
গায় অচেনা সুর।

লাল পাপড়ির বিছানাতে
শৈশব ফিরে আসে,
কত বিকেল বন্ধুদের সঙ্গে
হাসি ছিল পাশে।

কেউ বলেছিল—“বড় হলে
সবকিছু বদলে যাবে,”
সত্যিই আজ সেই পথগুলো
অচেনা হয়ে রবে।

তবু কৃষ্ণচূড়া ফুটলে মনে
পুরনো দিন জাগে,
হারিয়ে যাওয়া মুখগুলো সব
ফিরে আসে অনুরাগে।

সময় নদীর মতো বয়ে
নিয়ে গেছে কত,
তবু কিছু স্মৃতি হৃদয়জুড়ে
থাকে অক্ষয় যত।

একদিন আমরাও হয়তো
হয়ে যাব স্মৃতি,
কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির মতো
ঝরে যাবে পরিচিতি।

তবু কোনো এক বসন্ত দিনে
কেউ যদি পথ দিয়ে যায়,
লাল ফুলের নিচে দাঁড়িয়ে
হয়তো আমাদের মনে পড়ে যায়।

Share This