Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক এবং শ্রমিক-সংগঠক সত্যেন সেন।।।।

সত্যেন সেন প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ উদীচী সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক ও শ্রমিক-সংগঠক।

সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মে বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা) টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের সেন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ছোটবেলার ডাক নাম ছিল লস্কর।

তাঁর পিতার নাম ধরনিমোহন সেন এবং মায়ের নাম মৃণালিনী সেন। চার সন্তানের মধ্যে সত্যেন ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
কলেজে পড়ার সময় বিপ্লবী দল যুগান্তরে যোগ দেন। ১৯৩১ সালে একজন ছাত্র হিসাবে, তিনি একটি ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং প্রথমবারের মতো কারাবরণ করতে বাধ্য হন। বহরমপুর জেল ক্যাম্প থেকে তার বন্দিজীবন শুরু হয়। এ সময় তিনি তিন মাস কারাগারে ছিলেন। ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য তিনি দ্বিতীয়বার গ্রেফতার হন। এ সময় তার ৬ বছরের জেল হয়। ১৯৩৮ সালে সত্যেন সেন জেল থেকে মুক্তি পান। সেই বছর তাকে শান্তিনিকেতন থেকে ‘গবেষণা বৃত্তি’ দেওয়া হয়। ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবী কবি সোমেন চাঁদ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক সমাবেশে শহীদ হন। সে সময় সত্যেন সেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ‘কৃষক সমিতি’র মাধ্যমে ১৯৪৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় কৃষক সমিতির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৪৬ সালে, কমিউনিস্ট নেতা ব্রজেন দাস ঢাকা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। সত্যেন সেন ব্রজেন দাসের পক্ষে প্রচারণা চালান। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত সৃষ্টি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। ১৯৪৯ সালে, তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক গ্রেফতার হন। আবার দীর্ঘ কারাবাস। সে সময় কমিউনিস্টদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
১৯৬৯ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন। জন্মলগ্ন থেকে উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম করে আসছে। উদীচী ‘৬৮, ‘৬৯, ‘৭০, ‘৭১, সালে বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে গড়ে তোলে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। এ সংগ্রাম গ্রামবাংলার পথেঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উদীচীর কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী এদেশে সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারার সংস্কৃতি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সত্যেন সেনের সৃষ্টিকর্ম ও সাহিত্য হলো সমাজ বাস্তবতার স্পষ্ট প্রকৃতি-স্বরূপের প্রতিচ্ছবি।
ছোটদের জন্য লিখিত গল্প- পাতাবাহার (১৯৬৮) অন্যতম।
উপন্যাস–
ভোরের বিহঙ্গী (১৯৫৯), রুদ্ধদ্বার মুক্ত প্রাণ (১৯৬৩), অভিশপ্ত নগরী(১৯৬৯), পাপের সন্তান (১৯৬৯), সেয়ান (১৯৬৯), পদচিহ্ন (১৯৬৯), পুরুষমেধ(১৯৬৯), আলবেরুনী(১৯৭০), সাত নম্বর ওয়ার্ড(১৯৭০), বিদ্রোহী কৈর্বত(১৯৭০), কুমারজীব(১৯৭০), অপারেজয়(১৯৭০), মা(১৯৭০), উত্তরণ(১৯৭০), একুল ভাঙ্গে ওকুল গড়ে (১৯৭১)।
ইতিহাস আশ্রিত গল্প-উপন্যাস-সাহিত্য—
গ্রামবাংলার পথে পথে (১৯৬৬), আমাদের পৃথিবী (১৯৬৮), মসলার যুদ্ধ (১৯৬৯), এটোমের কথা(১৯৭০), অভিযাত্রী (১৯৭০), মানবসভ্যতার উষালগ্ন (১৯৭১), মনোরমা মাসিমা (১৯৭১), প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ (১৯৭১), বিপ্লবী রহমান মাষ্টার (১৯৭৩), সীমান্ত সূর্য আবদুল গাফফার (১৯৭২), জীববিজ্ঞানের নানা কথা (১৯৭৭) ইত্যাদি।
পুরস্কার–
১৯৬৯ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে সাহিত্য মরণোত্তর একুশে পদক।
শান্তি নিকেতনের গুরুপল্লীতে ১৯৮১ সালে ৫ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় একদল নারী শক্তি।।।।

হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় একদল নারী শক্তি। প্রকৃতপক্ষে লোক সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা, এর মর্ম মূলেই আবহমান বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য- সভ্যতার প্রকৃত পরিচয়। কানু ছাড়া যেমন গীত নেই তেমনি লোকসংস্কৃতির অস্তিত্ব ভিন্ন বাঙালির জীবন- সমাজ ঐতিহ্য- ইতিহাসের মর্মদ্ধার অসাধ্য ও অর্থহীন। বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ হল যাত্রাপালা। আমরা সকলেই অবগত আছি একটা সময় ছিল যখন গ্রামের দুর্গাপুজো, কালীপুজো, গাজন উপলক্ষে গ্রামের শিল্পীদের নিয়ে যাত্রা পালা অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে সেই চিত্র আর দেখা যায়না বলাই চলে, লুপ্ত হতে বসেছে যাত্রা শিল্প।

তবে এখনো অনেকেই আছেন তারা যাত্রা প্রেমী মানুষজন, আর তাঁদের কথা মাথায় রেখেই লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ যাত্রাশিল্পকে আঁকড়ে ধরে লুপ্ত হতে না দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের পুনশুর গ্রামের বিনোদিনী নাট্য সংস্থা।

গ্রামের ১৮ জন মহিলা দারা যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিনোদিনী নাট্য সংস্থা। রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে নিত্যদিন চলছে যাত্রার মহড়া। পুজো উপলক্ষে বিনোদিনী নাট্য সংস্থার দুটি নিবেদন, একটি হল নটী বিনোদিনী অপরটি সোনাই দীঘি। দুটি যাত্রাপালা তেই অভিনয় করছে গ্রামের ১৮ জন মহিলা। শিশু থেকে গৃহবধূ সকলেই অভিনয় করছে যাত্রা পালাতে। শুধু তাই নয়, অভিনয়ে আছে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। পুরুষদের চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে পুনশুর গ্রামের ১৮ জন মহিলা। নিজেদের গ্রাম ছেড়ে দূর-দুরান্তে গিয়ে যাত্রাপালা করে তাদের প্রতিভা সকলের সামনে মেলেও ধরেছে তারা। “আমি ভাবি একা, দাও হে দেখা, প্রানো সখা রাখো পায়ে” নটী বিনোদিনীর সেই অসাধারণ গান নিজের কন্ঠ স্বরের মাধ্যমে মহড়া মাতাচ্ছে কলেজ পড়ুয়া মহিলা।

নটী বিনোদিনী নাট্য সংস্থার এক মহিলা শিল্পী মৈত্রী ঘোষাল বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে। আমার বাবা ঠাকুরদাও খুব ভালো অভিনয় করত, আমি তাদের থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। মানুষের মনের অভিব্যক্তি সমস্ত আর্টেই প্রকাশ করা যায়, কিন্তু অভিনয় এমন একটা মাধ্যম যেখানে অতি সহজেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করা সম্ভব। অভিনয়ের মাধ্যমে অচিরেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। অভিনয় করতে গিয়ে আমাকে পাড়া প্রতিবেশিদের কাছে কিছু কেমন কথা ও শুনতে হয়েছে, কিন্তু সেই সব কথা কর্ণপাত না করেই যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

নিজেদের গ্রামের মহিলা, নিজেদের সুর পার্টি, নিজেদের লাইট দ্বারা পরিচালিত নটী বিনোদিনী নাট্য সংস্থা। ইতিমধ্যেই শক্তিগড়, দুর্গাপুর,কোতুলপুর ইন্দাস, গুইর,সরঙ্গার যাত্রাপালা পরিবেশন করেছে আঠারো জন নারী শক্তি। পড়াশোনার ফাঁকে হারিয়ে যেতে বসে যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে মহুয়া ঘোষাল, মৈত্রী ঘোষাল, তিতলি চট্টোপাধ্যায়, স্নেহা ব্যানার্জি, প্রিয়া দাস,মধুমিতা দাস সহ বাকি সকলে।

সর্বযুগে তথা সর্বকালে এবং  পৌরাণিক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার হিসাবে মানুষের মনে  নারীশক্তি একটি স্থায়ী  স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে ।রূপ ,গুণ , কর্মদক্ষতা ও সহনশীলতায় সবেতেই অদ্বিতীয়া নারী  হল সকল শক্তির আধার ; মানবজাতির স্রষ্টা। কথায় আছে, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। ঘরে -বাইরে সব জায়গায় একাহাতেই নারী  সুষ্ঠুভাবে সামলাতে পারে কারও সাহায্য না নিয়েই। আধুনিক সমাজে নারী আজ আর পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, কর্তৃত্বে ,গুণে, মানে সব ক্ষেত্রেই পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে মহুয়া, মৈত্রী, স্নেহারা যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পুরুষদের চরিত্রে ধারালো অভিনয় করে আজ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারাও কোনো অংশে কম নয়।

।।কলমে : রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী,  পূর্ব বর্ধমান।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৮ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২৮ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। (বাংলাদেশ)।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫২৪ – দ্বিতীয় সেলিম, অটোমান সুলতান।

১৭৭৯ – আইরিশ কবি টমাস মুর।

১৮৮৩ – বিনায়ক দামোদর সাভারকর, বিপ্লবী ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

১৮৮৮ – জিম থর্প, আমেরিকান অ্যাথলেট।

১৯০৭ – বিপ্লবী, গণসঙ্গীত রচয়িতা, লেখক ও বাংলাদেশে উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন।
১৯০৮ – ইয়ান ফ্লেমিং, একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক, সাংবাদিক ও নৌ-গোয়েন্দা। তিনি ব্রিটিশ কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ড চরিত্র নিমার্ণে জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

১৯১১ – বব ক্রিস্প, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯১২ – প্যাট্রিক ভিক্টর হোয়াইট, ১৯৭৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার ঔপন্যাসিক।
১৯১৫ – জোসেফ গ্রিনবার্গ, প্রভাবশালী ও বিতর্কিত মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী ও আফ্রিকান নৃতত্ত্ববিদ।
১৯২৩ – এন টি রামা রাও, ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
১৯২৫ – বুলেন্ত এজেভিত, তুর্কি রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক, পণ্ডিত, সাংবাদিক এবং ১৬তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯৩০ – ফ্রাঙ্ক ড্রেক, মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৩১ – ক্যারল বেকার, আমেরিকান অভিনেত্রী।
১৯৪২ – স্টানলি বি প্রুসিনার, মার্কিন নিউরোলজিস্ট এবং প্রাণরসায়নবিদ।
১৯৪৬ – কে. সচ্চিদানন্দন, ভারতীয় কবি এবং সমালোচক।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৪২ – লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিং পুল চালু।
১৭৫৭ – ব্রিটিশ কর্তৃক মীর জাফরকে বাংলার নবাব ঘোষণা।
১৮০৪ – নেপোলিয়ন বোনাপোর্ট নিজেকে ফ্রান্সের সম্রাট ঘোষণা।
১৮৭১ – প্যারি কমিউনের পতন ঘটে।
১৯১৮ – আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯১৯ – ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম মহাযুদ্ধ সমাপ্ত।
১৯৩৭ – প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট একটি সুইচ টিপে ক্যালিফোর্নিয়া সানফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ উদ্বোধন করেন।
১৯৪০ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির কাছে বেলজিয়াম আত্মসমর্পণ করে।
১৯৫২ – গ্রিসের নারীদের ভোটাধিকার অর্জিত হয়।
১৯৬৪ – নয়াদিল্লীতে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা পণ্ডিত জওহারলাল নেহেরুর অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
১৯৬৪ – ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও গঠিত হয়।
১৯৮৭ – ম্যাথু রাস্ট নামে ১৯ বছর বয়সী এক অ্যামেচার বিমান চালক ক্রেমলিনের রেড স্কোয়ারে ছোট একটি সেসনা বিমান অবতরণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো।
১৯৯১ – ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে বিদ্রোহীদের ট্যাংকবহর প্রবেশ করতে থাকে এবং দেশটিতে ১৭ বছরের মার্ক্সবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
১৯৯৫ – রাশিয়ার নেস্তেগস্কর শহরে প্রবল ভূমিকম্প। দুই হাজার লোকের প্রাণহানি।
১৯৯৬ – ভারতে বাজপেয়ী সরকারের পতন। দেবগৌড়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।
১৯৯৮ – পাকিস্তান ৫টি পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা করেছে বলে ঘোষণা করে।
২০১০ জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। যাতে প্রায় ১৪১জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ – নয়াদিল্লিতে বিস্তৃত পরিসরের নতুন ভারতীয় সংসদ ভবনের দ্বারোদ্ঘান হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯৩৭ – অস্ট্রীয় মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার।
১৯৪২ – রমাপ্রসাদ চন্দ,ভারতীয় বাঙালি ইতিহাসবিদ ও পুরাতত্ত্ববিদ।
১৯৭৬ – জয়নুল আবেদিন , বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।
১৯৯৪ – সাহিত্যিক ও রাজনীতিক আসহাব উদ্দীন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

গ্রামোন্নয়নে কৃষির ভূমিকা -একটি সমীক্ষা : দিলীপ রায়।।।।

আমরা জানি, ভারত সরকার আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে গ্রামের মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষপাতী । এই কথা মাথায় রেখে, সরকার গ্রামে সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশের দিকে নজর দিয়ে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ক্ষেত্রে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে ।

এটা ঘটনা, কেন্দ্রিয় সরকার ঘোষিত কল্যাণ প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলকে লাভ, উৎপাদনশীলতা ও সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা । এই লক্ষ্য পূরণে বাজেট বরাদ্দ সেইভাবে বাড়ানো হচ্ছে । তৈল বীজ ও ডাল উৎপাদন বাড়াতে এবং রান্নার তেলে স্বনির্ভর হতে দেশকে সাহায্য করার জন্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সমবায় সমিতিগুলোকে ডাক দিয়েছেন (০৩-০৭-২০২৩) । এখানে একটা ঘটনা জানিয়ে রাখি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ২০২২-২৩ সালে শস্য ও শাক, সবজি, ফুল ও ফলের ফলন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে । গত বছরের চেয়ে শস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি । আর অন্যদিকে শাক, সবজি, ফুল ও ফল ফলেছে ১শতাংশের বেশি । প্রধান খাদ্যশস্য ধান ও গমের ফলনের রেকর্ডও উল্লেখযোগ্য । ধান ও গম উৎপাদন (২০২২-২৩) যথাক্রমে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টন এবং ১১ কোটি টন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১২/২৩) । সুতরাং খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমাদের দেশ একটা আত্মসন্তুষ্টির জায়গায় রয়েছে ।
এই কথাগুলি তুলে ধরার একটাই উদ্দেশ্য, গ্রামীণ বিকাশে কৃষিজাত ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির সরকারি দৃষ্টির ইতিবাচক দিকগুলির উপর এবং বাস্তব অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা । আর একটি পরিসংখ্যানে (নীচে উল্লেখ করা হলো) দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে দারিদ্রতার হার কমছে ।
ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের প্রকাশিত ফ্যাক্টশিট থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১১-১২’এর তুলনায় ২০২২-২৩ সালে ভারতীয় পরিবারগুলির মাথাপিছু মাসিক ব্যয় অনেক বেড়েছে । একই সঙ্গে দারিদ্রের হার নেমে গেছে ২২.৯% থেকে ৫শতাংশের কাছাকাছি । এখন জানা যাক, দরিদ্র কাদের বলা হচ্ছে ? যে পরিবারের দৈনিক মাথাপিছু খরচ ২.১৫ ডলার বা তার কম, বিশ্ব ব্যাঙ্ক তাকে দরিদ্র বলছে । অর্থাৎ কোনো পরিবারের মাসিক মাথাপিছু খরচ ১৪৭৬ টাকা বা তার কম হলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মাপকাঠি অনুযায়ী তাকে দরিদ্র বলা যায় । বিনামূল্যে পাওয়া ভোগ্যবস্তু বাদে তাদের ব্যয় মাসে ১৩৭৩ টাকা, বিনামূল্যের পণ্য ধরলে তা ১৪৪১ টাকা । অর্থাৎ ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের নতুন তথ্য অনুযায়ী দারিদ্রের হার ৫%-এ নেমে এসেছে । (সূত্রঃআঃবঃপঃ২৪.০৫.২০২৪) । সুতরাং আমরা যদি গ্রামীণ এলাকার মানুষের দিকে চোখ রাখি তাহলে আমরা বুঝতে পারব, সত্যিই কী দারিদ্রের হার কমেছে !
( ২ )
আমাদের দেশ মূলত কৃষিপ্রধান দেশ । তাই অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে কৃষি অগ্রগণ্য । তাই গ্রামোন্নয়নের মূল স্তম্ভ হচ্ছে কৃষি । বলা চলে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে কৃষিনির্ভর । কৃষিই গ্রামীণ মানুষের জীবিকার মূল অবলম্বন । অধিকাংশ মানুষ সরাসরি চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে । অনেকে আবার কৃষির সঙ্গে যুক্ত আনুসঙ্গিক কাজ কর্মে নিয়োজিত । তাই কৃষি গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদন্ড । বিভিন্ন সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গেছে, কৃষি থেকে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে । এটাও ভাববার বিষয়, কম জমিতে বেশি ফলন কীভাবে করা যায় ? তাই কৃষি অঞ্চল যেমন বাড়াতে হবে তেমনি উৎপাদনশীলতার উপর জোর দিতে হবে । যেমন পাঞ্জাবে ধান ও গম ফসলের যখন আবর্তন শুরু হয়, তখন খড় পোড়ানো শুরু হয় । একটাই উদ্দেশ্য জমির উর্বরতা বাড়ানো । যেখানেই এই ধান ও গমের আবর্তন রয়েছে, সেখানেই প্রয়োজন একটি রাইস বয়ো পার্কের । রাইস বয়ো পার্ক মানে ধানের প্রতিটি অংশ যেমন গাছ, খড়, খোসা, তুষ, পাতা, সবকিছুকেই কাজে লাগানো । এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, খড় পোড়ানোর ব্যাপারটা আবার দক্ষিণ ভারতে নেই । চাষি পরিবারে এখনও খড় ছোট ছোট করে কেটে গরুকে খাওয়ানোর রেওয়াজ বর্তমান । সুতরাং আমরা বলতে পারি এগুলির অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে । অতএব গ্রামীণ উন্নয়নে ও আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এই জাতীয় অর্থকরী ফসলের রক্ষণাবেক্ষণ খুব জরুরি । শুধু তাই নয়, জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যথাযথ ধ্যান দেওয়া আশুকর্তব্য । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১১/২৩) ।
কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের আরও ধাপ হিসাবে আমরা দেখতে পাই উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার, সার ও ঔষধের প্রয়োগ । তা ছাড়া বহুফসলি চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়া । কিন্তু বাস্তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যাপকতা সেভাবে বাড়েনি । যার জন্য কৃষি ব্যবস্থা এখনও অনুন্নত এবং সেকেলের । শীর্ণদেহি বলদের কাঁধে লাঙ্গল জোয়াল জুড়িয়ে চলছে কৃষিকাজ । তবে একটা কথা এখানে প্রাসঙ্গিক, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য খাদ্য শস্যের উৎপাদন যেমন ধান, গম , জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা অনেকটাই বেড়ে গেছে । মহাজনি প্রথা বিলোপের জন্য কৃষি ঋন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমবায় গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে । কৃষি ঋনের সহজলভ্যতার জন্য রয়েছে “জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাঙ্ক” (NABARD) । শস্যবীমা ও শস্যের ন্যুনতম দাম বেঁধে দেওয়ার ফলে গরীব কৃষকেরা অনিশ্চয়তার হাত থেকে যদিও কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে । কিছুটা হলেও বর্তমানে চিরাচরিত কৃষি প্রথার বদলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের উপর ঝোঁক দেখা যাচ্ছে । অন্যদিকে এটাও ঘটনা, কৃষিজাত দ্রব্যের দাম কিন্তু অন্যান্য দ্রব্যের দামের সঙ্গে সমানতালে বাড়ে না । অথচ যত দিন যাচ্ছে চাষিদের চাষের খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে । চাষে নিযুক্ত কৃষি শ্রমিকের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অর্থাৎ রাসায়নিক সার, ফসলের পোকা-মাকড় মারবার ঔষধপত্রের দামও বাড়ছে । ফলে চাষ থেকে উঠে আসা লভ্যাংশ ক্রমহ্রাসমান । চাষীর চাষজাত ফসলের দামের উপর গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভরশীল । অর্থকরী ফসলের উৎপাদনের অবস্থা তথৈবচ । আমরা জানি, অর্থকরী ফসল বলতে বিশেষ করে বাংলায় পাট চাষ । পাটের বাজারের তীব্র মন্দার কারণে পাট চাষও তলানীতে । সুতরাং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গার স্বার্থে কৃষির উপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ ভীষণ জরুরি ।
( ৩ )
এবার আসছি কৃষিকাজে সারের ব্যবহারে । নিয়মিত জমির মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা চাষযোগ্য জমিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদে বাঞ্ছনীয় । মাটি পরীক্ষার পর সঠিক সার নির্ধারন চাষের পক্ষে উপোযোগী । যার জন্য মাটি পরীক্ষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে । এই কারণেই ‘রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা’ চালু হয়েছে । মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বিলি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে । আমরা জানি, কৃষিজমিতে জৈব সার ব্যবহার ফসলের ফলনকে বাড়াতে সাহায্য করে । এই প্রসঙ্গে একটা কথা খুব জরুরি, খাদ্যের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গেলে খাদ্যের যোগান-বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী । আবার কিছু কিছু ফসল আছে যেগুলো সরাসরি খাদ্যের ব্যবহারে আসে না, যেমন তুলো, ইত্যাদি । তবুও আমাদের দেশের কৃষক সমাজ লাভের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তির সাহায্যে তুলো চাষকে লাভযোগ্য ফসল হিসাবে চাষ করছে । এইভাবে চাষের উন্নয়ন গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে প্রভাব ফেলবে ।
এবার দেখা যাক কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার স্বার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা । কেন্দ্রিয় সরকারের তথ্য থেকে দেখা যায় মোট প্রদত্ত ঋনের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলির ঋনের পরিমান ২০১০-১১ সালে মাত্র ২১.৭৬ শতাংশ । পশ্চিম বঙ্গে ২০১২-১৩ সালে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) তথ্যে প্রকাশ, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি কৃষিঋন প্রকল্পে নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৯ শতাংশ ঋন প্রদান করেছে । আঞ্চলিক ব্যাঙ্কগুলি লক্ষ্যমাত্রার ২৮ শতাংশ ও সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি ৫০ শতাংশ ঋনপ্রদানে সাফল্যে লাভ করেছে । এছাড়া সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি রাজ্যের প্রাথমিক কৃষিঋন সমব্যয় সমিতিগুলির (প্যাকস্‌) মাধ্যমে কৃষিঋন ও কৃষিকাজের অন্যান্য উপাদানের জন্যে ঋন প্রদান করে । নাবার্ড উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি করার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, জমি ভাড়া বা ইজারা নিয়ে চাষ করে এমন কৃষক ও ভাগচাষিদের ঋন পরিষেবা দেবার জন্য প্রকল্প গ্রহন করেছে । এতে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে । দেশের আর্থিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধির সুবিধা হবে (তথ্যসূত্রঃ যোজনা -৬/১৪) ।
( ৪ )
এবার একঝলক ভারতীয় অর্থনীতির চিত্রটা দেখে নেওয়া যাক । ভারতের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় । কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, উৎপাদন এবং বিভিন্ন সেবা ভারতের অর্থনীতির অংশ । ভারতের খেটে খাওয়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষিজমি থেকে জীবিকা নির্বাহ করে । এখনও ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ৬৯ শতাংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল । তবে সেবাখাত ক্রমশ প্রসারলাভ করছে, ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে । ডিজিটাল যুগের আর্বিভাবের পর শিক্ষিত লোকের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত আউটসোর্সিং ও কারিগরি সহায়তাদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিণত হয়েছে বা হচ্ছে । এটা ঘটনা, ভারত সফটওয়্যার ও আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে অতি দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে । এছাড়া ঔষধ শিল্প, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন শিল্পগুলিতে জোড়ালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ।
এবার আসছি আমাদের রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃষিব্যবস্থা । রাজ্যে কোনো অর্থকরী ফসলের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষককে আর বিমার প্রিমিয়াম দিতে হবে না । রাজ্য সরকার (পঃবঃ) এই সংক্রান্ত খরচ বহন করবে । বিধানসভায় কৃষি মন্ত্রী একথা জানিয়ে আরও বলেছেন, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে আলুসহ সমস্ত অর্থকরী ফসলের চাষীরা এই সুবিধা পাবেন । তিনি আরও বলেছেন, ২০২৩ সালের খারিফ মরশুমে প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষক বাংলার শস্য বীমা যোজনা প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন । আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ৯৮ লক্ষ কৃষককে এই প্রকল্পের আওতায় ফসলের ক্ষতি বাবদ ২৮৩৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-৩/২৪) ।
কোনো একটা সূত্র থেকে জানা গেছে কেন্দ্রের সরকার কৃষকদের সব ধরনের সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে । পিএম কিষাণ সম্মাননিধির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে নগদ মূল্য দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে । কৃষিপণ্যের গুদামজাত করার সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে । আরও জানা গেছে বর্তমানে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত অড়হর ডাল বিক্রির ক্ষেত্রে অন লাইনে সরাসরি সরকারকে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে । এতে কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-২/২৪) ।
এই মুহূর্তে যেটা দরকার, কৃষিজাত ফসলের সঠিক দাম । ফসলের ন্যায্য দাম নিয়েই কৃষকদের মধ্যে যতো অশান্তি । ফসলের ন্যায্য দামের জন্য চাই ‘কৃষি বাজার’ । আমাদের দেশের চাষিরা উপযুক্ত বাজারের অভাবে তাঁদের বহু কষ্টার্জিত ফসলের দাম ঠিকমতো পায় না । ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যাতে না ঠকে, তার জন্য চাই সুসংহত কৃষি বিপননের পরিকাঠামো । প্রয়োজনে কৃষি-বাণিজ্য নীতির খোলনলচে পাল্টানো । যাতে কৃষকের কৃষি-পণ্যের জন্য সরকার কর্তৃক উপযূক্ত “লাভজনক দাম” বা সংগ্রহ মূল্যের নির্ধারন ও নিশ্চয়তা প্রদান সম্ভব হয় । সবশেষে যেটা জরুরি, সেটা হচ্ছে কৃষি বীমার সম্প্রসারণ । কৃষি কাজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে আশানুরূপ ফল না পেলে কৃষকের দুর্দশা বাড়ে । এজন্য শস্য বীমা, কৃষি বীমা, ইত্যাদি বীমার আরও জোরদার করা সময়োপযোগী । বীমার আওতায় যাতে সমস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি আসে সেদিকে সরকারি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি আশুকর্তব্য ।
পরিশেষে কৃষি ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে । কৃষি ব্যবস্থা চাঙ্গা হলে গ্রামোন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে । অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হলে গ্রামীণ মানুষদের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়বে । তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে।

কলমেঃ দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)
(তথ্যসুত্রঃ সংগৃহীত ও উল্লেখিত যোজনা) ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাঙালি জাতীয়তাবাদী নজরুল :: অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়।।।

‘পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,মাথায় উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।

প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!’
নজরুল তাঁর লেখা নিছক কাব্য করতে হবে বলেই লেখেন নি। এমন কি কালোত্তীর্ণ হবার কোনও বাসনাও তাঁর ছিল না।

ছিল সমাজের প্রতি, জাতির প্রতি একটা দায়বদ্ধতা। সারা জীবন খুব একটা সুখে কাটেনি তাঁর। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তো জন্মান নি। উপরন্তু আশৈশব লড়াই করে গেছেন। মাত্র আট বছর বয়সে পিতৃ বিয়োগ। তারপর কখনো রুটির দোকানে চাকরি, কখনো মসজিদের মুয়াজ্জিন আবার কখনো লেটো দলে কাজ। সাহিত্যের জগতে পা রাখা বোধহয় এই লেটো দলের বিভিন্ন নাটকের জন্য গান ও কবিতা লেখার মধ্য দিয়েই। তারপর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান। সেখান থেকে ফিরে সাংবাদিকতা। এমন বর্ণময় অথচ মাটির কাছাকাছি থেকে নিরন্তর সংগ্রাম তাঁকে সমাজের প্রতি এতোখানি দায়বদ্ধ করে তুলেছিল।
নজরুল ইসলামের বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহিদা খাতুন। বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম। দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা নজরুলের প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মভিত্তিক। অথচ, তাঁর সমগ্র জীবনকে চর্চা করলে দেখতে পাওয়া যাবে তিনি যতখানি মুসলমান, ঠিক ততখানিই হিন্দু। আবার সমগ্র ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধে তিনিই দৃপ্তকন্ঠে বলতে পারেন, ‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনও মন্দির-কাবা নেই’। বাংলার নবজাগরণের যে ঐতিহ্যের সূত্রপাত বাঙালির রাম রাজা রামমোহনের হাত ধরে, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ হয়ে সেই মশাল বহন করে নিয়ে গেছেন নজরুল।
আজীবন রাজনৈতিক ভাবে সচেতন এক ব্যক্তি নজরুল। সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনায় বিশ্বাস রাখতেন তিনি। নজরুলের এক হাতে ‘বাঁকা বাঁশের বাঁশরী/ আর হাতে রণ-তূর্য।’ অজস্র রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও নজরুলের জীবন আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করলে বুঝতে বাকি থাকে না বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাঁর হাত ধরেই বাঙালির মননে প্রবেশ করেছে। দ্বিজাতি তত্ত্বের শরাঘাতে বিভক্ত যে জাতি, তাকে কেবলমাত্র বাঙালির পরিচয়ে একত্রিত করার গান গেয়ে এসেছেন আজীবন। জাতীয়তা বনাম সম্প্রদায়বাদী চেতনাই যে দেশীয় রাজনীতির প্রধান দ্বন্দ্ব্ব সেটা বুঝতে তাঁর বাকি ছিল না। তাই তাঁর সাধনা ‘সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তা’র সাধনা। এই সাধনা তাঁর কাব্য সৃষ্টি ও রাজনৈতিক কর্মে উদ্ভাসিত। মত ও পথ বদলেছে, কিন্তু বদলায় নি গন্তব্য। তিনি কখনও গান্ধীবাদী, কখনও স্বরাজ্যপন্থি, কখনও বিপ্লববাদী, কিন্তু বরাবরই সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী, এমনকি সাম্যবাদী হয়েও ওই একই নিশানা তার।
‘বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে- ‘বাঙালির বাংলা’ সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। বাঙালির মতো জ্ঞান-শক্তি ও প্রেম-শক্তি (ব্রেন সেন্টার ও হার্ট সেন্টার) এশিয়ায় কেন, বুঝি পৃথিবীতে কোনো জাতির নেই। কিন্তু কর্ম-শক্তি একেবারে নেই বলেই তাদের এই দিব্যশক্তি তমসাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের কর্ম-বিমুখতা, জড়ত্ব, মৃত্যুভয়, আলস্য, তন্দ্রা, নিদ্রা, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিচ্ছার কারণ। তারা তামসিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে চেতনা-শক্তিকে হারিয়ে ফেলেছে’। বাঙালির বাংলা প্রবন্ধে এই উক্তি নজরুলের নিজের। আবার একই প্রবন্ধে আরেক জায়গায় তিনি বলছেন, ‘বাংলা সর্ব ঐশীশক্তির পীঠস্থান। হেথায় লক্ষ লক্ষ যোগী মুনি ঋষি তপস্বীর পীঠস্থান, সমাধি; সহস্র ফকির-দরবেশ অলি-গাজির দর্গা পরম পবিত্র। হেথায় গ্রামে হয় আজানের সাথে শঙ্খঘণ্টার ধ্বনি। এখানে যে শাসনকর্তা হয়ে এসেছে সেই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। বাংলার আবহাওয়ায় আছে স্বাধীনতা-মন্ত্রের সঞ্জীবনী শক্তি। আমাদের বাংলা নিত্য মহিমাময়ী, নিত্য সুন্দর, নিত্য পবিত্র’। এই লাইনগুলো পড়েও কাজী নজরুল ইসলামের মূল রাজনৈতিক আদর্শ যে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল, এটা বুঝতে বাকি থাকে না। বাঙালিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কাজী নজরুল ইসলামই দান করেন। এই কবিতায় তিনিই লিখলেন,
‘জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীণ!
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি-অন্তহীন!’
এই কবিতার ছত্রে ছত্রে বাংলা ও বাঙালিয়ানার জয়গান গাওয়া হয়েছে। এই জয়গানই পূর্ব পাকিস্তানের শেখ মুজিবর রহমানকে প্রেরণা জোগালো বাঙালি জাতিয়তাবাদে নেতৃত্ব দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার। বর্তমান পশ্চিম বর্ধমান জেলার ছোট্ট গ্রামে জন্মানো সেদিনের সেই ছোট্ট দুখু মিঞা আজ দুই বাংলার অগণিত বাঙালি জাতীয়তাবাদের মুল প্রেরণা।
(প্রাবন্ধিক অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় ডাঃ বি.সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক। অধ্যাপনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার নেশা। প্রবন্ধ ছাড়াও গল্প এবং কবিতার জগতও তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সলতে’, ‘আমাদের পঞ্চম’কার সাধন’, ‘পিওনি ফুলের বিপরীতে’। সুরজিত ও বন্ধুরা কবিতা ক্লাব থেকে পেয়েছেন ‘কলমকার’ সম্মাননা। রাজ্য যুব ও ক্রীড়া দফতর থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন ছোটগল্পকার হিসেবে।)

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৭ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ২৭ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৩৩২ – ইবনে খালদুন, আরব মুসলিম পণ্ডিত।

আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতির জনকদের মধ্যে তিনি অন্যতম বিবেচিত হন।
১৮৫২ – বিলি বার্নস, পেশাদার ইংরেজ ক্রিকেটার।
১৮৬৩ – আর্থার মোল্ড, ইংরেজ ক্রিকেট খেলোয়াড়।
১৮৯০ – যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য, একজন বাঙালি কবি ।
১৯০৩ – যোগেশচন্দ্র বাগল প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক ।
১৯৯৫ – সাবিলা নূর বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭০৩ – পিটার দি গ্রেট কর্তৃক সেন্ট পিটার্সবুর্গ (লেনিনগ্রাদ) শহরের পত্তন হয় ।
১৭৬৭ – কলকাতায় প্রথম প্রটেস্টান্ট গির্জা নির্মিত।
১৮৩৭ – আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী নেতা আবদুল ক্বাদেরের সাথে ফ্রান্স সরকারের একটি শান্তিচূক্তি হয়।

১৮৮৩ – তৃতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ার রাজা হন।
১৯১৯ – জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করে বড়লাট লর্ড চেমস ফোর্ডকে চিঠি দেন।
১৯১৯ – এনসি-৪ এয়ারক্রাফট অবতরণ করে লিসবনে, প্রথম উড্ডয়ন শেষ করে।
১৯২৬ – মরোক্কোর রিফ এলাকায় ফরাসী ও স্পেনীয় উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধ বা বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
১৯২৭ – বৈমানিক চার্লস লিন্ডবার্গ একাকী বিমান চালিয়ে বিশ্বে প্রথম আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেন।
১৯৩০ – নিউইয়র্কে ১০৪৬ ফুট বিল্ডিংটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়, যেটি সে সময় মানুষের তৈরি দীর্ঘতম ভবন।
১৯৩২ – খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী রমাঁ রল্যাঁ ও অঁরি বারব্যুস যৌথভাবে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আহবানে করেন।
১৯৫২ – ইউরোপীয় প্রতীরক্ষা গোষ্ঠী গঠিত হয়।
১৯৭২ – যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সল্ট-১ চুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৮৯ – বার্মার সামরিক শাসকগোষ্ঠী দেশের নাম পরিবর্তন করে দ্য ইউনিয়ন অব মায়ানমার রাখে এবং রেঙ্গুনের নাম পালটে রাখে ইয়াঙ্গুন।
২০০৬ – ‘জাভা’ ভূমিকম্প ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটের সময় তীব্র আঘাত করে ইওগাকার্তায়। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ লোকের প্রাণহানি ঘটে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১০ – রবার্ট কখ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান জীব বিজ্ঞানী।

১৯৩০- স্পেনীয় কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল মিরো।

১৯৬৪ – জহরলাল নেহরু, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ – নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি অভিনেতা।

১৯৮৬ – অজয় মুখোপাধ্যায়, পশ্চিম বাংলার চতুর্থ ও ষষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী।
১৯৯৫ – শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায় – আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি পরমাণুবিজ্ঞানী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
গল্প নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজোর ইতিহাস।।।।

দেবী নন্দিনী পূজোর কথা শুনেছেন! স্নান সেরে বসুন্ধরার মাটির ঢেলা মাথায় করে বয়ে নিয়ে এসে পুজো দেন ভক্তরা, বর্তমানে মাটির পাহাড় তৈরি হয়েছে সেখানে, অন্যদিকে মাটি নিতে নিতে একসময়ের ছাড়া গঙ্গা পুনরায় জলপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সগুনা এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বৈশাখী পূর্ণিমায় এলাকার মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি সন্তানহীনতা এবং ব্যথা সংক্রান্ত নানান রোগ ভালো হয়েছে এখানে পুজো দিয়ে।

সন্তানাদির জন্ম এবং তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়েরা এখানকার মাটি মেখে থাকেন।

এলাকার প্রবীনরা জানালেন, চাষ করতে আসা ট্রলার ট্রাক্টর জমিতে পুঁতে গেলে তা উদ্ধার হয় পুজোদিলে। আর এই সকল কারণে শুধুমাত্র এই গ্রাম নয় আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পর্যন্ত আজকের দিনে নন্দিনী দেবীর পুজোতে মাটি দিতে উপস্থিত হন ভক্তরা। শুধু হিন্দু ধর্মেই নয় পার্শ্ববর্তী মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকেই মানত করতে মাটি দিয়ে থাকেন।
তবে এলাকার প্রবীণরা আজও উদ্ধার করতে পারেননি প্রতিবছর এই দিনে প্রথম কে মাটি দেয়, যত ভোরেই পৌঁছাক না কেনো, যে প্রথম পৌঁছায় তিনিও গিয়ে দেখেন তার আগে কেউ একজন মাটি দিয়ে রেখেছে।
একসময় পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা এখন পলি পড়েছে তবে সে সময় জল থাকতো, সেখান থেকে স্নান করে এবং চাষের জমি থেকে মাটি মাথায় নিয়ে, পাহাড়সম চুড়ায় নিম গাছের গোড়ায় পুজো দিয়ে থাকেন পূর্ণর্থীরা। তবে কোন মূর্তি নয়, জাগ্রত সুউচ্চ ঢিলা ভূমি এবং গাছের গোড়াই এখানে দেবতা।

মনস্কামনা পূর্ণ হওয়া ভক্তবৃন্দরা খিচুড়ি এবং বিভিন্ন তরকারি ভোগের প্রসাদ হিসেবে আগত হাজার হাজার ভক্ত বৃন্দকে বিতরণ করেন বিভিন্নজন। এই উপলক্ষে প্রত্যেক বাড়িতে আজ রান্না বন্ধ। মহিলারা সকলে এসে হাতে হাত লাগিয়ে রান্নার কাজ করে থাকেন। বর্তমানে এই পুজো ঐতিহ্য এবং পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রত্যেকের মুখেই বিষাদের সুর। হাজার হাজার পুর্নার্থীদের স্নান করার জলের অভাব, মহিলাদের শৌচাগার এবং স্নানের পর ভিজে কাপড় জামা পরিবর্তনের ঘর, বিপদজনক উচ্চতায় উঠতে সিঁড়ি, উচ্চ বাতিস্তম্ভ , পানীয় জলের কল এ সবই প্রয়োজন। পঞ্চায়েত সদস্য হোক বা সমিতি কিংবা জেলা পরিষদ কেউ কখনোই খোঁজ নিয়ে , তৎপর হননি। তবে সামনে গতবার বিধায়ক ড : ব্রজকিশোর গোস্বামী এসে কথা দিয়েছিলেন সিঁড়ি করার, এ বছরের নির্বাচন পড়ার কারণে তা এখনো শুরু হয়নি তবে আগামীতে তা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাকি কাজগুলির জন্য অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতীক্ষায় এলাকাবাসী।

উদ্যোক্তারা জানালেন পুজো আজ হলেও পাঁচ দিন যাবত চলে মেলা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নানান অলৌকিক কথা শোনা গেল এই পুজো সম্পর্কে, ভক্তরা জানালেন উঁচু ওই মাটির ঢিবিতে কখনো বাজি পটকা ফাটেনা নিম গাছগুলিতে মাইক লাগালে তা কিছুক্ষণ পরে বন্ধ হয়ে যায়, চাষের জমিতে ট্রাক্টর কিংবা অন্যান্য গাড়ি ফেসে গেলে পুজো না দেওয়া পর্যন্ত কারোর সাধ্য নেই সেই গাড়ি তোলে. তবে এসব ই ভক্তবৃন্দদের বিশ্বাস।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কাজী নজরুল ইসলাম ও দুই নারী : কামনা দেব।।।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেও দুই নারী ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। ঠিক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে যেমন দুইজন নারী অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন ।তেমনই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে ও কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে দুই নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

শুধুমাত্র তফাৎ ছিলো, এই দুই নারীর মধ্যে মৃণালিনী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী আর কাদম্বরী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের বৌদি। রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে দু’বছরের বড় ছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের কিশোরবেলার খেলার সাথীও ছিলেন। একসাথে বড় হতে হতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের সকল শাখায় যেমন প্রতিভা প্রস্ফুটিত হতে থাকে, তেমনি কাদম্বরী দেবীও প্রচুর পড়াশুনা করে কবির রচনার প্রথম পাঠক ও প্রধান সমজদার পাঠক হতে পেরেছিলেন। অনেকক্ষেত্রেই কাদম্বরী দেবী কবির সৃষ্ট রচনাগুলোর পর্যালোচনা করে কিছু পরিমার্জন করে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতেও সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে মৃণালিনী দেবীও অনেক পড়াশুনা করেছিলেন। কিন্তু অত অল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ পাঁচটা সন্তান, তাদের লালন পালন ও সন্তানের অকাল মৃত্যু, বিরাট সংসারের রক্ষণাবেক্ষণ, অতগুলো লোকের রান্না বান্না – এসব নিয়ে তাঁকে সদাই ব্যস্ত থাকতে হতো বলে এদিকটা আর এতো এগুতে পারেন নাই।
অপরদিকে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে দুই নারীই তাঁর নিজের স্ত্রী ছিলেন বলে কেউ বলেন আবার কেউ বলেন নয় , তবে একজনের নাম ছিল সৈয়দা খাতুন আর কবি নজরুল নাম রেখেছিলেন নার্গিস। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কবির কখনো ঘর করা হয়ে ওঠেনি।
আরেক নারী আ আশালতা সেনগুপ্তা এবং ডাকনাম ছিল দুলী, কবি নাম রেখেছিলেন প্রমীলা। এই নারীর সাথে বিয়েটা হয় নার্গিসের সাথে বিয়ের দিন আসর থেকে চলে আসার প্রায় তিন বছর পরে। তবে লক্ষ্যনীয় ব্যপার হলো উভয় নারীই তখনকার বৃহত্তর ত্রিপুরা অর্থাৎ বর্তমানের কুমিল্লার ছিলেন। দুইজনেই বিয়ের পরে অনেক পড়াশুনা করেছিলেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌদি কাদম্বরী দেবী যেমন হঠাৎ আত্মহত্যা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন থেকে বিদায় নেন, তেমনি নার্গিসও কেবলমাত্র বিয়ের রাতটুকু ছাড়া, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গেও আর কোন সম্পর্কই ছিল না। আবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী যেমন অসুস্থ হয়ে রবিঠাকুরের অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন, তেমনি কবি নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা দেবীও কবি নজরুলের আগেই অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
যেহেতু এখানে কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে লিখতে হচ্ছে , তাই কাজী কবি নজরুল ইসলামের বিষয়টির উপর অনুধাবন করতে হলে মনে হয় যতটা গোড়ার শুরু করতে পারা যায়, ততটাই কবির সম্পর্কে জানতে পারবো।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দের ২৫শে মে, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। মাত্র আট বছর বয়সেই কবি পিতা ফকির আহমদকে হারান। টাকা পয়সার অভাবে কবি লেখাপড়া পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। এদিকে কবির ছিল প্রচণ্ড গান বাজনায় ঝোঁক । তাই কবি নজরুল নামমাত্র লেখাপড়া করে স্থানীয় *লেটো* গানের দলে যোগ দেন। এখানে কিছুদিন গান করার পর কবির মনে হল যে, এরকম গান তো তিনি নিজেই লিখতে বানাতে পারেন। তাই তিনি গান লেখা শুরু করে দিলেন। ঐ অত অল্পবয়সের লেখা গানের কথা ও ভঙ্গি তখন অনেকেরই নজর কেড়ে নিয়েছিল এবং বেশ কৌতূহলও সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু এতে মুশকিল ছিল , সেখান থেকে তার তেমন কিছুই আয় হচ্ছিল না। ফলে ঐ বয়সেই কবি নজরুল গ্রামের হাজী পাহালওয়ান শাহের মসজিদে খাদেমগিরি শুরু করে দেন। ঐ কাজের মধ্যে পীর সাহেবের মাজারে সাঁঝের বাতি দেওয়ার কাজটাও কবিকে করতে হতো। কিন্তু সেই কাজেও কবি নজরুলের তেমন সুবিধে হচ্ছিল না দেখে তিনি মিলিটারিতে গিয়ে যোগ দেন ১৯১৭ সালে।
কবি নজরুল ইসলাম মিলিটারির যে কাজে যোগদান করেন, সেই ইউনিটটার নাম ছিল, – * ৪৯ নম্বর বাঙ্গালী পল্টন*।
মিলিটারিতে যোগদান করার পর কাজের জন্যই কবিকে করাচি চলে যেতে হয়। স্কুলের তেমন পড়াশুনার সুযোগ না হলেও, পড়াশুনা ও জ্ঞান আহরণের অদম্য ইচ্ছা ছিল কবি নজরুলের মধ্যে। তাই কবি কাজের ফাঁকে খোঁজা খুঁজি করে সেখানে একজন জ্ঞানী পাঞ্জাবী মৌলভী সাহেবের সন্ধান পান। সেই মৌলভীর কাছ থেকেই কবি কাজী নজরুল ইসলাম *দেওয়ান-ই-হাফিজ* ও ফার্সি ভাষার আরো নানা মূল্যবান কাব্যগন্থের সংস্পর্শে আসেন এবং সেই বিষয়গুলোর উপর শিক্ষালাভ করার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন। এভাবেই একদিন কাজী নজরুল ইসলাম পৃথিবীর অন্যতম প্রথম সারীর মহৎ সাহিত্যের সংস্পর্শে চলে আসেন। কবির গভীর অনুসন্ধিৎসু মন, এবং গভীর কাব্য দর্শনের অতল গভীরে ডুব দেবার সুযোগ পান। কাজী নজরুল ইসলাম মানব মহাজীবনের সন্ধানে ঢোকার সিঁড়ি ধাপে ধাপে পেয়ে যান।
আরব সাগরের পাড়ে বর্তমানের পাকিস্তানের করাচী শহরে বসে তিনি ‘মুক্তি’, ‘কবিতা-সমাধি’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘ব্যথার দান’, ‘হেনা’ নামের ব্যতিক্রমধর্মী, অসাধারণ বিস্ময়কর কবিতা ও গল্প রচনা করতে থাকেন। পাঠক সমাজ তখন বুঝতে পারছিলেন বাংলা সাহিত্যের আকাশে আর একটি প্রবল শক্তিময় আলোর দ্যুতি ছড়ানো সূর্যের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে গুজব ওঠে যে, *বাঙ্গালী পল্টন* ভেঙ্গে দেওয়ার কথা । তা শুনেই কবি ভবিষ্যতে কি করবেন সেই চিন্তা করতে করতে দেশের বাড়ি চুরুলিয়ায় এসেছিলেন।
১৯২৯ সালে যখন সত্যিই *বাঙ্গালী পল্টন* ভেঙ্গে দেওয়া হল,তখন কবি বর্ধমান জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার -এর পদের জন্য দরখাস্ত করেন। সেখানেও কিছু সুবিধা না হওয়ায় তিনি চাকরীর খোঁজে কলকাতাতে চলে যান। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি প্রথমে সতীর্থ বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মেসে উঠেন। এরপরে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজের সামনে ৩২ নং কলেজ স্ট্রীটে অবস্থিত *বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি* এর কার্যালয়ে যান। সেখানে *বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা* -এর সম্পাদক, কমরেড মোজাফফর আহমেদ ও *মোসলেম ভারত* পত্রিকার কর্ণধার আফজালুল হক থাকতেন। এঁদের সঙ্গে কবির আলাপ হবার পর ঐ ঠিকানাতেই কাজী নজরুল ইসলামের থাকার ব্যবস্থা হয়। এর প্রায় পাঁচ ছয় মাস পরে, কবি নজরুল কাউকে কিছু না বলে হঠাৎই একদিন কুমিল্লা চলে যান। ব্যাপারটা আন্দাজ করতে না পেরে সবাই মিলে কাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ গায়ক বন্ধু, শ্রী নলিনীকান্ত সরকারের শরণাপন্ন হন। নলিনীবাবুর কথাটা ছিল মোটামুটি এইরকম যে, *নজরুলের প্রাত্যহিক গতিবিধি ও কার্য্যসূচীর সন্ধান আগে থেকেই আমার জানা থাকতো। একদিন সারা বিকেলটা নজরুলের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে পরদিন সকাল বেলায় গিয়ে দেখি, নজরুল ঘরে নেই। তাঁর একজন সহকক্ষবাসী বন্ধু মোসলেম-ভারতের কর্ণধার, আফজালুল হক হাসতে হাসতে বললেন, *সে তো কাল রাত্তিরে কুমিল্লা চলে গেছে*।
তিনি বললেন,- *কৈ, কাল তো কিছু বললো না*। সহকক্ষবাসী বন্ধু বললেন,- *বলবে কি করে? কাল সন্ধ্যার পর এক ভদ্রলোক এসে কি সব কথাবার্তা বলে কুমিল্লা যাবার প্রস্তাব করলেন। প্রস্তাব, অনুমোদন, সমর্থন সব মুহূর্তের মধ্যে – সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালদহ ষ্টেশনে যাত্রা*। ঐ *এক ভদ্রলোক* -এর নাম ছিল আলী আকবর খান, কুমিল্লার দৌলতপুরের এক বিখ্যাত প্রকাশক। যিনি সম্পর্কে নার্গিসের মামা ছিলেন।
সেই দৌলতপুর যাবার পথেই আলী আকবর খান সাহেব কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কয়েকদিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে শ্রী ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে থেকে যান। ইন্দ্রকুমার বাবু কুমিল্লা বোর্ড অফ ওয়ার্ডস-এর ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। ইন্দ্রকুমারের ছেলে বীরেন্দ্রকুমার, কুমিল্লা জেলা স্কুলে পড়াশুনা করতেন। সে সময় আলি আকবর খানও সেখানে পড়তেন। সে হিসাবে আলী আকবর খান ছিলেন বীরেন্দ্র কুমারের ক্লাসমেট । আর এই ক্লাসমেট থেকেই তাঁরা দুই বন্ধু হয়ে গেছিলেন এবং পরস্পর পরস্পরের বাড়ীতে যাতায়াত করতেন । বীরেন্দ্রকুমারের বাড়ীতে স্ত্রী, বোন, ছেলে ও বাবা মা ছাড়াও আরো থাকতেন বিধবা জেঠি গিরিবালা দেবী ও তাঁর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলা দেবী।
প্রমীলার স্বর্গীয় পিতা, শ্রী বসন্তকুমার সেনগুপ্তের আদি নিবাস ছিল মানিকগঞ্জের তেহুতা গ্রামে। তিনি ত্রিপুরা সরকারের নায়েবের পদে চাকুরী করতেন। পিতার মৃত্যুর পর প্রমীলারা কুমিল্লায় কাকা ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তর অর্থাৎ বীরেন্দ্রকুমারদের বাড়ীতে এসেই বসবাস করছিলেন।
সেখানে কিছু দিন থাকার পর আলি আকবর খান সাহেব কাজী নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়ি দৌলতপুরে চলে যান। আলী আকবর খান সাহেবের দু’জন বিধবা বোন ছিলো। এক বোন আলী আকবর খানের সংসারের সর্বময়ী কর্ত্রী ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের চেহারা ও আচার আচরণ ব্যবহার দেখে বিধবা বোনের ভাল লাগে। তখন থেকে তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে মায়ের মতো স্নেহ আদর যত্ন করতেন। কিন্তু অন্য বোনটি ঐ বাড়ীতে না থাকলেও কাছাকাছিই থাকতেন। সেই বোনের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিলো। মেয়েটি যুবতী ও বেশ সুন্দরীও ছিল। কাজী নজরুল এ বাড়ীতে আসার পর তাদের যাতায়াত বেশ বেড়ে যেতে থাকল। অনুমান , কবি নজরুলের বাঁশী ও মেয়েটির রূপ যৌবন পরস্পর পরস্পরকে আকৃষ্ট করেছিলো। ঐ মেয়েটির নাম সায়ীদা খাতুন ছিল ওরফে নার্গিস বেগম , এই নামটি কাজী নজরুল ইসলামই রেখেছিলেন সৈয়দা খাতুনের। এই ঘনিষ্ঠতা থেকেই কিছুদিনের মধ্যে কবি ও নার্গিসের বিয়ের কথা পাকাপাকি ও বিয়ের দিন ধার্য হয়ে যায়। কুমিল্লার সেই পল্লীগ্রাম থেকেই কাজী নজরুল ইসলাম ও আলী আকবর খান সাহেব মিলে নজরুলের বিয়ের খবর ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পাঠান। মুস্কিল একটা হলো, একদিকে ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে আলী আকবর খান সাহেবের উপর অনেকেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। অন্যদিকে কবি নজরুলের তখন কিশোরকাল, বয়স কম, সাথে ভীষণ সেন্টিমেন্টাল এবং স্থিতিশীল কোন আয় তখন তাঁর ছিলোও না। এই অবস্থায় বিয়ে করার বিরাট দায়িত্ব কাজী নজরুল কেমন করে পালন করবে , সেটা নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বান্ধব সহ হিতৈষীদের দারুণ উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। অথচ কেউ এর বিরোধিতা করার সাহসও পাচ্ছিলো না।
১৯২১ সালের ৫ জুন, তারিখে, কবি কাজী নজরুলের কুমিল্লা থেকে পাঠানো চিঠির জবাবে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় লেখেন,
*ভাই নুরু, যখন তুই স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তাকে বরণ করে নিয়েছিস, তখন অবশ্য আমার কোন দুঃখ নেই। তবে একটা কথা, তোর বয়স আমাদের চাইতে ঢের কম, অভিজ্ঞতাও তদনুরূপ feeling-এর দিকটা অসম্ভব রকম বেশী। কাজেই ভয় হয় যে, হয়তো বা দুইটা জীবনই না ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে তুই যদি concious, তাহলে অবশ্য কোন কথা নেই। যৌবনের চাঞ্চল্যে আপাতমধুর মনে হলেও ভবিষ্যতে না পস্তাতে হয়। তাই তুই নিজে যদি সব দিক ভেবে চিনতে বরণ করাই ঠিক করে থাকিস, তাহলে আমি সর্বান্তকরণে তোদের মঙ্গল কামনা করছি ।*
তুই লিখেছিস, *এক পল্লী বালিকার কাছে এত বিব্রত আর অসাবধান হয়ে পড়েছি, যা কোন নারীর কাছে কখনো হইনি*। জেনে খুশী হলাম যে, তাঁর বাইরের ঐশ্বর্যও যথেষ্টই আছে। তুই যে এরূপ আজগুবি একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসবি, তা সকলে আমরা জানতুম*।
১৯২১ সালের ১৩ জুন কলকাতার *মোহাম্মদী* পত্রিকার অফিস থেকে সাহিত্যিক ওয়াজেদ আলী সাহেব লেখেন,-
*অভিন্ন হৃদয়েষু ভাই নজরুল, আপনার ৭ তারিখের স্নেহমাখা চিঠিখানি আজ বিকালে পেয়ে কয়েকবার পড়েছি, আর অশান্তির মধ্যেও খুব হেসেছি। পল্লীর যে কুটীরবাসিনী দৌলতপুরের দৌলতখানার শাহজাদী বলাই বোধ হয় ঠিক, তার সাথে আপনার মনের মিল ও জীবনের যোগ হয়ে গেছে তাঁকে আমার শ্রদ্ধা ও প্রীতিপূর্ণ আদাব জানাবেন। আমার বোধ হইতেছে যে, আপনার বন্ধুরা অসন্তুষ্ট হইয়াছেন একটা কারণে। আপনি *নারায়ণে* *দহনমালা* লিখে নারীর কাছে ক্ষমা চাইলেন, আর তার পরেই এত সত্বর প্রেমের ফাঁদে ধরা পড়লেন। যৌবনের জোয়ার বড় সাংঘাতিক। তাকে ঠেলে রাখা বড় দায়। এ আমি স্বীকার করছি*। এরপর আবার কদিন পরেই ১৬ জুন তারিখে আবার লেখেন, –
-*ভাই নজরুল, আপনার আগের চিঠির জবাব আগেই দিয়েছি। আজ এই কতক্ষণ হইল, রবিবারের চিঠিটাও পেলাম। আপনার বিয়ের খবরটা তাড়াতাড়ি এই সপ্তাহের কাগজে বের করে দিয়েছি। কিন্তু ভয় নেই, আপনার শ্রীমতীর কোন নামই কাগজে ছাপা হয় নাই*।
১৯২১ সালের ২৫ শে জুন কলকাতা থেকে মুজফফর আহমেদ সাহেব লেখেন,-
-*ভাই কাজী সাহেব। ওয়াজেদ মিয়ার চিঠিতে জানলাম যে, ৩রা আষাঢ় তারিখেই আপনাদের বিবাহ হচ্ছে। সময় খুব সংকীর্ণ কাজেই আমার আর যাওয়া হচ্ছে না। তবে ভালোয় ভালোয় সব মিটে যাক, এ প্রার্থনা খোদার দরগাহে*।
পরম প্রীতিভাজনেষু কাজী সাহেব, আপনার পত্রাদি যে আর মোটেই পাওয়া যাইতেছে না, তার কারণ কি? খান সাহেবের নিমন্ত্রণপত্র পাইয়াছিলাম। পত্রখানা আপনারই মুসাবিদা করা দেখিলাম। পত্রের ভাষা দু’এক জায়গায় বড় অসংযত হইয়াছে। একটু যেন কেমন দাম্ভিকতা প্রকাশ পাইয়াছে। আপনার হাত দিয়া অমন লেখা বাহির হওয়া কিছুতেই ঠিক হয় নাই। আমার ভয় হইতেছে যে, খান সাহেবের সংশ্রবে থাকিয়া আপনি না শেষে দাম্ভিক হইয়া পড়েন। অন্যে বড় বলিলে গৌরবের কথা হয়, আর নিজেকে নিজে বড় বলিলে অগৌরবের মাত্রাই বাড়িয়া যায়। *মোহাম্মদী* পত্রিকাকে বিবাহের কথা ছাপিতে অনুরোধ করাটা ঠিক হইয়াছে কি? তাঁরা তো নিজ হইতেই এ খবর ছাপিতে পারিতেন। বাস্তবিক আমার প্রাণে বড় লাগিয়াছে বলিয়া এত কথা বলিলাম। এই নিমন্ত্রণপত্র আবার *অপূর্ব নিমন্ত্রণপত্র* শিরোনামে *বাঙালী* পত্রিকাতে মুদ্রিত হইয়াছে দেখিলাম। *বাঙালী*-কে এই নিমন্ত্রণপত্র কে পাঠাইল? আপনার অঙ্ক লক্ষ্মীকে এই অপরিচিতের বিনয়-সম্ভাষণ জানাইবেন*।
মুদ্রিত ঐ নিমন্ত্রণ পত্রটিতে নজরুলের পিতা মরহুম কাজী ফকির আহমদ সাহেবের পরিচয় দেওয়া হয় চুরুলিয়ার *আয়মাদার* বলে। আর কাজী নজরুল ইসলামকে *মুসলিম রবীন্দ্রনাথ* বলা হয়। সম্ভবত: এই দুটি কথা মুজফফর সাহেবকে ব্যথিত করেছিল। মুজফ্ফর সাহেব ২১শে জুন আলী আকবর সাহেবকে লেখেন,-
*খান সাহেব, বিবাহের নিমন্ত্রণপত্র পাইয়াছি, অবশ্য হইয়া যাওয়ার পরে। আগে পাওয়া গেলেও বোধ হয় স্ট্রাইকের জন্য যাওয়া তেমন সুসাধ্য হইত না। যাহা হউক আশা করি ভালোয় ভালোয় শুভ কাজ শেষ হইয়া গিয়াছে*।
তিনি গোয়ালন্দ-চাঁদপুর স্টিমার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্মচারীদের স্ট্রাইকের কথাই এখানে বোঝাইতে চাচ্ছিলেন।
যাই হোক, এতকিছু করে যে বিয়ে, সেটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। দৌলতপুরে আলি আকবর খান সাহেবের কিছু কিছু ব্যবহার কাজী নজরুলকে মানসিক ভাবে আঘাত করে। হবু বধূর কিছু আচরণও তাঁর কাছে দুর্ব্যবহার বলে মনে হয় কবি নজরুল ইসলামের।আলি আকবর খান অবস্থা সুবিধের নয় দেখে ও নিজের দোষ কাটাবার অভিপ্রায়ে বিয়েটা ভেঙ্গে দেবার ফন্দি আটেন এবং হঠাৎ করেই একটা নতুন প্রস্তাব এনে বলেন, বিয়ের-পরে কাজী নজরুল ইসলামকে দৌলতপুরেই থেকে যেতে হবে । যেটা খান সাহেবও জানেন যে কবি নজরুলের পক্ষে কোনমতেই এই কথা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিয়েতে কাজী নজরুল ইসলামের বিশেষ আমন্ত্রণে বিরজাসুন্দরী দেবীও নৌকাযোগে দৌলতপুরের বিয়ে বাড়ীতে আসেন এবং সঙ্গে সেনগুপ্ত পরিবারের আরো দশ বারো জন সদস্যও এসেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম যখন তাঁর ঐসব অপমানের কথা বিরজাসুন্দরীকে জানান, তখন তিনি এই বিয়ে না করার জন্য পরামর্শও দেন। কিন্তু এ বিয়ে উপলক্ষে অতো লোকজন উপস্থিত হয়ে গেছিল যে, তাই বিয়েটা ভেঙ্গে না দিয়ে যেভাবেই হোক কাজী নজরুল ইসলাম ঝামেলাটা চুকিয়ে ফেলার মনস্থ করেন এবং বিয়েটা শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েটা হয়েছিল সত্য বলে কেউ কেউ লিখেগেছেন। তবে এই বিয়ে নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে। কিন্তু এই বিয়ে ইসলামী মতে হয়নি। অর্থাৎ তাঁদের দাম্পত্য মিলন সাধিত হয়নি। বিয়ের রাতেই প্রচণ্ড ঝড় ঝঞ্ঝার মধ্যেই কাজী নজরুল ইসলাম দৌলতপুর ত্যাগ করেন। মনে করা হয়েছে যে , কাজী নজরুল ইসলাম সেইদিন সেনগুপ্ত পরিবারের সঙ্গেই কান্দিরপাড়ে সেনগুপ্ত বাড়িতে এসে ওঠেন। সেই কান্দিরপাড় থেকেই কবি নজরুল দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন।
প্রথম চিঠিটি লিখেন , আলি আকবর খান সাহেবকে। সেখানে কাজী নজরুল ইসলাম *মামাশ্বশুর* না লিখে *বাবাশ্বশুর* বলে সম্বোধন করেন,-
*বাবা শ্বশুর, আপনাদের এই অসুর জামাই পশুর মতন ব্যবহার করে এসে যা কিছু কসুর করেছে, তা ক্ষমা করুন সকলে, অবশ্য যদি আমার ক্ষমা চাওয়ার অধিকার থাকে। এইটুকু মনে রাখবেন, আমার অন্তর-দেবতা নেহায়েত অসহ্য হয়ে না পড়লে, আমি কখনো কাউকে ব্যথা দিই না। অতএব আমিও আপনাদের মতোই মানুষ। আমার গণ্ডারের চামড়া নয়, কেবল সহ্যগুণটা কিছু বেশী। আমার মান অপমান সম্বন্ধে কাণ্ডজ্ঞান ছিল না বা *কেয়ার* করিনি বলে আমি কখনো এত বড় একটা অপমান সহ্য করিনি। যাতে আমার *ম্যানলিনেসে* বা পৌরুষে গিয়ে বাজে । যাতে আমাকে কেঊ কাপুরুষ, হীন ভাবতে পারে। আমি সাধ করে পথের ভিখারি সেজেছি বলে লোকের পদাঘাত সইবার মতন *ক্ষুদ্র আত্মা* -র অমানুষও হয়ে যাইনি। আপনজনের কাছ হতে পাওয়া অপ্রত্যাশিত এত হীন ঘৃণা, অবহেলা আমার বুক ভেঙ্গে দিয়েছে।
বাবা, আমি মানুষের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। দোয়া করবেন আমার এ ভুল যেন দুদিনেই ভেঙে যায়। বাড়ির সকলকে দস্তুরমতো সালাম দোয়া জানাবেন। তাকেও ক্ষমা করতে বলবেন, যদি এ ক্ষমা চাওয়া ধৃষ্টতা না হয়।
আজ ইতি।
চীরসত্য স্নেহসিক্ত – নুরু*।
এরপর দ্বিতীয় চিঠিটা তিনি কলকাতায় মুজফ্ফর আহম্মেদকে লিখেন। সেই চিঠি পেয়ে মুজফ্ফর আহমেদ অনেক কষ্ট করে কুমিল্লা এসেছিলেন কারণ, তখন রেল ধর্মঘট চলছিল। তিনি এসেই কাজী নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতায় ফেরত যান। এর অল্প কিছুদিন পরেই ৩/১ সি তালতলা লেনে মুজাফ্ফর আহমেদ সাহেবের বাড়ীতে থাকা অবস্থায় নজরুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর নজরুল প্রায় তিন বছর ধরে কয়েকবার কান্দিরপাড় গিয়েছিলেন। এরপর ১৯২৪ সালের ২৪শে এপ্রিল, কলকাতার ৬ নম্বর হাজি লেনে, আশালতা সেনগুপ্তা, ওরফে প্রমীলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় অনেক ঝক্কি সামলে।
কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর বয়স তখন ১৮ বছরের বেশ কম ছিল বলে অফিসিয়ালি হিন্দু মুসলমানের বিয়ে, অর্থাৎ সিভিল ম্যারেজ হতে পারেনি। অগত্যা ইসলামী মতেই বিয়েটি সম্পন্ন করতে হয়েছিল। এ জটিলতায় হিন্দু, মুসলনমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরাও চটে গিয়েছিলেন। আশালতা সেনগুপ্তার ওরফে দোলনার গায়ের রঙ চাঁপাকলির মতো ছিল বলে নজরুল তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের নাম দিয়েছিলেন *দোলন চাঁপা*। দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেবার পর থেকে প্রমীলা দেবী পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। কবি প্রায় তাঁর সর্বস্ব দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে থাকেন। অল্পদিনের মধ্যে দারুণ অসুস্থ হয়ে কি নজরুলও নিজে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৩৮ বছর সংসার করার পর, ১৯৬২ সালের ৩০শে জুন, শনিবার মাত্র ৫২ বছর বয়সে প্রমীলা দেবী কলকাতার পাইকপাড়ার বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই সময় কলকাতার মির্জাপুর স্ট্রীটে নজরুল পাঠাগার ছিল। সেখানে বাৎসরিক নজরুল জয়ন্তী হতো। ফাংশান শেষে দলবল মিলে পাইক পাড়ায় গিয়ে কাজী সাহেবদের দেখে আসার একটা অলিখিত রেওয়াজ ছিল ঐ এলাকার লোকজনের। ১৯৬১ সালের নজরুল জয়ন্তীর পর , অর্থাৎ প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর ঠিক আগের বছর, এলাকার লোকজন পাইকপাড়ার বাসায় নজরুল দম্পতীকে পাশাপাশি খাটে শোওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
অসুস্থ স্ত্রী প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর পর কাজী নজরুল ইসলামের অনেকদিনের অভিলাষ অনুযায়ী কবিপত্নীর মৃতদেহটি কলকাতা থেকে চুরুলিয়া নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেই হাজী পাহালোয়ানের দরগার পাশে কবরস্থ করা হয়। প্রমীলা দেবী বাল্যকাল থেকেই সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। প্রমীলা দেবীর কিছু কবিতা মাসিক *সওগাত* ও দ্বিমাসিক *সাম্যবাসী* তে ছাপা হয়। যতদিন পেরেছেন, ঐ অচল অবস্থাতেও তিনি নিজ হাতে স্বামীকে খাইয়ে দিয়েছেন। কবির ভক্ত ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে তিনি একান্ত আপনজনের মতো ব্যবহার করতেন। সাংসারিক অসচ্ছলতার মধ্যেও তিনি কাউকে অভুক্ত অবস্থায় ফেরত দেননি। কখনও বিমর্ষ থাকতে দেখা যায় নাই এবং তাঁর কোন অভিযোগও তিনি কোন দিন করেন নাই।
নার্গিস খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে কখনও ভুলতে পারে নাই। এতো অল্প বয়েসে *শ্যাম রাখি না কূল রাখি* -এর মতো বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে, স্বামীর সঙ্গে ঔ রাত্রেই বাড়ী ছেড়ে চলে যাবেন, না পিতৃকুলের সম্মান রক্ষা করবেন, তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন নাই। কিন্ত নার্গিস কখনো হাল ছাড়েন নাই। নিজেকে তৈরী করে নিতে ঢাকায় গিয়ে *কামরুন্নেছা গার্লস কলেজে* পড়াশুনা করেন নার্গিস।
নার্গিস *তাহমিনা*, *ধুমকেতু* ও *পথিক হাওয়া* নামে তিনটি উপন্যাস ও বেশ কটি টেক্সট বুক লিখেন। *তাহমিনা* *সোহরাব রুস্তম* উপন্যাসের অনুকরণে সেই লেখা হয়েছিল। তাহমিনাকে রেখে রুস্তম যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যান। দেখানো হয়েছে ঠিক তেমনই নজরুল নার্গিসকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। নার্গিসের জীবন যেন তাহমিনার অনন্ত দুঃখ দুর্দশা ও বঞ্চনার ইতিহাস। নার্গিসের সব কটা উপন্যাসই কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছিলো।
১৯৩৭ সালের নভেম্বর মাসের চার তারিখ নার্গিস দীর্ঘ ১৬ বছর প্রতীক্ষার পর আলি আকবর খান অর্থাৎ মামার বন্ধু, ময়মনসিংহবাসী প্রফেসর হেলালুদ্দিন ও মামাতো ভাই নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার শিয়ালদহ হোটেলে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শেষ সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মিঃ ওয়াজেদ আলীও উপস্থিত ছিলেন। অতর্কিতে এঁদেরকে দেখে কাজী নজরুল ইসলাম ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে দু’জনের কেউই কোন কথা বলতে পারেন নাই।একটু পরে ধাতস্থ হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম নার্গিসকে বলেন, –
-*তুমি ঢাকা ফিরে যাও। আমি খুব সত্বর ঢাকায় আসছি, সেখানেই এর একটা সমাধান করবো*।
তিনি সাংসারিক অসচ্ছলতার নানান কথা সহ দুঃখ দুর্দশাময় ভবিষ্যতের কথাও বলেন। এও উল্লেখ করে বলেন যে,-
* প্রমীলা ও তার মা সংসারে নার্গিসকে কখনোই বরদাস্ত করবেন না। অবশ্য নার্গিসের ভাষায়, *সেই সত্বর আর কখনো আসেনি*।
পরবর্তীকালে নার্গিস, কাজী নজরুল ইসলামের ভক্ত ও ঘনিষ্ঠ কবি আজিজুল হাকিমকে বিয়ে করেছিলেন এবং ১৯৮৫ সালে, প্রায় ৮১ বছর বয়সে আমেরিকার এক ছোট্ট শহরে মারা যান। কবি নজরুলের সাথে আর কখনও নার্গিসের দেখা না হলেও কবি নজরুল ইসলাম, নার্গিসকে এক অবিস্মরণীয় পত্র লেখেন। এর কিছুটা অংশ নীচে তুলে দেওয়া হলো,-
*কল্যাণীয়েষু,
তোমার পত্র পেয়েছি সেদিন নববর্ষার নবঘন সিক্ত প্রভাতে। পনেরো বছর আগে এমনি এক আষাঢ়ের এমনি বারিধারার প্লাবন নেমেছিল, তা তুমিও হয়তো স্মরণ করতে পারো। এই আষাঢ় আমার কল্পনার স্বর্গলোক থেকে টেনে ভাসিয়ে দিয়েছে বেদনার অনন্ত স্রোতে। যাক, তোমার অনুযোগের অভিযোগের উত্তর দিই। তোমার উপর আমি কোন জিঘাংসা পোষণ করি না । এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি, আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা। কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি । তা দিয়ে তোমাকে দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশমাণিক না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না। আমি ধূমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না। তোমার যে কল্যাণরূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথমে দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার অঞ্জলী দিয়েছিলাম, সে রূপ আজও স্বর্গের পারিজাত মন্দারের মতো চিরঅম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে। অন্তরের আগুন বাইরের সেই ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষ রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে। তোমাকে লেখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক। যেখানেই থাকি, বিশ্বাস করো, আমার অক্ষয় আশীর্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে। তুমি সুখী হও, শান্তি পাও, এই প্রার্থনা। আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস কর, আমি তত মন্দ নই, এই আমার শেষ কৈফিয়ত।
ইতি-
নিত্যশুভার্থী,
নজরুল ইসলাম।* ******************************
সংগ্রহিত তথ্য নির্ভর

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বীর বিপ্লবী রাসবিহারী বসু দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রনী বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।।

ভারতে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের একজন অগ্রগণ্য বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির অন্যতম সংগঠক ছিলেন রাসবিহারী বসু। রাসবিহারী বসু ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ শে মে অধুনা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত তার পৈতৃক গ্রাম সুবলদহে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বিনোদবিহারী বসু এবং তার মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী।

তিনকড়ি দাসী ছিলেন তার ধাত্রী মাতা। তার পিতামহ নাম ছিলেন কালীচরণ বসু। এই বসু পরিবারের আদিবাস ছিল অধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলার সুবলদহেতে। তাঁদের পূর্বপুরুষ নিধিরাম বসুই সর্বপ্রথম সুবলদহে বসবাস শুরু করেন। রাসবিহারী বসুকে তার নামটি দিয়েছিলেন পিতামহ কালীচরণ বসু। গর্ভাবতী অবস্থায় তার মা ভুবনেশ্বরী দেবী কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তাই সুবলদহ গ্রামের পশ্চিম পাড়াতে অবস্থিত বিষ্ণুমন্দির বা কৃষ্ণ মন্দিরে তার নামে প্রার্থনা(মানত) করা হয়েছিল যাতে তিনি(ভুবনেশ্বরীদেবী) সুস্থভাবে সন্তানের জন্ম দেন, তাই পরবর্তীকালে তার নাতির নাম রাখেন, কৃষ্ণের অপর নামে। রাসবিহারী হল কৃষ্ণের অপর নাম। রাসবিহারী বসু এবং তার ভগিনী সুশীলা সরকারের শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছিল সুবলদহ গ্রামে। তারা সুবলদহ গ্রামে বিধুমুখী দিদিমণির ঘরে বসবাস করতেন। বিধুমুখী ছিলেন একজন বাল্যবিধবা, তিনি ছিলেন কালিচরণ বসুর ভ্রাতৃবধূ। রাসবিহারী বসুর শৈশবের পড়াশোনা সুবলদহের গ্রাম্য পাঠশালায় (বর্তমানে সুবলদহ রাসবিহারী বসু প্রাথমিক বিদ্যালয়) ঠাকুরদার সহচর্যে সম্পন্ন হয়েছিল। রাসবিহারী বসু শৈশবে লাঠিখেলা শিখেছিলেন সুবলদহ গ্রামের শুরিপুকুর ডাঙায়। তিনি সুবলদহ গ্রামে তার ঠাকুরদা কালিচরণ বসু এবং তার শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গল্প শুনে তার বিপ্লবী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রামবাসীদের নয়নের মণি। শোনা যায় যে, তিনি ইংরেজদের মূর্তি তৈরি করতেন এবং লাঠি খেলার কৌশলে সেই মূর্তিগুলোকে ভেঙে ফেলতেন। তিনি ডাংগুলি খেলতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি শৈশবে সুবলদহ গ্রামে ১২ থেকে ১৪ বছর ছিলেন, এছাড়াও তিনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে প্রয়োজনে সুবলদহ গ্রামে এসে আত্মগোপন করতেন। পিতা বিনোদবিহারী বসুর কর্মক্ষেত্র ছিল হিমাচল প্রদেশের সিমলায়। তিনি সুবলদহ পাঠশালা, মর্টন স্কুল ও ডুপ্লে কলেজের ছাত্র ছিলেন। জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আলিপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে অভিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি দেরাদুনে যান এবং সেখানে বন্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেড ক্লার্ক হিসেবে কাজে যোগদান করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।বিপ্লবী হিসেবে তার অন্যতম কৃতিত্ব বড়লাট হার্ডিঞ্জের ওপর প্রাণঘাতী হামলা। বিপ্লবী কিশোর বসন্ত বিশ্বাস তার নির্দেশে ও পরিকল্পনায় দিল্লিতে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বোমা ছোড়েন হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে। এই ঘটনায় পুলিশ তাকে কখনোই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সমগ্র ভারতব্যাপী সশস্ত্র সেনা ও গণ অভ্যুত্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাসবিহারী বসু। জনৈক বিশ্বাসঘাতকের জন্যে সেই কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যায়। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় তিনি ব্রিটিশ সরকারের সন্দেহভাজন হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগে বাধ্য হন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বন্যা বিধ্বস্ত সুবলদহ গ্রামে ফিরে আসেন এবং ত্রাণ বিলির উদ্যোগ নেন।[৯] ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ মে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে জাপানি জাহাজ ‘সানুকি-মারু’ সহযোগে তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। তার আগে নিজেই পাসপোর্ট অফিস থেকে রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়, রাজা প্রিয়নাথ ঠাকুর ছদ্মনামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
তারই তৎপরতায় জাপানি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন যোগায়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৮-২৯ মার্চ টোকিওতে তার ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ বা ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সেই সম্মেলনে একটি সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুন ব্যাংককে তিনি লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন। সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসু কে লীগে যোগদান ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেসব ভারতীয় যুদ্ধবন্দি মালয় ও বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের হাতে আটক হয়েছিল তাদেরকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগে ও লীগের সশস্ত্র শাখা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জাপানি সেনাকর্তৃপক্ষের একটি পদক্ষেপে তার প্রকৃত ক্ষমতায় উত্তরণ ও সাফল্য ব্যাহত হয়। তার সেনাপতি মোহন সিংকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার সাংগঠনিক কাঠামোটি থেকে যায়। রাসবিহারী বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। জাপানে সোমা নামে এক পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। ওই পরিবারেরই তোশিকা সোমাকে তিনি বিবাহ করেন। রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে। জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানে রাসবিহারী বসুর মৃত্যু হয়।

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৬ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।।

আজ ২৬ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭০৩ – স্যামুয়েল, ইংরেজ দিনলিপিকার ।
১৭৯৯ – আলেকজান্ডার পুশকিন, রাশিয়ার তথা রুশ সাহিত্যের অমর কবি ও ঔপন্যাসিক।
১৮৭৭ – খ্যাতনাম্নী মার্কিন নৃত্যশিল্পী ইসাডোরা ডানকান।
১৯০০ – চেক লেখক ভিতেস্লা ইসাডোরা ডানকান

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৩৯ – মোগল সম্রাট মহম্মদ শাহ ও ইরানের নাদির শাহের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের ফলে আফগানিস্তান ভারত থেকে পৃথক হয়ে যায়।
১৮০৫ – নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইতালির রাজা হিসাবে রাজ্যাভিষিক্ত হন।
১৮৬৫ – আমেরিকার গৃহযুদ্ধের অবসান।
১৮৭০ – দিনেসিসিলির এটনা আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু।
১৮৮১ – ফ্রান্স তিউনিসিয়াকে করায়ত্ত করে এবং নিজ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।
১৮৯৬ – রাশিয়ার শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস অভিষিক্ত হন।
১৮৯৭ – আইরিশ লেখক ব্রাম স্টকারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ড্রাকুলা’ প্রকাশিত হয়।
১৯১৩ – এমিলি ডানকান ব্রিটেনের প্রথম মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত।
১৯১৮ – জার্জিয়া ও আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৯৪৮ – দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে।
১৯৬৯ – অ্যাপোলো-১০ নভোযানটি আট দিনের সফল ভ্রমণ শেষ করে পৃথিবীতে অবতরণ করে।
১৯৭২ – যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন অ্যান্টি ব্যালস্টিক মিসাইল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হাইতি।
১৯৮১ – পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
১৯৮২ – ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল।
১৯৮৬ – বাংলাদেশের বরিশালে লঞ্চডুবিতে ২৩০ জনের মৃত্যু।
১৯৯১ – থাইল্যান্ডে অস্ট্রীয় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৩ জনের মৃত্যু।
১৯৯৪ – নোবেল পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিক আলেক্সান্ডার সোলজিনেৎসিন ২০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে নিজ মাতৃভূমি রাশিয়াতে প্রত্যাবর্তন।
১৯৯৪ – বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম দুটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৯৯ – কাশ্মীরের কারগিল সেক্টরে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু।
২০১৮ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি দেয় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

৭৩৫ – বিড, ইংরেজ বেনেডিক্টিয়ান সন্ন্যাসী।

১৯০৮ – (ক)  বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নীলমণি ন্যায়ালঙ্কার।

(খ) মির্জা গোলাম আহমদ।

১৯৭১ – বিমল মুখোপাধ্যায়, মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের কিংবদন্তি ফুটবলার।
১৯৭২ – প্রখ্যাত বাঙালি অভিনেত্রী রাজলক্ষ্মী দেবী।

১৯৭৬ – মার্টিন হাইডেগার, জার্মান দার্শনিক।

১৯৯৯- শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি কবি কথা-সাহিত্যিক ও নাট্যকার ।
২০০৪ – নিকলাই চের্নিখ, রুশ বংশোদ্ভূত সোভিয়েত জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
২০২১ – প্রখ্যাত বাঙালি প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানী, অভিনেতা বিকাশ রায়ের পুত্র সুমিত রায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This