Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

এক সংগ্রামী মায়ের সংগ্রামের কাহিনী।।।।

এমন মায়ের সংগ্রাম আপনারা আগে শোনেননি। নিজের নয় বছরের মেয়েকে ঝকঝকে একটা ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পেট্রোল পাম্পে কাজ করছেন ২৭ বছরের মা। উপলক্ষ একটাই, মেয়ের শিক্ষা। বাঁকুড়ার তীব্র দাবদাহ, গনগনে আগুন ছুটেছে বেশ কিছুদিন। এবার পালা বৃষ্টির। তবে গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে প্রতিদিন বাসে করে বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দনগর পেট্রোল পাম্পে কাজ করতে আসছেন টুম্পা সিংহ।

মাঝে মাঝে এই পেট্রোল পাম্পেই মেয়েকে নিয়ে আসেন টুম্পা। এখানেই বসে পড়াশোনা করে টুম্পার কন্যা আয়ুশী সিংহ। কেন এই কাজ করছেন টুম্পা? একজন নারী হয়েও পেট্রোল পাম্পের চাকরি করছেন বলে কি সমাজের কাছে কোনও কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে? উত্তরে টুম্পা বলেন, “বাড়িতে বাবা মা রয়েছেন, আয়ুশীকে বড় করে তোলাই আমার লক্ষ। কষ্ট হলেও আমাকে কাজ করতে হবে। সবাই মোটামুটি মুখ চেনা হয়ে গেছে, মানুষ আমার কাজকে ছোট না করে বরঞ্চ উৎসাহ যোগায়।”
পেট্রোল পাম্প এর ওনার নিবেদিতা বিশ্বাস জানান, টুম্পার বাড়িতে তার বাবার দোকান থেকে যা আয় হয় তাতে খাবার খরচই ভাল ভাবে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করার জন্য টুম্পা কাজের সন্ধানে আসেন এই পেট্রোল পাম্পে। তার পর থেকেই কাজ শুরু করেছেন টুম্পা। পেট্রোল পাম্পের ওনার নিবেদিতা বিশ্বাস আরও বলেন যে, “আমি এই ফাইটিং স্পিরিটটাকে কুর্নিশ জানাই।”
একজন মা পেট্রোল পাম্পে কাজ করছেন। সেই ছবি যেন আরও বেশি করে অনুপ্রেরণা যোগায় মহিলাদের। প্রায় নিয়মিত গোবিন্দনগর এলাকার এই পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজের নার্সিং স্টাফ নিবেদিতা খাঁ। তিনি বলেন, “এত প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন যুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন এই দিদি। এই লড়াই সত্যিই অপ্রিসিয়েবেল।” এছাড়াও পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা ভানু বিশ্বাস বলেন, “পৃথিবীতে এর উদাহরণ বিরল। একজন মা তার সন্তানকে শিক্ষিত করতে যে কাজ করছে এরকম আর কোথাও হয়নি।”
বাঁকুড়ার টুম্পা সিংহ যেন সেই সব মেয়েরই জলন্ত উদাহরণ।

।।আবদুল হাই, বাঁকুড়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায়।।।।।

“দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম, হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম ।”
সুকান্ত ভট্টাচার্য

প্রথমেই বলে রাখি, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয় গণমানুষের কবি । অসহায়-নিপীড়িত, নির্যাতিত, সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তাঁর কবিতার মূল বিষয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী-মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরূদ্ধে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কলম ছিল সক্রিয় ।

তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরূদ্ধে অভিব্যক্তি । তিনি চেষ্টা করেছেন কবিতার মাধ্যমে শ্রেণী বৈষম্য দূর করতে । সর্বক্ষণ তাঁর শ্যেন দৃষ্টি ছিল মানবতার জয়ের দিকে । অসুস্থতা এমনকি অর্থাভাব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি । তাঁর মানবিক বোধ অবিস্মরণীয় । মানুষের কল্যাণ করা ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান । মানবিক চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ হয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন । সেই কারণে আজও আমাদের কাছে তিনি নমস্য কবি ।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৫আগস্ট, ১৯২৬ এবং মৃত্যু ১৩ মে, ১৯৪৭ । তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ঠিক দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে । বাংলা সাহিত্যের নিরিখে তিনি ছিলেন তরুন কবি । তাঁর কবিতার পটভূমি মূলত মার্কসবাদী ভাবধারার এবং প্রগতিশীল চেতনার প্রেক্ষাপটে ।
বাবা ছিলেন নিবারন ভট্টাচার্য এবং মা সুনীতি দেবী । কালীঘাটের মহিম হালদার স্ট্রিটে মাতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম । তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল অবিভক্ত ফরিদপুর জেলার অর্থাৎ বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার, উনশিয়া গ্রামে । তিনি স্কুলে পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন । আর তা ছাড়া বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কারণে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটে । এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সুকান্তের বাল্যবন্ধু ছিলেন কবি অরুণাচল বসু । তাঁর জীবনে বাল্যবন্ধু অরুণাচল বসুর প্রভাব অবর্ণনীয় । অরুণাচল বসুর মা কবি সরলা বসু । তিনি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে পুত্রস্নেহে ভালবাসতেন । সুকান্ত ছেলেবেলায় মাতৃহারা হলেও সরলা বসু তাঁকে সেই অভাব কিছুটা পূরণ করে দিয়েছিলেন । কবির জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছিল কলকাতার বেলেঘাটার ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেনের বাড়িতে । সেই বাড়িটি এখনও অক্ষত আছে । শোনা যায়, পাশের বাড়িটিতে এখনও বসবাস করেন সুকান্তের একমাত্র জীবিত ভাই বিভাস ভট্টাচার্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরূদ্ধে কলম ধরেন । ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন । সেই বছর আকাল নামক একটি সংকলন গ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন । স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা “সঞ্চয়ে” একটি ছোট্ট হাসির গল্প দিয়ে প্রথম আত্মপ্রকাশ । তারপর কয়েকদিন পরে তাঁর লেখা বিবেকান্দের জীবনী প্রথম ছাপার মুখ দেখে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে । মাত্র এগারো বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতিনাট্য রচনা করেন । এটি পরে ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয় । এখানে জানিয়ে রাখি, পাঠশালাতে পড়ার সময়ে ‘ধ্রুব’ নাটকের নাম ভূমিকায়‍ অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য । সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন । সেই সময় হাতে লেখা দেওয়াল পত্রিকার প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মতো । বেশীর ভাগ দেওয়াল পত্রিকা স্টেশনের প্লাটফর্মে সাটানো থাকত, যাতে বেশী মানুষ পড়তে পারেন । অরুণাচল বসু তাঁর আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন ।
মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন । সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ” দৈনিক স্বাধীনতার” (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন । সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের বিরূদ্ধে প্রতিবাদি কন্ঠস্বর ফুটে ওঠে । গণমানুষের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর প্রত্যেকটি কবিতায় । তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি । পরবর্তী কালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয় ।
পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় মারা যান । মাত্র একুশ বৎসর বয়সে প্রতিভাধর কবির দেহাবসান ঘটে । স্বল্প বয়সে কবির দেহাবসান ঘটলেও সামান্য কয়েকবছরে অত্যাশ্চর্য কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়ে গেছেন যেটা আজও আমাদের মধ্যে অমলিন । (তথ্যসূত্র: সংগৃহীত)
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রয়াণ দিবসে আমার শতকোটি প্রণাম ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৩ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১৩ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১২২১ – আলেক্সান্দ্‌র নেভ্‌স্কি, কিয়েভের যুবরাজ।  .
১২৬৫ – ইতালির কবি দান্তে আলিঘিয়েরি।

১৪৮৩ – জার্মান ধর্মীয় নেতা বা সংস্কারক মার্টিন লুথার।
১৭০৭ – ক্যারোলাস লিনিয়াস, একজন চিকিৎসক ও প্রাণীবিজ্ঞানী।
১৮৫৭ – রোনাল্ড রস, একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্কটিশ চিকিৎসক ছিলেন।
১৯০৫ – ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ, ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ।
১৯০৭ – ড্যাফনি দ্যু মারিয়েই, ইংরেজ লেখিকা এবং নাট্যকার।
১৯১৮ – বালাসরস্বতী, ভারতীয় বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী।
১৯৩৮ – জিউলিয়ানো আমাতো, ইতালীয় রাজনীতিবিদ।
১৯৩৯ – হার্ভি কাইটেল, আমেরিকান অভিনেতা।
১৯৫১ – ছড়াকার আবু সালেহ।
১৯৬৬ – নিয়াজ মোরশেদ, দাবায় উপমহাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার একজন বাংলাদেশী দাবাড়ু।
১৯৬৭ – ম্যালানি থর্নটন, মার্কিন পপ গায়িকা যিনি জার্মানিতে খ্যাতি অর্জন করেন এবং ইউরো ড্যান্স গ্রুপ লা বাউচির একজন সদস্য।
১৯৭৭ – সামান্থা মর্টন, ইংরেজ অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক।
১৯৭৮ – নুয়ান জয়সা, কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৮১ – সানি লিওন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় এবং মার্কিন অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী, মডেল এবং প্রাক্তন পর্নোতারকা।
১৯৮৬ – লিনা ডানাম, মার্কিন অভিনেত্রী, লেখিকা, প্রযোজক ও পরিচালক।
১৯৮৬ – রবার্ট প্যাটিনসন, ইংরেজ অভিনেতা।
১৯৮৭ – আন্তোনিও আদান, স্প্যানিশ ফুটবলার।
১৯৯৩ – রোমেলু লুকাকু, বেলজিয়ামের ফুটবলার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬০৭ – ভার্জিনিয়ার জেমস টাউনে আমেরিকান ভূখণ্ডে ইংরেজদের প্রথম স্থায়ী বসতি স্থাপন।
১৬৩৮ – সম্রাট শাহজাহানের তত্ত্বাবধায়নে দিল্লির লাল কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
১৮০৪ – আমেরিকা আক্রমণ থেকে দিরানা শহর পুনরুদ্ধার করার জন্য ত্রিপোলি থেকে ইউসুফ কেরামানলি সৈন্য পাঠান।
১৮৩০ – স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইকুয়েডরের প্রতিষ্ঠা লাভ।
১৮৬১ – পাকিস্তানে (ব্রিটিশ-ভারতের অংশ ছিল) প্রথম রেলপথের উদ্বোধন।
১৯৬৮ – প্যারিসে ভিয়েতনাম শান্তি আলোচনা শুরু।
১৮০৯ – অস্ট্রিয়ার সেনাদলকে পরাভূত করে নেপোলিয়ানের ভিয়েনা দখল।
১৮৪৬ – যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৬২ – ডা. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
১৯৬৭ – ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ড. জাকির হোসেন।
১৯৬৯ – মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বর্ণবাদ দাঙ্গায় শতাধিক নিহত।
১৯৯১ – নেপালে প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৫ – প্রথম নারী হিসেবে ব্রিটিশ বংশদ্ভূত এলিসন অক্সিজেন ও শেরপা ছাড়াই এভারেস্ট জয় করেন।
২০০০ – ভারতের লারা দত্তের বিশ্বসুন্দরী শিরোপা লাভ

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৩৬ – ভারততত্ত্ববিদ স্যার চার্লস উইলকিন্স।
১৮৮৭ – বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং প্রবন্ধকার রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৩৮ – শার্ল এদুয়ার গিয়্যোম, ফরাসি-সুইজারল্যান্ডীয় পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৪৭ – সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল চেতনার কিশোর কবি।

১৯৬১ – গ্যারি কুপার, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৬৩ – সুকুমার সেন,ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য।
১৯৭৪ – বাংলাদেশে বীমা শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ খুদা বকশ।
১৯৯৭ – সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক বিপ্লব দাশ।
১৯৯৯ – আব্দুল আজিজ ইবনে বায, সৌদি আরবের বিখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত এবং সালাফি মতাদর্শের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি।
২০০১ – আর.কে.নারায়ণ প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক।
২০০৫ – উৎপলা সেন, প্রখ্যাত বাঙালি গায়িকা ।
২০১১ – বাদল সরকার,আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি নাট্যব্যক্তিত্ব।
২০১৯ – ডরিস ডে, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন হুগলীর চন্দননগর শহরের কয়েকটি দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান।।।।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।।

তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত চন্দননগর। এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ রাখতে বাধ্য।চন্দননগর , এটির পূর্ব নাম চন্দেরনাগর এবং ফরাসি নাম চন্দ্রনাগর দ্বারাও পরিচিতভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার একটি শহর। এটি চন্দননগর মহকুমার সদর দফতর এবং এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) দ্বারা আচ্ছাদিত এলাকার একটি অংশ। হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই শহরটি ফরাসি ভারতের পাঁচটি জনবসতির মধ্যে একটি ছিল । ঔপনিবেশিক বাংলোগুলিতে ইন্দো-ফরাসি স্থাপত্য দেখা যায়, যার বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।।
এই নিবন্ধে আপনি চন্দননগরের নিম্নলিখিত তিনটি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন—
(ক) চন্দননগর স্ট্র্যান্ড।
(খ) চন্দননগর মিউজিয়াম।
(খ) পাতাল বাড়ি।
আসুন এই স্থানগুলির প্রতিটি বিস্তারিতভাবে দেখি…

(ক) চন্দননগর স্ট্র্যান্ড—–
চন্দননগর স্ট্র্যান্ড হল চন্দন নগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সুন্দর ভ্রমণের পথ। চন্দননগর একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও অনেক উন্নত। এই দৌড় ঝাপ ভরা জীবনে একবেলার ছুটি কাটানোর জন্য চলে আসুন চন্দননগর স্ট্যান্ড ঘাটে। পরিবার পরিজনের সঙ্গে বিকেলের আমেজ উপভোগ করার একটি আদর্শ জায়গা এটি।সুন্দর সারির গাছ এবং আলো দ্বারা সারিবদ্ধ দর্শনীয় গঙ্গা নদী, স্ট্র্যান্ডের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্র। সন্ধ্যার সময় পরিবেশটি শান্তিপূর্ণ থাকে, কারণ চারিদিক আলোকিত হয় এবং হালকা বাতাস বয়ে যায় যা জায়গাটিকে আরও ঐশ্বরিক করে তোলে।চন্দননগর স্ট্র্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে সুন্দর অলঙ্কৃত নদীপথ হিসাবে স্বীকৃত। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকায় অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে।হাওড়া থেকে চন্দননগর যাওয়ার যে কোনো ট্রেনে উঠতে হবে। নামতে হবে চন্দননগর স্টেশনে। স্টেশন থেকে অটো অথবা টোটোর মাধ্যমে আপনি পৌঁছাতে পারেন এই ঘাটে। উনবিংশ শতকের চন্দননগরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী দুর্গাচরণ রক্ষিত। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি ফ্রান্সের ‘লিজিয়ঁ দ্য অনার’ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন । তাঁর নামেই এই ফলক । তাই একদিনের ছুটি কাটানোর জন্য বেশি দেরি না করে চলে আসুন চন্দননগর স্ট্যান্ড ঘাটে।

(খ) চন্দননগর মিউজিয়াম–
হুগলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৭ কিমি দূরে চন্দননগর মিউজিয়াম হল পশ্চিমবঙ্গের হুগলির চন্দননগর শহরতলিতে অবস্থিত একটি পুরাতন জাদুঘর। ডুপ্লেক্স প্যালেস নামেও পরিচিত, এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম যাদুঘরগুলির মধ্যে একটি এবং হুগলিতে দেখার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি।
চন্দননগর জাদুঘর বা ইনস্টিটিউট ডি চন্দননগর ডুপ্লেক্স হাউসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চন্দননগর প্রদেশের ফরাসি গভর্নরের পূর্ববর্তী সরকারি বাসভবন। ১৯৫১ সালে চন্দননগরের বন্ধের চুক্তির অনুসরণে, ১৯৫২ সালে ভারত সরকার বিদেশ মন্ত্রকের অধীনে ‘মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি’ নামে একটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। এটি ২৫০ বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে এবং উভয় দেশের যৌথ ঐতিহ্যের প্রতীক।
জাদুঘরটি প্রাচীনকালের উপঢৌকন, হরিহর সেট, ‘ফ্রি সিটি অফ চন্দননগর’-এর প্রথম রাষ্ট্রপতি, একজন সমাজ সংস্কারক এবং জনহিতৈষী-এর উপহার থেকে একটি মূল সংগ্রহ নিয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি ১৯৩৪ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক শেভালিয়ার দে লা লিজিওন ডি’অনারে পুরস্কৃত হন। এটি বিরল ফরাসি প্রাচীন জিনিসের একটি সংগ্রহের গর্ব করে, যেমন অ্যাংলো-ফরাসি যুদ্ধে ব্যবহৃত কামান (জনপ্রিয়ভাবে কর্নাটিক যুদ্ধ নামে পরিচিত), ফরাসি গভর্নর-জেনারেলদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং কাঠের তৈরি জিনিসপত্র, যা বিশ্বের অন্য যেকোন স্থানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ডুপ্লেক্সের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যেমন তার একটি মার্বেল আবক্ষ, এবং চন্দননগরের ফরাসি ঔপনিবেশিক ও স্থানীয় ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ।
এছাড়াও, যাদুঘরটি প্রবেশদ্বারের ঠিক পাশে অবস্থিত মারিয়ানের (ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীক) একটি সুন্দর বাগান এবং একটি মূর্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। এছাড়াও, জাদুঘর এবং ইনস্টিটিউট নিয়মিত ফরাসি ক্লাস অফার করে।
পশ্চিমবঙ্গের সেরা এবং প্রাচীনতম যাদুঘরগুলির মধ্যে একটি হল চন্দননগর মিউজিয়াম। অতএব, আপনি যদি ফরাসি ঔপনিবেশিক নিয়মের ইতিহাসে আগ্রহী হন তবে এই যাদুঘরটি দেখার মতো স্থান।

(গ) পাতাল বাড়ি—
পাতাল বাড়ি চন্দননগরের স্থাপত্য এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের একটি অত্যাশ্চর্য চিত্র। ভবনটি সেই আগের দিনের মানুষের স্থাপত্যের জ্ঞান এবং নান্দনিক বোধের অগ্রগতির আরেকটি সুন্দর উদাহরণ। এর নিচতলা গঙ্গা নদীতে নিমজ্জিত। মহান সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর চন্দননগর সফরের সময় এই বাড়িতেই থাকতেন।
নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায়ই জায়গাটি পরিদর্শন করেন এবং ভবনটির অনেক প্রশংসা করেন। তিনি অনুভব করেছিলেন যে স্থানটি তাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে প্রসারিত করেছে। তিনি তাঁর বহু বিখ্যাত উপন্যাসে পাতাল-বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। বাড়িটির মালিক ছিল পাশের বাঁশবেড়িয়ার শাসক পরিবারের। এই রহস্যময় সুন্দর জায়গাটি চন্দননগরের একটি প্রাচীন মনোমুগ্ধকর স্থান যা আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১২ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১২ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) আন্তর্জাতিক ধাত্রী দিবস।
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৪৯৬ – সুইডেনের প্রথম গুস্তাভ, ১৫২৩ সাল থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত সুইডেনের রাজা ছিলেন।

১৮২০ – ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত, লেখক ও পরিসংখ্যানবিদ।  .

১৮৫৫ – প্রমথনাথ বসু,বাঙালি ভুতত্ববিদ, বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী।

১৮৬৩ – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বিখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক ও বাংলা ছাপাখানার অগ্রপথিক।
১৮৬৭ – হিউ ট্রাম্বল, অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক ছিলেন।।

১৮৯৫ – উইলিয়াম ফ্রান্সিস জিওক, মার্কিন রসায়নবিদ।

১৯০৭ – ক্যাথরিন হেপবার্ন, মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯১০ – জেমস ডাডলি, আমেরিকান বেসবল খেলোয়াড় এবং পেশাদার রেসলিং ম্যানেজার ও নির্বাহী।
১৯১০ – ডরোথি মেরি হজকিন, ব্রিটিশ রসায়নবিজ্ঞানী।

১৯১৩ – ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
১৯২৪ – অ্যান্টনি হিউসিস, নোবেলজয়ী (১৯৭৪) ব্রিটিশ মহাকাশ বিজ্ঞানী।
১৯২৯ – স্যাম নজুমা, নামিবীয় বিপ্লবী, বর্ণবাদ বিরোধী কর্মী এবং রাজনীতিবিদ।
১৯৩৭ – জর্জ কার্লিন, আমেরিকান কৌতুক অভিনেতা, অভিনেতা এবং লেখক। (মৃ. ২০০৮)
১৯৪১ – আহমদুল্লাহ, আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান মুফতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর।
১৯৭৭ – মরিয়ম মির্জাখানি, ইরানি গণিতবিদ। (মৃ. ২০১৭)
১৯৭৯ – মিলা ইসলাম, বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৮০ – ঋষি সুনক, ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবরে।
১৯৮১ – রামি মালেক, আমেরিকান অভিনেতা।
১৯৮৬ – এমিলি ভ্যানক্যাম্প, কানাডিয়ান অভিনেত্রী।
১৯৮৭ – কিরণ পোলার্ড, ত্রিনিদাদীয় ক্রিকেটার।
১৯৮৮ – মার্সেলো ভিয়েরা, ব্রাজিলীয় ফুটবলার।
১৯৯৭ – ওদেয়া রাশ, ইস্রায়েলি অভিনেত্রী।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬৬৬ – মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শিবাজি আগ্রায় আসেন।
১৮৭৭ – ভারতীয় মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডানের প্রতিষ্ঠা হয়।
১৯১৫ – ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম ব্যক্তিত্ব রাসবিহারী বসু বৃটিশের শ্যেন চক্ষু ফাঁকি দিয়ে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর হতে জাপানি জাহাজ ‘সানুকি-মারু’ সহযোগে তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন।
১৯৪১ – আডলফ হিটলার ইরাকের স্বাধীনতা সংগ্রামী রশীদ আলি গিলানির জন্য দুইটি বোমারু বিমান প্রেরণ করেছিলেন।
১৯৪৯ – পশ্চিম বার্লিনের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন আরোপিত অবরোধের অবসান ঘটে ।
১৯৫৫ – সিলেটের হরিপুরে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
১৯৬৫ – বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে ১৭ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়া।
১৯৯৪ – আজারাইজান প্রজাতন্ত্র এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বিরতি হয়।
২০১৮ – বাংলাদেশ সময় রাত ২:১৪ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করা হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭০০ – জন ড্রাইডেন, ইংরেজ লেখক, কবি ও নাট্যকার ছিলেন।
১৮৪৫ – আউগুস্ট ভিলহেল্ম ফন শ্লেগেল, জার্মান কবি, অনুবাদক ও সমালোচক।

১৯৪০ – বিশিষ্ট কর্মব্রতী, সাহিত্যানুরাগী ও রবীন্দ্রনাথ পরিকল্পিত শ্রীনিকেতনের মুখ্য সংগঠক কালীমোহন ঘোষ ।
১৯৪১ – দীনেশরঞ্জন দাশ, বাঙালি লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ।
১৯৫৭ – এরিক ভন স্ট্রোহেইম, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা।
১৯৭১ – সাদত আলী আখন্দ, প্রবন্ধকার, সাহিত্যিক।
২০০১ – ডিডি, ব্রাজিলীয় ফুটবলার।

২০০৫ – মার্টিন লিংগস, যার ইসলামিক নাম আবু বক্কর সিরাজুদ্দিন, তিনি একজন পশ্চিমা লেখক, শিক্ষাবিদ ও ফ্রিটজফ শুয়ানের শিষ্য ও শেক্সপিয়র বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন।
২০১৫ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য, ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
২০১৯ – হায়াৎ সাইফ, বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্য সমালোচক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১১ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১১ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

১৯১৮ – রিচার্ড ফাইনম্যান, মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী।
১৯২১ – অজিত চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট বাঙালি হাস্যকৌতুক অভিনেতা।
১৯২৪ – অ্যান্টনি হিউইশ, ব্রিটিশ রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী।
১৯৩০ – এড্সগার ডাইকস্ট্রা, ওলন্দাজ কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
১৯৪১ – ইয়ান রেডপাথ, অস্ট্রলীয় ক্রিকেটার।
১৯৪৪ – জন বেনো, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।
১৯৬৭ – সু গার্ডনার, উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক।
১৯৭৩ – জেমস হ্যাভেন, মার্কিন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক।
১৯৭৭ – ববি রুড, কানাডিয়ান পেশাদার কুস্তিগির।
১৯৭৮ – লিতিসিয়া কাস্তা, ফরাসি মডেল এবং অভিনেত্রী।
১৯৮৪ – আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, স্পেনীয় ফুটবলার।
১৯৮৬ – আবু দিয়াবি, ফরাসি ফুটবলার।
১৯৯২ – থিবো কোর্তোয়া, বেলজিয়ামের ফুটবলার।
১৯৯২ – পাবলো সারাবিয়া, স্প্যানিশ ফুটবলার।
১৯৯৯ – কেইটলিন দিয়াস, মার্কিন অভিনেত্রী এবং কন্ঠশিল্পী।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৪৫ – অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও হল্যান্ডের মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফরাসি বাহিনী জয়যুক্ত হয়।
১৮৫৭ – সিপাহী বিদ্রোহ: সৈনিকরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে দিল্লি অধিকার করে নেয়।
১৮৬৭ – লুক্সেমবার্গ স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৯৩৫ – জার্মানীর বার্লিন শহরে প্রথম টেলিভিশন প্রেরণ যন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত পৃথিবীতে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়।
১৯৪০ – জার্মান বাহিনীর আগ্রাসনের শিকার বেলজিয়ামকে রক্ষা করার জন্য বৃটিশ ও ফরাসী সেনাদের যৌথ বাহিনী বেলজিয়ামে প্রবেশ করে।
১৯৭২ – (ক)  কলকাতায় রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
(খ) বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মেক্সিকো।
১৯৮৫ – কুরআন দিবস: কুরআনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে আট জন নিহত।
১৯৯৪ – ফিলিস্তিনি পুলিশ গাজায় এলে ২৭ বছরের ইজরায়েলি দখলদারির অবসান ঘটে।
১৯৯৭ – দাবাখেলুড়ে কম্পিউটার ডীপ ব্লু প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ী দাবাড়ু হিসেবে গ্যারি কাসপারভকে পরাজিত করে।
১৯৯৮ – ভারত সরকার দেশটির মরুরাজ্য রাজস্থানের পোখরানে ভূগর্ভে ৩টি পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়।
২০১৬ – বাংলদেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০১৮ – বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ ১১ মে ২০১৮ ইডিটি, বাংলাদেশ মান সময় ১২ মে ভোর ০২:১৪ তে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করে।
২০১৮ – আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। তবে প্রথম দিন মেঘে ভেসে যাওয়ায় কোনো খেলা এদিন গড়ায়নি।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১৫ – ভাই বালমুকুন্দ, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।

১৯১৫ – বসন্তকুমার বিশ্বাস, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।
১৯১৬ – কার্ল শোয়ার্জশিল্ড, জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯২৭ – হুয়ান গ্রিস, স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর।
১৯৫৫ – গিলবার্ট জেসপ, ইংলিশ ক্রিকেটার।
১৯৫৯ – বিংশ শতকের প্রথমার্ধের বিশিষ্ট কবি বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়।
১৯৬৩ – হারবার্ট এস. গ্যাসার, মার্কিন শারীরতত্ত্ববিদ।

১৯৬৫ – মাখনলাল সেন অনুশীলন সমিতির সদস্য, বিপ্লবী, সাংবাদিক ও সম্পাদক।
১৯৮১ – বব মার্লে, জামাইকান রেগে শিল্পী, গীটার বাদক ও গীতিকার।

১৯৮৩ – প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু ধনঞ্জয়দাস কাঠিয়াবাবা।
১৯৮৫ – কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি শিক্ষাবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ ও খ্রিষ্টধর্মপ্রচারক।
১৯৮৮ – কিম ফিলবি, ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর জন্য ডাবল এজেন্ট।
১৯৯৯ – একবাল আহমাদ, পাকিস্তানি লেখক, সাংবাদিক, ও যুদ্ধবিরোধী কর্মী।
২০০১ – ডগলাস অ্যাডামস, ইংরেজ লেখক, চিত্রনাট্যকার, প্রবন্ধকার, কৌতুকপূর্ণ কাহিনী-রচয়িতা, ব্যঙ্গরচয়িতা এবং নাট্যকার।
২০০৩ – আর্নি তোশ্যাক, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
২০০৪ – আল্ফ ভ্যালেন্টাইন, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার।
২০১৬ -(ক)  টনি কোজিয়ার, বার্বাডীয় ক্রিকেট সাংবাদিক, লেখক ও রেডিও ধারাভাষ্যকার।
(ক) মতিউর রহমান নিজামী, বাংলদেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী।
২০২১ – ঈশা মহম্মদ, খ্যাতিমান ভারতীয় বাঙালি চিত্রকর ও শিল্পী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১০ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১০ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৬৬১ – জাহানদার শাহ, মুঘল সম্রাট।
১৭৬০ – ক্লদ জোসেফ রুজে দ্য লিল, ফরাসি] জাতীয় সংগীতের লেখক।
১৮৮২ – গুরুসদয় দত্ত, লোকসাহিত্য গবেষক ও বাংলার ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
১৮৯৯ – ফ্রেড অ্যাস্টেয়ার, মার্কিন নৃত্যশিল্পী, গায়ক, অভিনেতা, নৃত্য পরিচালক ও টেলিভিশন উপস্থাপক।  .
১৯০২ – ডেভিড ও.সেলৎসনিক, মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও স্টুডিও নির্বাহী।

১৯০৫ – পঙ্কজ কুমার মল্লিক, ভারতীয় বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা।

১৯০৮ – বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের পত্নী প্রমিলা দেবী।
১৯২৭ – নয়নতারা সায়গল, ভারতীয় লেখিকা ও ঔপন্যাসিক।
১৯৩০ – জর্জ এলউড স্মিথ, মার্কিন বিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী।

১৯৫৫ – মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যান, আমেরিকান বীট্‌ল্‌স শিল্পী জন লেননের আততায়ী।
১৯৬০ – বোনো, আইরিশ গায়ক, গীতিকার, সুরকার, ভেঞ্চার পুঁজিবাদী, ব্যবসায়ী।
১৯৬০ – মারলিন অটি, বিখ্যাত স্লোভেনীয় প্রমিলা অ্যাথলেট।
১৯৬৬ – ডেভিড ম্যাকেন্‌জি, স্কটল্যান্ডীয় চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৯৬৯ – ডেনিস বের্গকাম্প, ওলন্দাজ ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৭২ – স্টুয়ার্ট কার্লাইল, জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার।
১৯৭৪ – সিল্‌ভ্যাঁ উইল্টর্ড, ফরাসি ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৮৩ – গুস্তাভ ফ্রীদোলিন, সুয়েডীয় রাজনীতিবিদ।

১৯৮৭ – তৌসিফ আহমেদ, একজন বাংলাদেশী সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৯৫ – শিহান মাদুশঙ্কা, শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৫০৩ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্যানে আইল্যান্ড ভ্রমণ করেন।
১৫২৬ – পানিপথের যুদ্ধ জয় করে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় প্রবেশ করেন।
১৬১২ – মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের সাথে মুমতাজ মহলের বিয়ে হয়।
১৭৭৩ – গ্রেট ব্রিটেনের সংসদে চা-আইন পাস হয়।
১৭৭৪ – লুইস ফ্রান্সের রাজা এবং মেরি অ্যাস্টোইলেট রানী হন।
১৮২৪ – লন্ডনে জাতীয় গ্যালারি জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
১৮৫৭ – ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী বিপ্লবের সূচনা হয়।
১৮৭১ – ফ্রান্সের দ্বিতীয় সম্রাট লুই নেপোলিয়ন বা তৃতীয় নেপোলিয়নের শোচনীয় পরাজয় ফ্র্যাংকফুট চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে।
১৮৭২ – ভিক্টোরিয়া উডহল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা, যিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৩৩ – বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নাৎসিরা পঁচিশ হাজার বই পুড়িয়ে দেয়।
১৯৪০ – জার্মানি নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়াম দখল করে নেয়।
১৯৪১ – ব্যাপক বোমা বর্ষণের ফলে লন্ডনের হাউস অব কমন্স ধ্বংস হয়।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মেক্সিকো।
১৯৯৪ – দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা-
১৮৪৯ – হোকুসাই, জাপানি চিত্রশিল্পী।

১৯৬২ – অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী।
১৯৭৭ – জোন ক্রফোর্ড, মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯৮৩ – জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী।

১৯৮৫ – প্রমথনাথ বিশী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক।
১৮৮৯ – সৌরীন্দ্র মিত্র, ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রগবেষক ও প্রাবন্ধিক।
১৯৯৯ – শেল সিলভারস্টেইন, মার্কিন সাহিত্যিক, যিনি কার্টুন, কবিতা ও শিশুতোষ বইয়ের জন্য বিখ্যাত।
২০০২ – কাইফি আজমি, ভারতীয় প্রথিতযশা উর্দু কবি, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।
২০০২ – রবি নিয়োগী, বাংলাদেশি বামপন্থী রাজনীতিবিদ।
২০০৪ – এরশাদ শিকদার, বাংলাদেশি অপরাধী ও সিরিয়াল কিলার।
২০১৩ – আবদুল মালেক চুন্নু, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়।
২০২০ – (ক)  হরিশঙ্কর বাসুদেবন, ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক।
(খ) আনোয়ারুল কবির তালুকদার, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
২০২২ – প্রখ্যাত ভারতীয় সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

উত্তরাখণ্ডে দেখার সেরা কিছু জায়গা।।।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।।

ঘুতাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই একটি দর্শণীয় স্থান উত্তরাখন্ডের আউলি।
মনে করা হয়, বিখ্যাত আদিগুরু শঙ্করাচার্য এখানে অষ্টম শতাব্দীতে এসেছিলেন। যোশীমঠ মন্দিরটি শুধুমাত্র তাঁর দ্বারা নির্মিত যা এখনও পর্যন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও, এটি স্থানীয় উপজাতিদের জন্য পরিচিত খাতাউলি যা মূলত একটি আধা যাযাবর উপজাতির নাম ভোটিয়া উপজাতি যা মঙ্গোলিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
আউলি, ভারতের উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত একটি হিল স্টেশন থেকে স্কি গন্তব্যস্থল, চারপাশে ওক গাছ, আপেল অর্কিড এবং পাইন গাছে ঘেরা। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ছাড়াও, এটি স্কিইং, ট্রেকিং, ক্যাম্পিং এবং আরও অনেক কিছুর মতো দুঃসাহসিক কার্যকলাপের আবাসস্থল।
আউলির উত্তরে, বদ্রীনাথ মন্দির রয়েছে যা হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থানগুলির মধ্যে একটি। আরেকটি আকর্ষণ হল ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স জাতীয় উদ্যান যা আলপাইন উদ্ভিদ এবং বন্যপ্রাণী তুষার চিতা এবং লাল শেয়ালের জন্য বিখ্যাত। পর্যটকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সাথে, আউলি পর্যটন ভারত সরকারের জন্য প্রচুর রাজস্ব যোগ করে।

আউলি যেখান থেকে ভারতের উত্তরাখণ্ডের নীলকণ্ট, মানা পর্বত, নন্দা দেবীর ‘ধবল শিখর’-এর সৌন্দর্যে নিজেকে বুঁদ করে রাখতে পারবেন। বরফ মোড়া পাহাড়ে রয়েছে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের হাতছানি। আউলি সাধারনত শীতকালে পর্যটকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় তার শীতকালীন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের কারনে। আউলি ভ্রমনের আরেকটি সেরা আকর্ষন এখানকার ক্যাবল কার। রোপওয়ে চেপে আউলি ভ্রমণ যেন একটা ম্যাজিক। ৫ নম্বর টাওয়ারের পর থেকে হিমালয় উন্মুক্ত হয়ে আছেন। আস্তে আস্তে টাওয়ার নম্বর যত বাড়বে ততই চোখের সামনে আসবেন নন্দাদেবী, দ্রোণাগিরি, ত্রিশূল, নন্দাকোট, পঞ্চচুল্লি। চোখের সামনে একের পর এক পিক উন্মুক্ত হতে দেখে আছন্ন হয়ে পড়েতে হয়, এ যেন স্বপ্নের থেকেও অনেক সুন্দর। সকালে-বিকালে অলস পায়ে পাহাড়ি পথের আঁকেবাঁকে ঘুরে বেড়ানো, ভোরবেলা লজের বারান্দা থেকে দিনের প্রথম আলোয় পাহারচুড়োর রংবদল আর সন্ধ্যায় সোনাঝরা সূর্যাস্তের মায়াবি আলোয় পাখিদের ঘরে ফেরা দেখতে দেখতে কেটে যাবে দুদিন।
GMVN লজের পাশেই একটা হনুমানজির মন্দির আছে। চেয়ার লিফট পয়েন্টের সামনের গেট দিয়ে গেলে কম সিঁড়ি ভাঙতে হয়। এখান থেকে নন্দাদেবি, ত্রিশুল, কামেট, দুনাগিরি, গৌরি আর হাতি পর্বত, নিলকান্ত পিকগুলো দেখা যায়।
আউলির রোপওয়ে হচ্ছে গিয়ে এশিয়ার দীর্ঘতম (৩.৭৫কিমি) তথা উচ্চতম আর গোটা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় উচ্চতম। এক থেকে দশ এই ১০টি টাওয়ার, আউলিতে যাঁরা থাকবেন তাঁরা ৮নম্বর টাওয়ারে নেমে যেতে পারেন, কারণ এখানেই আউলির রিসোর্ট। আরো দুটো টাওয়ার পেরোলে আউলির বিখ্যাত ‘গরসন বুগিয়াল’। এই অলি শীতকালে স্কিইং ও আইস স্কেটিংয়ের ideal destination. এমনকি এখানে স্কেটিং শেখানোর স্কুলও আছে। ভাড়া পাওয়া যায় শীতের পোশাক, স্কিইংয়ের সরঞ্জাম আর গাইড।

আউলিতে দেখার বিশেষ জায়গা—
আউলি অন্যতম উত্তরাখণ্ডে দেখার সেরা জায়গা. আপনি যদি আউলিতে ভ্রমণ করেন তবে আউলির এই পর্যটন স্থানগুলি পরীক্ষা করে দেখুন।
১) গর্সন বুগিয়াল
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০৫৬ উচ্চতায় অবস্থিত, এটি একটি মনোরম অবস্থান যেখানে কেউ নন্দা দেবী এবং ত্রিশূলের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এই সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে আউলি হিল স্টেশন থেকে এই গন্তব্যে মাত্র ৩ কিলোমিটার ট্রেকিং করতে হবে।
২) কোয়ানি বুগিয়াল
এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। গরসন বুগিয়াল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে, এই জায়গাটিকে ট্রেকারদের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এটি জোশিমঠ-আউলি-গুরসো বুগিয়াল-কোয়ানি বুগয়ালের ট্রেকিং রুটের মধ্যে আসে। এটি ক্যাম্প করার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা এবং প্রকৃতির কোলে উপভোগ করে।
৩) চেনাব হ্রদ
কম লোক সমাগমের সাক্ষী, সুন্দর জায়গাটি আপনাকে বিস্ময়ে রাখার জন্য দুর্দান্ত সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশের ঋণী। সবুজ গাছ-গাছালির মাঝে সুন্দর গ্রামগুলো পর্যটকদের জন্য লোভনীয়।
৪) ত্রিশূল চূড়া
সবচেয়ে জনপ্রিয় আউলি পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি হল ত্রিশুল পাইক যা পশ্চিম কুমায়ুনে তিনটি হিমালয় পর্বত শৃঙ্গ দ্বারা গঠিত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭১২০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
৫)জোশিমাঠ
যোশীমঠ অবিচ্ছেদ্য এক ভারতের তীর্থস্থান যেটি আদি গুরু শঙ্করাচার্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দির নিয়ে গর্বিত। যদিও এটি প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় গুরুত্বের, জোশিমঠ একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যও।
৬) ট্রেকিং
কুয়ানি বুগয়াল ট্রেকিংয়ের জন্য সেরা গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি। আপনি যখন কুয়ানি বুগিয়ালের দিকে ট্র্যাক করছেন, তখন আপনি সুন্দর তৃণভূমিগুলি অন্বেষণ করতে পারবেন যেগুলি তুষারাবৃত পর্বত শৃঙ্গে ঘেরা।
৭) স্কিইং
আউলি স্কিইং কার্যকলাপের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তুষার-ঢাকা এলাকাগুলি আপনাকে স্কিইং উপভোগ করতে এবং কিছু মজা এবং দুঃসাহসিক সময় কাটাতে দেয়। যদিও, পর্যটকরা মাউন্টেন বাইক ট্রেইলও উপভোগ করতে পারেন।
৮) ক্যাবল কার রাইড
স্থানীয়ভাবে ক্যাবল কার রাইডিং নামে পরিচিত গন্ডোলা. একটি ক্যাবল কার যাত্রার অভিজ্ঞতা লালন করার জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। যোশিমঠ থেকে শুরু করে ৪ কিলোমিটারের দূরত্ব জুড়ে গুলমার্গের পরে আউলি এশিয়ার সর্বোচ্চ এবং দীর্ঘতম কেবল কার রাইড রয়েছে।
৯) ক্যাম্পিং
আউলি লেকের পাড়ে ক্যাম্পিং করাই সবকিছু। বনফায়ারের চারপাশে বসে থাকা, আপনার বন্ধু এবং প্রিয়জনদের সাথে বিশেষ মুহূর্তগুলি উপভোগ করার সময় সুস্বাদু খাবার খাওয়া এখানে করা সেরা জিনিস।

আউলি রোপওয়ে পয়েন্ট—-
আউলি গেলে অনেকেই রোপওয়ে চেপে, ঘুরে ফিরে আসেন। কিন্তু যদি সম্ভব হয় এক রাত থাকুন। বরফ না পেলেও থাকুন, অন্য কোন অধরা রূপ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
বদ্রীনাথ যাওয়ার পথে অথবা হেমকুন্ড, ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস যাওয়ার পথে আউলি দেখে নেওয়া যায়। কেবল কারে চেপে আকাশপথে আউলি ভ্রমণ চিরকাল মনে থেকে যাবে।

ভ্রমণের সেরা সময়—

আউলি সাধারনত শীতকালীন এক্টিভিটির জন্যে সেরা গন্তব্য। শীতকালীন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস এবং বরফের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার জন্যে এখানে সাধারনত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণের সেরা সময় ধরা হয়। তুষারাবৃত পর্বত উপভোগ করার জন্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেও কেউ তার ভ্রমণের সময়সূচী করতে পারেন। এছাড়াও, আপনি যদি ভারতের আর্দ্র গ্রীষ্ম এড়িয়ে যেতে চান, তবে আপনি মে এবং জুন মাসে এখানে যেতে পারেন। আউলিতে শরৎকালও খুব সুন্দর ও মনোরম। তাই, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আউলি ট্রিপের জন্য আপনার টিকিট বুক করা সবচেয়ে ভালো হবে।

কিভাবে আউলি পৌঁছাবেন—

আউলি ভারতের সবচেয়ে মনোরম হিল স্টেশনগুলির মধ্যে একটি, তাই, আপনার জীবনে অন্তত একবার এটি পরিদর্শন করা উচিত। এখানে এই গন্তব্যে পৌঁছানোর বিভিন্ন উপায় রয়েছে।

আকাশ পথে–

নিকটতম বিমানবন্দর হল জলি গ্রান্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেরাদুন বিমানবন্দর ২৩৭ কিমি দূরে অবস্থিত।
এছাড়াও রেল যোগে, সড়কপথে যাওয়া যেতে পরে।

কোথায় থাকবেন——

যোশিমঠ থাকতে চাইলে রোপওয়ে পয়েন্টের কাছে তিন-চারটে হোটেল আছে। সাধারণ মানের। তবে পরিষ্কার ঘর, লাগোয়া বাথরুম, গীজার ইত্যাদি আছে। আউলিতে থাকার জন্যে GMVN এর স্কি রিসোর্ট ছাড়াও কয়েকটি রিসোর্ট ও লজ আছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্বন্ধে দুটি কথা : দিলীপ রায়।

বাংলা সাহিত্য জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি আমাদের সকলের প্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । আমরা জানি রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য, “ভাবগভীরতা, চিত্ররূপময়তা, আধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক, সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা ।“ তাঁর লেখা অসাধারণ সব কবিতা ও গান, আজও প্রত্যেকটা বাঙালীর মন কাঁড়ে । তিনি শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠ কবি বা গল্পকারই ছিলেন না, সেইসাথে ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিকও । রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক । ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল । কথা সাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন । সমাজ কল্যাণের উপায় হিসাবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন এবং পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরূদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন । রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় মনুষ্য সেবার কথাই বলা হয়েছে । রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে মানুষ ঈশ্বরের পুজার কথা বলেছিলেন । সঙ্গীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন । রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি । তিনি দুই হাজারের উপর গান রচনা করেছেন । তাঁর রচিত “জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে” — ভারতে এবং “আমার সোনার বাংলা” — বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ৭ই মে ১৮৬১ সালে ( ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ ) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে অবস্থিত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে | তাঁর বাবার নাম ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি কিনা ছিলেন তদানীন্তনকালের ব্রাহ্মসমাজের একজন ধর্মগুরু এবং তাঁর মায়ের নাম সারদাসুন্দরী দেবী । অনেকেই জেনে অবাক হবেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবা মায়ের ১৪তম সন্তান । বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করেননি । গৃহ শিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল । মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু । ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তাঁর “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশ পায় । এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ।
১৮৭৮ সালে মাত্র সতের বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান । ১৮৮৩ সালে ৯ই ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয় বেণীমাধব রায়চৌধুরী নামে ঠাকুরবাড়ির এক অধস্তন কর্মচারীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে । বিয়ের সময় ভবতারিণীর পুনরায় নামকরণ করা হয় এবং তাঁর নাম পাল্টে রাখা হয় মৃণালিনী দেবী । ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন । ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মাচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন । সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন । ১৯০২ সালে তাঁর পত্নী বিয়োগ হয় । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন । ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “নাইট” উপাধিতে ভূষিত করেন । ১৯১৫ সালে জালিনওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন । ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয় । দীর্ঘজীবন তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন ।
অবশেষে দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট , জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।।।

৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস হিসেবে পরিচিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি এমন একটি দিন যা থ্যালাসেমিয়া নামক একটি জেনেটিক সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে শেখানোর জন্য। এই সমস্যাটি শরীরের পক্ষে হিমোগ্লোবিন নামক একটি অত্যাবশ্যক জিনিস তৈরি করা কঠিন করে তোলে, যা আমাদের রক্তে অক্সিজেন বহন করতে সাহায্য করে।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে এই সমস্যাটি পান এবং এর অর্থ তাদের রক্তে অক্সিজেন বহন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন নেই। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের মূল লক্ষ্য হল এই রক্তের সমস্যাকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করা এবং যাদের এটি আছে তাদের প্রতি সমর্থন জানানো।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের থিম ২০২৫—

২০২৫ সালের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হল “থ্যালাসেমিয়ার জন্য একসাথে: সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করা, রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া”। এই প্রতিপাদ্যটি রোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতির উপর জোর দেয়, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সামগ্রিক যত্ন এবং সুস্থতা প্রচার করে। এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবা নীতিতে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চাহিদাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করা।

এছাড়াও, আরেকটি সূত্র থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার গুরুত্ব তুলে ধরে “মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে জীবনকে ক্ষমতায়ন করা” থিমটি উল্লেখ করেছে। তবে, থ্যালাসেমিয়া আন্তর্জাতিক ফেডারেশন “থ্যালাসেমিয়ার জন্য একসাথে: সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করা, রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া” থিমটি আরও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং ব্যবহৃত বলে মনে হচ্ছে।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৫ এর তাৎপর্য—

এই দিনটি অত্যাবশ্যক কারণ এটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে লোকেদের বলার উপর ফোকাস করে, এটির কারণ কী এবং কী লক্ষণগুলি সন্ধান করা উচিত। থ্যালাসেমিয়া এড়াতে সবাইকে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার একটি সুযোগ। এছাড়াও, এটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কী সমস্যার মুখোমুখি হয় এবং কেন তাদের সঠিক যত্ন এবং সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরে। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আমরা থ্যালাসেমিয়াকে কীভাবে চিকিত্সা করি তা উন্নত করার জন্য চলমান গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের ইতিহাস—

থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন (টিআইএফ) নামে একটি গ্রুপকে ধন্যবাদ ১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস হয়েছিল। এই গ্রুপটি, যেটি বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া মোকাবেলা করা ব্যক্তি এবং পরিবারকে সাহায্য করে, ১৯৮৬ সালে মিঃ প্যানোস এঙ্গেলোজস এবং যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রীস, ইতালি এবং সাইপ্রাসের পরিবারগুলি দ্বারা শুরু হয়েছিল। থ্যালাসেমিয়ায় মারা যাওয়া মিঃ প্যানোসের ছেলে জর্জকে স্মরণ করার জন্য তারা এই দিনটি তৈরি করেছিলেন। সেই থেকে, থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে এবং কীভাবে এটি সর্বত্র মানুষ ও পরিবারকে প্রভাবিত করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালন করি।
থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ। যদি বাবা ও মায়ের দু’জেনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তা হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
থ্যালাসেমিয়া একটি ব্লাড ডিজঅর্ডার যার ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। প্রধানত তিন ধরনের থ্যালাসেমিয়া হয়। আলফা থ্যালাসেমিয়া, বিটা থ্যালাসেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যায়। যার ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়।

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ—

ক্লান্তি, হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ত্বক, শরীরে আয়রন জমা হওয়া, হার্টের সমস্যা প্রভৃতি বিষয়।
চিকিৎসকদের মতে, এ রোগের ফলে আক্রান্তের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত তৈরি হয় না, যার ফলে অন্যের রক্ত ট্রান্সফিউশন নিয়ে তাদের জীবন চালাতে হয়। বাবা-মা উভয়ই ত্রুটিযুক্ত জীন বহন করলে সে ক্ষেত্রে প্রতি গর্ভাবস্থায় সন্তানের ২৫ শতাংশ থেলাসেমিয়া রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২৫ শতাংশ সুস্থ্য এবং ৫০ শতাংশ বাহক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বেশিরভাগ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের পেছনে বাবা-মায়ের থ্যালাসেমিয়া বাহক হওয়ার কারণ রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ বিয়ের আগে অবশ্যই থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানো উচিত। যাতে বাবা-মা বাহক হলেও ৭৫ শতাংশ রোগী ও বাহক কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাই রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সারাবিশ্বে দিনটি পালিত হয়ে আসছে ।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This