Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব তোয়ালে দিবস, জানুন দিনটি সম্পর্কে কিছু কথা।।।

তোয়ালে দিবস হল এমন একটি দিন যা The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy লেখক ডগলাস অ্যাডামসকে উৎসর্গ করা হয়। প্রতি বছর ২৫ মে পালিত হয়, এটি ভক্তদের একত্রিত হয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ।তবে কেন একটি তোয়ালে হিচহাইকারস গাইডের প্রতীকী এবং কেন ভক্তরা এই দিনে অ্যাডামসকে উদযাপন করেন?

ডগলাস অ্যাডামস কে ছিলেন?

ডগলাস অ্যাডামস ১১ মার্চ, ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন কমিক লেখক ছিলেন যিনি The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy সিরিজের কমিক সাই-ফাই বই লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যেটি তার মূল রেডিও নাটকের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে তিনি BBC এর জন্যও লিখেছেন, এবং মন্টি পাইথন এবং ডক্টর হু এর মতো আইকনিক সিরিজ।
লেখক একজন প্রখর পরিবেশবিদও ছিলেন।
তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১ মে, ২০০১-এ 4৪৯9 বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

তোয়ালে দিবস কখন?

ডগলাস অ্যাডামস মারা যাওয়ার ঠিক দুই সপ্তাহ পর ২৫ মে, ২০০১ সাল থেকে তোয়ালে দিবস বার্ষিকভাবে পালিত হচ্ছে।

তোয়ালে দিবস কি?

তোয়ালে দিবস উদযাপন করে দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি লেখক ডগলাস অ্যাডামস।
ভক্তরা অ্যাডামসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি তোয়ালে বহন করা বেছে নিয়েছিলেন কারণ, দ্য হিচহাইকারস গাইড অনুসারে, এটি “একজন আন্তঃনাক্ষত্রিক হিচহাইকার বহন করতে পারে এমন সবচেয়ে ব্যাপকভাবে দরকারী জিনিস”।
শুধুমাত্র একটি তোয়ালে ব্যবহারিক নয় – “আপনি উষ্ণতার জন্য এটিকে আপনার চারপাশে জড়িয়ে রাখতে পারেন যেমন আপনি জগলান বিটার ঠান্ডা চাঁদ জুড়ে আবদ্ধ হন”, উদাহরণস্বরূপ – তবে এটির “অত্যন্ত মনস্তাত্ত্বিক মূল্য”ও রয়েছে।
গাইড বলেছেন যে একজন নন-হিচহাইকার ভাববেন যে “যে কোনও মানুষ যে গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থকে আটকাতে পারে, এটিকে রুক্ষ করতে পারে, এটিকে বস্তি করতে পারে, ভয়ানক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, জয়লাভ করতে পারে এবং এখনও জানে যে তার গামছাটি কোথায় আছে, সে স্পষ্টতই একটি মানুষ হিসাবে গণ্য করা হবে”।

ভক্তরা কিভাবে গামছা দিবস উদযাপন করবেন?

The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy-এর ভক্তরা আজ একটি তোয়ালে বহন করে উদযাপন করবে। তারা #TowelDay হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের তোয়ালে সহ নিজেদের ছবি শেয়ার করবে।
ভক্তরাও সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের প্রিয় উদ্ধৃতিগুলি ভাগ করতে পারেন, বা উপন্যাসগুলি পুনরায় পড়তে বা সিরিজ বা চলচ্চিত্রটি পুনরায় দেখার জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন।

তোয়ালে দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি—

২০১৮ সালে, স্টিফেন ফ্রাই টুইট করেছিলেন ” TowelDay world, galaxy and cosmos” এবং ২০১৯ সালে, তিনি বলেছিলেন: “#TowelDay one and all… আজ আমরা ডগলাস নোয়েল অ্যাডামস ১৯৫২-এর উপহারের জন্য মহাবিশ্বকে স্মরণ করি এবং ধন্যবাদ জানাই- ২০০১, একজন মহান বন্ধু, একজন মহান মানুষ।”
২০১৬ সালে, রয়্যাল ইনস্টিটিউশন আইএসএস-এ থাকা মহাকাশচারী টিম পিককে “আতঙ্কিত হবেন না” বাক্যাংশ সহ একটি তোয়ালে পাঠিয়েছিল, দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সির প্রচ্ছদে শব্দগুলি উল্লেখ করে যে চরিত্রটি ফোর্ড প্রিফেক্ট তার সাথে বহন করে এবং এটিও। ডগলাস এবং সিরিজের একটি বইয়ের শিরোনাম।
স্টিফেন ম্যাঙ্গান ২০১৬ সালে বলেছিলেন: “প্রথম দিকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এটি অনেক লোককে খুব ক্ষুব্ধ করেছে এবং ব্যাপকভাবে একটি খারাপ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। #টাওয়েলডে।”

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।।।।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস প্রতি বছর ২৫ মে থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি হল একটি ছোট, প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি যা ঘাড়ের গোড়ায় ঘাড়ের গোড়ার কাছে অবস্থিত। এটি দুটি হরমোন, থাইরক্সিন এবং ট্রাইওডোথাইরোনিন উৎপাদনের জন্য দায়ী, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্য যেমন বিপাক, বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং প্রজননের জন্য অপরিহার্য।

থাইরয়েডের ব্যাধি ঘটে যখন থাইরয়েড গ্রন্থি এই হরমোনগুলির পর্যাপ্ত বা খুব বেশি উত্পাদন করে না। হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করে না যখন হাইপারথাইরয়েডিজম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি এই হরমোনগুলির খুব বেশি উৎপাদন করে। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪ এর থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য, পর্যবেক্ষণের উপায় এবং উদ্ধৃতি জানুন।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৫ : থিম—

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য: প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার উপর জোর দিন

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য বিষয় হল থাইরয়েড রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং সময়মত চিকিৎসার উপর জোর দেওয়া। এই প্রতিপাদ্য বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত কিনা তা জানেন না।

নিয়মিত চেক-আপকে উৎসাহিত করে এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলি সনাক্ত করে, এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই আপনার স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে। এটি একটি আশ্বস্ত বার্তা: আরও ভাল সচেতনতা এবং যত্নের অ্যাক্সেসের মাধ্যমে, আপনি রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এড়াতে পারেন এবং সঠিক সহায়তার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারেন।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৫ : ইতিহাস—

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস 2007 সালে থাইরয়েড ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল (TFI) দ্বারা থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্ব এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ইউরোপীয় থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন (ETA) এর প্রতিষ্ঠার স্মরণে ২৫ মে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ইটিএ প্রথম সংস্থা যা বিশ্ব থাইরয়েড দিবসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়
TFI হল একটি অলাভজনক সংস্থা যা থাইরয়েড স্বাস্থ্য এবং গবেষণার প্রচারে কাজ করে। বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশ থেকে সংস্থাটির সদস্য রয়েছে। TFI-এর লক্ষ্য হল “থাইরয়েড রোগের প্রতিরোধ, নির্ণয় এবং চিকিত্সার প্রচার করা এবং থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।”

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৫ : তাৎপর্য——

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি বোঝার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উপলক্ষ হিসাবে কাজ করে। ঘাড়ের গোড়ার কাছাকাছি অবস্থিত, এই গ্রন্থিটি আকারে প্রজাপতির মতো। এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যে থাইরক্সিন এবং ট্রায়োডোথাইরোনিন হরমোন উৎপাদন জড়িত, যা বিপাক, বৃদ্ধি, বিকাশ এবং প্রজননের মতো মৌলিক শারীরিক প্রক্রিয়াগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড ব্যাধি সাধারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২০ মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে। সবচেয়ে সাধারণ থাইরয়েড ডিসঅর্ডার হল হাইপোথাইরয়েডিজম, যা ঘটে যখন থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট হরমোন তৈরি করে না। হাইপোথাইরয়েডিজম ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বিষণ্নতা সহ বিভিন্ন উপসর্গের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব থাইরয়েড দিবস হল থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন অবস্থা সম্পর্কে আরও জানার একটি সুযোগ। এটি থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমর্থন দেখানোর এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সাকে উত্সাহিত করারও একটি সময়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্তের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায়।

ব্রত শব্দের অর্থ তপস্যা ও সংযমের সংকল্প । বিশেষ ব্রত নিয়ে যারা চলে , তারাই ব্রতচারী । তাই ব্রতচারীদের ব্রত পালন করার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে — সত্যনিষ্ঠা, সংযম, অধ্যবসায় ও আত্মনির্ভরতা । মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্রতচারীদেরকে – জ্ঞান , শ্রম , সত্য , ঐক্য ও আনন্দের সাথে জীবনযাপন ।

বাঙালির দৈহিক-মানসিক গঠন এবং নৈতিক বোধ উন্নয়নের ভাবনা থেকে গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত প্রাসঙ্গিক নৃত্য-গীত অবলম্বন করে গুরুসদয় দত্ত ১৯৩২ সালে ব্রতচারী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন । ব্রতচারী আন্দোলন হচ্ছে একটি আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নের আন্দোলন । আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়চেতনা ও নাগরিকত্ববোধ । গুরুসদয় দত্তের ব্রতচারণের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ মানুষ হবার শিক্ষা ।১০ই মে, ব্রতচারী দিবস পালিত হয় । ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্তের জন্মদিনকে স্মরণে-সম্মানে দিনটি ব্রতচারী দিবস হিসাবে পালিত হয় ।
এবার আমরা গুরুসদয় দত্ত সম্বন্ধে কিছু জানার চেষ্টা করি । ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্ত ১৮৮২ সালের ১০ মে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । গুরুসদয় দত্ত সাত বছরে পিতৃহারা, চোদ্দ বছরে মাতৃহারা হয়ে জেঠুর কাছে মানুষ হন । বালক বয়স থেকে গুরুসদয় দত্ত ছিলেন দুরন্ত , নির্ভীক আর একই সঙ্গে হৃদয়বান । ছোট বেলা থেকেই তিনি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । প্রয়োজনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বন্যাত্রাণে, অগ্নি নির্বাপনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন । গ্রামের মাইনর স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু । তারপর সিলেট শহরের ইংরাজি মাধ্যম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন এবং মেধানুসারে তিনি অসম প্রদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন । কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ.এ পাশ করে তিনি বিলেত যান । ১৯০৪ সালে তিনি আই.সি.এস. পাশ করেন এবং মেধা তালিকার সপ্তম স্থান অধিকার করেন । তিনি ছিলেন সরকারি কর্মচারি । জেলাশাসক, কালেক্টর, কৃষি ও শিল্প বিভাগের সচিব হিসাবে কাজ করেছেন । সরোজ নলিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় । ১৯৪০ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন ।
১৯৩২ সালে তিনি ব্রতচারী প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৩৪ সালে ব্রতচারী সমিতি এবং ১৯৪১ সালে কলকাতার জোকায় ব্রতচারী গ্রাম স্থাপন করেন । ব্রতচারী আন্দোলনে কেউ সামিল হতে চাইলে তিনটি উক্তি স্বীকার করে নিতে হতঃ-
১। আমি বাংলাকে ভালবাসি
২। আমি বাংলার সেবা করব
৩। আমি বাংলার ব্রতচারী
গুরুসদয় দত্ত সারাজীবন লোকশিল্প আর সংস্কৃতির সন্ধানে প্রবৃত্ত ছিলেন । তিনি রায়বেঁশে (রায়বেঁশে হচ্ছে পুরুষদের দ্বারা লোকযুদ্ধ নৃত্যের একটি ঘরানা), কাঠি, ধামাল, ঝুমুর, ব্রত, ঢালিনৃত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন । ব্রতচারীদের মধ্যে তিনি “প্রবর্তক জী” নামে খ্যাত ছিলেন । ব্রতচারীদের অভিবাদন-ভঙ্গি, মাতৃভাষা প্রীতি, স্বাস্থ্যজ্ঞান, সত্যনিষ্ঠা, সংযম, প্রফুল্লভাব, অধ্যবসায়, আত্মনির্ভরতা খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে । রবীন্দ্রনাথ সহ তৎকালীন সময়ের বহু বিখ্যাত ব্যক্তি গুরুসদয় দত্ত প্রতিষ্ঠিত ব্রতচারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন । তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যেগুলো বর্তমানে দুর্লভ । গ্রাম পুনর্গঠন , সমবায় প্রথায় চাষ, লোকশিল্প সংগ্রহ, ম্যাগাজিন প্রকাশ সহ তিনি নানান কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন । লোকসাহিত্য গবেষক, লেখক, স্বদেশপ্রেমী গুরুসদয় দত্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪১ সালের ২৫ জুন পরলোক গমন করেন । এখনও তাঁর লোক ঐতিহ্যের সন্ধান বাঙালি জাতিকে আত্ম-আবিষ্কারের পথে চালিত করে । তাঁর জন্মদিনে শতকোটি প্রণাম । (তথ্যসূত্র: সংগৃহীত)
——০——–

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৫ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২৫ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক)  ২০০১ – তোয়ালে দিবস, লেখক ডগলাস অ্যাডামসের স্মরণে, লেখকের ভক্তরা, প্রথম পালন শুরু করেন।
(খ) বিশ্ব থাইরয়েড দিবস৷

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৫১ – ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হালেদ, বাংলায় মুদ্রিত প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা।

১৮০৩ – যুক্তরাষ্ট্রে খ্যাতনামা কবি এবং লেখক রালফ ওয়ালডো এমারসন।

১৮৬৫ – পিটার জেমান, নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
১৮৮৬ – রাসবিহারী বসু, ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক।
১৭৫১ – ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হালেদ, বাংলায় মুদ্রিত প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা।
১৮০৩ – যুক্তরাষ্ট্রে খ্যাতনামা কবি এবং লেখক রালফ ওয়ালডো এমারসন।

১৮৬৫ – পিটার জেমান, নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
১৮৮৬ – রাসবিহারী বসু, ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক।
১৮৮৯ – হেলিকপ্টারের উদ্ভাবক রুশ-মার্কিন বিজ্ঞানী ইগর সিকোরস্কি।
১৮৯৯ – (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ)কাজী নজরুল ইসলাম, বিদ্রোহী কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক, ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
১৯০২ – অধ্যাপক, গবেষক ও সাহিত্যিক অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়।
১৯০৬ – রামকিঙ্কর বেইজ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,বাঁকুড়া জেলা, বিখ্যাত ভাস্কর।
১৯৬৩ – মাইক মায়ার্স্‌, মার্কিন কৌতুকাভিনেতা।
১৯৬৯ – আমেরিকান প্রযোজক ও অভিনেত্রী অ্যানি হেচে।
১৯৭৫ – আমেরিকান মিউজিশিয়ান, গায়িকা ও অভিনেত্রী লরেন হিল।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৬৮ – ক্যাপটেন কুক তার বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে প্রথম অভিযান শুরু করেন।
১৯১১ – মেক্সিকোতে বিদ্রোহের মুখে প্রেসিডেন্ট পোরদিরিও দিয়াজ উৎখাত।
১৯২৩ – আমীর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ট্রান্স জর্দানের স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৯৩৬ – নিগ্রো ক্রীড়াবিদ জেসি ওয়েন বার্লিন অলিম্পিকে ৫টি বিশ্বরেকর্ড ভঙ্গ করে।
১৯৪৪ – জার্মানি যুগোশ্লাভিয়ার কম্যুনিষ্ট নেতা জোসেপ ব্রজ টিটোকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়েছিলো।
১৯৪৫ – হিটলারের নাৎসী বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা গেস্টোপোর প্রধান হেনরিখ হিমলার আত্মহত্যা করেছিলেন।
১৯৬৩ – ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ঐক্য সংস্থা বা ওএইউ গঠিত হয়।
১৯৬৯ – সুদানে সেনা অভ্যুত্থানে সরকার উৎখাত।
১৯৭১ – মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা।
১৯৭৯ – শিকাগোতে আমেরিকায় ডিসি-১০ বিধ্বস্ত হয়ে ২৭২ যাত্রীর সবাই নিহত।
১৯৮৯ – গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম প্রশাসনিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯৪ – দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
১৯৯৭ – সিয়েরালিওনে বিদ্রোহীদের সহিংস অভ্যুত্থানে সরকার উৎখাত।
২০০০ – বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম মহিলা বিচারপতি (নাজমুন আরা সুলতানা) নিয়োগ।
২০১৮ – শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৪৫ – স্কট চিত্রশিল্পী টমাস ডানকানের মৃত্যু।
১৯৮৩ – মুহাম্মদ ইদ্রিস আল-সেনুস, লিবিয়ার বাদশাহ।
১৯২৪ – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সময়ের ভাইস-চ্যান্সেলর।
১৯৪১ – গুরুসদয় দত্ত, ব্রতচারী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও সমাজকর্মী।
২০০১ – আলবের্তো কোর্দা,কিউবান আলোকচিত্র শিল্পী।
২০২১ – কল্পবিজ্ঞানের বাঙালি লেখিকা এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৪ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২৪ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) ভারতীয় কমনওয়েলথ দিবস: 24 মে।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫৪৪ – উইলিয়াম গিলবার্ট, ইংরেজ চিকিৎসক।  .
১৬৮৬ – ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট, পদার্থবিজ্ঞানী।  .

১৮১৩ – কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঊনবিংশ শতকের অন্যতম বাঙালি শিক্ষাবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ ও খ্রিষ্টধর্মপ্রচারক।  .

১৮১৯ – রাণী ভিক্টোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাণী।  .
১৮৫৮ – সারদারঞ্জন রায়, বাংলার যুবসমাজে ক্রিকেট খেলার প্রচলক।

১৮৯৯ – (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) কাজী নজরুল ইসলাম- বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কবি। বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম হয়।
১৯০৫ – মিখাইল শলোখভ, নোবেলজয়ী সোভিয়েত ঔপন্যাসিক।

১৯২০ – সোমেন চন্দ, মার্ক্সবাদী বাঙালি সাহিত্যিক।
১৯৪০ (ক)  জোসেফ ব্রডস্কি, বিখ্যাত রুশ কবি ও প্রাবন্ধিক।
(খ) মওদুদ আহমেদ, বাংলাদেশের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, অষ্টম প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৪১ – বব ডিলান, মার্কিন গায়ক, গীতিকার, লেখক, সঙ্গীতজ্ঞ ও কবি।

১৯৪২ – আলী বাখের, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৪৯ – জিম ব্রডবেন্ট, ইংরেজ অভিনেতা।
১৯৫১ – মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশী অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক।

১৯৫৫ – রাজেশ রোশন, ভারতীয় সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।
১৯৬৬ – এরিক কাঁতোয়াঁ, সাবেক ফরাসি ফুটবলার।
১৯৬৯ – মার্টিন ম্যাককেগ, আইরিশ বংশোদ্ভূত সাবেক পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৭৭ – জিৎ গাঙ্গুলী, ভারতীয় সংগীত পরিচালক এবং গায়ক।
১৯৯১ – সাফিয়ান শরীফ, স্কটিশ ক্রিকেটার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮২২ – ইকুয়েডর স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৮৪৪ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের সংসদভবন থেকে মার্কিন আবিষ্কারক মোর্স (মোরিস) ৪০ মাইল দূরের বাল্টিমোর শহরে বিশ্বের প্রথম দূরপাল্লার টেলিগ্রাম পাঠান।
১৮৬২ – টমস নদীর ওপর ওয়েস্ট মিনিস্টার সেতু উন্মুক্ত করা হয়।
১৮৭৫ – স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলিগড়ে মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল স্থাপন করেন। এটিই পরে (১৯২০) আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
১৯০২ – ব্রিটেনে প্রথম ‘এম্পায়ার ডে’ পালিত হয়।
১৯৬৪ – রিও ডি জেনিরোর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দাঙ্গায় ৩২৮ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হন।
১৯৭২ – কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে ভারত থেকে ঢাকায় আগমন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দান।
১৯৮৫ – বাংলাদেশের উড়িরচরে জলোচ্ছ্বাসে ১১ হাজার লোকের প্রাণহানি।
১৯৯১ – বর্ণবাদী ইসরাইল সরকার, দ্বিতীয় বারের মতো ১৪ হাজার চার’শ ইহুদিকে ইথিউপিয়া থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে নিয়ে আসে।
১৯৯৩ – উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া,ইথিউপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯৪ – মক্কায় পদদলিত হয়ে ২৭০ হাজীর মৃত্যু।
২০০০ – ইসরাইলী বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৫৪৩ – নিকলাস কপারনিকাস, জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

১৮৯৪- বিহারীলাল চক্রবর্তী, বাংলার গীতিকবি।
১৯০৩ – হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, উনিশ শতকের বাঙালি কবি।
১৯৩২ – কার্ল বেন্ডা, জার্মান অণুজীববিজ্ঞানী।

১৯৪০ – অমিতা সেন, ১৯৩০-এর দশকের খ্যাতনামা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।
১৯৫৯ – জন ফস্টার দুললেস, মার্কিন কূটনীতিক।
১৯৭১ – জাকির হোসাইন, পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর।
১৯৮৯ – তৃপ্তি মিত্র, বাঙালি মঞ্চ অভিনেত্রী।

১৯৯২ – শৈলজারঞ্জন মজুমদার, ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ ও রবীন্দ্র সংগীত প্রশিক্ষক।
১৯৯৫ – হ্যারল্ড উইলসন, যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

২০১০ – তপেন চট্টোপাধ্যায়, “গুপী গায়েন” খ্যাত বাঙালি অভিনেতা।
২০১০ – বেবী ইসলাম, বাংলাদেশি চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।

২০১৪ – ডেভিড অ্যালেন, ইংরেজ ক্রিকেটার।
২০১৬ – খালেদা একরাম, বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য।
২০২০ – মকবুল হোসেন, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও ঢাকা-৯ আসনের সাবেক এমপি, কোভিড-১৯।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

“গুপী গায়েন” খ্যাত বাঙালি অভিনেতা তপেন চ্যাটার্জী গুপি গাইনের চরিত্রের মধ্যে আজও অমর হয়ে রয়েছেন।।।।

তপেন চ্যাটার্জী ছিলেন ভারতের একজন বাঙালি কিংবদন্তি অভিনেতা যিনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে বেশ কয়েকটি ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, বিশেষ করে গুপি গাইনে বাঘা বাইন (১৯৬৮) এবং এর সিক্যুয়েল ১৯৬৮-এ গুপি গাইনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ছবি সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’।।

১৯৬৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তপেন চট্টোপাধ্যায় ও রবি ঘোষ। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন সন্তোষ দত্ত, জহর রায় ও হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় বাংলায় সবথেকে ব্যয়বহুল ছবি ছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’।

জন্ম ও পরিবার-

তপেন চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, কালীঘাটের মাইশোর রোডের বাড়িতে। নলিনীরঞ্জন ও শোভনাদেবীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তপেন ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁরা তিন ভাই ও দুই বোন। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক তপেন চট্টোপাধ্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা রাজেন্দ্র বিদ্যাভবনে।
অভিনয়ের দিকে ঝোঁক-
ছোট থেকেই অভিনয়ের দিকে ঝোঁক ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তপেন প্রথম মঞ্চে পা দিলেন, নাটকের নাম ‘অচলায়তন’। ছোট্ট চরিত্র হলেও দর্শকের মনে দাগ কেটে গিয়েছিল তাঁর অভিনয়। শীতকালে বা পুজোর সময় সেই নাটকের জন্যই ডাক পড়ত তপেনের। পরে শেখর চট্টোপাধ্যায়ের গ্রুপ থিয়েটারে যোগ দিয়েছিলেন।

কর্ম জীবন–

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার তপেন চট্টোপাধ্যায় খুব কম বয়সে এক সময়ে রাজস্থানের বিকানেরে চাকরি করতেন। সেখানকার জিপসাম মাইনস-এ রোজ দু’ টাকা দু’ আনা পারিশ্রমিক মিলত। বছর দুই চাকরি করার পর অতঃপর কলকাতায় ফিরলেন তিনি। তখনও কি জানতেন, এই রাজস্থানে এসেই তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ চরিত্রের জন্য শুটিং করবেন, তা-ও সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায়! কলকাতায় ফিরে এসে যোগ দিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটকের দলে।

অভিনয় জীবন–

তবে প্রথমে তিনি একজন যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে, চ্যাটার্জির রাজস্থানে চাকরি ছিল, এরপর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং সত্যজিৎ রায়ের পুনরুজ্জীবিত বাংলা পত্রিকা সন্দেশে যোগ দেন। ছোটদের পত্রিকা সন্দেশের বিজ্ঞাপন বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। সত্যজিৎ তাকে মহানগরে একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন এবং তারপরে গুপি গাইন বাঘা বাইন-এ গায়ক গুপি গাইন হিসেবে বিখ্যাত হন। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে গানটি তার উপর গুপি এবং রবি ঘোষের বাঘা বাইন চরিত্রে নির্মিত গানটি এখনও বাঙালি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে নাড়া দেয়।
জানা যায় গুপীর চরিত্রে তপেন’ই পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। ষাটের দশকের শুরুতে, সত্যজিৎ যখন এই ছবি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, তখন বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠীর অভিনেতা অরুণ মুখোপাধ্যায়কে গুপীর চরিত্রের জন্য ভেবেছিলেন। শুন্ডি ও হাল্লা রাজার চরিত্রে ছবি বিশ্বাস, এবং মন্ত্রীর ভূমিকায় তুলসী চক্রবর্তীর কথা ভেবেছিলেন। এরপর একমসয় গুপীর চরিত্রে গায়ক-অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের নামও শোনা যায়।ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় যে বাঘার চরিত্রে অভিনয় করবেন রবি ও গুপীর ভূমিকায় দেখা যাবে নবাগত জীবনলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে যিনি সত্যযুগ পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
শেষমেশ তিন-তিনবার অভিনেতা পাল্টে গুপীর জন্য তপেনকে নির্বাচিত করেন সত্যজিৎ। এর আগে তপেন সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ একটি ছোট চরিত্রে কাজ করেছিলেন। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হীরক রাজার দেশে ছবিতেও গুপী ও বাঘার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তপেন ও রবি।

চলচ্চিত্র সমূহ-

১৯৬৩-মহানগর, ১৯৬৯-গুপী গাইন বাঘা বাইন, ১৯৭০- রূপসী, ১৯৭১-ধন্যি মেয়ে, ১৯৭৩- শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, ১৯৭৩- ননিগোপালের বিয়ে, ১৯৭৪- সঙ্গিনী, ১৯৭৪- বিকালে ভোরের ফুল, ১৯৭৪- ঠগিনী, ১৯৭৭-ভোলা ময়রা, ১৯৭৭- হাতে রইল তিন, ১৯৭৯গণদেবতা (তারা নাপিত) , ১৯৮০আঁচল (প্রযোজনা), ১৯৮০-হীরক রাজার দেশে(গুপী গাইন), ১৯৯১-গুপী বাঘা ফিরে এলো(গুপী), ১৯৯৬-রবিবার, ১৯৯৭- শ্রীমান ভূতনাথ, ২০০৮- নরক গুলজার(সর্বশেষ চলচ্চিত্র)

প্রয়াণ–

তপেন চ্যাটার্জি ২৪ মে ২০১০ তারিখে ৭২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন।

।।তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কমনওয়েলথ দিবস : একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।।

এই বিশেষ দিনে, সমস্ত মানুষ আসে এবং সমস্ত প্রতিকূলতা এবং নেতিবাচকতা সহ্য করার জন্য এবং কমনওয়েলথের গুরুত্ব জানতে একসাথে কাজ করে। কমনওয়েলথ দিবস ২০২৫ সম্পর্কে আমরা এখানে যে নিবন্ধটি প্রদান করছি তা আগ্রহীরা পড়তে পারেন। এই নিবন্ধটি আপনাকে কমনওয়েলথ দিবসের ইতিহাস, কমনওয়েলথ দিবস ২০২৫ থিম, কমনওয়েলথ দিবস ২০২৫ এর তাৎপর্য, কমনওয়েলথ দিবস ২০২৪ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে সাহায্য করবে।
কমনওয়েলথ দিবসের ইতিহাস-
সাম্রাজ্য দিবস প্রথম ১৯০৪ সালে ইউকে রেজিনাল্ড ব্রাবাজন দ্বারা পালন করা হয়। এই দিনটি রানি এলিজাবেথের জন্মবার্ষিকীতে পালন করা হয়। ১৯৭৭ সালের যুগে, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার কমনওয়েলথ দিবস পালিত হয়েছিল। এই দিনটি কমনওয়েলথ অফ নেশনস দ্বারা পালন করা হয়। ১৮৯৮ সালে, কানাডিয়ান নেতা ক্লেমেন্টিনা ট্রেনহোলমে রানী ভিক্টোরিয়ার জন্মদিনে অন্টারিও স্কুলগুলিতে একটি সাম্রাজ্য দিবস প্রবর্তন করেছিলেন। ব্রিটিশ এম্পায়ার লিগ এই কমনওয়েলথ দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে প্রচার করেছে যা আগে এম্পায়ার ডে নামে পরিচিত ছিল। সাধারণত, সারা বিশ্বে, প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার কমনওয়েলথ দিবস পালন করা হয় । ভারতে, কমনওয়েলথ দিবস ২৪ মে অন্য দিনে পালিত হয়।

কমনওয়েলথ দিবস ২৫ থিম–

কমনওয়েলথ দিবস ২০২৫ উদযাপন এবং থিম

কমনওয়েলথ দিবস সারা বিশ্বে বিভিন্ন তারিখে পালিত হয়। যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার এই দিবসটি পালন করে। অন্যদিকে, ভারত, বেলিজের মতো দেশগুলির সাথে মিলে ২৪শে মে কমনওয়েলথ দিবস পালন করে। প্রতি বছর, কমনওয়েলথ দিবসের একটি অনন্য থিম থাকে। এই থিমটি যুক্তরাজ্য এবং বাকি কমনওয়েলথে সম্মানিত এবং প্রবর্তিত হয়।
২০২৫ সালের জন্য, কমনওয়েলথ দিবসের প্রতিপাদ্য হল “একসাথে আমরা সমৃদ্ধ হই” , যা কমনওয়েলথ পরিবারের স্থায়ী চেতনা উদযাপন করে – ৫৬টি স্বাধীন সদস্য দেশ কমনওয়েলথ সনদে অন্তর্ভুক্ত ভাগ করা মূল্যবোধের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ।
এটি এর গুরুত্ব তুলে ধরে:

আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা

যুব ক্ষমতায়ন

টেকসই উন্নয়নের প্রচার

মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা।

এই প্রতিপাদ্যটি শক্তিশালী এবং সংযুক্ত সম্প্রদায়গুলিকে গড়ে তোলার গুরুত্বের উপর জোর দেয় যা তাদের সদস্যদের সমর্থন এবং ক্ষমতায়ন করে, অর্থপূর্ণ অগ্রগতি সক্ষম করে। এটি ঐক্য, শান্তি এবং সহযোগিতার উপর জোর দেয়, কীভাবে সম্মিলিত শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতা সদস্য দেশগুলিকে একসাথে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরে।

 

 

কমনওয়েলথ দিবস ২৫ তাৎপর্য-
কমনওয়েলথ দিবস সারা বিশ্বে পালিত হয় মানুষের সম্পদ, শান্তি ও ঐক্য, একতা, মানবতা এবং সংহতি পালন করার জন্য। এই দিনটি মানুষের জন্য তাদের নিজস্ব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার এবং একে অপরকে সমর্থন করার একটি সুযোগ তৈরি করে। ১৯৫৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলান প্রথম কমনওয়েলথ দিবস উদযাপন করেছিলেন। কমনওয়েলথ দিবস অনেক দেশে পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ, বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা ইত্যাদির মাধ্যমে পালিত হয়।

কমনওয়েলথ ডে ২৫ ক্রিয়াকলাপ এবং উদযাপন-

কমনওয়েলথ দিবস অনেক সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এটি কমনওয়েলথের বৈচিত্র্য এবং সদস্য দেশগুলোকে একত্রে আবদ্ধকারী অনন্য ঐক্য প্রদর্শনের দিন। কমনওয়েলথ দিবস দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সংঘাতের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতা ও সহযোগিতার গুরুত্বের প্রতি প্রতিফলিত করার সুযোগও দেয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৩ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ২৩ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

আজ যাদের জন্মদিন—- .

১৭০৭ – কার্ল লিনিয়াস, প্রখ্যাত সুয়েডীয় উদ্ভিদবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রাণীবিজ্ঞানী।

১৭৯৯ – ফরাসি সাহিত্যিক অনোরে দ্য বালজাক।

১৮০৬ – ইংরেজ দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল।
১৮২৯ – (৯ জ্যৈষ্ঠ ১২৩৬ বঙ্গাব্দ) মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার প্রতিষ্ঠাতা ও গণিতবিদ।

১৮৮৩ – ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কস, মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।

১৮৯৪ – ভারতে ফলিত গণিতের জনক বাঙালি বিজ্ঞানী নিখিলরঞ্জন সেন।

১৯০৮ – জন বারডিন, মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
১৯১৮ – (ক)  গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়, মহামহোপাধ্যায় উপাধি ও রাষ্ট্রপতি সম্মানে ভূষিত সংগীত শিল্পী।

(খ) ডেনিস কম্পটন, বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা।

১৯২০ – মণি কুমার ছেত্রী কলকাতার বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ।
১৯২৩ – রণজিত গুহ প্রখ্যাত বাঙালি ইতিহাসবিদ।
১৯২৫ – জোসুয়া লেডারবার্গ, মার্কিন অণুজীববিদ।
১৯২৮ – প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি তবলিয়া রাধাকান্ত নন্দী।
১৯৩১ – বারবারা ব্যারি, আমেরিকান অভিনেত্রী।
১৯৪৩ – রোমুলাস হুইটাকের, একজন সরীসৃপবিদ, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবাদী, এবং মাদ্রাজ সর্প উদ্যানের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৪৭ – বার্নার্ড কম্‌রি, ব্রিটিশ ভাষাবিজ্ঞানী।
১৯৫১ – আনাতোলি কারপভ, দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।
১৯৮৫ – নায়েন আবিদি, পাকিস্তানী নারী ক্রিকেটার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১২৯৩ – জাপানের কামাকুরাতে ভূমিকম্পে ত্রিশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।
১৪৯৮ – পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ভারতের কালিকট বন্দরে এসেছিলেন।
১৬০৯ – শেক্সপিয়ারের সনেট প্রথম প্রকাশিত হয় লন্ডনে।
১৮১৮ – প্রথম বাংলা সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ আজকের দিনে প্রথম প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
১৯০২ – কিউবা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এই দিনে সকল মার্কিন সেনা কিউবা ত্যাগ করে।
১৯১০ – টোকিও সরকার কোরীয় উপদ্বীপকে জাপানের অংশ বলে ঘোষণা করে।
১৯৩২ – ইয়ারহার্ট প্রথম মহিলা যিনি একক উড্ডয়নে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেন।
১৯৩৪ – সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সৌদী আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হবার পর পরাজিত ইয়েমেন সরকার তায়েফ চুক্তি স্বাক্ষর করে।
১৯৩৯ – আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের বিমান চলাচল শুরু হয়।
১৯৮৩ – এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কে প্রথম প্রকাশিত হয় সায়েন্স ম্যাগাজিনে।
২০০৬ – চীনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক থ্রি গর্জেস বাঁধ (Three Gorges Dam) নির্মাণ সমাপ্ত হয়। এর কাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭০১ – উইলিয়াম কিড, স্কটিশ নাবিক।
১৮৫৭ – অগুস্তাঁ লুই কোশি, ফরাসি গণিতবিদ।
১৯০৫ – (৯ জ্যৈষ্ঠ ১৩১২) মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার প্রতিষ্ঠাতা ও গণিতবিদ।
১৯০৬ – হেনরিক ইবসেন, নরওয়েজীয় নাট্যকার।
১৯৩০ – রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালী প্রত্নতত্ত্ববিদ।
১৯৩৭ – জন রকফেলার, বিখ্যাত মার্কিন তেল শিল্পস্থপতি, উদ্যোক্তা ও জনদরদী।
১৯৪০ – সুইডেনের নোবেলজয়ী (১৯১৬) কথাসাহিত্যিক কার্ল গুস্তাফ ভন হাইডেনস্টম।
১৯৭১ – ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও অভিনেতা গঙ্গাপদ বসু।
১৯৯১ – প্রভাস রায় স্বদেশী ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
২০০২ – কাজী আবদুল বাসেত, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী এবং চারুকলা বিষয়ের শিক্ষক।
২০১৬- বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিকে নূরজাহান বেগম।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম দুই নারী বিপ্লবী, অগ্নিকন্যা শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী ।।।

বিং শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধটি ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করা শক্তিশালী মহিলা সহ অনেকের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগ দ্বারা চিহ্নিত হয়েছিল। এই মহিলাদের মধ্যে, সুনীতি চৌধুরী ঘোষ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হিসাবে দাঁড়িয়ে আছেন।

কারণ এর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি গভীর ছিল, উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল যা ভারতের চূড়ান্ত স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করেছিল। সুনীতি চৌধুরী ঘোষ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী বিপ্লবী। অপরদিকে শান্তি ঘোষ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী। শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরীকে তাদের সহপাঠী প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম প্রথম বিপ্লবের পথ দেখান।

জন্ম——

শান্তি ঘোষের জন্ম ২২ নভেম্বর, ১৯১৬ সালে ও সুনীতি চৌধুরীর জন্ম ২২ মে, ১৯১৭ সালে। দুজনেই কুমিল্লার ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। তাদের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায়। শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী
স্টিভেন্স হত্যা কান্ড——
তাদের সহপাঠী প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম র দ্বারা শান্তি ঘোষ এবং সুনীতি চৌধুরী প্রথম বিপ্লবের পথে পরিচালিত হয়েছিল। কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ স্টিভেনসকে ১৯৩১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিপ্লবী সুনীতি চৌধুরী এবং শান্তি ঘোষ কর্তৃক হত্যা করা হয়। নাবালিকা এই দাবির বিচারে শান্তি ও সুনীতি চৌধুরীকে নির্বাসনে সাজা দেওয়া হয়। তারা হাসিমুখে বন্দী হন। যদিও তাদের মেদিনীপুর জেলে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল। সুনীতি চৌধুরী ঘোষের বাবার সরকারি পেনশন বন্ধ হয়ে যায়। তার পরিবারকে এক অবর্ণনীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। তার দুই দাদাকে জেলে পাঠানো হয়। ছোট ভাই না খেয়ে মারা মায়। পরে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গোপাল দেব দুটি রিভলবারসহ ধরা পড়েন। বিচারে, গোপাল দেবকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে স্থানান্তরের শাস্তি দেওয়া হয়।

পরবর্তী জীবন——-

সুনীতি চৌধুরী ঘোষ হিজলী বন্দী নিবাসে তিনি বন্দী ছিলেন। ১৯৩৯ সালে শান্তি ঘোষের সাথে গান্ধীর চেষ্টায় সেখান থেকে মুক্তি পান। তিনি অধ্যয়ন করেন এবং এমবি পাস করেন এবং ডাক্তার হিসাবে জনহিতকর কাজে নিযুক্ত হন। তাঁর ব্রত ছিল নিঃস্বার্থভাবে দরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের সেবা করা। ১৯৪৭ সালে, তিনি শ্রমিক নেতা প্রদ্যোত কুমার ঘোষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মৃত্যু——–

সুনীতি চৌধুরী মারা যান ১২ জানুয়ারি, ১৯৮৮ সালে এবং ২৭ মার্চ, ১৯৮৯ সালে মারা যান শান্তি ঘোষ।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জীবন বদলে দেওয়া রাজা রামমোহন রায়ের উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি।।।

রামমোহন রায়ের উক্তিগুলি তার চিন্তাভাবনা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়। রামমোহন রায়ের উক্তিগুলি আজও প্রাসঙ্গিক। তার উক্তিগুলি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার সর্বোচ্চ, ধর্ম ও নারী শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষার মাধ্যমেই জাতির উন্নতি সম্ভব। তাঁর ধারণাগুলি আমাদের সমাজকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করতে পারে।

তার উল্লেখযোগ্য উক্তি ও উদ্ধৃতি গুলি হল:
(ক) ঈশ্বর মানুষকে যে বোধ (মনন) শক্তি প্রদান করেছেন, তার অভিপ্রায় হলো এই যে, স্বজাতীয় অন্যান্য অধিকাংশ মানুষের মতো সে পশুবৎ অনুকরণ না করে নিজের অর্জিত জ্ঞানের সহায়তায় প্রত্যেক ব্যাপারে শুভ-অশুভ বিবেচনায় নিজের বোধশক্তিকে প্রয়োগ করবে। (বস্তুতঃ) তখনই এই ঈশ্বরদত্ত (ক্ষমতা) বোধশক্তি সার্থকতা লাভ করবে।
(খ) এক জাতীয় লোক আছে, যারা অন্যদের সমর্থন আকর্ষণ করতে আপন ইচ্ছানুযায়ী ধর্মের নাম দিয়ে মতবাদ তৈরি করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে উত্তেজনা ও বিবাদের সৃষ্টি করে। অপরদিকে আর এক ধরনের লোক আছে যারা কোনরকম বিবেচনা না করেই পূর্বোক্ত লোকেদের আনুগত্য স্বীকার করে। তৃতীয় আর এক দল লোক আছে যারা অন্যদেরও নিজেদের দলে (জোর করে) টানতে চায়। চতুর্থ শ্রেণীতে আছেন তাঁরা যারা মহামহিম ঈশ্বরের করুণায় প্রতারক নন, প্রতারিতও নন।…সংস্কারমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গীসহ বিচার করে চলাই শ্রেষ্ঠ জীবনাদর্শ।
(গ) আত্মা এক। তার মায়াভাবে (বিভিন্ন দেহরূপ) প্রপঞ্চেও নানাবিধ চেতনাত্মক জীব পৃথক পৃথক রূপে আচরণ ও কর্মফলভোগ করে, পুনরায় (দেহ) প্রপঞ্চ ভঙ্গ হলে প্রতিবিম্বের ন্যায় আর ক্ষণমাত্রও পৃথকরূপে থাকে না। জীব যদিও (স্বরূপতঃ) একক আত্মা হতে ভিন্ন নয়, তথাপি জীবের ভোগে আত্মার ভোগ হয় না।
(ঘ) মিথ্যা ও প্রবঞ্চনার বেশি অধর্ম আর নেই। মিথ্যাবাদী যদি কখনো সত্যও বলে, তাহলেও কেউ তা বিশ্বাস করে না। আবার এক মিথ্যাকে বজায় রাখতে আরও মিথ্যা দিয়ে তা সাজাতে হয়। এর বেশি প্রবঞ্চনা আর কী আছে।
(ঙ) কোনো বিষয়ের দুই দিক দেখে কদাচ বিরোধ করো না। বাদী, প্রতিবাদী এই উভয়ের যথার্থ অভিপ্রায় না বুঝে একপক্ষের প্রশংসা ও অন্যপক্ষের নিন্দা করা মহতের কাছে কেবল হাস্যাসম্পদের লক্ষণ হয়।
(চ) এই জগতে বিদ্যমান প্রতিটি বস্তু পৃথক পৃথকভাবে কয়েকটি কারণ, পরম্পরা ও নিয়মের অনুবর্তী। এমনকি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সেই কারণ, পরম্পরা ও নিয়মগুলি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, প্রতিটি পদার্থের অস্তিত্ব একটি অখণ্ড পরিকল্পনায় বাঁধা।
(ছ) কৃত (লোকাচার ও দেশাচার) অনুষ্ঠানকে যদি কোনো মানুষ পালন করে, তার (মানসিক অবস্থানের) প্রতি পণ্ডিত (জ্ঞানী)-গণ ‘গড্ডালিকা প্রবাহ’ শব্দের প্রয়োগ করে থাকেন।….(এখন বিশেষ ভাবে) প্রয়োজন কুসংস্কার ও গোঁড়ামিকে আক্রমণ।

।।সংগৃহীত।।

Share This