Categories
বিবিধ

অন্ডালে বৃষ্টির জেরে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল কাঁচা বাড়ি, আশ্রয় ক্লাবে দিনমজুরের পরিবার।

অন্ডাল, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অন্ডাল থানার অন্তর্গত বিশ্বেশ্বরী এলাকায় প্রবল বর্ষণের কারণে ভেঙে পড়ল একটা মাটির কাচা বাড়ি , অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো বাড়ির লোকজন।
বিগত কয়েক দিন ধরে ঘূর্ণবাত অর্ণবের কারণে বাংলা জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। আর এরই মধ্যে ঘটেছে বিপত্তি একদিকে খনি এলাকায় ধস অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ল পেশায় দিনমজুর বাবলু সরদারের মাটির কাঁচা বাড়ি। বাড়ির লোকজন প্রাণে বাজলেও মাটির দেওয়ালে চাপা পড়লো আসবাবপত্র। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ডালের সিঁদুলির মাহাতোপাড়া এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির পরিবারের লোকজন স্থানীয় একটি ক্লাবে বসবাস করছেন। পাড়ার লোকের বাড়ি থেকে খাবার আসছে। বাবলু বাবুর সরকারের কাছে কাতর আবেদন তাদের জন্য একটা বাড়ির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে করে বাচ্চা, বউ এবং অসুস্থ মাকে নিয়ে তারা বসবাস করতে পারেন।

Share This
Categories
বিবিধ

CJP সমর্থক চিরঞ্জিতকে মারধরের অভিযোগ, পাল্টা দাবি বিজেপির।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামুড়িয়া :-দিল্লির জন্তর মন্তরে কোকরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া এবং সেই কর্মসূচির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই এক CJP সমর্থকের উপর হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত কেন্দা এলাকায়।

আক্রান্তের নাম চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দা এলাকার বাসিন্দা এবং তৃণমূল নেতা সন্দীপ (বিজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি কোকরোচ জনতা পার্টির সমর্থক বলে দাবি করেছেন।

চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে CJP-এর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচির বেশ কিছু ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। এরপর সে যন্তর মন্তর থেকে ফেরার পর বিজেপির কয়েকজন সমর্থক তাঁর উপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।

চিরঞ্জিতের দাবি , শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে CJP-এর প্রতিনিধিরা চিরঞ্জিতের বাড়িতে পৌঁছন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

তবে চিরঞ্জিতের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেন্দা এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা বিপদতারন ভট্টাচার্যের দাবি, চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় CJP-এর সঙ্গে যুক্ত—এমনটা তাঁদের জানা ছিল না।

পাশাপাশি, চিরঞ্জিতের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের মধ্যে ছাগল চুরি, তোলাবাজি এবং মদ্যপানের অভিযোগ রয়েছে বলেও পাল্টা দাবি করেন ওই বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, এলাকায় মাতলামির কারণেই চিরঞ্জিতের উপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে CJP কো-অর্ডিনেটর আব্দুল হাপিজ প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দল।

শেষ পাওয়া খবরে জানা যায় , ঘটনাটি পুলিশকে মৌখিক জানানো হলেও লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Share This
Categories
বিবিধ

‘সেবার রঙ্গে, দেশের সঙ্গে’—কুমারগঞ্জে ছয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-রঙের নকশায় দেশাত্মবোধ ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা। শনিবার কুমারগঞ্জের কিষাণ মান্ডি চত্বরে ছয়টি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা। ‘সেবার রঙ্গে, দেশের সঙ্গে’ ভাবনাকে সামনে রেখে কুমারগঞ্জ ব্লকের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এদিন দুপুরে কিষাণ মান্ডি চত্বরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পড়ুয়ারা রং ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করে নানা ধরনের রঙ্গোলি। প্রতিটি নকশায় পরিষেবা, দেশাত্মবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মতো বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। রঙিন নকশায় নিজেদের ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে পড়ুয়াদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ডাঙ্গারহাট হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ আরএন হাইস্কুল, গৌরাঙ্গপুর হাইস্কুল, সাফানগর হাইস্কুল, সীতাহার-মূলগ্রাম হাইস্কুল এবং গোলাবাড়ি হাইস্কুল। বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাশাপাশি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারগঞ্জের দুই চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশিস তামাং ও দেবলীনা চট্টোপাধ্যায় এবং এডিএ দেবারতি শীল-সহ প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। প্রতিযোগিতা শেষে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী ছয়টি বিদ্যালয়ের মধ্যে দু’টি বিদ্যালয়কে পুরস্কৃত করা হবে। আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার পর্ব সম্পন্ন হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

মথুরাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা, মানিকচক কলেজ মাঠে হেলিপ্যাড পরিদর্শনে প্রশাসন।

মানিকচক, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদার মানিকচকের ভূতনি, সহ মালদহের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলিকে সাহায্য প্রদান করতে আগামী ৮ই অক্টোবর মানিকচকের মথুরাপুরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তার জেরে শনিবার দেখা জোড় তৎপরতা, মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ও হেলিপ্যাড পরিদর্শন করলেন স্থানীয় বিধায়ক গৌর চন্দ্র মন্ডল সহ মানিকচক ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা।জানা গেছে, মানিকচক কলেজ ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং মথুরাপুর ফুটবল ময়দানে আয়োজিত হবে সভা। সেখান থেকেই ভূতনি সহ মালদহ জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাত হাজার পরিবারের হাতে সরাসরি সাহায্য তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বন্যায় বাড়ি ঘর ভেঙে সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক গৌর চন্দ্র মন্ডল।

Share This
Categories
বিবিধ

আলু বিজ কোম্পানির উদ্যোগে আদিনা সমবায় হিমঘরে অ্যাম্বুলেন্স, উদ্বোধনে সাংসদ খগেন মুর্মু।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- ভালো কাজের পুরস্কার পেল আদিনা সমবায় হিমঘর কর্তৃপক্ষ। আলু বিজ কোম্পানির কাছ থেকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পেল মালদার এই হিমঘর কর্তৃপক্ষ। শনিবার হিমঘর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অত্যাধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্স এর উদ্বোধন করেন সাংসদ খগেন মুর্মু। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা, সমবায় আধিকারিক সুতনুকা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় গাঙ্গুল, আদিনা সমবায় হিমঘর ম্যানেজার বিরেস রাজবংশী সহ অন্যান্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সেচ্চাসরি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। আদিনা সহ আশেপাশের কৃষকদের সুবিধার জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। কৃষি প্রধান অঞ্চল আদিনা। মূলত এখানে কার কৃষকেরা আলু চাষ করেন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা আপদ বিপদের জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স অল্প খরচে এম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারবেন আশেপাশের বাসিন্দারা। পাশাপাশি এদিন কৃষকদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত কৃষি বিশেষজ্ঞরা আলু চাষে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও উন্নত বীজ ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগামীতে যেন পড়তে পারেনি এ অঞ্চলের কৃষকেরা এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

শিশুমৃত্যু নিয়ে ফের উদ্বেগ মালদা মেডিকেলে, অপুষ্টিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – ফের শিশুমৃত্যু নিয়ে উদবেগ মালদা মেডিকেলে। চলতি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৫জন শিশুর। একই দিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এর পেছনে অপুষ্টি ও নাবালিকা অবস্থায় গর্ভবতী হওয়াকেই দায়ী করছে মালদা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, অগাস্ট মাসে ২৭ তারিখ পর্যন্ত মালদা মেডিকেলে মৃত্যু হয়েছিল ৮৯টি শিশুর৷ অবশেষে গত ২৯ অগাস্ট শিশুমৃত্যুর তদন্তে মালদা মেডিকেলে আসে স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দল। ৫ সেপ্টেম্বর মালদা মেডিকেলের সুপার সহ শিশু বিভাগের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্যভবন। মেডিকেল সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয় মালদা মেডিকেলেরই ইএনটি বিভাগের প্রধান গণেশচন্দ্র গাইনকে। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়।
তারপরে গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও চলতি মাসেও ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল সুপার গণেশচন্দ্র গাইন জানান, চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে ৩৫ জন শিশু অপুষ্ট ছিল। নাবালিকা অবস্থাতেই গর্ভবতী হয়ে পড়ার কারণের অপুষ্ট শিশুর জন্ম হওয়ার ঘটনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামনে আসে।

Share This
Categories
বিবিধ

হাতি দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল দশম শ্রেণির ছাত্রের, শালবনীতে শোকের ছায়া।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে হাতি ‘রামলাল’-কে দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক কিশোরের। শনিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে শালবনী থানার অন্তর্গত গোদাপিয়াশাল রেঞ্জের ঘাঘরাশোল এলাকায়। মৃত কিশোরের নাম শুভদীপ মাহাতো, বয়স ১৫ বছর। সে শালবনী ব্লকের চ্যাঙশোল এলাকার বাসিন্দা এবং শালবনী মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে এলাকায় ঢুকে পড়ে হাতি ‘রামলাল’। হাতিটিকে দেখতে সকাল থেকেই রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমতে শুরু করে। কৌতূহলী বহু মানুষ হাতিটির পিছু নিতে থাকেন। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ আবার হাতিটিকে কাছ থেকে দেখতে দৌড়চ্ছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই একটি ট্রাক্টরের উপরে কয়েকজন কিশোরও হাতিটিকে দেখতে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর আচমকাই পিছন ফিরে দাঁড়ায় হাতিটি। হাতিকে পিছন ফিরে আসতে দেখে ভিড়ের মধ্যেও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ট্রাক্টরের উপরে থাকা কয়েকজন কিশোর দ্রুত নেমে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় হাতির ভয়ে ট্রাক্টরটিও পিছনের দিকে ঘোরানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর তখনই ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয় শুভদীপ। ঘটনার পর তড়িঘড়ি স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় ওই কিশোরের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শালবনী থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জঙ্গলমহলে ‘রামলাল’ নামে পরিচিত এই হাতিটিকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল নতুন নয়। লোকালয়ে হাতিটি ঢুকে পড়লে বহু মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করেন, ছবি তোলেন। হাতি এবং মানুষের এই সহাবস্থানের ছবি জঙ্গলমহলে বহুবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই রামলালকে দেখতে গিয়েই প্রাণ গেল দশম শ্রেণির ছাত্র শুভদীপ মাহাতোর। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ফের সামনে এল বন্যপ্রাণী দেখতে গিয়ে মানুষের অসতর্কতার ঝুঁকির কথাও।

Share This
Categories
বিবিধ

হাতিহলকায় বিজেপি কর্মী সামশের বিশ্বাসের মৃত্যু, হামলার ঘটনায় উত্তেজনা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের হাতিহলকায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে কদমতলা বাজার এলাকায় চা খেতে গিয়ে আক্রান্ত হন ৩২ বছরের সামশের বিশ্বাস। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ভাগ্নে জাফরকে সঙ্গে নিয়ে চা খেতে এসেছিলেন সামশের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মীও। চায়ের দোকানে বসে যখন তাঁরা আড্ডা দিচ্ছিলেন, সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী লাঠি ও রড নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, প্রথমে সামশেরকে ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। এরপর তাঁকে চায়ের দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে এসে বেধড়ক মারধর করা হয়। মামাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর ভাগ্নে জাফর। ছুটে আসেন সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মীরাও। কিন্তু তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা সেখান থেকে সরে যান।
ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ফুটেজে রাস্তার মাঝখানে সামশেরকে ঘিরে একাধিক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি। কারও হাতে লাঠি, আবার কেউ তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ছে বলেও অভিযোগ। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে মারধর চলে বলে স্থানীয়দের দাবি। সামশেরকে ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর জখম অবস্থায় সামশেরকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতিহলকা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, দলের পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। খড়্গপুর-৩ গ্রামীণ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সন্দীপ করণের দাবি, সামশের দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে নব্য বিজেপি অথবা তৃণমূলের কেউ থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কোতোয়ালি থানার আইসি দীপঙ্কর দাস জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত চলছে। সামশেরের উপর হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

হীরক জয়ন্তীতে স্মরণীয় মুহূর্ত, বীরসিংপুর পশ্চিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচন।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের বীরসিংপুর পশ্চিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হীরক জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই বিশেষ দিন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন। বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সমাজসেবী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই দিনের অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের শিক্ষা, সমাজ সংস্কার এবং নারীশিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে এমন একজন মনীষীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।
বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্মরণমূলক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ৬০ বছরের পথচলাকে স্মরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষার গুরুত্ব এবং বিদ্যাসাগরের আদর্শ তুলে ধরার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। হীরক জয়ন্তী বর্ষের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হল বলেই মনে করছেন উপস্থিত সকলে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

গাঁদা ফুল: রঙিন ফুলের পেছনে চাষের বিজ্ঞান, বাগানের সৌন্দর্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি।

ভূমিকা

হলুদ, কমলা, গাঢ় কমলা কিংবা লালচে আভাযুক্ত গোলাকার ফুল—গাঁদা ফুলকে একবার দেখলেই সহজে চেনা যায়। বাড়ির উঠোন, স্কুলের বাগান, মন্দির, পূজামণ্ডপ, বিবাহ অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গাঁদার উপস্থিতি দীর্ঘদিনের।

গাঁদার বিশেষত্ব শুধু এর উজ্জ্বল রঙে নয়। অল্প সময়ে বৃদ্ধি, তুলনামূলক সহজ পরিচর্যা, দীর্ঘ সময় ফুল দেওয়ার ক্ষমতা এবং বাজারে চাহিদা—সব মিলিয়ে এটি বাগান ও বাণিজ্যিক ফুলচাষে গুরুত্বপূর্ণ।

গাঁদা নামে পরিচিত উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি ও জাত রয়েছে। বাগান ও ফুলচাষে Tagetes গণের বিভিন্ন উদ্ভিদ বিশেষভাবে পরিচিত।

গাঁদার ফুল আসলে কেমন?

আমরা গাঁদাকে সাধারণত একটি গোল ফুল হিসেবে দেখি। কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি আসলে একটি inflorescence, অর্থাৎ অনেক ক্ষুদ্র ফুল একত্রিত হয়ে তৈরি একটি ফুলের মতো গঠন।

গাঁদার মাথায় থাকা প্রতিটি ক্ষুদ্র ফুলের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।

এই কারণেই গাঁদার একটি “ফুল” আসলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ফুলের সমষ্টি।

এটি শিশুদের উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

গাঁদার রঙ এত উজ্জ্বল কেন?

গাঁদার হলুদ ও কমলা রঙের পেছনে বিভিন্ন carotenoid pigment গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই pigment উদ্ভিদের ফুলকে উজ্জ্বল রং দিতে সাহায্য করে।

জাতভেদে রঙের তীব্রতা ও বিন্যাস বদলে যেতে পারে। কিছু গাঁদায় একেবারে উজ্জ্বল হলুদ, আবার কিছু জাতের ফুলে কমলা ও হলুদের বিভিন্ন শেড দেখা যায়।

বাজারে ফুলের চাহিদার ক্ষেত্রে রঙ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গাঁদার প্রধান ধরনের বৈচিত্র্য

বাগানচর্চায় বিভিন্ন ধরনের গাঁদা দেখা যায়। এর মধ্যে আফ্রিকান গাঁদা, ফরাসি গাঁদা এবং আরও কিছু horticultural type পরিচিত।

আফ্রিকান গাঁদার ফুল সাধারণত বড় ও গোলাকার হয়। ফরাসি গাঁদার গাছ তুলনামূলক ছোট এবং অনেক ক্ষেত্রে ফুলের আকারও ছোট হয়।

জাত নির্বাচন নির্ভর করে—

  • ফুলের আকার
  • রঙ
  • গাছের উচ্চতা
  • ফুল আসার সময়
  • বাজারের চাহিদা
  • চাষের উদ্দেশ্য

এসবের ওপর।

গাঁদা চাষের উপযুক্ত সময়

ভারতের অনেক অঞ্চলে শীতকালীন মৌসুমে গাঁদার চাষ বিশেষ জনপ্রিয়।

তবে উপযুক্ত আবহাওয়া ও জাত নির্বাচন করলে বিভিন্ন সময়ে ফুল উৎপাদনের পরিকল্পনা করা সম্ভব।

বাণিজ্যিক চাষে উৎসব বা পূজার সময় বাজারে ফুলের চাহিদা বাড়ে। তাই চাষিরা অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে ফুল পাওয়ার জন্য বীজ বপন ও চারা রোপণের সময় পরিকল্পনা করেন।

বীজ থেকে গাঁদার চারা

গাঁদা সাধারণত বীজ থেকে সহজেই চারা তৈরি করা যায়।

ভালো মানের বীজ থেকে nursery bed বা seed tray-তে চারা তৈরি করা যায়।

বীজ বপনের পর মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা দরকার। কিন্তু জল জমে গেলে চারা পচে যেতে পারে।

চারা যখন যথেষ্ট শক্ত হয়, তখন মূল জমি বা টবে স্থানান্তর করা যায়।

গাঁদার জন্য কেমন মাটি দরকার?

গাঁদার জন্য উর্বর ও ভালো drainage-যুক্ত মাটি উপযোগী।

মাটি খুব শক্ত হলে শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জৈব সার বা পচা জৈব পদার্থ মাটির গঠন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

বাগানে গাঁদা লাগানোর আগে মাটি ঝুরঝুরে করে নেওয়া ভালো।

গাঁদার জন্য সূর্যালোক

গাঁদা পর্যাপ্ত সূর্যালোক পেলে ভালোভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

খুব বেশি ছায়ায় গাছ লম্বা ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং ফুলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।

তাই বাড়ির বাগানে গাঁদা লাগানোর সময় এমন জায়গা বেছে নেওয়া উচিত যেখানে দিনের একটি বড় অংশ সরাসরি বা পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়।

জল দেওয়ার নিয়ম

চারা অবস্থায় মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি।

কিন্তু প্রতিদিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি জল দেওয়া উচিত নয়।

মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে গেলে এবং আবহাওয়া অনুযায়ী প্রয়োজন হলে জল দেওয়া যেতে পারে।

জল দেওয়ার সময় পাতায় দীর্ঘক্ষণ জল জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখা ভালো।

গাঁদায় pinching কেন করা হয়?

গাঁদার চাষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা পদ্ধতি হলো pinching।

গাছের প্রধান কচি ডগা নির্দিষ্ট পর্যায়ে সামান্য ছেঁটে দিলে পার্শ্বশাখা বেশি তৈরি হতে পারে।

ফলে গাছ তুলনামূলক ঝোপালো হয় এবং একাধিক ফুলের কুঁড়ি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে কখন pinching করতে হবে তা জাত ও চাষের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।

গাঁদায় ছাঁটাই

গাছের শুকনো ফুল নিয়মিত তুলে ফেললে অনেক ক্ষেত্রে নতুন ফুল তৈরির সুযোগ বাড়ে।

এই পদ্ধতিকে deadheading বলা হয়।

বাগানে দীর্ঘ সময় ফুল পাওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

তবে বীজ সংগ্রহ করতে চাইলে সব ফুল তুলে ফেলা উচিত নয়।

গাঁদার ফুলে পোকামাকড়

অন্যান্য চাষযোগ্য ফুলের মতো গাঁদাতেও aphid, thrips, mite বা caterpillar-এর মতো বিভিন্ন পোকা দেখা দিতে পারে।

পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, পাতায় দাগ, ফুলের বিকৃতি বা কুঁড়ি নষ্ট হওয়া—এসব লক্ষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

প্রথমে আক্রান্ত গাছ বা অংশ চিহ্নিত করে সমস্যা নির্ণয় করা উচিত।

অপ্রয়োজনীয়ভাবে শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার না করে সমন্বিত pest management পদ্ধতি অনুসরণ করা পরিবেশ ও উপকারী পতঙ্গের জন্য ভালো।

গাঁদা ও উপকারী পতঙ্গ

গাঁদার উজ্জ্বল ফুল বিভিন্ন পতঙ্গকে আকৃষ্ট করতে পারে।

মৌমাছি ও অন্যান্য pollinator ফুলে আসতে পারে এবং বাগানের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গাঁদা লাগালেই সব ধরনের ক্ষতিকর পোকা দূর হয়ে যাবে—এমন প্রচলিত ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সব ক্ষেত্রে একরকম নয়।

কিছু ক্ষেত্রে companion planting-এর সম্ভাব্য সুবিধা নিয়ে গবেষণা রয়েছে, কিন্তু এটিকে কোনো রোগ বা কীটপতঙ্গের নিশ্চিত সমাধান হিসেবে ধরা উচিত নয়।

গাঁদা ও পূজার সম্পর্ক

ভারতীয় সংস্কৃতিতে গাঁদা ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে।

পূজা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মন্দিরসজ্জা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গাঁদার মালা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।

উজ্জ্বল রং এবং তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ার কারণে উৎসবের সময় এর চাহিদা বেড়ে যায়।

ফলে গাঁদা শুধু horticultural crop নয়—এটি সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত।

গাঁদার মালা তৈরির শিল্প

গাঁদা ফুলের মালা তৈরি গ্রামীণ ও স্থানীয় অর্থনীতির একটি পরিচিত অংশ।

চাষি জমি থেকে ফুল সংগ্রহ করেন, তারপর পাইকার বা ফুল ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ফুল বাজারে যায়। এরপর মালা তৈরির কারিগররা সেই ফুল ব্যবহার করেন।

একই ফুলের সঙ্গে যুক্ত থাকে—

চাষি → সংগ্রাহক → পাইকার → মালা প্রস্তুতকারী → খুচরা বিক্রেতা → ক্রেতা

একটি ছোট ফুলের মধ্যেই তাই একটি সম্পূর্ণ supply chain তৈরি হয়।

উৎসবের সঙ্গে ফুলের বাজার

দুর্গাপূজা, কালীপূজা, বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন উৎসবের সময় ফুলের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে।

এই সময় গাঁদার মতো ফুলের বাজারদরও পরিবর্তিত হতে পারে।

চাষির জন্য তাই শুধু বেশি ফলন নয়, সঠিক সময়ে ফুল বাজারে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।

কখন ফুল ফুটবে—এই হিসাব ভুল হলে ভালো ফলন থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গাঁদার কাট-ফ্লাওয়ার সম্ভাবনা

গাঁদা প্রধানত মালা ও সাজসজ্জার জন্য ব্যবহৃত হলেও এর ফুলকে বিভিন্ন decorative arrangement-এ ব্যবহার করা যায়।

বড় ফুলের জাতগুলো bouquet, অনুষ্ঠানসজ্জা এবং অন্যান্য decoration-এ ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

তবে দীর্ঘ দূরত্বে কাট-ফ্লাওয়ার হিসেবে পরিবহনের ক্ষেত্রে ফুলের জাত, সংগ্রহের পর্যায় এবং post-harvest handling গুরুত্বপূর্ণ।

গাঁদা ও প্রাকৃতিক রং

গাঁদার পাপড়িতে carotenoid pigment থাকায় প্রাকৃতিক রঙের উৎস হিসেবে এর সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

বিশেষ করে হলুদ ও কমলা রঙের pigment বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রে মূল্যবান হতে পারে।

তবে ঘরে পাপড়ি দিয়ে কাপড় রাঙালেই তা সব ধরনের কাপড়ে স্থায়ী রং দেবে—এমন নয়। dye fixation, কাপড়ের ধরন এবং প্রক্রিয়াকরণ গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্য ও রঙের ব্যবহার

গাঁদার কিছু নির্দিষ্ট জাতের পাপড়ি খাদ্যসজ্জা বা food coloring-এর কাজে ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে।

কিন্তু সব ধরনের গাঁদা ফুল খাওয়ার জন্য নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

নার্সারি বা ফুলের দোকান থেকে কেনা ফুলে কীটনাশক বা অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহার করা থাকতে পারে। তাই খাদ্যে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত edible variety ও নিরাপদ উৎপাদন প্রক্রিয়া থাকা জরুরি।

গাঁদা থেকে essential oil

কিছু Tagetes প্রজাতি থেকে essential oil সংগ্রহ করা হয়।

এই তেলে বিভিন্ন volatile compound থাকে, যার কারণে বিশেষ ধরনের গন্ধ তৈরি হয়।

গবেষণা, সুগন্ধি শিল্প ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে এসব তেলের ব্যবহার নিয়ে কাজ হয়েছে।

তবে essential oil অত্যন্ত ঘন পদার্থ। তাই ফুলের পাপড়ি এবং essential oil-কে একই মাত্রায় ব্যবহারযোগ্য মনে করা উচিত নয়।

গাঁদার ঐতিহ্যগত ব্যবহার

গাঁদা ও Tagetes গণের বিভিন্ন উদ্ভিদকে বিভিন্ন অঞ্চলে লোকজ ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

পাতা, ফুল বা নির্যাস নিয়ে নানা ঐতিহ্যগত ব্যবহার রয়েছে।

কিন্তু লোকজ ব্যবহারের উপস্থিতি মানেই নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কার্যকারিতা নয়।

বিশেষ করে ঘরে তৈরি নির্যাস বা essential oil খাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকা দরকার।

টবে গাঁদা চাষ

গাঁদা টবেও খুব সহজে চাষ করা যায়।

বড় আকারের টবের পরিবর্তে জাত অনুযায়ী উপযুক্ত পাত্র বেছে নেওয়া উচিত।

টবের নিচে drainage hole থাকা অত্যন্ত জরুরি।

মাটি, জৈব সার ও drainage-এর ভারসাম্য ঠিক থাকলে বারান্দা, ছাদ বা ছোট বাগানেও গাঁদার চাষ করা যায়।

ছাদবাগানে গাঁদা

ছাদবাগানে গাঁদা একটি আকর্ষণীয় ফুলগাছ হতে পারে।

তবে ছাদে টব রাখার সময় ছাদের ভার বহনক্ষমতা, জল নিষ্কাশন এবং টবের অবস্থান বিবেচনা করা দরকার।

অতিরিক্ত জল যেন ছাদে জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বীজ সংগ্রহ

গাঁদার ফুল শুকিয়ে গেলে সঠিক সময়ে বীজ সংগ্রহ করা যায়।

স্বাস্থ্যকর ও ভালো ফুল দেওয়া গাছ থেকে বীজ নির্বাচন করলে পরবর্তী মৌসুমে ভালো planting material পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে hybrid জাতের ক্ষেত্রে নিজস্ব বীজ থেকে পরের প্রজন্মে একই বৈশিষ্ট্য নাও থাকতে পারে।

বাণিজ্যিক চাষে তাই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মানসম্মত বীজ কেনা গুরুত্বপূর্ণ।

গাঁদা চাষে অর্থনৈতিক হিসাব

গাঁদা চাষ তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ফুলচাষের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে লাভ নির্ভর করে—

  • বীজ ও চারার খরচ
  • জমি প্রস্তুতি
  • সার ও পরিচর্যা
  • শ্রম
  • সেচ
  • রোগ ও পোকামাকড়ের ক্ষতি
  • ফুল সংগ্রহের খরচ
  • বাজারদর
  • পরিবহন

এসবের ওপর।

শুধু বাজারদর দেখে লাভের হিসাব করা উচিত নয়।

স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায় গাঁদা

গাঁদার চারা বিক্রি করে ছোট নার্সারি ব্যবসা করা সম্ভব।

বিভিন্ন রঙ ও আকারের জাতের চারা আলাদাভাবে বিক্রি করা যায়।

বিশেষ করে উৎসবের আগে গৃহবাগানপ্রেমীদের মধ্যে ফুলের চারার চাহিদা বাড়তে পারে।

ভালো মানের চারা উৎপাদন, সুন্দর প্যাকেজিং এবং সঠিক সময়ে বাজারজাতকরণ এই ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ।

স্কুলের বাগানে গাঁদা

স্কুলের বাগানে গাঁদা লাগালে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও বিজ্ঞান—দুই বিষয়ই শিখতে পারে।

বীজ থেকে চারা, চারা থেকে গাছ, ফুলের কুঁড়ি, ফুল ফোটা, পরাগায়ন এবং বীজ তৈরি—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

গাঁদার ফুল কেটে ফুলের গঠন পরীক্ষা করেও উদ্ভিদবিজ্ঞানের পাঠ আকর্ষণীয় করা সম্ভব।

গাঁদা ও পরিবেশ সচেতনতা

একটি ছোট ফুলের বাগানও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিভিন্ন ফুলের গাছ থাকলে বিভিন্ন পতঙ্গ বাগানে আসতে পারে। একই সঙ্গে রাসায়নিক কীটনাশকের অযথা ব্যবহার কমানো গেলে উপকারী প্রাণীদের জন্য পরিবেশ আরও নিরাপদ হতে পারে।

ফুলের বাগান তাই শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়; এটি একটি ক্ষুদ্র ecological space হিসেবেও কাজ করতে পারে।

ভবিষ্যতের ফুলচাষ

ভবিষ্যতে ফুলচাষে শুধু বেশি ফুল উৎপাদন নয়, কম খরচে নিরাপদ উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত, post-harvest technology এবং সরাসরি বাজারজাতকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অনলাইন অর্ডার, স্থানীয় flower delivery এবং অনুষ্ঠানের জন্য সরাসরি সরবরাহ—এসব নতুন বাজারব্যবস্থাও ফুলচাষিদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

উপসংহার

গাঁদা ফুলকে আমরা প্রতিদিনের পরিচিত ফুল হিসেবেই দেখি। কিন্তু তার পেছনে রয়েছে উদ্ভিদবিজ্ঞানের চমৎকার গঠন, ফুলচাষের প্রযুক্তি এবং একটি বড় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

একটি গাঁদার “ফুল” আসলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ফুলের সমষ্টি। তার উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রং তৈরি হয় উদ্ভিদের বিশেষ pigment-এর মাধ্যমে। বীজ থেকে চারা তৈরি, pinching, ছাঁটাই, সেচ, রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে ফুল সংগ্রহ—প্রতিটি ধাপই ভালো ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি পূজা, উৎসব, বিবাহ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে গাঁদার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফুলের মালা থেকে শুরু করে বাগানসজ্জা ও নার্সারি ব্যবসা—বহু ক্ষেত্রেই এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, গাঁদা আমাদের শেখায় যে কৃষির মূল্য শুধু ধান, গম বা সবজিতে সীমাবদ্ধ নয়। একটি ছোট ফুলও কৃষকের আয়, মানুষের সংস্কৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে।

তাই গাঁদা শুধু একটি ফুল নয়—এটি ভারতীয় ফুলচাষ ও লোকজ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

Share This