Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

সাভিত্রীবাই ফুলে : নারীশিক্ষা ও সমাজসংস্কারের প্রথম দীপশিখা।

ভারতীয় সমাজসংস্কারের ইতিহাসে যে কয়েকজন নারী তাঁদের সাহস, কর্ম এবং আদর্শ দিয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাভিত্রীবাই ফুলে। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকাদের একজন, একজন কবি, সমাজসংস্কারক এবং নারীমুক্তির সংগ্রামের অন্যতম প্রধান মুখ। এমন এক সময়ে তিনি নারীশিক্ষার আলো জ্বালিয়েছিলেন, যখন মেয়েদের পড়াশোনা করা পাপ বলে মনে করা হতো।
সাভিত্রীবাই ফুলের জীবন কেবল একজন নারীর সাফল্যের ইতিহাস নয়; এটি অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজে শিক্ষা, সমতা এবং মানবিকতার জন্য এক নিরন্তর সংগ্রামের কাহিনি।
জন্ম ও শৈশব
সাভিত্রীবাই ফুলে ১৮৩১ সালের ৩ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের নাইগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা ছিলেন খান্ডোজি নেভসে এবং মাতা ছিলেন লক্ষ্মীবাই নেভসে।
তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার কোনো রীতি ছিল না। ফলে ছোটবেলায় তিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি।
অল্পবয়সে বিবাহ
মাত্র নয় বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় জ্যোতিরাও ফুলে-এর সঙ্গে।
জ্যোতিরাও ফুলে ছিলেন একজন অসাধারণ সমাজসংস্কারক এবং নারীশিক্ষার প্রবল সমর্থক।
বিয়ের পর তিনিই সাভিত্রীবাইকে পড়াশোনা শেখান।
এই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শিক্ষাজীবনের সূচনা
স্বামীর উৎসাহে সাভিত্রীবাই পড়াশোনা শুরু করেন।
পরে তিনি শিক্ষকতার প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।
এই সময়ে একজন বিবাহিত নারীর শিক্ষালাভ করা ছিল সমাজের চোখে প্রায় বিদ্রোহের সমান।
কিন্তু তিনি সেই বাধাকে পরোয়া করেননি।
ভারতের প্রথম কন্যাশিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা
১৮৪৮ সালে সাভিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও ফুলে পুনেতে ভারতের প্রথম কন্যাশিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
এটি ছিল ভারতীয় সমাজে এক বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপ।
সাভিত্রীবাই সেখানে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকাদের একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
এই বিদ্যালয়ে শুধু উচ্চবর্ণের নয়, নিম্নবর্ণ ও দলিত সম্প্রদায়ের মেয়েরাও পড়ার সুযোগ পেত।
সমাজের বিরোধিতা
সাভিত্রীবাই যখন স্কুলে পড়াতে যেতেন, তখন সমাজের রক্ষণশীল মানুষ তাঁকে অপমান করত।
অনেকে তাঁর দিকে কাদা, গোবর এবং পাথর ছুড়ে মারত।
কিন্তু তিনি থেমে যাননি।
তিনি সবসময় সঙ্গে একটি অতিরিক্ত শাড়ি নিয়ে বের হতেন, যাতে স্কুলে পৌঁছে নোংরা শাড়ি বদলে নিতে পারেন।
এই ঘটনা তাঁর দৃঢ়তা এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছার এক অসাধারণ উদাহরণ।
নারীশিক্ষা সম্পর্কে তাঁর ভাবনা
সাভিত্রীবাই বিশ্বাস করতেন—
“শিক্ষাই মুক্তির একমাত্র পথ।”
তাঁর মতে, অশিক্ষা মানুষকে অন্ধকারে রাখে এবং সমাজে শোষণ ও বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে।
তাই তিনি নারী, দলিত এবং প্রান্তিক মানুষের শিক্ষাকে সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন।
বিধবা ও নিপীড়িত নারীদের জন্য কাজ
সাভিত্রীবাই শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, নারীদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সে সময় বিধবা নারীদের জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ।
তাঁদের অনেকেই সামাজিক লাঞ্ছনা ও অবহেলার শিকার হতেন।
সাভিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও ফুলে বিধবাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেন।
এখানে তাঁরা নিরাপত্তা, খাদ্য এবং সহায়তা পেতেন।
বাল্যবিবাহ ও সতীদাহের বিরুদ্ধে অবস্থান
তিনি বাল্যবিবাহ, জাতপাত এবং নারীর ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।
তিনি মনে করতেন, সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারী ও নিম্নবর্ণের মানুষ সমান অধিকার পাবে।
‘বালহত্যা প্রতিরোধ গৃহ’
অবিবাহিত বা বিধবা নারীরা যাতে সমাজের ভয়ে নবজাতক সন্তানকে হত্যা করতে বাধ্য না হন, সেই উদ্দেশ্যে সাভিত্রীবাই একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ছিল বালহত্যা প্রতিরোধ গৃহ।
এটি ছিল মানবিকতার এক বিরল উদাহরণ।
সাহিত্যচর্চা
সাভিত্রীবাই ছিলেন একজন কবিও।
তাঁর কবিতায় শিক্ষা, আত্মমর্যাদা, মানবিকতা এবং সামাজিক সমতার কথা উঠে এসেছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কাব্যফুলে
বাওনকাশি সুবোধ রত্নাকার
তাঁর সাহিত্যকর্মও সমাজসংস্কারের বার্তা বহন করে।
সত্যশোধক সমাজে ভূমিকা
জ্যোতিরাও ফুলে প্রতিষ্ঠিত সত্যশোধক সমাজ-এর কার্যক্রমে সাভিত্রীবাই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল—
জাতপাতের বিরোধিতা
নারীশিক্ষা
সামাজিক সমতা
কুসংস্কার দূরীকরণ
জ্যোতিরাওয়ের মৃত্যুর পরও তিনি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
প্লেগ মহামারিতে মানবসেবা
১৮৯৭ সালে প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে পড়লে সাভিত্রীবাই অসুস্থ মানুষদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তিনি রোগীদের নিজে বহন করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন।
এই সেবাকাজ করতে গিয়েই তিনি প্লেগে আক্রান্ত হন।
১৮৯৭ সালের ১০ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অর্থাৎ, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও তিনি মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ
সাহস
সমাজের কটূক্তি, অপমান এবং আক্রমণের মুখেও তিনি থেমে যাননি।
মানবিকতা
প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষা-প্রেম
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানুষকে মুক্ত করে।
সমতার চেতনা
তিনি নারী, পুরুষ, উচ্চবর্ণ, নিম্নবর্ণ—সবাইকে সমান মর্যাদায় দেখতে চাইতেন।
নারী জাগরণে তাঁর গুরুত্ব
সাভিত্রীবাই ফুলে প্রমাণ করেছিলেন যে একজন নারীও সমাজের গভীরতম অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।
তাঁর কাজের ফলে—
নারীশিক্ষার পথ উন্মুক্ত হয়।
দলিত ও প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা প্রসারিত হয়।
বিধবা ও অসহায় নারীরা নতুন আশ্রয় পায়।
সমাজে সমতার ধারণা শক্তিশালী হয়।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা
সাভিত্রীবাই ফুলের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—
১. শিক্ষা হলো সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
২. অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত।
৩. নারীদের আত্মনির্ভর ও শিক্ষিত হওয়া জরুরি।
৪. সমাজের দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক কর্তব্য।
৫. দৃঢ় সংকল্প থাকলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উত্তরাধিকার
আজ ভারতের অসংখ্য বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, নারীশিক্ষা আন্দোলন এবং সামাজিক সংগঠন সাভিত্রীবাই ফুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত।
তাঁর জন্মদিন ৩ জানুয়ারি বহু জায়গায় নারীশিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
তিনি শুধু একজন শিক্ষিকা নন, তিনি ছিলেন সামাজিক বিপ্লবের এক অনন্য পথিকৃৎ।
উপসংহার
সাভিত্রীবাই ফুলে ছিলেন এমন এক মহীয়সী নারী, যিনি শিক্ষা, মানবিকতা এবং সামাজিক সমতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে কলম, শিক্ষা এবং সাহস দিয়ে সমাজের সবচেয়ে শক্ত প্রাচীরও ভেঙে ফেলা যায়।
আজকের দিনে যখন নারীশিক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে আমরা কথা বলি, তখন সাভিত্রীবাই ফুলের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তিনি শুধু ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকাদের একজন নন, তিনি ছিলেন নারী জাগরণের প্রথম দীপশিখা—যাঁর আলো আজও ভারতীয় সমাজকে পথ দেখিয়ে চলেছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব উট দিবস : মরুভূমির জাহাজের গুরুত্ব, চ্যালেঞ্জ ও সংরক্ষণ।

ভূমিকা

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে উট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য প্রাণী। বিশেষ করে মরুভূমি অঞ্চলে মানুষের জীবনধারা, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে উটের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এই অসাধারণ প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এর সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতি বছর ২২ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় “বিশ্ব উট দিবস”।

উটকে সাধারণত “মরুভূমির জাহাজ” বলা হয়, কারণ এটি কঠিন মরুভূমির পরিবেশে সহজে চলাচল করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পানি ও খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকতে সক্ষম। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির উন্নয়ন হলেও, অনেক অঞ্চলে এখনও উট মানুষের প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এই প্রাণীটি বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

উটের পরিচয় ও প্রজাতি

উট মূলত দুই প্রকারের হয়—
১. ড্রোমেডারি উট (এক কুঁজবিশিষ্ট)
২. ব্যাকট্রিয়ান উট (দুই কুঁজবিশিষ্ট)

ড্রোমেডারি উট প্রধানত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া যায়, যেখানে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি। অন্যদিকে ব্যাকট্রিয়ান উট মধ্য এশিয়ার ঠান্ডা মরুভূমিতে বসবাস করে।

উটের শরীর গঠন এমনভাবে তৈরি যে এটি চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। এর কুঁজে চর্বি সঞ্চিত থাকে, যা প্রয়োজনে শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর পা চওড়া এবং নরম, যা বালির ওপর সহজে চলাচল করতে সাহায্য করে।

উটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

১. পানি ছাড়া বেঁচে থাকার ক্ষমতা

উট কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। এটি শরীরে পানি সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে।

২. তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা

উট ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এর শরীর এমনভাবে অভিযোজিত যে এটি অতিরিক্ত ঘাম না ঝরিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

৩. শক্তিশালী চলাচল ক্ষমতা

উট দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভার বহন করতে সক্ষম। তাই মরুভূমি অঞ্চলে এটি পরিবহনের একটি প্রধান মাধ্যম।

৪. খাদ্যাভ্যাস

উট সাধারণত শুষ্ক ঘাস, কাঁটাযুক্ত গাছ এবং মরুভূমির অন্যান্য উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে, যা অন্য প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত নয়।

মানুষের জীবনে উটের গুরুত্ব

১. পরিবহন

প্রাচীনকাল থেকে উট মরুভূমিতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখনও অনেক অঞ্চলে এটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

২. অর্থনৈতিক গুরুত্ব

উট থেকে দুধ, মাংস, চামড়া এবং লোম পাওয়া যায়। উটের দুধ পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং অনেক দেশে এটি জনপ্রিয় খাদ্য।

৩. কৃষিকাজে ভূমিকা

কিছু অঞ্চলে উট কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন জমি চাষ করা বা পানি টানা।

৪. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

উট অনেক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। বিভিন্ন উৎসব, খেলাধুলা এবং লোকসংস্কৃতিতে উটের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

বিশ্ব উট দিবসের উদ্দেশ্য

বিশ্ব উট দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো—

  • উটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
  • উট সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা
  • উট নির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন
  • গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম উৎসাহিত করা

উটের জন্য হুমকি

১. জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উটের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পরিবর্তিত হচ্ছে, যা তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে।

২. আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা

গাড়ি ও অন্যান্য আধুনিক যানবাহনের কারণে উটের ব্যবহার কমে যাচ্ছে।

৩. রোগব্যাধি

উট বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।

৪. অবহেলা ও অবমূল্যায়ন

অনেক অঞ্চলে উটের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় মানুষ এর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উপায়

১. গবেষণা ও প্রযুক্তি

উটের স্বাস্থ্য, খাদ্য এবং প্রজনন নিয়ে গবেষণা করতে হবে।

২. সচেতনতা বৃদ্ধি

মানুষকে উটের গুরুত্ব সম্পর্কে জানাতে হবে।

৩. সরকারী উদ্যোগ

সরকারকে উট সংরক্ষণে নীতি গ্রহণ করতে হবে।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

বিভিন্ন দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে উট সংরক্ষণের জন্য।

ভারতের প্রেক্ষাপট

ভারতে বিশেষ করে রাজস্থান অঞ্চলে উটের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এখানে উট পরিবহন, কৃষিকাজ এবং পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উটের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

উপসংহার

উট শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি মানব সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মরুভূমির কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য উটের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই প্রাণীটি ক্রমেই অবহেলিত হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব উট দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের উচিত এই মূল্যবান প্রাণীটিকে রক্ষা করা এবং এর গুরুত্বকে সম্মান করা। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যতে এই প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে চলে যেতে পারে।

তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে উট সংরক্ষণে এগিয়ে আসি এবং একটি টেকসই পরিবেশ গঠনে ভূমিকা রাখি।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব রেইনফরেস্ট দিবস: পৃথিবীর সবুজ ফুসফুস রক্ষার লড়াই ।

ভূমিকা:- পৃথিবীর পরিবেশব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রেইনফরেস্ট বা বর্ষাবন। এই বনভূমিগুলোকে প্রায়ই পৃথিবীর “সবুজ ফুসফুস” বলা হয়, কারণ এগুলো বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে। প্রতি বছর ২২ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় “বিশ্ব রেইনফরেস্ট দিবস”, যার মূল উদ্দেশ্য হলো রেইনফরেস্ট সংরক্ষণ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করার জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করা।

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, এবং পরিবেশ দূষণের কারণে রেইনফরেস্ট মারাত্মক হুমকির মুখে। তাই এই দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক আহ্বান—পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বাঁচাতে রেইনফরেস্টকে রক্ষা করতে হবে।

রেইনফরেস্ট কী?

রেইনফরেস্ট হলো এমন একটি বনভূমি যেখানে সারা বছর ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সাধারণত বছরে ২০০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয় এমন অঞ্চলে এই বন গড়ে ওঠে। এই বনগুলো প্রধানত দুটি প্রকারের হয়:
১. ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট (ক্রান্তীয় বর্ষাবন)
২. টেম্পারেট রেইনফরেস্ট (নাতিশীতোষ্ণ বর্ষাবন)

ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট সাধারণত বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে যেমন অ্যামাজন, কঙ্গো বেসিন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। অন্যদিকে, টেম্পারেট রেইনফরেস্ট তুলনামূলক শীতল অঞ্চলে যেমন উত্তর আমেরিকা এবং নিউজিল্যান্ডে পাওয়া যায়।

রেইনফরেস্টের গুরুত্ব

১. জীববৈচিত্র্যের আধার

রেইনফরেস্ট পৃথিবীর মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৫০% ধারণ করে, যদিও এটি পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ৬-৭% জুড়ে বিস্তৃত। অসংখ্য উদ্ভিদ, প্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ এবং অণুজীব এই বনে বসবাস করে। এর অনেক প্রজাতিই এখনও অজানা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কৃত হয়নি।

২. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ

রেইনফরেস্ট বিশাল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং জলবায়ুকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি এই বনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বিপুল পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডলে মুক্তি পাবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

৩. জলচক্রে ভূমিকা

রেইনফরেস্ট বৃষ্টিপাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গাছপালা থেকে জলীয় বাষ্প নির্গত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। ফলে এটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক জলচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪. ঔষধের উৎস

বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উপাদান রেইনফরেস্ট থেকে আসে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্রায় ২৫% ওষুধের উপাদান এই বন থেকে সংগৃহীত। ভবিষ্যতে আরও নতুন ওষুধ আবিষ্কারের সম্ভাবনাও এই বনেই লুকিয়ে আছে।

৫. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল

বিশ্বের লক্ষ লক্ষ আদিবাসী মানুষ রেইনফরেস্টে বসবাস করে এবং তাদের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও জীবিকা এই বনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। বন ধ্বংস হলে তাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ে।

রেইনফরেস্ট ধ্বংসের কারণ

১. বন উজাড় (Deforestation)

কৃষি সম্প্রসারণ, পশুপালন, কাঠ সংগ্রহ এবং অবৈধ বন কাটার কারণে রেইনফরেস্ট দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যামাজন বনভূমিতে ব্যাপকভাবে বন উজাড় হচ্ছে।

২. শিল্পায়ন ও নগরায়ন

রাস্তা নির্মাণ, খনি খনন এবং শহর সম্প্রসারণের ফলে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে।

৩. জলবায়ু পরিবর্তন

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা রেইনফরেস্টের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

৪. আগুন লাগা

মানুষের অবহেলা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো আগুন বন ধ্বংসের একটি বড় কারণ।

বিশ্ব রেইনফরেস্ট দিবসের উদ্দেশ্য

বিশ্ব রেইনফরেস্ট দিবস পালনের প্রধান লক্ষ্য হলো—

  • রেইনফরেস্টের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
  • বন সংরক্ষণে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা
  • পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা উৎসাহিত করা
  • নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে তারা পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেন

সংরক্ষণের উপায়

১. টেকসই বন ব্যবস্থাপনা

বন সম্পদ ব্যবহার করতে হবে এমনভাবে যাতে তা ভবিষ্যতেও টিকে থাকে।

২. পুনঃবনায়ন

বন উজাড় হওয়া এলাকায় নতুন করে গাছ লাগানো জরুরি।

৩. সচেতনতা বৃদ্ধি

মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে।

৪. আইন প্রয়োগ

অবৈধ বন কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

রেইনফরেস্ট সংরক্ষণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই এর সমাধানও আন্তর্জাতিকভাবে করতে হবে।

ভারতের প্রেক্ষাপট

ভারতেও উল্লেখযোগ্য রেইনফরেস্ট রয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমঘাট এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এই বনগুলো জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানেও বন উজাড় এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে পরিবেশ হুমকির মুখে।

উপসংহার

রেইনফরেস্ট শুধুমাত্র একটি বন নয়, এটি পৃথিবীর জীবনধারার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, খাদ্য, ঔষধ এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতা প্রদান করে। কিন্তু মানুষের অসচেতনতা ও লোভের কারণে এই বনভূমি ধ্বংসের পথে।

বিশ্ব রেইনফরেস্ট দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এখনই সময় পদক্ষেপ নেওয়ার। যদি আমরা আজই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবী পাবে। তাই আমাদের সবার উচিত পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসা এবং রেইনফরেস্ট সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।

“পৃথিবী আমাদের নয়, আমরা পৃথিবীর”—এই সত্যকে উপলব্ধি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে।

Share This
Categories
বিবিধ

বেতন বৃদ্ধির ঘোষণায় স্বস্তি, তবে আরও বাড়ানোর দাবি সিভিক ভলান্টিয়ারদের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সোমবার রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট পেশ করল বিধানসভায়। আর পেশ হওয়া বাজেটে বেতন বৃদ্ধি ঘটল রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের। বেতন বাড়ল মাসিক দুই হাজার টাকা। আর বেতন বৃদ্ধিতে মালদার সিভিক ভলান্টিয়ার মহলে উঠে এল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে, অনেকেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেন, আবার কেউ কেউ জানালেন, মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধিতে খুব একটা সুরাহা হবেনা। তারা সম্মানজনক বেতন বৃদ্ধির আশা করেছিলেন। যাতে বেতন বৃদ্ধির পর তারা ভালোভাবে তাদের সংসার প্রতিপালন করতে পারেন। কিন্তু মাত্র দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধিতে তা সম্ভবপর হয়। আরও কিছুটা বেতন বাড়লে ভালো হত।

Share This
Categories
বিবিধ

হরিশ্চন্দ্রপুরে স্ট্যান্ড দখল করে গড়া স্থাপনা ভাঙা শুরু, তৎপর থানা প্রশাসন।

মালদা, নিজস্বসংবাদদাতা:– দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হল সোমবার। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার উদ্যোগে বুলডোজার দিয়ে ওই নির্মাণগুলি অপসারণের কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড দখল করে দলীয় কার্যালয়,দোকান, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট-সহ একাধিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিকবার আন্দোলন ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এবং চাঁচল মহকুমা শাসকের দফতরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও পরবর্তীতে মহকুমা শাসকের পক্ষ থেকে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ জারি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসন অবশেষে ওই নির্দেশ কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। এদিন এলাকার বহু মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসা বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

Share This
Categories
বিবিধ

জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের উপস্থিতিতে মালদায় যোগ দিবস পালন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রবিবার ২১শে জুন দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। তাই সারা দেশের সাথে মালদাতেও দিনটি পালিত হচ্ছে যোগচর্চার নানান কর্মসূচি রূপায়ণের মাধ্যমে।রবিবার সাত সকালে মালদা জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হল মালদা শহরের সত্য চৌধুরী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। হাজির ছিলেন জেলাশাসক রাজেনবীর সিং কাপুর, জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এদিন তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী সহ বহু সাধারণ মানুষকে নিয়ে সত্য চৌধুরী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত যোগ শিবিরে অংশ নেন। নানান ধরনের যোগাভ্যাস ও প্রাণায়াম করেন। আর এই মাধ্যমেই শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য নিয়মিত যোগাচর্চা করা বার্তা তুলে ধরেন সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে।

Share This
Categories
বিবিধ

গুরুদুয়ারা ও অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, মালদা সফরে আসছেন রাজ্যপাল।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্যপাল আর. এন. রবির আসন্ন মালদা সফরকে কেন্দ্র করে জোরকদমে চলছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি। তিনি পুরাতন মালদার শর্বরী এলাকায় অবস্থিত গুরুদুয়ারা এবং কালাচাঁদ স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।রাজ্যপালের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শনিবার পরিদর্শনে যান মালদা জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়, ডিএসপি (ট্রাফিক) মুঙ্গেস সুব্বা, মালদা থানার আইসি গোপাল বিশ্বাস-সহ পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের সুবিধার বিষয়গুলি পর্যালোচনা করেন আধিকারিকরা। রাজ্যপালের সফরকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তরফে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

সিম কার্ডের দাবিতে আইসিডিএস অফিসের সামনে বিক্ষোভ, সরব কর্মী সমিতি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— একদিকে রাজ্যের বাজেট পেশ অন্য বামনগোলায় মোবাইল ফোন দেওয়া হলেও সিম কার্ড না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন পশ্চিমবঙ্গ আইসিডিএস কর্মী সমিতির বামনগোলা ব্লক কমিটির সদস্যরা। সোমবার বামনগোলা ব্লক আইসিডিএস অফিসের সামনে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি মিছিল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

সংগঠনের নেত্রী শিপ্রা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে আইসিডিএস কর্মীরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন দেওয়া হলেও কোনও সিম কার্ড সরবরাহ করা হয়নি। ফলে ব্যক্তিগত সিম ব্যবহার করেই মিড-ডে মিল সংক্রান্ত সরকারি অ্যাপ পরিচালনা করতে বলা হচ্ছে।

শিপ্রা চক্রবর্তী বলেন, সরকারি মোবাইলে ব্যক্তিগত সিম ব্যবহার করতে বাধ্য করা হলে কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এদিন ব্লক আইসিডিএস অফিসে সিডিপিও উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অফিসে এলে তাঁদের দাবিদাওয়া লিখিতভাবে জানানো হবে।আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

Share This
Categories
বিবিধ

রাহুল গান্ধীর সমর্থনে কোচবিহারে কংগ্রেসে একঝাঁক সমাজসেবীর যোগদান।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কুচবিহার জেলা কংগ্রেসের আপসহীন সংগ্রামী নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পি.সি.সি-র লড়াকু সদস্যা ছায়া রানী বর্মন ও ছাত্র-যুব আন্দোলনের আপসহীন নেতা মাসুম আক্তারের যৌথ নেতৃত্বে কোচবিহার ১ নং ব্লকে বিশিষ্ট সমাজসেবীদের কংগ্রেসে গণযোগদান: ২০২৯-এ রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করার সংকল্প
গণযোগদান: কোচবিহার ১ নং ব্লকে রাজনৈতিক আলোড়ন। কোনো দল থেকে নয়, সমাজের মূল স্রোত থেকে একঝাঁক শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ সমাজসেবী আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন জাতীয় কংগ্রেসে।
নেতৃত্ব: প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কুচবিহার জেলা কংগ্রেসের আপসহীন সংগ্রামী নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পি.সি.সি-র লড়াকু সদস্যা ছায়া রানী বর্মন ও ছাত্র-যুব আন্দোলনের আপসহীন নেতা মাসুম আক্তারের যৌথ নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি সফল হয়।
মূল লক্ষ্য: বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্ম ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জননেতা রাহুল গান্ধীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প নিয়ে তেরঙা পতাকা হাতে তুলে নেন।
এক নজরে শীর্ষ নেতাদের মূল বক্তব্য:
রাজিব হোসেন (নবাগত সমাজসেবী নেতা):
“আমরা আগে কোনো দল করতাম না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। যুবসমাজ ও দেশের স্বার্থে রাহুল গান্ধী যেভাবে লড়াই করছেন, আমরা নির্ভয়ে তাঁর পাশে থেকে ২০২৯-এ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।”

সুব্রত মুখোপাধ্যায় (প্রদেশ কংগ্রেস নেতা):
“বিজেপি দেশজুড়ে বিভাজনের ও ধ্বংসের রাজনীতি চালাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষ আজ বিপদে। এই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র রাহুল গান্ধী বুক চিতিয়ে লড়ছেন, আর তাঁর হাত শক্ত করতেই আজ শিক্ষিত যুবসমাজ কংগ্রেসে শামিল হচ্ছে।”

মাসুম আক্তার (ছাত্র- নেতা):
“সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মেধাভিত্তিক চাকরির দাবিতে বাংলায় বদল এনেছিল। কিন্তু এই এক মাসে বিজেপি প্রতিটি ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর ছক কষছে। কোচবিহার ১ নং ব্লকের এই সচেতন তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনের উত্তরসূরী, যারা এই সাম্প্রদায়িকতার বীজকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

নিউজ জিস্ট: কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করে দেশের হারানো গৌরব ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে কোচবিহারের বুথে বুথে যুব সমাজ আজ বিপুল উৎসাহ ও সাহস নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠিত political দলের কর্মী ভাঙানোর চেয়ে সমাজের নিরপেক্ষ, শিক্ষিত ও সচেতন সমাজসেবীদের কংগ্রেসে আসার এই প্রবণতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান কোচবিহার জেলায় কংগ্রেসের ভিতকে নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই মজুগত করবে।

Share This
Categories
বিবিধ

তরুণ সমাজসেবীদের হাতে তেরঙা, কোচবিহারে কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি।।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কুচবিহার জেলা কংগ্রেসের আপসহীন সংগ্রামী নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পি.সি.সি-র লড়াকু সদস্যা ছায়া রানী বর্মন ও ছাত্র-যুব আন্দোলনের আপসহীন নেতা মাসুম আক্তারের যৌথ নেতৃত্বে কোচবিহার ১ নং ব্লকে বিশিষ্ট সমাজসেবীদের কংগ্রেসে গণযোগদান: ২০২৯-এ রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করার সংকল্প
*গণযোগদান:* কোচবিহার ১ নং ব্লকে রাজনৈতিক আলোড়ন। কোনো দল থেকে নয়, সমাজের মূল স্রোত থেকে একঝাঁক শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ সমাজসেবী আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন জাতীয় কংগ্রেসে।
*নেতৃত্ব:* প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কুচবিহার জেলা কংগ্রেসের আপসহীন সংগ্রামী নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পি.সি.সি-র লড়াকু সদস্যা ছায়া রানী বর্মন ও ছাত্র-যুব আন্দোলনের আপসহীন নেতা মাসুম আক্তারের যৌথ নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি সফল হয়।
*মূল লক্ষ্য:* বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্ম ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জননেতা রাহুল গান্ধীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প নিয়ে তেরঙা পতাকা হাতে তুলে নেন।
এক নজরে শীর্ষ নেতাদের মূল বক্তব্য:
*রাজিব হোসেন (নবাগত সমাজসেবী নেতা):*
*”আমরা আগে কোনো দল করতাম না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। যুবসমাজ ও দেশের স্বার্থে রাহুল গান্ধী যেভাবে লড়াই করছেন, আমরা নির্ভয়ে তাঁর পাশে থেকে ২০২৯-এ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।”*

*সুব্রত মুখোপাধ্যায় (প্রদেশ কংগ্রেস নেতা):*
*”বিজেপি দেশজুড়ে বিভাজনের ও ধ্বংসের রাজনীতি চালাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষ আজ বিপদে। এই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র রাহুল গান্ধী বুক চিতিয়ে লড়ছেন, আর তাঁর হাত শক্ত করতেই আজ শিক্ষিত যুবসমাজ কংগ্রেসে শামিল হচ্ছে।”*

*মাসুম আক্তার (ছাত্র- নেতা):*
*”সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মেধাভিত্তিক চাকরির দাবিতে বাংলায় বদল এনেছিল। কিন্তু এই এক মাসে বিজেপি প্রতিটি ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর ছক কষছে। কোচবিহার ১ নং ব্লকের এই সচেতন তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনের উত্তরসূরী, যারা এই সাম্প্রদায়িকতার বীজকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”*

*নিউজ জিস্ট:* কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করে দেশের হারানো গৌরব ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে কোচবিহারের বুথে বুথে যুব সমাজ আজ বিপুল উৎসাহ ও সাহস নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠিত political দলের কর্মী ভাঙানোর চেয়ে সমাজের নিরপেক্ষ, শিক্ষিত ও সচেতন সমাজসেবীদের কংগ্রেসে আসার এই প্রবণতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান কোচবিহার জেলায় কংগ্রেসের ভিতকে নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই মজুগত করবে।

Share This