দ্বিতীয় পর্ব — নির্ভয়পুরের বাড়ি
রাত তখন প্রায় একটা।
ট্রেনটা অন্ধকার পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে চলেছে।
জানালার বাইরে তাকিয়ে অর্ক শুধু কালো পাহাড়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে দূরে কোনো অজানা গ্রামের দু-একটা আলো দেখা যাচ্ছিল, তারপর মুহূর্তের মধ্যেই সেগুলো অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু অর্কের চোখ বাইরে ছিল না।
তার চোখ আটকে ছিল সামনের সিটে।
সেই সিটে কিছুক্ষণ আগেও বসেছিল মেয়েটি।
মেঘলা।
অথবা যে মেয়েটিকে সে মেঘলা ভেবেছিল।
এখন সেখানে কেউ নেই।
শুধু পড়ে আছে সেই নীল খাম।
অর্ক খামটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল।
তার হাত কাঁপছিল।
তিন বছর ধরে যে মানুষটাকে সে খুঁজে বেড়িয়েছে, সেই মানুষ হঠাৎ তার সামনে এসে আবার অদৃশ্য হয়ে গেল।
এটা কি সত্যিই ঘটেছে?
নাকি সবটাই তার কল্পনা?
অর্ক নিজের গালে চিমটি কাটল।
ব্যথা পেল।
না, সে জেগেই আছে।
তারপর সে আবার খামের দিকে তাকাল।
খামের ওপর লেখা—
“অর্কের জন্য—তিন বছর আগে যে সত্যিটা বলা হয়নি।”
সে ধীরে ধীরে খামটা খুলল।
ভেতরে একটা মাত্র কাগজ।
কাগজটা বের করতেই একটা পরিচিত গন্ধ পেল সে।
জুঁই ফুলের গন্ধ।
অর্কের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
এই গন্ধটা সে চিনত।
মেঘলার গায়ে সবসময় এই গন্ধ থাকত।
চিঠিতে লেখা—
“অর্ক,
যদি তুমি এই চিঠিটা পড়ো, তার অর্থ তুমি শেষ পর্যন্ত নির্ভয়পুরে পৌঁছেছ।
তোমাকে অনেক কথা বলা দরকার ছিল। কিন্তু সেই সময় আমি বলতে পারিনি।
তুমি যাকে আমার বাড়ি বলে জানো, সেটা আসলে আমার বাড়ি নয়।
আর যাকে তুমি আমার বাবা বলে চিনেছিলে, তিনি আমার বাবা নন।
সবচেয়ে বড় কথা—
তোমার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা তিন বছর আগে হয়নি।
আমাদের দেখা হয়েছিল তারও অনেক আগে।
তুমি শুধু সেটা মনে করতে পারছ না।
নির্ভয়পুরে পৌঁছে পুরনো পাহাড়ি রাস্তার শেষে যে বাড়িটা দেখবে, সেখানে যেও।
বাড়ির দরজা খোলা থাকবে।
কিন্তু ভেতরে ঢোকার আগে একটা কথা মনে রেখো—
যে ঘরে ঘড়ি নেই, সেই ঘরে কখনও আয়নায় নিজের মুখ দেখবে না।
—মেঘলা”
অর্ক চিঠিটা পড়ে স্থির হয়ে গেল।
তার মাথায় যেন একসঙ্গে হাজারটা প্রশ্ন আছড়ে পড়ল।
“আমাদের দেখা তিন বছর আগে হয়নি।”
তাহলে কবে?
সে কি মেঘলাকে আগে থেকেই চিনত?
কিন্তু কেন তার কিছুই মনে নেই?
আর মেঘলার বাবা তার বাবা নন—এর অর্থ কী?
অর্ক চোখ বন্ধ করল।
তার মাথার ভেতর হঠাৎ কিছু অস্পষ্ট ছবি ভেসে উঠল।
একটা পুরনো বাড়ি।
একটা কাঠের দরজা।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছোট্ট ছেলে।
আর তার পাশে একটা মেয়ে।
মেয়েটার হাতে লাল ফিতা বাঁধা।
ছেলেটা বলছে—
“তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?”
মেয়েটা হাসছে।
তারপর একটা প্রচণ্ড শব্দ।
আগুন।
চিৎকার।
অন্ধকার।
অর্ক হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।
সে হাঁপাচ্ছিল।
কপালে ঘাম।
“আমি এসব কী দেখলাম?”
ঠিক তখনই কামরার দরজার কাছে একটা শব্দ হলো।
ঠক।
অর্ক তাকাল।
কেউ নেই।
আবার শব্দ।
ঠক।
ঠক।
কেউ যেন বাইরে থেকে দরজায় আঘাত করছে।
অর্ক উঠে দাঁড়াল।
“কে?”
কোনো উত্তর নেই।
সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
হাত বাড়িয়ে দরজা খুলতে যাবে—
ঠিক তখনই পাশের কামরা থেকে একজন বৃদ্ধ ছুটে এসে তার হাত চেপে ধরলেন।
“খুলবেন না!”
অর্ক চমকে গেল।
বৃদ্ধের বয়স ষাটের বেশি।
চোখ দুটো অস্বাভাবিক বড়।
“কেন?”
বৃদ্ধ ফিসফিস করে বললেন,
“ওটা যাত্রী নয়।”
অর্কের গলা শুকিয়ে গেল।
“তাহলে?”
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না।
দরজার ওপাশে আবার শব্দ হলো।
ঠক।
তারপর একটা নারীকণ্ঠ—
“অর্ক…”
অর্কের শরীর জমে গেল।
মেঘলার গলা!
“অর্ক, দরজা খোলো।”
অর্ক বৃদ্ধের দিকে তাকাল।
বৃদ্ধ এবার তার হাত আরও শক্ত করে ধরলেন।
“যে-ই ডাকুক, খুলবেন না।”
“কিন্তু—”
“আপনি নির্ভয়পুর যাচ্ছেন?”
অর্ক অবাক।
“হ্যাঁ।”
বৃদ্ধ কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
তারপর বললেন,
“তাহলে এখন থেকেই সাবধান হন।”
“কীসের?”
বৃদ্ধ নিচু গলায় বললেন,
“নির্ভয়পুরে রাতের পর কেউ কাউকে নিজের নামে ডাকে না।”
অর্ক কিছু বুঝতে পারল না।
“মানে?”
বৃদ্ধ আর কিছু বললেন না।
দরজার ওপাশ থেকে আবার মেঘলার কণ্ঠ এল—
“অর্ক… আমি ভয় পাচ্ছি।”
অর্কের বুক কেঁপে উঠল।
সে দরজা খুলতে যাচ্ছিল।
বৃদ্ধ চিৎকার করে বললেন,
“না!”
ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেন একটা টান দিয়ে থেমে গেল।
বাইরে নিস্তব্ধতা।
দরজার ওপাশেও কোনো শব্দ নেই।
অর্ক আর বৃদ্ধ দুজনেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।
কয়েক সেকেন্ড পর ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে নিজের সিটে ফিরে গেলেন।
অর্ক তার পিছু নিল।
“আপনি নির্ভয়পুর সম্পর্কে এত কিছু জানেন কীভাবে?”
বৃদ্ধ জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
“আমি সেখানেই থাকি।”
“তাহলে আপনি আমাকে বলুন—মেঘলা কে?”
বৃদ্ধের মুখের রং বদলে গেল।
তিনি অর্কের দিকে তাকালেন।
“আপনি মেঘলার নাম জানেন?”
“হ্যাঁ।”
“কে আপনাকে এই নাম বলেছে?”
“সে নিজে।”
বৃদ্ধের চোখে আতঙ্ক ফুটে উঠল।
“অসম্ভব।”
“কেন?”
বৃদ্ধ কোনো উত্তর দিলেন না।
শুধু বললেন,
“নির্ভয়পুরে পৌঁছলে স্টেশন থেকে সরাসরি বেরিয়ে যাবেন। কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। আর যদি কেউ আপনাকে বলে—‘মেঘলা নেই’—তাহলে তার সঙ্গে কথা বলবেন না।”
অর্ক এবার রীতিমতো বিরক্ত।
“সবাই মেঘলার কথা শুনলেই এমন আচরণ করছে কেন?”
বৃদ্ধ চুপ করে রইলেন।
তারপর পকেট থেকে একটা ছোট্ট পুরনো ছবি বের করে অর্কের হাতে দিলেন।
“এটা দেখুন।”
অর্ক ছবিটা হাতে নিল।
ছবিটা পুরনো।
ধুলো জমে গেছে।
তাতে একটা বাড়ির সামনে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে।
একজন পুরুষ।
একজন মহিলা।
একটা ছোট ছেলে।
আর—
একটা ছোট মেয়ে।
অর্কের হাত কেঁপে উঠল।
ছোট মেয়েটার মুখ মেঘলার মতো।
কিন্তু তার পাশের ছোট ছেলেটা—
অর্কের মতো দেখতে।
ছবির পেছনে লেখা—
“নির্ভয়পুর, ১৭ জুলাই ২০০১।”
অর্কের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
“এটা কী?”
বৃদ্ধ বললেন,
“আপনি এই ছবির ছেলেটাকে চেনেন?”
অর্ক ছবির দিকে তাকিয়ে বলল,
“না।”
বৃদ্ধ ধীরে বললেন,
“ছেলেটার নাম ছিল অর্ণব।”
অর্ক মাথা তুলল।
“অর্ণব?”
“হ্যাঁ।”
“তারপর?”
“সে মারা যায়।”
অর্কের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“কবে?”
বৃদ্ধ জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
“২০০১ সালের সেই রাতেই।”
অর্কের চোখ ছবিতে আটকে গেল।
“কীভাবে?”
বৃদ্ধ বললেন,
“আগুনে।”
অর্ক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে বলল,
“আর মেয়েটা?”
বৃদ্ধ এবার তার দিকে তাকালেন।
“মেয়েটার নাম মেঘলা।”
অর্কের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
“সে বেঁচে ছিল?”
বৃদ্ধ বললেন,
“হ্যাঁ।”
“তাহলে এখন কোথায়?”
বৃদ্ধের চোখে অদ্ভুত একটা ছায়া পড়ল।
“সেটাই তো রহস্য।”
ট্রেনের গতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল।
দূরে একটা সাইনবোর্ড দেখা গেল।
নির্ভয়পুর — ২ কিলোমিটার।
অর্কের বুকের মধ্যে যেন ঢাক বাজতে লাগল।
আরও কয়েক মিনিট পর ট্রেন স্টেশনে ঢুকল।
নির্ভয়পুর স্টেশন অদ্ভুতভাবে নিস্তব্ধ।
একটাও যাত্রী নেই।
কোনো চায়ের দোকান নেই।
কোনো কুলি নেই।
শুধু একটা পুরনো বাতি দুলছে।
অর্ক ট্রেন থেকে নামল।
পিছনে তাকিয়ে দেখল বৃদ্ধও নামছেন।
“আপনি কোথায় যাবেন?” অর্ক জিজ্ঞেস করল।
বৃদ্ধ বললেন,
“আমার বাড়ি।”
“আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারি?”
বৃদ্ধ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন,
“আপনি যদি আমার সঙ্গে যান, তাহলে হয়তো আজ রাতটা বেঁচে যাবেন।”
অর্ক থমকে গেল।
“আর যদি না যাই?”
বৃদ্ধ বললেন,
“তাহলে আপনি সেই বাড়িতে যাবেন।”
“কোন বাড়ি?”
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন—
“যে বাড়ির কথা মেঘলা আপনাকে বলেছে।”
অর্ক কিছু না বলে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেল।
বাইরে তখনও বৃষ্টি।
পাহাড়ি রাস্তা অন্ধকার।
একটা পুরনো ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে ছিল।
ড্রাইভার অর্কের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কোথায় যাবেন?”
অর্ক বলল,
“পুরনো পাহাড়ি রাস্তা।”
ড্রাইভার সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
“ওদিকে গাড়ি যায় না।”
“কেন?”
“রাস্তা খারাপ।”
“আমি যাব।”
ড্রাইভার কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
“আপনি কি অর্ক?”
অর্কের বুকের ভেতর কেঁপে উঠল।
“আপনি আমার নাম জানেন?”
ড্রাইভার কোনো উত্তর দিল না।
শুধু গাড়ির দরজা খুলে দিল।
অর্ক উঠে বসল।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
প্রায় বিশ মিনিট পর শহর শেষ হয়ে গেল।
তারপর শুধু পাহাড়।
গাছ।
কুয়াশা।
আর বৃষ্টি।
হঠাৎ ড্রাইভার বলল,
“সাহেব, একটা কথা বলব?”
“বলুন।”
“আপনি যে বাড়িতে যাচ্ছেন, সেখানে আগে কখনও গেছেন?”
অর্ক চুপ করে বলল,
“না।”
ড্রাইভার আয়নায় তার দিকে তাকাল।
“আপনি নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
ড্রাইভার মৃদু হেসে বলল,
“কিন্তু বাড়িটা আপনাকে চিনবে।”
অর্ক কিছু বলল না।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামল।
সামনে বিশাল একটা লোহার গেট।
গেটের ওপারে পুরনো দোতলা বাড়ি।
দেয়ালে শ্যাওলা।
জানালার কাচ ভাঙা।
বাড়িটাকে দেখে অর্কের বুকের মধ্যে হঠাৎ অদ্ভুত একটা পরিচিত অনুভূতি হলো।
সে যেন এই বাড়িটাকে চেনে।
অনেক বছর ধরে চেনে।
গাড়ি চলে গেল।
অর্ক একা দাঁড়িয়ে রইল।
গেটটা নিজে থেকেই কঁক করে খুলে গেল।
সে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
দরজা সত্যিই খোলা।
চিঠিতে যেমন লেখা ছিল।
অর্ক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দ্বিধা করল।
তারপর ভেতরে ঢুকল।
বাড়ির ভেতর অন্ধকার।
কিন্তু কোথাও একটা ঘড়ির টিকটিক শব্দ হচ্ছে।
টিক…
টিক…
টিক…
অর্ক থেমে গেল।
চিঠির কথা মনে পড়ল—
“যে ঘরে ঘড়ি নেই…”
সে চারপাশে তাকাল।
একটা ঘড়িও নেই।
কিন্তু টিকটিক শব্দ স্পষ্ট।
শব্দটা আসছে ওপরতলা থেকে।
অর্ক সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
প্রথম ধাপ।
দ্বিতীয় ধাপ।
তৃতীয় ধাপ।
হঠাৎ ওপর থেকে একটা মেয়ের গলা—
“অর্ক?”
সে জমে গেল।
“মেঘলা?”
কোনো উত্তর নেই।
আবার—
“অর্ক…”
সে দৌড়ে ওপরে উঠল।
দোতলায় একটা লম্বা করিডর।
করিডরের শেষে একটা দরজা।
দরজার নিচ দিয়ে আলো বেরোচ্ছে।
অর্ক এগিয়ে গেল।
দরজার পাশে একটা পুরনো ঘড়ি ঝুলছে।
কিন্তু ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে—
রাত ১২টা ০৫ মিনিটে।
অর্কের বুকের মধ্যে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।
ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল।
ভেতরে কেউ নেই।
শুধু একটা বড় আয়না।
অর্ক চিঠির কথা মনে করল।
“আয়নায় নিজের মুখ দেখবে না।”
সে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
কিন্তু তখনই আয়নার ভেতর থেকে একটা শব্দ এল—
“অর্ক…”
সে চোখ বন্ধ করল।
“কে?”
উত্তর এল—
“তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ?”
অর্কের চোখের সামনে হঠাৎ আগুনের ছবি ভেসে উঠল।
একটা ছোট মেয়ে চিৎকার করছে।
একটা ছোট ছেলে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
পেছনে আগুন।
তারপর একটা পুরুষের গলা—
“ওকে নিয়ে পালাও!”
অর্ক মাথা চেপে ধরল।
“না… না…”
তারপর সে ভুল করে আয়নার দিকে তাকিয়ে ফেলল।
আয়নায় সে নিজের মুখ দেখল না।
দেখল—
একটা ছোট ছেলে।
তার পাশে ছোট্ট মেঘলা।
দুজনেই আগুনের মধ্যে দাঁড়িয়ে।
মেঘলা কাঁদছে।
ছেলেটা তার হাত ধরে আছে।
তারপর আয়নার ভেতরের ছোট ছেলেটা ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে অর্কের দিকে তাকাল।
ছেলেটার মুখ—
অর্কের মুখ।
অর্ক পিছিয়ে গেল।
আয়নার ভেতর থেকে শিশুটির ঠোঁট নড়ল।
সে বলল—
“আমি মরিনি।”
অর্কের শরীর অবশ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই তার পেছনে দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ধপ্!
অর্ক ঘুরে দাঁড়াল।
আর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে—
মেঘলা।
কিন্তু এবার তার মুখে সেই পরিচিত হাসি নেই।
চোখ দুটো ভেজা।
সে ধীরে ধীরে বলল—
“তুমি অবশেষে ফিরে এসেছ, অর্ণব।”
অর্কের বুক কেঁপে উঠল।
“আমার নাম অর্ক।”
মেঘলা মাথা নাড়ল।
“না।”
সে এক পা এগিয়ে এল।
“তোমার নাম অর্ক নয়।”
আর ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির নিচতলা থেকে একটা শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে এল।
মেঘলা অর্কের হাত শক্ত করে ধরে বলল—
“তোমার নাম অর্ণব। আর আজ থেকে ঠিক পঁচিশ বছর আগে তুমি এই বাড়িতে মারা গিয়েছিলে।”
চলবে…