Categories
রিভিউ

আজ বিশ্ব শিশু দিবস, জানুন দিনটি কেন পালন করা হয় এবং দিনটির ইতিহাস।

বিশ্ব শিশু দিবস  ২০ নভেম্বর ২০২৩—-

 

শিশু দিবস একটি আন্তর্জাতিক পালিত দিন এবং কোনো সরকারি ছুটির দিন নয়।  জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ তাদের নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী শিশু দিবস পালন করে।
শিশু দিবস একটি গুরুতর বার্তা সহ একটি মজার দিন।  আন্তর্জাতিক শিশু দিবস আমাদের শিশুদের অধিকারের প্রচার ও উদযাপন করার সুযোগ দেয় যা তাদের জন্য একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলবে।

 

বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৩ এর থিম—-

 

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের থিম হল, “অন্তর্ভুক্তি, প্রত্যেক শিশুর জন্য”, “Inclusion, for every child”।  এই থিমের অর্থ হল যে কোন সমাজ, সম্প্রদায় বা জাতীয়তার প্রতিটি শিশু সমান অধিকারের অধিকারী।  এটি বিভিন্ন সভ্যতার শিশুদের মধ্যে বৈষম্য দূর করার উপরও জোর দেয়।  শুধু সাধারণ অধিকারই নয়, একটি বৈশ্বিক সমাজ সব ধরনের ত্বকের রঙের শিশুদেরকে স্বাগত জানায় এবং স্থান দেয়।
থিমের আরেকটি অত্যাবশ্যক দৃষ্টিভঙ্গি হল একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ধাপ এগিয়ে নেওয়া যা আমাদের শিশুদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত এবং এটি প্রতিটি কুসংস্কার দূর করবে।  যে কোন পক্ষপাতিত্ব সমাজের সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর, এটি একটি শিশুর মনস্তত্ত্বের জন্যও দুর্বল প্রভাব ফেলতে পারে যাকে একটি সম্প্রদায় অগ্রহণযোগ্য বা অযোগ্য বলে মনে করে।  তাই, যুদ্ধ বা মহামারীর মতো যেকোনো মানবিক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যাকর্ষণ আমাদের শিশুদের কষ্ট না দেয় এবং আমরা সম্মিলিতভাবে আমাদের সহায়তা বা উদ্ধার মিশনে সমস্ত অঞ্চলের শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করব।
সমাজ এবং শিশু উভয়ই একসাথে বেড়ে ওঠে এবং একটি সমৃদ্ধ সমাজ তার বাসিন্দা শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করে।  অন্তর্ভুক্তির ধারণার সাথে, আমাদের বাচ্চাদের কল্যাণে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার আরও সুযোগ রয়েছে।  এমন অনেক সমাজ আছে যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং যুবকরা কিশোর-কিশোরীদের সমান অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গততার সাথে লড়াই করছে।  তাই আমাদের একীকরণের উদ্দেশ্য হল তাদের বর্ণনাকে উত্সাহিত করা এবং আমাদের সমস্ত বাচ্চাদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বের এক পতাকার নীচে নিয়ে আসা।
এই থিমটি একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রতিটি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে শিশুদের অধিকারের সমর্থন, উদযাপন এবং প্রচার করার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘ (UN) প্রতি বছর বিশ্ব শিশু দিবসের জন্য শিশুদের মধ্যে সচেতনতা, একতাবদ্ধতা এবং শিশুদের কল্যাণের উন্নতির জন্য একটি নির্দিষ্ট থিম প্রদান করে।

 

শিশু দিবসের রঙ—-

 

শিশু দিবসে নীল রং শিশুদের অধিকারের প্রতীক।  আপনি ২০ শে নভেম্বর নীল হয়ে আপনার সমর্থন দেখাতে পারেন।

 

বিশ্ব শিশু দিবসের ইতিহাস—-

 

১৮৫৭ সালে, ডাঃ চার্লস লিওনার্ড এই দিনটিকে যুক্তরাজ্যে রোজ ডে নাম দিয়ে শুরু করেছিলেন।
১৯২০ সালে, তুরস্ক প্রজাতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দিবসকে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৫০ সালে, অনেক দেশ ১ জুন, “শিশু সুরক্ষা দিবস” হিসাবে উদযাপন শুরু করে।
১৯৫৪ সালে জাতিসংঘ প্রতি বছর ২০ নভেম্বর তারিখের সাথে “সর্বজনীন শিশু দিবস” প্রতিষ্ঠা করে।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সমস্ত দেশকে শিশুদের অধিকার, একতাবদ্ধতা এবং শিশুদের কল্যাণের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাদের পছন্দের একটি উপযুক্ত তারিখে শিশুদের জন্য একটি দিবস উদযাপন করার নির্দেশ দিয়েছে।
২০ নভেম্বর, ১৯৫৯-এ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকারের ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে এবং ২০ নভেম্বর, ১৯৮৯-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন গ্রহণ করে।
১৯৯০ সাল থেকে প্রতি ২০শে নভেম্বর এই ঘোষণা এবং কনভেনশনের বার্ষিকীও জাতিসংঘ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

 

শিশু দিবসের ঘটনা—-

 

শিশু দিবস সুরক্ষা এবং শিশুদের অধিকারের কল্যাণের একটি গুরুতর বার্তা সহ একটি মজার দিন।

১৮৫৭ সালে ইউনাইটেড কিংডমে ডঃ চার্লস লিওনার্ড “রোজ ডে” নামে শিশু দিবস প্রথম শুরু করেছিলেন।

জাতিসংঘ ১৯৫৪ সালে শিশু দিবস প্রতিষ্ঠা করে।

জাতিসংঘ শিশু দিবসে প্রতি বছর একটি থিম প্রদান করে।

প্রতিটি দেশ শিশু দিবসের জন্য তাদের নিজস্ব পছন্দের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

 

স্কুলে বিশ্ব শিশু দিবসের কার্যক্রম—-

 

স্কুল সমাবেশে বিশ্ব শিশু দিবসের গুরুত্ব ও ইতিহাস সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করা।

নীল রঙে স্কুল এবং ল্যান্ডমার্ক বিল্ডিংগুলি আলোকিত করুন।

২০শে নভেম্বরের এই বিশেষ দিনে একটি নীল পোশাক পরুন।

আপনার কব্জির চারপাশে একটি নীল ফিতা পরুন।

এই দিনে নীল রঙের টুপি পরুন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে আপনার প্রোফাইল ছবি নীল রঙে পরিবর্তন করুন।

উপস্থিত শিশুদের মূকনাটক শো।

শিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে শিক্ষা দিন।

শিশুদের জন্য জাতিসংঘের বিভাগ ইউনিসেফ শিশুদের কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সেমিনার এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর রূপ। উপনিষদে তার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ও হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা (পার্বতী) ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের প্রাণাত্মিকা। কিন্তু এই জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি তা নিয়ে রয়েছে বহু মতান্তর। ইদানীং কালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি তথা নদীয়ার ব্রাহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপূজার কিছু কাহিনী পাঠক মহলে খুবই জনপ্রির হয়ে উঠেছে। উইকিপিডিয়াতেও লেখা আছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জগদ্ধাত্রী পূজা সূচনার কথা। মজার কথা হল এই পূজা আদৌ কবে ও কোথায় শুরু হয়েছিল তার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি? কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতে এই পূজা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় (১৭১০ খৃষ্টাব্দ) দ্বারা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি তৎকালীন নবাবের কাছে কোন এক কারণে দুর্গা পূজার সময়ে বন্দি হন এবং পরে দুর্গা পূজার পর ছাড়া পেলে স্বপ্নাদেশে পরের মাসের অর্থাৎ কার্তিক শুক্লা নবমীতে এই পূজার প্রচলন করেন। সময়কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও অনুমানিক সূচনাকাল সর্বপ্রথম কৃষ্ণনগর। এর পর চন্দননগর বা অন্যান্য স্থানে জগদ্ধাত্রীপূজার সূচনা হয়।
এই কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ছিলেন গিরীশচন্দ্র রায়। তিনি নদীয়ার শান্তিপুরের কাছে ১০৮ঘর ব্রাহ্ম পরিবারকে থাকতে দিয়ে একটি গ্রামপত্তন করেন যার নাম “ব্রাহ্মশাসন”। তার পর থেকে শুরু হয় শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রী পুরো প্রচলন।
জগদ্ধাত্রী সম্পূর্ণ তান্ত্রিক দেবী। বঙ্গ তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশবংশীয় মহাপন্ডিত তন্ত্রজ্ঞ সিদ্ধসাধক কৌলাবধূতাচার্য্য রঘুনাথ তর্কবাগীশ মহাশয় (কাল গ্রহ বিষৎ ষট্ চন্দ্র শাকে) অর্থাৎ ১৬১০ শতাব্দে বা ১৬৮১খৃষ্টাব্দে প্রায় ১৬০ টি তন্ত্র ও প্রায় শতাধীক বেদ বেদান্ত পুরাণাদি গ্রন্থ মন্থন করে রচনা করেন “আগমতত্ব বিলাস” নামক এক অনর্ঘ্য মহাপুস্তক। সেই পুস্তকে স্পষ্টতই জগদ্ধাত্রী দেবীর সম্পূর্ণ মূর্তিবিবরণ, পূজাকাল, পূজা পদ্ধতি, পূজার বীজ মন্ত্র,দীক্ষাবিধি সব সুনিপুণ ভাবে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন রঘুনাথ জি।
ইন্দ্রনারায়ণের দেহরক্ষার ৬-৭ বছর বহু আগে থেকে কৃষ্ণনগরে পূজার সূচনা হয়। চন্দননগরে আদি মা তথা আরো কিছু বারোয়ারী পূজা সহ আদি হালদার পাড়ার বারোয়ারীর পূজার সচিত্র তথ্য প্রকাশিত হয়। ১৯৬১সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় স্পষ্টতই উল্লেখ আছে যে সেই পূজা প্রায় ৪০০বছরে প্রাচীন। সেই হিসাবে বর্তমান কাল ধরে সেই পূজা ৪৬০বছরে প্রাচীন।  তাহলে প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় আদি হালদার পাড়ার পূজাটিও পূর্বে কোন এক সাধক পরিবারের পূজা ছিল। তারাও মানে যে আদিমা তাদের থেকেও প্রাচীন।অর্থাৎ আদিমায়ের প্রাচীনত্ব স্বীকৃত। ১৮২০সালে Friends of India নামক পত্রিকায় চন্দননগরে  জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ আছে। সেই স্থানে আছে রবার্টক্লাইভ চন্দননগরের চাউলপট্টিকে Granary of bengal বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবং সেই সময় আদিমায়ের পূজার কথাও ছিল। ক্লাইভের ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে চন্দননগর অভিযানের কথা সকলেই জানেন। এতদ্দ্বারা প্রমাণ হয় যে কৃষ্ণচন্দ্রের বহুপরে আদিমায়ের পূজা প্রচলিত ছিল। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
জগদ্ধাত্রী পূজার নিয়মটি একটু স্বতন্ত্র। দুটি প্রথায় এই পূজা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করে থাকেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।
জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও, দুর্গা বা কালীপূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে ঘটে। অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেবী জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত অপরিচিত ছিলেন না, তার প্রমাণও পাওয়া যায়। শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ করেন। পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মূর্তিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালার প্রত্নবিভাগে রক্ষিত। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষিত হয়। তবে বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবল কিছু ব্রাহ্মণগৃহে দুর্গাপূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হত।

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২০ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২০ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব শিশু দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০১ – প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু ধনঞ্জয়দাস কাঠিয়াবাবা।

 

১৭৫০ – টিপু সুলতান, ভারতীয় স্বাধীনতাকামী বীরপুত্র ।

১৮৩৭ – লিউনি ওয়াটার ম্যান, ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলমের আবিষ্কর্তা মার্কিন বিজ্ঞানী।

 

১৮৫৮ – সেলমা লাগেরল্যোফ, নোবেলজয়ী সুইডিশ লেখিকা।

১৮৭৩ – উইলিয়াম কোবলেন্টজ, আমেরিকান পদার্থবিদ।

 

১৮৮৯ – এডউইন হাবল, মার্কিন জ্যোতির্বিদ।

১৯১৫ – হু ইয়াওবাং, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব।

 

১৯২০ – বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের খ্যাতিমান অভিনেতা কালী বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

১৯২৩ – নাদিন গার্ডিমার, দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী সাহিত্যিক।

 

১৯৩২ – সুফিয়া আহমেদ, বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও ভাষাসৈনিক।

 

১৯৬৩ – টিমোথি গাওয়ারস, ফীল্ডস মেডাল বিজয়ী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮১৫ – ফ্রান্স, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষর।

১৮১৮ – ভেনেজুয়েলা স্পেনের শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯১৭ – ইউক্রেনকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৪০ – হাঙ্গেরি ত্রিদলীয় চুক্তি স্বাক্ষরকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৪৫ – ন্যুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু।

১৯৬২ – সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে ইলুশিন বোমারু প্রত্যাহার করতে সম্মত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১০ – লিও তলস্তয়, খ্যাতিমান রুশ লেখক।

 

১৯৩৯ – দীনেশচন্দ্র সেন, লোকসাহিত্য বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।

 

১৯৮৪ – কবি ফয়েজ আহমদ।

 

১৯৯৯ – আমিন্‌তোরে ফান্‌ফানি, ইতালীয় রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী।

 

১৯৯৯ – সুফিয়া কামাল, বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি, লেখক ও নারীবাদী।

 

২০১০ – মীর শওকত আলী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার।

 

২০২২ – কলকাতার সিরিয়ালে বেশ পরিচিত মুখ ঐন্দ্রিলা শর্মা।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শৌচালয় দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।

 

আজ ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’। প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখটি বিশ্ব টয়লেট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করে থাকে।উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন।

 

বিশ্ব শৌচাগার দিবস বা বিশ্ব টয়লেট দিবস হল প্রতিবছর ১৯ নভেম্বরে পালিত জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস, যা বিশ্বব্যাপী পয়ঃনিষ্কাশন সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুপ্রেরণা যোগায়। সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর অন্যতম লক্ষ্য “সবার জন্য জল ও পয়ঃনিষ্কাশনের উপলব্ধতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা”।বিশেষ করে, লক্ষ্য ৬.২ “খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বিলোপ করা ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যবিধি রপ্ত করা”। যখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য প্রতিবেদন ২০২০ প্রকাশিত হয়, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ অত্যন্ত শোচনীয়” এবং এটি “২০৩০ সালের এজেন্ডা, মানবাধিকার উপলব্ধি এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে”।
বিশ্ব শৌচালয় দিবস মানুষকে এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে অবহিত, জড়িত এবং অনুপ্রাণিত করার জন্য কাজ করে। সিঙ্গাপুর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৩ সালে বিশ্ব শৌচালয় দিবসকে জাতিসংঘের একটি দাপ্রিক দিন হিসেবে ঘোষণা করে (১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সামনে এর প্রথম প্রস্তাব)। এর আগে, ২০০১ সালে বিশ্ব শৌচালয় সংস্থা (সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা) অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শৌচালয় দিবস প্রতিষ্ঠা করেছিল।

সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা বিশেষভাবে নারী এবং মেয়েদের পক্ষে কঠিন। নারীরা অধিক গোপনীয়তার জন্য অন্ধকারকে বেছে নেয়, কিন্তু তারপরেও রাতে একা থাকলে আক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
এটা অনুমান করা হয় যে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়া সংক্রমণের মোট ঘটনার ৫৮% অনিরাপদ পানি, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন এবং দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের (যেমন অপর্যাপ্ত হাত ধোয়া) কারণে হয়েছিল। এর ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী অর্ধ মিলিয়ন শিশু প্রতি বছর ডায়রিয়াতে মারা যায়। পয়ঃনিষ্কাশন প্রদানের ফলে ডায়রিয়াতে আক্রান্ত শিশুদের সম্ভাবনা ৭-১৭% এবং পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর হার ৫-২০% হ্রাস পেয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
২৮ জুলাই ২০১০ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পয়ঃনিষ্কাশন (শৌচালয়) সুবিধার অভাব জনস্বাস্থ্য, সম্ভ্রম এবং সুরক্ষার উপর প্রভাব ফেলে। মাটিবাহিত হেলমিনথিয়াসিস, ডায়রিয়া, শিস্টোসোমিয়াসিস এবং শিশুদের অস্বাভাবিক স্বল্পবৃদ্ধিসহ বহুবিধ রোগের কারণ ও বিস্তারের সঙ্গে শৌচালয়ের অভাব অনেকাংশে সম্পর্কিত।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর লক্ষ্য হল সকলের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন বা স্যানিটেশন সরবরাহ করা।

 

।।সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)।

আজ ১৯ নভেম্বরআন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস । দিনটি আমাদের সমাজের প্রতি পুরুষদের এই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  পুরুষদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও এই দিনটি পালন করা হয়।  পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক চাপ মোকাবেলা করতে হয়।  অফিসে কাজের চাপ ছাড়াও বাড়ির নানা দায়িত্ব, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, ঋণের বোঝা নিয়ে ভাবতে হয় তাদের।  সারাদিন এত চাপ সত্ত্বেও তারা হাসতে থাকে।  পরিবারের অন্যদের খুশি রাখুন।  আমাদের চারপাশে এমন পুরুষরাই প্রকৃত পুরুষ।  তারাও আমাদের রোল মডেল।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)। সমাজে পুরুষের অবদান কতটা উল্লেখযোগ্য, তা স্মরণ করে প্রতি বছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। গোটা বিশ্ব জুড়ে ১৯ নভেম্বর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। পরে পালটে যায় উদযাপনের দিন। তবে পুরুষ দিবস উদযাপনের দিনের বদল হলেও,  শুরুর দিন থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেক বছর এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয় সাড়ম্বরে। থমাস ওসস্টার প্রথম ১৯৯২ সালে পুরুষ দিবস পালন করেন। প্রথমে ৭ ফেব্রুয়ারি এই দিনটিকে পালন করা হলেও পরে ১৯ নভেম্বর তারিখে পালটে ফেলা হয় এই বিশেষ দিনের তারিখ।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়। সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।
পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব প্রথম করা হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে। এই দিনটি পালন করা হতো মূলত পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে।
২০০২ সালে দিবসটির নামকরণ করা হয় ‘ডিফেন্ডার অফ দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ তখনকার সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই দিবসটি পালন করা হতো। বলা যায়, নারী দিবসের অনুরূপভাবেই দিবসটি পালিত হয়। ষাটের দশক থেকেই পুরুষ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নব্বই দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো খুব একটা প্রচার পায়নি। অংশগ্রহণও ছিল কম। পরবর্তী সময়ে ১৯ নভেম্বর পুরো বিশ্বে পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসম্পাদনা
এই দিবসের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেঃ
পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সাম্যতার প্রচার;
পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা;
পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী;
পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদ্‌যাপন;
সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের অবদানকে তুলে ধরা।
গোটা বিশ্বে (World) প্রায় ৭০টি দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ভারত (India), আমেরিকা (US), রাশিয়া, চিন (China), ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া সহ একাধিক দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। সমাজে পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি স্পষ্ট করতেই এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয়। একজন পুরুষ হিসেবে সমাজে তাঁর দায়িত্ব, কর্তব্য কতটা এবং তিনি কীভাবে পালন করবেন, তা বোঝাতেই এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস মূলত ৬টি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি। কর্মক্ষেত্রে অবদানের পাশাপাশি সমাজ, সম্প্রদায়, পরিবার, বিবাহ, শিশু যত্ন এবং পরিবেশে পুরুষদের অবদান উদযাপিত হয় এদিন। এছাড়া, পুরুষের সামাজিক, মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচিত হয় এমনকি, নানা ক্ষেত্রে তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়ও তুলে ধরা হয় এদিন।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস লিঙ্গ সমতার কথা বলে। তাছাড়া, একটি উন্নত ও নিরাপদ বিশ্ব তৈরির লক্ষ্যেও পালিত হয় দিনটি। পুরুষ দিবসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ এবং পুরুষদের সচেতনতা প্রচার করা।
।।তথ্য সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৯ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৯ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

(ক)  আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।

 

(খ) বিশ্ব শৌচালয় দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭১১ – মিখাইল লোমোনোসভ, রুশ পদার্থবিদ, রসায়নবিদ ও জ্যোতির্বিদ।

 

১৮০৫ – সুয়েজ খালের নকশাকার ফরাসি প্রযুক্তিবিদ ভিকঁৎ ফ্যের্দিনা মারি দ্যা ল্যেসেপস ।

 

১৮২৮ – লক্ষ্মী বাঈ, ঝাঁসির রাণী ও ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের পথিকৃৎ।

 

১৮৩১ – জেমস গারফিল্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিংশতিতম রাষ্ট্রপতি।

 

১৮৩৮ – ব্রাহ্ম সমাজের নেতা ও সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেন।

 

১৮৪৩ – রিচার্ড আভেনারিউস, ছজার্মান বংশোদ্ভূত সুইস দার্শনিক ও অধ্যাপক।

 

১৮৫২ – আম্মেম্বল সুব্বা রাও পাই, ভারতের বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কানাড়া ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা।

 

১৮৭৭ – (ক)  বাঙালি কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

(খ) ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বা নিরালম্ব স্বামী।

 

১৮৮৭ – জেমস ব্যাচেলার সামনার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

 

১৯১৩ -অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়, বাঙালি অভিনেতা এবং গায়ক।

 

১৯১৪ – একনাথ রানাডে , ভারতের সমাজ সংস্কারক এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক সংগঠক।

১৯১৫ – আর্ল উইলবার সাদারল্যান্ড জুনিয়র, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান ফার্মাকোলজিস্ট ও প্রাণরসায়নবিদ।

 

১৯১৭ – ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ভারতের প্রথম মহিলা ও তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।

 

১৯১৮ – দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, ভারতের একজন প্রখ্যাত মার্কসবাদী দার্শনিক।

 

১৯২৫ – সলিল চৌধুরী, প্রখ্যাত বাঙালি গীতিকার সুরকার।

 

১৯৩৬ – ইউয়ান ৎসে লি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তাইওয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

 

১৯৫০ – রেহানা সুলতান, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

 

১৯৫১ – জিনাত আমান, ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী।

 

১৯৫৩ – সুবীর নন্দী, বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী।

 

১৯৫৪ – আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি, মিশরের ফিল্ড মার্শাল, রাজনীতিবিদ ও মিশরের ৬ষ্ঠ প্রেসিডেন্ট।

 

১৯৬১ – মেগ রায়ান, আমেরিকান অভিনেত্রী ও প্রযোজক।

 

১৯৬২ – জোডি ফস্টার, মার্কিন অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক।

 

১৯৭৫ – সুস্মিতা সেন, ভারতীয় অভিনেত্রী ও ১৯৯৪-এর মিস ইউনিভার্স।

১৯৮৫ – ক্রিস্টোফার ঈগলস, ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৭ – সিলভিয়া সোলার এস্পিনসা, স্প্যানিশ টেনিস খেলোয়াড়।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮১৬ – পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৬৩ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গেটিসবার্গে তার বিখ্যাত স্বাধীনতার ভাষণ দেন।

১৯৪২ – সোভিয়েত ইউনিয়ন স্তালিনগ্রাদে জার্মান বাহিনীর ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

১৯৭৭ – মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত অধিকৃত বায়তুল মোকাদ্দাস সফর করেন।

১৯৮২ – দিল্লিতে নবম এশিয়ান গেমস শুরু।

১৯৯০ – ওয়ারশ’ ও ন্যাটো জোটের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নেতারা প্যারিসে এক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পূর্ব ও প্রাচ্যের দুই ব্লকের মধ্যকার শীতল যুদ্ধের অবসান ঘটান।

১৯৯৯ – চীন প্রথমবারের মতো শেন ঝু স্পেসক্রাফট মহাকাশে প্রেরণ করে।

১৯৯৫ – বাংলাদেশ সরকার হুমায়ুন আজাদের নারী বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৬৫ – নিকোলাস পউসিন, ফরাসি বংশোদ্ভূত ইতালীয় চিত্রশিল্পী।

১৮২৮ – অষ্ট্রিয়ার খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ ফ্রান্তেয সোবের্ট।

 

১৮৩১- তিতুমীর, প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী।

১৮৫০ – রিচার্ড মেন্টর জনসন, তিনি ছিলেন আমেরিকান কর্নেল, আইনজীবী ও রাজনীতিক।

১৯৪২ – ব্রুনো সচুলয, পোলিশ চিত্রশিল্পী ও সমালোচক।

 

১৯৫৫ – ড: পূর্ণেন্দুবিকাশ সরকার, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে আনন্দ পুরস্কারে সম্মানিত চিকিৎসক।

১৯৮৮ – জাতীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রূপকার ও চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান।

১৯৮৯ – এম এ জলিল, বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা

২০০৪ – জন রবার্ট ভেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ ফার্মাকোলজিস্ট ও অধ্যাপক।

 

২০০৭ – সঞ্জীব চৌধুরী, সাংবাদিক, সঙ্গীত শিল্পী, প্রথা বিরোধী মানুষ, দলছুট ব্র্যান্ডের গায়ক ছিলেন।

২০১১ – ব্যাসিল ডি’অলিভেইরা, দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ইংরেজ ক্রিকেটার

 

২০১৩ – ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ প্রাণরসায়নী ও অধ্যাপক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

১৮ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৮ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৬ – জর্জ ওয়াল্ড, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান নিউরোবায়োলজি ও একাডেমিক।

 

১৯১০ – বটুকেশ্বর দত্ত ঊনিশ শতকের প্রথমদিকের বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী এবং ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা।

 

১৯১৭ – পেড্রো ইনফ্যান্টে, মেক্সিকান অভিনেতা ও গায়ক।

 

১৯৩৫ – রব্নি হল, অস্ট্রেলিয়ান লেখক ও কবি।

 

১৯৩৬ – কবি জিয়া হায়দার ।

 

১৯৩৯ – মার্গারেট অ্যাটউড, কানাডীয় ঔপন্যাসিক, কবি ও সমালোচক।

 

১৯৬৩ – পিটার স্মাইকেল, ডেনিশ ফুটবলার

 

১৯৭০ – পেটার উইলসন, অস্ট্রেলিয়ান মডেল ও অভিনেত্রী।

 

১৯৭২ – জুবিন গর্গ, ভারতীয় গায়ক, সুরকার, গীতিকার, সুর প্রযোজক, চিত্রপরিচালক, মানবহিতৈষী।

 

১৯৮৩ – মাইকেল ডসন, ইংরেজ ফুটবল।

 

১৯৮৮ – মোঃ শাহ্ জালাল, বাঙালি বণিক।

 

১৯৯২ – নাথান ক্রেস্‌, আমেরিকান অভিনেতা।

 

১৯৯৩ – ঝাং জেতিয়ান, চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকার

 

১৮৬১ – আমেরিকান সাংবাদিক ডরোথি ডিস্ক ।

 

১৮৯৭ – প্যাট্রিক মেইনার্ড স্টুয়ার্ট ব্ল্যাকেট, ব্যারন ব্ল্যাকেট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ।

 

১৮৯৮ – প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ বিশ্বভারতীর তৃতীয় উপাচার্য প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

 

১৭৮৭ – ফরাসী পদার্থবিজ্ঞানী ও চিত্রশিল্পী লুই ডাগুয়েরে।

 

১৬৪৭ – পিয়ের বেল, ফরাসী দার্শনিক ও গ্রন্থকার ।

 

১৫২২ – লামোরাল, কাউন্ট অফ এগমন্ট।

 

১৫৭১ – হিপোলিটাস গুয়ারিনোনিয়াস, ইতালীয় চিকিৎসক ও বহুমুখী প্রতিভাধর।

 

১৫৭৬ – দ্বিতীয় ফিলিপ লুডউইগ, কাউন্ট অফ হানাউ-মুঞ্জেনবার্গ।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০৩ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পানামা প্রজাতন্ত্রের মধ্যে পানামা খাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯০৯ – আমেরিকা দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় নিকারাগুয়ায়।

১৯১৮ – সোভিয়েত রাশিয়া থেকে বের হয়ে লাটভিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯২৬ – জর্জ বার্নার্ড শ’ নোবেল পুরস্কারের অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

১৯৪৮ – ভারতের পাটনার কাছে গঙ্গায় নৌকাডুবিতে ৫০০ যাত্রীর সলিল সমাধি।

১৯৫৬ – মরোক্কো স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৯৬১ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি দক্ষিণ ভিয়েতনামে ১৮ হাজার সেনা পরিদর্শক পাঠান।

 

১৯৬৩ – কর্নেল আবদুস সালাম আরেফ ইরাকের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

 

১৯৬৬ – সালের এই দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সালে উদ্বোধন করা হয়।

১৯৯৯ – তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ৫৪ জাতি ইউরোপীয় নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

১৮২০ – মার্কিন নৌ ক্যাপ্টেন নাথানিয়েন পালমান এন্টার্কটিকা মহাদেশ আবিষ্কার করেন।

১৮৩৯ – বিদেশী উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণের দ্বিতীয় দফা প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়।

১৮৫৭ – বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ৩৪ দেশীয় পদাতিক বাহিনীর সিপাহি দল বিদ্রোহের মাধ্যমে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়।

 

১৭২৭ – মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিং রাজস্থানের জয়পুর শহর পত্তন করেন। ভারতের জয়পুরশহরের নকশা করেন বাংলার স্থাপত্যশিল্পী বিদ্যাধর ভট্টাচার্য।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৮ – হাজী আব্দুল ওয়াহাব, দাঈয়ে ইসলাম, পাকিস্তান।

 

১৯২২ – মার্সেল প্রুস্ত্‌, ফরাসি বুদ্ধিজীবী, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার ও সমালোচক।

 

১৯৪১ -ওয়ালথার নেরন্সট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৫২ – ফরাসী কবি পল এল্যুয়ার ।

১৯৬২ -নিলস বোর, ডেনিশ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিদ, শিক্ষাবিদ ও ফুটবল খেলোয়াড়।

 

১৯৬৯ – বিমানবিহারী মজুমদার , ভাগবতরত্ন,বাঙালি সাহিত্যিক ও গবেষক।

 

১৯৭৮ – ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ডি.জি.নামে পরিচিত বাংলা সিনেমা জগতের অন্যতম পথিকৃৎ।

 

১৯৮১ – শিল্পী আনোয়ারুল হক ।

১৯৮২ – এ কে নাজমুল করিম, বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী।

১৯৯১ – চেকোসস্নাভ কমিউনিস্ট নেতা গুস্তাফ হুসাক ।

১৯৯৯ -পল বওলেস, আমেরিকান সুরকার ও লেখক।

১৮৮৬ – চেস্টার এ. আর্থার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২১তম রাষ্ট্রপতি।

১৭৭৭ – জার্মান নাট্যকার হিনরিখ ফন কিশ ।

 

১০৫৩ – অতীশ দীপঙ্কর ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ছট পূজা কি? কি ভাবে ও কখন এই পূজার  উৎপত্তি?

 

দীপাবলির পরই ছট। ছটে সূর্যকে পুজো করা হয়। ছটে কোনও মূর্তিপুজো হয় না। ছট পূজা হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ। সূর্য্যোপাসনার এই অনুপম লৌকিক উৎসব পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে পালিত হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এই পার্বণ প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হয়েছে। ছট পূজা সূর্য্য ও তার পত্নী ঊষার (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে তাকে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ প্রদানের কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।

 

 

 

 

এই পূজার কখন উৎপত্তি হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায় না। কিন্তু কিছু পৌরাণিক আখ্যানে ছট পূজার নীতি নিয়মের সঙ্গে মিল থাকা উৎসব দেখা যায়। ঋগ্বেদের শ্লোকসমূহে সূর্য্যবন্দনার স্পষ্ট নিদর্শন আছে। ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে গ্রীক, রোমান, মিশরীয় ইত্যাদির সভ্যতাসমূহেও সূর্য্য মূখ্য দেবতা ছিলেন। সেভাবে ঊষাও বৈদিক দেবী। বেদে উল্লেখ থাকা মতে, তিনি হলেন পূর্বের দেবী এবং অশ্বিনীকুমারদের মাতা। অগ্নি, সোম এবং ইন্দ্র ইত্যাদি দেবতা সকলের পরে তিনি হলেন অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈদিক দেবী। রাত্রি হল তার ভগ্নী যাকে হয়তো পরে পৌরাণিক যুগে সন্ধ্যা এবং ছায়ারূপে কল্পিত করা হয়েছে। রামায়ণে উল্লেখ থাকা মতে, রামের কুলদেবতা সূর্য্যের জন্য রাম এবং সীতা এই পূজা করেছিলেন। মহাভারতে উল্লেখ থাকা মতে, দ্রৌপদী ধম্য ঋষির উপদেশ মতে সূর্য্যকে আরাধনা করে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন। সঙ্গে মহাবীর কর্ণের কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য্যের উপাসনা করা উল্লেখ আছে। আজও ছট পূজা উদ্‌যাপন করা সকল মানুষকে কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য বন্দনা করতে দেখা যায়। অন্য এক আখ্যান মতে, পাণ্ডু ঋষি হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে পত্নী কুন্তীর সঙ্গে বনে থাকায় পুত্র প্রাপ্তির জন্য সরস্বতী নদীর পারে সূর্য্য উপাসনা এবং ব্রত করেছিলেন।

 

 

 

 

পুরাণ মতে, প্রথম মনু প্রিয়বতের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তার পিতা কাশ্যপ মুনি পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে তার পত্নী মালিনী একটি মৃত পুত্র জন্ম দিলেন। মৃত শিশু দেখে তারাও বিলাপ করতে থাকায় আকাশ থেকে এক দিব্য কন্যা প্রকট হলেন। তিনি নিজকে ব্রহ্মার মানস পুত্রী বলে পরিচয় দিলেন এবং মৃত পুত্রকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে জীবিত হয়ে উঠল। এখনও ঊষা দেবী বা ছটি মায়ের মূর্তি কোলে কিছু থাকা অবস্থায় কল্পনা করা হয় এবং পুত্র প্রাপ্তির জন্য ব্রত উপাসনা করা হয়।
তদুপরি লৌকিক দেবী হিসাবে অন্য বহু লোককথা আখ্যান হিসাবে মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে।

ভারতে সূর্য্যোপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ পার্বণ হল ছট পূজা। এটি বছরে দুবার পালিত হয় — প্রথমবার চৈত্র মাসে (চৈতী ছট) এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসে (কার্তিকী ছট)। পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি তথা মনোবাঞ্ছিত ফল লাভের জন্য এটি পালন করা হয়। নারী-পুরুষ সমানভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
ছট পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনার স্থান নেই। এতে ডুবিত এবং উদিত সূর্যকে পূজা করা হয়। আজকাল পূজা অনুষ্ঠিত করা কমিটিগুলিকে সকল ঘাটের কাছে সূর্য এবং ঊষার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যায়। পূজার দুদিন আগে লাউ ভাত এবং একদিন আগে খির ভাত খাওয়ার সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার এক কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। পূজায় সম্পূর্ণ সাত্বিক নৈবেদ্য ইত্যাদি কুলো, ডলা বা পাচিতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল, মিঠাই ইত্যাদির সঙ্গে পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য “ঠেকুয়া” প্রস্তুত করে নৈবেদ্যরূপে প্রদান করা হয়। এই সময় নুন-মশলাবর্জিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রসাদ বিতরণ এই পূজার অন্যতম নিয়ম। এই পূজায় অনেককে বাগরি নদীর ঘাটে গিয়ে পূজা করার দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এই পূজা এক সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পূজায় সামিল হতে শুরু করেছেন।

 

 

 

 

চারদিনের এই ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতধারী বাড়িঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করেন (যাকে নহায়-খায় বলা হয়)। পরদিন থেকে উপবাস শুরু হয়; ব্রতী দিনভর নির্জলা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় পূজার শেষে ক্ষীরের ভোগ গ্রহণ করেন (এটি খরনা নামে পরিচিত)। তৃতীয় দিনে নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীর সাথে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য অর্থাৎ দুধ অর্পণ করা হয়। ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, মিষ্টি লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।

ছট পুজোর বিধির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন দিক হল ৩৬ ঘণ্টার উপবাস। কার্তিক মাসে বিভিন্ন রীতি পালনের মাঝে নির্জলা এই উপবাস ভঙ্গ করেই সূর্যদেবকে প্রথম জল অর্পণ করে শুরু হয়ে ছটের মহাপর্ব। সাধরাণ বিবাহিত মহিলারা দাম্পত্য ও ,সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য এই ছটের বিধি পালন করেন। তবে, অনেক সময় পুরুষদেরও এই বিধি পালন করতে দেখা যায়। পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, নেপাল ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন ছট পুজোর আসর দেখা গিয়েছে বহুবার।

 

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ জাতীয় মৃগীরোগ সচেতনা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

মস্তিস্কের ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই রোগের আশেপাশের পৌরাণিক কাহিনীগুলিকে ধ্বংস করতে ভারতে প্রতি বছর ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস পালিত হয়।

একটি মৃগীরোগ হঠাৎ করে আসতে পারে এবং এটি অনুভব করা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক হতে পারে কারণ তারা নড়াচড়া, তারা যে শব্দ করছে বা তারা যে সংবেদনগুলি অনুভব করছে তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।  মৃগীরোগ হল একটি মস্তিষ্কের ব্যাধি যা মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ বা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকারিতায় অস্থায়ী পরিবর্তনের কারণে খিঁচুনি হতে পারে।  আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউরোলজিক্যাল সার্জনদের মতে, মস্তিষ্ক ক্রমাগত একটি সুশৃঙ্খল প্যাটার্নে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক আবেগ তৈরি করে যা মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের নেটওয়ার্ক বরাবর ভ্রমণ করে।  মৃগী রোগে, এই বৈদ্যুতিক ছন্দগুলি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, এবং স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্যাটার্নটি হঠাৎ এবং সুসংগত বৈদ্যুতিক শক্তির বিস্ফোরণ দ্বারা ব্যাহত হয় যা তাদের চেতনা, নড়াচড়া বা সংবেদনকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রভাবিত করতে পারে।  মৃগীরোগ অনেক ধরনের হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী উপসর্গের তারতম্য হতে পারে।  মায়োক্লিনিকের মতে, কিছু লোক খিঁচুনির সময় সচেতনতা হারাতে পারে যখন অন্যরা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারে।  কিছু ধরনের মৃগীরোগেও মানুষ তাদের হাত বা পা নাড়াতে পারে – নড়াচড়া যা খিঁচুনি নামে পরিচিত।  স্যার আইজ্যাক নিউটন, চার্লস ডিকেন্স, এলটন জন, নিল ইয়াং, মার্টিন কেম্প থেকে শুরু করে রিচার্ড বার্টন পর্যন্ত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মৃগীরোগের সাথে লড়াই করেছেন।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে।  ভারতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় ১৭ই নভেম্বর ২০২৩-এ। মৃগীরোগ হল মস্তিষ্কের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যা বারবার ‘খিঁচুনি’ বা ‘ফিট’ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।  নিউরনে (মস্তিষ্কের কোষ) আকস্মিক, অত্যধিক বৈদ্যুতিক স্রাবের ফলে খিঁচুনি হয়।  এই অবস্থা যে কোনো বয়সে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রতিটি বয়সের স্বতন্ত্র সমস্যা রয়েছে। WHO-এর মতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ মৃগী রোগে আক্রান্ত যার মধ্যে ৮০% মানুষ উন্নয়নশীল দেশের।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩—

 

নীচে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তারিখ:

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালন করা হয়।

 

জাতীয় মৃগী দিবসের ইতিহাস—

 

ভারতে মৃগী রোগের অবস্থা কমাতে ভারতের এপিলেপসি ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রথম জাতীয় মৃগী দিবস পালন করা হয়।  ভারতে এপিলেপসি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা।  মুম্বাইতে অবস্থিত ডাঃ নির্মল সূর্য দ্বারা এপিলেপসি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া গঠিত হয়েছিল।  চ্যারিটি অনেক লোককে সাহায্য করে যারা মৃগী রোগে ভুগছে এবং তারা মানুষের মধ্যে মৃগী রোগের ভয় কমাতে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

 

মৃগী রোগের কারণ—

 

প্রসবপূর্ব এবং প্রসবকালীন আঘাত থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি, জন্মগত অস্বাভাবিকতা, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, স্ট্রোক এবং ব্রেন টিউমার, মাথায় আঘাত/দুর্ঘটনা, শৈশবকালে দীর্ঘায়িত উচ্চ জ্বর।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম—

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর থিম হল “কলঙ্ক”। National Epilepsy Day ২০২৩ Theme is “Stigma”.  একবার জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম প্রকাশিত হলে এটি জাতীয় মৃগী দিবস 2023 থিম পৃষ্ঠায় আপডেট করা হবে।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তাৎপর্য—

 

আসুন জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে দেখি।

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মানুষের মধ্যে মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।

অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মৃগীরোগের কারণ এবং এর লক্ষণগুলি প্রচার করতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপন করে।

আমরা জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি এবং আমাদের বন্ধুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে এবং অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারি।

অনলাইনের মাধ্যমে আমরা মৃগীরোগ, এর কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে আরও জানতে পারি এবং অন্যদের শিখতে পারি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন আনফ্রেন্ড দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা।

দিনটি প্রচলনের উদ্দেশ্য ছিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ও বিরক্তিকর ব্যক্তিকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তিনি মনে করতেন, সামাজিকমাধ্যমে এমন অনেকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হয়ে যান, যাদের আমরা চিনি না। এমনকি তাদের সঙ্গে আমাদের কখনো যোগাযোগও হয় না। তাই তাদের থেকে পরিত্রাণ পেতে আনফ্রেন্ড দিবসের প্রচলন।

 

ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে (NUD) হল একটি অনানুষ্ঠানিক ছুটির দিন যা প্রকৃত বন্ধু নয় এমন অন্যান্য Facebook ব্যবহারকারীদের বন্ধুত্বমুক্ত করার প্রচার করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।  সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিশ্বের যেকোন স্থানে, প্রায় যে কাউকে অ্যাক্সেস প্রদান করে৷  যাইহোক, এই সহজ বিশ্বব্যাপী অ্যাক্সেস ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা অপব্যবহার এবং অন্যের জাঙ্ক পোস্ট দ্বারা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলার জন্য উন্মুক্ত করে।  এই ডিজিটাল যুগে, এটি অপরিহার্য যে পরিচয়গুলি সুরক্ষিত থাকবে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করা সময়কে কমিয়ে আনা হবে এবং মুখোমুখি মানুষের মিথস্ক্রিয়া দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে ১৭ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি কিমেল দ্বারা জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে মূলত ধারণা করা হয়েছিল এবং প্রস্তাব করেছিলেন।  কিমেল বিশ্বাস করেন যে এমন অনেক ফেসবুক অপরাধ রয়েছে যা কাউকে বন্ধুত্বহীন করতে পারে, যার মধ্যে কয়েকটির মধ্যে রয়েছে, খুব বেশি পোস্ট করা, বানান পরীক্ষা করা খুব কম, একই ধরণের সামগ্রী পুনরাবৃত্ত পোস্ট করা, প্রশ্ন করার আগে গুগলিং না করা, সারাক্ষণ Facebook এ থাকা  এবং গেমের জন্য অ্যাপ-মধ্যস্থ Facebook অনুরোধ পাঠানো।  বিরক্তিকর অপরাধীদের আনফ্রেন্ড করার পাশাপাশি, যাদের সাথে আপনার আর স্থির যোগাযোগ নেই এবং আপনার তথ্য এবং পোস্টগুলিতে অ্যাক্সেস থাকতে পারে এমন কোনো অজানা ব্যবহারকারীকে আনফ্রেন্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷

 

জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবসের ইতিহাস—

 

“আনফ্রেন্ড”…হয়তো আমাদের শুধু পরিষ্কার করে শুরু করা উচিত যে কীভাবে এবং কখন “বন্ধু থেকে (আন)ফ্রেন্ড” এমনকি শুরু করার জন্য একটি ক্রিয়া হয়ে উঠেছে, “বন্ধু” শব্দটি একটি সাধারণ পুরানো বিশেষ্য হওয়ার শত শত বছর পরে আপনি কাউকে বর্ণনা করতেন  আপনার সাথে একটি ভাল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং “আনফ্রেন্ড” শব্দটি এমনকি অস্তিত্বের ক্ষেত্রেও ছিল না।  অক্সফোর্ড ডিকশনারির 2009 সালের শব্দ ছিল, আসলে, “আনফ্রেন্ড”, যা এটি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে, “ক্রিয়া – ফেসবুকের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে কাউকে ‘বন্ধু’ হিসাবে সরিয়ে দেওয়া।”
ক্রিস্টিন লিন্ডবার্গ, অক্সফোর্ডের ইউএস ডিকশনারি প্রোগ্রামের সিনিয়র লেক্সিকোগ্রাফার, ডিকশনারির বরং বিতর্কিত পছন্দ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এটির মুদ্রা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘায়ু উভয়ই রয়েছে।  অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্রেক্ষাপটে, এর অর্থ বোঝা যায়, তাই আধুনিক ক্রিয়াপদ রূপ হিসেবে গ্রহণ করা এটিকে বছরের সেরা শব্দের জন্য একটি আকর্ষণীয় পছন্দ করে তোলে।”
কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেল ২০১৪ সালে ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে প্রতিষ্ঠা করেন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে মোকাবেলা করার জন্য যা পোকেমন কার্ডের মতো ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে, একটি হাস্যকর পরিমাণ ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে যা তারা খুব কম সময়েই জানে না।  ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে-তে দূরবর্তী পরিচিতদের থেকে পরিত্রাণ পাওয়া আপনার ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে স্ট্রীমলাইন করতে সাহায্য করতে পারে, আপনাকে আপনার প্রোফাইল ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারে এমন লোকেদের সাথে যোগাযোগ রাখতে, যাদের আপনি সত্যিই পছন্দ করেন এবং ‘বন্ধু’-এর প্রকৃত সংজ্ঞা রক্ষা করতে পারেন।

 

কীভাবে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করবেন—

 

প্রথমত, সেইসাথে কিছুটা হাস্যকরভাবে, সেই দিনের জন্য একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা রয়েছে যা আপনি ‘লাইক’ করতে পারেন, যা কাকে আনফ্রেন্ড করতে হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন মানদণ্ডের পরামর্শ দেয়।  এই লোকেদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ক্রমাগত আপনাকে তাদের অর্থ ধার দিতে বলছে যে আপনি আর কখনও দেখতে পাবেন না, এই সপ্তাহে তারা যে পৃষ্ঠায় আচ্ছন্ন হোক না কেন আপনাকে ‘লাইক’ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছোট জিনিস সম্পর্কে অভিযোগ করছে।  তাহলে তুমি কিসের জন্য অপেক্ষা করছ?
মোট অপরিচিত ব্যক্তিদের এবং আপনার ‘বন্ধু’ তালিকায় বাদ দেওয়ার এই বিচার-বিহীন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করুন!  একটু বেশি সিরিয়াস নোটে, জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে লোকেরা কতটা সুপারফিশিয়াল সম্পর্কে জড়ায়, ‘লাইক’, ‘রিটুইট’ ইত্যাদি সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য একটি ভাল সময় হতে পারে। আপনি কি সম্ভবত লোকেদের অবহেলা করছেন?  আপনার জীবনে কে আপনাকে সত্যিই ভালবাসে এবং আপনার মঙ্গলের কথা চিন্তা করে আপনার ল্যাপটপের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে?

আপনি কি সমস্ত ধরণের ক্রিয়াকলাপের ছবি তুলছেন যা আপনার প্রকৃত বন্ধু, পরিবার বা উল্লেখযোগ্য অন্যদের সাথে উপভোগ করা উচিত যাতে আপনি সেগুলিকে দ্রুত Facebook এ আপলোড করতে পারেন এবং যে ব্যক্তিদের আপনি সত্যিই খুব বেশি পছন্দ করেন না তাদের কাছ থেকে ‘লাইক’ অর্জন করতে পারেন?  এই প্রশ্নগুলি যতই বোকা লাগতে পারে, মানুষ প্রকৃত মানুষের যোগাযোগ এবং মিথস্ক্রিয়াকে ‘পছন্দ’ ইত্যাদি দিয়ে প্রতিস্থাপন করে আমাদের সমাজে একটি বৈধ সমস্যা হয়ে উঠছে।  এটি আপনার জীবনে ঘটছে না তা নিশ্চিত করতে এই জাতীয় বন্ধু দিবসে সময় নিন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This