Categories
রিভিউ

আজ ২১ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২১ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১১ – মার্শাল ম্যাকলুহান, (কানাডিয়ান লেখক ও তাত্ত্বিক)।

১৯১১ – উমাশঙ্কর যোশী, (ভারতীয় বিখ্যাত বিদ্বজ্জন, কবি এবং ঔপন্যাসিক)।

১৯১৬ – পল রয়টার, (জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ সাংবাদিক ও রয়টার্সের প্রতিষ্ঠিাতা)।

১৯২৩ – রুডলফ মার্কাস, (কানাডীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান রসায়নবিদ)।

১৯৩০ – আনন্দ বক্সী, (ভারতীয় কবি ও গীতিকার)।

১৯৩৪ – চান্দু বোর্দে, (প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার)।

১৯৪৪ – জন আটা মিলস, (ঘানার আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, ঘানার ৩য় প্রেসিডেন্ট)।

১৯৪৫ – (ক) জিওফ ডাইমক, (সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

(খ) – ব্যারি রিচার্ডস, (সাবেক ও বিখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

১৯৪৭ – চেতন চৌহান, (সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৪৮ – বেপে গ্রিলো, (ইতালীয় কৌতুকাভিনেতা, অভিনেতা ও একটিভিস্ট)।

১৯৫১ – রবিন উইলিয়ামস, (আমেরিকান অভিনেতা, গায়ক এবং প্রযোজক)।

১৯৫৭ – স্টিফান লোফভেন, (সুইডিশ ইউনিয়ন নেতা ও রাজনীতিবিদ ও ৩৩ তম প্রধানমন্ত্রী)।

১৯৬০ – অমর সিং চমকিলা, (ভারতীয় গায়ক এবং গীতিকার)।

১৯৬৮ – আদিত্য শ্রীবাস্তব , (ভারতীয় অভিনেতা যিনি ভারতীয় টিভি সিরিজ সিআইডিতে সিনিয়র ইন্সপেক্টর অভিজিৎ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বিখ্যাত) ।

১৯৭১ – শার্লত গ্যাঁসবুর, (ব্রিটিশ-ফরাসি অভিনেত্রী ও গায়িকা)।

১৯৭৫ – রবীন্দ্র পুষ্পকুমারা, (শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার)।

১৯৮৯ – জুনো টেম্পল, (ইংরেজ অভিনেত্রী)।

১৯৯০ – জেসন রয়, (ইংলিশ ক্রিকেটার)।

১৯৯৭ – কে.এম. ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, (বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ)।

১৮১৬ – পল রয়টার, (জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ উদ্যোগপতি ও রয়টার সংবাদসংস্থার প্রতিষ্ঠাতা)।

১৮৬৩ – সি. অব্রে স্মিথ, (বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

১৮৯৩ – হান্স ফালাডা, (জার্মান লেখক)।

১৮৯৯ – হার্ট ক্রেন, (আমেরিকান কবি)।

১৮৯৯ – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, (মার্কিন উপন্যাসিক, ছোটগল্প রচয়িতা এবং সাংবাদিক)।

১৭১০ – পল মোরিং, (জার্মান শল্যচিকিৎসক)।

১৭৬২ – টিমোথি হাইনম্যান, (রাস্তা নির্মাণের পথপ্রদর্শক)।

১৬২০ – জিন পিকার্ড, (ফরাসি জোর্তির্বিদ)।

১৬৬৪ – ম্যাথু প্রাইয়োর, (ইংরেজ কবি ও কূটনীতিক)।

১৬৯৩ – টমাস পেলহ্যাম-হোলস, (নিউকাসল-আপন-টাইনের ১ম ডিউক, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯৫৪ – জেনেভা সম্মেলন শেষে ভিয়েতনাম এবং ফ্রান্সের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৫৯ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক শক্তিচালিত প্রথম বাণিজ্যতরী সাগরে ভাসানো হয়।

১৯৬৮ – আসামের করিমগঞ্জে দিব্যেন্দু ও জগন্ময় বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদ হন।

১৯৬৯ – চাঁদে মানুষের প্রথম পৌঁছানো।

১৯৭৬ – মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহেরের ফাঁসি কার্যকর।

১৮৩১ – নেদারল্যান্ডের অন্তর্গত বেলজিয়াম স্বাধীনতা লাভ করে।

১৮৬৬ – লন্ডনে কলেরায় শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়।

১৮৮৩ – ভারতের প্রথম রঙ্গমঞ্চ স্টার থিয়েটারের উদ্বোধন।

১৮৮৪ – লর্ডসে প্রথম ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়।

১৮৮৮ – ব্রিটিশ নাগরিক জন বয়েড ডানলপ বায়ুচালিত টায়ার আবিষ্কার করেন।

১৭১৩ – রাশিয়ার জার পিটার দ্য গ্রেটের ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী পারস্য উপসাগরের পানি সীমা পর্যন্ত নিজেদের সাম্রাজ্য। ক্রমবিস্তারের লক্ষ্যে জর্জিয়াকে ইরান থেকে পৃথক করার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল।

১৭৯৮ – নেপোলিয়ন বোনাপার্ট মিসরের যুদ্ধে জয়লাভ করেন।

১৬৫৮ – মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – এডওয়ার্ড বি লুইস, (মার্কিন জিনবিজ্ঞানী)।

২০১২ – ডন উইলসন, (ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

২০১৫ – ই. এল. ডোক্টোরও, (আমেরিকান ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও নাট্যকার)।

২০১৭ – জন হার্ড, (আমেরিকান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা)।

১৯০৬ – উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (ভারতীয় ব্যারিস্টার এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সভাপতি)।

১৯৩৫ –  দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ)।

১৯৪৩ – চার্লস উইলিয়াম প্যাডক, (আমেরিকান দৌড়বিদ)।

১৯৪৪ – ক্লজ ফন স্টফেনবার্গ, (জার্মান সামরিক কর্মকর্তা ও ক্যাথলিক অভিজাত সম্প্রদায়ভূক্ত ব্যক্তি)।

১৯৪৬ – গোয়ালবার্তো ভিলারয়ল, (বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট)।

১৯৫০ – জন সি. উডস, (নুরেমবার্গ বিচারের মৃত্যুদন্ড কার্যকরকারী আমেরিকান জল্লাদ)।

১৯৫১ – কাজেম আলী কোরেশি,  (মহাকবি কায়কোবাদ নামে সুপরিচিত )।

১৯৬৭ – আলবার্ট লুটুলি, (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকান শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ)।

১৯৭২ – জিগমে দর্জি ওয়াংচুক, (ভূটানের তৃতীয় ড্রূক গ্যালাপ (রাজা)।

১৯৭২ – র‌্যালফ ক্রেগ, (আমেরিকান অ্যাথলেট)।

১৯৭৬ – আবু তাহের, (বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার)।

১৯৯৮ – অ্যালান শেপার্ড, (মার্কিন নৌ বৈমানিক ও নাসার নভোচারী)।

১৭৯৬ – রবার্ট বার্নস, (স্কটিশ কবি ও গীতিকার)।

১০০৫ – ইবনে সাম্হ, (স্পেনের বিখ্যাত মুসলিম গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আমি সতেরও মা, অসতেরও মা – প্রয়াণ দিবসে শ্রীশ্রীমা সারদা দেবী সম্পর্কে কিছু কথা।

“আমি সতেরও মা, অসতেরও মা — শ্রীশ্রীমা সারদা দেবী “

আজ ২০ জুলাই। ১৯২০ সালে আজকের দিনেই ইহজগত ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মা সারদা। সারদা মা অত্যন্ত সহজ ভাবে জীবনের অতিবাহিত করার পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই তিনি গভীর দর্শনের কথা বলে গিয়েছেন, তা সত্যিই অবাক করার মতো। তাঁর দর্শন মেনে চললে জীবন ধারণ অনেক সহজ হয়ে যায়। জীবনে কোন পথে, কীভাবে চলতে হবে সেটাও বলে গিয়েছেন। আসলে তাঁর কাছে সবাই ছিল সন্তানের মতো। তাই সবাইকেই তিনি সন্তান মেনে কাছে টেনে নিতে পারতেন।

 

সারদা দেবী ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের পত্নী ও সাধনাসঙ্গিনী এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সংঘজননী।ভক্তগণ সারদা দেবীকে শ্রীশ্রীমা নামে অভিহিত করে থাকেন। রামকৃষ্ণ আন্দোলনের বিকাশ ও প্রসারে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। হিন্দু নারী এবং হিন্দু – সহধর্মিনীর প্রকৃত প্রকাশ শ্রীশ্রীমার মধ্যে মূর্ত্ত হয়ে উঠেছিল । বিবাহিত হয়েও তিনি ছিলেন আজীবন ব্রহ্মচারিণী ; আবার ব্রহ্মচারিণী হয়েও গৃহিনী । তাঁর জীবন ছিল সরল , শুদ্ধ এবং প্রার্থনার নিবিড় নীরবতার মত শান্তিময় ও সাধনাময়।

জন্ম ও বংশ পরিচয়—

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটীর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর  সারদা দেবীর জন্ম হয়। তার পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সারদা দেবীর পিতৃকূল মুখোপাধ্যায়-বংশ পুরুষানুক্রমে রামের উপাসক ছিলেন। সারদা দেবী ছিলেন তাদের জ্যেষ্ঠা কন্যা তথা প্রথম সন্তান। জন্মের পর প্রথমে সারদা দেবীর নাম রাখা হয়েছিল “ক্ষেমঙ্করী”। রাশ্যাশ্রিত নাম রাখা হয়েছিল “ঠাকুরমণি”। পরে “ক্ষেমঙ্করী” নামটি পালটে “সারদামণি” রাখা হয়।
বাল্যকালে সাধারণ গ্রামবাসী বাঙালি মেয়েদের মতো সারদা দেবীর জীবনও ছিল অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে। এক বার জয়রামবাটিতে দুর্ভিক্ষের সময় ক্ষুধার্তদের গরম খিচুড়ি বিতরণ করার সময় (তখন মা সারদার অল্প বয়স) তাঁর মধ্যে প্রকৃত জনসেবা করার রূপটি ফুটে উঠেছিল। ওই গরিব মানুষদের পাশে বসে হাতপাখায় তাদের বাতাস করে দিয়েছেন। ওই মানুষগুলো তখন মায়ের পরম স্নেহ পেয়ে আনন্দে মত্ত হয়ে উঠেছিল। অভাব, জ্বালা, যন্ত্রণা ভুলে সকলেই একাত্ম হয়েছিল সে দিন। আর মা সারদার এমন আচরণের নজির নানা উপলক্ষে রয়েছে একাধিক।অন্যের জন্য সহানুভূতির এই বোধ, এ সারদার জন্মগত। সারাজীবনই এই বোধ সঙ্গী তাঁর। সবার সব কষ্ট দূর হয় সে বোধে, কেবলমাত্র শ্রীশ্রীমা সারদা নামের আশ্রয়েই শীতল হয় কত অস্থির হৃদয়। সারদার একটাই পরিচয় তিনি সবার ‘মা’।

 

ছেলেবেলা–

ছেলেবেলায় ঘরের সাধারণ কাজকর্মের পাশাপাশি ছেলেবেলায় তিনি তার ভাইদের দেখাশোনা করতেন, জলে নেমে পোষা গোরুদের আহারের জন্য দলঘাস কাটতেন, ধানখেতে মুনিষদের (ক্ষেতমজুর) জন্য মুড়ি নিয়ে যেতেন, প্রয়োজনে ধান কুড়ানোর কাজও করেছেন। সারদা দেবীর প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা একেবারেই ছিল না। ছেলেবেলায় মাঝে মাঝে ভাইদের সঙ্গে পাঠশালায় যেতেন। তখন তার কিছু অক্ষরজ্ঞান হয়েছিল। পরবর্তী জীবনে কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের ভ্রাতুষ্পুত্রী লক্ষ্মী দেবী ও শ্যামপুকুরে একটি মেয়ের কাছে ভাল করে লেখাপড়া করা শেখেন। ছেলেবেলায় গ্রামে আয়োজিত যাত্রা ও কথকতার আসর থেকেও অনেক পৌরাণিক আখ্যান ও শ্লোক শিখেছিলেন।

বিবাহ ও সংসার জীবন —

 

তিন বছরের বালিকা সারদার সঙ্গে এক গানের আসরে প্রথম দেখা রামকৃষ্ণের। নবীন গায়ক দলের দিকে সারদার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তুমি কাকে বিয়ে করতে চাও’। বালিকা তার ছোট্ট তর্জনী অন্য দিকে রামকৃষ্ণের দিকে নির্দেশ করে বলল— একে। এরপর পাঁচ বছরের বালিকা সারদার বিবাহ হল চব্বিশ বছরের যুবক রামকৃষ্ণের সঙ্গে। রামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীর মন্দিরের পূজারি

১৮৫৯ সালের মে মাসে, সেকালে প্রচলিত গ্রাম্য প্রথা অনুসারে মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই রামকৃষ্ণ পরমহংসের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের বয়স তখন তেইশ। বিবাহের পরেও সারদা দেবী তার পিতামাতার তত্ত্বাবধানেই রইলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ফিরে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে।এরপর চোদ্দো বছর বয়সে প্রথম সারদা দেবী স্বামী সন্দর্শনে কামারপুকুরে আসেন। এই সময় তিনি যে তিন মাস শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে বাস করেছিলেন, তখনই ধ্যান ও অধ্যাত্ম জীবনের প্রয়োজনীয় নির্দেশ তিনি পান তার স্বামীর থেকে।

 

দক্ষিণেশ্বর যাত্রা—

আঠারো বছর বয়সে তিনি শোনেন, তার স্বামী পাগল হয়ে গেছেন। আবার এও শোনেন যে তার স্বামী একজন মহান সন্তে রূপান্তরিত হয়েছেন। তখন তিনি দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে দেখতে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। ১৮৭২ সালের ২৩ মার্চ পিতার সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে আসার পর তার ভয় ও সন্দেহ অপসারিত হয়। তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামী সম্পর্কে যে সব গুজবগুলি রটেছিল তা কেবলই সংসারী লোকের নির্বোধ ধারণামাত্র। তিনি দেখলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ তখন সত্যিই এক মহান আধ্যাত্মিক গুরু। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে এসে নহবতের একতলার একটি ছোটো ঘরে তিনি বাস করতে শুরু করলেন। ১৮৮৫ সাল অবধি তিনি দক্ষিণেশ্বরেই ছিলেন। তবে মাঝে মাঝে তার গ্রাম জয়রামবাটিতে গিয়েও স্বল্প সময়ের জন্য বাস করতেন। এই সময় সারদা দেবী ও দিব্য মাতৃকাকে অভিন্ন জ্ঞান করে শ্রীরামকৃষ্ণ ষোড়শী পূজার আয়োজন করেন। কালীর আসনে বসিয়ে পুষ্প ও উপাচার দিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ পূজা করেন তাকে। অন্য সকল নারীর মতো সারদা দেবীকেও তিনি দেবীর অবতার বলে মনে করতেন। এই কারণে তাদের বৈবাহিক জীবনও ছিল এক শুদ্ধ আধ্যাত্মিক সঙ্গত।সারদা দেবীকেই মনে করা হয় তার প্রথম শিষ্য।
কথিত আছে, শ্রীরামকৃষ্ণ দিব্যদৃষ্টিতে দেখেছিলেন যে তার আধ্যাত্মিক প্রচারকার্য পরবর্তীকালে চালিয়ে নিয়ে যাবেন সারদা দেবী। সেই কারণে তিনি তাকে মন্ত্রশিক্ষা দেন এবং মানুষকে দীক্ষিত করে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করতে পারার শিক্ষাও দান করেন। শেষ জীবনে যখন শ্রীরামকৃষ্ণ গলার ক্যানসারে আক্রান্ত তখন সারদা দেবীই স্বামীর সেবা এবং স্বামী ও তার শিষ্যদের জন্য রন্ধনকার্য করতেন।

তীর্থ যাত্রা–

শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাকে কেন্দ্র করে অঙ্কুরিত ধর্ম আন্দোলনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সারদা দেবী। শ্রীরামকৃষ্ণের প্রয়াণের দুই সপ্তাহ পর লক্ষ্মী দেবী, গোপাল মা প্রমুখ শ্রীরামকৃষ্ণের গৃহস্থ ও সন্ন্যাসী শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে সারদা দেবী উত্তর ভারতের তীর্থ পর্যটনে যাত্রা করেন। রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত অযোধ্যা ও কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করেন তারা। পরে তিনি দর্শন করেন কৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র বৃন্দাবন। কথিত আছে, এই বৃন্দাবনেই সারদা দেবীর নির্বিকল্প সমাধি লাভ হয়েছিল। এবং এই বৃন্দাবন থেকেই গুরু রূপে তার জীবনের সূত্রপাত হয়। মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত, যোগেন মহারাজ প্রমুখ শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যদের তিনি মন্ত্রদীক্ষা দান করেন। বৃন্দাবনেই শ্রীশ্রীমা রূপে তার সত্তার সূচনা ঘটে। তার জীবনীকার ও শিষ্যদের মতে, তাকে মা বলে ডাকা কেবলমাত্র সম্মানপ্রদর্শনের বিষয়ই ছিল না। যাঁরাই তার সাক্ষাতে আসতেন, তারাই তার মধ্যে মাতৃত্বের গুণটি আবিষ্কার করতেন।

 

বাগবাজারের মায়ের বাটী—

তীর্থযাত্রার শেষে সারদা দেবী কয়েকমাস কামারপুকুরে বাস করেন। এই সময় একাকী অত্যন্ত দুঃখকষ্টের মধ্যে দিয়ে তার জীবন অতিবাহিত হতে থাকে। ১৮৮৮ সালে এই খবর শ্রীরামকৃষ্ণের ত্যাগী শিষ্যদের কানে পৌঁছলে তারা তাকে কলকাতায় নিয়ে এসে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। স্বামী সারদানন্দ কলকাতায় তার জন্য স্থায়ী বাসভবন নির্মাণ করান।

মা সারদা ও শ্রীরামকৃষ্ণ আন্দোলন–

‘মায়ের বাটী’ নামে পরিচিত বাগবাজারের এই বাড়িটিতেই জয়রামবাটীর পর সারদা দেবী জীবনের দীর্ঘতম সময় অতিবাহিত করেছিলেন। প্রতিদিন অগণিত ভক্ত এই বাড়িতে তার দর্শন, উপদেশ ও দীক্ষালাভের আশায় ভিড় জমাতেন। তার মাতৃসমা মূর্তি ও মাতৃসুলভ ব্যবহার সকলকে মানসিক শান্তি দিত। তার নিজের সন্তানাদি না থাকলেও, শিষ্য ও ভক্তদের তিনি মনে করতেন তার আধ্যাত্মিক সন্তান।শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজের প্রয়াণের পর রামকৃষ্ণ আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং ভক্তদের বলেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদা দেবীর সত্তায় কোনো পার্থক্য আরোপ না করতে। বলা হয়, কয়েকজন শিষ্যও তার দর্শন লাভের পর আধ্যাত্মিক অনুভূতি প্রাপ্ত হন। কেউ কেউ তার সাক্ষাৎ দর্শনের পূর্বেই দেবী রূপে তার দর্শন লাভ করেন। আবার কেউ কেউ স্বপ্নে তার থেকে দীক্ষা লাভ করেন বলেও কথিত আছে। এইরকমই একটি উদাহরণ হল, বাংলা নাটকের জনক গিরিশচন্দ্র ঘোষ, যিনি মাত্র উনিশ বছর বয়সে স্বপ্নে তার কাছে থেকে মন্ত্র লাভ করেছিলেন। অনেক বছর পরে যখন তিনি সারদা দেবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন, তখন অবাক হয়ে দেখেন তার স্বপ্নে দেখা দেবী আসলে ইনিই। উদ্বোধন ভবনে শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যারা তার সঙ্গ দিতেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন গোপাল মা, যোগিন মা, গৌরী দিদি ও লক্ষ্মী মা।

জীবনের অন্তিম লগ্ন–

১৯১৯ সালের জানুয়ারি মাসে শ্রীমা জয়রামবাটী যাত্রা করেন এবং সেখানেই এক বছর কাটান। জয়রামবাটীতে অবস্থানের শেষ তিন মাস তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। ১৯২০ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি অশক্ত অবস্থায় তাকে কলকাতায় আনা হয়। পরের পাঁচ মাস তিনি রোগযন্ত্রণায় অত্যন্ত কষ্ট পান। মৃত্যুর পূর্বে এক শোকাতুরা শিষ্যাকে তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন,যদি শান্তি চাও, মা, কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগৎকে আপন করে নিতে শেখ। কেউ পর নয়, মা, জগৎ তোমার। মনে করা হয় এই উপদেশটিই বিশ্বের উদ্দেশ্যে তার শেষ বার্তা।

 

তার প্রধান শিষ্যগণ–

স্বামী নিখিলানন্দ, স্বামী বীরেশ্বরানন্দ, স্বামী অশেষানন্দ, স্বামী বিরজানন্দ।

উপদেশ ও উক্তি—

“আমি সত্যিকারের মা; গুরুপত্নী নয়, পাতানো মা নয়, কথার কথা মা নয় – সত্য জননী।”
“মানুষ তো ভগবানকে ভুলেই আছে। তাই যখন যখন দরকার, তিনি নিজে এক একবার এসে সাধন করে পথ দেখিয়ে দেন। এবার দেখালেন ত্যাগ।”
“যেমন ফুল নাড়তে-চাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে গন্ধ বের হয়, তেমনি ভগবত্তত্ত্বের আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়।
ভালবাসায় সবকিছু হয়, জোর করে কায়দায় ফেলে কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না।”
“সৎসঙ্গে মেশো, ভাল হতে চেষ্টা কর, ক্রমে সব হবে।”
“কাজ করা চাই বইকি, কর্ম করতে করতে কর্মের বন্ধন কেটে যায়, তবে নিষ্কাম ভাব আসে। একদণ্ডও কাজ ছেড়ে থাকা উচিত নয়।”
“মনটাকে বসিয়ে আলগা না দিয়ে কাজ করা ঢের ভাল। মন আলগা হলেই যত গোল বাধায়।”
“আমি সতেরও মা, অসতেরও মা।”
“ভাঙতে সবাই পারে, গড়তে পারে কজনে? নিন্দা ঠাট্টা করতে পারে সব্বাই, কিন্তু কি করে যে তাকে ভাল করতে হবে, তা বলতে পারে কজনে?”
শ্রীশ্রীমা ছিলেন ভারতীয় নারীর আদর্শের প্রতীক । তিনি প্রাচীনা হয়েও নবীনা ছিলেন । ভারতীয় প্রাচীন আদর্শে মন্ডিত হয়েও তিনি আধুনিক হিন্দুনারীর সমুজ্জল প্রতীক ছিলেন ।কুসংস্কার ও শিক্ষার অভাবে বিভ্রান্ত ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও চেতনা ফিরিয়ে আনার কাজে যখন স্বামী বিবেকানন্দ  আসমুদ্রহিমাচল পদব্রজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তখন সারদা দেবী ছিলেন তাঁর একমাত্র প্রেরণা । তাঁর আশীর্বাদপুত অধুনা বিস্তৃত রামকৃষ্ণ মিশন আজ বিশ্ববিখ্যাত।   শ্রীমা বলতেন , “ শ্রীরামকৃষ্ণ ও আমি অভেদ । আমার আশীষ তাঁর আশীষতুল্য বলে মনে করবে ।”
জাতিধর্মনির্বিশেষে তার করুণা সবাইকে শান্তি ও আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান দিয়েছে । সীতা , সাবিত্রী , শ্রীরাধা , মীরাবাঈ প্রভৃতির মত শ্রীশ্রীমাও ভারতীয় নারী জাতির আদর্শে পূর্ণ প্রকাশিত হয়েছিলেন । মায়ের উপদেশ আজও জীবনে মেনে চলেন অনেকে। তিনি বলেন, ভালবাসায় সবকিছু হয়, জোর করে কায়দায় ফেলে কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না।”শ্রীশ্রী মা ছিলেন সকলের মা ;এই  বিশ্বজগতের মা। স্বামী বিবেকানন্দ সারদা দেবীকে ,জীবন্ত দুর্গা বলে অভিহিত করেছিলেন ।রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা তাঁকে ‘সংঘ জননী’ বলে জানতেন।

অন্তিম যাত্রা–

১৯২০ সালের ২০ জুলাই রাত দেড়টায় কলকাতার উদ্বোধন ভবনে তার প্রয়াণ ঘটে। বেলুড় মঠে গঙ্গার তীরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই স্থানটিতেই বর্তমানে গড়ে উঠেছে শ্রীমা সারদা দেবীর সমাধিমন্দির।

 

উপসংহার—-

 

মা ছিলেন সকল সামাজিক বিধিনিষেধের ওপরে।  তাকে গন্ডিভাঙা মা বলে ভক্তেরা অভিহিত করেছেন।  মা সকলের ইহকাল ও পরকালের আশ্রয়। সকলেই তার করুণা লাভ করেছে।  মুচি,  মেথর,  ডোম,  বাগদি, চন্ডাল, মুসলমান, আতুর সকলেই মায়ের কাছে অবাধ আশ্রয় পেয়ে ধন্য হয়েছে। তাই তো তিনি হয়ে উঠেছিলেন সকলের মা।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২০ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২০ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) আজ চাঁদে অবতরণ দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০২ -বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও কবি সুনির্মল বসুর জন্ম ।

১৯১৯ – এডমুন্ড হিলারী (নিউজিল্যান্ডের একজন পর্বতারোহী এবং অভিযাত্রী। তিনি তেনজিং নরগের সাথে মে ২৯, ১৯৫৩ সালে এভারেস্ট শৃঙ্গ আরোহণ করেন)।

১৯৪৭ – গের্ড বিনিগ, (জার্মান পদার্থবিদ এবং শিক্ষাবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী)।

১৯৫০ – নাসিরুদ্দিন শাহ্, (ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা অভিনেতা)।

১৯৯১ – কিরা কাজানসেভ, (মিস আমেরিকা ২০১৫)।

১৯৯৯ – পপ স্মোক, (আমেরিকান র‌্যাপার এবং গায়ক।

১৮০৪ – রিচার্ড ওয়েন, ইংরেজ জীববিজ্ঞানী, শারীরস্থানবিৎ ও জীবাশ্মবিদ)।

১৮২২ – গ্রেগর জোহান মেন্ডেল, (অস্ট্রিয় ধর্মযাজক ও বংশগতির প্রবক্তা)।

১৮৬৪ – এরিক এক্সেল কারলফেল্ডট, (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ কবি)।

১৮৯৭ – টাডেউস রিচস্টেইন, (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পোলিশ রসায়নবিদ)।

১৭৮৫ – দ্বিতীয় মাহমুদ, (উসমানীয় খলিফা ও ৩০তম উসমানীয় সুলতান)।

৬৪৭ – প্রথম ইয়াজিদ, (উমাইয়া খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৬ – ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী সোমালিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

১৯০৫ – ব্রিটিশ সংসদে বঙ্গভঙ্গ আইন প্রথম অনুমোদন পায়।

১৯৪৬ – প্যারিসে শান্তি সম্মেলন শুরু হয়।

১৯৪৭ – মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় বাংলায় মুসলিম নারীদের সচিত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ প্রকাশিত।

১৯৪৯ – সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে ১৯ মাসের যুদ্ধের অবসান হয়।

১৯৫১ – জেরুজালেমে শুক্রবার প্রার্থনাকালে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ একজন ফিলিস্তিনির হাতে নিহত হন।

১৯৫৪ – ভিয়েতনাম যুদ্ধর অবসান ঘটাতে জেনেভাতে ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ত্র সংবরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ভিয়েতনাম উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত হয়।

১৯৬০ – বিশ্বের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১৯৬৮ – স্পেশাল অলিম্পিক প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৬৯ – অ্যাপোলো ১১ অভিযানের নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র প্রথম মানুষ হিসাবে চাঁদে পা রাখেন।

১৯৭৪ – তুর্কি ফৌজ উত্তর সাইপ্রাস দখল করে।

১৯৭৪ – তুরস্কের সেনাবাহিনী সাইপ্রাসের তুর্কি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চল দখল করে নেয়।

১৯৭৬ – মার্কিন নভোযান ভাইকিং মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে।

১৯৯৬ – ঢাকা নগর জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।

১৮১০ – কলম্বিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৩ – হেলেন টমাস, (আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক)।

২০১৫ – থিওডোরে বিকেল, (অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতা, লোক গায়ক, সুরকার, গীতিকার ও একটিভিস্ট)।

২০১৭ – চেস্টার বেনিংটন, (আমেরিকান গায়ক)।

১৯২০ – শ্রীশ্রীমা সারদা দেবী (উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের পত্নী ও সাধনসঙ্গিনী এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সংঘজননী)।

১৯৩৭ – গুলিয়েলমো মার্কোনি (নোবেলজয়ী ইতালিয় পদার্থবিজ্ঞানী )।

১৯৪৪ – মিলড্রেড হ্যারিস, (মার্কিন নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী)।

১৯৪৫ – পল ভালেরয়, (ফরাসি লেখক ও কবি)।

১৯৫১ – প্রথম আবদুল্লাহ, (আরব বিদ্রোহের অন্যতম নেতা ও জর্ডানের প্রথম বাদশাহ)।

১৯৬৫ – বটুকেশ্বর দত্ত, (বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা)।

১৯৭২ – গীতা দত্ত , (বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী)।

১৯৭৩ – ব্রুস লী, (চীনা মার্শাল আর্ট শিল্পী, শিক্ষক, অভিনেতা।

১৯৭৪ – কমল দাশগুপ্ত, প্রথিতযশা সঙ্গীতশিল্পী, প্রসিদ্ধ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক)।

১৮৬৬ – বের্নহার্ট রিমান, (বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৮ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১৮ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) ম্যান্ডেলা দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৯৩ – রিচার্ড ডিক্স, (মার্কিন নির্বাক ও সবাক চলচ্চিত্র অভিনেতা)।

১৯৪৯ – ডেনিস লিলি, (অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৮২ – প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, (ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী)।

১৯৮৯ – ভূমি পেড়নেকর, (ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী)।

১৯৯৬ – স্মৃতি মন্ধনা, (ভারতীয় প্রমিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯০২ – মেজর সত্য গুপ্ত, (ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবী ও সমাজসেবী)।

১৯০৯ – বিষ্ণু দে, (বাঙালি কবি, লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক)।

১৯১৬ – জনি হপ, (আমেরিকার বেসবল খেলোয়াড়)।

১৯১৮ – আনোয়ারুল হক, (বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী)।

১৯১৮ – নেলসন ম্যান্ডেলা, (দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ও রাষ্ট্রপতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী)।

১৯২২ – টমাস স্যামুয়েল কুন, (মার্কিন দার্শনিক)।

১৯২৫ – হুবার্ট ডগার্ট, (ইংরেজ ক্রিকেটার, ক্রীড়া প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক)।

১৯২৭ – মেহদী হাসান, (পাকিস্তানি গজল গায়ক ও বলিউডের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী)।

১৯৩৩ –  ইয়েভগেনি ইয়েভতুশেঙ্কো, (রুশ কবি)।

১৯৩৭ – রোয়াল্ড হোফমান, (পোলিশ-মার্কিন রসায়নবিদ এবং শিক্ষাবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী)।

১৯৪০ – জেমস ব্রোলিন, (মার্কিন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক)।

১৯৪৩ – আরতি মুখার্জী, (বাংলা তথা বলিউডের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী)।

১৮৪৯ – শরৎচন্দ্র দাশ, ( তিব্বতি ভাষা ও সংস্কৃতির ভারতীয় পণ্ডিত) ।

১৮৫৩ – হেন্ড্রিক আন্টোন লোরেন্‌ৎস, (ডাচ পদার্থবিদ এবং শিক্ষাবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী)।

১৮৯৩ – জীবনতারা হালদার, (ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী,অনুশীলন সমিতির সদস্য)।

১৭৬৮ – জঁ রোবের আরগঁ, (সুইজারল্যান্ডীয় গণিতবিদ)।

১৬৩৫ – রবার্ট হুক, (ইংরেজ বিজ্ঞানী)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯৪৭ – ভারতের স্বাধীনতা আইন ইংল্যান্ডের রাজার অনুমতি লাভ করে।

১৯৬৬ – মহাকাশযান জেমিনি ১০ উৎক্ষেপন করা হয়।

১৯৬৮ – আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টাক্লারাতে ইন্টেল কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৬ – গ্রীস্মকালীন অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে রুমানিয়ার জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমিনিচি প্রথমবারের মতো পারফেক্ট ১০ স্কোর করেন।

১৯৭৬ – মন্ট্রিলে ২১তম অলিম্পিকের উদ্বোধন হয়।

১৯৭৭ – ভিয়েতনাম জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

১৮৪১ – ১৮ জুলাই রবিবার ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৫৪ – স্যার চার্লস উডের বিখ্যাত ডেসপ্যাচ প্রকাশিত হয়।

১৮৭১ – কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার রাস্তাঘাট তৈরি রক্ষার খরচ নির্বাহের জন্য নীতিনির্ধারক আইন চালু হয়।

১৭৮৩ – বৃটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেল ছায়াপথের প্রকৃতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।

৮৭১ – বৃটেন ও ডেনমার্কের মধ্যে ২৫ বছরব্যাপী যুদ্ধের সূচনা হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৬ – মুবারক বেগম, (ভারতীয় গায়িকা)।

২০২২ – ভূপিন্দর সিং, (ভারতের প্রখ্যাত গজল শিল্পী)।

১৯১৮ – ইন্দ্রলাল রায়, (প্রথম ভারতীয় (বাঙালি) বিমান চালক প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন)।

১৯৬৮ – কর্নেইল হেইম্যানস, (বেলজিয়ান ফিজিওলজিস্ট এবং শিক্ষাবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী)।

১৯৮৯ – রেবেকা শেফার, (আমেরিকান মডেল এবং অভিনেত্রী)।

১৯৯০ – ইউন পসুন, (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিবিদ এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি)।

১৮১৭ – জেন অস্টেন, (ইংরেজ ঔপন্যাসিক)।

১৮৭২ – বেনিটো জুয়ারেজ, (মেক্সিকান আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ, মেক্সিকোর ২৬ তম রাষ্ট্রপতি)।

৭১৫ – মুহাম্মদ বিন কাসেম, (সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কেন পালিত হয় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস, দিনটির পালনের গুরুত্ব কি?

ভূমিকা—

আজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার দিবস বা আন্তর্জাতিক বিচার দিবস হিসাবেও পালন করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের উদীয়মান ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ১৭ জুলাই সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালিত হয়। ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠনের চুক্তি গ্রহণের তারিখকে স্মরণ করে রাখার জন্য এই দিনটিকে গ্রহণ করা হয়।  তাই আজ মানবতাবিরোধী অপরাধসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সকলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে  দেশে দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস।

 

ইতিহাস—

 

আমরা জানি বিশ্বব্যাপী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে বিশ্বের অনেক দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে নানা রকমের আন্দোলন হয়েছে। তবে এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা মোটেই সহজ ছিল না। এর ধারনা আর প্রেক্ষাপটটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে নুরেমবার্গ ও টোকিওতে সংঘটিত হওয়া অপরাধের বিচার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাবার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। গণমানুষের প্রত্যাশাকে আশার আলো দেখিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এসব ঘটনা ও সাফল্য ‘রোম সংবিধি’ এর মতো চুক্তি প্রতিষ্ঠার পটভূমি তৈরি করতে সাহায্য করে। শুরুতে ১২০টি দেশ ভোটের মাধ্যমে ‘রোম সংবিধি’ অনুমোদন করে। প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তির সঙ্গে একাত্ম হয়েছে। ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ১৯৯৮ সালের এই দিনে নেদারল্যান্ডসের হেগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালের ১ জুন উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতে অনুষ্ঠিত রোম বিধির রিভিউ কনফারেন্সে ১৭ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ।

 

পালনের উদ্দেশ্য—-

 

অপরাধের বিচার করে বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পালিত হয় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস।  অপরাধ সেটা যেখানেই হোক আর যে দেশেই হোক, মানুষ যেন বিচার প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারে সেই ধারনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার দিবস।

একটি স্বাধীন দেশের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়া আবশ্যক। দেশের প্রতিটি মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া তার নাগরিক অধিকার। এই ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য।

বিশ্বের নানা স্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোকে যেন বিচার প্রক্রিয়ায় সম্মুখীন করা যায়, সেজন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই বিশেষ আদালতটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে। তবে যে কোনো দেশেই এই আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

 

পালনের গুরুত্ব—

 

আসলে ন্যায়বিচার একটি আপেক্ষিক বিষয়। দেশ, কাল হিসেবে ন্যায়বিচার ভিন্ন। এমনকি অনেক সময় বিচার করলেও তা কার্যকর করা যায় না। সেক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলা যায় না। ন্যায়বিচার হতে পারে জলের জন্য, শিক্ষার জন্য, সমঅধিকারের জন্য কিংবা অন্য যে কোনো বিষয়ে। এক্ষেত্রে প্লেটোর রিপাবলিক বইয়ের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। প্লেটো সেখানে বলেছেন সমাজ তৈরি হয় ন্যায়ের মধ্য দিয়ে। ঘরের মধ্যে, সমাজের মধ্যে ন্যায়বিচার হচ্ছে কিনা, ধনী দেশের সঙ্গে সম্পর্কে গরিবের ন্যায়বিচার হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। সেই বিচারের মধ্য দিয়েই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।

 

উপসংহার—

 

সর্বপরি বলা যায় ন্যায়বিচার ভাবনা টা কেবল মাত্র খাতায় কলমে সীমাবদ্ধ হলে চলবে না। একটি মনুষ প্রকৃত ন্যায়বিচার পাচ্ছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় প্রকৃত ন্যায় বিচার পর্থীরা বঞ্চিত থেকে যায়। সমাজিক প্রভাব প্রতিপত্তি, অর্থবল এর প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই নিজেদের দোষ ঢেকে দিতে সক্ষম হয়, যা কখনই কাম্য নয়। তাই ভাবতে হবে দৃশ্যমান বিচারের বাইরেও একটি বিচার আছে। সেখানে মৌলিক ন্যায়বিচার করতে পারছেন কিনা সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য ন্যায়বিচার করা সম্ভব না হলে সিস্টেম বদলাতে হবে। যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হতে পরে। ন্যায়বিচার পাওয়া একটি মানুষের সমাজিক আধিকার। তাই প্রতি বছর, সারা বিশ্বের লোকেরা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক বিচার, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমর্থনে বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালন করে থাকে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৭ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১৭ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – নীরদাকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী ( খ্যাতনামা সেতারবাদক)।

১৯১২ – অমিতা সেন (সংগীত, নৃত্য ও অভিনয়ে পারদর্শিনী)।

১৯১৩ –  রুজে গারুদী , (বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক ফ্রান্সের মার্সাই শহরে জন্ম গ্রহণ করেন)।

১৯১৫ – বিজন ভট্টাচার্য, (একজন বাঙালি নাট্যব্যক্তিত্ব)।

১৯৩০ – শচীন ভৌমিক, (হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের একজন বিখ্যাত গল্প লেখক এবং চিত্রনাট্যকার) ।

১৯৩৫ – (ক) ডাইঅ্যান ক্যারল, (মার্কিন অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী ও মডেল)।

(খ) – ডোনাল্ড সাদারল্যান্ড, (কানাডীয় অভিনেতা)।

১৯৪৪ – কার্লোস আলবার্তো তোরেস, (ব্রাজিলীয় ফুটবলার)।

১৯৫৪ –  এঙ্গেলা মার্কেলে (জার্মান চ্যান্সেলর)।

১৯৬০ – কিম বার্নেট, (ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৭২ – ইয়াপ স্টাম, (ওলন্দাজ ফুটবলার)।

১৯৭৫ –  আন্দ্রে এডামস, (নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার)।

১৮৩১ -মনোমোহন বসু, (বিশিষ্ট বাঙালি নাট্যকার ও লেখক)।

১৮৯৪ – জর্জ ল্যমেত্র্‌, (বেলজীয় বিশ্বতত্ত্ববিদ)।

১৮৯৯ – জেমস ক্যাগনি, (মার্কিন অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী)।

১৪৮৭ – পারস্যের শাহ ইসমাইলের জন্ম।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০০ – প্রকাশিত হয়  ব্রিটিশ ম্যাগাজিন পাঞ্চ ।

১৯২৮ –  পেনারে আলভারো ওবরেগন আততায়ীর গুলিতে নিহত (মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি)।

১৯৩৩ – স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ শুরু।

১৯৪৫ – সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধানরা পটসডাম সম্মেলনে যোগ দেন।

১৯৫৫ – ক্যালফোর্নিয়ায় ডিজনিল্যান্ড উদ্বোধন হয়।

১৯৬৩ – স্পেনে গৃহযুদ্ধ শুরু।

১৯৬৮ – ইরাকে ১৭ জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়, আবদুর রহমান আরিফ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসে।

১৯৭৩ – আফগানিস্তানের শেষ বাদশাহ জহির শাহের পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

১৯৭৬ – পূর্ব তিমুর ইন্দোনেশিয়ার ২৭ তম প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭৭ – বাংলাদেশের কর্ণফুলীর মোহনায় জেটি চালু হয়।

১৮২১ – স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লোরিডাকে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করে।

১৮২৩ –  কলকাতায় সাধারণ শিক্ষা সমিতি গঠিত হয় গভর্নর জেনারেল জন এ্যাডামের প্রস্তাব অনুসারে।

১৮৬১ – কংগ্রেস কাগজের নোট অনুমোদন করে।

১৭১২ – ইংল্যান্ড, পর্তুগাল ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

১৭৬২ –  রাশিয়ার জার মনোনীত হন দ্বিতীয় ক্যাথেরিন।

১৭৯০ – টমাস সেইন্ট প্রথম সেলাই কলের পেটেন্ট করেন।

১৪২৯ –  ফ্রান্সের সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হন দাউফিন।

১০৫৪ – অভিষেক হয়  সম্রাট তৃতীয় হেনরির পুত্র চতুর্থ হেনরির ।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৯ – স্বরূপ দত্ত, (ভারতীয় বাঙালি মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা)।

২০২০ – এমাজউদ্দিন আহমদ,( বাংলাদেশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য)।

১৯১২ – অঁরি পোয়াঁকারে, (ফরাসি গণিতবিদ, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও দার্শনিক)।

১৯১২ – ঝুল অঁরি পোয়েকার, (ফরাসি গণিতবিদ ও পদার্থবিদ)।

১৯৩১ – সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, (বাংলাদেশের মুসলিম জাগরণের কবি, ঔপন্যাসিক ও রাজনীতিবিদ)।

১৯৮৪ – মালতী ঘোষাল, (ভারতীয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী)।

১৯৮৫ – সুভো ঠাকুর, (কলকাতা গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা)।

১৯৯২ – কানন দেবী, (ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী এবং গায়িকা)।

১৮৩৫ – টিরট সিং, (মেঘালয়ের খাসি জনগোষ্ঠীর প্রধান)।

১৭৯০ – অ্যাডাম স্মিথ, (স্কটিশ দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১২ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১২ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – পাবলো নেরুদা,১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী চিলির কবি,কূটনীতিজ্ঞ ও রাজনীতিক।

১৯০৯ – বিমল রায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক।

১৯১৩ – উইলিস ল্যাম্ব, নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ।

১৯২১ -সুকুমারী ভট্টাচার্য,প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতির বিদগ্ধ গবেষক ও প্রখ্যাত অধ্যাপক।

১৯৩৭ – লিওনেল জস্‌পাঁ, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

১৯৬৫ – সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটার।

১৯৭৮ – টোফার গ্রেস, মার্কিন অভিনেতা।

১৯৯০ – রেচেল ব্রসনাহ্যান, মার্কিন ও ব্রিটিশ অভিনেত্রী।

১৮৪৫ – যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ, বাঙালি সংস্কৃত পণ্ডিত,চিন্তাবিদ,সাংবাদিক ও জনপ্রিয় জীবনীগ্রন্থের প্রণেতা।

১৮৫৪ – জর্জ ইস্টম্যান, আমেরিকান উদ্ভাবক ও ইস্টম্যান কোডাক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা।

১৮৬৩ – আলবেয়ার কালামেত্ত, বিসিজি টিকার উদ্ভাবক ফরাসি জীবাণুবিদ ।

১৮৬৫ – জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার, আফ্রো-আমেরিকান বিজ্ঞানী, আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে প্রভূত উন্নত সাধন করেন।

১৮৬৯ – শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক।

১৭৩০ – জোসিয়া ওজেউড, ইংল্যান্ডের পটুয়া।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – একটি গাড়ি বোমা হামলায় স্পেনের মাদৃদে নয় জন ব্যক্তি আহত হন। এজন্য বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ETA কে দায়ী করা হয়।

১৯১২ – আমেরিকায় প্রথমবারের মতো বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

১৯২০ – কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদের যুগ্মসম্পাদনায় নবযুগ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১৯৪০ – ব্রিটেনের নৌ-বাহিনী আলজেরিয়ার ক্যাবিয়ে পোতাশ্রয়ে ভিড় করে বেশ কয়েকটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়।

১৯৪১ – মস্কোতে ইঙ্গ-রুশ চুক্তি স্বাক্ষর।

১৯৪১ – মস্কোতে প্রথমবারের মতো জার্মান বাহিনী বোমা বর্ষণ করে।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাঞ্জানিয়া।

১৯৭৫ – ব্রিটেনে নগ্ন দৌড়ের ঘটনা দেখা দেয়।

১৯৭৫ – ব্রিটিশ কমনওয়েলথের রাগবির ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯০ – রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েল্তসিন কম্যুনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৯১ – সকালে হংকংএর ছিডে বিমান বন্দরে হংকং এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টাকা ছিনতাই ঘটনা ঘটে।

১৯৯৩ – জাপানের উত্তরাঞ্চলের ৭.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১৯৬ জন মারা যান।

১৯৯৮ – ফ্রান্সের প্যারিসে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, সেই খেলায় ফ্রান্স ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। ম্যাচটি সারা বিশ্বে ১.৭ বিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষ করে।

১৮৭৮ – ব্রিটেন সাইপ্রাস দখল করে।

১৭০০ – গ্রিনল্যান্ড গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।
১৬৭৪ – শিবাজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করেন।

১৫৪৩ – ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি ষষ্ঠবারের মতো বিয়ে করেন।

১৫৭৬ – হোসেন কুলি খান বাংলার শাসক নিযুক্ত হন।

১৫৮০ – স্লাভিক ভাষায় বাইবেল প্রকাশিত হয়।

১৪৪২ – আলফনসো নেপলসের রাজা হন।

১২৩৩ – ক্রুসেডার নৌ-সেনারা মিশরের ঐতিহাসিক আলেক্সান্দার বন্দরটি অবরোধ করে।

১১০৯ – ক্রুসেডাররা ত্রিপোলি নগরী দখল করে।

১০৯৬ – পিটার দি হারমিট এর অধীনস্থ একদল ক্রুসেডার বুলগেরীয়ার সোফিয়ায় পৌছায়। তারা এখানে আর একটি দলের সাথে যোগ দিয়ে কন্সটান্টিনোপলের (ইস্তানবুল) দিকে রওনা দেয়।

৭১১ – তারেক বিন যিয়াদ তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে স্পেনে প্রবেশ করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৩ – অমর গোপাল বসু,বাঙালি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রকৌশলী, বিশ্ববিখ্যাত অডিও ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থা বোস কর্পোরেশন এর প্রতিষ্ঠাতা।

১৯০২ – ইতালির সন্ত জোহানেস গোয়ালবার্তাসে।

১৯৯১ – ইরানের বিশিষ্ট মনীষী আল্লামা সাইয়্যেদ তাহের সাইয়্যেদযাদেহ হাশেমী

১৯২৬ – ইংরেজ পুরাতাত্ত্বিক গায়ট্রুড বেল।

১৯৯৯ – রমাতোষ সরকার ভারতের বিশিষ্ট বাঙালি জ্যোর্তিবিজ্ঞানী।

১৮০৪ – মার্কিন রাজনীতিক আলেকজান্ডার হ্যামিলটন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস; জানুন দিনটি পালনের লক্ষ্য ও গুরত্ব সম্পর্কে।

সূচনা—-

 

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস । ১৯৮৯ সাল থেকে পালন করা শুরু হয় দিনটি। এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কতকগুলি  কারণ।আজকের বিশ্বে ক্রমশ  দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা। কিন্তু আমরা জানি জনসংখ্যা বাড়লেও বসবাসের জায়গা কিন্তু সেই একই। এর প্রভাব তাই সমাজে বিভিন্ন রূপে প্রভাব পড়ে। সে সমাজিক হোক কিংবা অর্থনীতি সর্বক্ষেত্রেই। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে মারাত্মক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে স্থিতাবস্থাও। কারন অতিরিক্ত জনসংখ্যা যেমন সম্পদ তেমনি এর সমাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে যথেষ্ঠ। তাই এর ভালো-মন্দ এবং অন্যান্য দিকগুলি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১১ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনটি ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

 

কবে শুরু হয়—-

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হল একটি বার্ষিক ইভেন্ট , ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরী মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয় যা আজও গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়ে চলেছে। তবে আজকের দিনে দাড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করে শুধু  খাতায় কলমে নয়, প্রতিটি রাষ্ট্রকে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ঠ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। তা না হলে এই জন বিস্ফরন কোন কোনো ক্ষেত্রে অভিশাপ ডেকে আনতে পারে।

 

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের লক্ষ্য—

 

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য হল পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব , লিঙ্গ সমতা , দারিদ্র্যের মতো বিভিন্ন জনসংখ্যার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার রক্ষা কর। বহু মানুষ তাঁদের লিঙ্গ, জাতি, শ্রেণী, ধর্ম, যৌন অভিমুখ, অক্ষমতা এবং নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে বৈষম্য, হয়রানি এবং হিংসার সম্মুখীন হন। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বহু জায়গাতেই মানবাধিকারও খর্ব হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই দিনটি পালন করা হয়।সারা বিশ্বে এদিন নানা ধরনের সেমিনার, আলোচনাসভা, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, নানা ধরনের প্রতিযোগিতা, স্লোগান, কর্মশালা, বিতর্ক, গান ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এই যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতেই পালন করা হয় এই বিশেষ দিনটি।

 

ইতিহাস—-

১৯৮৯ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন কর্মসূচির তৎকালীন গভর্নিং কাউন্সিল এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ জুলাই, ১৯৯০ তারিখটি থেকে ৯০টিরও বেশি দেশে প্রথম এই দিনটি পালিত হয়। তারপর থেকে, সরকার ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় ইউএনএফপিএ জাতীয় অফিসের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করে আসছে।

 

দিনটি পালনের গুরুত্ব—-

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে প্রতি মিনিটে বিশ্বে ২৫০টি শিশু জন্মগ্রহণ করে।  রাষ্ট্রসংঘ জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেই নিয়ন্ত্রণ করার  চেষ্টা করছে। তবে জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও আছে। অনেকের মতে পৃথিবীর যা সম্পদ রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি লোককে জায়গা দেওয়া সম্ভব। তাদের মতে ধীরে ধীরে জনসংখ্যা কমিয়ে আনা উচিত। কেবল এ ভাবেই প্রকৃতির ওপর যে নির্যাতন চলছে তা বন্ধ করা যাবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নত বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে। জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত চিন এক সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আবার কিছু দেশ ঋণাত্নক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের কারণে উল্টো নীতিও গ্রহণ করেছে।

 

জনসংখ্যা ও মানব সম্পদ—-

 

তবে, জনসংখ্যা কখনই সমস্যা নয়, এটি হলো সম্পদ। কেননা জনসংখ্যাই হতে পারে জনসম্পদ। মূলধন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নির্ভর করে দক্ষ জনসম্পদের ওপর। তাই দক্ষ জনসম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত। অতিরিক্ত জনসংখ্যার দক্ষতা বাড়াতে গেলে অনেক সময় সম্পদেরও প্রয়োজন হয়। কিন্তু জনসংখ্যা কম হলে সীমিত সম্পদ দিয়েও তাদের দক্ষ করে তোলা সম্ভব হয়।

তাই বলা চলে ‘জনসংখ্যা’ যে কোনো দেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থা বা অবস্থান, সুস্থ কিংবা অসুস্থ, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী—এই সব বিচারেই ‘জনসংখ্যা’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

একটি দেশের মূল অবকাঠামো জনসংখ্যা—-

 

একটি দেশের জনগণ তথা সাধারণ গণমানুষ দেশটির প্রধান চালিকাশক্তি বা প্রাণশক্তি। আর সে প্রাণের প্রকাশ বা স্পন্দন মনোরম হতে পারে যদি মানুষ সাধারণ খাদ্যে-স্বাস্থ্যে-শিক্ষায় সবল ও কর্মক্ষম থাকে। সমৃদ্ধ একটি দেশ নির্মাণ তাহলেই সম্ভবপর হয়।একটি দেশের মূল অবকাঠামো হচ্ছে জনসংখ্যা। যদিও বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া এক ধরনের আতঙ্কের খবর। বলা হয়, একুশ শতাব্দীতে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থার জন্ম দিতে চলেছে। জনসংখ্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১১ জুলাই ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

 

উপসংহার—-

 

তাই সামগ্রিক বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে প্রতি বছর ১১ই জুলাই রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হোয়ে আসছে।  জনসংখ্যাকে সম্পদ বলা হলেও অতিরিক্ত জনসংখ্যা সম্পদ নয়, বরং অতিরিক্ত জনসংখ্যা  বোঝা। করণ যত জনবৃদ্ধি হবে ততই নানান সামস্যা তৈরি হবে। দেখা দেবে প্রাপ্ত অপ্রপ্তির শূন্যতা। পুষ্টি, অপর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ, বেকারত্ব, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা ইত্যাদি সমস্যার মূলে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে গুরুত্ব সহকারে।।

।।তথ্য: সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১১ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১১ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৬ – আলেক্সান্দ্র মিখাইলোভিচ প্রখরভ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত রাশিয়ান পদার্থবিদ।

১৯২৭ – থিওডর মেইম্যান, লেজার রশ্মির উদ্ভাবক মার্কিন বিজ্ঞানী।

১৯২৯ – ডেভিড কেলি, আইরিশ অভিনেতা।

১৯৩৩ – সুভাষ চৌধুরী বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিক্ষক গবেষক  ও সমালোচক ।

১৯৩৬ – বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক আল মাহমুদ।

১৯৪৬ – বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ।

১৯৫৬ – রবিন রেনুচি, ফরাসি অভিনেতা ও পরিচালক।

১৯৬৩ – লিসা রিনা, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৬৬ – নাদিম আসলাম, পাকিস্তানের ইংরেজ লেখক।

১৯৬৭ – ঝুম্পা লাহিড়ী, পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি বংশোদ্ভূত লেখিকা।

১৯৭২ – মাইকেল রসেনবাউম, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৭৫ – লিল কিম, আমেরিকান র্যা পার ও অভিনেত্রী।

১৯৮১ – বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূর্ণিমা।

১৯৮৬ – ইয়য়ান গউরকুফ্, ফরাসি ফুটবল।

১৮৮২ – বাবা কাঁশীরাম,ভারতীয় কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারক।

১৮৯৭ – শিবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি শ্রমিক নেতা, সাম্যবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী।

১৭৩২ – ঝসেফ লালাদঁর, ফরাসি জ্যোতির্বিদ।

১৭৬৭ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি জন কুইন্সি এডাম্‌স।

১৫৫৮ – রবার্ট গ্রীনে, ইংরেজ লেখক ও নাট্যকার।

১২৭৪ – রবার্ট ব্রুস, স্কটল্যান্ডের রাজা।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – নাইজেরিয়ায় গ্যাসোলিন পাইপ বিস্ফোরিত হয়ে ২০০ নিহত হয়।

২০০২ – চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে ৮ ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়।

২০০৬ – ভারতের মুম্বাইয়ে সিরিজ বোমা হামলায় ২০৯ জন নিহত হয়।

২০১১ – ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে মিরসরাইয়ের আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের বড়তাকিয়া সড়কে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন মৃত্যুবরণ করেন।

২০২১ – ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকায় দীর্ঘ ২৮ বছর পর পুনরায় শিরোপা লাভ করে আর্জেন্টিনা

১৯১৯ – নেদারল্যান্ডে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস ও রোববার ছুটি, আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২১ – মঙ্গোলিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯৩০ – অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডন ব্রাডম্যান এক দিনে ৩০৯ রান করার রেকর্ড করেন, পরে টেস্ট ম্যাচে তা ৩৩৪ রানের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল।

১৯৪১ – মস্কোতে ইঙ্গ-রুশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৬০ – পাশ্চাত্যের বিভেদ ও শাসন করার নীতির ফসল হিসেবে কঙ্গোয় দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৬০ – জায়ারের কাতাঙ্গা প্রদেশের স্বাধীনতার চেষ্টা চালানো হয়।

১৯৬২ – টেলস্টার উপগ্রহের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সে টিভি সম্প্রচার শুরু হয়।

১৯৭৯ – আমেরিকার প্রথম স্পেস স্টেশন ‘স্কাইল্যাব’ ভারত মহাসাগরে ভেঙ্গে পড়ে।

১৯৮২ – বিশ্বকাপ ফুটবলে পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে ইতালির তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নশিপ লাভ করে।

১৯৯০ – বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের খনি আবিস্কৃত হয়।

১৯৯১ – জেদ্দায় ফিরতি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৬৬ হাজী নিহত হয়।

১৯৯৫ – ৮ হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলমান সেব্রেনিৎসা শহরে সার্ব রমপন্থীদের হাতে নিহত হয়।

১৯৯৮ – বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হয়।

১৮২৩ – ভারতের তৈরি প্রথম জাহাজ ডায়না কলকাতা বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

১৮৩২ – সতীদাহ প্রথা বিলোপের বিরুদ্ধে ভারতের গোঁড়া হিন্দুদের আবেদন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নাকচ হয়ে যায়।

১৮৭৮ – ব্রিটেন সাইপ্রাস দখল করে।

১৮৮২ – ব্রিটিশ নৌবহর থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় বোমা বর্ষণ করা হয়।

১৮৮৯ – অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়।

১৫৭৬ – হুসাইন কুলি খান বাংলার শাসক নিযুক্ত হন।

৭৫০ – খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান নিহত হওয়ার মধ্যদিয়ে উমাইয়া বংশের খেলাফতের অবসান।

৭৮৮ – মরক্কোতে ইদ্রিসী রাষ্ট্র গঠিত।

৬২১ – হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে আকাবায় মদিনাবাসীর প্রথম শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৩ – ভীষ্ম সাহনী, ভারতীয় লেখক, নাট্যকার ও অভিনেতা।

২০০৫ – ফ্রান্সেস লাংফরড, মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা।

২০১৩ – এগবেরট ব্রিস্কেরন, জার্মান গণিতবিদ।

২০২০ – এবিএম হোসেন, বাংলাদেশি ইতিহাসবিদ ও ইসলামি শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইমেরিটাস অধ্যাপক।

১৯০৫ – মোহাম্মদ আবদুহ, মিশরীয় আইনজ্ঞ ও পণ্ডিত।

১৯৩৭ – জর্জ গেরশ্বিন, মার্কিন পিয়ানোবাদক ও সুরকার।

১৯৫৭ – সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান, ৩য় আগা খান নামে পরিচিত শিয়া সম্প্রদায়ের ৪৮তম ইমাম।

১৯৭৪ – পার ফাবিয়ান লাগেরকভিস্ট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ লেখক, কবি ও নাট্যকার।

১৯৮৩ – রস ম্যাকডোনাল্ড, মার্কিন বংশোদ্ভূত কানাডীয় লেখক।

১৯৮৫ – বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা বাঙালি কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

১৯৮৯ – লরন্স অলিভিয়ে, ইংরেজ অভিনেতা ও পরিচালক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
কবিতা

জানা নেই গন্তব্যস্থল : রাণু সরকার।

শরতের আকাশ দেখতে ভীষণ ভালো লাগে,
প্রতি শরতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি
দল বেঁধে কারা যেন চলছে খড়ের আঁটি মাথায় নিয়ে।
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে দেখি, অতোদূরে।
কষ্ট করে দৃষ্টিনিক্ষেপ করি,

ওদের গন্তব্যস্থল জানা নেই, চলছে তো চলছেই
দলের মধ্যে বৃদ্ধ বেশি,
কিশোর কম।
আবার কখন দেখি,
তুলোর পুঞ্জ মথায় নিয়ে ধীরগতিতে চলছে বৃদ্ধদের দল-
কিশোররা চলছে ক্ষিপ্রবেগে।

বৃদ্ধদের মুখ গম্ভীর দেখে মনে হচ্ছে অব্যক্ত
কত ভাষা অন্তরালে,
আমি ডেকেছিলাম-
একটু থমকে দাঁড়াল
কীজানি কী মনে হলো, আবার মন্থর গতিতে
চলতে লাগলো।

ওরা যাচ্ছে কোথায়?
আমায় ভাবনারা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়!

Share This