Categories
রিভিউ

আজ ৩০ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ৩০ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব চিকিৎসক দিবস।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৪৬ – ফ্রান্সিস্কো গোয়া, স্প্যানিশ চিত্রকর।

১৮৪৪ – পল ভের্লেন, ফরাসী কবি।

১৮৫৩ – ভিনসেন্ট ভ্যান গখ ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী।
১৮৭০ – বসুমতীর সম্পাদক ও লেখক সুরেশচন্দ্র সমাজপতি।
১৮৭৪ – নিকোলাই রদেস্কু, রোমানিয়ান সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ।
১৮৯১ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী ও যন্ত্র নির্মাতা আর্থার উইলিয়াম সিডনি হ্যাংরিটন জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৯৯ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি লেখক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯০৮ – দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ সম্মানিত প্রখ্যাত ভারতীয় অভিনেত্রী দেবিকা রাণী।

১৯৭৯ – নোরা জোন্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত জ্যাজ্‌ (jazz) সঙ্গীত শিল্পী, পিয়ানো বাদক এবং অভিনেত্রী।
১৯৮৬ – সার্জিও র‌্যামোস, স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড়।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৮১২ – কলকাতায় এথেনিয়াম থিয়েটার নামে রঙ্গমঞ্চ খোলা হয়।
১৮৬৭ – রাশিয়ার কাছ থেকে আমেরিকার আলাস্কা খরিদ।
১৯৩০ – চীনে বামপন্থী চীনা সাহিত্যিক সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ – শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা শহীদ হন।
১৯৭৬ – ইসরাইল/প্যালেস্টাইন এলাকায় প্রথম ভূমি দিবস পালিত।
১৯৭৯ – ব্রিটিশ সাংসদ এ্যরি নীভ গাড়ি বোমা হামলায় নিহত।
১৯৮১ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রনাল্ড রেগান গুলিবিদ্ধ হন।
১৯৯২ – সত্যজিৎ রায় অস্কার পুরস্কার ‘মাস্টার অব ফিল্ম মেকার’ লাভ করেন।
১৯৯৬ – বিএনপি সরকারের প্রথম সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে পদত্যাগ।
২০০৬ – যুক্তরাজ্যে টেরোরিজন এ্যাক্ট – ২০০৬ আইন হিসাবে গৃহীত হয়।
২০০৯ – ১২ জন সশস্ত্র লোক পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত মানাওয়ান পুলিশ একাডেমী আক্রমণ করে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৬৩ – মীর জুমলা, মোগল সেনাপতি।
১৯৪৮ – ইরানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানতাপস এবং সংগ্রামী আলেম আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ হোসেইন তাবাতায়ী বুরোজার্দি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৫৭ – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বাংলা ভাষার রূপকথার প্রখ্যাত রচয়িতা ও সংগ্রাহক।

১৯৬৫ – সতীনাথ ভাদুড়ী প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক।

১৯৬৭ – মমতাজ বেগম, মহান বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগ্রামী নারী।

১৯৭১ – এ. কে. এম. সামসুল হক খান জেলা প্রশাসক -কুমিল্লা জেলা।

২০০২ – আনন্দ বক্সী প্রখ্যাত ভারতীয় কবি,গীতিকার ও সুরকার।

২০০৫ – ফ্রেড কোরমাতসু, জাপানী বংশদ্ভূত মার্কিন এক্টিভিস্ট।

২০১৩ – ড্যানিয়েল হফম্যান, মার্কিন কবি ও শিক্ষাবিদ।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব ও তাত্‍পর্য।।।

১৯৩৩ সালের ৩০ মার্চ জর্জিয়ার উইন্ডার ব্যার কাউন্টি অ্যালায়েন্স দিবসটি প্রথম উদযাপন করে। চিকিত্‍সকদের সম্মান জানাতে এই দিনটি উত্‍সর্গ করার ধারণা দেন ডা. চার্লস বি অ্যালমন্ডের স্ত্রী ইউডোরা ব্রাউন অ্যালমন্ড। চিকিত্‍সা সেবা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চিকিত্‍সক ও রোগীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

চিকিত্‍সা সেবা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চিকিত্‍সক ও রোগীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস এর অন্যতম উদ্দেশ্য।১৯৯০ সালে ৩০ অক্টোবর মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ (সিনিয়র) সেদেশে ৩০ মার্চকে জাতীয় ডাক্তার দিবস পালনের জন্য আইন পাস করেন। উদ্দেশ্য ছিল ডাক্তারি পেশাকে সম্মান জানানো। সেবা দিয়ে রোগীদের সারিয়ে তোলা এসব মহত্‍ মানুষদের কার্ড, ছোটো উপহার কিংবা সংবর্ধনা ইত্যাদি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
মানুষের সেবা করার মতো মহত্‍ এই পেশাকে সম্মান জানাতে ১৯৩৩ সাল থেকে এই দিবস পালিত হচ্ছে। চিকিত্‍সক, সার্জনরা রোগীদের জন্য ২৪/৭ কাজ করেন। তাদের এই ত্যাগ এবং পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে দিনটি উদযাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৪২ সালের ৩০ মার্চ শল্য চিকিত্‍সায় প্রথম ইথার অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করেছিলেন ডা. ক্রফোর্ড ডব্লিউ লং। ঘটনাটি স্মরণীয় করে রাখতে সেই দিনটিকেই তারা বেছে নিয়েছিলেন।
তবে ৩০ মার্চ বিশ্ব চিকিত্‍সক দিবস হলেও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশ বছরের বিভিন্ন দিনে জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস পালন করেন। তাদের দেশের একজন চিকিত্‍সককে উত্‍সর্গ করেন সেই দিনটিকে। স্পেন, কিউবা এবং আর্জেন্টিনায় ৩ ডিসেম্বর পালিত হয় চিকিত্‍সক দিবস। ডা. কার্লোস জুয়ান ফিনলের জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হত দিনটি। তিনি মশাবাহিত ভাইরাস যে হলুদ জ্বরের কারণ সেটি আবিষ্কার করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় , বিভিন্ন তারিখ রয়েছে যেখানে জাতীয় ডাক্তার দিবস স্বীকৃত হতে পারে, সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী ৩০ শে মার্চ ।
কুয়েতে , জাতীয় ডাক্তার দিবস ৩ শে মার্চ পালিত হয়। কুয়েতি ব্যবসায়ী মহিলার জন্য এই উদযাপনের ধারণাটি এসেছিল; জাহরা সুলাইমান আল-মুসাভি। এবং তারিখটি তার কন্যা ডাঃ সুন্দুস আল-মাজিদির জন্মদিন হওয়ার কারণে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রাজিলে , জাতীয় ডাক্তার দিবস ১৮ অক্টোবর ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়, যেদিন ক্যাথলিক চার্চ সেন্ট লুকের জন্মদিন উদযাপন করে । চার্চের ঐতিহ্য অনুসারে প্রেরিত এবং ধর্মপ্রচারক সেন্ট লুক একজন ডাক্তার ছিলেন, যেমনটি নিউ টেস্টামেন্টে লেখা আছে।
জাতীয় চিকিত্সক দিবস ১ মে কানাডায় পালিত হয়। কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা কানাডায় অনুশীলন করা প্রথম মহিলা চিকিত্সক ডঃ এমিলি স্টো- এর স্বীকৃতির জন্য তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল । সিনেট পাবলিক বিল S-248 প্রণীত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেবে।
চাইনিজ ডাক্তার দিবস [ zh ] বার্ষিক ১৯ আগস্ট চীনে একটি জাতীয় ছুটি হিসাবে পালিত হয় । তারিখটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কমিশন (পিআরসি) দ্বারা ২০১৬ সালের চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্মেলনে নির্বাচিত হয়েছিল এবং ২০ নভেম্বর, ২০১৭-এ পিআরসি-এর স্টেট কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল ।
হরি ডক্টর ন্যাশনাল বা জাতীয় ডাক্তার দিবস প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় পালিত হয়। দিনটি ইন্দোনেশিয়ান ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিআই) এর জন্মদিন উদযাপনের সাথেও চিহ্নিত।
ইরানে , আভিসেনার জন্মদিন (ইরানি মাস: শাহরিভার 1লা = আগস্ট ২৩) ডাক্তারদের জন্য জাতীয় দিবস হিসাবে স্মরণ করা হয় ।
মালয়েশিয়ায় , ডক্টর কানাগাসাবাই অনুসারে প্রতি বছর অক্টোবরের ১০ তারিখে ডাক্তার দিবস পালিত হয় । N. এটি প্রথম ২০১৪ সালে ফেডারেশন অফ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার অ্যাসোসিয়েশন , মালয়েশিয়া দ্বারা চালু করা হয়েছিল ।
তুরস্কে , ১৯১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৪ মার্চ মেডিসিন দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ভিয়েতনাম ২৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫৫ সালে ডাক্তার দিবস প্রতিষ্ঠা করে। দিবসটি ২৭ ফেব্রুয়ারি বা কখনও কখনও এই তারিখের কাছাকাছি তারিখে পালিত হয়।
১০ মার্চ ভেনেজুয়েলার ডাক্তার দিবস। এই দিনটি হোসে মারিয়া ভার্গাসকে সম্মান জানাতে বেছে নেওয়া হয়েছিল , যিনি শুধুমাত্র একজন অসামান্য চিকিত্সক ছিলেন না বরং ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতিও ছিলেন।
নেপাল ২০ ফাল্গুন (৪ মার্চ) নেপালী তারিখে নেপালী জাতীয় ডাক্তার দিবসও উদযাপন করে। নেপাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নেপাল প্রতি বছর এই দিবসের আয়োজন করে আসছে। ডাক্তার-রোগীর যোগাযোগ, ক্লিনিকাল চিকিত্সা এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রচার এবং যত্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস পালিত হয় ২৪ অক্টোবর। ইরানে ২৩ অগাস্ট পালন করা হয় জাতীয় চিকিত্‍সক দিবস।
ভারতে এই দিনটি ১ জুলাই তারিখে কিংবদন্তি চিকিত্‍সক ও পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের (১ জুলাই, ১৮৮২ – ১ জুলাই, ১৯৬২) সম্মানার্থে পালন করা হয়। কিউবা তে ৩রা ডিসেম্বরে ও ইরানে ২৩এ অগাস্ট এই দিনটি পালন করা হয়।
চিকিত্‍সাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তিদের ভূমিকাকে সম্মান জানাতে জন্য ‘ চিকিত্‍সক দিবস’ পালন করা হয়। এদিন তাঁদের কাজ এবং দায়িত্বগুলি স্বীকৃতি দেওয়ার বিশেষ দিন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবনে বাসন্তীপূজা ও চৈত্র নবরাত্রি : স্বামী আত্মভোলানন্দ (পরিব্রাজক)।

ॐ সর্বমঙ্গল- মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ -সাধিকে।
শরণ‍্যে ত্র‍্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে।।
শ্রীশ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ পাওয়া যায় সমাধি নামক এক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে মেধা ঋষির আশ্রমে প্রথমবার বাসন্তী পুজো করেছিলেন রাজা সুরথ। দূর্গা সপ্তশতী, দেবী মাহাত্ম্য ও মার্কণ্ডেয় পুরাণে রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তের বংশধর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পৌরাণিক তথ্য অনুযায়ী রাজা সুরথ ছিলেন সুশাসক ও অপরাজেয় যোদ্ধা। কিন্তু একদা প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন সুরথ। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। নিজের ঘনিষ্ঠদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তিনি স্তম্ভিত হন। হতাশ হয়ে বনে বনে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। সুরথ রাজার রাজধানী ছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের সুপুর। রাজা সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসাবে বেশ সুখ্যাতিসম্পন্ন ছিলেন। তিনি ছিলেন ক্ষত্রিয় বংশের। জীবনে কোনো যুদ্ধে তিনি পরাজিত হননি। কিন্তু সুরথ রাজার প্রতিবেশীরাজ্য (যবন রাজ্য) তার প্রতি হিংসাত্মক মনোভাবসম্পন্ন ছিল। যবন রাজ্য একদিন সুরথ রাজার রাজ্যকে আক্রমণ করে এবং তাদের কাছে সুরথ রাজের পরাজয় ঘটে। সেই সুযোগে তার (সুরথ) রাজসভার মন্ত্রী, ও অন্য সদস্যরা সব ধনসম্পত্তি লুঠ করে। কাছের লোকেদের এমন আচরণ দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। অবশেষে সর্বহারা হয়ে বনে আশ্রয় নেন।

এমনই একদিন ঘুরতে ঘুরতে মেধা ঋষির আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। মেধা ঋষি তাঁকে সেখানে থাকার আবেদন জানান। রাজা সেখানে বাস করলেও তাঁর মনে শান্তি ছিল না। নিজের রাজ্য ও প্রজার ভালো-মন্দের কথা তাঁকে ঘুমাতে দিত না। এরই মধ্যে একদা সমাধি নামক এক বণিকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সমাধি বণিকের স্ত্রী-পুত্রও তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিবারের ভালোর জন্য চিন্তিত থাকতেন তিনি। রাজার মনে প্রশ্ন জাগল যে, তাঁরা দুজনেই আপনজনদের প্রতারণার শিকার হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের ভালোর কথা চিন্তাভাবনা করছেন? কেন তাঁদের প্রতি মনের মধ্যে কোনও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে না? তাঁরা ঋষিকে একথা জিগ্যেস করেন যে, তাঁদের আপনজনেরা তাঁদের সঙ্গে এত খারাপ করা সত্ত্বেও কেন তাঁরা এখনও তাঁদের কল্যানের কথা ভাবছেন? এর উত্তরে মেধা ঋষি বলেন যে, সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এর পর ঋষি মহামায়ার কাহিনি শোনান। তার পর তাঁদের কঠিন তপস্যা করার পরামর্শ দেন। মহামায়া দেবী দুর্গার আশীর্বাদ পেতে রাজা সুরথ ও বণিক সমাধি বসন্ত কালের শুক্ল পক্ষে দুর্গার আরাধনা করেন। বসন্ত কালে এই পুজো করা হয়েছিল বলে এটি বাসন্তী দুর্গা পুজো নামে পরিচিত। পরবর্তী কালে এই পুজোয় খুশি হয়ে দেবী তাঁদের রাজ্য, ধন-সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী তার পর থেকেই বসন্ত কালে দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। শ্রীরামচন্দ্রের দ্বারা শরৎ কালে দুর্গা পুজোর আগে পর্যন্ত বসন্ত কালেই দেবীর আরাধনা করা হত। বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু স্থানে ও বাড়িতে বাসন্তী দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়।

শ্রীশ্রী চণ্ডী এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে মেধস মুনির আশ্রমেই পৃথিবীর প্রথম দুর্গাপুজো আয়োজিত হয়েছিল। সেটাকেই বাসন্তি পূজা বলা হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমার কাঁকসার গড় জঙ্গলে অবস্থিত। দুর্গাপুর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে গড়জঙ্গল। জঙ্গলের মধ্যে ২-৩ কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে মেধসাশ্রম। পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের নিকটবর্তী গড় জঙ্গলে মেধসাশ্রমে ভূভারতের প্রথম দুর্গাপূজা হয়। এখানেই রাজা সুরথ বাংলা তথা মর্তে প্রথম দুর্গাপূজা করেছিলেন। কাঁকসার গড় জঙ্গলের গভীর অরণ্যের মেধাশ্রম বা গড়চণ্ডী ধামে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ‍্য পুজো শুরু করেন। বসন্তকালে পুজোর সূচনা হয়, তাই, বসন্তের নবরাত্রির পূজা বাসন্তিক বা বসন্ত কালীন দুর্গাপূজা নামে পরিচিত হয়। তারপর থেকেই বাংলা তথা ভূভারতে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। আগামী ৩০ মার্চ থেকে শুরু হবে চৈত্র নবরাত্রি। এই নবরাত্রির ষষ্ঠী থেকে দশমীর মধ্যে পালিত হবে বাসন্তী পুজো। চৈত্র নবরাত্রিতে হয় বাসন্তী পুজো। বাসন্তী পুজোকেই বাঙালির আসল দুর্গা পুজো বলে মনে করা হয়।

মহর্ষি মেধস মুনি বলিলেন, মহামায়া পরমা জননী অর্থাৎ আদিমাতা৷ যখন এই জগৎ ছিল না, তখন তিনি ছিলেন। যখন সূর্য্য ছিল না, চন্দ্র ছিল না, তারা নক্ষত্র এই পৃথিবী কিছুই ছিল না, তখন তিনি ছিলেন। তাঁহা হইতেই এই জগৎ সৃষ্ট হইয়াছে৷ তিনি এই জগৎকে মোহিত করিয়া রাখিয়াছেন বলিয়া তাঁহার নাম মহামায়া। জগৎকে তিনি সৃষ্টি করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই। সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জগৎকে ধরিয়া আছেন, এই জন্য তাঁহার আর এক নাম জগদ্ধাত্রী। তিনি ধারণ করিয়া না থাকিলে উৎপত্তির সঙ্গে সঙ্গেই এ জগতের লয় হইয়া যাইত। শক্তিরূপা সনাতনী আপনার বিশ্ব বিমোহিনী মায়া দ্বারা আপনাকে আচ্ছাদিত করিয়া নানারূপে আমাদের মধ্যে লীলা করিতে আসেন। কখনও তিনি পিতা মাতার কাছে নন্দিনী, ভ্রাতার কাছে ভগিনী, পতির কাছে জায়া, পুত্র কন্যার কাছে জননী। কখনও তিনি দীনের কাছে দয়া, তৃষিতের কাছে জল, রোগীর কাছে সেবা, ক্ষুধিতের কাছে ফল। কখন কত মূর্তিতে যে মা আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হন তাহা আর কি বলিব ? তাঁহার গুণ বর্ণনা করিয়া শেষ করিতে পারে, এমন শক্তি এ জগতে কার আছে ? তিনি আসিলেই জীবের সকল দুর্গতির অবসান হয়। এইজন্য তাঁহার আর এক নাম দুর্গা। দুর্গতিনাশিনী শ্রীদুর্গাই ভুবনমোহিনী ত্রিজগৎ প্রসবিনী আদ্যাশক্তি মহামায়া।

চৈত্র অমাবস্যার পরের দিন, অর্থাৎ চৈত্র শুক্লা প্রতিপদ থেকে শুরু হয় চৈত্র নবরাত্রি। এই বছর নবরাত্রি শুরু হবে আগামী ৩০ মার্চ থেকে। সেই দিনই করা হবে ঘট স্থাপন। দেবী মাতার নয়টি রূপ নবরাত্রি পূজা করা হয়। এই বছর ৩০ মার্চ প্রতিপদ শৈলপুত্রী, দ্বিতীয়া ৩১শে মার্চ ব্রহ্মচারিণী, তৃতীয়া ০১ এপ্রিল-চন্দ্রঘণ্টা, চতুর্থী ০২ এপ্রিল-কুষ্মাণ্ডা, পঞ্চমী ০৩ এপ্রিল-স্কন্দমাতা, ষষ্ঠী ০৪ এপ্রিল-কাত্যায়নী, সপ্তমী ০৫ এপ্রিল-কালরাত্রি, অষ্টমী ও নবমী ০৬ এপ্রিল-মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী। চৈত্র নবরাত্রির নবমীতেই পালিত হয় রাম নবমী। মনে করা হয়, এই দিনেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। চৈত্র নবরাত্রি পুজোর প্রচলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে, শাস্ত্রে যে চারটি নবরাত্রিগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আমরা চৈত্র, আষাঢ়, আশ্বিন এবং মাঘ মাসের শুক্লা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত চারটি নবরাত্রি দেখতে পাই। আষাঢ় ও মাঘ মাসের নবরাত্রিকে বলা হয় গুপ্ত নবরাত্রি। আশ্বিন মাসের নবরাত্রিকে শারদীয়া নবরাত্রি এবং চৈত্র মাসের নবরাত্রিকে বাসন্তী নবরাত্রি বলা হয়।

প্রাচীন কাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ, বিহারে চৈত্র মাসে দুর্গা পুজোর প্রচলন ছিল। এখনও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বাসন্তী দুর্গাপুজো করা হয়ে থাকে। বাঙালির সার্বজনীন পূজা ছাড়াও বর্তমানে রাজবাড়ী, জমিদার বাড়ি, কিছু প্রাচীন বনেদী বাড়ি এবং কিছু মঠ মন্দিরে এছাড়াও বিভিন্ন আশ্রম, মঠ ও মিশনে সন্ন্যাসীরা বাসন্তী দুর্গা পূজার আয়োজন করেন। এই বছর শ্রী শ্রী বাসন্তী দেবী দুর্গাপুজোর আমন্ত্রণ অধিবাস, ষষ্ঠী তিথি- ৩ এপ্রিল ২০২৫, সপ্তমীর পুজো, নবপত্রিকা স্নান- ৪ এপ্রিল ২০২৫, দুর্গাঅষ্টমী ও সন্ধি পুজো- ৫ এপ্রিল ২০২৫, নবমী পুজো- ৬ এপ্রিল ২০২৫, শ্রী বাসন্তী দেবী দুর্গা পুজো দশমী পুজো ও বিসর্জন- ৭ এপ্রিল ২০২৫।
জয় মা দুর্গা-জয় মা দূর্গা-জয় মা দূর্গা দূর্গতিনাশিনী… জগৎ জননী মাদূর্গা তোমার আশির্বাদ সকলের মস্তকে বর্ষিত হোক। জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ আপনাদের সকলের শিরে বর্ষিত হোক, পিতা-মাতার আশির্বাদ সকলের শিরে বর্ষিত হোক, এই প্রার্থনা করি.!
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক*

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৯ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২৯ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক)  বোগান্ডা দিবস – সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
(খ) যুব দিবস – তাইওয়ান।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯২৭ – জন রবার্ট ভেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ ফার্মাকোলজিস্ট ও শিক্ষাবিদ।
১৯২৯ – উৎপল দত্ত, বাঙালি অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক।
১৯৩৫ – বাঙালি গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজক বীরেশ্বর সরকার।

১৯৩৯ – নভেরা আহমেদ, বাংলাদেশি ভাস্কর। (মৃ. ২০১৫)
১৯৪১ – জোসেফ হুটন টেইলর জুনিয়র, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ।
১৯৫১ – শাফী ইমাম রুমী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ৷
১৯৬০ – অ্যানাবেলা সচিওরা শাইওরা, মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৭৩ – মার্ক ওভারমার্স, ডাচ ফুটবলার।

১৯৮০ – ক্রিস ডি এলিয়া, মার্কিন অভিনেতা।
১৯৮৪ – ফিলিপ হানা, ইংরেজ গায়ক।
১৯৯৪ – সুলি, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী, গায়ক ও নৃত্যশিল্পী।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৭৯৫ – পিয়ানো বাদক হিসেবে বেটোভেনের আত্মপ্রকাশ।
১৭৯৮ – সুইজারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়।
১৭৯৯ – দাসপ্রথা উচ্ছেদে নিউ ইয়র্কে আইন পাস হয়।
১৮০৭ – জার্মান জ্যোর্তিবিদ উইলহেম অলবার্স ক্ষুদ্রতম গ্রহ ভেস্টা আবিষ্কার করেন।
১৮৪৯ – লর্ড ডালহৌসি সমগ্র পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে ঘোষণাপত্র প্রচার করেন।
১৮৫৪ – ডিরোজিও শিষ্য রামগোপাল ঘোষ ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করেন।
১৮৫৭ – ব্যারাকপুর সেনা ব্যারাকে মঙ্গল পান্ডে গুলি ছুড়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা করেন।
১৮৭১ – রানি ভিক্টোরিয়া লন্ডনের আলবার্ট হল উদ্বোধন করেন।
১৯২০ – ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৭৩ – সর্বশেষ মার্কিন সেনাদলের ভিয়েতনাম ত্যাগ।
১৯৭৪ – চালকবিহীন মার্কিন নভো অনুসন্ধান যান মেরিনার টেন বুধ গ্রহ ভ্রমণ করে।
১৯৮৪ – আতাউর রহমান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত।
১৯৯১ – বিশ্বের প্রাচীনতম কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটেন কমিউনিস্ট পার্টির নাম বদলে ‘ডেমোক্র্যাটিক লেফট’ রাখা হয়।
২০১৫ – অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়৷ নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়া ৫ম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭৭২ – ইমান্যুয়েল সুইডেনবার্গ, সুইডিস জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক ।
১৯১২ – সুমেরু অভিযাত্রী রবার্ট স্কট।

১৯৪৮ – হ্যারি প্রাইস, ইংরেজ লেখক।
১৯৭০ – আন্না লউইসে স্ট্রং,আমেরিকান সাংবাদিক।

১৯৭১ – বাঙালি আইনজীবী সমাজকর্মী, ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

১৯৭৮ – ইবরাহীম খাঁ, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।

১৯৮৭ – প্রখ্যাত বাঙালি সরোদশিল্পী তিমির বরণ ভট্টাচার্য।
১৯৮৯ – বার্নার্ড বলিয়ের, ফরাসি অভিনেতা।
২০০৫ – মিলতস সাছতউরিস,গ্রিক কবি।
২০০৫ – জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী খালিদ হাসান মিলু।
২০০৯ – অ্যান্ডি হাল্লেত্ত, আমেরিকান অভিনেতা ও গায়ক।
২০১১ – ইয়াকভস কাম্বানেলিস, গ্রিক কবি, নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও ঔপন্যাসিক।
২০১৪ – মাক প্লাট, আমেরিকান অভিনেতা, গায়ক ও নৃত্যশিল্পী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ভারতের যে ৫ জায়গা ঘুরে আসতে পারেন।।।

ভারতে বিভিন্ন গন্তব্যের আবাসস্থল, প্রতিটি ভ্রমণকারীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এর মধ্যে, পাঁচটি স্থান তাদের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং দুঃসাহসিকতার জন্য আলাদা, যা তাদের অবশ্যই দেখার জায়গা করে তোলে। কেরালার নির্মল ব্যাকওয়াটার থেকে শুরু করে কর্ণাটকের ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ পর্যন্ত, এই গন্তব্যগুলির প্রতিটি কী অফার করে তার এক ঝলক এখানে দেওয়া হল।

মেঘালয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য, প্রাচীন জলপ্রপাত, হ্রদ এবং নদী দ্বারা বেষ্টিত, এটি প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল। মেঘালয়ের সবুজ দৃশ্য, বিশেষ করে শিলং, চেরাপুঞ্জির লিভিং রুট ব্রিজ এবং ডাউকির স্বচ্ছ জলের মতো জায়গায় পর্যটকদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। এই অঞ্চলটি একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয় এর হাইকিং ট্রেইল এবং বোটিং সুযোগের সাথে।
কর্ণাটক, তার উপকূলীয় পারিপার্শ্বিকতার জন্য পরিচিত, বর্ষা মৌসুমে মনোমুগ্ধকর। হাম্পির ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট সহ এই রাজ্যটি ঘুরে দেখার জন্য শীতের মাসগুলি আদর্শ। গোকর্ণ, মালপে এবং মুরুদেশ্বরের মতো সমুদ্র সৈকতগুলি সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি একটি আনন্দদায়ক পালানোর সুযোগ দেয়।
একবার ফরাসি উপনিবেশ, পন্ডিচেরিতে শীতকালীন ছুটির জন্য আদর্শ সুন্দর সৈকত রয়েছে। দর্শনার্থীরা সৈকতে সূর্যোদয়ের হাঁটা উপভোগ করতে পারেন বা শীতের অলস দিনে ককটেল দিয়ে আরাম করতে পারেন। শহরের মনোমুগ্ধকর ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁগুলি, অরোভিলের শান্ত পরিবেশের সাথে, যারা শান্তি এবং বিশ্রাম চায় তাদের জন্য এটি একটি নিখুঁত গন্তব্য করে তোলে।
রাজস্থানের সৌন্দর্য কথায় বলা কঠিন, প্রতিটি শহরই অনন্য কিছু অফার করে। রাজ্যটি তার অত্যাশ্চর্য স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। উদয়পুরের মনোরম হ্রদ থেকে জয়সালমিরের সোনালি মরুভূমি পর্যন্ত, রাজস্থান শীতল মাসগুলিতে সবচেয়ে ভাল পরিদর্শন করা হয়। আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে জয়পুর, যোধপুর এবং উদয়পুরের রাজকীয় দুর্গ এবং প্রাসাদ, সেইসাথে জয়সালমিরের মরুভূমিতে ক্যাম্পিং এবং পুষ্করে হট এয়ার বেলুন রাইড।
কেরালা, তার ব্যাকওয়াটার, সৈকত, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং মনোরম পাহাড়ের জন্য পরিচিত, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের মাসগুলিতে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি শীর্ষ বাছাই। রাজ্য হাউসবোটে রাইড, চা বাগানে হাঁটার এবং ঐতিহ্যবাহী কথাকলি নৃত্য পরিবেশনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ দেয়। ব্যাকওয়াটারের অ্যাডভেঞ্চার হোক বা পাহাড়ের প্রশান্তি, কেরালায় প্রত্যেকের জন্যই কিছু না কিছু আছে।
ভারতের এই গন্তব্যগুলি সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং বিশ্রামের একটি সমৃদ্ধ মিশ্রণের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা দেশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অন্বেষণ করতে চাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ করে তোলে।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৮ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ২৮ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৮৬২ – আরিস্টিডে ব্রিয়ান্ড, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রাজনীতিবিদ ও সবেক ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী।

১৯০৭ – প্রগতিশীল লেখক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন।

১৯০৯ – বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নজরুলগীতি শিল্পী সন্তোষ সেনগুপ্ত।

১৯২৭ – বীণা মজুমদার, নারীবাদী ও শিক্ষাবিদ।

১৯৩০ – (ক) মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রখ্যাত বাঙালি ধ্রুপদী কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী।

(খ) জেরোম আইজ্যাক ফ্রিডম্যান, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ ও একাডেমিক।

১৯৩৬ – মারিও বার্গাস ইয়োসা, নোবেলজয়ী পেরুর লেখক।

১৯৩৭ – ড.পবিত্র সরকার, পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

১৯৪৯ – লেসলি ভ্যালিয়ান্ট, খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

১৯৬৮ – নাসের হুসেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইংরেজ ক্রিকেটার।

১৯৭৫ – অক্ষয় খান্না, ভারতীয় অভিনেতা।

১৯৭৯ – শাকিব খান, একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, গায়ক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৮০০ – আইরিশ পার্লামেন্টে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্তির আইন অনুমোদিত হয়।
১৮০৯ – ব্যাটল অব মেডেলিনে ফ্রান্স স্পেনকে পরাজিত করে।
১৮৫৪ – ব্রিটেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৩০ – কনস্টান্টিনোপলের নাম ইস্তাম্বুল ও অ্যাঙ্গোরার নাম আঙ্কারা করা হয়।
১৯৩৯ – প্রায় তিন বছর যুদ্ধের পর স্পেনের গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি।
১৯৪১ – সুভাষচন্দ্র বসু গোপন সাবমেরিন যাত্রা শেষে বার্লিন পৌঁছান।
১৯৪২ – রাসবিহারী বসু জাপানের টোকিওতে ভারত স্বাধীন করার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দেন। তিনি ভারতের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাইওয়ান।
১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় লেবানন।
১৯৭৪ – আজকের দিনে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
২০০১ – দিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ কিয়োটো প্রোটোকল থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন।
২০১০ – মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান একটেল রবি আজিয়াটা কোম্পানি নামে আত্মপ্রকাশ করে।
২০১৯ – ঢাকার বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন লেগে ২৫ জন নিহত হন।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১৭ – আলবার্ট পিংকহ্যাম রাইডার, আমেরিকান চিত্রশিল্পী।

১৯৪১ – ইংরাজী ভাষার সাহিত্যিক ভার্জিনিয়া উল্‌ফ।

১৯৬৯ – ডোয়াইট্‌ ডি. আইজেনহাওয়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম রাষ্ট্রপতি।

১৯৮৫ – মার্ক শাগাল, রুশ চিত্রশিল্পী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৭ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ২৭ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
দিবস—–
(ক) বিশ্ব থিয়েটার দিবস ৷
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৮৫ – ফ্রান্সের রাজা সপ্তদশ লুই।

১৮৪৫ – ভিলহেল্ম কনরাড র‌ন্টগেন, জার্মান পদার্থবিদ।

১৮৪৭ – অটো ভালাখ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ।
১৮৬৩ – মোটর গাড়ির নকশাকার প্রনেতা স্যার ফ্রেডরিখ হেনরি রয়েস।

১৮৭১ – জার্মান লেখক ও কবি হাইনরিখ মান।
১৮৯৯ – গ্লোরিয়া সোয়ানসন, মার্কিন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী ও প্রযোজক।

১৯০১ – এইসাকু সাতো, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাপানি রাজনীতিবিদ ও ৬১ তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯১২ – জেমস ক্যালাহান, ইংরেজ লেফটেন্যান্ট, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী।

১৯১৭ – (ক)  কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি কবি ও শিশু সাহিত্যিক।

(খ( ) নবেন্দু ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও চিত্রনাট্যকার।
১৯৪১ – স্লোভাকিয়া আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রেসিডেন্ট ইভান গাস্পারভিক।
১৯৪২ – জন এডওয়ার্ড সালস্টন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ জীববিজ্ঞানী।

১৯৬০ – মল্লিকা সেনগুপ্ত, বাঙ্গালী কবি ও সমাজকর্মী।
১৯৬৩ – কোয়েন্টিন টারান্টিনো, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা।
১৯৭২ – জিমি ফ্লয়েড হ্যাসেলবেইংক্‌, হল্যান্ডের একজন কৃতি ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৮৭ – রাশিয়ান গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী পলিনা গ্যাগারিন।

১৯৮৮ – আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা ব্রেন্ডা সং।
১৯৮৮ – জাপানি ফুটবলার আটসুটো উচিদা।
১৯৯০ – নেসার বারাযাইত, নেদারল্যান্ড এর পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬৬৮ – বোম্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে।
১৭৮২- দ্বিতীয় রকিংহ্যাম মন্ত্রণালয় ব্রিটেনে অফিস গ্রহণ করে এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনা শুরু করে।
১৭৯৪ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নৌবাহিনী স্থাপন করে এবং ছয়টি ফ্রিগেটের বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেয়।
১৮০৯- উপদ্বীপ যুদ্ধ: সিউদাদ রিয়েলের যুদ্ধে একটি সংযুক্ত ফ্রাঙ্কো-পোলিশ বাহিনী স্প্যানিশদের পরাজিত করেছিল।
১৮১৪ – ১৮১২ এর যুদ্ধ: সেন্ট্রাল আলাবামায়, জেনারেল অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের নেতৃত্বে মার্কিন বাহিনী হর্সশি বেন্ডের যুদ্ধে ক্রিককে পরাস্ত করেছিল।
১৮৯৯ – মেরিলাও নদীর যুদ্ধে ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধের সময় এমিলিও আগুইনাল্ডো একমাত্র ফিলিপিনো বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯১৫- যুক্তরাষ্ট্রে চিহ্নিত প্রথম রোগের স্বাস্থ্যকর ক্যারিয়ার টাইফয়েড মেরিকে দ্বিতীয়বারের জন্য পৃথকীকরণ করা হয়, যেখানে তিনি তার সারাজীবন থাকতেন।
১৯১৮ – বেসারাবিয়া জাতীয় কাউন্সিল রোমানিয়ার কিংডমের সাথে ইউনিয়নের ঘোষণা দেয়।
১৯১৯ – আমানুল্লাহ কর্তৃক আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
১৯৩৮- দ্বিতীয় চীন-জাপানিজ যুদ্ধ: তাইয়েরজুয়াংয়ের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, বেশ কয়েক সপ্তাহ পরে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম বড় জয় লাভ করেছিল major
১৯৪১ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: যুগোস্লাভ এয়ার ফোর্সের আধিকারিকরা একটি রক্তহীন অভ্যুত্থানে সরকারপন্থী অ্যাকসিস সরকারকে পরাস্ত করেছিলেন।
১৯৪৩ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: কোমন্ডারস্কি দ্বীপপুঞ্জের যুদ্ধ: আলেউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যুদ্ধ শুরু হয় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাপানিদের কিস্কায় একটি চৌকি জোরদার করার প্রচেষ্টা জাপানিদের বাধা দেয়।
১৯৪৫ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: অপারেশন স্টারভেশন, জাপানের বন্দর ও নৌপথের বিমান খনন শুরু হয়। অ্যাক্সিস পাওয়ার্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা।
১৯৬৮ – রুশ নভোচারী, তিনি ছিলেন মহাকাশচারী প্রথম ব্যক্তি জারস্লাভ হেয়রোভস্ক্য প্রশিক্ষনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। ১৯৬৯ – মেরিনার ৭ উদ্বোধন করা হয়।
১৯৭১ – চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
১৯৯৮- খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন পুরুষ পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভায়াগ্রাটিকে অনুমোদন দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে এই শর্তটির জন্য অনুমোদিত প্রথম বড়ি।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৯৮ – শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক স্যার সৈয়দ আহমদ।

১৯১৮ – হেনরি অ্যাডাম্‌স, একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
১৯৪৪ – লোকগীতি সংগ্রাহক ও কবি আশুতোষ চৌধুরী।

১৯৬৬ – পান্নালাল ভট্টাচার্য প্রখ্যাত বাঙালি শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী।
১৯৬৭ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চেক রসায়নবিদ জারস্লাভ হেয়রোভস্ক্যা।
১৯৬৮ – ইউরি গ্যাগারিন, রুশ নভোচারী, মহাকাশচারী প্রথম ব্যক্তি প্রশিক্ষনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

১৯৭১ – জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী।
১৯৭২ – এম. সি. এশ্যর, একজন ওলন্দাজ চিত্রলেখ শিল্পী।

১৯৭৩ – ভূপতি মজুমদার স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতা।
১৯৮২ – ফজলুর রহমান খান, বাংলাদেশের বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ও পুরকৌশলী।
১৯৮৬ – আবদুল হাই আরিফী, আশরাফ আলী থানভীর শিষ্য।

১৯৮৯ – শান্তি ঘোষ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী।
২০০৭ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ পল ক্রিশ্চিয়ান লতেরবার।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব থিয়েটার দিবস 2025: থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য, উক্তি এবং উদযাপন।

প্রতি বছর ২৭ মার্চ বিশ্ব থিয়েটার পালিত হয়। থিয়েটার শুধুমাত্র বিনোদনই প্রদান করে না। এটি একটি শিল্প। পৃথিবীর আদিম কাল থেকেই মানুষের নিজের গল্প বলার তাগিদটা অদম্য। তাই থিয়েটারের মত সৃজনশীল মাধ্যমের অন্ত নেই। শিক্ষা প্রদান করতে ও অনুপ্রেরণা জোগাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থিয়েটার।

থিয়েটারের ভূমিকা জনসমক্ষে তুলে ধরতেই হয় বিশ্ব থিয়েটার দিবস।আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটের দ্বারা ১৯৬১ সালে সর্বপ্ৰথম এই দিবসটির প্রচলন শুরু হয়েছিল।

ইতিহাস—

আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউট (আইটিই) কর্তৃক ১৯৬১ সালে বিশ্ব থিয়েটার দিবসের প্রবর্তন হয়। প্রতিবছর ২৭ মার্চ আইটিই কেন্দ্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক থিয়েটার কমিটি দিবসটি পালন করে। দিবসটি উদ্‌যাপন করতে বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চনাটক অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হচ্ছে- এই দিবস উদ্‌যাপন লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটে একজন তারকা মঞ্চনাটকের মাধ্যমে, আইটিইর শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক এক বিশেষ বাৰ্তা প্রেরণ করে। প্ৰথম বিশ্ব থিয়েটার দিবসের আন্তর্জাতিক বাৰ্তা ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের জিন কোকটিয়াও লিখেছিলেন। প্ৰথমে হেলসিঙ্কি এবং তারপর ভিয়েনায় ১৯৬১ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আইটিইর নবম আলোচনাসভায় আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটের ফিনিশ কেন্দ্রের পক্ষে অধ্যক্ষ আর্ভি কিভিমায় বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদ্‌যাপনের প্রস্তাব দেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কেন্দ্রসমূহে এটাকে সমৰ্থন দেয়ার পরই দিবসটির বিশ্বব্যাপি প্রচলন শুরু হয়।

থিম-

বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদযাপন এবং থিয়েটার শিল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি দিন। এটি করার জন্য, প্রতি বছর ২৭ মার্চ, বিগত ৫৯ বছর ধরে একটি থিম অনুসরণ করা হয়। বিশ্ব থিয়েটার দিবস ২০২৫-এর থিম হল “থিয়েটার এবং শান্তির সংস্কৃতি।” ITI প্রতি বছর বিশ্ব থিয়েটার দিবসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট থিম নির্ধারণ করে না। প্রতি বছর, বিশ্ব থিয়েটার দিবসের প্রতিপাদ্য হল “থিয়েটার এবং শান্তির সংস্কৃতি”। অনেক উদযাপন আইটিআই কেন্দ্রে এবং বিশ্বজুড়ে মনোনীত স্থানে ঘটে এবং আইটিআই এই দিনটি উদযাপনকারী প্রত্যেককে তাদের প্রচারের জন্য তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে উত্সাহিত করে।

বিশ্ব থিয়েটার দিবস ২০২৫ : তাত্‍পর্য—

এই বিশ্ব থিয়েটার দিবসের মূল লক্ষ্য হল থিয়েটারকে তার সমস্ত আকারে প্রচার করা, মানুষকে থিয়েটারের মূল্য সম্পর্কে সচেতন করা, থিয়েটার সম্প্রদায়গুলিকে তাদের কাজকে বৃহত্‍ পরিসরে প্রচার করতে সক্ষম করা, থিয়েটারকে এর সমস্ত রূপ উপভোগ করা এবং অন্যদের সাথে থিয়েটারের জন্য আনন্দ ভাগ করুন। বিশ্ব থিয়েটার দিবস আমাদের থিয়েটারের বিভিন্ন রূপ উদযাপন করার এবং আমাদের সমাজে তাদের তাত্পর্য উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। থিয়েটারের এই ফর্মগুলির মধ্যে অনেকগুলি শতাব্দী ধরে টিকে আছে, যখন কিছু সময়ের সাথে সাথে নতুন আকারে বিকশিত হয়েছে। যদিও কিছু অন্যদের চেয়ে বেশি বিখ্যাত, এই সমস্ত শিল্প ফর্ম শিক্ষা, বিনোদন, উদ্দীপনা এবং শিথিলকরণের জন্য অপরিহার্য। দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য হল থিয়েটারের মূল্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। এই কারণেই আন্তর্জাতিক থিয়েটার সম্প্রদায় নাটক ও সঙ্গীতের প্রাচীন নৈপুণ্যকে উন্নীত করার জন্য প্রতি বছর পারফরম্যান্স, বক্তৃতা এবং পুরস্কার উপস্থাপনের পরিকল্পনা করে।
নাটক বা থিয়েটার সব সময় মানুষের মনে ও চেতনায় এক উচ্চ স্থান পেয়ে এসেছে। নাটক বলতেই আমাদের মনে আসে শেকসপিয়রের নাম। তাঁকে বলা হয় বিশ্বের অগ্রণী নাট্যকার। তবে নাটক মানে শুধু শেকসপিয়র নন, কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাদল সরকার, বিজন ভট্টাচার্য, দীনবন্ধু মিত্রের মতো অনেকের নামই আসে। ভারত এমন একটি দেশ, সেখানে সব কিছুরই নিজস্ব রূপ আছে। গ্রীক ঘরানার নাটক নিজ গুণে কবেই ভারতের একান্ত হয়ে উঠেছে। সংস্কৃত সাহিত্যের শুদ্রক রচিত ‘মৃচ্ছকটিক’, কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’, ভবভূতির ‘উত্তর রামচরিত’ সেই নির্দশনই বহন করে চলেছে।

গুরুত্ব-

থিয়েটার হল এটি শিল্প রূপ। যা শুধু মাত্র বিনোদনই নয়। ব্যক্তিদের শিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত করে।। নাটকের মাধ্যমে, থিয়েটার সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা আনে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করে এবং সহানুভূতি ও বোঝাপড়াকে উত্‍সাহিত করে। এটি ব্যক্তিদের তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চ্যালেঞ্জ করে এবং কথোপকথন এবং আলোচনার জন্য একটি স্থান প্রদান করে সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে।

উপসংহার-

থিয়েটার, একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা মঞ্চে, লাইভ দর্শক, লাইভ অভিনয়, অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মাধ্যমে প্রকৃত অভিজ্ঞতা লাভ করার, সমন্বিত শিল্প। তাই সিনেমা বা সিরিয়াল কখনই থিয়েটারের জায়গা নিতে পারেনি। বলা হয় একজন থিয়েটার অভিনেতা এতটা দক্ষ হন, যে সব মাধ্যমেই তিনি মানানসই। আজ বিশ্ব থিয়েটার দিবস সব নাট্য শিল্পীদের কাছে বিশেষ আনন্দের। বিভিন্ন নাটকের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন হলদিয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান , তমলুক রাজবাড়ি।।।

হলদিয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত, তমলুক প্রাসাদের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, যা তমলুক রাজবাড়ি নামেও পরিচিত, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং স্থাপত্য দক্ষতার একটি দৃশ্য বর্ণনা উপস্থাপন করে। 2500 বছর পুরানো বলে বিশ্বাস করা এই সাইটটি একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজার বাসস্থান হিসেবে কাজ করেছিল, যা এই অঞ্চলের রাজকীয় অতীতের একটি আভাস দেয়।

তমলুক রাজবাড়ির স্থাপত্য নকশা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে ইন্দো-গ্রীক স্থাপত্যের উপাদান দেখা যায়, যা ভারতের এই অংশে একটি বিরল আবিষ্কার।
ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যের মূল্য থাকা সত্ত্বেও, তমলুক রাজবাড়ি তর্কাতীতভাবে প্রাপ্য মনোযোগ পায়নি। তিন বছর আগে সাইটটির দর্শনার্থী অরূপ দে-এর মতে, সরকারি যত্নের অভাবে এই স্থাপত্যের বিস্ময় অবহেলায় পড়ে আছে। দে জোর দিয়ে বলেন, “এটি ইন্দো গ্রীক স্থাপত্যের একটি বিরল ঐতিহাসিক প্রমাণ। কী একটি স্থাপত্য, কিন্তু সরকার এর যত্ন নেয়নি। এটা যদি তাই হতো, এটা অবশ্যই করা হতো।” এই বিবৃতিটি তমলুক রাজবাড়ির ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য তাত্পর্যের প্রতি আগ্রহী আরও দর্শনার্থী এবং পণ্ডিতদের আকর্ষণ করে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃত হওয়ার সম্ভাবনার ওপর জোর দেয়।
হলদিয়ার কাছে তমলুক রাজবাড়ির অবস্থান পর্যটক এবং ইতিহাস উত্সাহীদের কাছে এর আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এলাকাটি তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত, তমলুক রাজবাড়ি হলদিয়ায় দেখার জন্য শীর্ষস্থানীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি। যাইহোক, ধ্বংসাবশেষের বর্তমান অবস্থা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এর গঠন এবং ঐতিহাসিক সারমর্ম সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
এটি দাঁড়িয়েছে, তমলুক রাজবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ স্থাপত্য ঐতিহ্য এবং এই অঞ্চলে ইন্দো-গ্রীক সাংস্কৃতিক প্রভাবের একটি প্রমাণ হিসাবে রয়ে গেছে। এটি ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের গুরুত্বের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে, শুধুমাত্র তাদের শিক্ষাগত এবং সাংস্কৃতিক মূল্যের জন্যই নয় বরং স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে অবদান রেখে স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ার সম্ভাবনার জন্যও।
যারা হলদিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যের উত্তরাধিকার অন্বেষণ করতে আগ্রহী তাদের জন্য, তমলুক রাজবাড়ি একটি অনন্য সুযোগ প্রদান করে। সাইটটি দর্শকদের সময়মতো ফিরে যেতে এবং অতীত যুগের মহিমা কল্পনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়, যদিও এটি এই জাতীয় অমূল্য সাংস্কৃতিক ধন সংরক্ষণের প্রতি বৃহত্তর সচেতনতা এবং পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানব জানুন চা এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু কথা।

চা, সারা বিশ্বে লালিত একটি পানীয়, এটির উৎপত্তি প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনে ফিরে আসে, যা এর দীর্ঘ ও বহুতল ইতিহাসের সূচনা করে। উচ্চ-পদস্থ সন্ন্যাসী এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিলাসিতা থেকে চায়ের যাত্রা অসংখ্য দেশে একটি গৃহস্থালির প্রধান স্থানে এর সাংস্কৃতিক তাত্পর্য এবং ব্যাপক আবেদনকে ধারণ করে।

593 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, চা জাপানে পৌঁছেছিল, চা অনুষ্ঠান এবং শিষ্টাচারের সাথে গভীরভাবে জড়িত একটি সংস্কৃতিকে লালন করে। 16 শতকে ইউরোপে চা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ডাচদের ভূমিকা ছিল, 17 শতকে ইংল্যান্ড অনুসরণ করে, যেখানে 1659 খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে প্রথম চায়ের দোকান খোলা হয়েছিল। 1677 সালে চীন থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চা রপ্তানি চায়ের বৈশ্বিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত।
ভারতে, 1835 সালে আসামে একটি পরীক্ষা হিসাবে চা চাষ শুরু হয়, চট্টগ্রাম এবং মালনিছড়া প্রথম চা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসাবে আবির্ভূত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতে চাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল, দুধ ও চিনির সাথে এটি বিনামূল্যে প্রদান করে। এই উদ্যোগটি আজ ভারতের সমৃদ্ধ চা সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করেছে। চীনে চায়ের পবিত্র মর্যাদা বাড়ির উত্সর্গীকৃত চা ঘরগুলিতে স্পষ্ট হয়, একটি ঐতিহ্য যা সমাজে পানীয়ের সম্মানিত স্থানকে তুলে ধরে। এদিকে, জাপানে চা উৎসব পানীয়টির তাৎপর্য উদযাপন করে, যা অভিজাতদের গার্হস্থ্য জীবনে এর একীকরণকে প্রতিফলিত করে।
চিরসবুজ এবং ঝোপঝাড় প্রকৃতির জন্য পরিচিত চা গাছগুলি যদি ছাঁটাই না করা হয় তবে 30-40 ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বাগানে শিরিষ গাছের মতো ছায়াযুক্ত গাছ লাগানোর অভ্যাস হল গুল্মজাতীয়তা বৃদ্ধি এবং পাতার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে। লক্ষণীয়ভাবে, চা গাছ এক শতাব্দী পর্যন্ত মানসম্পন্ন পাতা উত্পাদন করতে পারে এবং তাদের বীজগুলি খুব শক্ত বাইরের আবরণে আবদ্ধ থাকে। গাঢ় সবুজ, লম্বা, এবং সামান্য কাঁটাযুক্ত পাতায় তৈলাক্ত পদার্থে ভরা ছোট কোষ থাকে, যা চায়ের আনন্দদায়ক স্বাদ এবং গন্ধে অবদান রাখে।
চা তৈরিতে পাতাগুলিকে তিন মিনিটের জন্য সিদ্ধ জলে ভিজিয়ে রাখা জড়িত, এটি একটি প্রক্রিয়া যা এর সুগন্ধ এবং গন্ধকে আনলক করে। দার্জিলিং চা, বিশেষ করে, তার অনন্য সুগন্ধের জন্য বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। যাইহোক, চায়ের স্বাদ এবং ঘ্রাণ ঠান্ডা কাপে কমে যায়, সেরা চায়ের অভিজ্ঞতার জন্য উষ্ণ কাপ ব্যবহার করার গুরুত্বকে বোঝায়। তিব্বতের মাখন এবং সোডা চা থেকে শুরু করে রাশিয়ানদের বোতলজাত চা এবং চীন, জাপান, মায়ানমার, মঙ্গোলিয়া এবং কোরিয়ার স্বাস্থ্যগত সুবিধার জন্য গ্রিন টি পছন্দ করা বিভিন্ন সংস্কৃতির চা তৈরির অনন্য উপায় রয়েছে।
কালো চা, সবুজ চা, ওলং চা, ইট চা, এবং লেটপেট চা সহ বিভিন্ন ধরণের চা রয়েছে। ভারত এবং কেনিয়ার মতো দেশে কালো চা সবচেয়ে সাধারণ, যখন সবুজ চা মধ্য এশিয়া এবং জাপানে জনপ্রিয়তা উপভোগ করে। চা পাতায় ক্যাফেইন এবং অপরিহার্য তেলের পাশাপাশি ভাজা হলে প্রায় 2% ট্যানিন এবং 12% ট্যানিন থাকে। ক্যাফিন এবং ট্যানিন উপাদানের কারণে পানীয়টি স্নায়ুতন্ত্রের উপর উদ্দীপক প্রভাব, ক্ষুধা দমন এবং হজমে সহায়তার জন্য পরিচিত। তদুপরি, চায়ের মূত্রবর্ধক, পেশী টনিক এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, চলমান গবেষণা হৃদরোগ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলি অন্বেষণ করে। ইউনানি ঔষধে, চা হার্টের সমস্যা, শোক, বিভ্রম, জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমাধান করার ক্ষমতার জন্য স্বীকৃত। দুধ এবং চিনির সাথে খাওয়ার সময় এটি নিদ্রাহীনতা এবং অস্থিরতা উপশম করতে সহায়তা করে, এটি নিরাময়কারী প্রভাবও থাকতে পারে।
চায়ের সাংস্কৃতিক তাত্পর্য তার খাওয়ার আশেপাশের ঐতিহ্যগুলিতে স্পষ্ট। জাপানে, চা অনুষ্ঠান এবং অনন্য চা বাটির ব্যবহার চায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, বাটিগুলি প্রায়শই লালিত পারিবারিক উত্তরাধিকারে পরিণত হয়। বাংলাদেশেও একটি সমৃদ্ধ চায়ের সংস্কৃতি রয়েছে, বর্তমানে চা সাধারণত কাপে উপভোগ করা হয়, যদিও অতীতে বাটি ব্যবহার করা হত। সমতল ভূমির উপরে পাহাড়ে তাদের সুন্দরভাবে সাজানো চা গাছের সারি সহ মনোরম চা বাগান, চা চাষে বিনিয়োগ করা যত্নশীল যত্নের একটি আভাস দেয়। ক্যামেলিয়া নামে পরিচিত চা গাছটির নাম মালয় ভাষা থেকে এসেছে, কেউ কেউ এটিকে উট নামে একজন উদ্ভিদ-সংগ্রাহক বা একজন ইতালীয় পুরোহিতকে দায়ী করেছেন যিনি গাছটিকে ইউরোপে প্রবর্তন করেছিলেন। এর ব্যবহার ছাড়াও, চুলের বৃদ্ধিতে এর উপকারিতা এবং চোখে লাগালে এর শিথিল প্রভাবের জন্যও চাকে মূল্য দেওয়া হয়।
চীনে এর উৎপত্তি থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী একটি প্রিয় পানীয় হিসেবে এর ভূমিকা, চায়ের যাত্রা তার স্থায়ী আবেদন এবং বহুমুখীতার প্রমাণ। চীনের পবিত্র চায়ের ঘরে উপভোগ করা হোক না কেন, জাপানের বিস্তৃত চায়ের অনুষ্ঠানের সময়, বা ভারতের ব্যস্ত চায়ের দোকানে, চা একটি শেয়ার্ড প্যাশন হিসেবে রয়ে গেছে যা সংস্কৃতিকে অতিক্রম করে, মানুষকে এর অনন্য স্বাদ এবং স্বাস্থ্য সুবিধার প্রশংসায় একত্রিত করে।

Share This