ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এমন অনেক নাম রয়েছে, যাঁরা নিজেদের সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। তাঁরা গবেষণা করেছেন, নতুন প্রশ্ন তুলেছেন, কঠিন বৈজ্ঞানিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন—কিন্তু জীবদ্দশায় তাঁদের অনেকের অবদান সাধারণ মানুষের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি।
ড. বিভা চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন বিজ্ঞানী।
পদার্থবিদ্যার এমন একটি শাখায় তিনি কাজ করেছিলেন, যার বিষয় ছিল পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্ব থেকে আসা অতি উচ্চশক্তির কণা—মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic Rays। তাঁর গবেষণার সময় আধুনিক কণা-পদার্থবিদ্যা ও মহাকাশবিজ্ঞানের অনেক বিষয়ই এখনও বিকাশের পর্যায়ে। সেই সময় একজন ভারতীয় নারী হিসেবে পরীক্ষামূলক পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করা ছিল নিজেই একটি বিরল ঘটনা।
আজ ভারতীয় বিজ্ঞান ইতিহাসে বিভা চৌধুরীর নাম নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। Tata Institute of Fundamental Research-এর Indian Physics Association-এর প্রকাশনায় তাঁকে TIFR-এর প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানের পথে এক তরুণীর যাত্রা
বিভা চৌধুরী জন্মেছিলেন ১৯১৩ সালে। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবন এমন এক সময়ে কেটেছে, যখন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে নারীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।
তিনি পদার্থবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৩৬ সালে তিনি Physics-এ M.Sc. ডিগ্রি অর্জন করেন। TIFR-এর প্রকাশিত গবেষণামূলক জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৩৪–৩৬ সালের M.Sc. শ্রেণিতে ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্রী।
এই তথ্যটি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়।
এটি সেই সময়ের উচ্চশিক্ষায় নারীদের অবস্থানের একটি ছবি তুলে ধরে।
একটি পুরুষ-প্রধান শ্রেণিকক্ষে একমাত্র নারী শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা শেষ করে গবেষণার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে নিজের দক্ষতা দিয়ে জায়গা তৈরি করতে হয়েছিল।
গবেষণায় প্রবেশের সময় বাধা
M.Sc. শেষ করার পর বিভা চৌধুরী গবেষণা করতে চেয়েছিলেন। তিনি কলকাতার Bose Institute-এ অধ্যাপক ডি. এম. বসের গবেষণা দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কিন্তু শুরুতে তাঁকে গবেষণায় নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা হয়েছিল। TIFR-এর গবেষণামূলক ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ডি. এম. বসের প্রাথমিক আপত্তির কারণ ছিল সে সময় নারীদের জন্য উপযুক্ত গবেষণা প্রকল্প নেই—এমন ধারণা। শেষ পর্যন্ত বিভা চৌধুরী তাঁকে রাজি করাতে সক্ষম হন।
এই ঘটনা তাঁর চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
তিনি সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকেননি।
তিনি নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রটি বেছে নিয়ে সেই ক্ষেত্রের দরজা খুলতে চেষ্টা করেছিলেন।
মহাজাগতিক রশ্মির সন্ধানে
বিভা চৌধুরীর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল Cosmic Rays।
মহাজাগতিক রশ্মি আসলে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে পৌঁছনো উচ্চশক্তির কণা। এগুলোর মধ্যে এমন কণা থাকে, যেগুলোর শক্তি ও আচরণ বিশ্লেষণ করলে মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
আজ বিজ্ঞানীরা কসমিক রে নিয়ে গবেষণার জন্য অত্যাধুনিক ডিটেক্টর, স্যাটেলাইট ও বিশাল পরীক্ষাগার ব্যবহার করেন। কিন্তু বিভা চৌধুরীর সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না।
তখন বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের photographic plates এবং cloud chamber ব্যবহার করে উচ্চশক্তির কণার গতিপথ ও সংঘর্ষের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করতেন।
এই কঠিন পরীক্ষামূলক গবেষণাতেই বিভা চৌধুরী নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
দার্জিলিং থেকে সান্দাকফু
তাঁর গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল উচ্চ উচ্চতায় photographic plate ব্যবহার করে cosmic-ray shower পরীক্ষা করা।
TIFR-এর প্রকাশিত গবেষণামূলক নিবন্ধে বলা হয়েছে, Bose Institute-এ বিভা চৌধুরী ও ডি. এম. বসের গবেষণায় দার্জিলিং, সান্দাকফু এবং তৎকালীন ফারিজং অঞ্চলের বিভিন্ন উচ্চতায় photographic plates ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল মহাজাগতিক রশ্মি থেকে সৃষ্টি হওয়া কণার shower বা কণার ঝরনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
আজকের দিনে কোনো পরীক্ষার জন্য পাহাড়ি অঞ্চলে যন্ত্র বসানো আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু ১৯৩০-এর দশকে এমন গবেষণা পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য।
গবেষকদের শুধু তত্ত্ব জানা থাকলেই চলত না।
তাঁদের যেতে হতো দুর্গম স্থানে, পরীক্ষার সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করতে হতো, দীর্ঘ সময় ধরে photographic plates সংগ্রহ করতে হতো এবং পরে সেই প্লেটে তৈরি কণার রেখা বিশ্লেষণ করতে হতো।
বিভা চৌধুরী সেই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
একটি কণার রহস্য
তাঁর গবেষণার সময় পদার্থবিদ্যার একটি বড় প্রশ্ন ছিল—মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে থাকা অজানা কণাগুলোর প্রকৃতি কী?
Photographic plate-এ কণার চলার পথের চিহ্ন দেখে বিজ্ঞানীরা তাদের ভর, শক্তি, momentum এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা করার চেষ্টা করতেন।
বিভা চৌধুরী ও তাঁর সহকর্মীরা এই ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন।
TIFR-এর গবেষণামূলক নিবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, তাঁদের পরীক্ষায় কণার track-এর দৈর্ঘ্য, scattering এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কণার ভৌত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই গবেষণা ছিল সেই সময়ের কণা-পদার্থবিদ্যার একেবারে সামনের সারির কাজ।
TIFR-এ যোগদান
১৯৪৯ সালে বিভা চৌধুরী Tata Institute of Fundamental Research (TIFR)-এ যোগ দেন।
TIFR-এর Indian Physics Association-এর প্রকাশনায় তাঁকে TIFR-এর প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তিনি cosmic-ray গবেষণায় TIFR-এর প্রাথমিক দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তখন TIFR ছিল ভারতের আধুনিক মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
হোমি জে. ভাভার নেতৃত্বে সেখানে পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্র গড়ে উঠছিল।
এই পরিবেশে বিভা চৌধুরীর cosmic-ray গবেষণা ভারতীয় উচ্চশক্তির পদার্থবিদ্যার বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
বিদেশে গবেষণা
বিভা চৌধুরীর গবেষণাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল বিদেশে কাজ ও প্রশিক্ষণ।
TIFR-এর প্রকাশিত স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি TIFR-এ কাজ করার পর ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে École Polytechnique, Paris এবং University of Michigan-এ সময় কাটান।
সেই সময় বিদেশের উন্নত গবেষণাগারে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করে।
পরবর্তীকালে ভারতে ফিরে এসে তিনি গবেষণা চালিয়ে যান।
Physical Research Laboratory-তে নতুন অধ্যায়
১৯৫৮ সালে বিভা চৌধুরী Physical Research Laboratory (PRL), Ahmedabad-এ যোগ দেন।
সেখানে তিনি cosmic-ray গবেষণা চালিয়ে যান এবং পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের প্রশিক্ষণ দেন।
PRL-এ তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উচ্চশক্তির cosmic rays এবং কণার shower নিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণা।
তাঁর অধীনে গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের মধ্যে পরবর্তীকালে বিশিষ্ট গবেষকরাও ছিলেন। TIFR-এর Physics News-এ প্রকাশিত স্মৃতিচারণে তাঁর একজন প্রাক্তন গবেষক তাঁকে একজন অসাধারণ mentor এবং শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করেছেন।
শুধু বিজ্ঞানী নন, শিক্ষকও
বিভা চৌধুরীর বৈজ্ঞানিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর শিক্ষকসত্তাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
TIFR-এর স্মৃতিচারণমূলক লেখায় প্রাক্তন সহকর্মী ও ছাত্ররা তাঁর পড়ানোর পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন। একজন প্রাক্তন TIFR ডিন তাঁকে এমন একজন শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি খুব যত্ন নিয়ে lecture প্রস্তুত করতেন এবং ছাত্রদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতেন।
এটি একজন গবেষকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার।
একজন বিজ্ঞানী একটি গবেষণাপত্র রেখে যেতে পারেন। কিন্তু একজন ভালো শিক্ষক নিজের জ্ঞানকে বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
বিভা চৌধুরীর ক্ষেত্রেও সেই উত্তরাধিকার গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞানের ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া নাম
বিভা চৌধুরীর জীবন নিয়ে TIFR-এর একটি বক্তৃতার শিরোনাম ছিল “Bibha Chowdhuri: A Scientist Incognito”—অর্থাৎ এমন একজন বিজ্ঞানী, যিনি দীর্ঘ সময় প্রায় অজ্ঞাতই থেকে গিয়েছিলেন। বক্তৃতার সারাংশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর বহু বছর পর তাঁর কাজ নতুন করে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
এটি বিজ্ঞান ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে।
কতজন বিজ্ঞানীর কাজ তাঁদের জীবদ্দশায় যথেষ্ট পরিচিতি পায়?
আর কতজনের অবদান পরে নতুন প্রজন্মের গবেষকরা আবিষ্কার করেন?
বিভা চৌধুরীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ঘটনাটিই অনেক বেশি স্পষ্ট।
নক্ষত্রের নামে স্মরণ
বহু বছর পর তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদানকে নতুনভাবে স্মরণ করা হয়।
ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত একটি প্রকাশনায় বিভা চৌধুরীকে ভারতের প্রথম দিকের নারী উচ্চশক্তির পদার্থবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রকাশনায় বলা হয়েছে, International Astronomical Union তাঁর নামে একটি নক্ষত্রের নামকরণ করেছে।
একজন বিজ্ঞানীর নাম একটি নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রতীকী অর্থেও অসাধারণ।
যিনি জীবনের বড় অংশ মহাজাগতিক কণার রহস্য অনুসন্ধান করেছেন, তাঁর নাম শেষ পর্যন্ত মহাকাশের একটি নক্ষত্রের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেল।
নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসা
বিভা চৌধুরীর স্মৃতি ধরে রাখতে TIFR ও Homi Bhabha Centre for Science Education-এর বিভিন্ন উদ্যোগও দেখা যায়।
২০২২ এবং ২০২৩ সালের Vigyan Vidushi কর্মসূচিতে Bibha Chowdhury Memorial Lecture অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল তরুণী পদার্থবিদদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের উন্নত পদার্থবিদ্যার গবেষণার সঙ্গে পরিচিত করা।
এ যেন তাঁর বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকারের একটি নতুন অধ্যায়।
একসময় যে নারীকে গবেষণার সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজেকেই দরজা খুলতে হয়েছিল, তাঁর নাম এখন তরুণী বিজ্ঞানীদের সামনে অনুপ্রেরণার অংশ হিসেবে ফিরে আসছে।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
বিভা চৌধুরীর গল্পে কোনো একক মুহূর্তকে তাঁর সাফল্যের কারণ বলা যায় না।
ছিল কঠিন পড়াশোনা।
ছিল গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ।
ছিল সামাজিক বাধা।
ছিল গবেষণাগারে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম।
ছিল দেশের বাইরে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন।
ছিল দেশে ফিরে আবার গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করা।
আর ছিল দীর্ঘদিন পরিচিতির আড়ালে থেকে কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা।
তাঁর জীবন মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞানের ইতিহাস শুধু সেইসব মানুষের ইতিহাস নয়, যাঁদের নাম পাঠ্যবইয়ের প্রথম পাতায় লেখা থাকে। অনেক সময় গবেষণার প্রকৃত অগ্রগতি তৈরি হয় এমন বিজ্ঞানীদের হাত ধরে, যাঁদের নাম পরে আবিষ্কার করতে হয়।
উত্তরাধিকার
আজ মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা মহাকাশবিজ্ঞান, কণা-পদার্থবিদ্যা এবং astroparticle physics-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতেও এই গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের প্রাথমিক অধ্যায়ে বিভা চৌধুরীর কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
তিনি এমন এক সময়ে বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, যখন একজন ভারতীয় নারীর পক্ষে পদার্থবিদ্যার গবেষণায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কিন্তু তিনি সেই কঠিন পথেই এগিয়েছিলেন।
দার্জিলিং ও সান্দাকফুর পাহাড়ে photographic plate নিয়ে cosmic ray-এর চিহ্ন খোঁজা থেকে শুরু করে TIFR ও PRL-এর গবেষণাগার—তাঁর পথ ছিল দীর্ঘ এবং বৈজ্ঞানিক কৌতূহলে ভরা।
আজ তাঁর নাম একটি নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু তাঁর প্রকৃত আলো সেই নক্ষত্রে নয়—তাঁর রেখে যাওয়া বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকারে।
ড. বিভা চৌধুরী প্রমাণ করে গেছেন, বিজ্ঞানের আকাশে আলো তৈরি করার জন্য সবসময় নিজের নাম পৃথিবীর মানুষকে জানাতে হয় না। কখনও কখনও একজন গবেষকের কাজই যথেষ্ট—সময়ের বহু পরে হলেও সেই আলো একদিন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়।