Categories
গল্প বিবিধ

যে ছেলেটি গ্রামের হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে এনেছিল।

পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম রামচন্দ্রপুরে একসময় সময়ের হিসাব রাখা হতো গ্রামের পুরোনো ঘড়িঘর দেখে। বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা লাল ইটের দোতলা বাড়িটির মাথায় ছিল একটি বড় ঘড়ি। তার চারটি দিকেই গোলাকার ডায়াল। দূর থেকে দেখা যেত ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা। প্রতি ঘণ্টায় তার ঘণ্টাধ্বনি ছড়িয়ে পড়ত বাজার, স্কুল, মন্দির আর পুকুরপাড়ে।

সেই শব্দ শুনেই দোকানিরা দোকান খুলতেন, কৃষকেরা জমিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেন, আর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বুঝতে পারত কখন বাড়ি থেকে বেরোতে হবে।

কিন্তু বহু বছর ধরে ঘড়িটি বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

কেউ বলত, যন্ত্রের বড় ক্ষতি হয়েছে। কেউ বলত, মেরামত করতে অনেক টাকা লাগবে। আবার কেউ বলত, এখন তো সবার হাতে মোবাইল ফোন আছে, পুরোনো ঘড়ি ঠিক করার আর কী দরকার!

গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে ঘড়িটির কথা ভুলতে শুরু করেছিল।

শুধু পনেরো বছরের অয়ন ভুলতে পারেনি।

১. থেমে থাকা কাঁটা

অয়নের বাড়ি ছিল বাজারের কাছেই। তার বাবা সাইকেল মেরামতের দোকান চালাতেন। ছোটবেলা থেকেই অয়ন বাবার দোকানে বসে নানা যন্ত্রপাতি দেখতে ভালোবাসত। নাট-বল্টু, স্প্রিং, চেন, ব্রেকের তার—কোন জিনিস কীভাবে কাজ করে, তা জানার কৌতূহল ছিল তার প্রবল।

একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সে ঘড়িঘরের সামনে দাঁড়াল। বিকেলের রোদে ঘড়ির কাচ ঝলমল করছিল। কাঁটা আটকে আছে চারটা সতেরো মিনিটে।

অয়ন মনে করার চেষ্টা করল, শেষ কবে সে এই ঘড়ির ঘণ্টা শুনেছে। তার ঠাকুমা বলতেন, ছোটবেলায় ঘড়িটির শব্দ শুনে তিনি সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালাতেন। অয়নের বাবা বলতেন, স্কুল ছুটির সময় ঘড়ির ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাজার যেন একসঙ্গে প্রাণ ফিরে পেত।

অয়ন ভাবল, একটি ঘড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে কি শুধু সময় দেখানোর একটি ব্যবস্থা নষ্ট হওয়া? নাকি তার সঙ্গে হারিয়ে গেছে গ্রামের বহু মানুষের স্মৃতি?

সেদিন বাড়ি ফিরে সে বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, “বাবা, ঘড়িঘরের ঘড়িটা কি আবার চালু করা যায় না?”

বাবা সাইকেলের চাকা থেকে চোখ না তুলেই বললেন, “যায় কি না, সেটা তো যন্ত্র দেখে বলতে হবে। কিন্তু ওটা সাধারণ হাতঘড়ি নয়। বড় যন্ত্র। অভিজ্ঞ লোক লাগবে।”

“আমরা কাউকে খুঁজে দেখতে পারি না?”

বাবা হেসে বললেন, “খুঁজে দেখতে পারিস। তবে মনে রাখিস, কৌতূহল ভালো, কিন্তু না বুঝে যন্ত্র খুলতে গেলে ক্ষতিও হতে পারে।”

অয়ন মাথা নাড়ল। সে জানত, বাবার কথাটা ঠিক।

২. পুরোনো কারিগরের সন্ধান

পরদিন অয়ন স্কুলের গ্রন্থাগারে গেল। ঘড়ি কীভাবে কাজ করে, পুরোনো যান্ত্রিক ঘড়িতে কী ধরনের ব্যবস্থা থাকে—এসব নিয়ে বই খুঁজল। খুব বেশি তথ্য পেল না। তবু সে জানতে পারল, অনেক বড় যান্ত্রিক ঘড়িতে গিয়ার, দোলক এবং ভারের সাহায্যে সময় মাপার ব্যবস্থা থাকে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকলে মরচে, ধুলো বা যন্ত্রাংশের ক্ষতির কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক বললেন, “এই ঘড়িঘরটি প্রায় আশি বছর আগে তৈরি হয়েছিল। একসময় গ্রামের ব্যবসায়ীরা মিলে এর দেখাশোনা করতেন। এখন সেই দায়িত্ব নেওয়ার মতো কেউ নেই।”

অয়ন জানতে চাইল, “স্যার, আগে কি কেউ ঘড়িটা মেরামত করতেন?”

শিক্ষক কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, “হ্যাঁ, হরিপদ কাকু নামে একজন ঘড়ির কারিগর ছিলেন। এখন পাশের শহরে থাকেন। বয়স হয়েছে, তবে পুরোনো যন্ত্র সম্পর্কে অনেক জানেন।”

অয়ন ঠিকানা সংগ্রহ করে এক রবিবার বাবার সঙ্গে হরিপদবাবুর কাছে গেল।

ছোট্ট একটি ঘরে বসে ছিলেন বৃদ্ধ কারিগর। দেয়ালে নানা আকারের ঘড়ি। কোথাও টিকটিক শব্দ, কোথাও ঘণ্টাধ্বনি। টেবিলের ওপর সাজানো ছোট ছোট স্ক্রু, গিয়ার আর স্প্রিং।

অয়নের কথা শুনে হরিপদবাবু মৃদু হাসলেন।

“আরে, ওই ঘড়ি! একসময় আমি সেটার দেখাশোনা করতাম। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে ওর সঙ্গে! কিন্তু বহু বছর হলো কেউ আমাকে ডাকেনি।”

অয়ন উৎসাহ নিয়ে বলল, “আপনি কি আবার ঘড়িটা ঠিক করতে পারবেন?”

বৃদ্ধ বললেন, “আগে দেখতে হবে। যন্ত্রের অবস্থা না জেনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না। আর বড় ঘড়ি মেরামত করতে শুধু একজন কারিগর নয়, নিরাপত্তা ও খরচের ব্যবস্থাও দরকার।”

অয়ন বুঝল, কাজটি তার ভাবনার চেয়ে অনেক বড়।

তবু সে নিরাশ হলো না।

৩. গ্রামের মানুষের সামনে প্রশ্ন

অয়ন প্রথমে গ্রামের ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলল। তারা বললেন, ঘড়িঘরটি এখন একটি পুরোনো ভবন মাত্র। সেখানে মেরামতের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা সহজ হবে না।

একজন বললেন, “এত খরচ করে পুরোনো ঘড়ি চালিয়ে কী হবে? মোবাইলেই তো সময় দেখা যায়।”

অয়ন চুপ করে কথাটা শুনল। তারপর বলল, “মোবাইলে সময় দেখা যায়, ঠিক। কিন্তু ঘড়িঘরটা আমাদের ইতিহাসের অংশ। এটা মেরামত করা সম্ভব হলে গ্রামের ঐতিহ্যও বাঁচবে। আর না পারলেও অন্তত জানা যাবে, কেন নষ্ট হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী করা যায়।”

তার যুক্তি শুনে কয়েকজন আগ্রহী হলেন।

তবে সবাইকে রাজি করানো গেল না।

অয়ন তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাহায্য নিল। শিক্ষক পরামর্শ দিলেন, প্রথমে একটি প্রাথমিক পরিদর্শন করানো হোক। খরচ কত হতে পারে, ঘড়িঘর নিরাপদ কি না, কী কী অনুমতি লাগবে—এসব জানা দরকার।

অয়ন ও তার বন্ধুরা একটি আবেদন তৈরি করল। তাতে ঘড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং মেরামতের সম্ভাব্য উপকারিতা উল্লেখ করা হলো। তারা গ্রামের প্রবীণ মানুষদের কাছ থেকে ঘড়িটি নিয়ে পুরোনো স্মৃতিও সংগ্রহ করল।

কেউ জানালেন, ঘড়ির ঘণ্টা শুনে তিনি প্রথম চাকরিতে যাওয়ার সময় মনে রাখতেন। কেউ বললেন, ছোটবেলায় স্কুলে দেরি হয়ে গেলে ঘড়িঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁটার দিকে তাকাতেন। একজন বৃদ্ধা বললেন, তাঁর বিয়ের দিন দুপুরে ওই ঘড়ির ঘণ্টা বেজেছিল।

এই স্মৃতিগুলো শুনে অয়ন বুঝল, ঘড়িটির মূল্য শুধু ধাতু আর যন্ত্রাংশে নয়।

৪. প্রথম বাধা

কয়েক দিন পর হরিপদবাবু গ্রামে এলেন। তাঁর সঙ্গে এলেন আরও একজন অভিজ্ঞ মেকানিক। ঘড়িঘরের বাইরের অংশ দেখে তাঁরা বললেন, ভেতরে ওঠার আগে ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা জরুরি। সিঁড়ির কিছু অংশ দুর্বল, আর উপরের ঘরে দীর্ঘদিনের ধুলো ও আর্দ্রতা জমেছে।

তাই ঘড়ির যন্ত্র পরীক্ষা করার কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হলো।

অয়নের মন খারাপ হয়ে গেল। এত দিন ধরে চেষ্টা করার পরও ঘড়িটিকে ছোঁয়া পর্যন্ত গেল না!

হরিপদবাবু তাকে বোঝালেন, “যন্ত্র ঠিক করার আগে মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়। দুর্বল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা বা অজানা যন্ত্র নিজে খুলে দেখা কোনো সাহসের কাজ নয়।”

অয়ন মাথা নিচু করে বলল, “আমি ভেবেছিলাম, আপনি এলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।”

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “ভালো কাজের প্রথম ধাপ অনেক সময় অপেক্ষা। ধৈর্য না থাকলে ভালো কারিগর হওয়া যায় না।”

কথাটি অয়নের মনে গেঁথে গেল।

৫. ঘড়িঘর বাঁচানোর উদ্যোগ

গ্রামের মানুষ এবার ভবনটির নিরাপত্তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। প্রয়োজনীয় পরিদর্শনের পর মেরামতের পরিকল্পনা তৈরি হলো। ঘড়িঘরের কিছু অংশ আগে ঠিক করতে হবে, তারপর যন্ত্রের কাছে যাওয়া যাবে।

অয়ন এই সময়টায় অন্য একটি কাজ শুরু করল। সে গ্রামের পুরোনো ছবি ও স্মৃতি সংগ্রহ করতে লাগল। স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক তাকে সাহায্য করলেন। ঘড়িঘরের পুরোনো একটি ছবি পাওয়া গেল, যেখানে দেখা যাচ্ছে বাজারের সামনে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে ঘড়ির কাঁটা।

ছবিটি দেখে গ্রামের প্রবীণদের মধ্যে নতুন উৎসাহ দেখা দিল।

ক্লাবের সদস্যরা একটি ছোট তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিলেন। কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিলেন, কেউ পুরোনো ছবি খুঁজে দিলেন, কেউ আবার ঘড়িঘরের ইতিহাস লিখে রাখার দায়িত্ব নিলেন। অর্থের স্বচ্ছ হিসাব রাখার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলো।

অয়ন বুঝল, কাজটি আর তার একার নেই। গ্রামের মানুষ নিজেরাই এখন ঘড়িঘরটিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ভবনের প্রয়োজনীয় মেরামত চলল। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর হরিপদবাবু ও তাঁর সহকারী ঘড়ির যন্ত্র পরীক্ষা করলেন।

দেখা গেল, কিছু অংশে মরচে ধরেছে, কয়েকটি গিয়ার আটকে আছে এবং দোলকের ব্যবস্থায়ও সমস্যা হয়েছে। কিছু যন্ত্রাংশ মেরামত করা যাবে, কিছু নতুন করে তৈরি করতে হবে।

খরচের হিসাব শুনে সবাই বুঝলেন, কাজটি সহজ নয়। কিন্তু এবার তাঁরা জানতেন, কীসের জন্য অর্থ লাগবে এবং কীভাবে কাজ এগোবে।

৬. টিকটিক শব্দের প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ মেরামতের পর এক সকালে হরিপদবাবু অয়নকে ঘড়িঘরের বাইরে দাঁড়াতে বললেন।

“আজ হয়তো তুই একটা পুরোনো শব্দ আবার শুনতে পাবি।”

অয়নের বুক ধড়ফড় করছিল।

ঘড়ির যন্ত্রে শেষ পরীক্ষা চলছিল। হরিপদবাবু সাবধানে ব্যবস্থা চালু করলেন। প্রথমে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। তারপর ভেতর থেকে ভেসে এল মৃদু শব্দ—

টিক… টক… টিক… টক…

অয়ন যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

ঘড়ি চলছে!

সেদিন অবশ্য ঘড়িটিকে সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের জন্য চালু করা হলো না। আরও কয়েক দিন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া হলো, সময়ের হিসাব ঠিক থাকছে এবং ঘণ্টাধ্বনির ব্যবস্থাও নিরাপদে কাজ করছে।

অবশেষে নির্ধারিত দিনে ঘড়িঘরটি আবার চালু করার অনুষ্ঠান হলো।

গ্রামের বাজারে ছোট্ট একটি জমায়েত। স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক—সবাই উপস্থিত। হরিপদবাবু ঘড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অয়ন তাঁর কাছেই।

নির্দিষ্ট সময়ে ঘণ্টা বেজে উঠল।

ঢং… ঢং… ঢং…

শব্দটি ছড়িয়ে পড়ল বাজারের ওপর দিয়ে। দোকানের সামনে দাঁড়ানো মানুষ থেমে গেলেন। কয়েকজন প্রবীণ একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। কারও চোখে জল এসে গেল।

এক বৃদ্ধ বললেন, “মনে হচ্ছে, আমাদের ছোটবেলাটা আবার ফিরে এসেছে।”

অয়ন চারদিকে তাকাল। তার মনে হচ্ছিল, সে শুধু একটি ঘড়ি চালু হতে দেখছে না; সে দেখছে গ্রামের মানুষ নিজেদের অতীতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

৭. সময়কে বাঁচিয়ে রাখা

ঘড়িটি চালু হওয়ার পর অয়ন ও তার বন্ধুরা প্রস্তাব দিল, ঘড়িঘরের ইতিহাস এবং রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য লিখে রাখা হোক। ভবিষ্যতে যেন আবার অবহেলায় ঘড়িটি বন্ধ হয়ে না যায়, তার জন্য নিয়মিত দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হলো।

হরিপদবাবু অয়নকে বললেন, “তুই ঘড়িটা নিজে সারাসনি, কিন্তু ঘড়িটাকে বাঁচানোর পথ তৈরি করেছিস। এই কাজও কম বড় নয়।”

অয়ন বলল, “আমি শুধু চেয়েছিলাম, ঘড়িটা আবার চলুক।”

“আর তুই শিখলি, একটা পুরোনো জিনিস বাঁচাতে হলে শুধু তার যন্ত্র নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের স্মৃতিকেও গুরুত্ব দিতে হয়।”

স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অয়ন ঘড়িঘরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বক্তৃতা দিল। সে বলল, “আমরা প্রায়ই পুরোনো জিনিসকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিই। কিন্তু কিছু জিনিস আমাদের ইতিহাস, পরিশ্রম আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার গল্প বহন করে। সেগুলোকে বাঁচানো মানে শুধু অতীতকে ধরে রাখা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচয়ের একটি দরজা খোলা।”

শিক্ষকেরা হাততালি দিলেন।

অয়ন এখনো প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে তার স্বপ্নের মধ্যে নতুন সেতু, বড় ভবন আর আধুনিক যন্ত্রের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে পুরোনো জিনিসকে বুঝে নেওয়া, মেরামত করা এবং মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণের ইচ্ছা।

প্রতিদিন সকালে যখন ঘড়িঘরের ঘণ্টা বেজে ওঠে, অয়ন এক মুহূর্ত থেমে শোনে।

তার মনে হয়, সময় কখনো সত্যিই হারিয়ে যায় না। কখনো কখনো শুধু তাকে আবার চলার সুযোগ করে দিতে হয়।

শিক্ষা: পুরোনো বলে কোনো কিছুকে অবহেলা করা উচিত নয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের স্মৃতির মূল্য বুঝতে পারলে একটি ছোট উদ্যোগও পুরো সমাজকে একত্রিত করতে পারে। ধৈর্য, নিরাপত্তা, সঠিক জ্ঞান এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই স্থায়ী পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *