Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানুন বিশ্ব পর্যটন দিবস কি, পালনের উদ্দেশ্য।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ বিশ্বব্যাপী ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয়।  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনের প্রসারে ফোকাস করার জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়।  এটি ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (UNWTO) দ্বারা শুরু হয়েছিল।  এটি পর্যটনের প্রচার এবং এর গুরুত্ব বোঝার জন্য উদযাপিত হয়।  বিশ্ব পর্যটন দিবসের উদ্দেশ্য মানুষকে বিশ্ব ঘুরে দেখার আনন্দ বোঝানো।  এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

 

১৯৮০ সাল থেকে, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ২৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পালন হিসেবে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত করে। এই তারিখটি ১৯৭০ সালে সেই দিন হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, UNWTO-এর সংবিধিগুলি গৃহীত হয়েছিল।  এই সংবিধিগুলি গ্রহণ করা বিশ্ব পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়।  এই দিবসের উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এটি বিশ্বব্যাপী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা প্রদর্শন করা।

 

১৯৯৭ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তার দ্বাদশ অধিবেশনে, UNWTO সাধারণ পরিষদ বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনে সংস্থার অংশীদার হিসাবে কাজ করার জন্য প্রতি বছর একটি আয়োজক দেশ মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ২০০৩ সালের অক্টোবরে চীনের বেইজিং-এ তার পঞ্চদশ অধিবেশনে, অ্যাসেম্বলি বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগলিক ক্রম অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়: ২০০৬ ইউরোপে;  দক্ষিণ এশিয়ায় ২০০৭;  আমেরিকাতে ২০০৮;  আফ্রিকায় ২০০৯ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ২০১১।
নাইজেরিয়ার নাগরিক প্রয়াত ইগনাশিয়াস আমাদুওয়া আতিগবি প্রতিবছর ২৭শে সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব পর্যটন দিবস হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলেন।  2009 সালে তিনি তার অবদানের জন্য অবশেষে স্বীকৃত হন। বিশ্ব পর্যটন দিবসের রঙ হল নীল।

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর থিম—-

 

এই বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩, ইউএনডব্লিউটিও, “পর্যটন এবং সবুজ বিনিয়োগ” থিমের অধীনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলির জন্য আরও বেশি এবং আরও ভাল-লক্ষ্যযুক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, ২০৩০ সালের মধ্যে একটি উন্নত বিশ্বের জন্য জাতিসংঘের রোডম্যাপ। এখন নতুন করার সময়।  এবং উদ্ভাবনী সমাধান, শুধুমাত্র প্রথাগত বিনিয়োগ নয় যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতাকে উন্নীত করে।

 

 বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর তাৎপর্য—

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে পর্যটনের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চায়।  এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে পর্যটন একটি দেশের অর্থনীতির উন্নতিতে এবং এর ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  বিশ্ব পর্যটন দিবস গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পর্যটনের সুবিধার প্রচারে সহায়তা করে।  বালির পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।  UNWTO রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

 

 বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর ইতিহাস—

 

প্রথম বিশ্ব পর্যটন দিবস ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পর্যটনের জন্য বিশ্বব্যাপী পালন দিবস হিসাবে, এটি শান্তি ও সমৃদ্ধির অগ্রগতিতে সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন করার একটি সুযোগ দেয় এবং UNWTO-এর বৈশ্বিক অঞ্চলগুলি সর্বদা একটি সময়মত আনুষ্ঠানিক উদযাপনের আয়োজন করে।  এবং প্রাসঙ্গিক থিম।
ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (UNWTO) 1979 সালে বিশ্ব পর্যটন দিবস শুরু করে। ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদযাপন শুরু হয়। এটি প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয় কারণ তারিখটি UNWTO-এর সংবিধি গৃহীত হওয়ার বার্ষিকীকে চিহ্নিত করে।  ১৯৯৭ সালে, UNWTO সিদ্ধান্ত নেয় যে দিবসটি প্রতি বছর বিভিন্ন আয়োজক দেশে উদযাপন করা হবে।  বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাথমিক উদযাপন একটি কেন্দ্রীয় থিম সহ সম্পূর্ণরূপে পর্যটনের প্রচারের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

করম পুজা নিয়ে দুটি কথা : দিলীপ  রায়।

করম প্রধানত সৃষ্টির উৎসব, সৃজনের উৎসব । শরতের আগমনে শস্য ও সমৃদ্ধি কামনায় করম পরব বা করম উৎসব । ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী বা পার্শ্ব একাদশীতে করম উৎসব পালিত হয় । এই বছর অনুষ্ঠিত হলো ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ । এই পরবের মূল আকর্ষণ হলো জাওয়া গান । বলা চলে, গানগুলো লোকসাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গ ।
এবার আসছি করম পরব প্রসঙ্গে ।
করম পরব ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়,  আসাম, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং বাংলাদেশ ও নেপালে একটা ফসল কাটার উৎসব । এই উৎসবে করম দেবতার উপাসনা করা হয় । যিনি শক্তি, যুব ও যৌবনের দেবতা । করম পরব পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলা , ঝাড়্গ্রাম জেলা, বাঁকুড়া জেলা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কুড়মি, ভূমিজ, রাজপুত, সরাক, লোহার বাউরি, বীরহড়, বীরনিয়া, খেরওয়ার, হো, খেড়িয়া, শবর, কোড়া মাহালি, পাহাড়িয়া, হাড়ি, বাগদি, বেদে, ঘাসি, লোধা ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও, প্রভূতি সম্প্রদায়ের জঙ্গলভিত্তিক ও কৃষিভিত্তিক লোক উৎসব ।
প্রকৃতির পুজা ও উর্বতার উৎসব । এই করম পরব প্রায় সাতদিন ধরে উদযাপন  হয় । কুমারী কন্যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাতদিন ধরে ব্রত পালন করেন, করম গাছের ডাল পুজা করেন এবং বপন করা হয় ভুট্টার বীজ । অঙ্কুরিত ভুট্টার চারা বা ‘জাওয়া’কে  উর্বতার প্রতীক হিসাবে দেখা হয় । মূলত এই করম উৎসবটি আদিবাসী ও সাঁওতাল জনজাতিদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ।
মূলত গ্রামের অবিবাহিত কুমারী মেয়েরাই এই ‘করম’ ঠাকুরের উপাসক । শুক্লা একাদশীর সাতদিন আগে কুমারী মেয়েরা একত্রে বাঁশের বোনা ‘টুপা’ (ডালা) এবং বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ নিয়ে জড়ো হয় পার্শ্ববর্তী কোনো নদী, পুকুর বা জলাশয়ে  । সেখানে প্রত্যেকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে সদ্যস্নাত ভিজে কাপড়ে নিজের নিজের টুপায় নদী  খাতের বালি ভর্তি করে বাড়ি থেকে আনা সেই শস্যবীজগুলো বোনে । তারপর পরস্পরের হাত ধরে টুপা’কে কেন্দ্র করে গোল হয়ে বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী গান গাইতে থাকে ।
এরপর শুরু হয় এই জাওয়া টুপাগুলোর পরিচর্যা । দিন দুয়েক পরেই বীজগুলির অঙ্কুরোদম হয় । জাওয়া পাতানো কুমারী মেয়েরা, জাওয়ার শুদ্ধতা বজায় রাখার নিরিখে সারা সপ্তাহ ধরে পালন করে কিছু রীতি নীতি । যেমন – একদিন তারা শাক খায় না, খাটিয়ায় ঘুমোয়  না, মাথায় তেল দেয়  না, চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায় না, । এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মেয়েরা নিজ নিজ ডালাসহ গ্রামের এক জায়গায় জড়ো হয় । জাওয়াকে কেন্দ্র করে সারা সন্ধ্যা চলে করম গান ও নাচ ।
সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের লায়া (পুরোহিত) এক জায়গায় করম ডাল পুঁতে করম ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন  । তৈরি হয় পুজোর বেদী । গ্রামের ব্রতকারী কুমারী মেয়েরা “করম ডালায়” পুজোর অর্ঘ্যরূপে ঘি, গুঁড়, আতপ চাল, মধু, ধূপ, একগাছি ধান আর ‘কাঁকুড়’, ইত্যাদি নিয়ে সমবেত হয়ে পুজো করে পরম ঠাকুরের । কামনা করে সোহাগী স্বামী পাওয়ার ও সন্তানবতী হওয়ার ।
এবার আসছি করম পুজার প্রচলনের ইতিহাস প্রসঙ্গে । এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, করম পুজা প্রচলনের ইতিহাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে । এখানে দুইটি মতের উল্লেখ করা হলোঃ-
এক সময় সাত ভাই ছিল যারা কৃষিকাজে কঠোর পরিশ্রমী । এমনকি তাঁদের  দুপুরের খাওয়ারও সময় থাকতো  না । তাই, স্ত্রীরা প্রতিদিন তাঁদের  দুপুরের খাবার  মাঠে নিয়ে যেতেন ।  একবার এমন হয়েছিল,  তাঁদের স্ত্রীরা দুপুরের খাবার নিয়ে মাঠে যাননি  । সাংঘাতিক ক্ষুধার্ত ছিলেন তাঁরা । সন্ধ্যায়  বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁদের স্ত্রীরা বাড়ির  উঠোনে করম গাছের ডালের পাশে নাচ-গান করছেন  । এটা দেখে তাঁরা ক্রোধে অগ্নিশর্মা  । এক ভাই তাঁর মেজাজ হারিয়ে ফেলে করমের ডাল ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দিলেন । করম দেবতাকে অপমান করা হয়েছিল  ।  ফলে তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে এবং  অনাহারে তাঁদের দুর্দশা অবস্থা  । একদিন একজন ব্রাহ্মণ (পুরোহিত) তাদের কাছে এলেন এবং সাত ভাই  পুরো ঘটনাটা তাঁকে  খুলে বললেন । এরপর সাত ভাই করম রানীর খোঁজে গ্রাম ছেড়ে চলে যান। তাঁরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে থাকেন  এবং এইভাবে খোঁজার পর  একদিন তাঁরা করম গাছের সন্ধান পান । পরবর্তীকালে, করম ঠাকুরের পুজো করেন ।  তারপর তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি ঘটতে থাকে । সুখ ও শান্তি ফিরে আসে ।
আর একটি মত হচ্ছে নিম্নরূপঃ
কথিত আছে, কর্ম ও ধর্ম দুই ভাই । দু’জনেই খুব পরিশ্রমী ও দয়ালু । কিছু দিন পর কর্মের বিয়ে হয়ে গেলো । তাঁর স্ত্রী ছিল অধার্মিক এবং অন্যদের বিরক্ত  করার মানসিকতা ।  আর এতে রাগান্বিত হয়ে কর্ম বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ।
তিনি চলে যেতেই সকলের কর্মফল ও ভাগ্যও  চলে গেলো এবং  মানুষের দুঃখ দুর্দশা বাড়তে লাগলো ।  মানুষের সমস্যা সহ্য করতে না পেরে ধর্ম  ভাইয়ের খোঁজে বেরিয়ে গেলেন  । কিছু দূর হাঁটার পর তাঁর জল তেষ্টা পেলো  এবং দেখলেন  আশেপাশে কোথাও জল নেই । দূরে  একটা নদী দেখতে পেলেন এবং  সেখানে গিয়ে দেখলেন, তাতেও জল নেই ।
নদী ধর্মকে বলল, তোমার ভাই এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের কর্মফল নষ্ট হয়ে গিয়েছে । গাছের সব ফল নষ্ট ! খুঁজে পেলে বলো, তাঁর কাছে আমাদের এই সমস্যার সমাধান চাই ।   তারপর  আরও একজন মহিলার সঙ্গে তাঁর দেখা  এবং তিনি বললেন, কর্ম চলে যাওয়ার পর থেকে রান্নার পরে পাত্রগুলি হাতে লেগে যেতে শুরু করে, এর সমাধান কী ?  আপনি কর্মকে জিজ্ঞাসা করুন এবং  তাঁকে বলতে বলুন ।
ধর্ম আরও এগিয়ে গেলেন  । একটি মরুভূমিতে পৌঁছালেন । সেখানে তিনি দেখলেন,   কর্ম গরমে অস্থির । তাঁর শরীরে ফোসকা পড়েছে এবং তিনি যন্ত্রণায় কাতর । তাঁর অবস্থা অসহনীয় । ধর্ম কর্মকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন । কর্ম বললেন, “যে বাড়িতে আমার স্ত্রী মাটিতে কাদা ছুঁড়েছে  সেখানে আমি কীভাবে যাবো ?”  তখন ধর্ম প্রতিশ্রুতি দেন, আজকের পরে সে আর কখনও মাটিতে কাদা ফেলবে না । তখন উভয় ভাই বাড়ি ফিরে যেতে লাগলেন  ।
ফেরার সময়   সেই মহিলার সঙ্গে দেখা  । কর্ম তাঁকে বললেন, ঐ মহিলা কখনও কোনও ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াননি, তাই তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে । সুতরাং এটি তাঁর কর্মফল।
একইভাবে সকলকে নিজের কর্মফলের কথা জানানোর পর কর্ম বাড়িতে এসে পুকুরে কর্মফলের ডাল লাগিয়ে পূজা করেন । তারপর সমগ্র এলাকার লোকেরা আবার সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন  এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসল ।  সেই স্মরণে করম পরব  পালিত হয় । বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে করম পার্বণ একটি অন্যতম । এটি গ্রাম বাংলার এক অজানা অথচ বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী,  কুড়মিদের চা-বাগানের মানুষদের  সু-প্রচলিত করম পরব বা করম পুজা । এই বছর করম পুজাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছেন ।
পরিশেষে বলা যায়, করম পরব আদিম জনগোষ্ঠীর ধারক ও বাহক । এর মধ্যে অন্যতম কুড়মি, সাঁওতাল, ভূমিজ, মুন্ডা, ওঁরাও, রাজোয়াড়, ডোম, ঘাসি প্রভৃতি  জনগোষ্ঠী । তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় কুড়মি সমাজের মধ্যে এর স্বীকৃতি, মান্যতা ও ব্যপকতা অবর্ণনীয় । আদিম জনগোষ্ঠী প্রায়  সকলেই প্রকৃতির পুজারী ।  ভাল করে এই উৎসবের  পুজানুষ্ঠান  ও পালনবিধি  লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,  এটা একটা  বৃক্ষ পুজার অনুষ্ঠান । বৃক্ষকে জীবন্ত আত্মার অধিকারী হিসাবে স্বীকার করে  এবং তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস-সংস্কার,  আচার-অনুষ্ঠানের  এক বিস্ময়কর সমাবেশ এবং শুদ্ধ ভক্তির পরম্পরা  !  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
এ১০এক্স/৩৪, কল্যাণী (পিন-৭৪১২৩৫) / ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মদিবসে দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার । তাঁর পসম্পর্কে বলা যেতে পারে, তিনি লেখক, দার্শনিক, পণ্ডিত, অনুবাদক, প্রকাশক ও মানবহিতৈষী । সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন । সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন । বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই ।
বিদ্যাসাগরের যখন জন্ম (১৮২০), তখন শিক্ষা সংস্কারে ও বাংলা ভাষার আধুনিকরণের একটা ডামাডোল পরিস্থিতি । বিশৃঙ্খলার বাতাবরণ । শিক্ষার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও পাঠক্রম নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক । অথচ বাঙালী সমাজ জানে, আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ  সংস্কারে বিদ্যাসাগরের গৌরবময় অবদানের কথা ।

তাঁর নির্মিত বাংলা ভাষার ভিত্তির ওপরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম অধ্যায় । বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে বোধগম্য এবং সবরকমের ভাব ও চিন্তা প্রকাশের যোগ্য করে তুলেছিলেন । তাই আজও বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ।
আটপৌরে বাঙালি পোশাকে বিদ্যাসাগর ছিলেন সর্বত্রগামী । প্রবল জেদ ও আত্নসম্মানবোধ নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন, দ্বিরুক্তি না করে ইস্তফা দিয়েছেন । পাঠ্যবই লিখে ছেপে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন, দানের জন্য ধারও করেছেন ।  উনিশ শতকে সমাজ বদলের সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন পুরোভাগে । এমন ব্যক্তিত্ব সবসময়ে  ব্যতিক্রম ।
বিদ্যাসাগরের একটা আপ্ত বাক্য আজও সমাজজীবনে উজ্জীবিত, “কোনো বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন” । অথচ তিনি এককভাবে ধুতিচাদর পরে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়িত করে গেছেন, যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ শিক্ষার সংস্কার ও বিধবা বিবাহ প্রচলন । এটা সর্বজনবিদিত, বিদ্যাসাগরের লড়াইটা ছিল একার লড়াই । বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথের  মন্তব্য পরিষ্কার, তিনি গতানুগতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন  স্বতন্ত্র, সচেতন ও পারমার্থিক ।
এটা অনস্বীকার্য যে,  বাঙালী সমাজে আজও বিদ্যাসাগরের প্রদীপ্ত উপস্থিতি ‘বর্ণপরিচয়’ দিয়ে । প্রাথমিক শিক্ষায় ‘বর্ণপরিচয়’ এর  মাহাত্ম্য সকলের জানা । মুর্শিদাবাদ  জেলার শক্তিপুর হাই স্কুলের বাংলা ক্লাসের  দিদিমণি আমার রচনা লেখার গঠন অবলোকন করে হঠাৎ তাঁর সম্মুখে তিনি আদর করে ডেকে আমাকে বললেন, “তুই বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থের নাম শুনেছিস” ? মাথা নেড়ে আমি  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় গ্রন্থটির নাম শুনেছি জানালাম ।  তারপর চুপি চুপি বাংলা বিষয়ের শ্রদ্ধেয়া দিদিমণি বললেন, রোজ রাতে শোওয়ার আগে বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’  বইখানা পড়বি । রচনা লেখার সময়ে তোর বানানের জড়তা কেটে যাবে ।“  সুতরাং শৈশব থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় আজও অমলিন । সেই বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ অতিক্রান্ত  । তাই দুশো বছর ধরে শিক্ষা জীবনের বাস্তবতায় ও শিক্ষা বিকাশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগর আজও প্রাসঙ্গিক ।
বিদ্যাসাগর যখন জন্মগ্রহন করেছিলেন সেই  সময়টা ছিল রামমোহনের যুগ, যিনি একজন শিক্ষিত ও অগ্রণী পুরুষ ছিলেন এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম কারিগর ।  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর  মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সুপণ্ডিত ও বলিষ্ঠ দৃঢ়চেতা পুরুষ। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরিতে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতেন । পরিবার নিয়ে শহরে বাস করা তাঁর সাধ্যের অতীত ছিল। সেই কারণে বালক ঈশ্বরচন্দ্র গ্রামেই মা ভগবতী দেবী’র  সঙ্গে বাস করতেন।
পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির ছ’মাসের মধ্যেই পাঁচ টাকা বৃত্তি পান ।  তাঁর প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে শিক্ষকেরা সকলে স্তম্ভিত । তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্মজীবন শুরু করেন ফোর্ট উইলিয়াম (১৮৪১) কলেজের প্রধান পন্ডিত হিসাবে । ঐসময়েই  তাঁর ইংরেজি শিক্ষার যথাযথ শিক্ষালাভ । কেননা বিদ্যাসাগরকে সকলে জানতেন সংস্কৃতের পণ্ডিত হিসাবে । ইংরেজি হাতের লেখাও ছিল নজরকাড়া । ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে অর্থাৎ ১৮৫১ সালের ২২শে জানুয়ারী ঐ  কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন।  ঐ সময়েই ১৮৫১ সালে বিদ্যালয় দেখলেন, সংস্কৃত কলেজে গোড়া থেকেই  শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য সন্তানদের পড়বার অধিকার ছিল । কিন্তু বৈদ্যদের আবার ধর্মশিক্ষায় ছিল আপত্তি । স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল কায়স্থ ও অন্যান্য হিন্দু বর্ণদের কথা । তখনকার পণ্ডিত সমাজের তোয়াক্কা না করে, বিদ্যাসাগর তদানীন্তন কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারিকে জানিয়ে দিলেন ব্রাম্মণ ও বৈদ্য ছাড়া অন্যান্য বর্ণের বিশেষ করে শূদ্রদের সংস্কৃত কলেজে প্রবেশে তাঁর আপত্তি নেই । যদিও সেই সময় সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকরা বিদ্যাসাগরের মতে গররাজী ছিলেন, তথাপি বিদ্যাসাগরের মতটাকেই মান্যতা দিয়েছিলেন তদানীন্তনকালের কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারি । এবং পর পরই ১৮৫৪ সালের শেষে বিদ্যাসাগর হিন্দুদের সব শ্রেনীর জন্য সংস্কৃত কলেজের দরজা খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং সেই প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ।
সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া,  শিক্ষা প্রসারে তাঁর আরও অবদান সর্বজনবিদিত ।  ১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে বাংলা ভাষাকে সহজবোধ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন । ১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিনে  বর্ণপরিচয়ের প্রথমভাগ  প্রকাশ করে তিনি বাঙালীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন,  তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।  ১৮৫৯ সালে তিনি “ক্যালকাটা ট্রেনিং স্কুল” স্থাপনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ১৮৬৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “হিন্দু মেট্রেপলিটন ইসস্টিটিউট”। ইংরাজ অধ্যাপকের সাহায্য ছাড়া এবং কোনোরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া, বিদ্যাসাগর স্কুলটিকে ১৮৭২ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত করেছিলেন । বর্তমানে এর নাম “বিদ্যাসাগর কলেজ”। এটি দেশের প্রথম কলেজ যার প্রতিষ্ঠাতা – পরিচালক – শিক্ষক স্কলেই ভারতীয় ।  এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন।
ব্রাম্মণ হয়েও বিদ্যাসাগর ত্রিসন্ধ্যা জপ করেননি । কোনো  মন্দিরে যাননি এবং ঈশ্বর  বিষয়ক কোনো লেখা তিনি লেখেননি । বিদ্যাসাগর ছিলেন নাস্তিক । ধর্ম সম্বন্ধে  তিনি শুধু মনে করতেন জগতের কল্যাণসাধন ও বিদ্যাচর্চা । এপ্রসঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষের উক্তিটি প্রনিধাযোগ্য, ধর্মের কোন বহিরঙ্গ মানতেন না । তিনি, আচরণও করতেন না । এখন যেমন অনেকে বলেন, ধর্মটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, অনেকটা সেইরকম ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন । সেদিনের সমাজে প্রচলিত প্রথার নির্মম পরিণতির জন্য নারীদের ভাগ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন আপামর জনতা অবলোকন করেছিলেন । শোনা যায়, একসময় রাজা  রাজবল্লভ নিজের বালবিধবা কন্যাকে পুনর্বিবাহ দেওয়ার অনুমতি সমাজের পণ্ডিতদের কাছ থেকে পেয়েও সেই বিবাহ কারও কারও বাধায় দিতে পারেননি ।  বিদ্যাসাগরের “বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা” বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ও সমাজ চমকে উঠেছিল । শেষ পর্য্যন্ত ১৮৫৫ সালের ১৬ই  জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়  । তারপর ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন স্রকারিভাবে আইন হিসাবে মঞ্জর হয় ।   বিদ্যাসাগরের দরদী হৃদয় কেঁদেছিল সেকালের সমগ্র হিন্দু নারী সমাজের দুর্গতি দুর্দশায় । বিধবা বিবাহ আইন নামে পরিচিত ১৮৫৬ সালের আইনটি কেবলমাত্র বিধবা নারীর দ্বিতীয় বিবাহের স্বীকৃতি দেয়নি, আইনটি যেমন বিবাহকে আইনসিদ্ধ করে তেমনই মৃত স্বামীর এবং দ্বিতীয় বিবাহের এবং পৈত্রিক বিষয় সম্পত্তিতে অধিকার সুনিদ্দিষ্ট করে ।  বিভিন্নভাবে জানা যায়, ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত মোট ৬০টি বিধবা বিবাহ সংঘটিত   হয়  ।  আরও      জানা   যায়,   বিদ্যাসাগর     ও  তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচণ্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তা ছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। এতে একটা জিনিস পরিস্কার,  বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে বিদ্যাসাগরের দৃঢ় সংকল্প শতভাগ সফল ।
তিনি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় তৈরি করেন, যাকে পরবর্তীতে বেথুন কলেজ নামকরণ করা হয়। নারীদের শিক্ষার দিকে আনার জন্য তিনি একটি অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন, যা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে মেয়েদের শিক্ষার জন্য যাবতীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হতো। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাস অবধি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে বিদ্যাসাগর ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত । দরিদ্রদের দানে তিনি সর্বদাই মুক্তহস্ত ছিলেন ।  তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন । এখানে বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র উক্তি প্রনিধানযোগ্য,
“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে,
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু ! উজ্জ্বল জগতে
হেমাদ্রির হেম কান্তি অম্লান কিরণে” ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে । পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের,  যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্র বিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ।
তিনি তাঁর একক ও সহযোগীর উদ্যোগে রেখে গেলেন আধুনিক ব্যবহারযোগ্য একটি (উচ্চারণ অনুযায়ী ও মুদ্রণযোগ্য) বাংলা ভাষা, প্রাথমিক ও নীতিশিক্ষার বহু জনপ্রিয় গ্রন্থ, বাংলা মাধ্যম স্কুলব্যবস্থা ও নারীশিক্ষার পাকা বুনিয়াদ । মাতৃ/বাংলা ভাষার শিক্ষার আর একটি প্রাক শর্ত হল ভাল পাঠ্যপুস্তকের সুলভতা । বিদ্যাসাগরের সময় তার যথেষ্ট অভাব ছিল । বিদ্যাসাগরকেও অবতীর্ণ হতে দেখা যায় এক দিকে, বাংলায় ব্যকরণসিদ্ধ মুদ্রণযোগ্য অক্ষর ও বানান সংস্কার করে, নানা পাঠ্যপুস্তক রচনা, ছাপা ও বিপণনের আয়োজন । পাঠ্যপুস্তক রচনার পাশাপাশি ছাপা  বইয়ের সম্পাদনা ও সম্মার্জনার প্রতি তাঁর অখণ্ড মনোযোগ চিরদিন বজায় ছিল । একবার  তিনি হতদরিদ্র সাঁওতালদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি, সেই সময় (১৮৭৮) চর্যাপদের আবিস্কর্তা, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও তাঁর এক সঙ্গী লখনউ যাওয়ার পথে এক রাত বিদ্যাসাগরের আতিথ্যগ্রহণ করেন । রাত্রে বিশ্রামের পর সকালে উঠে শাস্ত্রী মশাই দেখলেন, “বিদ্যাসাগর মহাশয় বারান্দায় পাইচারি করিতেছেন এবং মাঝে মাঝে টেবিলে বসিয়া কথামালা কি বোধোদয়ের প্রূফ দেখিতেছেন । প্রূফে  বিস্তর কাটকুটি  করিতেছেন । যেভাবে প্রূফগুলি পড়িয়া আছে, বোধ হইল, তিনি রাত্রেও প্রূফ দেখিয়াছেন । আমি বলিলাম, কথামালার প্রূফ আপনি দেখেন কেন ? তিনি বলিলেন, ভাষাটা এমন জিনিস, কিছুতেই মন  স্পষ্ট হয় না ; যেন আর একটা শব্দ পাইলে ভাল হইত ; — তাই সর্বদা কাটকুটি করি । ভাবিলাম — বাপ রে, এই বুড়ো বয়সেও ইহার বাংলার ইডিয়ামের ওপর এত নজর ।“ (সূত্রঃ অ-বা-প,পৃঃ৪/ ২৭-৯-১৯) ।
এই অনন্য ও  বিরাট ব্যক্তিত্বের মানুষটি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কোনও বহিরঙ্গ মানতেন না এমনকি, আচরণও করতেন না ।   অথচ চালচলনে তিনি ছিলেন নিতান্তই সাদাসিধে ।  খুব বিনয়ী  এবং জীবনে  দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ছিলেন  তিনি দৃঢ় মনোভাবাপন্ন । তিনি ছিলেন  একাধারে মহান সমাজ সংস্কারক  অন্যদিকে এক জন শিক্ষাবিদ  এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন অবিরাম । ভারতে শিক্ষার প্রতি তার অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়। তাঁর অবর্ণনীয় মাতৃ ভক্তি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে আজও চর্চিত ।
হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের বিরোধী, বিধবা বিবাহের প্রচলনকারী, নারী শিক্ষার প্রবর্তক, উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক, বর্ণপরিচয় ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা, মহান শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁর মহান স্মৃতির প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য ।

 

কলমে : দিলীপ  রায়।
————————-০——————————

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কিংবদন্তী কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী,সুরকার,সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

সঙ্গীতের আকাশে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক কিংবদন্তীর নাম। আজও তিনি মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান।  হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯), পেশাগতভাবে হেমন্ত কুমার এবং হেমন্ত মুখার্জি নামে পরিচিত, ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এবং প্লেব্যাক গায়ক যিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা এবং হিন্দি, ও র-এর মতো অন্যান্য ভাষায় গাইতেন।  , আসামীয়া, তামিল, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, কোঙ্কানি, সংস্কৃত এবং উর্দু।  তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং অন্যান্য অনেক ঘরানার একজন শিল্পী ছিলেন।  তিনি সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য দুটি জাতীয় পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন এবং “ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” নামে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

হেমন্তের তিন ভাই ও এক বোন নীলিমা ছিল।  তার ছোট ভাই তারাজ্যোতি ছিলেন একজন বাঙালি ছোটগল্পকার।  তার কনিষ্ঠ ভাই অমল সঙ্গীত রচনা করার পাশাপাশি কিছু বাংলা সিনেমার জন্য গান গেয়েছেন, বিশেষ করে আবাক পৃথিবী ও হাসপাতালের জন্য।  অমল ১৯৬০ এর দশকে হেমন্তের সাথে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে কয়েকটি গান রেকর্ড করেছিলেন, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে জীবনর অনেকটা পথ একলাই গানটি।  ১৯৪৫ সালে, হেমন্ত বাংলার গায়িকা বেলা মুখার্জিকে বিয়ে করেন।  যদিও তিনি কাশীনাথ চলচ্চিত্রে কিছু জনপ্রিয় গান গেয়েছিলেন, তবে বিয়ের পর তিনি সক্রিয়ভাবে তার সঙ্গীতজীবনে এগিয়ে যাননি।  তাদের দুটি সন্তান ছিল, একটি ছেলে জয়ন্ত এবং একটি মেয়ে রানু।  রানু ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে কিছুটা সীমিত সাফল্যের সাথে একটি সঙ্গীত কর্মজীবনও অনুসরণ করেছিলেন।  জয়ন্ত একজন বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেছেন।

 

হেমন্ত বারাণসীতে তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন।  তার পৈতৃক পরিবার জয়নগর মজিলপুর শহর থেকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে কোলকাতায় চলে আসে।  হেমন্ত বড় হন এবং নাসিরুদ্দিন স্কুলে এবং পরে ভবানীপুর এলাকার মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করেন যিনি পরে একজন বাঙালি কবি হয়েছিলেন।  পড়াশোনার সময় প্রখ্যাত লেখক সন্তোষ কুমার ঘোষের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
হেমন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করার জন্য যাদবপুরে (বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দেন।  যাইহোক, তিনি তার বাবার আপত্তি সত্ত্বেও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এবং সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শিক্ষা ত্যাগ করেন।  তিনি সাহিত্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং একটি বাংলা ম্যাগাজিন দেশ-এ একটি ছোট গল্প প্রকাশ করেন, তবে ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি সঙ্গীতের দিকে মনোনিবেশ করেন।

 

১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি, হেমন্ত একজন বিশিষ্ট গায়ক এবং সুরকার হিসেবে তার অবস্থানকে সুসংহত করেছিলেন।  বাংলায়, তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা এবং সম্ভবত সবচেয়ে বেশি চাওয়া-পাওয়া পুরুষ গায়ক।  ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত বিবৃতি দেবব্রত বিশ্বাসকে সম্মান জানাতে হেমন্ত মুখার্জি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, দেবব্রত বিশ্বাস নিঃসংকোচে হেমন্তকে “দ্বিতীয় নায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তিনি হেমন্তকে প্রথম লেগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।  পঙ্কজ কুমার মল্লিক।  মুম্বাইতে, প্লেব্যাক গানের পাশাপাশি, হেমন্ত সুরকার হিসেবে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছিলেন।  তিনি নাগিন (১৯৫৪) নামে একটি হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন যা মূলত এর সঙ্গীতের কারণে একটি বড় সাফল্য লাভ করে।  নাগিন-এর গান দুই বছর ধরে একটানা চার্ট-টপার হিসেবে রয়ে গেছে এবং ১৯৫৫ সালে হেমন্ত মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার লাভ করে। একই বছর, তিনি একটি বাংলা সিনেমা শাপ মোচন এর জন্য সঙ্গীত করেছেন যাতে তিনি বাংলার জন্য চারটি গান গেয়েছিলেন।  অভিনেতা উত্তম কুমার।  এটি একটি প্লেব্যাক গায়ক-অভিনেতা জুটি হিসাবে হেমন্ত এবং উত্তমের মধ্যে দীর্ঘ অংশীদারিত্ব শুরু করে।  পরবর্তী দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা জুটি ছিলেন তারা।
১৯৫০ এর দশকের শেষভাগে, হেমন্ত সঙ্গীত রচনা করেন এবং বেশ কয়েকটি বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন, বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বাংলা অ-চলচ্চিত্র গান রেকর্ড করেন।  এগুলোর প্রায় সবগুলোই বিশেষ করে তার বাংলা গানগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।  এই সময়টিকে তার ক্যারিয়ারের শীর্ষস্থান হিসাবে দেখা যেতে পারে এবং প্রায় এক দশক ধরে চলেছিল।  সলিল চৌধুরী এবং লতা মঙ্গেশকর হেমন্তকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বলে উল্লেখ করেছেন।  তিনি নচিকেতা ঘোষ, রবিন চ্যাটার্জি এবং সলিল চৌধুরীর মতো বাংলার প্রধান সঙ্গীত পরিচালকদের দ্বারা সুর করা গান গেয়েছেন।  এই সময়ের মধ্যে হেমন্ত নিজেই যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে হারানো সুর, মরুতীর্থ হিংলাজ, নীল আকাশের নিচে, লুকোচুরি, স্বরলিপি, দীপ জুয়েলে জাই, শেশ পারজান্তা, কুহক, দুই ভাই, এবং বাংলা, তি ও এবং সপ্তপদীতে।  হিন্দিতে রাস্তা।

 

 

পুরস্কার—-

 

১৯৭০:পদ্মশ্রী(অস্বীকৃতি)

১৯৮৭:পদ্মভূষণ(অস্বীকৃতি)

১৯৫৬: ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড: নাগিন

১৯৭১: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: নিমন্ত্রণ

১৯৮৬: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: লালন ফকির

১৯৬২: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড স্বরলিপি – বিজয়ী

১৯৬৩: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড (হিন্দি); বিস সাল বাদ – বিজয়ী

১৯৬৪: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পলাতক – বিজয়ী

১৯৬৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড মণিহার – বিজয়ী

১৯৬৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড বালিকা বধূ – বিজয়ী

১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী

১৯৮৬: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ভালোবাসা ভালোবসা – বিজয়ী

১৯৮৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পথভোলা – বিজয়ী

১৯৮৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড আগমন – বিজয়ী

১৯৭২: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ধন্যি মেয়ে – বিজয়ী

১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী

১৯৭৬: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড প্রিয় বান্ধবী – বিজয়ী

১৯৮৫: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডি.লিট

১৯৮৬: সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার

১৯৮৯: মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার

১৯৭১: প্রথম ভারতীয় গায়ক হিসেবে হলিউডের সিনেমায় নেপথ্য কন্ঠ দান ও আমেরিকা সরকার কর্তৃক বাল্টিমোর এর নাগরিকত্ব লাভ

২০১২: বাংলাদেশের স্বাধীনতা মৈত্রী পুরস্কার (মরণোত্তর) ।

 

২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯, হেমন্ত ঢাকায় একটি কনসার্ট থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।  হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।  তার পুত্রবধূ মৌসুমী চ্যাটার্জির মতে, তার শেষ কথা ছিল “কি কষ্ট, কি কষ্ট” (‘এমন ব্যথা, এমন ব্যথা’)।
হেমন্তের উত্তরাধিকার এখনও বেঁচে আছে তিনি তার জীবদ্দশায় যে গানগুলি রেকর্ড করেছেন, সেইসাথে তিনি সুর করেছেন সঙ্গীতের মাধ্যমে।  তার গানের বাণিজ্যিক কার্যকারিতার কারণে, গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া (বা সারেগামা) এখনও প্রতি বছর তার অন্তত একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে, তার পুরোনো গানগুলিকে পুনরায় প্যাকেজ করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

 ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভূক্ত দেশগুলো ইউরোপীয়ান ভাষা দিবস পালন করে।

ইউরোপীয় ভাষা দিবস ২৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় , যেমনটি ৬ ডিসেম্বর ২০১ তারিখে ইউরোপীয় কাউন্সিল অফ ল্যাংগুয়েজেস (২০০১) এর শেষে ঘোষণা করেছিল , যা ইউরোপের কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছিল । এর লক্ষ্য সমগ্র ইউরোপ জুড়ে ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করা ।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৭৪ – জনি আপেলসীড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রোল মডেল পরিবেশবিদ।

জনি আপেলসিড (জন চ্যাপম্যান; ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৭৭৪ – মার্চ ১৮, ১৮৪৫) ছিলেন একজন আমেরিকান অগ্রগামী নার্সারিম্যান, যিনি পেনসিলভানিয়া, ওহিও, ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় এবং বর্তমান অন্টারিওর পাশাপাশি উত্তরের কাউন্টির বিশাল অংশে আপেল গাছ চালু করেছিলেন।  বর্তমান পশ্চিম ভার্জিনিয়ার।  তিনি জীবিত অবস্থায় একজন আমেরিকান কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন, তার সদয়, উদার উপায়, সংরক্ষণে তার নেতৃত্ব এবং আপেলকে তিনি যে প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েছিলেন তার জন্য।  এছাড়াও তিনি দ্য নিউ চার্চ (সুইডেনবর্জিয়ান) এর একজন মিশনারি এবং ওহাইওর আরবানাতে জনি অ্যাপেলসিড মিউজিয়ামের মতো অনেক জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক স্থানের অনুপ্রেরণা ছিলেন।

১৮২০ – (১২ আশ্বিন,১২২৭ বঙ্গাব্দ)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ – ২৯ জুলাই ১৮৯১), ছিলেন উনিশ শতকের একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক।  বাংলা গদ্যকে সরলীকরণ ও আধুনিকীকরণে তাঁর প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য ছিল।  তিনি বাংলা বর্ণমালা এবং প্রকারকেও যুক্তিযুক্ত এবং সরলীকরণ করেছিলেন, যা চার্লস উইলকিন্স এবং পঞ্চানন কর্মকার ১৭৮০ সালে প্রথম (কাঠের) বাংলা টাইপ কাটার পর থেকে অপরিবর্তিত ছিল।

 

১৮৭৭ – এডমুন্ড গোয়েন, ইংরেজ অভিনেতা।

এডমন্ড গোয়েন (জন্ম এডমন্ড জন কেলাওয়ে; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৭৭ – ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯) একজন ইংরেজ অভিনেতা ছিলেন।  ফিল্মে, ক্রিসমাস ফিল্ম মিরাকল অন 34th Street (১৯৪৭)-এ ক্রিস ক্রিংলের ভূমিকার জন্য তাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয়, যার জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কার এবং সংশ্লিষ্ট গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছিলেন।  তিনি কমেডি ফিল্ম মিস্টার ৮৮০ (১৯৫০) এর জন্য দ্বিতীয় গোল্ডেন গ্লোব এবং আরেকটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।  আলফ্রেড হিচকক পরিচালিত চারটি ছবিতে তার অভিনয়ের জন্যও তাকে স্মরণ করা হয়।

 

১৮৮৮ – টি এস এলিয়ট, ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক।

১৮৮৯ – মার্টিন হাইডেগার, জার্মান দার্শনিক।

 

১৯০৩ – বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার, সঙ্গীতকার,গল্পকার,ঔপন্যাসিক ও অভিনেতা হীরেন বসু।

হীরেন বসু বা হীরেন্দ্রনাথ বসু (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ১৮ জুন ১৯৮৭) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, সংগীতশিল্পী, সংগীতরচয়িতা, সুরকার, লেখক ও ঔপন্যাসিক। সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে হীরেন বসু আর সাহিত্য জগতে অর্থাৎ বইয়ের প্রচ্ছদে তিনি হীরেন্দ্রনাথ বসু নামে পরিচিত। ভারতীয় তথা বাংলা চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতের প্রবর্তক তিনি এবং প্রথম কণ্ঠদান তার নিজের।

 

১৯১০ – পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা কংসারী হালদার।

 

১৯২৩ – দেব আনন্দ, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক।

দেব আনন্দ (জন্ম ধর্মদেব পিশোরিমল আনন্দ; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৩ – ৩ ডিসেম্বর ২০১১) ছিলেন একজন ভারতীয় অভিনেতা, লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক যিনি হিন্দি সিনেমায় তার কাজের জন্য পরিচিত।  আনন্দকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সফল অভিনেতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারের মাধ্যমে তিনি ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন।  আনন্দ চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের প্রাপক, যার মধ্যে দুটি সেরা অভিনেতার জন্য রয়েছে।  ভারত সরকার তাকে ২০০১ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ এবং ২০০২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে।

 

১৯২৬ – আবদুর রহমান বিশ্বাস, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৩২ – মনমোহন সিং, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ১৪শ প্রধানমন্ত্রী।

মনমোহন সিং (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩২) ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন এবং চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী। ইনিই প্রথম শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী। পেশায় শ্রী সিং একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতের যোজনা কমিশনের সহ অধ্যক্ষ এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে চতুর্থ বারের জন্য আসাম থেকে একজন রাজ্যসভা সদস্য হিসাবেও মনোনীত হন।

 

১৯৩৬ – উইনি ম্যান্ডেলা, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী নেত্রী ও জাতীয় কংগ্রেসের মহিলা শাখার প্রধান।

উইনি মাডিকিজেলা-ম্যান্ডেলা OLS MP (জন্ম Nomzamo Winifred Zanyiwe Madikizela; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ – ২ এপ্রিল ২০১৮), যিনি উইনি ম্যান্ডেলা নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী কর্মী ও রাজনীতিবিদ এবং ম্যানডেলার দ্বিতীয় স্ত্রী।  তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে এবং ২০০৯ থেকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য, তিনি  ANC-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং এর Women’s League-এর প্রধান।  মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা তার সমর্থকদের কাছে “জাতির মা” হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

১৯৪৩ – ইয়ান চ্যাপেল, অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক।

ইয়ান মাইকেল চ্যাপেল (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩) হলেন একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার যিনি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন।  তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বিচ্ছিন্ন বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট সংস্থায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।  একটি ক্রিকেট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—তার দাদা এবং ভাইও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন—চ্যাপেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং স্পিন বোলার হিসেবে খেলতে দ্বিধাগ্রস্ত শুরু করেছিলেন।  তিন নম্বরে ব্যাট করতে উন্নীত হওয়ার পর তিনি তার স্থান খুঁজে পান।  “চ্যাপেলি” নামে পরিচিত, তিনি গেমটি দেখা সেরা অধিনায়কদের একজন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।  চ্যাপেলের ভোঁতা মৌখিক পদ্ধতির কারণে বিরোধী খেলোয়াড় এবং ক্রিকেট প্রশাসকদের সাথে একের পর এক সংঘর্ষ হয়;  স্লেজিং এর ইস্যুটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল তার অধিনায়কত্বের সময়, এবং তিনি ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পেশাদারিকরণের পিছনে একটি চালিকা শক্তি ছিলেন।

 

 

১৯৮১ – সেরিনা উইলিয়ামস, মার্কিন টেনিস খেলোয়াড়।

সেরেনা জামেকা উইলিয়ামস (জন্ম সেপ্টেম্বর ২৬, ১৯৮১) একজন আমেরিকান সাবেক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়।  সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড়দের একজন হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত, তিনি নারী টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (WTA) দ্বারা ৩১৯ সপ্তাহের জন্য এককদের মধ্যে বিশ্ব নং 1 র‌্যাঙ্ক করেছিলেন, যার মধ্যে একটি যৌথ-রেকর্ড ১৮৬ টানা সপ্তাহ ছিল, এবং বছরের শেষ হিসাবে শেষ হয়েছিল  নং 1 পাঁচবার।  তিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম মহিলা একক শিরোপা জিতেছেন, যা ওপেন এরাতে সবচেয়ে বেশি এবং সর্বকালের মধ্যে দ্বিতীয়।  তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একক এবং দ্বৈত উভয় ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ারের গোল্ডেন স্ল্যাম অর্জন করেছেন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৫৮০ – স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক তার সমুদ্র-পথে বিশ্ব-ভ্রমণ সমাপ্ত করে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

১৭৭৭ – ব্রিটিশ বাহিনী ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভানিয়া দখল করে।

 

১৮৪১ – ব্রুনেইর সুলতান সারাওয়াকা দ্বীপ ব্রিটেনের কাছে ছেড়ে দেন।

১৮৮৭ – এমিল বার্লিনার নামে একজন জার্মান অভিবাসী আমেরিকায় প্রথম কথা বলা যন্ত্র [গ্রামোফোন] পেটেন্ট করেন।

১৯০৭ – নিউজিল্যান্ড বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে।

 

১৯৪২ – ভারতে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (সিএসআইআর) প্রতিষ্ঠিত হয়।

বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সংক্ষেপে: সিএসআইআর) হল ভারতের বৃহত্তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। যদিও প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয়, তবুও এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এটি ইন্ডিয়ান সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ অনুসারে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে গঠিত হয়েছিল। [

 

১৯৫০ – জাতিসংঘ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে সিউ পুনর্দখল করে।

১৯৫০ – ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৫৯ – জাপানের হনসুতে দু দিনব্যাপী টাইফুনে সাড়ে চার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬০ – সিকাগোতে প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক হয়েছিল দুজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিচার্ড নিক্সন ও জন এফ কেনেডির মধ্যে।

 

১৯৬০ – ফিদেল কাস্ত্রো ইউএসআর-এর প্রতি কিউবার সমর্থন জানান।

১৯৬২ – উত্তর ইয়েমেনের রাজতন্ত্রী ব্যবস্থাকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয় ।

১৯৬৮ – সুইজারল্যান্ড জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৭৩ – কনকর্ড বিমান রেকর্ড সময়ে কোথাও না-থেমে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৯৫ – যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী বা লাহিড়ী মহাশয় ভারতীয় যোগী ও গুরু ।

শ্যামা চরণ লাহিড়ী (৩০ সেপ্টেম্বর ১৮২৮ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৯৫), লাহিড়ী মহাশয় নামে সর্বাধিক পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় যোগী এবং গুরু যিনি ক্রিয়া যোগ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  তিনি মহাবতার বাবাজির শিষ্য ছিলেন।  টিমোথি মিলারের আমেরিকার অল্টারনেটিভ রিলিজিয়নস বই অনুসারে, লাহিড়ী মহাশয়ের জীবনকে পরমহংস যোগানন্দের একটি যোগীর আত্মজীবনীতে বর্ণনা করা হয়েছে যে আধ্যাত্মিক অর্জনের একটি প্রদর্শন হিসাবে যা একজন গৃহকর্তা “বিশ্বে সম্পূর্ণভাবে বসবাস করে” অর্জন করতে পারেন।  লাহিড়ী মহাশয়ের মুখের একটি অংশ বিটলস-এর ১৯৬৭ অ্যালবাম সার্জেন্ট-এর কভারে চিত্রিত হয়েছে।  পিপারস লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড।

 

১৯৫৯ – সলোমন বন্দরনায়েক, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

 

১৯৭৭ – বিশ্ব বন্দিত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিকল্পক উদয় শঙ্কর প্রয়াত হন ।

উদয় শঙ্কর(জন্ম ৮ ডিসেম্বর ১৯০০-মৃত্যু ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭)। একজন ভারতীয় নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিকল্পক, অভিনেতা।তিনি ভারতীয় নৃত্যশৈলী, ভারতীয় জাতীয় নৃত্যের ইউরোপীয় থিয়েটারস সমন্বয় পদ্ধতি গ্রহণের জন্য সুপরিচিত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় এবং উপজাতীয় নৃত্যের উপাদানগুলির সাথে সমন্বয় করেন, যা তিনি পরবর্তী কালে ভারত, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালে জনপ্রিয় করান।। তিনি ভারতে আধুনিক নৃত্যের একজন অগ্রগামী ছিলেন।

 

১৯৮২ – প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী নীরদ মজুমদার।

 

১৯৮৯ – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,বাংলার খ্যাতিমান কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী,সুরকার,সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক। তিনি হিন্দি সঙ্গীত জগতে হেমন্তকুমার নামে প্রসিদ্ধ।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯), পেশাগতভাবে হেমন্ত কুমার এবং হেমন্ত মুখার্জি নামে পরিচিত, ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এবং প্লেব্যাক গায়ক যিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা এবং হিন্দি, ও র-এর মতো অন্যান্য ভাষায় গাইতেন।  , আসামীয়া, তামিল, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, কোঙ্কানি, সংস্কৃত এবং উর্দু।  তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং অন্যান্য অনেক ঘরানার একজন শিল্পী ছিলেন।  তিনি সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য দুটি জাতীয় পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন এবং “ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” নামে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

১৯৯০ – আলবার্টো মোরাভিয়া, ইতালীর খ্যাতনামা উপন্যাসিক।

আলবার্তো মোরাভিয়া , আলবার্তো পিনচারলের ছদ্মনাম , (জন্ম নভেম্বর ২৮, ১৯০৭, রোম , ইতালি—মৃত্যু ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০, রোম), ইতালীয় সাংবাদিক, ছোটগল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রেমহীনতার কাল্পনিক চিত্রের জন্য পরিচিত যৌনতা _ তিনি ২০ শতকের ইতালীয় সাহিত্যের একটি প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন ।

 

১৯৯৬ – সমরেন্দ্র কুমার মিত্র, ভারতে প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির কম্পিউটার নির্মাতা তথা কম্পিউটরের জনক।

সমরেন্দ্র কুমার মিত্র (১৪ মার্চ ১৯১৬ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮) একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ ছিলেন।  তিনি ১৯৫৩-৫৪ সালে ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ISI), কলকাতা (বর্তমানে কলকাতা)-এ ভারতের প্রথম কম্পিউটার (একটি ইলেকট্রনিক অ্যানালগ কম্পিউটার) ডিজাইন, বিকাশ ও নির্মাণ করেন।  তিনি রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) পালিত ল্যাবরেটরি অফ ফিজিক্স-এ গবেষণা পদার্থবিদ হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।  ১৯৫০ সালে, তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI), কলকাতা, একটি জাতীয় গুরুত্বের ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেন যেমন অধ্যাপক, গবেষণা অধ্যাপক এবং পরিচালক।

 

২০২২ – রণেশ মৈত্র, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

রণেশ মৈত্র (৪ অক্টোবর ১৯৩৩ – ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২) একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন।  সাংবাদিকতায় তার অবদানের জন্য তিনি 2018 সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অনবদ্য অভিনয়ে চমক লাগিয়ে দেওয়া কালজয়ী অভিনেতার নাম সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনবদ্য অভিনয়ে চমক লাগিয়ে দেওয়া কালজয়ী অভিনেতার নাম সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষ হিসেব ছিলেন নিতান্তই সাদামাটা,  সদা হাস্যময়। তিনি  ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা। তিনি তিনশো নাটকে অভিনয় করেছেন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন—

 

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে সেপ্টেম্বর বিহারের পাটনায়। পিতা অতুলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা অমিয়া দেবী। তার স্কুল জীবনের পড়াশোনা উত্তর প্রদেশের  লখনউ-এ। সেখানকার অ্যাংলো-বেঙ্গলী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ পর কলকাতায় আসেন। আশুতোষ কলেজ থেকে অনার্স নিয়ে বি. এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম.এ পাশ করেন।তিনি জার্মান ভাষায়ও বেশ পারদর্শী ছিলেন।  কিন্তু তার পড়াশুনা শেষ হয়নি।  অভিনয় ছাড়া তার পেশাগত জীবনে তিনি ভারত সরকারের টেলি কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাকাউন্টস বিভাগে কাজ করতেন।

 

কর্মজীবন—-

তিনি ছিলেন আপাদমস্তক শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং বই পাগল মানুষ।  ছিলেন সত্যের পূজারী এবং নিপাট ভদ্রলোক।  কাজের প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ ও নিয়মানুবর্তিতা।  থিয়েটার দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও বড় পর্দাতেও তাঁর ছিল অনায়াস বিতরন।  সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে রুপোলি পর্দায় আগমন ‘জন অরণ্য’ ছবি দিয়ে।  এরপর তিনি তরুণ মজুমদার, মৃণাল সেন সহ বহু পরিচালকের পরিচালনায় একের পর এক কাজ করে গিয়েছেন। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে অভিনয় জীবন শুরু করেন উৎপল দত্তের লিটিল থিয়েটার গ্রুপে পরবর্তীতে যেটি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপে পরিবর্তিত হয়। তিনি উৎপল দত্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।তিনি উৎপল দত্তের কাছে অভিনয় শিখেছেন।  তিনিই মহান শিল্পী রবি ঘোষকে উৎপল দত্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।  লিটল থিয়েটার গ্রুপের প্রায় নাটকে অংশ নেন।  তিনি নাটকের স্ক্রিপ্ট এবং থিয়েটারের জটিলতার উপর কিছু প্রবন্ধও লিখেছেন।  উলকা (১৯৫৭), বালিকা বোধু (১৯৬৭), সেশ থেকে শুরু (১৯৬৯), কুহেলি (১৯৭১), জন অরণ্য (১৯৭৬) দাদার কীর্তি (১৯৮০), বউমা (১৯৮৬) তার কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্র।  ১৯৭৬ সালে, তিনি “একদিন প্রতিদিন” ছবিতে অভিনয়ের জন্য B.F.J.A এবং পশ্চিমবঙ্গ সিনে পুরস্কার পান।  এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ সালে সঙ্গীত নাট্যক একাডেমীতে পুরস্কৃত হন।  তিনি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপের ‘কল্লোল’, ‘অঙ্গার’, ‘নীচের মহল’ , মহাবিদ্রোহ এবং তিতুমীর সহ ১৫০ টি নাটকে মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেন।  ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানির ‘বার্লিনার এনসেম্বল’-এ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বাংলা ও ইংরাজী নিয়ে প্রায় চল্লিশটি নাটক পরিচালনা করেছেন।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকের তালিকা-

বাজি (আন্তন চেখভের ছোটগল্প অবলম্বনে উৎপল দত্তের প্রযোজনা ও পরিচালনায়)

ফোর্টিনথ অফ জুলাই (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)

দাঁতোঁ (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)

লেলিনের ডাক (উৎপল দত্তের রচনা ও পরিচালনা)

অন্যান্য নাটক ও চরিত্র হল –

টোটো, বিকাশ, টিনের তলোয়ার,  সূর্যশেখর, ব্যারিকেড, একলা চলো রে।

তিনি সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেন পরিচালিত কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।  তার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবিগুলি হল – মৃণাল সেনের’ ‘একদিন প্রতিদিন’ ১৯৮০) এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ (১৯৭৯)

পুরস্কার——-‐-

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় রঙ্গমঞ্চ ও ছায়াছবিতে অভিনয়ের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

(ক) ১৯৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কার,

(খ) ১৯৮৯ সালে ঋত্বিক ঘটক পুরস্কার,

(গ) সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার ১৯৯৬,

(ঘ) বিএফজেএ পুরস্কার,

(ঙ) “একদিন প্রতিদিন” ছবিতে অভিনয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সিনেমা পুরস্কার।

 

৩০ জানুয়ারি ২০০৬ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস।

প্রতিবছর ২৫ শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপিত হয়। ফার্মাসিস্টরা দেশে বিদেশে মানসম্মত ওষুধ তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সম্পর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্জাদার আসনে আসীন রাখতে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

(খ) ওআইসি প্রতিষ্ঠা দিবস ৷

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা সংক্ষেপে ওআইসি (Organisation de la coopération islamique) একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা। পূর্বে সংস্থাটির নাম ছিল ইসলামি সম্মেলন সংস্থা। ১৯৬৯ সালে গঠিত সংস্থাটিতে ৫৭টি দেশ প্রতিনিধিত্ব করছে যার মধ্যে ৪৯টি মুসলমান প্রধান দেশ। সংস্থাটির মতে তারা ‘মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর’ হিসেবে এবং ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারের চেতনা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ ধারণ ও সুরক্ষায়’ কাজ করে থাকে।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯২৫ – স্যামসন এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। 

চৌধুরী, স্যামসন এইচ (১৯২৫-২০১২)  শিল্পোদ্যোক্তা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। ড. ই এইচ চৌধুরীর পুত্র স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০-৪০ সালের মধ্যে তিনি কলকাতার বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সিনিয়র ক্যামব্রিজ ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

১৯২৯ – নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত টিভি সাংবাদিক ও উপস্থাপক বারবারা ওয়াল্টারস।

বারবারা ওয়াল্টার্স , (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯, বোস্টন , ম্যাসাচুসেটস , ইউএস—মৃত্যু ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক), মার্কিন সাংবাদিক বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তার অত্যন্ত কার্যকরী কৌশলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

 

১৯৩৩ – সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা।

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়  ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা। তিনি তিনশো নাটকে অভিনয় করেছেন।

 

১৯৩৯ – ফিরোজ খান, ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

ফিরোজ খান ছিলেন ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম একজন ভারতীয় অভিনেতা, চলচ্চিত্র সম্পাদক, প্রযোজক এবং পরিচালক। তিনি তার ঝকঝকে প্রাণবন্ত অভিনয়, ক্যামেরার সামনে নায়কশৈলী ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এবং তার স্বতন্ত্রসূচক অভিনয় শৈলীর জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

 

১৯৪২ – পিটার পেথেরিক, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার। 

পিটার জেমস পেথারিক (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ – ৭ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার যিনি ১৯৭৬ সালের অক্টোবর থেকে মার্চ ১৯৭৭ সালের মধ্যে অফ-স্পিনার হিসেবে ছয়টি টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।  তিনি নিউজিল্যান্ডের দুই বোলারের একজন যিনি টেস্ট ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন।  তিনি মরিস অ্যালম এবং ডেমিয়েন ফ্লেমিং-এর সাথে টেস্ট অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের একজন।

 

১৯৪৪ – মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক মাইকেল ডগলাস।

 

১৯৪৬ – বিষেন সিং বেদী ভারতের সাবেক ও প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

বিষন সিং বেদী;  জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬) একজন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি প্রাথমিকভাবে একজন ধীরগতির বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার ছিলেন।  তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছিলেন এবং বিখ্যাত ভারতীয় স্পিন কোয়ার্টেটের অংশ হয়েছিলেন।  তিনি মোট ৬৭টি টেস্ট খেলেছেন এবং ২৬৬টি উইকেট নিয়েছেন।  এছাড়াও তিনি ২২টি টেস্ট ম্যাচে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।  বেদি একটি রঙিন পটকা পরতেন এবং ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে তার স্পষ্টভাষী এবং স্পষ্ট মতামতের জন্য সর্বদা পরিচিত।  তিনি ১৯৭০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে সি.কে. নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান।

 

১৯৫০ – জাফর ইকবাল, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা ও গায়ক।

১৯৫২ – ক্রিস্টোফার রিভ, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৬৫ – মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, বাংলাদেশী ক্রিকেটার।

১৯৬৬ – দোয়েল, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৬৮ – উইল স্মিথ, মার্কিন অভিনেতা ও গায়ক।

 

১৯৬৯ – (ক)  ব্রাত্য বসু, ভারতীয় বাঙালি নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ব্রাত্যব্রত বসু রায় চৌধুরী (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯), যিনি ব্রাত্য বসু নামেও পরিচিত, তিনি একজন ভারতীয় অভিনেতা, মঞ্চ পরিচালক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, অধ্যাপক এবং রাজনীতিবিদ যিনি ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।  প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রকের একই অফিস।  মে ২০১৬-এ, বসুকে পর্যটন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং বায়ো-টেকনোলজি, তথ্য প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স-এর পোর্টফোলিও অর্পণ করা হয়েছিল।  তিনি পশ্চিমবঙ্গের ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে দমদম নির্বাচনী এলাকা থেকে বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।  বসু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি এবং মিনার্ভা নাট্যসংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারপারসন।

 

(খ) ক্যাথরিন জিটা-জোন্স, ওয়েলসীয় চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেত্রী।

ক্যাথরিন জেটা-জোনস CBE (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯) একজন ওয়েলশ অভিনেত্রী।  তার বহুমুখীতার জন্য পরিচিত, তিনি একাডেমি পুরস্কার, একটি ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম পুরস্কার, এবং একটি টনি পুরস্কার সহ বিভিন্ন প্রশংসার প্রাপক।  ২০১০ সালে, তিনি তার চলচ্চিত্র এবং মানবিক কাজের জন্য কমান্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (CBE) নিযুক্ত হন।

 

(গ) হানসি ক্রনিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। 

ওয়েসেল জোহানেস “হ্যান্সি” ক্রোনিয়ে (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ১ জুন ২০০২) ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এবং ১৯৯০ এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।  একজন ডান-হাতি অলরাউন্ডার, ক্যাপ্টেন ক্রনিয়ে তার দলকে ২৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৯৯টি একদিনের আন্তর্জাতিকে জয় এনে দিয়েছেন।  ক্রনিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯৯৮ সালের আইসিসি নকআউট ট্রফি জিততেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশটি এখন পর্যন্ত একমাত্র আইসিসি শিরোপা জিতেছে।  ১৯৯৮ সালের আইসিসি নকআউট ট্রফি ফাইনালে, ক্রোনিয়ে ব্যাট হাতে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন তার অপরাজিত ৬১ রান, দলকে ৪ উইকেটে জয়ের দিকে নিয়ে যান।  একটি ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ভূমিকার কারণে ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ২০০৪ সালে তিনি ১১তম-শ্রেষ্ঠ দক্ষিণ আফ্রিকান নির্বাচিত হন।  তিনি ২০০২ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

 

১৯৮৭ – অ্যাডাম লিথ, ইংরেজ ক্রিকেটার।

অ্যাডাম লিথ (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭) একজন ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটার, যিনি ২০০৭ সাল থেকে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তিনি একজন বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

 

১৮৬৬ – টমাস হান্ট মর্গান, মার্কিন বংশগতিবিদ ও ভ্রূনতত্ত্ববিদ। ১৮৮১ – চীনা লেখক লু শুন।

 

১৮৯৭ – নোবেলজয়ী  মার্কিন কথাসাহিত্যিক উয়িলিয়াম ফকনার।

উইলিয়াম কুথবার্ট ফকনার (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৭ – জুলাই ৬, ১৯৬২) একজন আমেরিকান লেখক ছিলেন যিনি তার উপন্যাস এবং ছোট গল্পের জন্য পরিচিত ছিলেন, যা মিসিসিপির লাফায়েট কাউন্টির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ফকনার তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।  একজন নোবেল বিজয়ী, ফকনার হলেন আমেরিকান সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখকদের একজন এবং প্রায়শই তাকে দক্ষিণী সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

১৭৪৪ – প্রুশিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডরিক উইলিয়াম।

ফ্রেডেরিক উইলিয়াম II ( ২৫ সেপ্টেম্বর ১৭৪৪ – ১৬ নভেম্বর ১৭৯৭) ১৭৮৬ থেকে ১৭৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রুশিয়ার রাজা ছিলেন । তিনি ব্র্যান্ডেনবার্গের যুবরাজ – নির্বাচক এবং (অরেঞ্জ-নাসাউ উত্তরাধিকারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ইউনিয়নে ছিলেন। তার পিতামহের) ক্যান্টন অফ নিউচেটেলের সার্বভৌম রাজপুত্র । আনন্দ-প্রেমময় এবং অলস, তাকে তার পূর্বসূরি ফ্রেডরিক দ্য গ্রেটের বিরোধী হিসাবে দেখা হয় । তার শাসনামলে, প্রুশিয়া অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তিনি ফরাসি বিপ্লবের দ্বারা সৃষ্ট বিদ্যমান শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন।. তার ধর্মীয় নীতিগুলি আলোকিতকরণের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এবং একটি ঐতিহ্যগত প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য ছিল । যাইহোক, তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং কিছু উল্লেখযোগ্য ভবন নির্মাণের জন্য দায়ী ছিলেন, তার মধ্যে বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট ।

 

১৬৪৪ – ওলে রয়মা, ডেনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

 

১৯২০ – সতীশ ধাওয়ান, ভারতীয় গণিতজ্ঞ এবং বৈমানিক প্রকৌশলী।

সতীশ ধাওয়ান (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯২০ – ৩ জানুয়ারী ২০০২) ছিলেন একজন ভারতীয় গণিতবিদ এবং মহাকাশ প্রকৌশলী, যাকে ব্যাপকভাবে ভারতে পরীক্ষামূলক তরল গতিবিদ্যা গবেষণার জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।  শ্রীনগরে জন্মগ্রহণকারী ধাওয়ান ভারতে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা লাভ করেন।  ধাওয়ান ছিলেন অশান্তি ও সীমানা স্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশিষ্ট গবেষকদের একজন, যিনি ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির সফল ও আদিবাসী উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  তিনি ১৯৭২ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর তৃতীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এম.জি.কে. মেননের স্থলাভিষিক্ত হন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৩ – জাপানের হোক্কাইদো শহরে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত করেছিল।

১৯১২ – কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১৭ – কেরেনেস্কির নেতৃত্বে রাশিয়ায় তৃতীয় কোয়ালিশন সরকার দায়িত্ব নেয়।

১৯৪২ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সুইজারল্যান্ড পুলিশ আদেশ জারি করেছিল, ইহুদি শরণার্থী সে দেশে ঢুকতে পারবে না।

১৯৬৯ – ওআইসি-এর চার্টার স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভ্যাটিকান সিটি।

১৯৭২ – নরওয়তে গণভোটে কমন মার্কেটে যোগদানের বিপক্ষে ভোট পড়ে।

১৯৭৪ – জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দেন।

১৯৭৭ – শিকাগো মেরাথন দৌড়ে প্রায় চার হাজার ২০০ লোক অংশ নিয়েছিল।

১৯৯৭ – ইহুদীবাদী ইসরাইলী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ফিলিস্তিনের সংগ্রামী নেতা খালেদ মাশালকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় ।

১৮০৪ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।

১৮৯৭ – প্রথম ব্রিটিশ বাস সার্ভিস চালু হয়।

১৬৩৯ – আমেরিকায় প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয়।

১৬৫৪ – ইংল্যান্ড ও ডেনমার্ক বাণিজ্যচুক্তি করে।

১৫২৪ – বিশিষ্ট নৌ-অভিযাত্রী ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগালের ভাইসরয় হিসেবে তৃতীয় ও শেষবারের মতো ভারতে আসেন।

১৪৯৩ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৭টি জাহাজ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সমুদ্রযাত্রা করেন।

১৩৪০ – ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করে।

১৩৯৬ – দানিউব নদীর তীরে নিকোপোলিস-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – সমর দাস, বাংলাদেশী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।

সমর দাস (১০ ডিসেম্বর ১৯২৫ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার।  তিনি পাকিস্তান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীত পরিচালক হয়ে ওঠেন এবং ২০০০টিরও বেশি গানের সুরকার ছিলেন।

 

২০২০ – এস. পি. বালসুব্রহ্মণ্যম, ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী,সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা।

শ্রীপতি পণ্ডিতরাধ্যুলা বালাসুব্রহ্মণ্যম (৪ জুন ১৯৪৬ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০), যিনি SPB বা SP বালু বা বালু নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় প্লেব্যাক গায়ক, টেলিভিশন উপস্থাপক, অভিনেতা, সঙ্গীত সুরকার, ডাবিং শিল্পী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক।  তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভারতীয় গায়কদের একজন হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত।  তিনি প্রধানত তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম এবং হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন এবং মোট ১৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন।

 

২০২১ – কমলা ভাসিন, ভারতের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক, প্রশিক্ষক এবং অধিকারকর্মী।

কমলা ভাসিন (২৪ এপ্রিল ১৯৪৬ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১) ছিলেন একজন ভারতীয় উন্নয়নমূলক নারীবাদী কর্মী, কবি, লেখক এবং সমাজ বিজ্ঞানী।  ভাসিনের কাজ, যা ১৯৭০ সালে শুরু হয়েছিল, লিঙ্গ শিক্ষা, মানব উন্নয়ন এবং মিডিয়ার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল।  তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকতেন।  তিনি সঙ্গত – এ ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করার জন্য এবং তার কিউঙ্কি মে লডকি হুঁ, মুঝে পড়না হ্যায় কবিতার জন্য সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।  ১৯৯৫ সালে, তিনি একটি কনফারেন্সে জনপ্রিয় কবিতা আজাদী (স্বাধীনতা) এর একটি সংস্কার করা, নারীবাদী সংস্করণ আবৃত্তি করেছিলেন।  তিনি ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং-এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারীও ছিলেন।

 

১৯৬২ – চট্টগ্রামে দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার।

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক (জন্ম: ২০ জুলাই ১৮৯৬-২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২) চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম প্রকৌশলী, সম্পাদক, প্রকাশনা-উদ্যোক্তা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা।

 

১৯৭০ – এরিখ মারিয়া রেমার্ক, জার্মান লেখক।

১৯৭২ – আলেহানদ্রা পিসারনিক, আর্জেন্টিনীয় কবি।

 

১৯৮০ – লুইস মাইলস্টোন, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক। 

লুইস মাইলস্টোন (সেপ্টেম্বর ৩০, ১৮৯৫ – ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০) একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।  মাইলস্টোন পরিচালিত টু অ্যারাবিয়ান নাইটস (১৯২৭) এবং অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০), যে দুটিই সেরা পরিচালকের জন্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছে।  তিনি দ্য ফ্রন্ট পেজ (১৯৩১), দ্য জেনারেল ডাইড অ্যাট ডন (১৯৩৬), অফ মাইস অ্যান্ড মেন (১৯৩৯), ওশেনস ১১ (১৯৬০) পরিচালনা করেন এবং মার্লন ব্র্যান্ডো এর জন্য বিদ্রোহের জন্য (১৯৬২) পরিচালনার কৃতিত্বও পান  এটির উত্পাদনের সময় তার দায়িত্বগুলি মূলত বণ্টন করে।

 

১৯৮৪ – ওয়াল্টার পিজেয়ন, কানাডীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা।

 

১৯৯০ – প্রফুল্লচন্দ্র সেন,ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ,স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধীবাদি নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী।

প্রফুল্লচন্দ্র সেন একজন ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধীবাদি নেতা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটির এক বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে, তার পিতার নাম ছিল গোপালচন্দ্র সেন। পিতার কর্মস্থান বিহারে তার স্কুলজীবন কাটে।

 

।।তথ্য ও ছবি  : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন ভারতের ম্যাকাও, উত্তর গোয়ায় দর্শনীয় স্থান পাঞ্জিম শহর।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো গোয়ায় পাঞ্জিম শহর।

 

গোয়া তার সমুদ্র সৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত, এর প্রধান অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হল পর্যটন। গোয়াকে সহজেই এর দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র দ্বারা চিহ্নিত করা যায়, একটি উত্তরে এবং একটি দক্ষিণে। উত্তর গোয়া হল এমন এক যেটিকে পার্টি করার কেন্দ্র এবং হিপ্পি প্যারাডাইস বলে মনে করা হয়। যাইহোক, এর চেয়ে এলাকায় আরও অনেক কিছু আছে । উত্তর গোয়ার স্থানগুলি মহিমান্বিত দুর্গ, সুন্দর ক্যাথেড্রাল, ব্যস্ত ফ্লি মার্কেট এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের আগ্রহের জায়গা দিয়ে ঘেরা। উত্তর গোয়া পরিবহণের নিম্নলিখিত যেকোন একটি উপায় দ্বারা দর্শনার্থীদের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য।

 

 

পাঞ্জিম শহর

 

পানাজি (পূর্বে পাঞ্জিম) হল গোয়া রাজ্যের রাজধানী।  এখানে কোন সমুদ্র সৈকত নেই, এবং মাত্র 40,000 জনেরও বেশি মানুষ, ক্ষুদ্র পানাজি ইতিবাচকভাবে প্রাদেশিক মনে করে।  ভারতে 36টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থাকলেও, পানাজি ভারতের শীর্ষ 300টি বড় শহরও ক্র্যাক করে না।  যদিও আমি মনে করি যে ভবিষ্যতে পানাজি আরও সুপরিচিত গন্তব্য হয়ে উঠবে।

 

পানাজি (পাঞ্জিম নামেও পরিচিত) হল ভারতের গোয়া রাজ্যের রাজধানী এবং উত্তর গোয়া জেলার সদর দফতর।  পূর্বে, এটি প্রাক্তন পর্তুগিজ ভারতের আঞ্চলিক রাজধানী ছিল।  এটি তিসওয়াদি উপ-জেলার (তালুকা) মান্দোভি নদীর মোহনার তীরে অবস্থিত।  মেট্রোপলিটন এলাকায় 114,759 জনসংখ্যা সহ, পানাজি হল গোয়ার বৃহত্তম শহুরে সমষ্টি, মারগাও এবং মুরমুগাও-এর আগে।  পানাজিতে রয়েছে সোপানযুক্ত পাহাড়, বারান্দা সহ কংক্রিটের বিল্ডিং এবং লাল-টাইলযুক্ত ছাদ, গীর্জা এবং একটি নদীর তীরে প্রমোনেড।  গুলমোহর, বাবলা ও অন্যান্য গাছের সারিবদ্ধ রাস্তা রয়েছে।  বারোক আওয়ার লেডি অফ দ্য ইম্যাকুলেট কনসেপশন চার্চ প্রাকা দা ইগ্রেজা নামে পরিচিত প্রধান চত্বরের দিকে নজর রেখে অবস্থিত।  পানাজিকে স্মার্ট সিটি মিশনের অধীনে একটি স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একশোটি ভারতীয় শহরের মধ্যে একটি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
17 শতকে পর্তুগিজরা ভেলহা গোয়া থেকে রাজধানী স্থানান্তর করার পর একটি পরিকল্পিত গ্রিড সিস্টেমে ধাপে ধাপে রাস্তা এবং সাত কিলোমিটার দীর্ঘ প্রমোনেড দিয়ে শহরটি তৈরি করা হয়েছিল।  ১৮৪৩ সালের ২২ মার্চ এটি একটি শহর থেকে একটি শহরে উন্নীত হয়।

 

 

ইতিহাস–

১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোয়া শহরের জনসংখ্যা ধ্বংস করার পর পানাজিকে পর্তুগিজ ভারতের রাজধানী করা হয়।
১৯৬১ সালে পর্তুগিজ ভারতের ভারতীয় অধিভুক্তির পর পানাজি গোয়ার বাকি অংশ এবং প্রাক্তন পর্তুগিজ অঞ্চলগুলির সাথে ভারত দ্বারা সংযুক্ত হয়। এটি ১৯৮৭ সালে গোয়াকে রাজ্যের মর্যাদায় উন্নীত করার জন্য একটি রাজ্য-রাজধানী হয়ে ওঠে এবং ১৯৬১ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এটি ছিল কেন্দ্রীয় রাজধানী।  গোয়া, দমন ও দিউ অঞ্চল।  একটি নতুন বিধানসভা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়েছিল মার্চ ২০০০ সালে, মান্দোভি নদীর ওপারে, আলতো পোরভোরিমে।  পানাজি হল উত্তর গোয়া জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর।

 

গোয়া বেশিরভাগই এর সৈকতের জন্য যুক্ত, এবং ঠিকই তাই।  যাইহোক, আপনি যদি শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকতে আপনার সময় ব্যয় করেন তবে আপনি ধারণা পাবেন যে গোয়া শুধুমাত্র র‌্যামশ্যাকল সৈকত শহরগুলির সমন্বয়ে গঠিত।  শহুরে গোয়া কেমন দেখায় তা দেখতে পানঞ্জি দেখার মতো।  আপনি যদি ভারতের বড় শহরগুলির দ্বারা অভিভূত বোধ করেন তবে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও পানাজি একটি ভাল জায়গা।

 

 

পানাজি শহরটি রাজ্যের রাজধানী ছাড়াও উত্তর গোয়া জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। শহরটি মান্ডোভি নদীর তীরে অবস্থিত এবং এর রাস্তাগুলি মুচি পাথর দিয়ে পাকা। রাস্তাগুলি উজ্জ্বল রঙের বাড়ি এবং কাঠামো দিয়ে বিন্দুযুক্ত পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় থেকে ফিরে আসা। পাঞ্জিমে ঐতিহাসিক স্থাপনা, ল্যাটিন কোয়ার্টার, সমুদ্র সৈকত এবং প্রচুর স্ট্রিট আর্ট সহ অনেকগুলি আকর্ষণ রয়েছে, যার সবগুলিই এক দিনে অন্বেষণ করা যেতে পারে।

 

পাঞ্জিম হল গোয়ার রাজ্যের রাজধানী এবং জনপ্রিয়ভাবে সরকারের আসন হিসাবে পরিচিত।  এটি বেশিরভাগ ব্যবসায়িক উদ্বেগের প্রধান কার্যালয় রয়েছে এবং অনেকের কাছে পানাজি নামেও পরিচিত।

পাঞ্জিম প্রশস্ত মান্ডোভি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এবং এটি ভারতের সবচেয়ে ছোট এবং মনোরম রাজ্যের রাজধানীগুলির মধ্যে একটি।  এটি সেই জায়গা যেখানে ভারতের প্রথম মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  1842 সালে প্রতিষ্ঠিত গোয়া মেডিকেল কলেজটি পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত এশিয়ার প্রাচীনতম মেডিকেল কলেজগুলির মধ্যে একটি ছিল।

 

পাঞ্জিম শহরটি তার পর্তুগিজ ঐতিহ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করেছে এবং এর কিছু অংশ এখনও সরু ঘূর্ণায়মান রাস্তা, ঝুলন্ত ব্যালকনি সহ পুরানো বাড়ি, লাল-টাইলযুক্ত ছাদ এবং অসংখ্য ছোট বার এবং ক্যাফে নিয়ে গঠিত।

পর্তুগিজ ভাষায় চিহ্নগুলি এখনও দোকান, ক্যাফে এবং প্রশাসনিক ভবনগুলিতে দেখা যায়।  ফন্টেইনহাস, আপনাকে পর্তুগিজ দিনগুলিতে স্থানান্তরিত করে কারণ এটি তার পুরানো আকর্ষণ এবং চরিত্র ধরে রেখেছে।  শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মধ্যে মহিমান্বিতভাবে উত্থিত হয়, 1540 সালে প্রতিষ্ঠিত সাদা-ধোয়া ‘চার্চ অফ দ্য ইম্যাকুলেট কনসেপশন’।

নদীর তীরে ‘সেক্রেটারিয়েট’, পূর্বে ষোড়শ শতাব্দীর শাসক ইউসুফ আদিল শাহের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ।  কাছেই বিখ্যাত ‘আবে ফারিয়া’-এর মূর্তি রয়েছে একজন গোয়ান যাজক তার সম্মোহনী ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত।  18ই জুন রোড হল একটি জমজমাট ব্যবসা এলাকা এবং এখানকার দোকানগুলি কাজুবাদাম থেকে চামড়ার পণ্য থেকে শুরু করে গৃহস্থালীর জিনিসপত্র বিক্রি করে।

“আজাদ ময়দান স্কোয়ার”-এ ক্লাসিক্যাল করিন্থিয়ান কলাম সহ একটি সুন্দর প্যাভিলিয়ন রয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা। পানাজিতে অসংখ্য বার এবং ক্যাফে রয়েছে এবং জায়গাটি উপভোগ করার সর্বোত্তম উপায় হল হাঁটা বা সূর্যাস্ত দেখা।  মান্ডোভি নদীর ধারে দীর্ঘ বুলেভার্ডে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আজ মীনা দিবস, জানুন দিনটি কি, কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর ‘মীনা দিবস’ হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইস্ট-এশিয়ার দেশগুলোতে উদযাপন করা হয়।২৪ সেপ্টেম্বর ‘মীনা দিবস’। বিদ্যালয়ে যেতে সক্ষম শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং ঝরেপড়া রোধের অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বে পালিত হয় ইউনিসেফের ঘোষিত দিবসটি।

 

মীনা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি কার্টুন ধারাবাহিক।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাল্য বিয়ে, পরিবারে অসম খাদ্য বণ্টন, শিশুশ্রম রোধ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন করা ও কার্যকর বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘মীনা’ চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মীনা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় বাংলা কার্টুন। এ কার্টুন ছবিটি তৈরি করেছে ইউনিসেফ।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল ছিল মেয়ে শিশুর দশক। একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র সিরিজ তৈরি করে তার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়ে, তাদের পরিবার ও কমিউনিটিকে আনন্দ দেওয়া ও উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দশক উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনিসেফ। মীনা হল এই সিরিজের  কেন্দ্রীয় চরিত্র।এই চরিত্র উপযোগী নাম ও চেহারা ঠিক করতে অনেকগুলো গবেষণা করা হয়েছিল। আমরা আজকে যে মীনাকে চিনি, তার এই চেহারা ঠিক করার আগে চার দেশের শিল্পীরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মেয়েদের চেহারা উপজীব্য করে কয়েক ডজন ছবি এঁকেছিলেন।বাংলাদেশে ইউনিসেফের বড় অর্জনগুলোর একটি ‘মীনা’।

 

১৯৯৩ সালে প্রথম এটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র ‘মীনা’ বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র।মীনা প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর নয় বছরের একটি মেয়ে, যে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। হোক তা তার স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে অথবা শিশুদেও বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। শিশুদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান বিষয়গুলো সামাল দিতে পারার কারণে মীনা চরিত্রটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের কেন্দ্র করে মীনা, তার ভাই রাজু ও তার পোষা টিয়া মিঠুর রোমাঞ্চকর নানা কর্মকা- নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিরিজের গল্পগুলো। বাংলাসহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। কার্টুনিট প্রচার করা হয় সার্কভুক্ত সাতটি দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। কার্টুন ছাড়াও কমিক বই ও রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে। এর স্রষ্টা বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। এ কার্টুনটির সূচনা সংগীতটি শিশুদের কাছে খুব প্রিয়।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় এ কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত।

কার্টুনের মূল চরিত্র মীনা আট বছর বয়সের কন্যাশিশু। সে তার পরিবারের সঙ্গে একটি ছোট গ্রামে বাস করে। এ চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনোদন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার চিত্র ফুটে ওঠে। মীনা কার্টুনে একটি পরিবারের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মীনা সময়মতো স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। মীনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র। ১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী মীনা দিবস উদযাপন করছে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা। প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হয়। প্রতি বছর মীনা দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালি, মীনাবিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, যেমন খুশি তেমন সাজো ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সংকেত ভাষা দিবস, জানুন দিনটি কি এবং কেন পালিত হয়।

আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস হল বধির মানুষের মানবাধিকারের জন্য স্বীকৃত সাংকেতিক ভাষার সচেতনতা বৃদ্ধির একটি দিন।  দিনটি সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগকারী সমস্ত লোকের ভাষাগত পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য সমর্থন প্রদান করে।  ভাষা হল যোগাযোগের মাধ্যম এবং এই দিনটি পালন করা বধিরদের সাংকেতিক ভাষার সাথে সম্পর্কিত একতাকে তুলে ধরে।
তাই, প্রতি বছর ২৩শে সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বে শ্রবণ সমস্যা রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষার দিবস হিসাবে পালন করা হয়।২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-এ প্রথম আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষার দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়েছিল, যার প্রতিপাদ্য ছিল “সাংকেতিক ভাষার সাথে, সবাই অন্তর্ভুক্ত!”  দিনটি বধিরদের আন্তর্জাতিক সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয়, যা ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।  দিবসটি প্রথম চূড়ান্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস বা আন্তর্জাতিক সংকেত ভাষা দিবস সারা বিশ্বে প্রতি বৎসর ২৩ শে সেপ্টেম্বর তারিখে পালিত হয়। সেই সাথে প্রতি বৎসর ইশারা সপ্তাহ উদযাপনেরও সূচনা করা হয়। এই দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ‘সমস্ত বধির মানুষ এবং অন্যান্য ইশারা ভাষা ব্যবহারকারীদের ভাষাগত পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমর্থন ও রক্ষা করার’ সুযোগ উপস্থাপন করে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস: ইতিহাস।

 

আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস পালনের প্রস্তাব এসেছে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ (ডব্লিউএফডি) থেকে।  WFD বধির ব্যক্তিদের ১৩৫টি জাতীয় সমিতির একটি ফেডারেশন।  ফেডারেশন সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বধির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রথম আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালিত হয়েছিল, একটি উদযাপন যা ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে এর আবির্ভাব দেখেছিল এবং ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হয়।  তারপর থেকে, দিনটি প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর চিহ্নিত করা হয়। এই বছরটি আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবসের পঞ্চম উদযাপনকে চিহ্নিত করে।১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের এই ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশান অফ দ্য ডীফ’ গঠিত হয়েছিল। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ হতে দিনটির প্রথম উদযাপন শুরু হয়।  ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ প্রথম এই দিনটির জন্য ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭-এ প্রস্তাব করেছিল কারণ 23 সেপ্টেম্বরও বধিরদের বিশ্ব ফেডারেশন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (১৯৫১ সালে)।

 

আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস: তাৎপর্য।

 

সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ হল ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ যা আপনার বার্তাকে অঙ্গভঙ্গি বা চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেরণ করে।  প্রতিটি দেশের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা আছে, যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এটি আমেরিকান সাংকেতিক ভাষা যেখানে যুক্তরাজ্যে এটি ব্রিটিশ ইশারা ভাষা।  আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস বধির লোকেদের জন্য যোগাযোগের এই মাধ্যমটি সংরক্ষণের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে।
দিনটি ইশারা ভাষার বিকাশের একটি মঞ্চও দেয়।  এটি আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন লক্ষ্য এবং তাদের সাথে যুক্ত অর্জনের উপরও আলোকপাত করে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This