Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কৃষ্ণ-ভক্ত বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

গোদাবরী তটে শ্রীমন্ মহাপ্রভু রায় রামানন্দকে প্রশ্ন করেছিলেন, “দুঃখ মধ্যে কোন্ দুঃখ হয় গুরুতর ?’ রায় রামানন্দ তদুত্তরে বলেছিলেন— “কৃষ্ণ-ভক্ত বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর।।” নিরন্তর ভক্তসঙ্গে ভজনের যে পরিপাটী লাভ করা যায় তা যে কোন একজন সাধকের ঈপ্সিত লক্ষ্য। একজন পথচারী যখন দুর্গম বনপথ দিয়ে একা গমন না করে অনেকের সঙ্গে আলাপচারিতা, কথোপকথন বা হাস্য পরিহাসের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন, তখন তাঁর দস্যুভয় বা হিংস্র পশু আক্রমণের বিপদের সম্ভাবনা বহুলাংশে হ্রাস পায়। তেমনই, সাধক যদি নিত্য উপযুক্ত ভক্তসঙ্গ করেন তখন সংসারের দস্যুতুল্য, পশুতুল্য কামনা-বাসনা, বিষয়-বাসনা বা কোন প্রকার ভজন অহংকার তাঁর মনে অযথা উপদ্রব হয়ে তাঁকে সাধন-পথভ্রষ্ট করতে পারে না। তাইতো শ্রীল নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বলেছেন— “করহ ভকত সঙ্গ, প্রেমকথা রসরঙ্গ, তবে হয় বিপদ বিনাশ।” ভক্তসঙ্গ করার দরুণ ভক্তে-ভক্তে হয় বন্ধুত্ব। এ বন্ধুত্ব আমাদের প্রাকৃত জগতের বন্ধুত্ব নয়। দিব্য অপ্রাকৃত বন্ধুত্ব হল তা। প্রাকৃত বন্ধুত্ব নশ্বর, ক্ষণিক। তা স্বার্থ সম্বন্ধের সুক্ষ্ম আবেশ মিশ্রিত হলেও হতে পারে। কিন্তু দুই ভক্তের ভিতর ভক্তিকে কেন্দ্র করে যে বন্ধুত্ব, তা নিত্য, সত্য, স্বার্থগন্ধহীন। কারণ, এই বন্ধুত্বে কৃষ্ণেতর বস্তুতে কোন কৌতূহল থাকে না। এই বন্ধুত্বের একমাত্র লক্ষ্য পরস্পরের নিকট হতে কৃষ্ণপ্রেমরস আস্বাদন, নিরন্তর একে অপরের সঙ্গে কৃষ্ণকথা আলাপন ও একত্রে নাম-সংকীৰ্ত্তন রূপ আনন্দ সমুদ্রে অবগাহন। কৃষ্ণ মাধুর্য আস্বাদনের লোভে এক ভক্ত যখন অপর ভক্তের সঙ্গ-সান্নিধ্য প্রত্যাশা করে, তখন অচিরেই অমলিন, নিষ্পাপ, অপ্রাকৃত বন্ধুত্বের রূপ পায় তাদের উভয়ের অন্তরের টান। এরূপ বন্ধুত্ব সাধনের পরিপুষ্টি আনে। আর তাই সাধক এমন বন্ধুত্ব সঙ্গ প্রত্যাশা করে। তাই তো রামানন্দ রায় যখন মহাপ্রভুকে দশদিন গোদাবরী তীরে বাস করে তাঁকে সঙ্গ দিতে অনুরোধ করেন, তখন মহাপ্রভু বলেন— “দশদিনের কা কথা যাবৎ আমি জীব। তাবৎ তোমার সঙ্গ ছাড়িতে নারিব।। নীলাচলে তুমি আমি থাকিব এক সঙ্গে। সুখে গোঙাইৰ কাল কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।” (চৈ. চ. / মধ্য/ ৮ম পরিঃ)।

কৃষ্ণকথা তো এ জগতে শুদ্ধকথা সার। সে অমৃত যতই পান করা যায় ততই তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায় আরও পানের। অদ্ভূত, অলৌকিক, অবিশ্বাস্য প্রভাব কৃষ্ণকথামৃতের। ভক্তমনকে জড়ীয় প্রপঞ্চের ভাবনা থেকে অপসারিত করে আনন্দলোকের মঙ্গলালোকে উদ্ভাসিত করে। পার্থিব লোক হতে হৃদয়কে উৎপাটিত করে কৃষ্ণলোকে রোপণ করে, যেখানে মাধুর্য্য-লাবণ্য বলতে যা , সব কিছুই কৃষ্ণকেন্দ্রিক। আর যা কৃষ্ণকেন্দ্রিক তা মায়াগন্ধহীন, কামকলুষমুক্ত। “কৃষ্ণ সূৰ্য্য সম মায়া হয় অন্ধকার। যাঁহা কৃষ্ণ তাঁহা নাহি মায়া অধিকার।। (চৈ. চ./মধ্য/২২পরিঃ)। তা সদানন্দময়, চিদানন্দময়। কৃষ্ণকথা শুরু হলে তা ভক্তমনকে এমন বিবশ করে যে, “সময় বহিয়া যায়, নদীর স্রোতের প্রায়” –তাও ভক্ত টের পায় না। এ কথার আবেশে ভক্ত কখনো হাসে কখনো কাঁদে, কখনো গায় আবার কখনো আনন্দের আতিশয্যে নৃত্যও করে ফেলে। ঠিক যেমন মহাপ্রভু আর রামানন্দ রায় টের পান নি। “এইমত দুইজনে কৃষ্ণকথা রসে। নৃত্য-গীত-রোদন হৈল রাত্রি শেষে।।” (চৈ .চ/মধ্য/৮ম পরিঃ)। তাইতো, এমন দিব্য আনন্দদানকারী বন্ধুত্বে যখন বিচ্ছেদ আসে তখন ভক্তের কাছে তা এক অপূরণীয় বিরাট ক্ষতি।
যখন ঠাকুর হরিদাস মহাপ্রভুকে জানান যে, তিনি এবার মৃত্যুবরণ করতে চান, যাতে মহাপ্রভুর অপ্রকটলীলার বেদনা তাঁকে সহ্য করতে না হয়। তখন মহাপ্রভু বলেন তিনিও ঠাকুর হরিদাসের মতো ভক্তসঙ্গের বিরহ বহন করতে কষ্ট পাবেন। “কিন্তু আমার যা কিছু সুখ সব তোমা লঞা। তোমা যোগ্য নহে, যাবে আমারে ছাড়িয়া।।” (চৈ. চ./ অন্ত্য/১২ পরিঃ)। কৃষ্ণভক্ত-বন্ধুর বিরহবেদনার জ্বালার উপশম হয় না সহজে। সেই দুঃখানুভূতির কোন তুলনা হয় না কোন কিছুর সাথে। সে অভাবের কোন পূরণ হয় না। এমনটা তো হয়েছিল শ্রীল রঘুনাথ দাস গোস্বামীর ক্ষেত্রেও। তাঁর এবং শ্রীল রূপগোস্বামীর ভিতর ছিল এমনই অপ্রাকৃত কৃষ্ণপ্রেমময় বন্ধুত্ব। মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর যখন তিনি বৃন্দাবনে এসেছিলেন তখন তাঁর মনে মনে সংকল্প ছিল যে, বৃন্দাবনের লীলাস্থলী দর্শন করার পর গিরিরাজ গোবর্দ্ধন হতে ভৃগুপাতে জীবন বিসর্জন দেবেন। কারণ, তাছাড়া অন্য কোন উপায়ে মহাপ্রভুর কৃপা সঙ্গহীনতার মনোবেদনা নাশের পথ ছিল না তাঁর। কিন্তু ব্রজেতে আগমন করে যখন তিনি শ্রীরূপ-সনাতনের সান্নিধ্যে শ্রীব্রজধাম, গিরিরাজ শ্রীগোবর্ধন এবং শ্রীরাধাকুণ্ড দর্শন করলেন তখন তাঁর অন্তরের গৌরসুন্দর-বিরহের কিছুটা লাঘব হয়েছিল, উপশম হয়েছিল। তিনি শ্রীরাধাকুণ্ডের আশ্রয়তটে ভজনে নিমগ্ন হয়েছিলেন। শান্তি পেয়েছিলেন। অথচ, এই ব্রজধাম, এই গেবর্দ্ধন ,এই রাধাকুণ্ডই তাঁর কাছে ভয়াশ্রয়া, ভয়াল, অসহ্য মনে হয়েছিল শ্রীরূপ গোস্বামীর অপ্রকট হবার পর। তাঁর বিরহবেদনায় তিনি লিখেছিলেন—“শূন্যায়তে মহাগোষ্ঠং গিরীন্দ্রোহজগরায়তে। ব্যাঘ্রতুণ্ডায়তে কুণ্ডং জীবাতু রহিতস্য মে।।” অর্থাৎ, শ্রীরূপ গোস্বামীপাদের বিরহে জীবন ধারণের উপায় স্বরূপ এই মহাগোষ্ঠভূমি আমার নিকট শূণ্য-শূণ্য প্রতিভাত হচ্ছে। শ্রীগোবর্দ্ধন যেন অজগরের ন্যায়। শ্রীরাধাকুণ্ড যেন ব্যাঘ্রের ন্যায় মুখব্যাদান করে বসে আছে, মনে হচ্ছে। মহাবিরহে চরম বিচ্ছেদে মর্মাহত হয়ে, অধীর হয়ে খেদ করে বলেছেন- “গৌরাঙ্গচন্দ্রমিহ রূপযুগং ন পশ্যান হা বেদনাঃ কহি সহে স্ফুটরে ললাটে।”—হায়! শ্রীগৌরাঙ্গচন্দ্র ও শ্রীরূপ-সনাতনকে না দেখে আর কত বিরহ সহ্য করবো ! ওরে ললাট, তুই শতধা বিদীর্ণ হয়ে যা!

ঠিক এমনই বন্ধুপ্রীতি ছিল ঠাকুর নরোত্তম এবং শ্রীনিবাস আচার্য্য ঠাকুরের শিষ্য শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজের ভিতর। রামচন্দ্র কবিরাজ শ্রীমন্ মহাপ্রভুর পার্ষদ শ্রীচিরঞ্জীব সেনের পুত্র। পদকর্তা শ্রীগোবিন্দ কবিরাজের জ্যেষ্ঠ সহোদরও। তিনি মহাপণ্ডিত মহাকবি ছিলেন। আর মহাভক্ত তো বটেই। তাঁর সঙ্গে ঠাকুর মহাশয়ের বন্ধুপ্রীতি সম্পর্কে ‘ভক্তিরত্নাকরে’ ঠাকুর নরহরি চক্রবর্তী লিখেছেন— “রামচন্দ্র নরোত্তম দোঁহার যে রীত। আগে জানাইব এথা কহি সে কিঞ্চিৎ।। তনু মন প্রাণ নাম একই দোঁহার। কবিরাজ নরোত্তম নাম-এ প্রচার।। নরোত্তম কবিরাজ কহে সৰ্ব্বজন। কথাদ্বয় মাত্র যৈছে নর-নারায়ণ।। রামচন্দ্র নরোত্তম বিদিত জগতে। হৈল যুগল নাম সবে সুখ দিতে।।”
নরোত্তম-কবিরাজের তনু-মন-প্রাণ অভিন্নতার একটি চিত্তহারী লীলা আছে। রামচন্দ্র কবিরাজ তখন খেতুরীতে ঠাকুর মহাশয়ের সান্নিধ্যে অবস্থনারত। তাঁর পত্নী রত্নমালাদেবী রামচন্দ্রকে একাধিকবার পত্রমারফত অনুরোধ করেন যে একটি বার অন্ততঃ দর্শনদান করে ধন্য করেন তিনি রত্নমালাদেবীকে। কিন্তু সংসারত্যাগী রামচন্দ্র কবিরাজের মন একটিবারের জন্যও সে অনুরোধে উচাটন হয়নি। তিনি নরোত্তম সঙ্গ ছাড়তে নারাজ। পরিশেষে রত্নমালাদেবী পত্র মারফত অনুরোধ করলেন ঠাকুর মহাশয়কে যাতে তিনি অন্ততঃ একটি বারের জন্য রামচন্দ্র কবিরাজকে গৃহে প্রেরণ করেন বুঝিয়ে। নরোত্তম ঠাকুর কবিরাজ মহাশয়কে বললেন—তিনি যেন সে দিনই দুপুরে প্রসাদ পেয়ে কুমারনগরে নিজের গৃহে যান আর পরদিন প্রভাতে ফিরে আসেন। বললেন , “আমার শপথ ইহা না করিহ অন্যথা। না করিলে, মনে আমি পাব বড় ব্যথা।।’ (গৌরভক্তামৃতলহরী-৮ম খণ্ড, শ্রীকিশোরী দাস বাবাজী)
রামন্দ্র কবিরাজ বেজায় দুর্বিপাকে পড়লেন। বন্ধু নরোত্তমের শপথ অন্যথা করতে পারবেন না আবার সংসারের মোহভরা ঘেরাটোপে এক মুহুর্তের জন্যও যেতে চান না নরোত্তম সঙ্গ ছেড়ে। চিত্ত বড় ব্যাকুল হল। শেষে, “কান্দিতে কান্দিতে প্রেমে করয়ে গমন। খেতুরি পানে একদৃষ্টে করি নিরীক্ষণ।।” (ঐ)। পত্নী সম্ভাষণে গেলেন কবিরাজ মহাশয় বান্ধবের শপথ রক্ষা করতে। রাত্রি দ্বিতীয় প্রহরে কুমারগ্রাম ত্যাগ করে যখন খেতুরীতে প্রত্যাগমন করলেন তখন প্রভাত। পূজারী আরতি করছেন শ্রীমন্দিরে। তিনি একাধারে রাখা মার্জনী (ঝাড়ু)টি তুলে নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গন মার্জন করতে লাগলেন। কবিরাজ মহাশয় আড় চোক্ষে ঠাকুর মহাশয়কে দর্শন করে… নিজেকেই নিজে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, ‘হায়। আমি কী অধম চিত্তের অধিকারী। এখানকার এমন দিব্য সুখ আমার ভালো লাগলো না। আমি বহু সময় হেলায় নষ্ট করে এলাম কাল। ধিক্ আমায় ধিক্‌।’—এই প্রলাপ করেই তিনি নিজের পৃষ্ঠে নিজেই মার্জনী দ্বারা প্রহার করতে লাগলেন। অবিলম্বে নরোত্তম ঠাকুর তাঁকে বিরত করতে তাঁর হস্ত ধরে ফেললেন। বললেন, ‘আহা। করো কী, করো কী রামচন্দ্র! আমার যে বড় ব্যথা লাগলো। আর এমন কর্ম কোরো না। দেখতো কী করলে আমার অবস্থা।”—এই বলে নিজের পৃষ্ঠখানি রামচন্দ্রের সম্মুখে ধরলেন। আর রামচন্দ্র কবিরাজ দেখলেন তাঁর বান্ধব নরোত্তমের পৃষ্ঠ ফুলে গিয়েছে প্রহারে। নিজের পৃষ্ঠের প্রতিটি আঘাত নরোত্তম ঠাকুরের পৃষ্ঠে পড়েছে। সকল বেদনা তাঁর বান্ধব নিজের শরীরে ধারণ করেছেন। তখন উভয়ের ক্রন্দন আর থামে না। এমন বন্ধুপ্রীতি যে ইহজগতের ঘটনা নয়। ভাবের আবেশে ভাববিহ্বল তনু-মন-প্রাণ একাত্ম হয়ে ভূমিতে গড়াগড়ি করে বিস্তর ক্রন্দন করলেন। “দোঁহে গলাগলি কান্দে ভূমি গড়ি যায়। দুইজনে হেন প্রীতি জানে গোরারায়।।” (ঐ)।
{ ‘শ্রীগুরুকৃপার দান’ গ্রন্থে, শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহাশয়ের শ্রীমুখ নিঃসৃত ‘শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজের সূচক কীৰ্ত্তনে বলা হয়েছে— “শ্রীআচার্য্য প্রিয়তম নরোত্তম প্রাণ যেন / রামচন্দ্র কবিরাজ সেই। … গুরুবাক্যে নিষ্ঠা তাঁর (রামচন্দ্র-র) ত্রিভুবনে পরচার/ এই বাক্য হয় সুপ্রমাণ…. যদি গুরুপদে হয় রতি তুলনা নাহিক কতি/ শুনহ সে অপূৰ্ব্ব কথন/ একদিন শ্রীআচার্য্য /আদেশিলেন রামচন্দ্রে/ রামচন্দ্র একবার যাও/সম্ভাষণ করে এস/বিবাহিতা পত্নীসনে সম্ভাষণ করে এস./…… অপূর্ব রহস্য কথা…../ সারা নিশি করলেন আলাপন …. শ্রীগুরু-গৌর লীলা প্রসঙ্গ সারা নিশি করলেন আলাপন… নিশি পরভাত হল…. শ্রীগুরুসেবার সময় হয়েছে। চলিলেন ত্বরা করে……/ শ্রীযাজিগ্রামের পথে এসে মনে হল/ প্রভু আজ্ঞা করেছিলেন…./পুনঃরায় ফিরে গেলেন/সম্ভাষণ করলেন/রামচন্দ্রের পুরুষ অভিমান নাই / সেই স্বভাবে রামচন্দ্র করিলেন আলিঙ্গন/লাগিল রামচন্দ্র ললাটে/প্রিয়ার সিঁথির সিন্দুর লাগিল রামচন্দ্র ললাটে/ উপনীত যাজিগ্রামে/তখন নরোত্তম করছিলেন আঙ্গিনা মার্জ্জন/জিজ্ঞাসেন রামচন্দ্রে/ কোথা গিয়েছিলে বা এখন বা যাও কোথা / পত্নী সম্ভাষণে গিয়েছিলাম/ এখন যাই শ্রীগুরুসেবায় /(তখন) নরোত্তম আঘাত করলেন রোষভরে/রামচন্দ্রের পৃষ্ঠদেশে আঘাত করলেন রোষভরে/ সম্মার্জ্জনী লয়ে করে আঘাত করলে রোষভরে/…. আবার মধ্যাহ্নে নরোত্তমের সেবা/ করিতেছিলেন তৈল মৰ্দ্দন/শ্রীনিবাস আচার্য্যের পৃষ্ঠ-দেশে করিতেছিলেন তৈল মৰ্দ্দন/অকস্মাৎ দেখতে পেলেন/আচার্য্যের পৃষ্ঠ-দেশে অকস্মাৎ দেখতে পেলেন/আচার্য্যের পৃষ্ঠ-দেশে মার্জ্জনীর আঘাত অকস্মাৎ দেখতে পেলেন/মনে মনে ভাবলেন /কার অঙ্গে আঘাত করেছি/ এ তো নয় রামচন্দ্রের দেহ/নরোত্তম ব্যাকুল হলেন/অপরাধ স্খালন লাগি/ নরোত্তম করলেন মনে/এ হাত পোড়াব আগুনে নরোত্তম করলেন মনে … সে ভাব বুঝে আচার্য্য বলেন মনে মনে……এ দেশে বিচার নাই বাপ রে বাপ। দিনে মারে ঝাঁটার বাড়ী রাত্রে পোড়ায় হাত।।/কি সুমধুর লীলা রে/বালাই লয়ে মরে যাই/শ্রীগুরুসেবার আদর্শ শ্রীরামচন্দ্র/ শ্রীগুরুপদে আত্ম-সমর্পণের আদর্শ শ্রীরামচন্দ্র/বিকালে তাঁর পদতলে সর্ব্বোত্তমা গতি মিলে……}

এমনই হরিহর আত্মা ছিলেন নরোত্তম-কবিরাজ। যখন শ্রীনিবাস আচার্য্য শিষ্য রামচন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে গমন করলেন তখন ঠাকুর নরোত্তমের বিপ্রলম্ভ ভাব অর্থাৎ বিরহ ভাব আর চক্ষে দেখা যেত না। তিনি তাঁর প্রেমস্থলী নামক ভজন স্থানে ভূমিতে পড়ে অহর্নিশি বুকফাটা রোদন করতেন। বিশ্বে তাঁর মতো বন্ধুবিরহীকে সান্ত্বনাদানের কোন বস্তু বা ভাষা ছিল না। সব শূণ্য তাঁর কাছে তখন। বিরহালনে দগ্ধ হৃদয় হয়ে কী মর্মবিদরী পয়ার লিখলেন—’রামচন্দ্র কবিরাজ সেই সঙ্গে মোর কাজ /তাঁর সঙ্গ বিনা সব শূণ্য। যদি হয় জন্ম পুনঃ তাঁর সঙ্গ হয় যেন /তবে হয় নরোত্তম ধন্য।। (প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা-১১৮)। এখানে ‘সেই সঙ্গে মোর কাজ’ বলতে রামচন্দ্র কবিরাজের মতো ভক্তবন্ধুর সঙ্গপ্রসঙ্গে তিনি যে ভগবৎমাধুরী ও কৃষ্ণপ্রেমরস আস্বাদন করতেন তার কথা বলেছেন। আবার নিজের প্রেমভক্তির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে, ভক্তির অতৃপ্তি স্বভাববশতঃ যারপরনাই দৈন্য ভরে ভেবেছেন হয়তো তাঁকে আবার জন্ম নিতে হবে। আর তখন যদি রামচন্দ্র কবিরাজের মতো ভক্তের সঙ্গ পান তখনই তাঁর জীবন ধন্য হবে। তাঁর পুনঃ প্রার্থনাতেও তাঁকে লিখতে দেখা যায় “রামচন্দ্র সঙ্গ মাগে নরোত্তম দাস।” এ হেন অন্তরে সুহৃদ, পরমপ্রেমিক রামচন্দ্র। কবিরাজের মতো বান্ধব-বিরহে শ্রীল নরোত্তম ঠাকুর তাই লিখেছেন—— “তাঁর সঙ্গ বিনা সব শূণ্য ।’ তাইতো —- “কৃষ্ণ-ভক্ত বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর” ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অবনী মুখোপাধ্যায় : ভারতীয় উপমহাদেশের একজন সাম্যবাদী, বিপ্লবী।

সূচনা—-

ভারতীয় উপমহাদেশের একজন সাম্যবাদী, বিপ্লবী অবনী মুখোপাধ্যায় এক উল্লেখযোগ্য নাম। ১৯২০ সালে ১৭ অক্টোবর তাসখন্ডে ৮ জন সদস্যকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা হলো কমিউনিস্ট পার্টি যার অন্যতম সদস্য অবনীনাথ ও তার পত্নী রোজা ফিটিংগফ। অবনীনাথ মুখোপাধ্যায় অল্প বয়েসেই প্রবীন কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব সখারাম গনেশ দেউস্করের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। অবনীর পিতা রাজনীতি থেকে তাকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। দূরে পাঠাতে তাকে আমেদাবাদের টেক্সটাইল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এ পড়তে পাঠান। ১৯১৪ সালে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মহান বিপ্লবী বাঘা যতীনের। অবনীনাথ তারই পরামর্শে চাকরি নিয়ে জাপান যাত্রা করেন জাপানে ও অন্যান্য এশীয় দেশের সশস্ত্র বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে।

 

জন্ম—

অবনীনাথ মুখোপাধ্যায় মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর শহরে ৩ জুন ১৮৯১ জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি নিবাস বাংলাদেশের খুলনায়র বাবুলিয়া গ্রামে। পিতার নাম ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়। স্কুলের পাঠ শেষে তিনি কলকাতায় উইভিং টেকনোলজি শেখেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন —-

 

তিনি বিয়ে করেন ১৯২০ সালে।  বলশেভিক তরুণী রোজা ফিটিংগফের সাথে তার বিবাহ হয় ১৯২০ সালে। কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও গবেষক চিন্মোহন সেহানবীশের সাথে মস্কোয় রোজার সাক্ষাত হয়। জানা যায় অবনীর পুত্র গোরা ঐতিহাসিক স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে শহীদ হন ১৯৪০ সালে। মেয়ে মায়া ছিলেন যক্ষারোগ বিশেষজ্ঞা।

 

কর্ম জীবন—

 

ছাত্রাবস্থায় কলকাতাতেই তিনি গণেশ দেউস্কর ও বিপিন পালের দ্বারা প্রভাবিত হন। উইভিং শেখার পর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলের অ্যাসিস্ট্যান্ট উইভিং মাস্টার হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু উচ্চতর শিক্ষার জন্য জাপান ও জার্মানি যান। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে উচ্চতর শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে দেশে ফিরে অ্যান্ডু ইউল কোম্পানিতে চাকরি নেন ও কিছুকাল পরে বৃন্দাবনের প্রেম মহাবিদ্যালয়ে উপাধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন।

 

বৈপ্লবিক জীবন—

কুখ্যাত কার্লাইল ফতোয়া জারি করে ব্রিটিশ সরকার ছাত্র আন্দোলন নিষিদ্ধ করলে ১৯০৫ সালে তার বিরুদ্ধে কিশোর অবনী একটি জনসভায় যোগ দেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শাস্তি প্রদান করলে তিনি স্কুল থেকে পালিয়ে জামালপুরের রেল শ্রমিক ধর্মঘটে সামিল হন। অল্প বয়েসেই সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্রবীণ জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব সখারাম গনেশ দেউস্করের। অবনীনাথ মুখোপাধ্যায়, গদর বিপ্লবী ভগবান সিং ও রাসবিহারী অস্থায়ী বিপ্লব কমিটি গঠন করেন। জার্মান দূতের সাথে দেখা করে ফেরার পথে বিপ্লবীদের নাম ঠিকানাসহ নোটবই নিয়ে ধরা পড়েন পেনাং পুলিশের হাতে অবনীনাথ। ১৯১৭ সালে সিঙ্গাপুরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। কয়েকজন জার্মান যুদ্ধবন্দীর সাথে অবনীনাথ দু:সাহসীক ভাবে পলায়ন করেন। সেখান থেকে সুমাত্রায় এক রবার বাগিচায় কাজ নেন ও গোপনে যোগাযোগ করেন ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মতে সেখানেই তিনি রুশ বিপ্লবের কথা জানতে পারেন ও কমিউনিজমে আকৃষ্ট হন। পরে জাল ছাড়পত্রের সাহায্যে শাহির ছদ্মনামে অবনীনাথ এরপর চলে যান হল্যান্ড ও জার্মানি।

 

হিন্দুস্থান শ্রমিক ও কৃষক পার্টির প্রতিষ্ঠা—

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্বেও ১৯২২ এর শেষে তিনি ভারতে ফেরেন।  ভারত ত্যাগের পূর্বে মাদ্রাজে হিন্দুস্থান শ্রমিক ও কৃষক পার্টির প্রতিষ্ঠা করে যান ১৯২৪ এর ২রা মার্চ।

 

 গবেষনা ও রচনা—

মস্কোতে এম এন রায়ের সাথে মিলিতভাবে ‘ইন্ডিয়া ইন ট্রানজিশন’ বইটি রচনা করেন। মোপলা বিদ্রোহ সম্বন্ধে অবনী একটি পুস্তিকা লেখেন যা লেনিনের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৯২৩ সালে তিনি ‘গরীবের কথা’ একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

 

সম্মাননা—-

১৯৮৬ সালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবনী মুখোপাধ্যায়কে মরণোত্তর সন্মানে পুনর্বাসিত করেন

 

 

মৃত্যু—-

তাঁর মৃত্যু রহস্যাবৃত। সন্দেহ করা হয় বুখারিনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল এই অভিযোগে রাশিয়ান গোয়েন্দা দপ্তরের নির্দেশে তার মৃত্যুদণ্ড হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

গুরুতত্ত্বে-র গূঢ় রহস্য : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

শ্রীমন্ মহাপ্রভু রায় রামানন্দের কাছে জানতে চেয়েছিলেন — “বিদ্যার মধ্যে কোন্ বিদ্যা জীবের হয় সার ?” বিদ্যা শব্দটি “বিদ্‌’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘জানা’। আর সার অর্থে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তিনি জানতে চাইলেন কী বা কাকে জানা শ্রেষ্ঠ? তখন ‘রায় কহে, ভক্তি বিনা বিদ্যা নাহি আর। ভক্তি বিদ্যাই শ্রেষ্ঠ।” ভক্তিকে জানাই সর্বোত্তম বিদ্যা। ভক্তি কি? ভক্তি অর্থাৎ ভজনা। অতএব, ভগবানকে ভজনা করতে জানাই হল শ্রেষ্ঠ বিদ্যা। এ পৃথিবীতে যে কোন ধরণের শিক্ষার জন্য একজন শিক্ষকের প্রয়োজন। এমনকি যা আমরা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা অনুভবের দ্বারা শিখি তাও এ সংসারে কারো না কারো প্রেরণা বা অবদান। তাহলে জাগতিক বিদ্যা শিক্ষা করতে যখন শিক্ষকের প্রয়োজন তখন ভক্তিবিদ্যা বা পরাবিদ্যার মতো গম্ভীর বিষয়কে জানার জন্য, শেখার জন্যও একজন শিক্ষকের প্রয়োজন। এই শিক্ষকই হলেন ‘গুরু’। গুরু শব্দটি ‘গুড়’ ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘রক্ষা করা’। যিনি সংসার মহাদাবাগ্নি থেকে রক্ষা করেন তিনিই গুরু। ‘গু’অর্থ ‘অন্ধকার’, ‘রু’ অর্থ ‘দূর করা’। যিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে দেন তিনিই গুরু। গুরু অর্থে ‘হিতকারী’। গুরু অর্থে ‘উপদেষ্টা’। কথিত আছে— “এক অক্ষর শিখায় যে, জন্মে জন্মে গুরু সে।” আবার গুরু অর্থ ভারীও হয়। অতএব এই যে, ‘গুরুতত্ত্ব’ তা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, গূঢ়, ও রহস্যময় বিষয়ও।

আমাদের জীবনে গুরুর প্রয়োজন কতটা? গুরু বিনা কি গতি নেই? ভগবানকে মন থেকে ডাকলে, ভক্তি করলেই তো চলে, তার জন্য আবার গুরুর কি দরকার—এ প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই। তাহলে সেই উত্তর স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকেই আমরা শুনি। তিনি বলেছেন – ভবসমুদ্র পাড় করতে মানব- শরীর হল এক সুদৃঢ় নৌকা। যা প্রাপ্ত হওয়া দুর্লভ। সেই দুর্লভ বস্তু সুলভ হয়ে যখন কেউ মনুষ্য যোনিতে জন্মগ্রহণ করে; গুরু-কে তার জীবন সমুদ্র পথের কাণ্ডারী নিযুক্ত করে; তখন শুধুমাত্র স্মরণ করা মাত্রই আমি অনুকুল বায়ু হয়ে তাকে লক্ষ্যপথে নিয়ে যাই। আর যে তা করে না, সে নিজের আত্মহননের পথ প্রশস্ত করে। তার অধঃপতনের জন্য সে নিজেই দায়ী হয়।’ (শ্রীমদ্ ভা.-১১/১০/১৭)।

অতএব ভগবানের কথা থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে ভবসমুদ্র পার করতে গুরুর চরণাশ্রয় করলেই ভগবান ভক্তের উদ্ধারের জন্য নিজের হাতখানা বাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে, শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলেন বালক ‘ধ্রুব’ মহারাজ। তপঃকর্মের শেষ সীমায় পৌঁছালেও বালক ধ্রুব-কে দর্শন দিতে পারছিলেন না শ্রীনারায়ণ। তখন শ্রীভগবানের আদেশে নারদ মুনি ধ্রুবকে দ্বাদশ অক্ষর মন্ত্রে দীক্ষা দান করলেন। দীক্ষিত হাবর পর ধ্রুব শ্রীনারায়ণের সাক্ষাৎ দর্শনের কৃপালাভ করলেন। তাই গুরুর যে কী গুরুত্ব তা সহজেই অনুমেয়। কলিযুগ পাবনাবতার শ্রীমন্ মহাপ্রভু নিজে পরতত্ত্বের শেষ সীমা হয়েও শ্রীঈশ্বরপুরীপাদের কাছে দীক্ষা নিয়ে গুরুকরণ করে দেখিয়েছেন গুরুর প্রয়োজনীয়তা। দীক্ষা কি? জীব গোস্বামীপাদ তাঁর ‘ভক্তিসন্দর্ভ’ গ্রন্থে বলেছেন—‘যা থেকে দিব্যজ্ঞান লাভ হয় ও পাপসমূহ সম্যকরূপে নষ্ট হয় তাই দীক্ষা।’ (২৮৩ অনুঃ)। এখন এই দিব্যজ্ঞান হাটে-বাজারে বিকোবার বস্তু নয় যে গিয়ে ক্রয় করবো । বা, গ্রন্থ পড়ে জ্ঞানার্জনের দ্বারাও শুধু লাভ হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে একমাত্র উপায়—‘শ্রীগুরুদেব’। শ্রীগুরুদেব ভিন্ন অন্য কেউ দীক্ষাদান করতে পারেন না। বা ঘুরিয়ে বললে, যিনি দীক্ষা দান করেন তিনিই শ্রীগুরুদেব। “অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকায়। চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।” অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে দীক্ষা নামক দিব্যজ্ঞানের অঞ্জনশলাকা দ্বারা যিনি জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন করেন, তিনিই শ্রীগুরুদেব, তাঁকে প্রণাম করি।

শ্রীল রূপ গোস্বামীপাদ তাঁর ‘শ্রীভক্তিরসামৃত সিন্ধু’ গ্রন্থে যে চৌষট্টি প্রকার ভজন অঙ্গের নির্দেশ করেছেন তার প্রারম্ভেই ভক্তি মন্দিরে প্রবেশের দ্বারস্বরূপ তিনটি বিশেষ অঙ্গের কথা লিখেছেন—১) গুরুপদাশ্রয়, ২) শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করে ভাগবত ধর্ম শিক্ষা, ও ৩) বিশ্বাসের সঙ্গে শ্রীগুরুসেবা। শ্রীগুরুপদাশ্রয় বলতে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে কিছুকাল শ্রীগুরুদেবের কাছে বাস করে তাঁর আনুগত্যে থেকে নিষ্কপট সেবা পরিচর্যা দ্বারা গুরুদেবকে প্রসন্ন করা-কে বোঝানো হয়েছে। এর ফলে গুরু ও শিষ্য একে অপরকে অনুধাবন করতে পারেন। শিষ্য দীক্ষাগ্রহণের যোগ্যতা ও ভজনযোগ্যতা লাভ করে। আবার শিষ্যের সেবার আন্তরিকতা দেখে গুরুদেবের চিত্ত করুণার্দ্র হয়ে ওঠে। আর তার ফলে করুণা বিগলিত ও সন্তুষ্ট শ্রীগুরুদেবের কাছ থেকে পাওয়া দীক্ষামন্ত্র পরম পুরুষার্থ ও সৌভাগ্যজনক হয় শিষ্যের কাছে। এ প্রসঙ্গে ঠাকুর নরোত্তমের দৃষ্টান্ত প্রাতঃস্মরণীয় আমাদের কাছে। শ্রীল লোকনাথ গোস্বামী সংকল্প করেছিলেন যে তিনি জীবনে কোন শিষ্য গ্রহণ করবেন না। আর ঠাকুর নরোত্তম তাঁকেই মনে মনে গুরুরূপে বরণ করে নিয়েছিলেন। তাই তাঁর থেকে দীক্ষাগ্রহণ করাটাই ছিল নরোত্তম ঠাকুরের অভীষ্ট। তিনি প্রতিদিন লোকনাথ প্রভুর প্রাতঃকৃত্য করার স্থানটি সূর্যোদয়ের আগেই মার্জন করে পরিস্কার করে রাখতেন। আর তারপর “বৈষ্ণবের দেহ প্রাকৃত কভু নয়। অপ্রাকৃত দেহ ভক্তের চিদানন্দময় ।।” এই জ্ঞানে লোকনাথ প্রভুর বিষ্ঠাকেও অপ্রাকৃত বস্তু হিসেবে মেনে সেই বিষ্ঠালাগানো সম্মার্জনীটি (ঝাঁটাটি) নিজের বুকে চেপে ধরে ‘হা গুরুদেব’ বলে ক্রন্দন করতেন। এদিকে লোকনাথ গোস্বামী মনে মনে সংকুচিত হন, এই ভেবে যে— কোন ব্রজবাসী এমন সেবা করে প্রতিদিন তার জন্য ! এতে যে তার পাপ হচ্ছে !

দীর্ঘ এক বৎসর পর বহু চেষ্টা করে লোকনাথ গোস্বামী একদিন হাতে-নাতে ধরলেন নরোত্তম ঠাকুরকে, অমন হীনসেবা দানের সময়। বিস্মিত ও মুগ্ধ হলেন নরোত্তম ঠাকুরের গুরুভক্তি দেখে। সেই দিনই নিজের সংকল্প ত্যাগ করে দীক্ষা দিলেন নরোত্তম ঠাকুরকে।

“গুরুকৃপা হি কেবলম্”—গুরুকৃপাই শিষ্যকে নিতাই-গৌর-গোবিন্দের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেমসেবায় ব্রতী করেন। শ্রীললিতা সখী মাতা ঠাকুরাণী বলেছেন— “শ্রীগুরুকৃপাই সাধনভক্তি, ভাবভক্তি ও প্রেমভক্তির মূল।” তাই গুরুসেবা দ্বারা গুরুপ্রসন্নতা অর্জন করা একান্তরূপে বাঞ্ছনীয় এবং চরম ও পরম কর্তব্য শিষ্যের কাছে। গুরুসেবা দুই প্রকার—১) পরিচর্যারূপ সেবা ও ২) প্রসঙ্গরূপ সেবা। শ্রীগুরুদেবকে জলপ্রসাদ বা ভোজ্যপ্রসাদ নিবেদন, স্নানাদির জন্য জল আহরণ, তাঁর শ্রীঅঙ্গমার্জন, বস্ত্রধৌতাদি, অথবা অসুস্থ থাকাকালীন পথ্যাদি দান, শ্রীঅঙ্গের সেবা ইত্যাদি হল পরিচর্যারূপ সেবা তাঁর। আর, ভাগবতী কথা পাঠ করে , কৃষ্ণনামগান কীৰ্ত্তন করে শ্রবণ করানো—- ইত্যাদি হল প্রসঙ্গরূপ সেবা। শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী যখন অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন তখন শ্রীঈশ্বরপুরী তাঁর কতই না সেবা করেছেন। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে পাই—“ঈশ্বরপুরী গোসাঞি করে শ্রীপাদ সেবন। স্বহস্তে করেন মল-মূত্ৰাদি মার্জন।।’ অতএব নিষ্ঠসহ পরিচর্যারূপ সেবা করেছেন। আবার “কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণলীলা শুনায় অনুক্ষণ।” কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণকথা শ্রবণ করিয়ে প্রসঙ্গরূপ সেবাও করেছেন। সেবায় সন্তুষ্ট গুরু শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী আশীর্বাদ করলেন শিষ্য ঈশ্বরপুরীকে “তোমার হোক কৃষ্ণের প্রসাদ।” সেই আশীর্বাদের গুণেই প্রেমের সাগর হলেন তিনি আর পরিণামে স্বয়ং ভগবান শ্রীমন্ মহাপ্রভুকে শিষ্যরূপে পেলেন। অতএব, দীক্ষাগ্রহণান্তে শ্রীগুরুসেবার বিশেষ প্রয়োজন। সেবা দ্বারা সাধকের সকল অনর্থ নষ্ট হয়ে যায়। সর্বশ্রেষ্ঠ চিত্তশুদ্ধির উপায় ‘শ্রীগুরুদেব’। সকল অভাব পূরণের উপায় ‘শ্রীগুরুদেব’। সিদ্ধ জগন্নাথ দাস বাবার শিষ্য তথা শ্রীঅঙ্গসেবক বিহারীজী গুরুচরণ-ছাড়া-না হবার আদর্শ। জগন্নাথ দাস বাবা বলেছিলেন— “হ্যাঁ রে বিহারী ! তুই আমায় চাস, নাকি টাকা চাস? ভেবে বল। ভাবছি তোকে একগাড়ী টাকা পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করে যাব আমার মৃত্যুর পরে।” বিহারী হাসতে হাসতে বললেন- “বাবা। তোমার আবার টাকা কই গো ! থাকো তো লোকের দয়া করে তৈরী করে দেওয়া কুটীরে, আর ভিক্ষা করে আনা চালে ঠাকুরের প্রসাদান্ন পাও। তুমি কোথায় টাকা পাবে, বল?” সিদ্ধ বাবা বললেন, “আমায় কয়েকদিন পরই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নিতে আসবেন। তখন আমি বলবো তাঁকে— বিহারী তো আমার অনেক সেবা করেছে, ওকে এক গাড়ী টাকা পাইয়ে দাও। গৌরাঙ্গ প্রভু তোর টাকার ব্যবস্থা করে দেবেন।” এইবার বিহারী সঙ্গে সঙ্গে বললেন- “না, না বাবা ! টাকা আমার চাই না, আমার শুধু তোমার শ্রীচরণ চাই।” তৃপ্ত হয়ে বাবা তখন আশীর্বাদ করে বললেন, “বেশ। তোর কোনদিন কোন অভাব হবে না। তুই শুধু শ্রীনাম করে যাস, বাকী সব শ্রীনামের প্রভাবে ঠিক হয়ে যাবে।” এই ঘটনার চারদিন পরই সিদ্ধ বাবা দেহ রাখলেন। তিনি ১৪০ বৎসর ধরাধামে ছিলেন। তাঁর নিত্যলীলায় গমনের পর বিহারীই তাঁর যাবতীয় ক্রিয়া-কর্ম করলেন। সুতরাং, শ্রীগুরুচরণ প্রাপ্তিই একমাত্র লক্ষ্য হয় যথার্থ সাধকের।

“দাস বংশী কহে, ভজিলে ভজন নহে, গুরকৃপা ভজনের মূল।” শ্রীগুরুস্বরূপের চিন্তনই হল ধ্যানের মূল, পূজার মূল শ্রীগুরুচরণ পূজা, মন্ত্রের মূল শ্রীগুরুবাক্য আর ভক্তির মূল হল শ্রীগুরুভক্তি। যার প্রতি গুরুদেব তুষ্ট হন, স্বয়ং শ্রীহরিও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। কৃষ্ণ অপ্রসন্ন হলে গুরুদেব তাঁর ভজন দ্বারা কৃষ্ণের মন ফেরাতে পারেন সেই শিষ্যের প্রতি। কিন্তু গুরু অসন্তুষ্ট হলে, কৃষ্ণ গুরুকে প্রসন্ন করতে কোন চেষ্টা করেন না। তাই তো বলা হয়েছে, “কৃষ্ণ রুষ্ট হলে গুরু রাখিবারে পারে। গুরু রুষ্ট হলে কৃষ্ণ রাখিবারে নারে।।’
তাহলে এমন মহিমাময় গুরুদেবকে কী ভগবৎস্বরূপ জ্ঞান করে গঙ্গাজল-তুলসী দিয়ে পূজা করা উচিৎ? কারণ বলা হয়েছে— “গুরু কৃষ্ণরূপ হন শাস্ত্রের প্রমাণে । গুরুরূপে কৃপা করেন শিষ্যগণে।।” তবে তার উত্তর হল, গুরু কেবল শিষ্যের কাছে আরাধ্যস্বরূপ, সমগ্র জগৎ-এর কাছে নন। তিনি শিষ্যের কাছে প্রিয়তমাংশে ও পূজাতমাংশে কৃষ্ণের সাথে অভিন্ন কিন্তু স্বরূপাংশে ভিন্ন। অর্থাৎ শিষ্যের কাছে গুরুদেব কৃষ্ণের মতই প্রিয় ও পূজনীয়, কিন্তু ভগবানের ষড়শ্বৈর্যশালী যে স্বরূপ তা গুরুতে নেই। গুরুর ভিতর সাধক-ভক্ত ভবন প্রকাশিত হয়। তিনি নিজেকে একজন সাধক ভিন্ন অন্য কিছু ভাবেন না। তাই তাঁর শ্রীচরণে তুলসী-গঙ্গাজল নিবেদন করে কৃষ্ণজ্ঞানে পূজা করলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। এ প্রসঙ্গে, উৎকলে ‘বড়বাবাজী’ নামে খ্যাত শ্রীরাধারমণচরণদাস বাবা অপূর্ব সিদ্ধান্ত করে গেছেন।
একবার শ্রীগুরুপূর্ণিমায় পুরীর ঝাঁজপিটা মঠে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয় যে, শ্রীগুরুদেব কে কী পৃথক দ্রব্য দিয়ে পূজা করা উচিৎ নাকি প্রসাদী দ্রব্যে পূজা করা সঙ্গত? কারণ শাস্ত্রে গুরু-কৃষ্ণের অভিন্নতার প্রমাণ আছে বিস্তর। তাই সর্বাগ্রে গুরুপূজা করা উচিৎ। এমনকি কোথাও বলাও নেই যে কৃষ্ণের প্রসাদী দ্রব্যে তাঁকে ভোগ লাগানো বা পূজা করা বিধেয়। তাহলে উপায়? তখন বড়বাবাজী মহাশয় বললেন— “শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রদর্শিত উপাসনা প্রণালীর নাম রাগানুগা পন্থা। এই উপাসনার মূল ভিত্তিই ‘আনুগত্য’ অর্থাৎ গুরুর অনুগত হয়ে ভজন। এমন গুরুকে সাক্ষাৎ ভগবদ্‌-বুদ্ধিতে পূজা করলে উনি যতটা সুখী হন তার থেকে বেশী সুখ পান অনুগত ভাবের আরাধনায়। অর্থাৎ কৃষ্ণের প্রাসদী থালায় তাঁকে বরণ করলে। কারণ তিনি তো নিজেও সাধক। আর তাই শিষ্যের কাছে ‘সকল ছাড়িয়া আজ্ঞা বলবান’ অর্থাৎ গুরুর আজ্ঞানুসারে কর্ম করাই শিষ্যের কর্ত্তব্য । সেবার অর্থ তো সুখ দেওয়া। আমি হয়তো সাক্ষাৎ কৃষ্ণ ভেবে গুরুকে সেবা-পূজা করলাম অনেক কিন্তু তাতে তিনি সুখী হলেন না। তাহলে সেই সেবা করে আমি নিজেও সুখলাভ করতে পারবো কী? শাস্ত্রে প্রমাণ ও যুক্তি যাই থাক শিষ্যের কাছে গুরু আজ্ঞাই সর্বথা পালনীয়। তাই গুরুসেবা করে গুরুকে সুখ দিতে কৃষ্ণের মালা, প্রসাদে গুরুপূজা করাটাই বিধেয়, সমুচিত।”

শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহাশয় বলেছেন যে— “শ্রীগুরু পাদপদ্মই হলেন শেষ প্রাপ্তি। নিতাই-গৌর বা অন্য যা কিছুর সেবা সকলই তাঁর (গুরুদেবের) সুখের জন্য। শ্রীগুরদেবকে সুখ দিতে হলে তিনি যা পেলে সুখ পাবেন তাই দিতে হবে। সেবা মানে নিজে সুখ পাওয়া নয়। সেব্যকে সুখ দিয়ে, তাঁরই সুখে নিজে সুখ পাওয়া। এ সুখ পাওয়া নিজের সুখ পাওয়ার চেয়ে কোটিগুণ বেশি …. সেবকের তো ওই ভজন-সাধন, সর্বদা শ্রীগুরুদেবের সুখের পানে ও মুখের পানে চেয়ে থাকা।”

শ্রীরাধারমণদেবের অশেষ কৃপাস্নাত সবিশেষ গুরুগতপ্রাণ শিষ্য শ্রীশীতলচরণ দাস বাবাজী মহাশয় সিদ্ধ মহাত্মা ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে সাক্ষাৎকালে একবার প্রশ্ন করেছিলেন—‘ঈশ্বর দর্শন করতে শ্রীগুরুর কৃপালাভ কতটা অপরিহার্য?’ ত্রৈলঙ্গ স্বামীজী হিন্দীতে যে উত্তর দিয়েছিলেন তার বাংলা অনুবাদ করলে হয়— “জগতে শ্রীগুরু হতে আর কোন বস্তুই বড় অর্থাৎ গুরু নয়। শ্রীগুরু ব্যতীত আর সকলই লঘু। জপ-তপ-আরাধনা, পুত্র-পরিবার- সংসার—-এ সবই শ্রীগুরুচরণলাভের চেয়ে বড় নয়। সাধারণভাবে শ্রীগুরুদেব দুইভাবে পাওয়া যায়—দীক্ষাগুরু ও শিক্ষাগুরু। আবার বিশেষভাবে গুরুকে তিনভাবে দর্শনলাভ হয়—জগৎগুরু, দীক্ষাগুরু ও শিক্ষাগুরু। চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্রাদি যে শক্তির ইঙ্গিতে নিরন্তর আপন কার্য সমাধা করে চলেছে নিয়মের গণ্ডীতে থেকে—– সে শক্তিকে জগদগুরু বলা যায়।
যখন কোন শক্তি জীবের হৃদয়ে জগদ্‌গুরুকে জানবার বা বোঝার জন্য প্রেরণা জাগিয়ে জগৎগুরুর পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, তখন সেই শক্তিকে দীক্ষাগুরুর শক্তি বলা হয়। এই বিশ্বচরাচর হচ্ছে জগদ্গুরুর মায়াজাল। ব্রহ্মাণ্ডের পরমানু থেকে ব্রহ্মা পর্যন্ত পশুপাথী, কীটপতঙ্গ, বৃক্ষলতা, গ্রহনক্ষত্র প্রভৃতি মনুষ্য ও মনুষ্যেতর জীবজগত থেকেই শিক্ষাগ্রহণ করার প্রয়োজন পরে। যার কাছ হতে সেই শিক্ষা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে পাওয়া যায়, তখন তাঁকে বা সেই শক্তিকে শিক্ষাগুরুর শক্তির প্রভাব বলা যায়। জগদ্গুরুকে জানতে শিক্ষাগুরুর প্রয়োজন অপরিহার্য।”

অতএব, ‘গুরুকৃপা হি মূলম্’ গুরুকৃপাই মূল, গুরুকৃপাই একমাত্র সহায়, একমাত্র অবলম্বন । শ্রীগুরুদেব নির্দেশিত পথে নববিধা ভক্তি (শ্রবণ, কীৰ্ত্তন, স্মরণাদি …) যাজন করে আমরা নিতাই-গৌর-গোবিন্দের প্রেমসেবা করার যোগ্যতা অর্জন করবো। ভজনরাজ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন ভক্ত-কে তাঁর গুরুদেব আপন ভজনানুভূতির শিক্ষা ও সকরুণ কৃপা দ্বারা। গুরুকৃপাতেই ভজনপথ হয় সুসংহত, শাস্ত্রানুযায়ী সঠিক ও প্রেমপূর্ণ।

কলিযুগে আমাদের জগদ্গুরু হলেন পতিত উদ্ধারণ শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু। তাইতো শ্রীরামদাস বাবাজী মহাশয় বলেছেন , “যত দেখ শ্রীগুরুরূপ, নিত্যানন্দ প্রকাশ-স্বরূপ।… দেখে গুরু স্বরূপ নানা, যেন ভিনু ভিনু মনে করো – না ! অনুকূলে বা প্রতিকূলে নিতাই অনন্ত গুরুরূপে।…নিতাই যেখানে যেমন সেখানে তেমন, যে যেমন তার কাছে তেমন।…যেদিন শ্রীগুরুরূপে হাত ধরেছে, সেদিন সাধন শেষ হয়েছে। গুরুরূপে দেছে পদছায়া, শেষ হয়েছে সব চাওয়া পাওয়া । …. কাজ কি অন্য উপাসনা, আমার কাজ তাঁর পদে বিকানা।”

তাই একান্ত নিবেদন, শ্রীগুরুতত্ত্বের’র মতো গূঢ় গম্ভীর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব নিয়ে লেখার চেষ্টা আমার মত ভজনহীনা, অধমার ধৃষ্টতা—বই আর কিছু নয়। বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মতো! “বিধি কী এ সাধ পূরাবে আমার।” সাধ্যের বাইরে গিয়ে সাধপূরণ করার আস্ফালন শুধু। সকল গুরুজন তথা গুণীজন, সাধু-গুরু-বৈষ্ণবের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থিনী, এ হেন ধৃষ্টতার জন্য। আর সেই সাথে সকলের শ্রীচরণে অনন্তকোটি প্রণাম নিবেদন করে আশীর্বাদ ভিক্ষা করি যেন গুরু-গোবিন্দের চরণারবিন্দে সেবা করাই জন্মজন্মান্তরের একমাত্র অভীষ্ট হয় আমার।

জয় শ্রীগুরুদেব। জয় শ্রীশ্রীনিতাই। জয় শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ । তিনি বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার (বর্তমানে পশ্চিম বর্ধ্মান জেলা) আসানসোলের কাছে চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর ডাক নাম “দুখু মিয়া” । তাঁর জীবনকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারিঃ- প্রাথমিক জীবন ১৮৯৯ — ১৯১৭, সৈনিক জীবন ১৯১৭ – ১৯২০, সাহিত্য জীবন ১৯২০ – ১৯৪২ ও অসুস্থতা জীবন ১৯৪২ – ১৯৭৬ ।
নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয় । স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াজ্জিন (নমাজের সময় হলে অংশ নেওয়ার জন্য আজান দেন) হিসেবেও কাজ করেছিলেন । কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে গিয়ে তিনি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন । ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেন । সেই সময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন । তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন । জেলে বন্দী অবস্থায় লেখেন “রাজবন্দীর জবানবন্দী” । নজরুল প্রায় ৩০০০গান রচনা করেন । অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেছেন তিনি নিজে, সেগুলি নজরুল গীতি নামে পরিচিত ।
কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন বাঙালি কবি এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি । তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রেখে গেছেন । তিনি বাংলা সাহিত্যে, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব । ভারত ও বাংলাদেশ — দুই দেশে তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত । তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হতো । তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের উপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের ও দাসত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ । বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে যে, বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম । কাজী নজরুল ইসলাম প্রেম, সাম্য, আর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন আজীবন । যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনি জীবনে ও কাজে বিদ্রোহী কবি । তিনি প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং শেকল ভাঙ্গার গানের মতো কবিতা । “অগ্নিবীণা” হাতে তাঁর প্রবেশ, “ধূমকেতুর” মতো তাঁর প্রকাশ । বাংলা কবিতায় নজরুলের আবির্ভাব একেবারেই উল্কার মতো । কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা জুটিয়েছে । বাংলা কাব্যে একটি নতুন ধারার জন্ম দিয়েছিলেন । সেটা হচ্ছে গজল । শ্যামাসঙ্গীত ও ভক্তিগীতিও রচনা করেন । সংগীত বিশিষ্টজনদের মতে রবীন্দ্রনাথ – পরবর্তি নজরুলের গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ । অধিকাংশ গান সুর প্রধান । বৈচিত্রপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায় । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে বর্ণনা করেছিলেন — “ছন্দ ও সরস্বতির বরপুত্র” হিসাবে ।
যদিও উল্লেখিত তবুও বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা । তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন । তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল । তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক । রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নজরুল চেয়েছিলেন । কিন্তু তিনি মনে করতেন এর পথে প্রধান বাধা সাম্প্রদায়িক সংঘাত । সেইজন্য তিনি “দুর্গম গিরি কান্তার মরু” গানে বলেছিলেন —
“হিন্দু না ওরা মুসলমান ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন ?
কাণ্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার ।“
তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে । তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস ।
দাসত্বের শৃঙ্খলে বদ্ধ জাতিকে শোষণ ও উৎপীড়ন থেকে মুক্ত হবার ডাক দিয়েছিলেন । তাই তাঁর বিখ্যাত কবিতা “বল বীর / বল উন্নত মম শীর” । অনেকেই বলেন “বিদ্রোহী” কবিতা তাঁকে অমর করে রেখেছে ।
১৯৭২ সালের ২৪শে মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন । রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন । কবির বাকী জীবন বাংলাদেশেই কাটে ।
পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে “জাতীয় কবি”র মর্যাদা দেওয়া হয় । তাঁর রচিত “চল চল চল ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল” বাংলাদেশের রণসংঙ্গীত হিসাবে গৃহীত ।
১৯৭৬ সালের ২৯শে আগষ্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবির জীবনাবসান ঘটে । কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় । এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ।
পরিশেষে এটাই বলার, ৭৭ বছর তিনি বেঁচেছিলেন এবং এই ৭৭ বছর ছিল তাঁর সৃষ্টি ও সৃজনশীলতার এক বিশাল ইতিহাস । কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মদিনে তাঁকে জানাই শতকোটি প্রণাম । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
———–০———

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জমজমাট জামাই ষষ্ঠী ::: রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।।।

আজ জামাই ষষ্ঠী। জামাই ষষ্ঠী কিন্তু বাঙালিদের কাছে বেশ মিষ্টি মধুর একটি পার্বণ। তাই না ? বিশেষতঃ জামাই আর শাশুড়িদের কাছে এটি যেন সারা বছর ধরে এক অপেক্ষার উৎসব—একথা কিন্তু স্বীকার করতেই হবে জামাই আর শাশুড়ি উভয়কেই। এই তিথিতেই শ্বশুড় বাড়িতে জামাই আদর পাওয়া বিষয়টি পুরুষদের কাছে বাস্তবায়িত হয় ভীষণভাবে। আবার বিপরীতে জামাইরা তাঁদের দ্বিতীয় মা , অর্থাৎ শাশুড়ি মার হাতে তুলে দেন আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রদ্ধার্ঘ্য। অতএব, উভয় দিক থেকেই বেশ একটা ‘দিবে আর নিবে,মিলাবে মিলিবে,যাবে না ফিরে’ ব্যাপার ঘটে। ফলস্বরূপ, আদরের জামাইয়ের সাথে শ্বশুর বাড়ির সম্পর্ক আরও মাখো মাখো হয়ে মালপোয়া-মিষ্টিদইয়ের মাত্রা পায়।
কিন্তু , শুধুই কী দেওয়া-নেওয়া , তার বেশি কিছু নয় ? না,না,তা কেন। এদিন যে নিজের জামাইয়ের দীর্ঘায়ু আর মঙ্গল কামনায় বাঙালি মায়েরা পালন করেন নানান আচার । বটপাতা,দূর্বা আর আম নতুন হাতপাখার ওপর রেখে, সেই পাখা আড়াআড়ি ভাবে ধরে জামাইকে বাতাস করেন শাশুড়ি। সেই সঙ্গে মুখে বলতে থাকেন ”ষাট,ষাট,ষাট” । অর্থাৎ,ভালো হোক ,ভালো হোক জামাইবাবার ।এই স্নিগ্ধ,শীতল হাওয়া জামাইকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে এই বিশ্বাস ।এ প্রথা তাঁর যাবতীয় অমঙ্গল বিনাশকারী মনে করা হয়। জামাইয়ের মাথায় আশীর্বাদ দেন ধান-দূর্বা দিয়ে। ধান হল সম্পদের বা সমৃদ্ধির প্রতীক । আর ,দূর্বার গুণ হল তা সহজে মরে না। পায়ে মারিয়ে চলে গেলেও বেঁচে ওঠে। অতএব, দীর্ঘায়ুর দ্যোতক দূর্বাঘাস।
পাঁচ রকম ফল,মিষ্টি,দই ,দুধ,চিড়ে এসব থালায় সাজিয়ে জামাইয়ের সামনে ধরে দেন শাশুড়িরা। জামাই ফলাহার করবে তাই এসবের আয়োজন। আবার জৈষ্ঠ্য মাস তো আম, জাম,কাঁঠাল,লিচু,তালশাসের মাস । তাই এই গ্রীষ্মকালীন ফলের স্বাদ জামাইকে পাওয়াতেই বুঝিবা , এমন একটি মধুর পার্বণের সূচনা হয়েছিল।বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এও প্রথা আছে বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেলে পাত্র ও কন্যাপক্ষের পরিবার একে অপরকে আম-দুধ ভেট দেয় এসময়।
এবার আসি ষষ্টী পূজা সম্পর্কে।সন্তানের মঙ্গল করেন মা ষষ্টী । বাঙালিদের প্রতি ঘরে ঘরে নবজাত শিশুর জন্য ষষ্টী পূজো করা হয় অবধারিত ভাবে। তারপরই কিন্তু আঁতুর ওঠে মা ও শিশুর। জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথি বা জামাইষষ্ঠী এদেশী বা ঘটী রমণীদের কাছে অরণ্য ষষ্ঠী বা স্কন্দ ষষ্ঠীর ব্রত হিসেবে পালিত হয়।
এদিন সকালে স্থানীয় বট গাছের তলায় এসে পূজারী ব্রাক্ষ্মণের দ্বারা মা ষষ্টীর পূজা সারেন তাঁরা। খেজুরের ছড়া,ডোয়ো ফল,জাম ,বটপাতা ইত্যাদি একসাথে করে ‘ভাগা’ অর্পণ করেন । গুটিছোপায় (মাটির দোয়াতের মত দেখতে) দই দেন ,আর নানারকম ফল নিবেদন করেন দেবীর উদ্দেশ্যে। যেসব রমণীর সন্তান হয় না , তাঁরা এখানে এসে এদিন আঁচল পেতে ব্রাহ্মণের থেকে গ্রহণ করেন মা ষষ্টীর প্রসাদী গোটা ফল। বিশ্বাস সে ফল খেলে অচীরেই সন্তানসম্ভবা হবেন । এদেশী মায়েরা সন্তানের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে থাকেন। রাতে ফলাহার সারেন চিড়ে ,মুড়ি দিয়ে। যা কিছু চর্ব্য-চোষ্য সব রেঁধে দেন জামাই ও পরিবারের অন্য সকলের জন্য । তবে বাঙালদের মধ্যে আবার এসব উপবাস টুপবাসের ব্যাপার নেই। মহানন্দে জামাইকে ব্যাপক ভাবে খাওয়া দাওয়া করিয়ে নিজেও শাশুড়ি ভরপেটে থাকেন। তাবলে জামাই ষষ্ঠীর আচার পালনে কোন ত্রুটি বা খামতি থাকে না । নিষ্ঠাসহ জামাইয়ের প্রতি কর্তব্য সারেন তাঁরা।
আবার কোন কোন পরিবারে শ্যালিকাদের জন্যও একটি অদ্ভুত নিয়ম থাকে তাঁদের ভগ্নিপতিদের প্রতি। এদিন বাঁশের কঞ্চি বেঁকিয়ে লাভ সাইন বা হার্ট শেপের করে তাতে লাল সুতোয় ধান বেঁধে উপহার হিসেবে তুলে দেন তাঁরা ভগ্নিপতির হাতে।
মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত দোগাছি গ্রামে এইদিনে গ্রামের এয়োস্ত্রীগণ সাড়ম্বরে গ্রাম্যদেবতার পূজা করেন এবং ডোমকল থানার অন্তর্গত ভগীরথপুর গ্রামের স্ত্রীলোকগণ দইমেলা উৎসব পালন করেন।
এবার একটি প্রশ্ন কিন্তু প্রায় সকলের মনেই একটু উঁকি দিচ্ছে জানি।তা হল
‘যম-জামাই-ভাগ্না/তিন হয়না আপনা ‘ কথায় আছে যখন ,তবে ঘটা করে জামাই ষষ্ঠী কেন করা ! কন্যা ষষ্ঠীও তো হতে পারতো! আসলে জামাইবাবাজীবনকে তুষ্ট রাখার এ এক পন্থা বলা যায়। নিজের মেয়েটির সংসার বন্ধন যাতে অটুট থাকে , জামাইয়ের আদরে ,ভালোবাসায় মেয়ে যাতে রসেবশে, সুখে-শান্তিতে ঘর করে , সধবা থাকে চিরটাকাল সেই আশাতেই এত সব পরিপাটী প্রচেষ্টা ।

অতএব,সব মিলিয়ে জামাই ষষ্ঠীর পার্বণ জমে ক্ষীর হয়ে যায় আনন্দে,আবেগে আর জামাইয়ের প্রতি নির্ভেজাল ভালোবাসায়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

গুপি গাইনের চরিত্রের মধ্যে অমর হয়ে রবেন তপেন চ্যাটার্জী।

ভূমিকা—

তপেন চ্যাটার্জী ছিলেন ভারতের একজন বাঙালি কিংবদন্তি অভিনেতা যিনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে বেশ কয়েকটি ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, বিশেষ করে গুপি গাইনে বাঘা বাইন (১৯৬৮) এবং এর সিক্যুয়েল ১৯৬৮-এ গুপি গাইনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।  বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ছবি সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। ১৯৬৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তপেন চট্টোপাধ্যায় ও রবি ঘোষ। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন সন্তোষ দত্ত, জহর রায় ও হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় বাংলায় সবথেকে ব্যয়বহুল ছবি ছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’।

 

জন্ম ও পরিবার—

 

তপেন চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, কালীঘাটের মাইশোর রোডের বাড়িতে। নলিনীরঞ্জন ও শোভনাদেবীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তপেন ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁরা তিন ভাই ও দুই বোন। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক তপেন চট্টোপাধ্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা রাজেন্দ্র বিদ্যাভবনে।

 

 

অভিনয়ের দিকে ঝোঁক—

ছোট থেকেই অভিনয়ের দিকে ঝোঁক ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তপেন প্রথম মঞ্চে পা দিলেন, নাটকের নাম ‘অচলায়তন’। ছোট্ট চরিত্র হলেও দর্শকের মনে দাগ কেটে গিয়েছিল তাঁর অভিনয়। শীতকালে বা পুজোর সময় সেই নাটকের জন্যই ডাক পড়ত তপেনের। পরে শেখর চট্টোপাধ্যায়ের গ্রুপ থিয়েটারে যোগ দিয়েছিলেন।

 

কর্ম জীবন—-

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার তপেন চট্টোপাধ্যায় খুব কম বয়সে এক সময়ে রাজস্থানের বিকানেরে চাকরি করতেন। সেখানকার জিপসাম মাইনস-এ রোজ দু’ টাকা দু’ আনা পারিশ্রমিক মিলত। বছর দুই চাকরি করার পর অতঃপর কলকাতায় ফিরলেন তিনি। তখনও কি জানতেন, এই রাজস্থানে এসেই তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ চরিত্রের জন্য শুটিং করবেন, তা-ও সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায়! কলকাতায় ফিরে এসে যোগ দিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটকের দলে।

 

 

অভিনয় জীবন—-

 

তবে প্রথমে তিনি একজন যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে, চ্যাটার্জির রাজস্থানে চাকরি ছিল, এরপর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং সত্যজিৎ রায়ের পুনরুজ্জীবিত বাংলা পত্রিকা সন্দেশে যোগ দেন।  ছোটদের পত্রিকা সন্দেশের বিজ্ঞাপন বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন।  সত্যজিৎ তাকে মহানগরে একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন এবং তারপরে গুপি গাইন বাঘা বাইন-এ গায়ক গুপি গাইন হিসেবে বিখ্যাত হন।  আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে গানটি তার উপর গুপি এবং রবি ঘোষের বাঘা বাইন চরিত্রে নির্মিত গানটি এখনও বাঙালি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে নাড়া দেয়।

 

জানা যায় গুপীর চরিত্রে তপেন’ই পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। ষাটের দশকের শুরুতে, সত্যজিৎ যখন এই ছবি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, তখন বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠীর অভিনেতা অরুণ মুখোপাধ্যায়কে গুপীর চরিত্রের জন্য ভেবেছিলেন। শুন্ডি ও হাল্লা রাজার চরিত্রে ছবি বিশ্বাস, এবং মন্ত্রীর ভূমিকায় তুলসী চক্রবর্তীর কথা ভেবেছিলেন। এরপর একমসয় গুপীর চরিত্রে গায়ক-অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের নামও শোনা যায়।ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় যে বাঘার চরিত্রে অভিনয় করবেন রবি ও গুপীর ভূমিকায় দেখা যাবে নবাগত জীবনলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে যিনি সত্যযুগ পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।

শেষমেশ তিন-তিনবার অভিনেতা পাল্টে গুপীর জন্য তপেনকে নির্বাচিত করেন সত্যজিৎ। এর আগে তপেন সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ একটি ছোট চরিত্রে কাজ করেছিলেন। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হীরক রাজার দেশে ছবিতেও গুপী ও বাঘার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তপেন ও রবি।

 

 

চলচ্চিত্র সমূহ—

 

১৯৬৩-মহানগর, ১৯৬৯-গুপী গাইন বাঘা বাইন, ১৯৭০- রূপসী, ১৯৭১-ধন্যি মেয়ে, ১৯৭৩- শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, ১৯৭৩- ননিগোপালের বিয়ে, ১৯৭৪- সঙ্গিনী, ১৯৭৪- বিকালে ভোরের ফুল, ১৯৭৪- ঠগিনী, ১৯৭৭-ভোলা ময়রা, ১৯৭৭- হাতে রইল তিন, ১৯৭৯গণদেবতা (তারা নাপিত) , ১৯৮০আঁচল (প্রযোজনা), ১৯৮০-হীরক রাজার দেশে(গুপী গাইন), ১৯৯১-গুপী বাঘা ফিরে এলো(গুপী), ১৯৯৬-রবিবার, ১৯৯৭- শ্রীমান ভূতনাথ, ২০০৮- নরক গুলজার(সর্বশেষ চলচ্চিত্র)

 

প্রয়াণ—-

তপেন চ্যাটার্জি ২৪ মে ২০১০ তারিখে  ৭২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন।

 

।।তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ ।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস, কেন পালিত হয় জানুন।

বিশ্ব কচ্ছপ দিবস প্রতি বছর ২৩ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় কচ্ছপদের বেঁচে থাকতে এবং তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থানে উন্নতি করতে সহায়তা করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে। এই বিশেষ দিনটি আমেরিকান কচ্ছপ রেসকিউ (ATR), একটি অলাভজনক সংস্থা দ্বারা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ATR একটি স্বামী এবং স্ত্রী জুটি, সুসান টেলেম এবং মার্শাল থম্পসন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এই সংস্থায়, তারা কচ্ছপ এবং কচ্ছপের সমস্ত প্রজাতিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন করে, যারা ঝুঁকিপূর্ণ, বিপন্ন বা সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে, ATR কেয়ার হোমে প্রায় ৪০০০ কাছিম এবং কচ্ছপের যত্ন নিয়েছে। তারা অসুস্থ, অবহেলিত বা পরিত্যক্ত কচ্ছপদের তথ্য সরবরাহ করতে সহায়তা করে।

 

বিশ্ব কচ্ছপ দিবস হল একটি বার্ষিক ইভেন্ট যা ২০০০ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি আমেরিকান কচ্ছপ রেসকিউ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বিশ্ব কচ্ছপ দিবসের উদ্দেশ্য হল কচ্ছপ এবং কাছিমের আবাসস্থল রক্ষা করতে তারা কী করতে পারে সে সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা।  এই সরীসৃপগুলি দৈনিক ভিত্তিতে এত লোকের জন্য যে আনন্দ নিয়ে আসে তারও এটি একটি উদযাপন।
সারা বিশ্বে দিনটি নানাভাবে পালিত হয়।  অনেক লোক আছে যারা কচ্ছপের মতো পোশাক পরে আবার অন্যরা কেবল সবুজ কিছু পরার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  লোকেরা এমন প্রকল্পগুলিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে যা তাদের স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী কচ্ছপদের উদ্ধার করতে সহায়তা করে।
এছাড়াও এমন অনেক সংস্থান রয়েছে যা স্কুলগুলিতে উপলব্ধ করা হয়েছে যা শিক্ষকরা বিশ্ব কচ্ছপ দিবসকে ঘিরে পাঠ তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারেন।  কচ্ছপ এবং কাছিম যে হুমকির সম্মুখীন হয় সে সম্পর্কে ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।  এটি এমন কিছু যা শিশুরা এতে জড়িত হওয়া উপভোগ করে।
আমেরিকান টর্টোইস রেসকিউ (এটিআর) ১৯৯০ সালে স্বামী এবং স্ত্রীর দল সুসান টেলেম এবং মার্শাল থম্পসন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  এটি একটি অলাভজনক সংস্থা যা সমস্ত প্রজাতির কাছিম এবং কচ্ছপকে উদ্ধার করে এবং পুনর্বাসন করে।  এই প্রাণীগুলি যে পরিবেশে বাস করে সেগুলিকে রক্ষা করার জন্য এটি অনেক কাজ করে।  তারা সর্বদা প্রাণীদের জন্য নতুন বাড়ি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে কিন্তু যদি এটি সম্ভব না হয় তবে তারা এটিআর-এর যত্নে থাকবে।

5টি বিপন্ন কচ্ছপ প্রজাতি—

 

১। বিকিরিত কচ্ছপ- দক্ষিণ মাদাগাস্কারের স্থানীয় বিকিরিত কাছিম। একসময় সমগ্র দ্বীপ জুড়ে প্রচুর পরিমাণে, প্রজাতিটি এখন আইইউসিএন দ্বারা গুরুতরভাবে বিপন্ন। আগামী ৫০ বছরের মধ্যে প্রজাতিটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হতে পারে।
২। অ্যাঙ্গোনোকা কচ্ছপ- অ্যাঙ্গোনোকা কাছিম শুধুমাত্র উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারের উপসাগরীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন হিসাবে তালিকাভুক্ত, অ্যাঙ্গোনোকা কচ্ছপের বর্তমান বন্য জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২০০ প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

৩। ফিলিপাইন ফরেস্ট টার্টল- এই প্রজাতিটি শুধুমাত্র ফিলিপিনো দ্বীপ পালাওয়ানে পাওয়া যায়। সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন হিসাবে তালিকাভুক্ত, ফিলিপাইন ফরেস্ট কচ্ছপ বহিরাগত প্রাণী সংগ্রাহকদের দ্বারা অত্যন্ত মূল্যবান।
৪। পেইন্টেড টেরাপিন- এগুলি ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায়। পেইন্টেড টেরাপিন শুধুমাত্র সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন নয় বরং পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন ২৫ টি স্বাদু পানির কচ্ছপের মধ্যে একটি হিসেবেও তালিকাভুক্ত।
৬। হলুদ মাথার বাক্স কচ্ছপ- এরা মধ্য চীনের আনহুই প্রদেশের অধিবাসী। আইইউসিএন দ্বারা সমালোচিতভাবে বিপন্ন হিসাবে তালিকাভুক্ত, হলুদ মাথার বক্স কচ্ছপকে বিশ্বের ২৫টি সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

 

জাতীয় কাছিম দিবস/ কচ্ছপ দিবস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—-

 

জাতীয় কাছিম দিবস/ কচ্ছপ দিবস কি?

 

জাতীয় বিশ্ব কচ্ছপ দিবস, কখনও কখনও বিশ্ব কাছিম দিবস বা জাতীয় কাছিম দিবসও বলা হয়, এমন একটি দিন যা কচ্ছপ এবং কাছিম উদযাপনের জন্য তৈরি করা হয়।  এটি প্রতি বছর ২৩শে মে সারা বিশ্বের দেশে পালিত হয়।  এর মূল উদ্দেশ্য হল এই সুন্দর প্রাণীদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলি সম্পর্কে আরও বেশি লোককে সচেতন করা, কচ্ছপ এবং কচ্ছপদের রক্ষা করতে এবং বন্যের মধ্যে তাদের বেঁচে থাকার হার বাড়ানোর জন্য আরও মানবিক পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করা।  এটি একটি অলাভজনক সংস্থা যা সমস্ত প্রজাতির কাছিম এবং কচ্ছপকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন করে।  বিশ্বজুড়ে মানুষ বিভিন্ন উপায়ে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উদযাপন করে।

 

 বিশ্ব কচ্ছপ দিবস প্রথম কবে পালিত হয়?

 

বিশ্ব কচ্ছপ দিবস ১৯৯০ সালে আমেরিকান কচ্ছপ উদ্ধার (ATR) দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর দল সুসান টেলেম এবং মার্শাল থম্পসন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত একটি প্রাণী উদ্ধার সংস্থা যারা কচ্ছপ এবং কাছিম সংরক্ষণে নিবেদিত।
ATR প্রতি বছর ২৩শে মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবসকে স্পনসর করেছে এবং এটি এখন সারা বিশ্বের কচ্ছপদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রজাতি সচেতনতা দিবসগুলির মধ্যে একটি।

 

 প্রথম জাতীয় কাছিম/কচ্ছপ দিবস কবে?

 

২০০২ সালে এটিআর (আমেরিকান কচ্ছপ উদ্ধার) দ্বারা প্রথম বিশ্ব কচ্ছপ দিবস পালিত হয়।

 

 কেন আমরা বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উদযাপন করি?

 

আমরা কচ্ছপ এবং কাছিম সম্পর্কে আরও মনোযোগ আকর্ষণ এবং জ্ঞান বাড়াতে জাতীয় কাছিম দিবস উদযাপন করি।  কচ্ছপগুলি উজ্জ্বল প্রাণী যা বেশিরভাগই বসে থাকা মনে হতে পারে তবে খুব আকর্ষণীয়।  তারা বিশ্বের প্রাচীনতম সরীসৃপ গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটির অন্তর্গত – যা তাদের সাপ, কুমির এবং কুমিরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বয়স্ক করে তোলে।  এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা কচ্ছপ এবং কচ্ছপের জনসংখ্যার গবেষণা ও সুরক্ষা করি, কারণ তারা আমাদের সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার রাখে মৃত মাছগুলিকে খাওয়ানোর মাধ্যমে যা উপকূলে ধুয়ে যায় এবং আমাদের মহাসাগরে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখে।
এই প্রাণীগুলি ২০০ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরের সময়কালের।  সমগ্র বিশ্বে মোট ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে, যার মধ্যে ১২৯ প্রজাতিই বিপন্ন।  তাই, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কচ্ছপদের তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে বেঁচে থাকতে এবং উন্নতি করতে সাহায্য করার জন্য, প্রতি বছর বিশ্ব কচ্ছপ দিবস পালিত হয়।

 

 আমি কিভাবে শিশুদের সাথে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উদযাপন করতে পারি?

 

বিশ্বজুড়ে মানুষ বিভিন্ন উপায়ে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উদযাপন করে।  মানুষ কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমের আয়োজন করে।  কিছু মানুষ এই দিনে রাস্তা-মহাসড়ক থেকে কচ্ছপদের উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেয়।  আপনি শিশুদের সাথে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস বা জাতীয় কাছিম দিবস পালন করতে পারেন এমন অনেক মজার এবং সহজ উপায় রয়েছে!
কচ্ছপের মতো সাজানো বা গ্রীষ্মের সবুজ পোশাক পরা থেকে শুরু করে, মহাসড়কে ধরা কচ্ছপগুলিকে বাঁচানো, গবেষণা কার্যক্রম পর্যন্ত, উদযাপন করার অনেক উপায় রয়েছে।
দিনটি উদযাপনের একটি মজার উপায় হল কচ্ছপ বা কাছিমের মতো সাজানো।  অথবা, একটি সহজ ড্রেস-আপ বিকল্পের জন্য, আপনি দিনটি স্মরণ করতে এবং সচেতনতা বাড়াতে আপনার ক্লাস বা স্কুলের বাচ্চাদের সবুজ কিছু পরতে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে আরেকটি দুর্দান্ত জিনিস হল এমন একটি দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যা একটি বেক সেল নিক্ষেপ করে বা স্পনসরড হাঁটার মাধ্যমে কচ্ছপদের সাহায্য করে, উদাহরণস্বরূপ।
বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হল কচ্ছপ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা এবং প্রজাতি সম্পর্কে মানুষের সম্মান এবং জ্ঞান বাড়াতে অন্যদের সাথে তথ্য ভাগ করা।  এটি করার জন্য, কেন আমাদের একটি দুর্দান্ত বিশ্ব কচ্ছপ দিবসের শিক্ষার সংস্থান ব্যবহার করবেন না, শিশুদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত?

কচ্ছপ এবং কচ্ছপের কার্যকলাপ প্যাক – বড় বাচ্চাদের সাথে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উদযাপন করতে এই আকর্ষক কার্যকলাপ প্যাকটি ব্যবহার করুন।  এটি কারুশিল্প, রঙিন শীট এবং ওয়ার্কশীটগুলিতে পূর্ণ যাতে বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখা যায় যখন তারা মহিমান্বিত প্রাণীগুলি সম্পর্কে শেখে।

ওয়ার্ল্ড টার্টল ডে ফ্যাক্ট শীট – এই ফ্যাক্ট শীটটি প্রিন্ট করার জন্য প্রস্তুত এবং বয়স্ক বাচ্চাদের সাথে কচ্ছপ সংরক্ষণের জ্ঞান সম্প্রসারিত করার জন্য এবং তাদের সুরক্ষার জন্য আমরা কী করতে পারি তা জানাতে।

মহাসাগরের দূষণ: একক ব্যবহার প্লাস্টিক পাওয়ারপয়েন্ট – এই পাওয়ারপয়েন্টটি শিশুদের (৭ থেকে ১১ বছর বয়সী) সাথে শেয়ার করার জন্য আদর্শ যা তাদের সারা বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি বুঝতে সাহায্য করে এবং এটি কীভাবে কচ্ছপকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে৷  আপনার স্থানীয় এলাকায় প্রকৃত পরিবর্তনকে অনুপ্রাণিত করার জন্য, আপনি এমনকি শিশুদের তাদের স্থানীয় এমপিকে লিখতে উত্সাহিত করতে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে এই চিঠির টেমপ্লেটটি ব্যবহার করতে পারেন।

আমাদের সমস্ত টুইঙ্কল সংস্থানগুলি আমাদের ডিজাইনারদের বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষকদের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে৷  এর মানে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা শ্রেণীকক্ষে জড়িত এবং পাঠ্যক্রম অনুসরণ করছে।

কচ্ছপের চেয়ে মানবতার প্রিয় প্রাণী খুব কমই আছে।  এই খোলসযুক্ত প্রাণীগুলি বিশ্বের কার্যত সমস্ত কোণে পাওয়া যেতে পারে এবং উপমা, পৌরাণিক কাহিনী এবং সমস্ত ধরণের জনপ্রিয় মিডিয়াতে তাদের পথ খুঁজে পেয়েছে।
বিশ্ব কচ্ছপ দিবস শুধুমাত্র কচ্ছপদের প্রতি ভালবাসা এবং ভক্তি দেখানোর জন্য নয় বরং আমরা তাদের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন আবাসস্থল রক্ষা করতে পারি তাও নিশ্চিত করা।

কচ্ছপ এবং কাছিম এর মধ্যে পার্থক্য কী তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।  যদিও তারা উভয়ই একই পরিবারের অন্তর্গত, কচ্ছপরা তাদের সময় জলের কাছাকাছি বা জলে কাটায় যখন কচ্ছপ প্রাথমিকভাবে স্থল প্রাণী।
কচ্ছপ এবং কাছিম উভয়ই এমন প্রাণী যারা তাদের নিজ নিজ বাস্তুতন্ত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।  অন্যান্য প্রাণীর বাসযোগ্য গর্ত খনন করা হোক বা সৈকত থেকে মৃত মাছ পরিষ্কার করা হোক না কেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

১৯শে মে বাংলা ভাষা অন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

আজ ১৯শে মে । ১৯৬১ সালের আজকের দিনে বাংলা মাতৃভাষা অন্দোলনে অসম রাজ্যের শিলচরে ১১ জন তরতাজা প্রাণ দিয়েছিলেন ।
প্রথমেই বলে রাখি অসম রাজ্যে দুটি উপত্যকা — একটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা যেমন গুয়াহাটি ও আশপাশ এলাকা এবং অন্যটি হচ্ছে বরাক উপত্যকা । ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অসম রাজ্যের অন্তর্গত বাংলাভাষী ভূ-খণ্ড বরাক উপত্যকার মধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ, হইলাকান্দি, বদরপুর, শিলচর প্রভৃতি বাঙালি অধ্যুষিত শহর । দেশ বিভাগের আগে অবিভক্ত সিলেট জেলাসহ এই বরাকের অধিবাসী বাঙালিরাই পুরো আসাম প্রদেশের নেতৃত্ব দিয়েছে । আপনাদের হয় তো মনে থাকবে, অবিভক্ত অসম রাজ্য ভেঙে তৈরি হয় ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য ।
আসামের বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষার আন্দোলন ছিল আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে । ১৯৬০-৬১ সালের ঘটনা । তৎকালীন আসাম প্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিলো, বাংলাভাষী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সরকারি ভাষা হবে অসমীয়া । বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখলেন না । তাই বাংলা ভাষার স্বীকৃতির জন্যে তাঁরা মরণপণ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন । এই গণ আন্দোলনের প্রধান উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে ১৯৬১ সালের ১৯ মে । সেদিন ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে আসাম পুলিশ গুলি করে হত্যা করে । সেই আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল । শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারপর থেকে ১৯শে মে, বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হচ্ছে সারা দেশে ।
এবার পেছনের দিকে আসা যাক । আমরা জানি, পাকিস্তান সরকারের উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী ভাষা অন্দোলনের কথা । ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরকত-সালাম-জব্বারেরা শহিদ হয়েছিলেন বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে । তারপর ধাপে ধাপে বাংলা ভাষার নিরিখে ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল একটি রাষ্ট্র, নাম বাংলাদেশ ।
এবারে আসছি তৎকালীন আসাম রাজ্যের বাঙালী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত প্রসঙ্গে । ১৯৬০ সালের এপ্রিলে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাবের সূচনা হয় । তারপর ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের তদানীন্তন আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন । যদিও উত্তর করিমগঞ্জ-এর বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন । কিন্তু তা সত্ত্বেও ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয় ।
তারপর অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরূদ্ধে বরাক উপত্যকার মানুষদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয় । মানুষ প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন । ফলশ্রুতি হিসাবে বরাক উপত্যকার মানুষেরা সরকারের প্রতিবাদ করতে ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন । আসাম সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৪ এপ্রিল শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির মানুষেরা সংকল্প দিবস হিসাবে পালন করেন । বরাকের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য গণ সংগ্রাম পরিষদ ২৪ এপ্রিল দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছিল । ২মে শেষ হওয়া এই পদযাত্রাটিতে অংশ নেওয়া অন্দোলনকারিরা প্রায় ২০০ মাইল উপত্যকাটির গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালিয়েছিলেন । পদযাত্রার শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ১৯ মে তাঁরা ব্যাপক হরতাল করবেন । ১৯ মে শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও পিকেটিং শুরু হয় । করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারী কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট, ইত্যাদিতে পিকেটিং করেন । শিলচরে তারা রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহ করেছিলেন । বিকেল ৪টার সময়সূচির ট্রেনটির সময় পার হওয়ার পর হরতাল শেষ করার কথা ছিল । ভোর ৫:৪০ এর ট্রেনটির একটিও টিকিট বিক্রি হয়নি । সকালে হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিবাহিত হয়েছিল । কিন্তু বিকালে স্টেশনে অসম রাইফেল এসে উপস্থিত হয় । বিকেল প্রায় ২:৩৫ নাগাদ স্টেশনে আন্দোলনকারীদেরকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে । এরপর সাত মিনিটের ভিতর তারা ১৭ রাউণ্ড গুলি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে চালায় । ন’জন সেদিনই নিহত হয়েছিলেন, দু’জন পরে মারা যান । (নীচে শহীদদের ফটোসহ নাম দেওয়া হলো ) । সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম একজন মহিলা ভাষা অন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, নাম কমলা ভট্টাচার্য ।
সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং আসাম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল । তারপর সেই ঘটনার পর থেকে ১৯শে মে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা দেশে । উল্লেখ থাকে যে বরাক উপত্যকায় শুধু নয়, পৃথিবীর আপামর বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে আসছে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে । তাই বলা চলে, ১৯৬১ সালের ১৯শে মে বরাক উপত্যকার শিলচরের ভাষা অন্দোলন — বিশ্বের মাতৃভাষা আন্দোলনের অন্যতম দৃষ্টান্ত । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
১৯শে মে ভাষা দিবসের শহীদদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস, জানুন দিনটির গুরুত্ব এবং কেন পালিত হয়।

জাদুঘর এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। এতে বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয় এবং তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়।আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৩-এর থিম হল “জাদুঘরের ভবিষ্যত: পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠন।”  দিনটিতে জাদুঘরের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়— যাতে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা তার আপন ঐতিহ্য সম্পর্কে ভাবতে শেখেন।ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামসের আহ্বানে ১৯৭৭ সালে প্রথম বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। সেই থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামস (আইসিওএম)। এ উপমহাদেশে জাদুঘরের ধারণাটি এসেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে। ভারতীয় এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্যরা এ অঞ্চলের জাতিতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, ভূ-তাত্ত্বিক এবং প্রাণী বিষয়ক নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস, যিনি এশিয়াটিক সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন— তিনি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে জমির ব্যবস্থা করেন। ১৮০৮ সালে সেখানে জাদুঘরের জন্য ভবন নির্মাণ শেষ হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১৮১৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম জাদুঘর ‘এশিয়াটিক সোসাইটি মিউজিয়াম’-এর জন্ম ও প্রতিষ্ঠা হয়।

 

ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম ডে (আইএমডি) হল একটি আন্তর্জাতিক দিন যা প্রতি বছর ১৮ মে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়ামস (আইসিওএম) দ্বারা সমন্বিত হয়।  ইভেন্টটি একটি নির্দিষ্ট থিম হাইলাইট করে যা প্রতি বছর পরিবর্তিত হয় যা একটি প্রাসঙ্গিক থিম বা আন্তর্জাতিকভাবে যাদুঘরের মুখোমুখি সমস্যা প্রতিফলিত করে।  IMD জাদুঘর পেশাদারদের জনসাধারণের সাথে দেখা করার এবং জাদুঘরগুলি যে চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয় সে সম্পর্কে তাদের সতর্ক করার এবং সমাজের উন্নয়নে যাদুঘরগুলির ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার সুযোগ প্রদান করে৷  এটি যাদুঘরের পেশাদারদের মধ্যে কথোপকথনের প্রচারও করে।

 

ইতিহাস—-

 

প্রথম আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসটি ১৯৭৭ সালে সংঘটিত হয়েছিল, ICOM দ্বারা সমন্বিত।  “জাদুঘরগুলির সৃজনশীল আকাঙ্খা এবং প্রচেষ্টাকে আরও একীভূত করার এবং তাদের কার্যকলাপের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে” একটি বার্ষিক ইভেন্ট তৈরি করার জন্য ICOM দ্বারা একটি রেজোলিউশন গ্রহণের পরে IMD প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রতি বছর, বিশ্বজুড়ে জাদুঘরগুলির ভূমিকা প্রচারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জাদুঘরগুলিকে IMD-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।  তারা বার্ষিক থিম সম্পর্কিত ইভেন্ট এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে তা করে।  ইভেন্টের জন্য একটি বার্ষিক থিম প্রথম ১৯৯২ সালে গৃহীত হয়েছিল। ICOM থেকে একটি আন্তর্জাতিক পোস্টার প্রথম ১৯৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল এবং সেই বছরে ২৮টি দেশ অভিযোজিত হয়েছিল।  ২০০৯ সালে, আইএমডি ৯০ টিরও বেশি দেশে ২০০০০টি জাদুঘরে ইভেন্টের আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য আকর্ষণ করেছিল।  ২০১০ সালে, ৯৮টি দেশ উদযাপনে অংশগ্রহণ করেছিল, ২০১১ সালে ১০০টি দেশ এবং ২০১২ সালে ১২৯টি দেশে ৩০০০০টি জাদুঘর। ২০১১ সালে, অফিসিয়াল IMD পোস্টারটি 37টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল।  ২০১৪ সাল নাগাদ, ১৪০টি দেশের ৩৫০০০টি জাদুঘর IMD-তে অংশ নিচ্ছিল।

 

থিম–

 

২০২৩ – জাদুঘর, স্থায়িত্ব এবং সুস্থতা

২০২২ – দ্য পাওয়ার অফ মিউজিয়াম

২০২১ – জাদুঘরগুলির ভবিষ্যত: পুনরুদ্ধার করুন এবং পুনরায় কল্পনা করুন

২০২০ – সমতার জন্য যাদুঘর: বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি

২০১৯ – সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসাবে যাদুঘর: ঐতিহ্যের ভবিষ্যত

২০১৮ – হাইপারসংযুক্ত মিউজিয়াম: নতুন পদ্ধতি, নতুন জনসাধারণ

২০১৭ – জাদুঘর এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইতিহাস: যাদুঘরে অকথ্য বলা

২০১৬ – জাদুঘর এবং সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপ

২০১৫ – একটি টেকসই সমাজের জন্য জাদুঘর

২০১৪ – মিউজিয়ামের সংগ্রহগুলি সংযোগ তৈরি করে৷

২০১৩ – জাদুঘর (স্মৃতি + সৃজনশীলতা = সামাজিক পরিবর্তন)

২০১২ – পরিবর্তিত বিশ্বে জাদুঘর।  নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন অনুপ্রেরণা

২০১১ – মিউজিয়াম এবং স্মৃতি: বস্তুগুলি আপনার গল্প বলে৷

২০১০ – সামাজিক সম্প্রীতির জন্য যাদুঘর

২০০৯ – জাদুঘর এবং পর্যটন

২০০৮ – সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের এজেন্ট হিসেবে জাদুঘর

২০০৭ – জাদুঘর এবং সর্বজনীন ঐতিহ্য

২০০৬ – জাদুঘর এবং তরুণরা

২০০৫ – সংস্কৃতির সেতুবন্ধন জাদুঘর

২০০৪ – জাদুঘর এবং অধরা ঐতিহ্য (ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ)

২০০৩ – জাদুঘর এবং বন্ধুরা

২০০২ – জাদুঘর এবং বিশ্বায়ন

২০০১ – জাদুঘর: সম্প্রদায় নির্মাণ

২০০০ – সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য যাদুঘর

১৯৯৯ – আবিষ্কারের আনন্দ

১৯৯৮-১৯৯৭ – সাংস্কৃতিক সম্পত্তির অবৈধ ট্রাফিকের বিরুদ্ধে লড়াই

১৯৯৬ – আজকে আগামীকালের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে

১৯৯৫ – প্রতিক্রিয়া এবং দায়িত্ব

১৯৯৪ – জাদুঘরে পর্দার আড়ালে

১৯৯৩ – জাদুঘর এবং আদিবাসীরা

১৯৯২ – জাদুঘর এবং পরিবেশ

 

বিশ্বব্যাপী আইকনিক জাদুঘরের তালিকা—

 

ল্যুভর মিউজিয়াম, প্যারিস

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন, ওয়াশিংটন, ডিসি

ব্রিটিশ মিউজিয়াম, লন্ডন

মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট, নিউ ইয়র্ক

ভ্যাটিকান মিউজিয়াম, ভ্যাটিকান সিটি

অ্যাক্রোপলিস মিউজিয়াম, এথেন্স

জাতীয় প্রাসাদ যাদুঘর, তাইপেই

হারমিটেজ মিউজিয়াম, সেন্ট পিটার্সবার্গ

ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ নৃবিজ্ঞান, মেক্সিকো সিটি

উফিজি গ্যালারি, ফ্লোরেন্স

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

একটি শিশুর বেড়ে ওঠা থেকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আজ ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৯৪ সালকে আন্তর্জাতিক পরিবার বর্ষ ঘোষণা করেছিল। সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে একটি পরিবারের ভূমিকা কি তা আমরা সকালেই জানি। একটি শিশুর বেড়ে ওঠা থেকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিবার এমন একটি সমাজিক বন্ধন যা একটি ব্যক্তিকে জীবনের চলার পথে সমূহ ঝড় ঝঞ্ঝা প্রতিহত করতে সহযোগিতা করে। তাই এ ক্ষেত্রে যৌথ পরিবারের ভূমিকা আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারন সুখে দুঃখে সকলকে একসঙ্গে না হোক কাউকে না কাউকে পাশে পাওয়া যায়। নিজেদের সুখ দুঃক্ষ গুলো ভাগ করে নেওয়া যায়। কিন্তু দুক্ষের বিষয় হলো এই যে  যতো দিন যাচ্ছে ততই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হচ্ছে পরিবার। কর্মের আর ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে আমরা নিজেদের ক্রমেই ভাগে ভাগে ভাগ করে নিচ্ছি। বঞ্চিত হচ্ছি, পরিবারের ছোটদের কিংবা নব প্রজন্ম কে বঞ্চিত করছি যৌথ পরিবারের আসল সুখ থেকে।

 

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে  মনে হচ্ছে একান্নবর্তী কিংবা যৌথ পরিবারের ধারণা যেন এখন ‘সেকেলে’ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, শহুরে জীবন ব্যবস্থায় এই ব্যাপারটি চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা যেন ছুটে চলেছি  সুখ নামক এক অসুখের পেছনে। একা থাকব একা পরব, আমি আমার সন্তান আমার বৌ এই যেন একটা গন্ডি তৈরি করছি সকলে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি প্রকৃত সুখ কি সেটা ভাবতে বা বুঝতে। যৌথ পরিবারে হয়তো মতগত বিভিন্ন পার্থক্য থাকে, আর এটাই সভাবিক। কিন্তু যৌথ বা একান্নবর্তি পরিবারের মধ্যে যে সুযোগ সুবিধা গুলো থাকে সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। কিন্তু দিন দিন জেনে আমরা সেই ভাবনা থেকে সরে আসছি। এর ফলও ভুক্তে হচ্ছে ক্ষুদ্র পরিবার গুলোকে। হঠাৎ অসুখ বিসুখ,  বিপদে আপদে বা বিপর্যয়ে সেই সমস্যা গুলো প্রকট হয়ে ওঠে। আমরা বুঝি না প্রতিটা অনু পরিবারও একদিন বড় হবে। সন্তান বড় হবে, তার বিয়ে হবে, তার সন্তান হবে এই ভাবেই। আর, আমরা কেবল ভাংতেই আছি!!

 

আমরা জানি পরিবার মানেই হচ্ছে মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দিদি, দাদু, দিদা, কাকা, কাকি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস।  আমাদের সমাজব্যবস্থায় পরিবারের এই ধারণা প্রচলিত অতীত থেকেই। কিন্তু দিন যতোই যাচ্ছে, আমরা যেন ততোই এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছি। যেন ক্রমেই ‘স্বামী-স্ত্রী-সন্তানে’ই সীমাবদ্ধ করে ফেলছি আমরা পরিবারকে। সেখানে মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদীর কোন স্থান নেই। মা-বাবাকে হয়তো গ্রামের বাড়িতে কাটাতে হচ্ছে নিঃসঙ্গ-অসহায় জীবন। আবার অনেক মা-বাবার ঠিকানা হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’। এর থেকে বড় যান্ত্রনার অর কি হতে পারে ! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে একান্নবর্তী কিংবা যৌথ পরিবারের ধারণা যেন এখন ‘সেকেলে’ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, শহুরে জীবন ব্যবস্থায় এই ব্যাপারটি চরম আকার ধারণ করেছে।  রক্তের বন্ধন মানেই পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে অকৃত্রিম সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তা অটুট রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের চিরায়ত সমাজ ব্যবস্থায় সুন্দর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সুন্দর পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বন্ধুর মতো হলে পারিবারিক নানা জটিল সমস্যা ও মোকাবেলা করা যায়। সকলের এগিয়ে চলার পথ হয় মসৃণ।  তাই যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

 

তবে সুপ্রাচীন কাল থেকে যে যৌথ পরিবারে চিত্র সারাবাংলা জুড়ে ছিল এখন তা অনেকটাই ম্লান। শহুরে জীবনে অনেক আগেই বিলীন হয়েছে যৌথ পরিবারের চিত্র। আগে গ্রামে কিছু যৌথ পরিবার দেখা গেলেও এখন তাও নেই। কেউ ইচ্ছে করে কিংবা কেউ কর্মের তাগিদে ভেঙে দিচ্ছে যৌথ পরিবারের ধারনা গুলো। বংশ মর্যাদা এমনকি ঐতিহ্যের পরিবারেও বিলীন একত্রে বাস করার ইতিহাস। যা দেখতে এক সময় মনুষ অভ্যস্থ ছিল তা এখন স্বপনের মতন। হয়তো সিনেমার পর্দায় কেবল ভেসে ওঠবে গল্পের মতো অতিতের ইতিহাস।

নৃবিজ্ঞানী ম্যালিনোস্কির মতে – “পরিবার হল একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন আর বিবাহ হল সন্তান উৎপাদন ও পালনের একটি চুক্তি মাত্র”। সামনার ও কেলারের মতে- ‘পরিবার হল ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন, যা কমপক্ষে দু’ পুরুষকাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে”- এ সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে বোঝা যায়, বিবাহপ্রথার আগেও সমাজে পরিবারের সৃষ্টি হয়েছিল- কারণ এ সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার আগে থেকেই মানুষ দলবদ্ধ জীবনযাত্রা করত যা পারিবারিক জীবনযাপনের স্বাক্ষরবহ। তবে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন সংস্কৃতির পরিবারের ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পরিলক্ষিত হয়। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বৈচিত্র্যপূর্ণ নানামুখী ধারা যে কারণে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে এর গঠন ও অন্যান্য অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে। যে শিশুটি ভবিষ্যতের নাগরিক, তার মনোজগত প্রস্তুত হয় পরিবারে। পরিবারের ধারা কেমন, কী ধরনের প্রথা-রীতিনীতি, এ সবের উপর ভিত্তি করে তার জীবনভঙ্গি গড়ে ওঠে। তাই শিশুর সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা শৈশব তথা শিশুর মন তথা সাদা কাগজের পাতায় যে ছাপ রাখে, তা ওর পরবর্তী জীবনে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন কিছু সংবিধান আছে তেমনি পারিবারিক সংবিধানও থাকা দরকার। যেমন পরিবারের সবার সঙ্গে সদ্ভাব গড়ে তোলা, সাংসারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মিথ্যে না বলা, গুরুজনদের শ্রদ্ধা করা, নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে ফেরা, নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করা, মিথ্যেকে ঘৃণা করা এবং মানবিক মূল্যবোধগুলোর চর্চার মাধ্যমে অন্তরকে বিকশিত করা। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের সমাজে প্রচলিত যৌথ পরিবারে পারস্পরিক সম্প্রীতি গভীর হয়, অটুট থাকে। অসুখ বিসুখসহ নানা সমস্যায় একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এতে অনেক বড় সমস্যাও সমাধান হয়ে যায় অতি সহজে। সময়ের তাগিদে যৌথ পরিবার কিংবা পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার বিষয়টি যখন এই সমাজে ক্রমান্বয়ে গুরুত্বহীন হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আজকের এই আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আমরা সেই ভাবনাকে বুকে নিয়ে আবার একি সূত্রে আবদ্ধ হই ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

 

Share This